প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উদ্বোধনীতে রাষ্ট্রপতি
জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষিবিদ, বিজ্ঞানী, কৃষক ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, প্রাণী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য (এসডিজি)-২০৩০ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। শনিবার বিকেল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) এর অডিটরিয়ামে রাষ্ট্রপতি প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত মেলার শুভ উদ্বোধনকালে এ আহ্বান করেন। বাড়াবো প্রাণিজ আমিষ গড়বো দেশ, স্বাস্থ্য মেধা সমৃদ্ধির বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের উদ্যোগে শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ২০১৮ উদযাপন শুরু হয়েছে। এর উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, মৎস্য ও গবাদিপশু পালন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগের জন্য একটি বড় ও সম্ভাবনাময় খাত।রফতানি প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদনের গুণগতমান নিশ্চিত করুন। রাষ্ট্রপতি সকল স্তরে উৎপাদনের যথাযথ মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, পরীক্ষাগার গড়ে তোলা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আইনী কাঠামো কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পণ্যের চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যের কারণে ভোক্তারা এখন বাজারে যৌক্তিক দামে ডিম, দুধ, মাংস পাচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেন,শুধু ভোক্তাদের সুযোগ-সুবিধার কথা ভাববেন না। একই সঙ্গে উৎপাদকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন। পণ্যের ন্যায্যমূল্য বজায় রাখার পাশাপাশি এই খাতের রফতানি আয়ের ব্যাপারেও নজর দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। কিছু দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী যারা অতীতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের কর্মকান্ডের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের কর্মকা- দেশের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে এবং বিদেশেও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। বৈশ্বিক রফতানি বাজারকে খুবই প্রতিযোগিতামূলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের পণ্যকে অবশ্যই সেরা হতে হবে। এক্ষেত্রে কোন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও রাষ্ট্রপতি সতর্ক করে দেন। খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনকারী বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য ২০৩০ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে প্রাণিসম্পদ খাতে ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিরাপদ ও মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদনে আরও উন্নত সেবা দেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ সামগ্রিক কৃষির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে প্রাণিসম্পদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। প্রাণিজ আমিষের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশীয় উৎস থেকেই তরল দুধ, মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মানুষ ও পণ্য পরিবহন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং অত্যধিক বাণিজ্যিক উৎপাদন ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে প্রাণী থেকে প্রাণী এবং প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রোগব্যাধির বিস্তার ঘটছে। রাষ্ট্রপতি এ সময় বিজ্ঞানসম্মত পশুপালন ব্যবস্থা অনুসরণের মাধ্যমে পুষ্টি নিরাপত্তা এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রাণিসম্পদ নির্ভর কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। এ খাত এখন আর শুধু বেকারত্ব রোধের খাত নয়, বরং ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি এ খাতকে শিল্পেরও মর্যাদা দিয়েছে। তিনি আশা করেন, গুণগত সেবা, ই-সার্ভিস, নিরাপদ প্রাণিজাত খাদ্য উৎপাদন এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি আরও উন্নত প্রাণিস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে এসডিজি অভীষ্ট লক্ষ্য ২০৩০ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। নিরাপদ প্রাণিজাত আমিষ উৎপাদন, বিপণন ও প্রক্রিয়াকরণসহ জনগণকে সার্বিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করতে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর আয়োজিত প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ২০১৮ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও রাষ্ট্রপতি প্রত্যাশা করেন। এর আগে সকাল ৯টায় সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়ি, হাতি, ব্যান্ড ও বাউল দলের সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে শুরু হয় ৬ দিনব্যাপী প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ-২০১৮। রেলিটি শনিবার সকাল ৯টায় প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে শুরু হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ প্রদক্ষিণ করে অধিদফতর প্রাঙ্গণে শেষ হয়। রেলি শেষে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. আইনুল হক জানান, সুস্থ ও মেধাবী জাতি গড়তে প্রোটিনের প্রয়োজন, আর এ প্রোটিনের প্রধান উৎস হলো প্রাণিসম্পদ। প্রাণিসম্পদ সেক্টরের উন্নয়ন তুলে ধরা, উন্নত জাতের পশু প্রদর্শন এবং জনগণকে প্রাণিজ আমিষের গুরুত্ব সম্পর্কে জানানোই হলো প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহের মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, ২০২১ সালের মধ্যে মাংস ও ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হচ্ছে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ। এ উপলক্ষে ২০-২২ জানুয়ারি রাজধানীর কৃষি খামার সড়ক সংলগ্ন কেআইবি চত্বরে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা চলবে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত, ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি। এছাড়াও ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে খামারি সমাবেশ। ২৫ জানুয়ারি সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সেবা সপ্তাহের আনুষ্ঠানিকতা। এর আগে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণিসম্পদ-সংক্রান্ত রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে সমাপনী অনুষ্ঠানে। এছাড়াও স্কুল, কলেজ ও এতিমখানাগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস খাওয়ানো হবে। কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এম মাকসুদুল হাসান খান, প্রাণিসম্পদ সেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. আইনুল হকও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, পেশাজীবী, বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ, উর্ধতন বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে আজ শেষ হচ্ছে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব
আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আজ রোববার শেষ হবে দ্বিতীয় পর্ব, তথা এবারের বিশ্ব ইজতেমা। সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত। আর এই মোনাজাতে অংশ নিতে টঙ্গীতে মুসল্লিদের ঢল নেমেছে আজ সকাল থেকেই। ১০টার দিকে হেদায়েতি বয়ান শুরু হবে। বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি প্রকৌশলী মো. মাহফুজ বলেন, এবারের মোনাজাত হবে বাংলায়। পরিচালনা করবেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম বাংলাদেশের মাওলানা মো. জোবায়ের। এর আগে বাদ ফজর মজমা জোড়ানো বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা আবদুর রহিম নকিব। পরে হেদায়েতি বয়ান করবেন মাওলানা আবদুল মতিন। আখেরি মোনাজাতের আগের দিন গতকাল শনিবারও বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে মুসল্লিদের টঙ্গীমুখী স্রোত অব্যাহত ছিল। কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে বাস, ট্রাক, ট্রেন, নৌকা-লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে হাজার হাজার মুসল্লি টঙ্গীতে জমায়েত হন। আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের এই আগমন অব্যাহত থাকবে। প্রতিদিন ফজর থেকে এশা পর্যন্ত ইজতেমা মাঠে ইমান, আমল, আখলাক ও দ্বীনের পথে মেহনতের ওপর আমবয়ান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতকাল শনিবার বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে দেশ-বিদেশ থেকে আগত মুরুব্বিরা তাবলিগের ছয় উছুলের মধ্যে দাওয়াতে দ্বীনের মেহনতের ওপর গুরুত্বারোপ করে বয়ান করেন। বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বি প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন বলেন, আজ সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টায় আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের কাকরাইলের মাওলানা মো. জোবায়ের বাংলায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন। আখেরি মোনাজাতের আগে যে হেদায়েতি বয়ান হয়, তা পরিচালনা করবেন বাংলাদেশি মাওলানা আবদুল মতিন। আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের ইজতেমা। পরে জামাতের লোকেরা দেশ-বিদেশে ইসলামের দাওয়াতি কাজে ছড়িয়ে পড়বেন। ইজতেমার ময়দানের বাইরে অবস্থানকারী মুসল্লি ও এলাকাবাসীকে মোনাজাতে শরিক হতে গাজীপুর ও ঢাকা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে শতাধিক মাইকের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর জেলা তথ্য কর্মকর্তা এস এম রাহাত হাসনাত বলেন, ভিড়ের কারণে যাঁরা মূল ময়দানে যেতে পারবেন না, আখেরি মোনাজাতে তাঁদের শরিক হতে টঙ্গীর মধুমিতা রোড, টঙ্গী বিসিক এলাকা, নোয়াগাঁও এবং চেরাগআলীর বিভিন্ন শাখা সড়কে মোনাজাতের মাইকের সঙ্গে আরও ৮০টি মাইকের সংযোগ দেওয়া হবে। একইসংখ্যক মাইক ঢাকা অংশেও থাকবে। তিনি আরও বলেন, মুসল্লিদের পরিবহনের জন্য বিআরটিসির দুই শতাধিক বাস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচল করবে। শনিবার মধ্যরাত থেকে আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত ইজতেমাস্থলমুখী বিভিন্ন সড়েক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। এ সময় ইজতেমায় মুসুল্লিদের জন্য কিছু শ্যাটল বাস চলবে। এ ছাড়া মুসল্লিদের সুবিধার্থে ১৯টি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। সব আন্তনগর ট্রেন টঙ্গীতে যাত্রাবিরতি করবে। বিআরটিসি দুই শতাধিক স্পেশাল বাস সার্ভিস চালু করেছে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন আর রশীদ বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে আসা মুসল্লিদের বাড়ি ফেরা পর্যন্ত তাঁদের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ২০১৯ সালে ইজতেমার তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ইজতেমার মুরব্বি মো. গিয়াস উদ্দিন ও মো. মাহফুজ বলেন, ২০১৯ সালের বিশ্ব ইজতেমার পূর্বঘোষিত তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১২ জানুয়ারি কাকরাইল মসজিদে বৈঠকে আগামী বছর ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব এবং ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্ব আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে সরকারের অনুরোধে তা এক সপ্তাহ পেছাতে শুক্রবার রাতে ইজতেমা ময়দানে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আগামী বছর ইজতেমার প্রথম পর্ব ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ২৫, ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আরও দুজন মুসল্লির মৃত্যু টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বে থাকা সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, ইজতেমায় আসা আরও দুজন মুসল্লি বার্ধক্য ও শ্বাসকষ্টের কারণে মারা গেছেন। গত শুক্রবার রাতে বার্ধক্যের কারণে জামালপুরের ইসলামপুরের মোবারক হোসেন ওরফে মোহর আলী (৬৫) এবং গতকাল ভোরে শ্বাসকষ্টের কারণে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মো. শহীদুল ইসলাম (৫৬) মারা গেছেন।
আজ 20 জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস
আজ শনিবার শহীদ আসাদ দিবস । ১৯৬৯ সালের এই দিনে পাকিস্তানী স্বৈরশাসক আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্রসমাজের ১১-দফা কর্মসূচির মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে জীবন দেন ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিভিন্ন সংগঠন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গেট সংলগ্ন শহীদ আসাদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। আসাদ শহীদ হওয়ার পর তিনদিনের শোক পালন শেষে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ছয়-দফা ও ছাত্রদের ১১-দফার ভিত্তিতে সর্বস্তরের মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামে ঢাকাসহ সারাবাংলার রাজপথে। সংঘটিত হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। পতন ঘটে আইয়ুব খানের। আরেক স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় বসে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। সত্তর সালের সেই অভূতপূর্ব নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু ইয়াহিয়া ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নানা টালবাহানা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় একাত্তর সালে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মাত্র নয় মাস যুদ্ধের পর একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে বাঙ্গালি। বিশ্বমানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামে একটি নতুন দেশের।
সব টাকা ব্যাংকে আছে
মাননীয় আদালত, এই মামলার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের টাকা আত্মসাৎ। কিন্তু কোনো টাকা তো খরচই হয়নি। সব টাকা ব্যাংকে আছে। সুদে-আসলে তা বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়েছে। তাহলে আত্মসাৎ হলো কীভাবে? হোয়াট ইজ আত্মসাৎ? আর আত্মসাৎ যদি না হয়, তাহলে মামলা কিসের? জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী আহসান উল্লাহ্ গতকাল বুধবার আদালতে এ যুক্তি তুলে ধরেছেন। বকশীবাজারের বিশেষ জজ আদালতে এই মামলার কার্যক্রম চলছে। আইনজীবী আদালতে বলেন, এখন যদি ঘোষণা করা হয় জিয়ার নামে একটা ট্রাস্ট করা হবে, ৫০০ কোটি টাকা এখনই চলে আসবে। যদি বঙ্গবন্ধুর নামে কোনো ট্রাস্ট করার ঘোষণা দেওয়া হয়, এখনই হাজার কোটি টাকা চলে আসবে। এদের কি টাকা চুরি করতে হয় নাকি? তাই বলছি মাননীয় আদালত, এখানে মামলা কোথায়? আত্মসাৎটা কোথায়? এটা একটা সেমিনার টাইপ মামলা। একটা কাল্পনিক মামলা। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা মন্তব্য করেন, আপনি এত দিন কোথায় ছিলেন?জবাবে আহসান উল্লাহ্ বলেন, যেখানেই থাকি, এখন তো এসে পড়েছি। আর এসেই যখন পড়েছি, তখন বিলম্বে হলেও তো বিচার। আইনজীবী আহসান উল্লাহ্ গতকাল সকাল থেকেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও অন্যতম সাক্ষী দুদকের হারুন-অর রশিদের তদন্ত প্রতিবেদন ও জবানবন্দি পাঠ করে বিভিন্ন অসংগতি, পরস্পর সাংঘর্ষিক বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, দীর্ঘ ১৪ বছর ট্রাস্টের কোনো টাকা ব্যয় করা হয়নি। একটা অফিস করেনি। ব্যাংক থেকে সুদও তোলেনি। মাননীয় আদালত, এটাই কি অপরাধ হয়ে গেছে? অবশ্য হতে পারে। কারণ, কখনো কখনো বিধির বিধানও উল্টে যায়। আইনজীবী বলেন, ট্রাস্টের অফিস না নেওয়ায় কী সমস্যা হয়েছে? অফিস নিলে তো কিছু টাকা খরচ হয়ে যেত। এখন তো অনেক জায়গায় পড়াশোনাও হচ্ছে গাছতলায়। তবে মাই লর্ড, কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যাদের অফিস থাকে বেশ গোছানো। ভেতরে কী থাকে তা বোঝা যায় না। তাঁর মক্কেল শরফুদ্দিন আহমেদকে আসামি করার জন্য বিস্ময় প্রকাশ করে আহসান উল্লাহ্ বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট আশুলিয়ায় তাঁর মালিকানাধীন ৭৬ শতাংশ জমি কেনার জন্য টাকা দিয়েছিল। সেই টাকায় তিনি কিছু দোকান-ফ্ল্যাট কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু যখন শুনলেন এই টাকা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা হতে পারে, তখন সুদসহ তা ফেরত দিয়ে দিয়েছেন। আইনজীবী বলেন, যখন মামলা হয় তখন শরফুদ্দিন সাহেব তাঁর ক্যানসারে আক্রান্ত ছেলের চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে ছিলেন। পরে ২৬ বছরের সেই ছেলে মারা যায়। দেশে এসে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তদন্ত কর্মকর্তা এর সবই জানতেন। প্রতিবেদনে তিনি শরফুদ্দিনের টাকার উৎস এবং ফেরত দেওয়ার ঘটনা সবই বলেছেন। তারপরও তাঁকে আসামি করা হলো কেন? এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে উল্লেখ করে আইনজীবী বলেন, দুদক নির্দেশ দিয়েছে। তাই তদন্ত কর্মকর্তা সব প্রমাণপত্র পেয়েও, প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করার পরও তাঁকে আসামির তালিকায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন। কারণ, কাউকে না কাউকে আসামি করতে হবে। এই পর্যায়ে আইনজীবী আহসান উল্লাহ্ একটু থেমে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আই বেগ, মাননীয় আদালত, একটা কথা পরে ভুলে যেতে পারি, তাই এই ফাঁকে বলে নিই। আদালতকক্ষে প্রচুর মশা। কামড়াচ্ছে। এগুলো ডেঙ্গুর মশা হতে পারে। ইওর অনার, যদি একটু স্প্রে করা হয়। এরপর আবার এই আইনজীবী শরফুদ্দিনকে আসামি করার অযৌক্তিকতা ও তাঁর ছেলের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন,মাননীয় আদালত, যার সন্তান মারা যায় তিনিই বোঝেন এর কষ্ট। সেই কষ্ট চেপে রেখে শরফুদ্দিন সাহেবকে এই মামলায় হাজতবাস করতে হচ্ছে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, তাঁর পিতা যখন মারা যান তখন তিনি নিতান্তই একটি বালক। সুতরাং সে এতিম। সেই এতিমকে ধরে নিয়ে উল্টো করে ঝুলিয়ে কোমর ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় আদালতকক্ষে স্তব্ধতা নেমে আসে। খালেদা জিয়া, শরফুদ্দিন আহমেদসহ অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আইনজীবী নিজেও কেঁদে ফেলেন এবং বলেন, মাননীয় আদালত, আমি আর পড়ব না। মামলার পরের তারিখে যদি আপনি অনুমতি দেন, তাহলে আর্গুমেন্ট করব। এ সময় বিচারক মো. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে উপস্থাপিত একটি আবেদনের বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের কাছ থেকে শুনতে চান। আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী আবদুর রেজাক খান দাঁড়িয়ে বলেন, মাননীয় আদালত, আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী। সে জন্য উনি থাকতে পারবেন না। তাই আমরা আগামীকাল আদালতের কার্যক্রম স্থগিত বা মুলতবি রাখার আবেদন করেছি। কারণ, ম্যাডাম আদালতের কার্যক্রমে উপস্থিত থাকতে চান। এ বিষয়ে বিচারক রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ম্যাডামের মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে ওনাদের আবেদন গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আদালত বলেন, কাল ম্যাডাম অনুপস্থিত থাকবেন। মামলার আগামী তারিখ পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন। কিন্তু অন্য আসামিদের শুনানি চলবে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে আসামিপক্ষ কিছুটা ক্ষুণ্ন হয়। বিচারক এজলাস থেকে নেমে যাওয়ার পর খালেদা জিয়া আইনজীবীদের ডেকে বলেন, কাল (আজ) তিনি আদালতে আসবেন। তিনি আইনজীবী আহসান উল্লাহ্কে শুনানি করার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন। আজ সাড়ে ১০টায় আবার আদালত বসবে। আইনজীবী আহসান উল্লাহ্ প্রথমে শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে বক্তব্য শেষ করবেন। তারপর কাজী সালিমুল হক কামালের পক্ষে উপস্থাপনা শুরু করবেন।
কাল শুক্রবার থেকে পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু
বাংলাদেশের আকাশে গতকাল বুধবার ১৪৩৯ হিজরি সনের পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আজ বৃহস্পতিবার পবিত্র রবিউস সানি মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল শুক্রবার থেকে পবিত্র জমাদিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম মন্ত্রণালয়য়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান। সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, তথ্য মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব এস. এম. মাহফুজুল হক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মো. শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী, ওয়াক্ফ প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (অর্থ) মো. ইউসুফ আলী, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আগামীকাল শুক্রবার হতে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু
গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষে চার দিন বিরতি দিয়ে শুরু হচ্ছে এই শেষ পর্ব। আগামী রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের ইজতেমা। বিশ্ব ইজতেমার শীর্ষস্থানীয় মুরব্বি গিয়াস উদ্দিন বলেন, এরই মধ্যে ইজতেমা ময়দানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে যোগ দিতে গতকাল বুধবার থেকেই মুসল্লিরা আসতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে অনেক বিদেশি মুসল্লি এসেছেন। তিনি বলেন, এ পর্বেও বাংলায় মোনাজাত পরিচালনা করবেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. জোবায়ের। এর আগে বাংলায় হেদায়েতি বয়ান করা হবে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ বলেন, ইজতেমার প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও সমানসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ওয়াচ টাওয়ার ও সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি খিত্তায় গোয়েন্দা পুলিশ অবস্থান করবে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, এ পর্বেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক ভ্রাম্যমাণ দল থাকবে। এ ছাড়া চিকিৎসা, বিদ্যুৎ, পানিসহ সব বিভাগ তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে।
বাংলাদেশ আজকে সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ আজকে সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য তিনি বিশ্বের বন্ধুরাষ্ট্র ও উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন। আজ বুধবার দুদিনব্যাপী বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বিডিএফের এবারের প্রতিপাদ্য উন্নয়নের জন্য অংশীদারিত্ব বা পার্টনারশিপ ফর ডেভেপলমেন্ট। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) আয়োজনে এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে এই উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়। এটি বিডিএফের তৃতীয়বারের মতো আয়োজন। এর আগে ২০০৯ সালে প্রথম ও ২০১৫ সালে দ্বিতীয়বার এ জাতীয় কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ আজ আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছে। টেকসই অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের উন্নয়ন ভাবনা ও যথাযথ বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ আজকে সমগ্র বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। রূপকল্প অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ জন্য সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা চান। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯১ সালে আমাদের দেশে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ, আমরা সেই দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। অতিদারিদ্র্যের হার ৭ দশমিক ৯ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দারিদ্র্যের হার ১৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। গত এক দশকে জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছর এই হার ৭ দশমিক ২৮ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে রপ্তানি ও বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্স তিন গুণ বেড়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নয় গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। শেখ হাসিনা আরো বলেন, জিডিপির ভিত্তিতে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৪৪তম অর্থনীতির দেশ আর ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ৩২তম। আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ ও ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ জিডিপি ও ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্বের যথাক্রমে ২৮ ও ২৩তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে স্থান করে নিতে সক্ষম হবে। ফোরামে ২০৩০ সালের মধ্যে সফলভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ৯২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাপ্তির বিষয়টিও আলোচিত হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওএফআইডি) মহাপরিচালক সুলেইমান জাসির আল-হার্বিশ, বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানিত্তি ডিক্সন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েনসাই জাং, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমহাপরিচালক মিনোরু মাসুজিমা এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
ডিএনসিসি উপনির্বাচনের তফসিলের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিলের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ডিএনসিসির সম্প্রসারিত অংশের কাউন্সিলর নির্বাচনের সার্কুলারের কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে পৃথক দুটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। ৯ জানুয়ারি মেয়র পদে উপনির্বাচনের জন্য ঘোষিত তফসিল ও ১৮টি সম্প্রসারিত অংশে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর নির্বাচনে সার্কুলার কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ মর্মে রুল চেয়েছেন হাইকোর্ট। গত ৩০ নভেম্বর মেয়র আনিসুল হকের আকস্মিক মৃত্যুর পর ডিএনসিসির মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসির মেয়র পদসহ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি করে ৩৬টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ৬টি করে ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডেরও ভোট হওয়ার কথা ছিল। ৯ জানুয়ারি তফসিল ঘোষণার এক সপ্তাহের ব্যবধানে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল পৃথক রিট হয়। একটি রিটের আবেদনকারী ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতাউর রহমান। অপর রিট আবেদনকারী হলেন বেরাইদ ইউপির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম। আদালতে আতাউরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আহসান হাবিব ভূঁইয়া। জাহাঙ্গীরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রাশিদা চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান। হাইকোর্টের আদেশ বিষয়ে রিট আবেদনকারী মোস্তাফিজুর রহমান খান আজ প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিল, ১৮টি কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ৬টি কাউন্সিলর নির্বাচনের সার্কুলার তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম আজ প্রথম আলোকে বলেন, আদেশের বিষয়টি নির্বাচন কমশিনকে অবহিত করা হয়েছে। কমিশন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। কমিশনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জাহাঙ্গীর আলমের করা রিট আবেদনে ৯ জানুয়ারি উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনের জন্য ঘোষিত তফসিল ও সার্কুলার কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। রুল হলে তা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ঘোষিত তফসিল ও সার্কুলারের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছে। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, স্থানীয় সরকারসচিব ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। রিট আবেদনের যুক্তিতে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের (৮ নম্বর) এলাকা থেকে বাদ দিয়ে ৩৭ থেকে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর সিটি করপোরেশনে যুক্ত করা হয়। ওয়ার্ডগুলোর ভোটার তালিকা এখনো প্রস্তুত করা হয়নি। অথচ মনোনয়নপত্র আহ্বান করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন হচ্ছে ১৮ জানুয়ারি, যা একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত নয়। নির্বাচিত কাউন্সিলরদের মেয়াদ কত দিন হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। এ অবস্থায় ইসির তফসিল ঘোষণা আইনসম্মত হয়নি। রিট আবেদনের ভাষ্য, ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ৪ ধারা অনুসারে ২০১৬ সালের ২৮ জুন আটটি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকাকে সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আবেদনকারী (জাহাঙ্গীর আলম) একজন ইউপি চেয়ারম্যান, এখনো তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। ওই এলাকা উত্তর সিটি করপোরেশনভুক্ত করা হলেও ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁর অব্যাহতিসংক্রান্ত কোনো গেজেটও হয়নি। গত ২৬ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক গেজেটে ৩৭ থেকে ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডকে উত্তর সিটি করপোরেশনে সম্প্রসারিত করা হয়। রিট আবেদনকারী নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক। নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে আইন অনুসারে ৩০০ জন ভোটারের নাম, স্বাক্ষর ও ওয়ার্ড উল্লেখসহ সমর্থনসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়। ভোটার তালিকা প্রকাশিত না হলে আবেদনকারী প্রার্থী হতে পারছেন না। অপর রিট আবেদনকারী আতাউর রহমানের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান প্রথম আলোকে বলেন, গত জুলাইয়ে নতুন করে ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত হয়ে উত্তর সিটি করপোরেশন সম্প্রসারিত হয়। যার মধ্য দিয়ে ওয়ার্ড সংখ্যা ৩৬ থেকে ৫৪-তে দাঁড়ায়। আইন অনুসারে মেয়রের পদসহ করপোরেশনের শতকরা ৭৫ ভাগ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের নির্বাচন হলে ও নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নাম গেজেটে প্রকাশিত হতে হবে। কিন্তু সম্প্রসারিত ওয়ার্ডে নির্বাচন না হওয়ায় ৭৫ শতাংশ পূর্ণ হচ্ছে না। অন্যদিকে, ১৮টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মেয়াদ কত দিন হবে, তা উল্লেখ নেই। এখানে আংশিক মেয়াদে নির্বাচনের সুযোগ নেই। কারণ, শুধু আকস্মিক শূন্যতায় আংশিক মেয়াদে নির্বাচন হতে পারে। অথচ এসব ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে আকস্মিক শূন্যতা হয়নি। তাই এই মুহূর্তে এসব ওয়ার্ডে বর্তমান আইনে নির্বাচনের সুযোগ নেই বলে জানান এই আইনজীবী। তিনি বলেন, নির্বাচন হলে ডিএনসিসি ও মেয়র পদ সঠিকভাবে গঠিত হবে না। আবেদনকারী ২০১৫ সালে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, যার মেয়াদ ২০২১ সাল পর্যন্ত। ইউপি এলাকা সিটি করপোরেশনে যুক্ত হওয়ার পর সে ক্ষেত্রে কী হবে, তাও স্পষ্ট নয়। এসব যুক্তিতে নির্বাচনের ওই তফসিল স্থগিত চেয়ে রিটটি করা হয়।
উত্তরা মেডিকেলের ৫৭ শিক্ষার্থীর পড়তে বাধা নেই
রাজধানীর উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ কোটায় ভর্তি হওয়া ৫৭ শিক্ষার্থীর একাডেমিক কার্যক্রম চলতে কোনো বাধা নেই। বুধবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ নিষ্পত্তি করে রায় দেন। আদালত এ সময় রিটকারীর সন্তানকেও ভর্তির আদেশ দেন। আদালতে মেডিকেল কলেজের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দীন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে সাধারণ কোটায় ভর্তিকৃত ৫৭ শিক্ষার্থীর একাডেমিক কার্যক্রমে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই কলেজে আগে আসলে আগে ভর্তির সুযোগ এই পদ্ধতিতে ভর্তির প্রক্রিয়া কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। রাজধানীর উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজে ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে মেধা স্কোর অনুযায়ী ছাত্র ভর্তি না করে আগে আসলে আগে ভর্তির সুযোগ ভর্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ১৭ ডিসেম্বর বেলা ১১টার মধ্যে আগে আসলে আগে ভর্তির সুযোগ পাবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। ওই দিন বেলা ১১টার পর তারিকুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী, যার মেধা স্কোর ২৫৭, সে কলেজে গিয়ে জানতে পারে এরই মধ্যে ৫৭ শিক্ষার্থীর ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেছে। ভর্তির সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ২৫০.৪৫। তারিকুলের দাবি, মেধা স্কোর অনুযায়ী ভর্তি করলে সে ভর্তির সুযোগ পেত। পরে গত ২ জানুয়ারি তারিকুলের বাবা নজরুল ইসলাম আধুনিক মেডিকেল কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পদ্ধতি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর