বাংলাদেশের জিডিপি ১.৮ থেকে ২.৮ ভাগ অর্জিত হতে পারে
১২এপ্রিল,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজএকাত্তরডটকম:করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশে এ বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে শতকরা ১.৮ ভাগ থেকে ২.৮ ভাগের মধ্যে। অর্থাৎ এ অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি থাকতে পারে শতকরা ৩ ভাগের নিচে। অথচ ৬ মাস আগেও পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল এই প্রবৃদ্ধি হবে শতকরা ৬.৩ ভাগ। এ পূর্বাভাষ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বছরে দুবার আঞ্চলিক অর্থনীতির বিষয়ে আপডেট প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। তারই অংশ হিসেবে এই পূর্বাভাষ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সরকারকে জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা নিয়ন্ত্রণে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। সুরক্ষা দিতে হবে জনগণকে। বিশেষ করে অতি দরিদ্র ও সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে এই সেবা দিতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এখনই ব্যবস্থা নিতে তাগিদ দেয়া হয়েছে এতে। দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শেফার বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার সব সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত করোনা ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা এবং জনগণকে সুরক্ষা দেয়া। বিশেষ করে অতি দরিদ্র যে জনগোষ্ঠী আছে তাদের নাজুক স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিতে হবে।মানবজমিন। বিশ্বব্যাংকের এই পূর্বাভাষ যদি সত্যি হয় তাহলে এটাই হবে এ অঞ্চলের দেশগুলোর গত ৪০ বছরের মধ্যে সবেচেয়ে খারাপ আর্থিক পারফরমেন্স। যদি লকডাউন দীর্ঘায়িত হয় তবে বিশ^ব্যাংকের ওই রিপোর্টে হুঁশিয়ারি দেয়া হয় যে, অর্থনৈতিক এই মন্দা অবস্থা ২০২১ সাল পর্যন্তও বিস্তৃত হতে পারে। এ সময়ে প্রবৃদ্ধি শতকরা ৩.১ ভাগ থেকে ৪ ভাগ অর্জিত হতে পারে। আগে এই প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল শতকরা ৬.৭ ভাগ। এক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস মহাারিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। গার্মেন্ট খাত সহ বিভিন্ন শিল্পজাত পণ্যের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে বেকারত্বের ঝুঁকি বাড়বে। তাতে আরো তীব্র হবে দারিদ্র্য। শাটডাউনের ফলে বেসরকারি পর্যায়ে মানুষের চাহিদার ওপর প্রভাব ফেলবে। যখন প্রবৃদ্ধিকে মধ্যম মানের প্রত্যাশা করা হয়, তখন ঝুঁকি রয়েই যায়। বিশেষ করে করোনা ভাইরাসের আভ্যন্তরীণ প্রাদুর্ভাব এবং দশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক খাতের কারণে। এই মহামারির ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। বিশেষ করে সেবাখাত, খুচরা ব্যবসায়ী ও পরিবাহন খাতের মানুষ। এসব মানুষের স্বাস্থ্যসেবা খাত বা সামাজিক নিরাপত্তা রয়েছে সীমিত অথবা একেবারেই নেই। বাংলাদেশ ও ভুটানে বিশ^ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেমবন বলেন, জনস্বাস্থ্য খাতে দ্রুততার সঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারকে তাৎক্ষণিক গৃহীত পদক্ষেপগুলোতে সহায়তা করার জন্য এ মাসের শুরুর দিকে বিশ^ব্যাংক ১০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা অনুমোদন দিয়েছে। করোনা ভাইরাস শনাক্ত, প্রতিরোধ এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য এ অর্থায়ন। বিশ্বব্যাংক ওয়াশিংটন সদরদপ্তর থেকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের ওপর আজ রোববার এ প্রাক্কলন প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের জিডিপি অর্থাৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরে ছিল ৮.২ শতাংশ। এই বৈশ্বিক ঋণদান সংস্থার পূর্বাভাসে শুধু এ বছর নয়, আগামী অর্থবছরে তা আরও কমে দাঁড়াবে ১.২ থেকে ২.৯ শতাংশ। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে একটু ঘুরে দাড়াঁলেও তা ৪ শতাংশের নিচেই থাকবে। এ পূর্বাভাস এমন এক সময়ে আসলো যখন বাংলাদেশ ১০ বছরেরও বেশি সময় টানা ৭ শতাংশের প্রবৃদ্ধির কোঠা ছাড়িয়ে ৮ শতাংশের ঘর টপকে দ্রুতগতিতে ছুটতে শুরু করেছিল। তবে বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলন অনুযায়ী করোনাভাইরাসের ধাক্কায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্য সাতটি দেশের অর্থনীতিতে বড় রকমের ধস নামতে পারে। এর মধ্যে পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের জিডিপি বাড়বে না বরং সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ক্রমবর্ধমান মানবিক ক্ষতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিণতির মধ্যে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য সরকারকে স্বাস্থ্যখাতে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের জনগণ, বিশেষ করে দরিদ্রতম ও হতদরিদ্র মানুষকে রক্ষা করতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিশ্বব্যাংক বলেছে দক্ষিণ এশিয়ায় আটটি দেশের প্রতিটি দেশ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ করে দেয়া, বাণিজ্যিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতে আরও বেশি চাপের কারণে তীব্র অর্থনৈতিক মন্দার মুখোমুখি। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল ও অনিশ্চিত অবস্থা প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে পূর্বাভাস উপস্থাপন করা হয়েছে, ২০২০ সালে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৮ থেকে ২ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে নেমে আসবে, যা ছয় মাস আগে প্রত্যাশিত ছিল ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। গত ৪০ বছরে মধ্যে এই অঞ্চলের সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স হবে। দক্ষিণ এশিয়ার সরকারগুলোর জন্য অগ্রাধিকার হলো ভাইরাসটির বিস্তার আটকে দেয়া এবং তাদের লোকদের রক্ষা করা। হার্টউইগ শেফার বলেন, কোভিড -১৯ সংকট এই জরুরি বার্তা দিচ্ছে যে উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিগুলোকে সংকট শেষ হওয়ার পর জাম্প স্টার্ট শুরু করতে হবে। এটি করতে ব্যর্থ হলে এ যাবৎ কালের অর্জন বিফল হতে পারে। শহুরে দরিদ্ররা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং গ্রামীণ অঞ্চলে অতিরিক্ত দরিদ্রের সংখ্যা বেশি হবে। জাতীয় শাটডাউন ব্যক্তিগত ব্যবহারকে প্রভাবিত করবে। মাঝারি মেয়াদে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার হওয়ার আশা করা হলেও, কোভিড-১৯ এর অভ্যন্তরীণ প্রাদুর্ভাব ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা থেকে ক্ষতির ঝুঁকি রয়েই যাবে।
ডেইলি মেইলের রিপোর্ট, চীনে বাঁদুরের ওপর পরীক্ষা থেকে এই করোনা ভাইরাসের সৃষ্টি
১২এপ্রিল,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজএকাত্তরডটকম:গুহা থেকে ধরা বাঁদুরের ওপর করোনা ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছিলেন চীনের উহান শহরের একটি ল্যাবের বিজ্ঞানীরা। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান ছিল ৩৭ লাখ ডলার। ওই গবেষণা থেকেই করোনা ভাইরাস বিস্তার লাভ করেছে। এ বিষয়ে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইলের হাতে ডকুমেন্ট এসেছে বলে ওই পত্রিকাটি লিখেছে। এতে বলা হয়েছে, সারাবিশ্বে যে করোনা ভাইরাস মহামারি দেখা দিয়েছে তার মূল উৎস ওই গবেষণাগার। ডেইলি মেইল যে ডকুমেন্ট হাতে পেয়েছে, তাতে বলা হয়েছে কমপক্ষে ১০০০ মাইল দূরে ইউনান প্রদেশের গুহা থেকে ধরা হয়েছিল ওই বাঁদুরগুলো। তার জিনোম পরীক্ষা করা হচ্ছিল উহান ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজিতে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুদানে চলছিল ওই গবেষণা। কভিড-১ বা করোনা ভাইরাসের জিনোম পরীক্ষা করে দেখা গেছে এর সঙ্গে মিল আছে ইউনানের গুহার ওই বাঁদুরের। গত সপ্তাহে ডেইলি মেইল রিপোর্ট প্রকাশ করে যে, ওই ইন্সটিটিউট থেকে দুর্ঘটনাক্রমে ভাইরাস অবমুক্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে এই মহামারি সৃষ্টি করেছে। সরকারের সিনিয়র সূত্রগুলো বলেছেন, এখনও পর্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে মনে করা হয়, এই ভাইরাস উহানের একটি জীবিত পশুর মার্কেট থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়েছে। তবে চীনের ওই ল্যাবরেটরি থেকে দুর্ঘটনার কথা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। অযাচিত একটি সূত্রের মতে, বাঁদুরের দেহ থেকে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে। তাতে ছিল ওই ভাইরাস। এ থেকে ওই ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। পরে সেখান থেকে তা সংক্রমিত হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।মানবজমিন। ডেইলি মেইল লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথের অর্থায়নে একটি প্রকল্পে বাঁদুরের ওপর বিজ্ঞানীরা ওই পরীক্ষা করছিলেন। সেখানকার গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের নভেম্বরে। ওই গবেষণা রিপোর্টের শিরোনাম ডিসকভারি অব এ রিচ জিন পুল অব ব্যাট সার্স-রিলেটেড করোনাভাইরাস প্রোভাইডস নিউ ইনসাইটস ইনটু দ্য অরিজিন অব সার্স করোনাভাইরাস। এর মূল বক্তব্য ছিল, চীনের ইউনান প্রদেশের গুহা থেকে আটক করা বাঁদুরের দেহ থেকে করোনা ভাইরাসের গবেষণার জন্য ওই ল্যাবরেটরিতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এনিম্যাল এথিকস কমিটি অব দ্য উহান ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজির অনুমোদনক্রমে পশুচিকিৎসকরা নতুনা সংগ্রহ বা তা নিয়ে গবেষণা কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের একটি গুহা থেকে ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ১০ বার বাঁদুরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। উহান ইন্সটিটিউট অব ভাইরোলজি হলো চীনের মূল ভূখন্ডে অত্যাধুনিক সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ল্যাবরেটরি। উহানে যে কুখ্যাত পশু মার্কেট থেকে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হয় সেখান থেকে এই ইন্সটিটিউটের দূরত্ব ১০ মাইল। এই ইন্সটিটিউটে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের ট্যাক্সের অর্থ খরচ করার কারণে তার সরকারের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসার গ্রুপ হিসেবে পরিচিত হোয়াইট কোট ওয়েস্ট-এর প্রেসিডেন্ট অ্যান্থনি বেলোত্তি। মার্কিন সরকারের এমন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন কংগ্রেসম্যান ম্যাট গায়েটজ। তিনি বলেছেন, উহান ইন্সটিটিউটে পশুদের ওপর ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর অর্থ খরচ করে আসছে, এটা জানতে পেরে খুব বিরক্তি লাগছে। ওই উহান ইন্সটিটিউট থেকেই বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি ছড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কর্তৃপক্ষের এতে কোনো নজরদারি ছিল না।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষীদের জন্য ৫০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা
১২এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজএকাত্তরডটকম:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী অর্থবছরে চাষীদের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষীরা পাঁচ শতাংশ সুদে এ ঋণ নিতে পারবেন। এছাড়া সারের জন্য ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি, কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা, বীজের জন্য ১৫০ কোটি টাকা এবং কৃষকদের জন্য আরও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া রাখা হয়েছে। আজ রোববার গণভবন থেকে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ প্রণোদনার ঘোষণা দেন। বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ প্রণোদনা গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য। যারা পোল্ট্রি, কৃষিফার্ম, ফলমূল, মসলা জাতীয় খাদ্য পণ্য উৎপাদন করবেন তারা এখান থেকে ঋণ নিতে পারবেন। কৃষকের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ কোনও জায়গা ফাঁকা রাখবেন না। একটু জায়গাও ফেলে রাখবেন না। যার যতটুকু জায়গা আছে সবটুকুতে চাষাবাদ করুন। শেখ হাসিনা বলেন, কৃষক যাতে ফসলের ন্যায্য দাম পায় সরকার সে বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে লক্ষ্য রাখবে। এ লক্ষ্যে এবার খাদ্য মন্ত্রণালয় দুই লাখ মেট্রিকটন বেশি ধান-চাল ক্রয় করবে। তিনি বলেন, এখন ধান কাটার মৌসুম। কৃষি শ্রমিকদের কাজ ও যাতায়াতে সহযোগিতা করুন। যাতে তারা যেখানে কাজ করতে যেতে চায়, সেখানে গিয়ে কাজ করতে পারেন। এ ভিডিও কনফারেন্সে গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা অংশ নেন। অপরদিকে মাঠ পর্যায় থেকে এ দুই বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এখন জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা যার যার জেলার সার্বিক পরিস্থিতি সরকার প্রধানকে অবহিত করছেন।
নববর্ষ ঘরে বসে সোশ্যাল মিডিয়ায় উদযাপন করা যাবে,বাইরে অনুষ্ঠান বন্ধ
১২এপ্রিল,রবিবারনিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজএকাত্তরডটকম:বাংলা নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে আবারও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, নববর্ষের দিন বাইরে কোনো প্রোগ্রাম করা যাবে না। ঘরে বসে রেডিও-টেলিভিশনে অনুষ্ঠান হবে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় উদযাপন করা যাবে। আর দুই দিন পরেই বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। প্রতিবছর বাঙালিরা বেশ জাঁকজমকভাবে পালন করে নববর্ষের দিনটি। বর্ণিল উৎসবে মেতে ওঠে পুরো দেশ। দেশবাসী গানে গানে, আনন্দ আয়োজনে নতুন বছরটিকে বরণ করে নেয়। ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আয়োজনে মেতে ওঠে পুরো বাঙালি জাতি। কিন্তু এবার সেই আয়োজন করতে পারবে না বাঙালি। চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের কারণে এবার নববর্ষের অনুষ্ঠান হচ্ছে না। ঝুঁকি এড়াতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাইরে নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, জনসমাগম করলে ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়বে। এজন্য বাইরে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। ঘরে বসে রেডিও-টেলিভিশনে অনুষ্ঠান হবে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় উদযাপন করা যাবে। ভিডিও কনফারেন্সে করোনাভাইরাস সম্পর্কে দেশবাসীকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ভাইরাসটি সংক্রামক। কখন সংক্রামিত হবে তা বোঝা খুব কষ্টকর। এটাই হচ্ছে এ ভাইরাস নিয়ে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়। ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। গণভবন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।
বঙ্গবন্ধুর খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর
১২এপ্রিল,রবিবারনিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজএকাত্তরডটকম:বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আজ রাত ১২টা ১ মিনিটে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। রাতেই তার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গেছে। ফাঁসি কার্যকর উপলক্ষে শনিবার প্রস্তুতি শেষ করে কারা কর্তৃপক্ষ। এদিন জল্লাদ শাহজানের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের টিমকে তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ফাঁসি কার্যকরের জন্য একাধিকবার ট্রায়াল দেওয়া হয় ফাঁসির মঞ্চে। কেরানীগঞ্জে স্থাপিত নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে এটিই প্রথম কোনো দণ্ডপ্রাপ্তের ফাঁসি কার্যকর হলো।
ভোলার জনগণ কোনদিন বঙ্গবন্ধুর খুনির লাশ গ্রহণ করবে না
১১এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজএকাত্তরডটকম:ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হোক। পাশাপাশি তার নিজ জেলা ভোলার মাটিতে এ ঘাতকের লাশ দাফন বন্ধের দাবিও জানান তিনি। বিকেলে লালমোহন উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। শাওন আরো বলেন, ভোলার ২৫ লক্ষ জনগণ কোনদিন এই লাশ গ্রহণ করবে না। এমনকি দেশের কোন জেলার মানুষও যদি এর লাশ গ্রহণ না করে তাহলে খুনি মাজেদের লাশ প্রয়োজনে সাগরে ভাসিয়ে দেয়ার কথাও বলেন তিনি। এ সময় উপস্থিতি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, তজুমদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক দেওয়ান, লালামোহন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক ফখরুল আলম হাওলাদারসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।
ত্রাণ চুরির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা
১১এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজএকাত্তরডটকম:করোনার মহামারির মধ্যে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য দেয়া ত্রাণের চাল চুরির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একটি আদেশও জারি করা হয়েছে। এদিকে শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ত্রাণ বিতরণে জনপ্রিতিনিধি বা অন্য কেউ অনিয়ম করলে বরখাস্ত ও ফৌজদারি মামলাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে অদ্যাবদি সারাদেশে তিন হাজার বস্তার বেশি ত্রাণের চাল চুরি ও বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। এরসঙ্গে জড়িত অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা প্রায় সবাই সরকারি দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতা। তাজুল ইসলাম স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, করোনাভাইরাস জনিত কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতি করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে এ সংক্রান্ত জিও তথা অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও করোনা ভাইরাসজনিত প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক আমরা সবাই একযোগে কাজ করছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আমি আশা করি। এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে জারিকৃত অফিস আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের কারণে শহর ও গ্রামে বিপুলসংখ্যক মানুষের আয়-রোজগারের পথ বদ্ধ হয়ে পড়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সকল ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য সহায়তা হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/ দপ্তর/সংস্থা ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ নিজস্ব অর্থায়নে ত্রাণ কার্যক্রম যেমন-চাল, নগদ অর্থ, শিশু খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা/অনুশাসনের আলোকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের জনপ্রতিনিধি এবং কর্মকর্তা/কর্মচারীরা তৃণমূল পর্যায়ে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানা যায় যে, কোথাও কোথাও জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম/দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এদের বরখাস্তকরণ, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মানবতার সেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন মেজবাহ উদ্দিন
১১এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বরবারই সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত মেজবাহ উদ্দিন তিনি অফিসার্স ক্লাবে কর্মরত ও এর আশে পাশের এলাকার দুস্থদের মাঝে ক্লাবের ফান্ড এবং নিজস্ব অর্থায়নে খাবার বিতরণ করেন। এর বাইরে প্রতিদিন ঢাকার অসহায় দরিদ্র প্রায় ২০০/৩০০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন মেজবাহ উদ্দিন। এসময় তাদের মাঝে খাবার-দাবাড়, চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণসহ নগদ টাকা প্রদান করেন তিনি। এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে করোনার লক্ষণ দেখা গেছে বা অসুস্থ এমন ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছেন তিনি। বিশেষ করে ক্লাবের প্রতিটি সদস্যের মোবাইলে এসএমএস করে তিনি জানিয়ে রেখেছেন এ সংক্রান্ত যে কোনো সেবায় তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেজবাহ উদ্দিন নিউজ একাত্তরকে জানান, আসলে এগুলো বলার কিছু নেই। সবারই উচিত যার যার অবস্থান থেকে ভালো কিছু করার চেষ্টা করা। আমরাও করছি। সবার প্রতি অনুরোধ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে আসুন সবাই ঘরে থাকি। একেবারে জরুরি না হলে একদমই ঘরের বাইরে না যাই। জয় আমাদের হবেই ইনশাআল্লাহ। উল্লেখ্য জনহিতকর কাজ ও সবার সঙ্গে মিশে যাওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতার কারণে মেজবাহ উদ্দিন সবার কাছেই তুমুল জনপ্রিয়। তিনি গত জানুয়ারির শেষ দিকে সরকারী কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্বকারী সর্ববৃহৎ সংগঠন অফিসার্স ক্লাব ঢাকার নির্বাচনে বিপুল ভোটে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে জনসেবামূলক কাজ, সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষকতাসহ নানা ক্ষেত্রে জড়িত থাকায় সবার সঙ্গেই তার হৃদ্যতা। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগে অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) হিসেবে কর্মরত। বিসিএস ১১ ব্যাচের এই কর্মকর্তা এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রির সাবেক পিএস, খুলনার জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম এর জেলা প্রশাসক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ডিসি হিসাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পুরস্কৃত হন মেজবাহ উদ্দিন তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সততা ও নিষ্ঠার জন্য প্রশংসিত হয়ে আসছেন। কর্মক্ষেত্রে সততা এবং দক্ষতার জন্য একাধিকবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায় থেকে পেয়েছেন নানা স্বীকৃতি।

জাতীয় পাতার আরো খবর