সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনাকালও একদিন শেষ হবে: আইজিপি
২৫মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, দীর্ঘতম রজনী শেষেও একসময় ভোরের আলো আসে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ করোনাকালও একদিন শেষ হবে। বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফায়েড পেজ থেকে দেয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি একথা বলেন। ঈদ শুভেচ্ছায় আইজিপি বলেন, প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম। ঈদ মোবারক। করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ দুর্যোগপূর্ণ সময়ে আমরা এক ভিন্ন পরিস্থিতিতে এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছি। করোনা মোকাবেলায় আপনারা সকলে সচেতন থাকবেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। দীর্ঘতম রজনী শেষেও একসময় ভোরের আলো আসে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ করোনাকালও একদিন শেষ হবে। আমরা ফিরে যাবো স্বাভাবিক জীবনে। সেই দিনের জন্য তোলা থাক এবারের ঈদ। ঈদের আনন্দ যেটুকু সম্ভব এবার ঘরে বসেই উপভোগ করুন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। সবাইকে আবারও ঈদের শুভেচ্ছা।
কারাগারে হয়নি ঈদ জামাত, সাক্ষাতও বন্ধ
২৫মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিলনের বার্তা নিয়ে আবার এসছে ঈদুল ফিতর। সবার মতো কারাগারে বন্দিরাও ঈদ পালন করবেন। তবে অন্যবারের তুলনায় এবারের ঈদটা ব্যতিক্রম। দেশের কোনও কারাগারেই এবার উন্মুক্তস্থানে ঈদের জামাত হয়নি। এর সাথে যুক্ত হচ্ছে এবার কোনও স্বজনও চাইলে বন্দির দেখা পাবেন না। কারা অধিদপ্তরের হিসাব মতে সারাদেশে ৭৫ হাজার ৬১৭ জন বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে পুরুষ বন্দি ৭২ হাজার ৬৩৯ জন আর মহিলা বন্দি দুই হাজার ৯৭৮ জন। মোট হাজতি রয়েছে ৬০ হাজার ৯৯৫ জন। এদের মধ্যে পুরুষ বন্দি ৫৮ হাজার ৫৭৪ জন আর মহিলা বন্দি দুই হাজার ৪২১ জন। কয়েদি রয়েছেন ১২ হাজার ৬৩১ জন। এদের মধ্যে পুরুষ রয়েছেন ১২ হাজার ১২৬ জন আর মহিলা রয়েছেন ৫০৫ জন। সারাদেশে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন এক হাজার ৮৯৮ জন। এদর মধ্যে পুরুষ রয়েছে এক হাজার ৮৫০ জন আর মহিলা ৪৮ জন। বিদেশি বন্দি রয়েছে ৫৬২ জন। এদের মধ্যে হাজতি ৪১২ জন। তার মধ্যে পুরুষ ৩৯৮ জন আর মহিলা ১৪ জন। কয়েদি ৫৭ জন। এছাড়া আরপি বন্দি রয়েছে ৯৩ জন। পুরুষ ৮৯ জন আর মহিলা চারজন। মায়ের সাথে শিশু রয়েছে ৩৬৭ জন। এদের মধ্যে ছেলে ১৬৫ জন আর মেয়ে ২০২ জন। সাজাপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য ৭৮৯ জন। জঙ্গি রয়েছেন ৭৮২ জন। এর মধ্যে জেএমবি ৫০০ জন এবং অন্যান্য ২৮২ জন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের জন্য উন্মুক্তস্থানে কোনও নামাজের ব্যবস্থা ছিল না। তবে বন্দিরা চাইলে সামাজিক দুরুত্ব মেনে নিজেদের সেলের মধ্যে নামাজ পড়ার নির্দেশনা রয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রায় আট হাজার সাতশ জন বন্দি রয়েছেন। তাদেরকে সকাল বেলায় সেমাই আর মুড়ি নাস্তা খেতে দেওয়া হয়। দুপুরে তারা খাবার পাবেন পোলাও, গরু বা খাশির মাংস, সালাদ, একটি করে মিষ্টি পান সুপারি, রাতে তারা খাবার পাবেন সাদাভাতা, রুই মাছ, আলুরদম।
এবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় হচ্ছে না
২৫মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের কারণে বঙ্গভবনে এবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন না। এছাড়া বঙ্গভবনের দরবার হলে ঈদের জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ঈদের এই জামাত অনুষ্ঠিত হবে। রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে রাষ্ট্রপতি এবার ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিচ্ছেন না। বঙ্গভবনের দরবার হলে সীমিত পরিসরে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি সেই জামাতে অংশ নেবেন। সব সময় ঈদের দিন রাষ্ট্রপতি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে বঙ্গভবনে ঈদের যে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, সেটাও এবার হচ্ছে না বলে জানান জয়নাল আবেদীন। বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, দরবার হলে অনুষ্ঠেয় ঈদের জামাতে রাষ্ট্রপতি ছাড়াও তার পরিবারের সদস্যরা এবং বঙ্গভবনে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন কর্মকর্তা অংশ নেবেন। বঙ্গভবনের দরবার হলে সাধারণত রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলো হয়ে থাকে। এছাড়া, দরবার হলে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথও অনুষ্ঠিত হয়। প্রসঙ্গত, দেশের রাষ্ট্রপতি সব সময় ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে থাকেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের জাতীয় ঈদগাহে দেশের প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ হলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি অংশ নিয়ে থাকেন। করোনার কারণে এবার জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা
২৫মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাসের এই মহামারিতে গণজমায়েত এড়িয়ে ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানান তারা। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রোববার (২৪ মে) এক বাণীতে এই আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযম পালনের পর অপার খুশি আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। এদিন সব শ্রেণিপেশার মানুষ এক কাতারে শামিল হন এবং ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেন। ঈদ সবার মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন। তিনি আরও বলেন, ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। এখানে হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানির কোনও স্থান নেই। মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সহাবস্থান, পরমতসহিষ্ণুতা ও সাম্যসহ বিশ্বজনীন কল্যাণকে ইসলাম ধারণ করে। বিশ্বব্যাপী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এ বছর ঈদুল ফিতর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে পালিত হবে। এ কঠিন সময়ে আমি সমাজের স্বচ্ছল ব্যক্তিবর্গের প্রতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আমি দেশবাসীর প্রতি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপনের আহ্বান জানাচ্ছি। ঈদ উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মুসলিম জাহানের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানদের জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি, সংযম, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন পরিব্যক্তি লাভ করুক-এটাই হোক ঈদ উৎসবের ঐকান্তিক কামনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্বাভাবিক পরিবেশে এবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করছি। করোনাভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এক অদৃশ্য ভাইরাস মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই বিপদের সময় আমাদের স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ যারা জীবন বাজি রেখে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের এই মহামারিতে অনুরোধ করবো, যথাসম্ভব গণজমায়েত এড়িয়ে আমরা যেন ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করি এবং আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করি যে এই সংক্রমণ থেকে আমরা সবাই দ্রুত মুক্তি পাই। মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর উন্নতি, সমৃদ্ধি ও অব্যাহত শান্তি কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ঈদের সেই আনন্দ নেই
২৫মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের কারণে আগের মতো ঈদের সেই আনন্দ নেই, নেই হাসিমুখ, নেই কোনো কোলাকুলি। মসজিদে ঈদের নামাজে ঢুকে চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। বিভিন্ন মসজিদ ঘুরে দেখা যায়, আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা নিয়ে মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। তবে অন্য বার ঈদের নামাজ শেষে একজন আরেকজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয়ার যে দৃশ্য দেখা যেত এবার তা দেখা যায়নি। প্রতিবছর ঈদের নামাজের পর হাসিমুখে কোলাকুলির এই দৃশ্য দেখা গেলেও এবার সেই দেখা মিলছে না। এক মাস রোজা রাখার পর খুশির ঈদ এলেও মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে তা নিরানন্দ হয়ে গেছে। ঈদের খুশির বদলে মানুষের মনে আতঙ্ক আর নানা দুশ্চিন্তা ভর করেছে। এক মুসল্লি বলেন, ঈদের দিন এমন হবে কোনোদিন ভাবিনি। রোজার শেষে ঈদ এসেছে, কিন্তু ঈদের সেই আমেজ কোথাও নেই। ঈদের নামাজ পড়েছি আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা নিয়ে। তিনি বলেন, মহামারি করোনাভাইরাস আমাদের সব আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। কবে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাব তার কোনো ঠিক নেই। আরেক মুসল্লি বলেন, অন্যবার ঈদের দিন বন্ধুরা মিলে কত হইহুল্লোড় করে বেড়িয়েছি। এবার আর কোনো কিছু নেই। একবন্ধু আরেক বন্ধুর বাসায় দাওয়াত খেতে যাব তার সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতির ঈদ খুশির বদলে বেদনা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জীবনে আর কখনো ইমন ঈদের দিন আসবে কি-না জানিনা। তবে যতদিন বেঁচে থাকব এই ঈদের দিনের কথা মনে থাকবে। এ কথা কখনো ভুলব না। ষাটোর্ধ্ব মমিনুল ইসলাম বলেন, বয়স আমার কম হয়নি। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ সবই দেখেছি। কিন্তু এমন দৃশ্য কখনো দেখিনি। কোনো যুদ্ধ নেই, হানাহানি নেই তারপরও মানুষের মনে কোনো আনন্দ নেই। এক কঠিন মুহূর্ত। তিনি বলেন, প্রতিবছরই ঈদের দিন প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ করেছি। বন্ধু, বড় ভাই, পরিচিতজনদের ঈদের নামাজ শেষে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করেছে। এবার কারো সঙ্গে কোলাকুলি করার কোনো সুযোগ হয়নি। দূরে দাঁড়িয়ে একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। কোলাকুলি করতে না পারার বেদনায় বুক ফেটে যাওয়ার মতো অবস্থা। কিন্তু কিছু করার নেই। এ পরিস্থিতি আমাদের সবাইকে মেনে নিতে হবে। এদিকে রাজধানীর বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদুল ফিতরের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিরাপদ শারিরীক দূরত্ব এবং করোনা ভাইরাস পরিস্থিতর জন্য অন্যান্য নির্দেশনা মেনেই এই জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সোমবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসের বিস্তারের কারণে এবার ভিন্ন মাত্রার ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার যে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে যাচ্ছে তা নির্ধারিত হয় শনিবার রাতেই। এদিন চাঁদ না দেখা যাওয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে ৩০ রোজা শেষে সোমবার ঈদুল ফিতর উদযাপনের দিন নির্ধারণ করা হয়। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা শেষে প্রতিবছরই উদযাপিত হয় এই ঈদ উৎসব। এ উপলক্ষে সাধারণত তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। ছুটিতে স্বজনদের সাথে ঈদ করার জন্য কয়েক দিন ধরেই নাড়ির টানে গ্রামে ছুটে যায় লাখ লাখ মানুষ। রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম। কারোনা পরিস্থিতির কারণে আগে থেকেই সাধারণ ছুটি চলছে। গণপরিবহন বন্ধ। ব্যক্তিগত গাড়িতে কিছু সংখ্যক মানুষ গ্রামের বাড়িমুখো হলেও অধিকাংশ মানুষই এবার যেতে পারছে না। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছে। নিজ বাসাবাড়িতে অবস্থান করছে। ঈদের শুরুটা হয় ঈদগাহে সবাই মিলে নামাজ পড়তে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। করোনার কারণে স্মরণকালে এই প্রথম ঈদের জামাত হবে না ঈদগাহে। গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জাতীয় ঈদগাহে নেই জামাতের আয়োজন। করোনার বিস্তার রোধে দেশের কোথাও এবার ঈদগাহে জামাত হবে না। মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জামাত করার পরামর্শ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায় হবে। পরের জামাতগুলো হবে ৮টা, ৯টা, ১০টা এবং পৌনে ১১টায়। অন্যান্য মসজিদেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে জামাত আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাঙালির কাছে ঈদ শুধু আনন্দের নয়, সব ভেদাভেদ ভুলে পরম শত্রুকেও বুকে টেনে নেওয়ার দিন। কিন্তু করোনার সংকটে এখানেও বাধা রয়েছে। ঈদ জামাতের পর কোলাকুলি করা যাবে না, হাত মেলানো যাবে না।
দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ । করোনা সংকটের শুরু থেকেই প্রায় সব সংসদ সদস্য (এমপি) নিজ নিজ এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।আজ রোববার রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে ঘরে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছিল, সেটি সবার জন্যই প্রযোজ্য। আর সংসদ সদস্যরা এলাকায় গেলে কিছু লোকসমাগম হয়ই। সেটি যথাসম্ভব এড়ানোরও প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বয়োজ্যেষ্ঠ ও অসুস্থ, যাদের বাসায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, তারা ও দু'একজন ব্যতিক্রম বাদে প্রত্যেক সংসদ সদস্যই নিজ এলাকায় ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নিয়েছেন ও নিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এলাকায় না গিয়েও লোকজনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করা যায় এবং সেটি প্রত্যেক সংসদ সদস্য শুরু থেকেই করে আসছেন।
দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি বাংলাদেশের জনগণসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। ঈদ মোবারক। ঈদুল ফিতর মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব হলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে সকল ধর্ম এবং বর্ণের মানুষ এ উৎসবে সমানভাবে শামিল হয়ে থাকেন। ঈদের আনন্দ সকলে ভাগাভাগি করে উপভোগ করেন। রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। সরকারপ্রধান বলেন, এ বছর এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। করোনাভাইরাস নামক এক প্রাণঘাতী ভাইরাস সারাবিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। তার ওপর ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঈদগাহ ময়দানের পরিবর্তে মসজিদে মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে আমি ঘরে বসেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে সামর্থ্যবানদের প্রতি আহ্বান জানাই, এই দুঃসময়ে আপনি আপনার দরিদ্র প্রতিবেশী, গ্রামবাসী বা এলাকাবাসীর কথা ভুলে যাবেন না। আপনার যেটুকু সামর্থ আছে তাই নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান। তাহলেই ঈদের আনন্দে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে আপনার ঘর এবং হৃদয়-মন।
ঈদে কোলাকুলি না করার আহবান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
২৪ মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাভাইরাসের সংক্রমন রোধে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবার ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। আজ রোববার করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ আহ্বান জানান। এছাড়া কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামায়াতে শরিক হওয়ার জন্যও তিনি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগামীকাল (সোমবার) ঈদুল ফিতর। আমরা দেখতে পাচ্ছি অনেকে ইতোমধ্যে শহর ছেড়ে গ্রামে গেছেন এবং এখনও যাচ্ছেন। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ থাকবে, সবাই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলবেন। সব ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলবেন। কমপক্ষে ৩ ফুট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামায়াতে শরিক হবেন। সব মুসলিম ভাইয়ের প্রতি অনুরোধ, ঈদে কোলাকুলি থেকে বিরত থাকবেন। নাসিমা সুলতানা বলেন, শিশুদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবেন। ঈদের আনন্দ উচ্ছলতার কারণে তারা যেন ঝুঁকির সম্মুখীন না হন। অবশ্যই শিশুসহ সবাইকে নিয়ম অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর