বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২০
একুশে পদক পাচ্ছেন ২১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান
০৫ফেব্রুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সঙ্গীতশিল্পী মিতা হকসহ ২০ জনকে এবার একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটও পাচ্ছে ২০২০ সালের একুশে পদক। আজ বুধবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এবারের পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নাম প্রকাশ করে। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে সরকার ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, এককালীন দুই লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হবে। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে একুশে পদক তুলে দেবেন। একুশে পদক পেলেন যারা- ভাষা আন্দোলনে (মরণোত্তর) মরহুম আমিনুল ইসলাম বাদশা। শিল্পকলায় (সংগীত) বেগম ডালিয়া নওশিন, শঙ্কর রায় ও মিতা হক। শিল্পকলায় (নৃত্য) মো. গোলাম মোস্তফা খান। শিল্পকলায় (অভিনয়) এম এম মহসীন। শিল্পকলায় (চারুকলা) অধ্যাপক শিল্পী ড. ফরিদা জামান। মুক্তিযুদ্ধে (মরণোত্তর) মরহুম হাজি আক্তার সরদার, মরহুম আব্দুল জব্বার, মরহুম ডা. আ আ ম মেসবাহুল হক (বাচ্চু ডাক্তার)। সাংবাদিকতায় জাফর ওয়াজেদ (আলী ওয়াজেদ জাফর)। গবেষণায় ড. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ কারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ। শিক্ষায় অধ্যাপক ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া। অর্থনীতিতে অধ্যাপক ড. শামসুল আলম। সমাজসেবায় সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। ভাষা ও সাহিত্যে ড. নুরুন নবী, মরহুম সিকদার আমিনুল হক (মরণোত্তর) ও বেগম নাজমুন নেসা পিয়ারি। চিকিৎসায় অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার। প্রতিষ্ঠান: গবেষণায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।
চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ৯ হাজার কোটি টাকার কোকেইন ধ্বংস
০৫ফেব্রুয়ারী,বুধবার,মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী,নিউজ একাত্তর ডট কম: Rapid Action Battalion (Rab) কয়েকটি অভিযানে জব্দ হওয়া ৩৭০ লিটার কোকেইন ধ্বংস করা হয়েছে। ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আটক হওয়া কোকেইনের চালান এটি। এসব মাদকের বাজারমূল্য আনুমানিক ৯ হাজার কোটি টাকা বলে জানিয়েছে Rab। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পতেঙ্গা Rab-7 সদর দফতরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের উপস্থিতিতে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পক্ষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মোহাম্মদ নোমান ও চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে সহকারী ব্যবস্থাপক (এস্টেট) রায়হান উদ্দিন মাদক ধ্বংস কার্যক্রম তদারকি করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকের তৎপরতা বন্ধে তিনভাগে কাজ শুরু হয়েছে। কাজ চলছে। মাদক একটি ভয়ংকর নেশা। যিনি একবার এ নেশায় আসক্ত হবেন তিনি আর বের হতে পারেন না। মাদক সর্বনাশা। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে মাদক ও জঙ্গিবাদে না জড়ায় সেটি নিয়ে কাজ করছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশে মাদক নির্মূলে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাদক, জঙ্গিবাদ নির্মূলে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে আমাদের Rab ও পুলিশ বাহিনী। তিনি বলেন, সুন্দরবন একসময় জলদস্যু, বনদস্যুদের অভয়ারণ্য ছিল। কোনো পর্যটক, স্থানীয় জেলে সুন্দরবনে যেতে পারতেন না। কিন্তু Rabর প্রচেষ্টায় এখন সুন্দরবন জলদস্যুমুক্ত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, দেশে ইয়াবা প্রবেশের প্রধান রুট কক্সবাজার। সেখানেও Rab, পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তা কমে এসেছে। Rab-7 এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, হাবিবুর রহমান এমপি, ফরিদুল হক খান এমপি, পীর ফজলুর রহমান এমপি, চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি এম আবদুল লতিফ, Rabর মহাপরিচালক (ডিজি) ড. বেনজীর আহমেদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মজিবুর রহমান পাটোয়ারী, বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাসহ Rabর ঊর্ধ্বতন কমর্কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পতেঙ্গা এলাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ১ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী, মাদক ও জঙ্গিবাদ বিরোধী বই বিতরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাদক ও জঙ্গিবাদ বিরোধী শপথবাক্য পাঠ করান Rab সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপরেশনস) কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সরোয়ার।
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে জয়ীদের গেজেট প্রকাশ
০৫ফেব্রুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ীদের নাম, ঠিকানা, পদসহ গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এ গেজেট প্রকাশ করে ইসি। তবে এখন পর্যন্ত তা নির্বাচন কমিশনের ওয়াবসাইটে আপ করা হয়নি। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯ অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর মেয়র বা কাউন্সিলরদের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সরকার বা সরকারের মনোনীত কর্তৃপক্ষ মেয়র ও সব কাউন্সিলরের শপথগ্রহণের ব্যবস্থা করবে। এদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ফল কারচুপির অভিযোগে স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া সিটি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে বেশকিছু অভিযোগ করেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র নির্বাচিত হন আতিকুল ইসলাম। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র নির্বাচিত হন ফজলে নূর তাপস। প্রথমবারের মতো ঢাকার দুই সিটিতে ইভিএমের (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আতিকুল ইসলাম পান ৪ লাখ ৪৭ হাজার ২১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তাবিথ আউয়াল পান ২ লাখ ৬৪ হাজার ১৬১ ভোট। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে তাপস পান ৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন পান ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫১২ ভোট।
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
০৫ফেব্রুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ইতিমধ্যে ক্ষনগণনা উদ্বোধন করা হয়েছে। এখন মুজিববর্ষ পালন করার সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। তিনি বলেন, ৭৪ সালে জাতির পিতা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে আইন করে দিয়েছে অর্থাৎ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সমস্ত কাঠামো নীতিমালা, বিধিমালা যা যা দরকার হতে পারে সবই করে দিয়ে গেছেন তিনি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রোমের পার্কো দেই প্রিন্সিপি গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড স্পায় এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে এতো কাজ জাতির পিতা কিভাবে করে গেলেন তা আমার বুঝে আসে না। তার লক্ষ্য বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে সাজানো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য ছিল, বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। প্রতিটি মানুষ সুন্দর জীবন পাবে, লেখাপড়া শিখবে। চিকিৎসা পাবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সে কাজ সম্পন্ন করে যেতে পারেননি জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, একদিকে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে আর্থ সামাজিক উন্নয়নের পথে যখন যাত্রা শুরু করলেন। আমাদের দুর্ভাগ্য ৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হল। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রোমা ঢাকা রোম রুটে বিমান বাংলাদেশ পূনরায় চালুর দাবীর প্রশ্নের জাবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ১২টা বিমান রয়েছে আরও তিনটি খুব শীঘ্রই যোগ হবে। অনেক দেশের বিমান সমস্যা সমাধান হয়েছে। ইতালিতে বিমান চালুর ব্যাপারে দেশটির সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, অবৈধ ভাবে যারা সংবিধান লঙ্ঘন করেছে তাদের ভাগ্য আজ কঠিন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,ঘুষ নেয়া ও দেওয়া দুইটাই অপরাধ । এই কালচার বিএনপি শুরু করে। ইতালি আওয়ামী লীগ সভাপতি ইদ্রিস ফরাজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইকবালের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রোমে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুস সোবাহান সিকদার, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতানা শরীফ প্রমুখ। এছাড়াও জার্মান, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড,বেলজিয়াম,স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এরআগে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কোঁতের আমন্ত্রণে ৪ দিনের সরকারি সফরে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ইতালি পৌঁছান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে রোমের ফিয়ামিসিনো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। মিনিস্টার প্লেনিপোটেনসিয়ারি অব ইটালিয়ান ফরেন মিনিস্ট্রি ক্রিস্টিয়ানো কোস্তাফাবি এবং ইতালিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটর শোভাযাত্রাসহকারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পার্কো দেই প্রিন্সিপি গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড স্পায় নিয়ে যাওয়া হয়। ইতালির রাজধানীতে সফরকালে তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। প্রধানমন্ত্রী সফরকালে ৫ ফেব্রুয়ারি জিউসেপ কোঁতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। বৈঠকে সাংস্কৃতিক বিনিময়, রাজনৈতিক বিষয় এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্পর্কিত তিনটি চুক্তি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে রোমের ভায়া ডেল এন্টারটাইড এলাকায় বাংলাদেশ দূতাবাসের চ্যান্সরি ভবন উদ্বোধন করবেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কোঁতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন পালাজো চিগিতে আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেবেন। দুই শীর্ষ নেতা তাদের শীর্ষ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সব বিষয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পরে ইতালীয় ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিগণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আবাসকালীন হোটেলের সভাকক্ষে সাক্ষাৎ করবেন। প্রধানমন্ত্রী এরপর একই হোটেলে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন। ৬ ফেব্রুয়ারি সকালে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী এদিন দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ট্রেনে রোম থেকে ইতালির মিলান শহরের উদ্দেশে যাত্রা করে স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় সেখানে পৌঁছবেন। মিলান সফরে তিনি এক্সেলসিয়ার হোটেল গালিয়ায় অবস্থান করবেন। প্রধানমন্ত্রী ৭ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে আমিরাত এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে মিলান মালপেন্সা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। শেখ হাসিনা ৮ ফেব্রুয়ারি দুবাই হয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন।
রোম পৌছেছেন প্রধানমন্ত্রী
০৪ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর চলতি বছরের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে মঙ্গলবার সকালে রোমের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সময় বিকেল সোয়া চারটায় দেশটিতে পৌছান। এ সফরে পোপ ফ্রান্সিস ও ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হবেন। দেশটিতে দূতাবাসের চ্যান্সরি ভবন উদ্বোধন করাসহ অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধকরণ প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলবেন। বৈঠকে গুরুত্ব পাবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মী পাঠানো, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতা। ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস ও তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইএনআইয়ের বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশ কমিউনিটির অনুষ্ঠান, ইতালির প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজ, রাষ্ট্রদূত আয়োজিত নৈশভোজ এবং দেশটির ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
দুবছরের মধ্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে:তথ্যমন্ত্রী
০৪ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উন্নত দেশ গঠনের পাশাপাশি উন্নত জাতি গঠনে সবাইকে একসাথে কাজ করার জন্য আবারও উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। রাজধানীর জাতীয় যাদুঘর মিলনায়তনে মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিটল-আয়াত-নিউজ নাউ বাংলা এক্সিলেন্স এওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহবান জানান। তথ্যমন্ত্রী বলেন, অন্যদের অন্ধ অনুকরণ নয়, উন্নত জাতি গড়ে সরকার এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে অনুকরণ করে। আর এজন্য সবাইকে একাত্ম হতে হবে। এসময় তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, যে পাকিস্তান বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করত তারা আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে আক্ষেপ করে। দুবছরের মধ্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন হাছান মাহমুদ। সাংবাদিক শামীমা দোলার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিটল নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমদ। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন সাবেক সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা প্রমুখ। আনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে অবদানে শহীদ আলতাফ মাহমুদ, সাংবাদিকতায় রোজিনা ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রিপোর্টিং এ ফারজানা আফরিন, বাণিজ্যে প্রবীর কুমার সাহা, সংস্কৃতিতে মেহের আফরোজ শাওন, পর্যটনে শাহ মোমিনকে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতায় সংগঠন হিসাবে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ কমিটি’র প্রতিনিধির হাতে সম্মাননা তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রথম পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
সাংবাদিক নির্যাতন গ্রেফতারের দাবিতে আল্টিমেটাম
০৪ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারির) মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিলেন সাংবাদিক নেতারা। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই আল্টিমেটাম দেয়া হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে ডিইউজে সভাপতি আবু জাফর সূর্য বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় সাংবাদিক নির্যাতনের পরও বিচার পাইনি। আমরা অনশন পালন করেছিলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু তিনি কথা রাখেন নাই। এ যাবত যত সাংবাদিক নির্যাতন হয়েছে কোনোটার বিচার কখনো দৃশ্যমান হয়নি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা। সুশাসন, গণমন্ত্র সুরক্ষার জন্য সাংবাদিক সুরক্ষা দরকার। আগামী শনিবারের মধ্যে সাংবাদিক নির্যাতনে জড়িতদের গ্রেফতার করতে হবে। আহত সাংবাদিকদের কল্যাণ তহবিল থেকে চিকিৎসা খরচা দিতে হবে। শনিবারের মধ্যে বিচার না পেলে রবিবার স্বরাষ্ট্র ও তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবর কালো স্মারক লিপি দেয়া হবে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, নির্যাতিত সাংবাদিকদের অপরাধ তারা সত্য সংবাদ সংগ্রহের কাজ করতে নেমেছিল। বাক স্বাধীনতার জন্য, গণতন্ত্র ও মানবতার জন্য সাংবাদিকরা লড়াই করে আসছে। কিন্তু আমরাই মার খাচ্ছি। যে কারণে গণমাধ্যমকর্মী আইন আজো পাস করা হয়নি। ওয়েজবোর্ড পাস করা হলেও তা কার্যকর করা হয়নি। আমরা পদে পদে নির্যাতিত হচ্ছি সব ক্ষেত্রেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিনীত অনুরোধ, কয়েক দিনের মধ্যে সাংবাদিক নির্যাতনকারী, হেনস্তাকারী, হামলাকারীদের গ্রেফতারে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন। ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল খায়ের বলেন, সাংবাদিকদের হামলা করাটা যেন সহজ হয় গেছে। স্বাধীনতার পর থেকে যত সাংবাদিকদের নির্যাতন, হেনস্তা, হত্যা করা হয়েছে কোনোটার বিচার হয়নি। আমরা চাই বিচার হোক। আশা করছি দ্রুত আসামিরা গ্রেফতার হবেন। ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ বলেন, সাংবাদিকরা নিউজ কাভার করতে গিয়ে কারো প্রতিপক্ষ হতে চান না। সত্যটিই তুলে ধরেন।আগামীতে যেন সাংবাদিকরা পেশাগত কাজ নিরাপত্তার সঙ্গে করতে পারেন। সে লক্ষ্যে জড়িতদের গ্রেফতারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, সরকার যেসব ঘটনা সিরিয়াসলি নিয়েছে সেসবের বিচার হয়েছে। সম্প্রতি সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা যেন জেগে জেগে ঘুমাচ্ছেন। আমরা বিশ্বাস করি সরকার সাংবাদিক নির্যাতনের বিচার করবে এবং অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতরা গ্রেফতার হবেন। রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, ঢাকার সভাপতি মোকসুদার রহমান মাকসুদ অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান সুমনকে যেভাবে কোপানো হয়েছে তা কোনোভাবে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আমাদের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। রাষ্ট্রযন্ত্র আমাদের নিরাপত্তা দিতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। নির্যাতিত সাংবাদিক উজ্জ্বল হোসেন জিসান বলেন, ইসির ইস্যুকৃত বৈধ কার্ড নিয়েও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে, শার্টের কলার ধরে টেনে বের করে দিয়েছে, মোবাইল কেড়ে নিয়েছে। এলাকা ছেড়ে চলে যাবার শর্তে মোবাইল ফিরিয়ে দিয়েছে। মাথা নিচু করে আমাকে ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে। এটা সাংবাদিক হিসেবে আমার জন্য লজ্জার। আমি এখন ট্রমার মধ্যে আছি। রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, একজন সাংবাদিককে কোপানো হবে আবার হাসপাতালে গিয়ে হুমকি দেয়া হবে এটা পুরো সাংবাদিক সমাজের জন্য লজ্জা। আমি মনে করি বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার সময় এসেছে। ডিইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাব এডিটরস কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি নাছিমা আক্তার সোমা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ডিইউজের সাবেক জনকল্যাণ সম্পাদক মেহেদি হাসান।
দুই বছর মেয়াদি ফিটনেস সার্টিফিকেটের কার্যক্রম শুরু
০৪ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্যক্তিগত যানবাহনে দুই বছরের জন্য ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন কার্যক্রম মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক লোকমান হোসেন মোল্লা বলেন, এ বিষয়ে আগেই প্রজ্ঞাপন হয়েছে। কিন্তু এ কাজের জন্য যে সফটওয়্যার ব্যবহার হবে, সেটি তৈরিতে সময় লেগেছে। সফটওয়্যার রেডি, আশা করছি মঙ্গলবার থেকে কার্যক্রম শুরু করা যাবে। ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়নের নতুন নিয়মের বিষয়ে গত ৫ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এতে বলা হয়, ভাড়ায় চালিত নয় এমন মোটরকার, জিপ ও মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রে প্রথমবার দেওয়া ফিটনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। পাঁচ বছর পর প্রতি দুই বছর অন্তর ফিটনেস নবায়ন করতে হবে। ফিটনেস নবায়ন ফি বছর ভিত্তিক হারে দিতে হবে। বর্তমানে প্রতিবছরই যানবাহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন করতে হয়।
মেলার দ্বিতীয় দিনেই প্রকাশকের মুখে হাসি
০৪ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মেলার দ্বিতীয় দিনে সোহরাওয়ার্দী প্রান্তের বিস্তীর্ণ মেলা ছিলো পাঠক-লেখক ও প্রকাশক বান্ধব। আর তাতেই প্রকাশকের স্বস্তি। এবারের মেলায় মূল মঞ্চের প্রথম আয়োজনে আলোচনার বিষয়ও ছিল গেলো দিন প্রকাশিত বঙ্গবন্ধুর লেখা বই- আমার দেখা নয়া চীন। সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে আলোচনা পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. শামসুজ্জামান খান। মেলায় ভিন্নধর্মী অনেক বই পাঠকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে যা গতবারের তুলনায় এবার প্রথম দিক থেকেই লোকজনের ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আয়তন বাড়ার কারণে এখন আর আর্চারের নিচ দিয়ে বইমেলার প্রবেশ করতে চাপাচাপি করা লাগছে না। পাঠকদের দুর্ভোগ কমছে পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীও তাদের কাজ ভালোভাবে করতে পারছে। বাংলা একাডেমির বইমেলা আয়োজন কমিটির সদস্য সচিব জাহিদ আহমেদ বলেন, গতকাল তিন লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। পাঠক সংখ্যাও বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে দশ-বারো হাজার পাঠক ও দর্শনার্থী মেলায় আসছে। সামনের দিনে পাঠক আরো বাড়বে।

জাতীয় পাতার আরো খবর