রমজানকে কেন্দ্র করে আবারও সবকিছুর দাম বেড়েছে
২৬এপ্রিল,রবিবার,সাইফুল ইসলাম,ঢাকা,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা আতঙ্কে বেড়ে যাওয়া মশুর ডালের দাম রমজানকে কেন্দ্র করে আবারও বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে চিনির দামও। আর আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে অ্যাংকর, মুগ ডাল ও ছোলা। হঠাৎ করে চিনি ও মশুর ডালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজান উপলক্ষে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহকারীরা চিনি ও মশুর ডালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। করোনা আতঙ্কে এমনিতেই স্থবির জনজীবন। এরমধ্যে রোজা উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের পণ্যের দাম বাড়ানোকে অমানবিক বলছেন ক্রেতারা। তারা বলছেন, মানুষ আতঙ্কে থাকলেও মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা একের পর এক পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এমন অমানবিক কাজ অব্যাহত থাকলেও এই অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, খুচরা বাজার চিনি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হয়। গত সপ্তাহে ৭৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মোটা দানার মশুর ডালের কেজি ১০০ টাকা ছুঁয়েছে। ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মাঝারি দানার মশুর ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ১১৫ টাকা। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবেও সপ্তাহের ব্যবধানে চিনি ও মশুর ডালের দাম বেড়েছে। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, খুচরা বাজারে এখন চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। টিসিবি বলছে, এক সপ্তাহ আগে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মোটা দানার মশুর ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। মাঝারি দানার মশুর ডালের দাম বেড়ে হয়েছে ১০০ থেকে ১১৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। এদিকে রোজার কেনাকাটা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাংকর, ছোলা ও মুগ ডালের দাম বেড়ে যায়। সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে এই পণ্য দু’টির দাম বাড়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। আগের মতো অ্যাংকর ডাল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি, ছোলা ৮০ থেকে ৯০, মুগ ডাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। দেশে লাগামহীনভাবে বাড়ছে ভোজ্য তেলের দাম। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে দাম বাড়া শুরু হয়ে এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। করোনা ভাইরাস দেখা দেয়ার পর থেকে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ২০ টাকা এবং এক লিটারের বোতল জাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। আর রমজানকে কেন্দ্র করে ও করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানেই প্রতি ৫ লিটারে (বোতল) বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত। আর লিটারে বেড়েছে ৩ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত। সরকারি বিপনন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে ৫ লিটার বোতলের সোয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৪৯০ থেকে ৫৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা।
সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে আপাতত সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতিদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভা। রোববার (২৬ এপ্রিল) ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে ফুল কোর্ট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফুল কোর্ট সভায় একটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানানোর সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, হাইকোর্ট বিভাগের রুলস সংশোধন করে ভার্চুয়াল আদালত স্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফুল কোর্ট সভা।
কোনো ধরণের অনিয়ম, অপেশাদার আচরণ ও অসদুপায়কে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেওয়া হবে না
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরিস্থিতিতে জনগণের কল্যাণে সেবার বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখতে পুলিশের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশের চলমান কার্যক্রম ও স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রসঙ্গে নিয়মিত দিকনির্দেশনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ আজ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সকল পুলিশ ইউনিটের কমান্ডাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি তাদেরকে নানা বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। সাধারণ মানুষের কল্যাণে পুলিশের সকল সদস্যের ত্যাগ ও মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে সেবার এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের সাধারণ জনগণ ও গুণীজনদের যে অকুণ্ঠ ভালবাসা ও প্রশংসা পুলিশ পাচ্ছে তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মানুষের কল্যাণে পুলিশ কাজ করে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ধরণের অনিয়ম, অপেশাদার আচরণ ও অসদুপায়কে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এসময় পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কালোবাজারি ও মজুদারী রোধে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন তিনি। পণ্যবাহী ট্রাক বা বাহনগুলো পণ্য পৌঁছে দিয়ে ফেরার সময় যেনো কোনো পর্যায়েই হয়রানির শিকার না হয় সেটি নিশ্চিত করতে সকলকে নির্দেশ দেন আইজিপি। পাশাপাশি করোনার বিস্তার রোধে লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিত করতে পুলিশের কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদেরকে সুচিকিৎসা প্রদানের সকল আয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালসহ পুলিশের অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে করোনা সংক্রান্ত চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, বিভাগীয় পর্যায়েও নেওয়া হয়েছে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা। পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের পাশে বাংলাদেশ পুলিশ রয়েছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, করোনায় আক্রান্ত পুলিশের যে কোনো সদস্যের সুচিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যাপ্ত আয়োজন রাখা হয়েছে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে যারা আত্মনিয়োগ করেছেন তাদের প্রতি এ দেশের মানুষেরও অকুন্ঠ ভালবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। দায়িত্বপালনরত সকল পুলিশ সদস্যের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সুরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা বিভিন্ন ইউনিটেও পৌঁছে দেয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়িয়েছে,মারা গেছেন ৫জন
২৬এপ্রিল,রবিবার,আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪১৮ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। তাছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫জনসহ মোট মৃতের সংখ্যা হয়েছে ১৪৫ জন। আজ রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৬৮০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৫৮৯টি। নতুন যে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তার মধ্যে ৪১৮ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪১৬ জনে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও পাঁচজন, এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৫ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন আরও নয়জন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১২২ জন। প্রসঙ্গত, গত ৮ই মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। শুরুর দিকে রোগীর সংখ্যা কম থাকলেও এখন সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। ভাইরাসটি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। চীনের পর ইরান, কোরিয়াসহ বেশকিছু দেশে সংক্রমণ ছড়ালেও সবচেয়ে বেশি করোনা আঘাত হানে ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের দেশগুলোতে। তবে এ মুহূর্তে তা-ব চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার করে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ লাখ ৩ হাজার ৩১৯জন মানুষ। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৩ । অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৩৭ হাজার ৬১১ জন।
কাঁচাবাজার ফাঁকা স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ভুমি মন্ত্রণালয়ের
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে মূল হাট ও বাজারের চৌহদ্দি থেকে কাঁচাবাজার, মাছ বাজার, শাকসবজির বাজারসমূহ নিকটবর্তী সরকারি খাস বা অন্য কোনো সুবিধাজনক স্থানে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়৷ রোববার জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্থানান্তরিত হাট ও বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতার সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণের বিষয়ে বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি, স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহায়তা গ্রহণ করবে। ওই নির্দেশনায় আরও বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত কারণে হাট ও বাজারে ব্যাপক জনসমাবেশ/উপস্থিতি সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকার পরিপন্থী। ফলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে, বিশেষ করে কাঁচাবাজার, মাছ বাজার, শাকসবজির বাজারসমূহ মূল বাজার/তোহা বাজারের চৌহদ্দি থেকে নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হওয়াতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাক্‌ছুদুর রহমান পাটওয়ারী-এর নির্দেশে আজ এ ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভূমি মন্ত্রণালয়। উল্লেখ্য, হাট ও বাজারসমূহের মালিকানা ভূমি মন্ত্রণালয়ের এবং এগুলো The Hats and Bazars (Establishment and Acquisition) Ordinance, 1959-এর অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। আর জেলায় নতুন হাট ও বাজার স্থাপন এবং বিলুপ্তির বিষয়টি জেলা কালেক্টরের (জেলা প্রশাসক) অন্যতম কাজ। এসব ক্ষেত্রে নতুন হাট বাজার সৃষ্টি আবশ্যক হলে কালেক্টর সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করেন। বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু সৃষ্ট হাট ও বাজারের ব্যবস্থাপনা বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগকেও দেওয়া হয়েছে।
গণস্বাস্থ্যের কিট আজও নেয়নি ওষুধ প্রশাসন: ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
২৬এপ্রিল,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কেন্দ্রের কিট আজও গ্রহণ করেনি ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। জানালেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীক স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়ে জনগণের স্বার্থের বিপক্ষে তারা অবস্থান নিচ্ছে। জনগণকে অকারণে ক্ষিপ্ত করছে। সরাসরি ঘুষ চাওয়া না হলেও করোনা পরীক্ষার কিট নিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্ট্রি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। বলেছেন, গত ৪৮ বছরে গণস্বাস্থ্য কাউকে ঘুষ দেয়নি, দেবে না। গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিট (ব্যবহারযোগ্য হয়ে) আসুক আর না আসুক, কাউকে ঘুষ দেব না। কিন্তু লড়াই করে যাব। এর আগে শনিবার (২৫ এপ্রিল) করোনা শনাক্তে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উৎপাদিত কিট সংগ্রহ করেনি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে না পারলেও গণস্বাস্থ্যের কিটের নমুনা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-সিডিসির প্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে অধিদপ্তর বলছে, গণস্বাস্থ্যের উৎপাদিত কিট এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় গবেষণা সমাপ্ত না করে তারা এই কিট কাউকেই হস্তান্তর করতে পারে না। সারা বিশ্বেই সংকট রয়েছে করোনার কিটের। আবার যাও বা আছে সেসব কিটে শতভাগ সঠিক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ বিস্তর। বিশ্বে করোনার দাপটের শুরু থেকেই কিট তৈরির চেষ্টা করে আসছে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সরকারের কাছে সেই কিট হস্তান্তরের ঘোষণা দেয় গণস্বাস্থ্য। তাদের দাবি, তারা শতাধিক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে উদ্ভাবিত কিটে সঠিক ফল পেয়েছেন। এরআগে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে কাজ করছে না গণস্বাস্থ্য। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা বলেছি যখন অ্যাপ্রুভ হবে তখন আপনারা বড় করে অনুষ্ঠান করবেন, করা যাবে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এখন তো এটা স্বীকৃত কোনো কিট না যে আপনারা হস্তান্তর করবেন। এখন ট্রায়েল পর্যায়ে আছে। এটা কি এভাবে হস্তান্তর করা যায়? আমরা চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলাম, এটি করা সমীচীন হবে না। এটি করবেন না।
ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন বোনাস পরিশোধের আহ্বান শ্রম প্রতিমন্ত্রীর
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন বোনাস পরিশোধের জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। আজ রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনের সম্মেলনকক্ষে সরকার, মালিক- শ্রমিক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ – টিসিসি’র ৬৪ তম সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান। টিসিসির সদস্যরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসভায় অংশ গ্রহণ করেন। শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কোন শ্রমিককে ছাঁটাই করা যাবে না। কোন কারখানা লে-অফ করা যাবে না। তিনি বলেন, অর্থনীতির গতি সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক মালিকরা কারখানা চালু করতে চাইলে অবশ্যই কঠোরভাবে স্বাস্থ্য বিধিমালা প্রতিপালন করতে হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা যেমন- শিল্প পুলিশ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, কারখানা চালু রাখার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি আগে দেখতে হবে।বাসস। শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. রেজাউল হকের সঞ্চালনায় সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায়, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান এবং জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু উপস্থিত ছিলেন। অন্য দিকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন এর সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক, বিকেএমইএ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি হাতেম আলী, বাংলাদেশ চা সংসদের চেয়ারম্যান শাহ আলম, গ্রামীণ ফোন লিমিটেডের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা তানভির হোসাইন, আইএলও প্রতিনিধি মুনিরা সুলতানা, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোট এর সভাপতি শিরিন আখতার এমপি প্রমুখ।
১৭ ব্র্যান্ডের পণ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বিএসটিআই
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৭ ব্র্যান্ডের পণ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পণ্যের মান প্রণয়ন এবং নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। আজ শনিবার বিএসটিআই থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, খোলাবাজারে সার্ভিলেন্স অভিযান চালিয়ে পণ্য কিনে বিএসটিআই ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে বাংলাদেশ মানের (বিডিএস) চেয়ে নিম্নমান হওয়ায় এসব পণ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তীতে ওই পণ্যসমূহের মানোন্নয়ন করে পুনঃঅনুমোদন ব্যতিরেকে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের বিক্রি-বিতরণ ও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার থেকে বিরত থাকা এবং উৎপাদনকারীদের বাজার থেকে বিক্রিত মালামাল প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।মানবজমিন। নিম্নমানের পণ্যের প্রতিষ্ঠান, পণ্য ও ব্র্যান্ডের নাম চট্টগ্রামের কল্পনা কমোডিটিস কোম্পানির এপি-১ ব্র্যান্ডের ঘি, চট্টগ্রামের চিটাগাং ফ্লাওয়ার মিলস-এর এ্যাংকর ব্র্যান্ডের সুজি, যশোরের আল আমিন বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারির আল আমিন ব্র্যান্ডের লজেন্স, ঢাকার মি. বেকার অ্যান্ড পেস্ট্রি শপের মি. বেকার ব্র্যান্ডের বিস্কুট, ফরিদপুরের সেফ ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবা ব্র্যান্ডের চিপস (পটেটো), কক্সবাজারের রিয়াদ সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বঙ্গ ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারের আর এম ব্র্যান্ডের ঘি, বগুড়ার জিনিয়াস সেফ ফুড অ্যান্ড কনজ্যুমারের জিনিয়াস স্পেশাল ব্র্যান্ডের ঘি, সয়াবিন তেল ও হলুদের গুঁড়া; বগুড়ার সীমা ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডের সীমা ব্র্যান্ডের সুজি, গাজীপুরের জি এম ফুড প্রোডাক্টসের এবি-১ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল ও রাজা ব্র্যান্ডের ঘি, গাজীপুরের শাহ ইন্টারন্যাশনাল ফুড প্রোডাক্টসের নুরজাহান ব্র্যান্ডের বাটার, শরীয়তপুরের মাদার ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের বেস্ট-১ ব্র্যান্ডের ঘি, মৌলভীবাজারের শাহী ফুড প্রোডাক্টসের শমসের নগর শাহী ব্র্যান্ডের ঘি এবং একটি নাম ঠিকানাবিহীন ড্রামের লুজ সয়াবিন তেল। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএসটিআই পণ্যের মান সনদ প্রদানের পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানগুলো মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করছে কি-না তা যাচাই করার জন্য বছরব্যাপী নিয়মিত সার্ভিল্যান্স অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে খোলাবাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করে বিএসটিআই ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে থাকে। রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষায় অসাধু ব্যবসায়ী-বিক্রেতারা যেন ভেজাল বা নিম্নমানের খাদ্যপণ্য ও পানীয় প্রস্তুত এবং বিপণন থেকে বিরত থাকে সে লক্ষ্যে আগে থেকেই সার্ভিলেন্স জোরদার করা হয়। এ বছর রমজান মাসে ভেজালমুক্ত পণ্য সরবরাহ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ২ মাসে ইফতার ও সেহরির সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ধরনের খাদ্য পণ্য সার্ভিলেন্স টিমের মাধ্যমে খোলাবাজার থেকে সংগ্রহপূর্বক বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়েছে, যার বিবরণ: মোট নমুনার সংখ্যা- ৫২১টি, পরীক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে-২৫৩টি, মানসম্মত নমুনা- ২৩৬টি, নিম্নমানের নমুনা- ১৭টি এবং পরীক্ষাধীন রয়েছে- ২৬৮টি নমুনা। উল্লেখ্য, দেশে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মান প্রণয়ন এবং মানোন্নয়নের পাশাপাশি আমদানিকৃত পণ্যের মান সংরক্ষণও বিএসটিআইয়ের অন্যতম দায়িত্ব। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কাজ হচ্ছে, প্রসেসড ফুড এবং শিল্পজাত পণ্যের মান প্রণয়ন, পরীক্ষণ ও মানসনদ প্রদান। সরকার বিভিন্ন সময়ে এসআরও জারির মাধ্যমে ১৮১টি পণ্যকে বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক মানসনদের আওতাভুক্ত করেছে। এসব পণ্যের মানসনদ প্রদানের পাশাপাশি ক্রেতা-ভোক্তার বৃহত্তর স্বার্থে এ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে পণ্য ও সেবার গুণগতমান বজায় রাখতে ভূমিকা পালন করে আসছে।
সোনালী ব্যাংকের আরো চার কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত
২৫এপ্রিল,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সোনালী ব্যাংকের রংপুর বাজার শাখার চার জন কর্মকর্তা। শাখাটি কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহে মোট ৭ জন কর্মকর্তার সর্দি-জ্বর ও কাশির উপসর্গ দেখা দিলে শাখাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আজ শনিবার ওই কর্মকর্তাদের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে। সাত জনের মধ্যে করোনা পজিটিভ এসেছে চারজন ব্যাংক কর্মকর্তার। সোনালী ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।মানবজমিন। এর আগে, গত ২০শে এপ্রিল সোমবার একজন কর্মকর্তার করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ায় রাজধানীর দিলকুশা শিল্প ভবনের সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়। শাখাটি এখনও বন্ধ রয়েছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আতাউর রহমান প্রধান জানান, যে কর্মকর্তা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তার সঙ্গে আরও চার কর্মী ছিলেন। তারাসহ শাখার সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এখন আপাতত ব্যাংকের শাখাটি বন্ধ থাকবে। বন্ধ শাখার কার্যক্রম মতিঝিল দিলকুশা শাখায় হবে বলেও জানান তিনি।

জাতীয় পাতার আরো খবর