ভারতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করল বাংলাদেশ
১৮ডিসেম্বর,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতে সম্প্রতি পাস হওয়া নাগরিকত্ব বিলকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) এর বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সফর বাতিল করেন। মূলত অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনের বিষয় নিয়ে বার্ষিক এই বৈঠকে এবার পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের লক্ষ্যে ছয়টি অভিন্ন নদীর হালনাগাদ করা তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। ওই আলোচনার ভিত্তিতে দুই দেশ ছয়টি অভিন্ন নদীর রূপরেখা চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিত। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেই বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে বলে ঢাকা ও দিল্লির কূটনীতিক সূত্রগুলো জানায়। আজ বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) থেকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দুই দিনের বৈঠকটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতে দুই দেশ ছয়টি অভিন্ন নদীর রূপরেখা চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি নিত। সরকারের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেআরসি প্রতিনিধি দলের সফরের অনুমতি না আসায় স্পষ্ট হয়ে যায় দিল্লির বৈঠক হচ্ছে না। এ নিয়ে জানতে চাইলে জেআরসির সদস্য কে এম আনোয়ার হোসেন বলেন, দিল্লিতে বুধবার থেকে প্রস্তাবিত বৈঠকটি স্থগিত হয়ে গেছে। দুই পক্ষ আলোচনা করে পরে বৈঠকের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।- আরটিভি অনলাইন
ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন মন্ত্রী
১৭ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম চলে আসায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেছেন, ভুলের পরিমাণ বেশি হলে রাজাকারের তালিকা প্রত্যাহার করা হবে। আর ভুলের পরিমাণ কম হলে ভুলবশত যাদের নাম এ তালিকায় এসেছে, সেগুলো প্রত্যাহার করা হবে। আজ মঙ্গলবার শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা অডিটোরিয়ামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে উৎসর্গকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার নুরুল ইসলাম খান রচিত মুক্তিযুদ্ধ এবং আমি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। মোজাম্মেল হক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যা পেয়েছি তাই প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, একাত্তরে প্রস্তুত করা তালিকাটিতে পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সংযোজন করে থাকতে পারে। এর আগে গতকাল সোমবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আমরা নিজেরা কোনো তালিকা প্রস্তুত করিনি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা যে তালিকা করেছিল আমরা শুধু সেটাই প্রকাশ করেছি। সেখানে কার নাম আছে, আর কার নাম নেই সেটা আমরা বলতে পারব না। তিনি আরও বলেন, একই নামে তো অনেক মানুষ থাকতে পারেন। আর একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকারের তালিকায় আসবে কেন, এটা হতে পারে না। আর যদি আসেও সেটা পাক বাহিনীর ভুল। যদি মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকারের তালিকায় এসে থাকে, তবে আমরা সেটা যাচাই করে দেখব। এদিকে, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে ওই তালিকায় প্রকৃত রাজাকাদের নাম না আসায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। তালিকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপুসহ পাঁচজনের নাম রয়েছে। তালিকায় নাম থাকা অন্যরা হলেন- অ্যাডভোকেট মহসিন আলী, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, তৎকালীন জেলা প্রশাসক আব্দুর রউফ ও পুলিশ কর্মকর্তা এস এস আবু তালেব।-আলোকিত বাংলাদেশ
দেশবিরোধীদের একচুলও ছাড় নেই : তথ্যমন্ত্রী
১৬ডিসেম্বর,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: একাত্তরের রাজাকার ও তাদের সমর্থকদের দেশবিরোধী অপতৎপরতাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি একথা বলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন,একাত্তরের রাজাকার ও তাদের সমর্থকদের দেশবিরোধী কোনো অপতৎপরতাকে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না। তথ্যমন্ত্রী বলেন,স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরেও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের অপশক্তি, যারা দেশটাই চায়নি তাদের রাজনীতি, তাদের আস্ফালন মেনে নেওয়া যায় না। যারা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না, তাদের রাজনীতি করার অধিকার থাকা উচিত নয়। দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কাদের মোল্লাকে শহীদ আখ্যায়িত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কাদের মোল্লাকে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় যেভাবে খবর ছাপানো হয়েছে, তা জাতির সাথে ধৃষ্টতা। বিজয়ের মাসে এ ধরনের অসত্য সংবাদ পরিবেশন আমাদের শহীদদের রক্তস্নাত বিজয়ের ওপর কালিমা লেপনের শামিল। পত্রিকাটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন,দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার মিডিয়া তালিকাভুক্তি ও ডিক্লারেশন কেন বাতিল হবে না, মন্ত্রণালয়ের ডিএফপি (চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর) ও জেলা প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যেই সে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার ও দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীবৃন্দ।- আলোকিত বাংলাদেশ
বীর শহীদদের প্রতি জাতীয় স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষের শ্রদ্ধা
১৬ডিসেম্বর,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে লাখো জনতা। এ সময় সর্বস্তরের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে উঠে শহীদ বেদী। জাতির সূর্য-সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনের শুরুতেই ফুলেল শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিদেশি কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। সোমবার সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কারণে স্বাধীনতাকে এখনো সুসংহত করা যায়নি। স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মুক্তিযুদ্ধের পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর যে দোসর, তাদের প্রেতাত্মারা আজও বাংলার মাটিতে বিজয়কে সুসংহতকরণের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বংশধরদের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো আপস নেই। তাই দলে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে কেউ থাকলে আগামী সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের বের করে দেয়া হবে। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, কেবলমাত্র মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিই আওয়ামী লীগ করতে পারবে। এদিকে স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির হুমকির বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, 'বাংলাদেশ এখনও নিরাপদ হয়নি। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সস্পূর্ণরূপে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য রাজাকার সমর্থিত সরকার যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। তিনি আরও বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে যে লক্ষ্য ও চেতনা ছিল, সে লক্ষ্য অনুযায়ী আমরা সম্পূর্ণভাবে এগোতে পারিনি। যদি পঁচাত্তরে রাজনৈতিক বিপর্যয় না হতো, সামরিক শাসন না থাকত তাহলে আমরা আরও এগোতে পারতাম। তাই আর যাতে আমরা হোঁচট না খাই, তার গ্যারান্টি অর্জন করাটাই এ মুহূর্তের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্তব্য। এছাড়াও বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াত একটি অশান্তির বিষবৃক্ষ বলেও মন্তব্য করে হাসানুল হক ইনু বলেন, আমরা রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোন অশান্তি চাই না। বিএনপি-জামায়াত চক্র এখনও বাংলাদেশের অস্তিত্ব স্বীকার করে না। জাতির পিতাকে স্বীকার করে না। গণহত্যা মানে না। সংবিধানের চার নীতিও মানে না। বিএনপি নামক বিষবৃক্ষ যেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াতে না পারে তার নিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই আমরা বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে চাই। অন্যদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাজাকারের তালিকাটি এখনও পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তবেই তিনি মন্তব্য করবেন। এছাড়া গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। স্বাধীনতাকে অসম্ভব মনে করে একাত্তরে সারা পৃথিবী বলেছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হতে পারবে না। কিন্তু আমরা সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলাম। ড. কামাল হোসেন বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো স্বাধীনতা। জনগণের ঐক্যের শক্তিতে যেটা অর্জন করলাম। স্বাধীনতা অর্জনের পরে আমাদের কী কী লক্ষ্য, আমরা কী ধরনের সমাজ চাই, সমাজ পরিবর্তন চাই, ব্যবধান আছে ধনী এবং গরিবের মধ্যে, তা থেকে যদি আমরা মুক্ত করতে চাই সমাজকে, তাহলে সবাইকে এক হতে হবে। এর আগে সকাল সাড়ে ৬টার পর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা। পর্যায়ক্রমে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর জাতীয় স্মৃতিসৌধ সর্বস্তরের জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স স্মৃতিস্তম্ভে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
১৬ডিসেম্বর,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সোমবার বিজয় দিবসের সকালে প্রথমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে ফুলেল শ্রদ্ধায় শহীদদের স্মরণ করা হয়। এরপর শ্রদ্ধা জানান পুলিশ প্রধান জাবেদ পটোয়ারি। Rapid Action BAttalion (Rab) পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন Rab মহা পরিচালক। এছাড়া ডিএমপি কমিশনারের পক্ষেও ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
১৬ডিসেম্বর,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে একাত্তরের শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করেন সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুনরায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর জাতীয় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ সন্তানরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাসহ সর্বস্তরের মানুষ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান।
আমরা চাই একটি পেশাদার প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী: প্রধানমন্ত্রী
১৫ডিসেম্বর,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সুদক্ষ ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়তে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে যুগোপযোগী করতে চাই এবং একটা পেশাদার প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চাই। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উন্নত ট্রেনিং দিয়ে একটি উন্নত দেশের ন্যায় শক্তিশালী বাহিনী গড়তে চাই। রোববার ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০১৯ ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স ২০১৯ এর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা একটি চমৎকার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তিনি ১৯৭৪ সালে আমাদের প্রতিরক্ষা নীতিমালা দিয়ে গেছেন। তারই আলোকে আমরা ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করে এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর জন্য নতুন আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র জোগাড় থেকে শুরু করে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। আমরা বিভিন্ন জায়গায় সেনানিবাসও গড়ে তুলেছি নতুন কয়েকটি। যেটা দেশের জন্য যখন প্রয়োজন আমরা সে ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন এবং সেই পদক্ষেপ নিচ্ছি। কারণ আমরা চাই একটি পেশাদার প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী। পরিবর্তনশীল বিশ্বে পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এসময় প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় জনগণের পাশে থেকে অবদান রাখায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, এদেশের জনগণের সেবা করা আমাদের সবারই দায়িত্ব। কারণ জনগণের অর্থেই আমাদের বেতন-ভাতা, যা কিছু সবই সাধারণ মানুষের অর্থে। কাজেই তাদের জীবনটাকে সুন্দর করা, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ
১৫ডিসেম্বর,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: একাত্তরের রাজাকারদের তালিকার প্রথমপর্ব প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আজ রোববার সকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এ তালিকা প্রকাশ করবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। প্রথমধাপে প্রকাশিত তালিকায় ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বলা হয় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ২ লাখ ১০ হাজারের বেশি নয়। মন্ত্রী মোজাম্মেল হক জানান, ওয়েবসাইটে তালিকাটি প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে শুধু রাজাকারদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হচ্ছে। তারা কে কোন পেশায় রয়েছে তার বর্তমান তথ্য সরকারের কাছে নেই। তবে তা সংগ্রহ করা হবে। রাজাকারদের বিস্তারিত তালিকা https://molwa.gov.bd/ এই ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। একাত্তরের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষ নিয়েছিল। তখন যুদ্ধরত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করতে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়েছিল। প্রথমে এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে শান্তি কমিটির অধীনে থাকলেও পরে একে আধা সামরিক বাহিনীর স্বীকৃতি দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। একই রকম আধাসামরিক বাহিনী ছিল আল বদর বাহিনী ও আল শামস বাহিনী। তবে স্বাধীনতাবিরোধী এই বাহিনীগুলোকে সাধারণ অর্থে রাজাকার বাহিনী হিসেবেই পরিচিত বাংলাদেশে। মন্ত্রণালয় থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে এ তালিকা প্রকাশ করা হবে। এখন এর একদিন আগেই তা প্রকাশ করা হলো। গত ২ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওইদিন বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন,তালিকা হাতে আসা শুরু হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বরের আগে যতটুকু আসবে পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।
শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ
১৫ডিসেম্বর,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাত ফুরালেই মহান বিজয় দিবস। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। দিনটিকে ঘিরে সৌধচত্বর ও এর আশপাশে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দিবসের শুরুতেই সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ভরে উঠবে ফুলে ফুলে। মহান বিজয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ। একাত্তরের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের মধ্য দিয়ে ইতিহাসে পাতায় জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন দেয়া সেসব বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকার অদূরে সাভারে ১০৮ একর জায়গার উপর নির্মিত হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধ। মহান বিজয় দিবসে বাঙালি জাতির সেসব শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছরের মতো সৌধ চত্বরের সৌন্দর্যবর্ধনে ইট-সিমেন্টের স্থাপনার সংস্কার, ধোয়া-মোছা ও মেরামত শেষে রং-তুলির আঁচড়ে রাঙানোসহ কেটে ছেটে পরিষ্কার করা হয়েছে উদ্যানের সবুজ ঘাস, উপড়ে ফেলা হয়েছে ফুল বাগানের আগাছা। ঝরনাধারা, ল্যাম্প পোস্টের বাতি, লেকেরধার, অভ্যর্থনা কেন্দ্রের সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ সৌন্দর্য বর্ধনের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। মাসব্যাপী সৌধ চত্বরের সৌন্দর্যবর্ধনসহ বিজয় দিবস উদযাপনের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে বলে জানালেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম। মন্ত্রী জানান, নিরাপত্তার কারণে ৮ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর ভোরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনে নবম পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া তিন বাহিনী সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর গার্ড অব অনারের মহড়ার সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। বিজয় দিবসে সৌধচত্বর ও এর আশপাশের নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি রাখবার কথা জানালেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার। এবিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার আরো জানান, বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত মহাসড়কে ব্যাপক নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে Rab, পুলিশ ও সিভিল পোশাকের পুলিশের পাশাপাশি থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স। সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে গোটা স্মৃতিসৌধ চত্বর। এছাড়া ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশে আমিনবাজার থেকে নয়ারহাট পর্যন্ত সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে। বিজয় দিবসে বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতি সৌধে আসবে লাখো বাঙালি। তবে বিজয়ের এতোগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও স্মৃতিসৌধ এখনো পায়নি তার পরিপূর্ণ রূপ। সাধারণ মানুষের দাবি অচিরেই নির্মিত হবে সেসব স্থাপনা। তবে বিজয় দিবস উদযাপনে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দেখতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আগত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান, মূল নকশার যেসব স্থাপনা এখনো নির্মিত হয়নি সেগুলো আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে বিজয় দিবস উদযাপনের আগেই নির্মিত হয়ে যাবে। এদিকে বিজয় দিবস উদযাপনে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজটিও শেষ করেছেন সুন্দরভাবে। মহাসড়কের দুপাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ফুলগাছ ছাড়াও নানা রঙের সবুজের সমারোহসহ আইল্যান্ডের দুইধার রাঙিয়েছেন লাল-সাদা রংয়ে।

জাতীয় পাতার আরো খবর