শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২০
একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত ১৮৭৩, মৃত্যু ২০
২৩ মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ২০ জন মারা গেছেন। একই সময়ে ১ হাজার ৮৩৪ জনের দেহে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়। এটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ শনাক্ত। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ৭৮ জন। আর মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৫২ জনের। শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, ৪৭টি ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৯ হাজার ৯৭৭টি। পরীক্ষা করা হয়েছে ১০ হাজার ৮৩৪টি। পরীক্ষা করা নমুনার মধ্যে ১ হাজার ৮৩৪ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ৭৮ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আরো ২০ জনের মৃত্যু হয়। মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৫২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২০ জনের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ, ৪ জন নারী। মারা যাওয়া ২০ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ২ জন, রাজশাহী বিভাগের ২ জন, রংপুর বিভাগের ২ জন, খুলনা বিভাগের ১ জন ও সিলেট বিভাগে ১ জন রয়েছেন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ১৫ জন, ৪ জন মারা গেছেন বাড়িতে। আর একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৩ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৮ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯৬ জন সুস্থ হয়েছেন বলেও জানান নাসিমা সুলাতানা। এ নিয়ে মোট ৬ হাজার ৪৮৬ জন সুস্থ হয়েছেন। তিনি আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ২৮৬ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন চার হাজার ৩০৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৪১ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে মোট ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ৬৯ জন। নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে দুই হাজার ৩২২ জনকে। এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৬০ হাজার ৪১৬ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ৮৮ জন, এখন পর্যন্ত মোট ছাড়া পেয়েছেন দুই লাখ পাঁচ হাজার ২৫৯ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৫ হাজার ১৫৭ জন। প্রসঙ্গত, গত ৮ই মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। শুরুর দিকে রোগীর সংখ্যা কম থাকলেও এখন সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। ভাইরাসটি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। চীনের পর ইরান, কোরিয়াসহ বেশকিছু দেশে সংক্রমণ ছড়ালেও সবচেয়ে বেশি করোনা আঘাত হানে ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের দেশগুলোতে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রেও ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। করোনায় মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষেও রয়েছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন (প্রতিবেদন লেখার সময়) ৩ লাখ ৪০ হাজার ২৪১ জন মানুষ। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩ লাখ ১৮ হাজার ৮৩২ জন । অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন ২১ লাখ ৬৯ হাজার ২২৩ জন।
করোনায় পুলিশের এসআইয়ের মৃত্যু,এ নিয়ে পুলিশের ১২তম সদস্য মারা গেলেন
২৩ মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এবার মৃত্যুর মিছিলে নাম লেখিয়েছেন এসআই মোশাররফ হোসেন। এ নিয়ে পুলিশের ১২তম সদস্য মারা গেলেন। তিনি রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স বা আরআরএফে (এসআই-সশস্ত্র) কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার রাত ১১টায় রাজশাহীর খ্রিস্টান মিশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরবিদায় নেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এই বীর পুলিশ সদস্য। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র ডিএমপি নিউজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ডিএমপি জানায়, বৃহস্পতিবার তার করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। শুক্রবার তিনি পুলিশ লাইন হাসপাতাল ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। এরপর তাকে রাজশাহীর খ্রিস্টান হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি করা হয়। রাত ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মোশাররফ হোসেনের গ্রামের বাড়ি পাবনায়। রাজশাহী শহরে তিনি ভাড়া থাকতেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছে ডিএমপি।
চাঁদ দেখা কমিটির সভা সন্ধ্যায়
২৩ মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে শনিবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ। বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। টেলিফোন নম্বর: ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭। ফ্যাক্স নম্বর: ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১
করোনায় মারা গেলেন এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোরশেদুল আলম
২২মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গোষ্ঠি এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোরশেদুল আলম (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহী রাযিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। শুক্রবার (২২ মে) রাত সাড়ে ১০টায় তিনি চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মোরশেদুল আলম এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল আলম মাসুদের ভাই। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর মোরশেদুল আলমের শারীরিক অবস্থা কিছুটা খারাপ ছিলো। বৃহস্পতিবার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে চট্টগ্রামের করোনার জন্য বিশেষায়িত জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হন তিনি। শুক্রবার সারাদিন শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তার হার্ট অ্যাটাক হয়। এরপর রাত সাড়ে দশটার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোস্তফা জামাল মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মোরশেদুল আলমকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (শুক্রবার) রাত সাড়ে ১০টায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার হার্টেও সমস্যা ছিল। মোরশেদ আলম বেসরকারি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের একজন পরিচালক ছিলেন। তিনি ছিলেন এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেমন ইস্পাত লিমিটেডের চেয়ারম্যান।
৮৭ শতাংশ বিদেশ ফেরতদের আয়ের উৎস নেই: ব্র্যাক
২২মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারির সময়ে দেশে ফেরত আসা অভিবাসী কর্মীদের ৮৭ শতাংশেরই এখন কোনো আয়ের উৎস নেই। নিজের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারবেন এমন সংখ্যা ৩৩ শতাংশ। ৫২ শতাংশ বলছেন, তাদের জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির বিদেশফেরত অভিবাসী কর্মীদের জীবন ও জীবিকার ওপর কভিড-১৯ মহামারির প্রভাব শীর্ষক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ শুরুর পর দেশে ফেরত এসেছেন এমন ৫৫৮ জন প্রবাসী কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই ফিরেছেন মার্চে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪৫ শতাংশ এসেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, ওমান এবং কুয়েত থেকে। বাকিরা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইতালি, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরেছেন। ব্র্যাকের ২০ জন কর্মী ঢাকা, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, নরসিংদী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, খুলনা এবং যশোরে রয়েছেন এমন প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪০ শতাংশ বলেছেন, করোনার কারণে তারা দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ৩৫ শতাংশ বলছেনে, তারা ছুটিতে এসেছিলেন। ১৮ শতাংশ বলেছেন, তারা পারিবারিক কারণে চলে এসেছেন। ৭ শতাংশ বলেছেন, তাদের ফেরার সাথে করোনার কোন সম্পর্ক নেই। কোয়ারেন্টিনের বিষয়ে জানতে চাইলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৪ শতাংশ বলেছেন, তারা ১৪ দিনের কোয়ারিন্টেনে ছিলেন। ১৪ শতাংশ বলেছেন, তারা কোয়ারিন্টেন ঠিকমতো মানতে পারেননি। দুই শতাংশ বলেছেন, তারা এক সপ্তাহ কোয়ারিন্টেনে ছিলেন। ফেরত আসার পর বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা এখন প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ভীতির মধ্যে রয়েছেন। ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির ১২ জন কাউন্সিলর অবশ্য তাদের সবাইকে মনোসামাজিক সেবা দিয়েছেন। ২৯ শতাংশ অভিবাসী বলেছেন তাদের প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজনেরা তাদের ফিরে আসাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি এবং তাদের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করেনি। তবে ৯৭ শতাংশ বলেছেন, এক্ষেত্রে পরিবার সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ জানান, তাদের নিজেদের সঞ্চয় বলতে এখন আর কিছু নেই। ১৯ শতাংশ জানান, তাদের যে সঞ্চয় আছে তা দিয়ে আরও এক-দুই মাস চলতে পারবেন। নিজেদের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারবেন এমন সংখ্যা ৩৩ শতাংশ। ১০ শতাংশ জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে তারা ঋণ গ্রহন করেছেন। ১৪ শতাংশ প্রবাসী তাদের সঞ্চয়ের ব্যাপারে কোনো প্রকার তথ্য দিতে রাজি হননি। মোবাইল ফোনে সাক্ষাতকার গ্রহনের মাধ্যমে পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায়, ফেরত আসা অভিবাসীদের শতকরা ৮৪ ভাগ এখনো জীবিকা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করতে পারেননি। ৬ শতাংশ জানিয়েছে, তারা পুনরায় বিদেশ যাওয়ার কথা ভাবছেন। বাকীরা কৃষিভিত্তিক ছোটো ব্যবসা, মুদি দোকান বা অন্য কিছু করার পরিকল্পনা করছেন। বিদেশফেরত এই অভিবাসীরা কোন ধরনের সহায়তা পেয়ছেন কী না জানতে চাইলে ৯১ শতাংশ বলেছেন তারা এখনো সরকারি বা বেসরকারি কোন জায়গা থেকে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাননি। বাকি ৯ শতাংশ সরকারি বা বেসরকারি কোন না কোন জায়গা থেকে সামান্য হলেও সহযোগিতা পেয়েছেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে শুরু থেকে দেশজুড়ে নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে ব্র্যাক। এই কাজের সাথে যুক্ত আছে ব্র্যাকের এক লাখেরও বেশী কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও স্বাস্থ্যকর্মী। সারা দেশে চার কোটি ৩০ লাখ (৪৩ মিলিয়ন) মানুষের কাছে করোনা ভাইরাস বিষয়ক সচেতনতা বার্তা পৌঁছে দিয়েছে ব্র্যাক। শুধু তাই নয় ব্র্যাক ১৫ লাখ মানুষের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ এবং তিন লাখ পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তাও প্রদান করেছে। এছাড়া বিদেশ প্রত্যাগতদের কোয়রেন্টাইন হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ইতোমধ্যে উত্তরায় বিমানবন্দরের উল্টো দিকে ব্র্যাকের ৪৩০ টি কক্ষ সরকারকে প্রদান করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নমুনা পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সহায়তা করতে ১০০ টি বুথ স্থাপনের কাজ করছে ব্র্যাক। অভিবাসীদের নানা ধরনের সেবা দিতে ২০০৬ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি। বিদেশ ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণের জন্যও ব্র্যাকের একাধিক উদ্যোগ রয়েছে। করোনার সময় ফেরত আসা এক হাজার ২৩৩ জন প্রবাসী এবং ৬৮টি পরিবারকে কাউন্সিলিং সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৭ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী ও তার পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা, কমপক্ষে ৫ হাজার অভিবাসীকে অর্থনৈতিকভাবে পুণরেকত্রীকরণের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের কার্যক্রমসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচি। ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, বিদেশফেরত প্রবাসীদের বর্তমান অবস্থা, তাদের সংকট এবং করোনা তাদের জীবন ও জীবিকার ওপর কী কী প্রভাব ফেলেছে সেটা জানতেই এই জরিপ। ফেরত আসা ৮৭ শতাংশেরই এখন কোনো আয়ের উৎস নেই। ৫২ শতাংশ বলছেন, তারা জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা চান। আমরা দেখছি অনেকে ফেরত আসছে। সামনের দিনগুলোতে অনেক মানুষ চাকরি হারিয়ে ফিরে আসতে পারেন। সরকার তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর কাজটি শুধু সরকারের একার নয়। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা সবাই মিলে কাজটি করতে হবে। কারণ এই প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি সবসময় সচল রেখেছেন। এমনকি করোনার সময়ও তারা বিদেশ থেকে টাকা পাঠাচ্ছেন। শরিফুল হাসান জানান, ঈদকে সামনে রেখে শুধু মে মাসের ১৯ দিনে ১০৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা। আর জানুয়ারি থেকে ধরলে মোট তারা পাঠিয়েছেন ৫৫ হাজার কোটি টাকা। কজেই এই সংকটময় সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
ঈদের জামাতে ডিএমপির ১৪ নির্দেশনা
২২মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে ঈদগাহ বা উন্মুক্ত স্থানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে না। এ ক্ষেত্রে মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদের নামাজের জামাত খোলা জায়গার পরিবর্তে নিকটস্থ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাতের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। নিচের নির্দেশনাসমূহ মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হলো। ১.ঈদের নামাজের জামাতের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। ২.ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। ৩.করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে প্রবেশদ্বারে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। ৪.মসজিদের ওযু খানা ব্যবহার না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসস্থান থেকে ওযু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওযু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। ৫.ঈদের নামাজের জামাতে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। ৬.ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে। ৭.এক কাতার অন্তর অন্তর কাতারবদ্ধ হতে হবে। ৮.করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদে জামায়াত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো থেকে বিরত থাকুন। ৯.মসজিদে শৃঙ্খলার সাথে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক ব্যবস্থা রাখার জন্য মসজিদ কমিটিকে অনুরোধ করা হলো। ১০. করোনা পরিস্থিতিতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাসায় যাতায়াত করা থেকে বিরত থাকুন। ১১.ঈদের দিন ও পরবর্তী সময়ে বিনোদন কেন্দ্রে যাতায়াত না করে নিজ ঘরে অবস্থান করে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদ উদযাপন করুন। ১২.ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে যারা ঢাকার বাহিরে যাবেন তারা তাদের বাসা অথবা ফ্ল্যাটের মেইন গেটে অটোলক ব্যবহার করুন এবং বাসাবাড়ী ত্যাগের পূর্বে রুমের দরজা জানালা সঠিকভাবে তালাবদ্ধ করুন। ১৩.মালিক পক্ষ স্ব স্ব মার্কেট/শপিং মলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করুন এবং আপনার এলাকার থানা/ফাঁড়ির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখুন। ১৪.খালি বাসায় মূল্যবান সামগ্রী না রেখে ঢাকায় অবস্থান করছেন এমন আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় তা রেখে যান। মহামারি করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্মানিত ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের অনুরোধ জানাচ্ছে।
আরও ১৮১ পুলিশ সদস্যর করোনা জয়
২২ মে,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও ১৮১ পুলিশ সদস্য। শুক্রবার (২২ মে) কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ছেড়েছেন তারা। এর আগে করোনা পজিটিভ হওয়ায় তারা বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হন। সরকারের আইইডিসিআরর চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী, ১৮১ পুলিশ সদস্যদের পরপর দুই বার কোভিড-১৯ টেস্ট করা হয়। টেস্টে দ্বিতীয় কোভিড-১৯ নেগেটিভ হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের করোনামুক্ত ও সুস্থ ঘোষণা করে হাসপাতাল ত্যাগের ছাড়পত্র দেন। এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত সাতশরও বেশি পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়েছেন। রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. সাইফুল ইসলাম সানতু ১৮১ জন পুলিশ সদস্য সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতাল ত্যাগ করার সময় বরাবরের মতোই করোনা প্রতিরোধের সম্মুখযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় বলেও জানান তিনি।

জাতীয় পাতার আরো খবর