১৯তম জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু রাষ্ট্রপতির সূচনা ভাষণের মধ্যদিয়ে
রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ স্বাধীনতা সমুন্নত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুজ্জ্বল রাখতে দেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ সম্পূর্ণরূপে নির্মূলের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে বাঙালী জাতিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একাত্তরের শহীদানদের কাছে আমাদের অপরিশোধ্য ঋণ রয়েছে, ধর্মবর্ণগোত্র নির্বিশেষে এবং দলমতপথের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরাম্বিত করার মধ্য দিয়ে আসুন আমরা লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রবিবার ১৯তম জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সূচনা দিনে প্রদত্ত ভাষণে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের যে পথ আমরা পরিক্রমণ করছি, তা আমাদের বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশ্বসভায় ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি সম্মানজনক অবস্থানে সমাসীন হয়েছে এবং অচিরেই একটি উন্নত দেশ হিসাবে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ মধ্য-আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৪১ সালে বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে, এটাই জাতির প্রত্যাশা। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী- সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন এবং সমাজের সকল স্তরে প্রত্যক্ষ জনসম্পৃক্তির মধ্য দিয়ে আমরা নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনসহ একটি আদর্শ সমাজভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হব। সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যা ৬টায় কালো হাল্কা এ্যাশ কালারের স্যুট-প্যান্ট ও লাল টাই পরিহিত রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সংসদ অধিবেশনে প্রবেশের সময় বিউগলে তার আগমনী বার্তা বাজানো হয়। অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে এ সময় বিউগলে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অধিবেশনে প্রবেশ করেই রাষ্ট্রপতি স্পীকারের ডান পাশে রাখা নির্ধারিত আসনে আসন গ্রহণ করেন। এরপর ৬টা ৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ১৫৭ পৃষ্ঠাব্যাপী ভাষণের সংক্ষিপ্তসার তাঁর ভাষণে উত্থাপন করেন। টানা প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিটের ভাষণের সময় মাঝে মাঝেই সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তুমুল টেবিল চাপড়িয়ে রাষ্ট্রপতিকে উজ্জীবিত রাখেন। ভিভিআইপি লাউঞ্জেও দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, কূটনীতিক এবং ও সামরিক- বেসামরিক উর্ধতন কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যক্ষ করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে বর্তমান সরকারের গত চার বছরের উন্নয়ন-সফলতাগুলো বিস্তারিতভাবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ শেষ করেন। টেবিলে উত্থাপিত তাঁর পূর্ণাঙ্গ ভাষণটি সংসদীয় কার্যক্রমে পঠিত বলে গণ্য করা হয়। ভাষণ শেষে বিউগলে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন ত্যাগ করেন। এরপর স্পীকার সংসদ অধিবেশন আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণের শুরুতেই দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশ সংবিধান সমুন্নত এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখে ২০১৪ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ওপর দেশ পরিচালিনার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। গত মহাজোট সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার রূপকল্প- ২০২১দিন বদলের সনদ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্য-আয়ের দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিমধ্য-আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এখন জাতির দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে ২০৪১ সালের দিকে- বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার মানসে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সরকার উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রেখে জাতির আকাক্সক্ষা পূরণে সফল হবে। রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার দারিদ্র্যনিরসন এবং বৈষম্য দূর করে আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প হিসেবে বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা এবং মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৫-২০ মেয়াদে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ, দারিদ্র্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, যা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনায় গড়ে বার্ষিক ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২০ সাল নাগাদ ৮ শতাংশে পৌঁছবে। সহরাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি)র অনর্জিত লক্ষ্যসমূহ শনাক্তকরণসহ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টসমূহ সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করে তা অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ সকল পরিকল্পনার মৌলিক উদ্দেশ্য হলো উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে উন্নীতকরণ। সরকার কর্তৃক এ সকল কার্যক্রম গ্রহণের ফলে জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটছে এবং বাংলাদেশ প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করে যাচ্ছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকার নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে। সংসদ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমান সরকার সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে অর্ভূতপূর্ব গতিশীলতা সঞ্চারণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও আলোকিত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরন্তর ঐকান্তিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহতকরণ এবং জাতির অগ্রযাত্রার স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষার সফল বাস্তবায়নে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি জনগণের প্রত্যাশা পূরণের প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই।
জনগণের আস্থা অর্জনের নিরন্তর প্রচেষ্টাও এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের উন্নয়ন, প্রগতি এবং মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশকে নিরপেক্ষতার মূর্ত প্রতীক হতে হবে। সেবা প্রত্যাশীদের সর্বোত্তম আইনগত সহায়তা দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের নিরন্তর প্রচেষ্টাও এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের থাকতে হবে। তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের প্রতিটি সদস্য স্বীয় দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে সেবা, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত, সমৃদ্ধ জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সচেষ্ট হবেন। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে একথা বলেন। আগামীকাল ৮ জানুয়ারি থেকে পুলিশ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে। বাণীতে তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশ পুলিশকে একটি দক্ষ, জনবান্ধব ও প্রতিশ্রুতিশীল বাহিনীতে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুলিশের জনবল বৃদ্ধি, প্রযুক্তির সংযোজন, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, বিশেষায়িত নতুন নতুন ইউনিট গঠনসহ বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে আমরা পুলিশ এন্টি টেররিজম ইউনিটগঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিটে প্রতিনিয়ত নারীর অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অপরিসীম ত্যাগ ও বীরত্বগাঁথার ইতিহাসকে ধারণ করে সগৌরবে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ পুলিশবাহিনী। দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এই বাহিনী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের সাফল্য দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে পুলিশবাহনীর সদস্যগণ ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ভয়াল রাতে পাকিস্তান হানাদারবাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ও বিভিন্ন সময়ে দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী দেশপ্রেমিক বীর পুলিশ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
সারাবিশ্ব এদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে: পলক
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। সারাবিশ্ব এদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী শনিবার দুপুরে সিংড়া উপজেলার নিংগইন জোড়মল্লিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। শিক্ষা আর প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশের কার্যকরি উন্নয়ন পরিকল্পনার সুফল পেতে শুরু করেছে মানুষ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দেশের কৃষি এখন অনেক সমৃদ্ধ। কৃষকেরা এখন ফসলের ন্যায্য মূল্য পান। গ্রামীণ জনপদ এখন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত। মন্ত্রী বলেন, এর সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে।নিংগইন জোড়মল্লিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সিংড়া পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস, সিংড়া দমদমা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আশরফুল ইসলাম তারা, রবীন্দ্র গবেষক ড. আশরাফুল ইসলাম ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিন।
বুলেটের মাধ্যমে নয়, ব্যালটে ক্ষমতা বদল হবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ভোটারবিহীন বলে অভিযোগ উত্থাপনকারীদের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন কোনভাবেই ভোটারবিহীন ছিল না। শত বাধা ও খালেদা জিয়ার জ্বালাও-পোড়াও এবং আগুনে শত শত মানুষ হত্যার মধ্যেও শতকরা ৪০ ভাগেরও বেশি ভোট পড়েছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে। জনগণ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছে বলেই আমরা আজ সরকারের চতুর্থ বছর পূর্ণ করছি। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটেই নির্বাচিত। খালেদা জিয়া ওই সময় দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই যেন না থাকে সেই চেষ্টা ও ষড়যন্ত্রই করেছিল। কিন্তু জনগণ তা সফল হতে দেয়নি। নির্বাচন হয়েছে বলেই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে আরও বলেন, বিএনপি এখন কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলে। অনেকে বলে বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র দিয়েছে। তারা জনগণকে গণতন্ত্র দেয়নি। গণতন্ত্র দিয়েছে স্বাধীনতা বিরোধী, রাজাকার, আলবদর, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের। যাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল তাদের রাজনীতি করার অধিকার দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পুরস্কৃত করেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, জিয়াউর রহমান কিভাবে ক্ষমতায় এসেছে? কিন্তু কোন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিএনপির জন্ম? অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল জিয়া রাষ্ট্রপতি সায়েমকে অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিল। সাবেক রাষ্ট্রপতি সায়েম সাহেব তার লেখা বইতেই সবকিছু লিখে গেছেন। যে দলটির জন্মই অবৈধভাবে সেই দলটির নেতারা গণতন্ত্রের বুলি আওড়ান কীভাবে? ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের কিছু লোক আছে যারা যেনতেনভাবেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ভোটারবিহীন নির্বাচন বলার চেষ্টা করেন। এই নির্বাচনকে বানচাল করার নামে খালেদা জিয়ারা নির্বিচারে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে, শত শত ভোট কেন্দ্রে আগুন দিয়েছে, প্রিসাইডিং অফিসারকে পর্যন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছে। কিন্তু এত বাধার মধ্যেও জনগণ সবকিছু প্রতিহত করে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছে। ৪০ ভাগেরও বেশি ভোট পড়েছে। জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই আওয়ামী লীগ চার বছর ক্ষমতায় আছে। এরশাদ ও খালেদা জিয়ার আমলের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কই ৮৮ সালে এরশাদ তো ভোটারবিহীন নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে খালেদা জিয়া দেড় মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। জনগণের আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মানসিক সমস্যা দেখা দিল কি-না, সেটাও বলতে পারছি না। পরীক্ষা করে দেখা দরকার, তার মাথা ঠিক আছে কি-না। পদ্মা সেতু নিয়ে খালেদা জিয়ার অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি। খালেদা বলেছেন, পদ্মা সেতু নাকি জোড়াতালি দিয়ে করা হচ্ছে। তিনি মানুষকে পদ্মা সেতুতে উঠতে মানা করেছেন। আমরা দেখব, খালেদা এবং বিএনপি নেতারা পদ্মা সেতুতে ওঠেন কি-না। খালেদা জিয়া অনবরত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এই মহিলা কত মিথ্যা কথা বলে। তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত সব কিছু মিথ্যাতে ভরা। মাথার চুল থেকে পা পর্যন্ত সব কিছু নকল। মিথ্যা কথা বলে, সবকিছু মিথ্যা ও জালিয়াতি করে। এখন আবার বলছেন, আমাদের নৌবাহিনীর জন্য আনা সাবমেরিন ফুটো হয়ে গেছে। এটা পানির নিচে ডুবে গেছে! সেনাবাহিনীর বউ (খালেদা জিয়া) হয়েও এটা বোঝেন না যে, সাবমেরিন ডুবে যায় না, এটা পানির নিচে যায়। জানি না এই কথা শোনার পর আমাদের নৌবাহিনীর সদস্যরা কী বলবেন। আর দেশের জনগণই বা কী বলবে। বুঝতেছি না, তার মাথায় কিছু আছে কি না। তিনি বলেন, খালেদা শুধু একটা বিষয়ই ভাল বোঝেন তা হলো লুটপাট, অর্থ বানানো, ধ্বংস, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা। তিনি এগুলোই কেবল বোঝেন, আর কিছু বোঝেন না। খালেদা জিয়ার টুইট বার্তার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া টুইট করেছেন, আওয়ামী লীগ বুলেটে বিশ্বাস করে, আর তিনি ব্যালটে বিশ্বাস করেন! আমি ৮১ সালে দেশে ফিরে বলেছিলাম, ক্ষমতা বদল হবে বুলেটে নয়, ব্যালটে। বুলেটের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে জিয়া, তার স্ত্রী তার থেকে আরও একধাপ এগিয়ে দেশ বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। বুলেটে-বন্দুকের নলে যারা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের মুখে এ কথা শোভা পায় না। আর জানি না, টুইট তিনি নিজে লিখেছেন, নাকি কাউকে দিয়ে লেখিয়েছেন, সন্দেহ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সংসদে এনে বিরোধী দলের আসনে বসিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনী হুদা যার ফাঁসি হয়েছে, সেই হুদাকে পর্যন্ত এমপি বানিয়ে সংসদে বসিয়েছিলেন বিএনপি নেত্রী। ভোটারবিহীন নির্বাচন জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারাই করেছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার দেয়া উকিল নোটিসের জবাব দেয়া হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার গোটা পরিবারের সম্পদের হিসাব বের করেছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া। আর এটা বললাম কেন, এজন্য আমাকে নোটিস দেন। এ রকম নোটিস বহু দেখেছি। সময়মতো এই নোটিসের জবাব দেব। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, যদি সৎসাহস থাকে, সত্যি কোন অপরাধ করে না থাকেন, যেসব মিডিয়া খবর দিয়েছে, তাদের নোটিস দিন। তাদের প্রতিবাদ জানান। তাহলে বোঝা যাবে, সততার একটা শক্তি আছে। তিনি সেটাও পারেননি। এ প্রসঙ্গে সরকার প্রধান আরও বলেন, খালেদা জিয়ার গোটা পরিবারের সম্পদের যে হিসাব এসেছে, তা তো বাংলাদেশের কেউ বের করেনি। এটা তো আন্তর্জাতিকভাবে বেরিয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়া বের করেছে। সেখান থেকে খবর এসেছে। সেই কথাটি বললাম কেন, এজন্য আমাকে আবার নোটিস দেন। নোটিস আমাকে দেবেন কেন? যেসব মিডিয়া এগুলো বের করেছে, যেসব দেশের সরকার এই তথ্যগুলো দিয়েছে, সেখানে তো নোটিস দিতে যাননি। সেখানে নোটিস দিয়ে বা তাদের কাছে প্রতিবাদ জানালে না হয় সত্যতা বুঝতাম। সব অন্তর্জ্বালা আমাকে দিয়ে মেটাতে চান বিএনপি নেত্রী। কারণ তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পারেননি। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার সেই ঐতিহাসিক ভাষণ আজও জাতিকে অনুপ্রাণিত ও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। বিশ্বের আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসে যতগুলো ভাষণ রয়েছে এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ব্রিটিশ সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক জ্যাকব এফ ফিল্ড বিশ্বের আড়াই হাজার বছরের বিভিন্ন শ্রেষ্ঠ ভাষণ নিয়ে গবেষণা করে একটি বই বের করেছেন। ওই বইয়ে আড়াই হাজার ভাষণের মধ্যে মাত্র ৪১টি ভাষণ স্থান পেয়েছে। আর ওই ৪১ ভাষণের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অন্যতম ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সেই শ্রেষ্ঠ ভাষণ আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণকে ওয়ার্ল্ডস ডকুমেন্টারি হেরিটেজহিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই স্বীকৃতি বাঙালী জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের ও মর্যাদার বিষয়। স্বাধীনতা পরবর্তী বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে উন্নীত করা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। যুদ্ধের ভয়াবহতা কাটিয়ে একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে বঙ্গবন্ধু মাত্র অল্প সময়ের মধ্যে গড়ে তুলেছিলেন। দেশকে গড়ে তোলার পাশাপাশি বাংলাদেশ যখন অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল তখনই বাঙালীর জীবনে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে। তিনি বলেন, পরাজিত পাকিস্তানসহ আমাদের স্বাধীনতার যারা বিরোধী ছিল সেসব বড় বড় দেশের পাশাপাশি একাত্তরের পরাজিত স্বাধীনতাবিরোধী এদেশীয় শত্রুরা নানা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে দেশকে আবার পিছিয়ে দেয়া হয়। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশীয় রাজাকার-আলবদর-আলশামসরা যদি বেইমানী, মোনাফেকী ও গাদ্দারি না করত তবে পাক হানাদারদের পক্ষে এতো শহর-বন্দর-গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া বা গণহত্যা চালানো সম্ভব ছিল না। সূচনা বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের শুরুতেই প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। এরপর অনেক রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে আগামী নির্বাচন, সারাদেশে সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে দলকে শক্ত সাংগঠনিক শক্তির ওপর দাঁড় করানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে আগামী ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস এবং ১২ জানুয়ারি বর্তমান সরকারের মেয়াদের চতুর্থ বর্ষ পূর্তির দিনটি জাঁকজমকভাবে পালনের সিদ্ধান্ত হয় বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
দশম জাতীয়সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিবেন রাষ্ট্রপতি
দশম জাতীয় সংসদের উনবিংশতম এবং বছরের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী রবিবার। বিকাল ৪টায় শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশনে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রেওয়াজ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ভাষণের পর সংসদ অধিবেশন মুলতবি করা হবে। এর পর অধিবেশন শুরু হলে প্রধান হুইপ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব আনবেন। পরে সংসদ সদস্যরা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করবেন। সাধারণত বছরের শুরুর অধিবেশনে দিন এরকম ঘটলেও গত বছরের মতো এবারও কিছুটা ব্যতিক্রম হবে। প্রতিবারের মত এবারও মন্ত্রিসভার ঠিক করে দেওয়া ভাষণের সংক্ষিপ্তসার পড়বেন রাষ্ট্রপতি। এই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সংসদে বছরের শুরুর অধিবেশনে শেষ ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, চলমান সংসদের কোনো সদস্যের মৃত্যু হলে অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর রেওয়াজ অনুযায়ী বৈঠক মুলতবি হয়। সাবেক মৎস্য ও প্রাণি সম্পদমন্ত্রী মো. ছায়েদুল হক এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা আহমেদের মৃত্যুতে অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণ হবে। ওই কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ সাংবিধানিক নিয়ম। তাই শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য মুলতবি হবে। সন্ধ্যা ছয়টায় সংসদে ভাষণ দেবেন আবদুল হামিদ। ২০১৬ সালে গাইবান্ধার সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনের মৃত্যুর কারণে অধিবেশন কিছুক্ষণ মুলতবি করা হয়। পরে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে বিএনপিবিহীন দশম সংসদ। রবিবার অধিবেশন শুরুর আগে বিকাল ৩টায় সংসদের কার্যক্রম ঠিক করতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে বসবে কার্য উপদেষ্টা কমিটি। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বৈঠকে অংশ নেবেন। রেওয়াজ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদের উত্তর প্লাজা দিয়ে আইন সভায় প্রবেশ করবেন, যা প্রেসিডেন্ট প্লাজানামেও পরিচিত। ৬৫ হাজার বর্গফুটের এই জায়গা মূলত রাষ্ট্রপতির প্রবেশের জন্য তৈরি করা। প্রায় ৫ বছর পর ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি এখান দিয়ে সংসদে ঢোকেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর আগে ২০০৯ সালের ২৫ জানুযারি এই জায়গা দিয়ে সংসদে ঢোকেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। ওই দিন নবম সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সংসদ সচিবালয়ের ডেপুটি সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস স্কোয়াড্রন লিডার সাদরুল আহমেদ খান বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবার নর্থ প্লাজা দিয়ে সংসদে ঢুকতে পারেন। একারণে পুরো নর্থ প্লাজায় সাজসজ্জার কাজ করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রপতি সংসদে ঢোকার সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি বাদ্যদল রাষ্ট্রপতিকে সম্ভাষন জানাবে। উত্তর প্লাজার ফ্ল্যাগ স্টান্ড থেকে তিনতলার বিশেষ লিফটপর্যন্ত বিছানো থাকবে লাল গালিচা। বিশেষ লিফটে করেই সংসদ ভবনে সাত তলায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যাবেন আবদুল হামিদ। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবার স্পিকারের পাশে রাখা ডায়াসে দাঁড়িয়েই তার ভাষণ দিতে পারেন। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দিতে শনিবার দুপুরের কুষ্টিয়া যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। রবিবার সেখান থেকে ঢাকায় ফিরে সংসদে যাবেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন।
ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও সুইজারল্যান্ড এই তিন দেশের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসছেন, চলছে প্রস্তুতি
ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসছেন। এই তিন দেশের প্রেসিডেন্টের সফর নিয়ে এখন প্রস্তুতি চলছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় আসছেন। আর ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রং তান সাং ও সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট এ্যালেন বার্সেট আগামী মাসে আসছেন। তিন দেশের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর হবে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে। আর আগামী মাসে ভিয়েতনাম ও সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সফরটি হতে পারে। শীর্ষ পর্যায়ের এসব সফর নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আসছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায়ও যেতে পারেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশের পাশে রয়েছে। এর আগে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের দূত হিসেবে গত ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো এল মারসুদি। তখন তিনি দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকের পর ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তার দেশের প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো তাকে তিনটি বার্তাসহ বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শরণার্থী সমস্যার কারণে বাংলাদেশের ওপর যে বোঝা চেপেছে তার জন্য ইন্দোনেশিয়ার পক্ষে সহমর্মিতা জানানো, বাংলাদেশের জন্য সহায়তা করতে ইন্দোনেশিয়া যে তৈরি আছে সেটা জানানো এবং বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করা। এর আগে ২০১২ সালের নবেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিয়েতনাম সফর করেন। সে সময় ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রং তান সাংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টকে ঢাকা সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ঢাকায় আসছেন। এদিকে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে অনেক জোরদার হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে তৎকালীন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সে সময় তিনি সুইস প্রেসিডেন্টকে ঢাকায় আসার আমন্ত্রণ জানান। তবে নানা কারণে তিনি আসতে পারেননি। এখন চলতি বছর নতুন সুইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন এ্যালেন বার্সেট। তারই সফরের বিষয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে চলতি বছরের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো বাংলাদেশ কিভাবে মোকাবেলা করবে এবং বিশ্ব পরিস্থিতিতে সরকারের অবস্থান কি হবে সেটা নিয়েও ব্যাপক তৎপর রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই পররাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব বিস্তারে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, জনশক্তি রফতানির অগ্রগতিসহ সার্বিক ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশের নেয়া পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশী কূটনীতিকদের চলমান ও সম্ভাব্য তৎপরতার ওপরও আলোকপাত করা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে চলতি বছর বাংলাদেশে এসব শীর্ষ পর্যায়ের সফর নিয়েও আলোচনা হয়।
দাবি মেনে নেয়ায় নন-এমপিও শিক্ষকদের উচ্ছ্বাস
এমপিওভুক্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসের পর অবশেষে ছয়দিন ধরে চালিয়ে যাওয়া আমরণ অনশন প্রত্যাহার করেছেন শিক্ষকরা। নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে অবস্থান নিয়ে ছয়দিন ধরে অনশন করছিলেন তারা। এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সম্মতি ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আশ্বাস পেলেও আন্দোলন প্রত্যাহার না করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন শিক্ষকরা। এ অবস্থায় শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়ে তারা কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন, মাউশির মনিটরিং বিভাগের পরিচালক প্রফেসর সেলিম মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে অনশনরত শিক্ষকদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান বলেন, নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আপনাদের কাছে তারবার্তা পৌঁছে দেয়ার জন্য। তিনি আপনাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন অনশন ভেঙ্গে যার যার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য। শিক্ষা সচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন নন-এমপিও শিক্ষকদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান। পরে শিক্ষা সচিব জানান, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ নন-এমপিও শিক্ষকদের অনশনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ সময় শিক্ষকরা আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে নানা সেøাগান দিতে থাকেন। আন্দোলনরত শিক্ষকদের সংগঠন নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার ঘোষণা করেন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসান শুক্রবার বিকেলে অনশনস্থলে এসে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের বিষয়টি জানালে তারা কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। জননেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আমাদের মানবিক বিষয়টি বিবেচনা করে উনার একান্ত সচিব সাজ্জাদ সাহেবকে পাঠিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সাজ্জাদ সাহেব আমাদেরকে মেসেজ দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে আমরা অনশন ভঙ্গ করে কর্মসূচী প্রতাহার করেছি। ছয়দিনের অনশনে অর্ধশতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসাও দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙ্গার পর আনন্দে মেতে ওঠেন আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা। আন্দোলন আমরা প্রত্যাহার করেছি। সকলে কাজে ফিরে যাচ্ছেন। গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, আমাদের বিশ্বাস ছিল প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নেবেন। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশনস্থল ছাড়িনি। শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে কর্মসূচী প্রত্যাহার করিনি। আমরা এমপিওভুক্তির সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চেয়েছিলাম সেটি পেলাম। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ রায় বলেন, আমরা শনিবার (আজ) থেকেই ক্লাসে ফিরব, শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনব। আশা করি, নন-এমপিও সব স্কুল এবার এমপিওভুক্ত হয়ে যাবে। আমরা জানতে পেরছি, ইতোমধ্যে সেই কাজ শুরুও হয়ে গেছে। সর্বশেষ ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে সরকার। এরপর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি বন্ধ রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলে আসছিলেন সরকারের কাছ থেকে অর্থ পেলে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে মন্ত্রণালয়ের কোন অসুবিধা নেই। ২ জানুয়ারি শিক্ষকদের অনশন ভাঙাতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, অনেক চেষ্টার পর তিনি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছ থেকে সম্মতি আদায় করতে পেরেছেন। এবার নীতিমালা করে এমপিওভুক্তির কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্তির যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে সোয়া পাঁচ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাউশির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অর্থ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মতি অনুসারে ইতোমধ্যেই নতুন এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশোধিত এমপিও নীতিমালার খসড়া অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে চূড়ান্ত হয়ে আসার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন চাওয়া হবে। এরপর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত করা হবে। এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের টানা আন্দোলন শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই কার্যক্রম শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এমপিও প্রত্যাশীদের যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে শিক্ষা অধিদফতরকে (মাউশি)। এ মুহূর্তে থোক বরাদ্দ পেলে দুই থেকে আড়াই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হতে পারে। ছয় মাস পর ২০১৮-২০১৯ সালের বাজেটে আরও আড়াই হাজার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। জানা গেছে, সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী ভাল ফল, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ কয়েকটি বিষয় মূল্যায়ন করে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির জন্য নির্বাচন করা হবে। ২০০৯ সালের ১৬ জুন সর্বশেষ নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির পর আর কোন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে সারাদেশে প্রায় সাড়ে সাত হাজার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বাইরে আছে। এমপিও সংক্রান্ত মাউশির করা প্রস্তাবে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে, সারাদেশের এমপিওবিহীন সাত হাজার ১৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে বার্ষিক দুই হাজার ১৮৪ কোটি ২৭ লাখ ৫২ হাজার ২৫০ টাকা লাগবে। তবে জাতীয়করণে অযোগ্য-মানহীন প্রতিষ্ঠান নিয়ে অভিযোগ যেমন আছে তেমনি যেনতেনভাবে গজিয়ে ওঠা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা নিয়েও আছে অনেক অভিযোগ। অভিযোগের অন্যতম কারণ; অপ্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান এবং এর অযোগ্য-মানহীন শিক্ষক। যাদের প্রায় প্রত্যেকের নিয়োগ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করার মাধ্যমে শিক্ষার স্বার্থ কতটুকু রক্ষা হবে তা নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আজকের এ অবস্থানের জন্য দায়ী যত্রতত্র প্রতিষ্ঠান অনুমোদন। তাই যেখানেসেখানে অপ্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান খোলার সুযোগ বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
দেশব্যাপী ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। । পাবনা: বর্ণাঢ্য আয়োজনে জেলায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, দলীয় পতাকা উত্তোলন, বর্ণাঢ্য র্যােলি, আলোচনা সভা, কেক কাটাসহ নানা কর্মসুচী পালন করা হয়। সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, দলীয় পতাকা উত্তোলন, দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যা লি বের হয়। র্যাীলিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে আবারও দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুহুল আমিন এর সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক শিবলী সাদিক পরিচালনায় বক্তব্য দেন, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. কামিল হোসেন, মনির উদ্দিন আহমেদ মান্না, প্রলয় চাকী, সোহেল হাসান শাহীন, জেলা যুবলীগ নেতা ফাহিম কবির খান শান্ত, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান শেখ, সাধারন সম্পাদক আরমান হোসেন প্রমুখ। সমাবেশ শেষে ৭০ পাউন্ডের কেক কেটে দলের জন্মদিন পালন করেন নেতাকর্মীরা। বরিশাল: সমাবেশ আর বর্ণাঢ্য শোভযাত্রার মধ্যদিয়ে বরিশালে ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিবসের প্রথম প্রহরে নগরীর সোহেল চত্বরে বেলা ১১টায় সমাবেশ হয়। এরপর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কেক কাটে নগর ও জেলা ছাত্রলীগ। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেমায়েতউদ্দিন সুমন সেরনিয়াতের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদ সদস্য সৈয়দ আনিচুর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট কেএম জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহসহ অন্যরা। এরপর একটি বর্ণাঢ্য আনন্দশোভা যাত্রা নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। লক্ষ্মীপুর : জেলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১২ টা ১ মিনিটে জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কেটে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিবসটির শুভ সুচনা করেন লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগ। জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে কেক কাটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুর নবী চৌধুরী, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল, সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন লোটাস, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাডভোকেট রাসেল মাহমুদ মান্না প্রমুখ। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০ টায় শহরের উত্তর তেহমুনী এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যাকলি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মাদারীপুর : জেলায় আলাদাভাবে ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে থেকে ও ইটেরপুল থেকে জেলা ছাত্রলীগের উদ্দেগে আলাদা দুটি র্যা লি বের করা হয়। র্যাথলী দুটি শহরের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এরপর আলাদাভাবে কেক কাটে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। র্যা লিতে অংশ নেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পাভেলুর রহমান শফিক খান, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসেন ইয়াদ, জেলা যুবলীগের সভাপতি আতাহার সরদার, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের সাবেক জিএস রুবেল খান প্রমুখ। বগুড়া : নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে জেলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ছাত্রলীগ বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে সংগঠনের কার্যালয়ের সামনে জাতীয়, দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। দুপুর ১২টায় একটি বর্ণাঢ্য র্যাালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যাসলি শেষে শহরের সাতমাথায় এক সমাবেশ সংগঠনের সভাপতি নাঈমুর রাজ্জাক তিতাস এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় অতিথি ছিলেন, বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মকবুল হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহবুবর রহমান রাজা , সাবেক সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মিল্লাত, সাবেক সাধারন সম্পাদক আব্দুল মোত্তালেব মানিক, রেজাউল ইসলাম রেজা, রাগেবুল আহসান রিপু জেলা ছাত্রলীগের অসিম অসীম কুমার রায় প্রমুখ। ঝিনাইদহ : জেলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকালে সরকারি কেসি কলেজ চত্বর থেকে একটি র্যা্লি বের করা হয়। র্যা লীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে পোস্ট অফিস মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাই এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র আলহাজ সাইদুল করিম মিন্টু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাকিল আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক রানা হামিদসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। দিবসটি উপলক্ষে ৭০ পাউন্ড কেক কাটা হয়। মেহেরপুর : আজ বৃহস্পতিবার ১১টার দিকে দিবসটি উপলক্ষে মেহেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ আনন্দ র্যাকলি ও আলোচনাসভার আয়োজন করে। মেহেরপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুলের নেতৃত্বে একটি আনন্দ র্যােলি সরকারি কলেজ থেকে চত্বর থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এরপর কলেজ চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। র্যা্লি ও অলোচনাসভায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাড. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির সদস্য এমএএস ইমন, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাড. ইয়রুল ইসলাম, জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের যুগ্ম আহবায়ক আতিক স্বপন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বারিকুল ইসলাম লিজন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, সাবেক সহ-সভাপতি জুনায়েদ ইমরোজ জুলফিকার, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম আনন্দ, শহর সভাপতি আরিফ শেখ, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কুদরত-ই খোদা রুবেল, সাধারণ মাসুদ রানাসহ ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শরীয়তপুর : শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দলীয় কার্যালয়ে জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মহসিন মাদবরের উদ্যোগে র্যা লী ও আলোচনা করা হয়। জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক মহসিন মাদবরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, সাবেক ছাত্রনেতা রুহুল আমিন ঢালী, সোহেল ঢালী, রাজন সিকদার, মকবুল মাদবর, সজল সরদার, বিল্লাল মিশরী, আবদুর রব জিহাদ, রাজু আহম্মেদ, আব্দুর রহমান রিয়ান তালুকদার, রোমান মাদবর, রুম্মান, তরিকুল, রানা ঢালী, রাজিব হাওলাদার, মিঠু দাস, শিশির হাওলাদার, কাজী সুজন, শামীম, সোহাগ বেপারী, রবিন ছৈয়াল, রবিন সরদার, আবির, শুভ, ইমারত খান, মুন্না বেপারী, মাহবুব, মেহেদী, শাকিল প্রমুখ। নোয়াখালী : নানা কর্মসূচির মাধ্যমে নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের উদ্যেগে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বর্ণ্যাঢ্য র্যা লি, কেক কাটা ও আলোচনা সভা। নোয়াখালী শহীদ মিনার থেকে এক বিশাল র্যািলি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। র্যা লিতে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। পরে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আছাদুজ্জামান আরমান এর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন শাহীন, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলা লিটন, শামছুদ্দিন জেহান, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত আদনানসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বরগুনা : আলোচনা সভা, কেক কাটা ও বর্নাঢ্য র্যা লির মধ্যদিয়ে বৃহস্পতিবার বরগুনায় ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা কালীন সভাপতি ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. জাহাঙ্গীর কবীর। উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মোতালেব মৃধা, বরগুনা পৌরসভার মেয়র মো. শাহাদাৎ হোসেন, বরগুনা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বরগুনার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শাহজানান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যন মো. আব্বাস হোসেন মন্টু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনিক, সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর হোসেন প্রমুখ। সমাবেশ শেষে দুপুর ১২টায় শুরু হয় বর্নাঢ্য র্যােলী। র্যাপলিটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে বরগুনার বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্সে এসে শেষ হয়। পরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্সে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়। মাগুরা : বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরে এক আনন্দ র্যাদলি বের হয়। র্যােলিটি মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে র্যারলী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজে গিয়ে শেষ হয়। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মীর মেহেদী হাসান রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন মুক্তার নেতৃত্বে সাবেক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী আনন্দ র্যা লিতে উপস্থিত ছিলেন। পরে মীর মেহেদী হাসান রুবেলের সভাপতিত্বে কেকে কাটা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জেলা বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ তানজেল হোসেন খান, আবু নাসির বাবলু, মুন্সী রেজাউল হক ও বর্তমান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান রুস্তম আলী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাখারুল ইসলাম শাকিলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ । হবিগঞ্জ : শিক্ষা-শান্তি-প্রগতিÑ এ শ্লোগান সামনে রেখে জেলায় কেক কেটে এবং বর্নাঢ্য র্যা্লি প্রদক্ষিণের মধ্যে দিয়ে ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভ উদ্বোধন করেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হবিগঞ্জ লাখাই আসনের এমপি এডভোকেট মোঃ আবু জাহির। পরে হবিগঞ্জ শহরের পৌরসভা প্রাঙ্গনে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ডা. ইশতিয়াক রাজ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মুকিদুল ইসলাম মুকিদসহ হাজার হাজার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কেক কাটেন। কেক কাটার পর পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যা লি বের করা হয়। র্যািলিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। দিনাজপুর : জেলায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় দিনাজপুর শহরের মালদাহপ্িট্টস্থ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর ইসলাম রাহুল ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম ইমতিয়াজ ইমান এর নেতৃতে একটি বর্ণাঢ্য রযাভীলি বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। র্যা লি শেষে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে শেষ হয়। আনন্দ র্যাঢলিতে অংশগ্রহণ করেন দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ আজিজুল ইমাম চৌধুরী, দিনাজপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন, শহর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ খালেকুজ্জামান রাজু প্রমুখ। নড়াইল : বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী নড়াইলে পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ শাখার আয়োজনে কলেজ ক্যাম্পাসে আনন্দ র্যা লি, কেককাটা ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ শাখার সভাপতি মনিরুজ্জামান রোজের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তোফায়েল মাহমুদ তুফান, সাধারণ সম্পাদক শেখ আশরাফুজ্জামান মুকুল, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক রকিবুজ্জামান পলাশ প্রমুখ। আলোচনাসভা শেষে কেক কাটা হয়।
শীতে বাড়ছে অসুস্থ শিক্ষকের সংখ্যা
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চলছে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারিদের টানা পঞ্চম দিনের আমরণ অনশন কর্মসূচি। এমপিওভুক্তির দাবি বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট ঘোষণা ছাড়া আন্দোলন থেকে সরে না আসার ঘোষণায় অনড় রয়েছেন তারা। এদিকে বাড়ছে অসুস্থ শিক্ষকের সংখ্যা। অনশনের পঞ্চম দিন। ক্ষুধা তৃষ্ণায় ক্লান্ত স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারিরা। গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২৬তম অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষক-কর্মচারিদের যৌথ সংগঠন। এছাড়া প্রতিদিনই আন্দোলনে নতুন করে যোগ দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিক্ষক কর্মচারিরা। সংহতি জানাচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাড়া না পেয়ে আন্দোলনের ১০ দিনেও তাদের অবস্থানে অনড় তারা। সুনির্দিষ্ট ঘোষনা না আসা পর্যন্ত এ অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষনা তাদের। দিন যাবার সাথে সাথে বাড়ছে অসুস্থ শিক্ষকদের সংখ্যা। গতকাল ৪র্থ দিনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন হাসপাতালে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাতেও আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। সবশেষ, ২০১০ সালে ১ হাজার ৬শ ২৪টি নন-এমপিও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজকে এমপিওভুক্ত করে সরকার। বাকি ৫ হাজার ২শ ৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি অধরাই থেকে যায়। এসব প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে পাঠদান করছেন দেশের ৮০ হাজার শিক্ষক।

জাতীয় পাতার আরো খবর