নিরাপদ পানি সরবরাহে ৮৮৫০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
০৭জানুয়ারী,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে সবার জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে মহাপ্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এর জন্য খরচ হবে ৮ হাজার ৮৫০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই প্রকল্পসহ ১১ হাজার ৪২ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে ১১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে জরাজীর্ণ, প্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি সেতু ও আরসিসি সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্প, বরিশালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার প্রকল্প, সিংড়া-গুরুদাসপুর-চাটমোহর সড়কের সিংড়া অংশের সড়ক বাঁধ উঁচুকরণসহ পেভমেন্ট পুনঃনির্মাণ ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প এবং নরসিংদী বিসিক শিল্পনগরী প্রশস্তকরণ প্রকল্প। বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিলো ২৬.৩৬ শতাংশ। যা আগের অর্থবছরের এই সময়ের তুলনায় কম হলেও টাকার অঙ্কে বেশি। এছাড়া, ডিসেম্বরে এর আগের মাসের তুলনায় মূল্যস্ফীতি কমেছে বলেও জানান তিনি।
পিলখানা হত্যা মামলা: দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ রায় প্রকাশ হতে যাচ্ছে
০৭জানুয়ারী,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলায় প্রায় দুবছর আগে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি আজ মঙ্গলবার অথবা আগামীকাল বুধবার প্রকাশ হতে যাচ্ছে বলে সূত্রের খবর। রায়ের দৈর্ঘ্য এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ রায়। প্রায় ৩০ হাজার পৃষ্ঠার এ রায় লেখা ও এর কপি প্রিন্টের কাজও শেষ। বাকি আছে বিচারপতিদের স্বাক্ষর। তাদের স্বাক্ষর যুক্ত হলেই পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ হবে যেখানে ১৩৯ জনকে ফাঁসি, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন ছাড়াও ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়; খালাস দেওয়া হয় ৭৯ জনকে। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৃহত্তর বেঞ্চ ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় আসামিদের আপিল ও ডেথরেফারেন্সের শুনানি করে রায় দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওই রায় ঘোষণার পর থেকেই হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় লেখার কাজ শুরু করেন বিচারপতিরা। রায়টি লেখা শেষ হওয়ার পর এর কপিও প্রিন্ট হয়ে গেছে। তবে গতকাল পর্যন্ত বিচারপতিদের স্বাক্ষরের কাজ শেষ হয়নি। আজ অথবা আগামীকালের মধ্যে এ স্বাক্ষরের কাজ শেষ হলে রায়টি প্রকাশিত হবে। এ রায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে ছয় বছর আগে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় অনুমোদন প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে। জানা গেছে, এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতি মো. শওকত হোসেন মূল রায় লিখেছেন। তিনি প্রায় সাড়ে ১১ হাজার পৃষ্ঠার রায় লিখে বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতির কাছে পাঠান। এর পর বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী পৃথকভাবে তার অংশ লিখেছেন। তিনিও প্রায় ১৬ হাজার পৃষ্ঠা লিখেছেন। এ দুই বিচারপতির সম্মিলিত রায় হয়েছে ২৭ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। এর পর সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার লিখেছেন প্রায় ১১শ পৃষ্ঠার ওপর। এই তিনজনের লেখা রায় একত্রিত করে তা চূড়ান্ত করার পর প্রকাশ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসামির ফাঁসির আদেশ সংবলিত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় প্রকাশের পর আপিল বিভাগে আপিল করতে পারবে উভয়পক্ষই। এর পর আপিলের বিচারের মধ্য দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে। যদিও এর পর রিভিউ আবেদন করার সুযোগ থাকবে। রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসের সদর দপ্তর পিলখানাকে রক্তে রঞ্জিত করে একই বাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য। তাদের হাতে দেশের মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে প্রাণ দিতে হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় দুটি ভাগে বিচার কাজ চলছে। এর মধ্যে বিস্ফোরক আইনে করা মামলার বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর হত্যার অভিযোগে নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে করা মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের অপেক্ষায় চলছে। পিলখানা হত্যার ঘটনায় ২০০৯ সালের ৪ মার্চ লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবজ্যোতি খীসা বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটি পরে ৭ এপ্রিল নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর হয়। মামলায় ডিএডি তৌহিদসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয় প্রায় এক হাজার জওয়ানকে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দুটি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয়। হত্যা মামলায় ৮২৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ৮০১ জনকে আসামি করে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এর মধ্যে হত্যা মামলায় বিচার শেষে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালত রায় দেন। সে সময়কার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আক্তারুজ্জামান (বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি) বহুল আলোচিত এ মামলায় ১৫২ জনকে মৃত্যুদ-, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- ও ২৭৮ জনকে বেকসুর খালাস দেন। এর পর নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসির আসামিদের সাজা অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়। আর কারাবন্দি আসামিরাও আপিল করেন। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকেও আপিল করা হয়। সব আবেদনের শুনানির পর হাইকোর্ট বিচার শেষে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ে নিম্ন আদালতে ১৫২ জন ফাঁসির আসামির মধ্যে ১৩৯ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৮ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও চারজনকে খালাস, নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ ১২ জনকে খালাস এবং নিম্ন আদালতে খালাসপ্রাপ্ত ৩৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া নিম্ন আদালত ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিলেও হাইকোর্ট ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।
ন্যায়বিচারের জন্য কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োজন তাই করবে
০৬জানুয়ারী,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর পাশে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আছে। মেয়েটির পাশে দাঁড়ানো আমাদের প্রথম দায়িত্ব। তার অভিভাবকত্ব যেহেতু আমাদের, তাই তার সর্বোত্তম দায়িত্ব আমাদের। আমাদের সবটুকু তার জন্য নিবেদিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছে। ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োজন তাই করবে। সোমবার (৬ জানুয়ারি) ধর্ষণের শিকার ঢাবি ছাত্রীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ভিসি বলেন, ঘটনাটি খুবই নিন্দনীয়, দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা মর্মাহত। তার বাবা ভেতরে আছে, তবে আমরা সবাই তার পাশে আছি। তাকে মানসিকভাবে শক্ত ও সমর্থ করে তোলাই আমাদের প্রধান কাজ। পুলিশ এ ঘটনায় তৎপর আছে। দ্রুততম সময়ে দোষীদের আটক করে আইনের আওতায় আনার জন্য তাদের অনুরোধ করেছি। প্রসঙ্গত, রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে ঢাবির নিজস্ব বাসে রওনা দেন তিনি। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে বাস থেকে নামেন। এরপর একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে সড়কের পেছনে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। ধর্ষণের পাশাপাশি তাকে নির্যাতনও করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। ধর্ষণের এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। রাত ১০টার দিকে নিজেকে একটি নির্জন জায়গায় আবিষ্কার করেন ওই ছাত্রী। পরে সিএনজি নিয়ে ঢামেকে আসেন। রাত ১২টার দিকে ওই ছাত্রীকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করান তার সহপাঠীরা। এ ঘটনায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই ছাত্রীর বাবা। রবিবার রাতে ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ অভিযোগ দায়ের করা হয়।
ধর্ষণের আলামত মিলেছে : চিকিৎসক
০৬জানুয়ারী,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। আজ সোমবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে নমুনা সংগ্রহের পর তিনি একথা জানান। ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, মেয়েটির গলা, হাত, গালসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন আছে। কিছু আঘাত হয়েছে ধর্ষণকারীর দ্বারা, আর কিছু হয়েছে ঘটনাস্থলের কারণে। জঙ্গলের কারণে তার পায়ে কিছু আঘাত হয়েছে। তার গলায় আমরা ধর্ষণকারীর হাতের চিহ্ন পেয়েছি। বোঝা গেছে যে ধর্ষণকারী তার গলা টিপে ধরেছিল। হাতেও একই ধরনের চিহ্ন আছে যেটা থেকে অনুমিত হচ্ছে যে তাকে জোর করে আঘাত করা হয়েছে। লাথি মারা হয়েছে এরকম আঘাতের চিহ্নও পেয়েছি শরীরে। তিনি বলেন, তার শরীরে ধর্ষণের আলামত পেয়েছি। একজন করেছে, না একাধিক ব্যক্তি ছিল- তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই ছাত্রীর বাবা সোমবার সকালে ক্যান্টনমেন্ট থানায় অজ্ঞাতপরিচয় একজনকে আসামি করে মামলা করেছেন বলে ওসি কাজী শাহান হক জানান। ওই ছাত্রী গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় তার বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে শেওড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কুর্মিটোলায় বাস থেকে নামার পরপরই তিনি আক্রান্ত হন। রাত পৌনে ১টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।
ডাকসু ভিপি নুরের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম
০৬জানুয়ারী,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীর সাথে ঘটা ওই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার এবং সর্বোচ্চ বিচারের দাবি জানিয়ে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ওই নির্যাতন করা হয়। সোমবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবরোধ চলাকালে আয়োজিত প্রতিবাদ সভা থেকে নুর এ আলটিমেটাম দেন। এ সময় সরকার ও পুলিশকে দায়ী করে ভিপি নুর বলেন, সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঢাবি ছাত্রী ঘটা এই ঘটনার দায় এড়াতে পারে না। তারা নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের এই শীর্ষ নেতা বলেন, যেকোনো অপরাধ বা এই ধরণের ঘটনা ঘটার পর দেশব্যাপী আন্দোলন না হওয়া পর্যন্ত সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। আমরা আশা করি সরকার এই ঘটনায় একই নিয়ম অনুসরণ করবে না এবং অপরাধীদের খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবে। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের পাশবিক ঘটনা ঘটাতে সাহস না করে। এ সময় সমাবেশে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আক্তার হোসেন, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন, ফারুক হোসেন, শামসুন্নাহার হল ছাত্র সংসদের ভিপি এস কে তাসনিম আফরোজ ইমি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।-আলোকিত বাংলাদেশ
কাল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
০৬জানুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী এ ভাষণ দেবেন। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন-রেডিও এবং অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ঢাবি শিক্ষার্থী ধর্ষণের স্থান পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ
০৬জানুয়ারী,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় রাজধানীর কুর্মিটোলা বাসস্টপসংলগ্ন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুটি দল। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ভিকটিম ও আসামির ব্যবহৃত জিনিসপত্রসহ বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়। আজ সোমবার দুপুরে আলামত সংগ্রহে ঘটনাস্থলে যান Rab ও গোয়েন্দা পুলিশের দুটি দল। কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের সামনের জঙ্গলের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল শনাক্ত করেছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক RAbর এক সদস্য বলেন,ঝোপের মধ্য থেকে ইউনিভার্সিটির বই, চাবির রিং, ইনহেলার, ঘড়িসহ বেশ কিছু আলামত আমরা পেয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি এটিই ঘটনাস্থল। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা আসলে বিস্তারিত জানানো হবে। এদিকে তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে Rab ও গোয়েন্দা পুলিশের দল। এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় কুর্মিটোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নেমে যাওয়ার পর তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। জানা গেছে, গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শেওড়া যাওয়ার উদ্দেশে ঢাবির বাসে ওঠেন ওই শিক্ষার্থী। সন্ধ্যা ৭টার দিকে শেওড়ার বিপরীত পাশে কুর্মিটোলায় বাস থেকে নামেন তিনি। সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তি মুখ চেপে তাকে পাশের একটি স্থানে নিয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করে। রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজেকে নির্জন স্থানে আবিষ্কার করেন। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গন্তব্যে পৌঁছান ওই ছাত্রী। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করান তার সহপাঠীরা।
মানুষের বিশ্বাস স্থাপনে পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর তাগিদ
০৬জানুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা জরুরি বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি। পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বিশ্বাসে পরিণত করারও তাগিদ দেন সরকারপ্রধান। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশ সপ্তাহে উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সারাদেশের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের এই উপস্থিতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দেন এই আয়োজনে। পুলিশের কার্যক্রম পর্যালোচনা, মূল্যায়ন ও আগামীর কর্ম পরিকল্পনাসহ নানা দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া এবং এবার আপনারা মুজিববর্ষে যে থিমটা নিয়ে এসেছেন, বিশেষ করে আপনাদের যে প্রতিপাদ্য বিষয়-এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা বলেছেন, মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার। আসলে পুলিশকে জনতারই হতে হবে। জনগণ যেন আস্থা পায়, বিশ্বাস করে যেমন-৯৯৯ করার ফলে পুলিশের প্রতি মানুষের একটা আত্মবিশ্বাস হয়েছে। আগে পুলিশের প্রতি মানুষের যে একটা অনীহা ছিল, তা এখন আর নেই। তিনি বলেন, এখন পুলিশর প্রতি মানুষের আস্থা-বিশ্বাস বৃদ্ধি পয়েছে। কাজেই আপনারা সেভাবেই কাজ করবেন। আর আমাদের এটাই লক্ষ যে, আমাদের অর্থনীতি যত শক্তিশালী হবে, তত বেশি আমরা আমাদের সব প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও উন্নতি করতে পারব। চাহিদার ভিত্তিতে পুলিশে পদায়ন ও কাঠামো সংস্কার করার আশ্বাস দেন শেখ হাসিনা। পুলিশের উত্থাপিত প্রস্তাব, দাবি ও সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন সরকারপ্রধান। বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকেও বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টি দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির পিতা দেশ স্বাধীন করেছেন, তার সেই স্বপ্ন পূরণ করা অর্থাৎ, বাংলাদেশকে একটা মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা, স্বাধীনতার সুফল যেন বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছায়- সেই লক্ষ নিয়েই আমার কাজ। শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর আমরা সরকারে আসি। সরকারে আসার পর আমি দেখেছি, এ দেশের দুরবস্থা। আমি ৮১ সালে দেশে আসার পর সমগ্র বাংলাদেশ আমি ঘুর বেড়াই। একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমি গিয়েছি। মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটেছি বা নৌকায় চড়েছি, ভ্যানে চড়েছি। বাংলাদেশের কোনও উন্নয়ন ছিল না। তাই চিহ্নিত করেছিলাম সমস্যাগুলো। কী করলে এসব এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি হতে পারে এটা শুধু আমার নিজের দেখা না, এর আগে আমরা পারিবারিকভাবে যখন বসতাম আব্বা তখন এই বাংলাদেশ নিয়েই গল্প করতেন। তার স্বপ্ন ছিল এবং তিনি বলতেন বাংলাদেশটাকে তিনি কিভাবে সাজাবেন; প্রতিটি গ্রামকে তিনি কিভাবে উন্নতি করবেন সে চিন্তাটা তার সব সময় ছিল। তিনি বলেন, ১৯৭০ সালে আমি মায়ের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে গিয়েছিলাম। তখন সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে একটা ধারণা আছে। কিন্তু ৮১ সালে যখন সেখানে যাই, তখন দেখি সেখানে একটা আত্মঘাতী সংঘাত। এই যে একটা আত্মঘাতী সংঘাত, সেটাও কিন্তু আমরা একটা শান্তিচুক্তি করে সমাধান করে দিয়েছি। এরপর ওই জায়গার উন্নতি আমরা শুরু করেছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমি পুরো বাংলাদেশ যখন ঘুরি, তখন সারাদেশের থানাগুলোর এমন জরাজীর্ণ অবস্থা ছিল, কোনো থানায় ১৫/২০ জনের বেশি পুলিশ ছিল না। আমার এলাকা এমন একটা দুর্গম এলাকা ছিল যে ঢাকা থেকে ২৪ ঘণ্টা লেগে যেত টুঙ্গীপাড়া যেতে আর সেখানে প্রায় ডাকাতি হত। ফলে এসব বিষয়ে আমি মনোযোগ দিই এবং নানা পদক্ষেপ নিই।
নরপিশাচকে গ্রেপ্তারে পুলিশকে অনুরোধ করেছি : ঢাবি ভিসি
০৬জানুয়ারী,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন,তাদের (জড়িতদের) ধরতে পুলিশ তৎপর আছে। তাদের (পুলিশ) অনুরোধ করেছি নরপিশাচকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য। আজ সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রীকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন উপাচার্য। অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, আমরা খুবই মর্মাহত, চরম দুঃখজনক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এটি। হাসপাতালে তাকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রীর মনোবল ভালো আছে। তার মনোবল খুব শক্ত আছে। ঢাবি কর্তৃপক্ষ তার অভিভাবক। বাবাসহ পরিবারের লোকজন তার সঙ্গে আছে। প্রথমে তাকে মানসিকভাবে সামর্থ্য করে তুলতে হবে। তার কাছে আমরা ভিড় করব না। এখন মূলত প্রধান কাজ হচ্ছে তাকে মানসিকভাবে সাপোর্ট দেওয়া। পাশাপাশি নরপিচাশকে শনাক্ত করা, তাকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা। উপাচার্য আরও বলেন,থানা পুলিশ হাসপাতাল থেকেই পরিবারের কাছ থেকে মামলা নিয়েছে। তার বাবা বাদী হয়েছে। ঢাবি সব ধরনের সহায়তা দেবে। এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় কুর্মিটোলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে নেমে যাওয়ার পর তাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। জানা গেছে, গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শেওড়া যাওয়ার উদ্দেশে ঢাবির বাসে ওঠেন ওই শিক্ষার্থী। সন্ধ্যা ৭টার দিকে শেওড়ার বিপরীত পাশে কুর্মিটোলায় বাস থেকে নামেন তিনি। সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তি মুখ চেপে তাকে পাশের একটি স্থানে নিয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করে। রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজেকে নির্জন স্থানে আবিষ্কার করেন। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গন্তব্যে পৌঁছান ওই ছাত্রী। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করান তার সহপাঠীরা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আছেন। আর সুচিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর