বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার বেলা ১১টায় সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। এরপর সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে ৩ বাহিনীর একটি চৌকষ দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছোটবোন শেখ রেহানা, চাচাত ভাই শেখ জুয়েল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধূরি এমদাদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান উপস্থিত ছিলেন। পরে মাজার জিয়ারত শেষে তিনি বঙ্গবন্ধু ভবনে প্রবেশ করেন এবং এখনও সেখানেই অবস্থান করছেন। এর আগে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি টুঙ্গিপাড়া হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। আজই দুপুর ১২টা পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থান শেষে ১২টা ১৫ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে অজুহাত খুঁজছেন বিএনপি নেতারা
আগামী জাতীয় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বিভিন্ন অজুহাত খুঁজছেন বিএনপি নেতারা। এজন্য তারা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানসহ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলছেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শুক্রবার সকালে রাজধানীর মাতুয়াইলে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ঝটিকা অভিযানে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন দাবি করেন সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে জিতবে না, এই আশঙ্কায় তারা নিজেরাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বিভিন্ন অজুহাত তৈরি করছেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আসন্ন ঈদে মহাসড়কে যানজটের কারণ, ফিটনেসবিহীন ও লক্কর-ঝক্কর গাড়ি। এ ব্যাপারে বিআরটিএ ও পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। জনদুর্ভোগ এড়াতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ রাখারও অনুরোধ জানান তিনি। একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী জোসেফকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা ও বিদেশে চলে যাওয়া সম্পর্কে আরও খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন বলেও জানান সেতুমন্ত্রী। তবে বিএনপি নেতাদের মুখে এ বিষয়ে কোনো কথা মানায় না বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, যেই দল ৭ ধারার মতো একটা বিষয়কে গঠনতন্ত্র থেকে বাদ দিয়ে আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজ, দণ্ডিত দল; কানাডার ফেডারেল আদালতে যারা বিশ্ব স্বীকৃত সন্ত্রাসী দল, সেই দলের এ নিয়ে কোনো অধিকার নেই।
আগামীকাল টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আগামীকাল শনিবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকাল ৯টা ৫০মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও বিমান বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারযোগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা হবেন। বেলা পৌঁনে ১১টায় তিনি টুঙ্গিপাড়া হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন। ওইদিন বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিবেন। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন এবং দুপুর ১টায় ঢাকায় উপস্থিত হবেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংক্ষিপ্ত সফর নির্বিঘ্নে শেষ করতে সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। টুঙ্গিপাড়াসহ সারা জেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু
কমলাপুর স্টেশনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়ে টিকিট বিক্রি চলবে ৬ জুন পর্যন্ত। স্টেশন থেকে জানানো হয়েছে, কাউন্টারে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি হবে। আর ফিরতি টিকিট দেওয়া হবে ১০ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। ট্রেন ছাড়তে দেরি হলে রাখা হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা। স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ঈদে ট্রেনে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে মন্ত্রণালয়। আর সবাইকে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিতে হবে। একইসঙ্গে সবাইকে টিকিট দেওয়া সম্ভব না। কেননা সম্পদ সীমিত। বৃহস্পতিবার রাতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাতেই টিকিটের জন্য লাইন স্টেশনের বাইরে চলে গেছে। কেউ পত্রিকা বিছিয়ে শুয়ে আছেন। আবার দলবদ্ধভাবে অনেকেই তাস খেলছিলেন। কাউন্টারম্যানরা জানান, আজ ১ জুন দেওয়া হবে ১০ জুনের টিকিট। ২ জুন দেওয়া হবে ১১ জুনের, ৩ জুন দেওয়া হবে ১২ জুনের, ৪ জুন দেওয়া হবে ১৩ জুনের, ৫ জুন দেওয়া হবে ১৪ জুনের এবং ৬ জুন দেওয়া হবে ১৫ জুনের ট্রেনের টিকিট। আর ফিরতি টিকিট ১০ জুন দেওয়া হবে ১৯ জুনের টিকিট, ১১ জুন ২০ জুনের, ১২ জুন দেওয়া হবে ২১ জুনের, ১৩ জুন দেওয়া হবে ২২ জুনের, ১৪ জুন দেওয়া হবে ২৩ জুনের এবং ১৫ জুন দেওয়া হবে ২৪ জুনের টিকিট।
সতর্কভাবে অভিযান পরিচালনার সুপারিশ
মাদকবিরোধী অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘বিতর্কের উর্ধ্বে থেকে’ ‘সতর্কভাবে’ অভিযান পরিচালনার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। সংসদ ভবনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চলমান অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হতাহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের প্রেক্ষিতে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, মো. ফরিদুল হক খান, আবুল কালাম আজাদ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফখরুল ইমাম এবং কামরুন নাহার বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ফখরুল ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, চলমান অভিযানে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করেছি। তবে কোন নিরীহ মানুষ যেন এর শিকার না হয় সেজন্য আমরা সাবধান হতে বলেছি। সতর্ক থাকতে বলেছি। অভিযানের সময় আক্রমণ বা পাল্টা আক্রমণে যদি কেউ মারা যায় তাহলে তো কিছু করার নেই। তিনি আরো বলেন, অভিযানের সময় কিছু ক্ষেত্রে ডাকাত ধরার ঘটনা ঘটেছে। তাদের কেউ কেউ মারা গেছে। সংসদ সচিবালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও ভিসা নবায়ন কার্যক্রম আরও সহজ করার সুপারিশ করেছে কমিটি। এছাড়া গাজীপুর ও রংপুর মহানগরী পুলিশ এলাকায় পুলিশের জন্য ব্যারাক নির্মাণ, থানা ভবনসহ আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, মাদক বিভিন্ন পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। বৃহস্পতিবার বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘মাদকের ভয়াবহতা গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদক বিভিন্ন পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকব্যাধির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এখানে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খানের সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ব্রিগেডিয়ার (অব.) ডা. আব্দুল মালিক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যদি মেডিকেল কলেজের কোনও ছাত্র ধূমপান করে তাহলে তাকে মেডিকেলে রাখা হবে না, বহিষ্কার করা হবে। যদি কোনও চিকিৎসক ধূমপান করেন তাহলে তিনি মেডিকেলে পড়াতে পারবেন না। নিজে উপদেশ দিবেন আর নিজেই ধূমপান করবেন, এটা হবে না। এছাড়া যারা ধূমপায়ী তাদের মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দিতে দেয়া হবে না। তিনি বলেন, ধূমপান মানেই বিষপান। এর কোনও সুফল নেই। সব গবেষণায় দেখা গেছে, যেকোনও ধরনের তামাক গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আবুল কালাম আজাদ বলেন, হৃদরোগে যত মৃত্যু হয় তার ১৭ ভাগ তামাকজনিত কারণে। তামাককে প্রতিরোধ করতে পারলে এই হার অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করতে চায়। সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রতি বছরের মতো এবারও তামাক নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখার জন্য পুরস্কার দেয়া হয়। ২০১৪ সাল থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ পুরস্কারের আয়োজন করে। এ বছর তামাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম অধ্যাপক ড. ফজলুল হক। প্রতিষ্ঠান হিসেবে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক। জেলা হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে জামালপুর জেলা টাস্কফোর্স।
দোয়া মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দাদির ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বাদ আসর রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু পরিবারের আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং শুভাকাঙ্খীগণ, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ট্রাস্টিগণ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণ মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ’৭৫-এর ১৫ আগস্টে শাহাদৎ বরণকারী বঙ্গবন্ধু এবং অন্যান্য শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা এবং জাতির অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।-বাসস
১২৮ জন অতিরিক্ত জেলা জজ গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছেন
দাফতরিক কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজরা। অতিরিক্ত জেলা জজ পদে কর্মরত ১২৮ জন বিচারক এই সুবিধা পাবেন। অতিরিক্ত জেলা জজদের গাড়ি সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতির পর গত ২৯ মে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশের ৬৪টি জেলায় অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদায় কর্মরত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা পেয়ে আসলেও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজরা ওই সুবিধা পেতেন না। এটা নিয়ে অতিরিক্ত জেলা জজদের মধ্যে হতাশা ছিল। হতাশা দূর করার জন্য একটি অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক অতিরিক্ত জেলা জজদের সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হককে নির্দেশ দেন। এরপর চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি আইন ও বিচার বিভাগ থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের দাফতরিক কাজে ব্যবহারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালত বা মহানগর দায়রা জজ আদালতের টিওঅ্যান্ডই-তে (যন্ত্রপাতি ও যানবাহন) ১২৮টি গাড়ি অন্তর্ভুক্ত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মতির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ১৮ এপ্রিল ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেয় এবং অর্থ বিভাগের সম্মতি নেয়ার শর্ত দেয়। এরপর ৭ মে ওই বিষয়ে সম্মতি নেয়ার জন্য আইন ও বিচার বিভাগ থেকে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠালে ২৯ মে অর্থ বিভাগ সম্মতি জানিয়ে আইন ও বিচার বিভাগকে পত্র দিয়েছে।
১৮ বিচারপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ১৮ অতিরিক্ত বিচারপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নবনিযুক্ত বিচারপতিদের শপথ বাক্য পাঠ করান।সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. জাকির হোসেন শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলে ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত। শপথ নেয়া নতুন ১৮ বিচারপতিরা হলেন- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মো. আবু আহমাদ জমাদার, আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নরসিংদীর জেলা ও দায়রা জজ ফাতেমা নজীব, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান, ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. আতোয়ার রহমান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম আব্দুল মবিন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খিজির হায়াত, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাংক শেখর সরকার, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহি উদ্দিন শামীম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. রিয়াজ উদ্দিন খান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. খায়রুল আলম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহমেদ সোহেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. কে এম হাফিজুল আলম। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের সকল বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ১৮ অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাদের নিয়োগ দেন। পরে আইন মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে নিয়োগের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর