শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
সোয়া একশ বছরের ব্রিটিশ কারাবিধি থেকে বের হচ্ছে বাংলাদেশ
সোয়া একশ বছরের পুরনো কারাবিধি থেকে বের হচ্ছে বাংলাদেশ কারাগার। ১৮৯৪ সালে প্রণীত ব্রিটিশ কারাবিধি থেকে বের হয়ে নতুন বিধি প্রণয়নের কাজ চলছে। ১৫৯টি পুরনো বিধির ৮০টি পর্যালোচনাও শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন কারাবিধিতে ১৫৯টি আইন রয়েছে। এর মধ্যে ৮০টি আইনের পর্যালোচনা শেষ হয়েছে। সবগুলো আইনের পর্যালোচনা শেষ হলে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তারপর ক্যাবিনেট হয়ে আইনটি পাসের জন্য সংসদে পাঠানো হবে। সকল প্রক্রিয়া শেষ করার মাধ্যমে চলতি বছরের মধ্যেই নতুন কারাবিধি কার্যকর হওয়ার আশা প্রকাশ করেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন। রোববার কারা অধিদফতরে কারা সপ্তাহ-২০১৮ এবং বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। আইজি প্রিজন বলেন, নতুন আইনের পর কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পুরো প্রক্রিয়া চালু করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ১৮৯৪ সালের প্রিজন অ্যাক্ট (কারাবিধি) কার্যকর রয়েছে আর প্রচলিত জেলকোড প্রবর্তন করা হয়েছিল ১৮৬৪ সালে। কিন্তু আমরা আগে প্রিজন অ্যাক্ট প্রণয়ন করছি। প্রিজন অ্যাক্টের আলোকে জেলকোড প্রণয়ন করা হবে। কারাগারে মাদক প্রবেশের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে কারাবন্দিদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ বন্দিই মাদকাসক্ত। একটি কারাগারে ৭-৮ হাজার বন্দির মধ্যে যদি তিন হাজার বন্দি সবসময়ই চেষ্টা করে মাদক প্রবেশ করানোর জন্য; আর বিভিন্ন শিফট মিলিয়ে যদি ১০০ কারারক্ষী তা ঠেকাতে দায়িত্ব পালন করেন তাহলে বিষয়টা কষ্টসাধ্য। মাদকের সঙ্গে কারারক্ষীদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেলেই বরখাস্তসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে দাবি করে আইজিপি প্রিজন বলেন, এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শরীরের অভ্যন্তরেসহ বিভিন্ন অভিনব পন্থায় মাদক প্রবেশ করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পন্থা ধরতেও আমাদের সময় লাগে। উন্নত দেশের কারাগারেও শতভাগ মাদক প্রবেশ বন্ধ সম্ভব হয়নি। তারপরও এসব প্রতিরোধে বেশকিছু কারাগারে লাগেজ স্ক্যানার স্থাপন করা হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো বডি স্ক্যানারও বসানো হচ্ছে কারাগারেই। দেশের ৬৮টি কারাগারে একসঙ্গে কারা সপ্তাহ- ২০১৮ এবং বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি অর্জনের ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। সংশোধন ও প্রশিক্ষণ, বন্দির হবে পুনর্বাসন প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে ২০-২৬ মার্চ কারা সপ্তাহ পালিত হবে। ২০ মার্চ কাশিমপুর কারাগারে এবারের কারা সপ্তাহ উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
নতুন পরিচয়ে বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, এটি জাতির জন্যে এক বিরাট অর্জন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার যে স্বপ্ন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা, সেই পথেই আমরা আরো একধাপ এগিয়েছি। তাই আজকে জাতির পিতার এই জন্মদিনে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণের এই সুখবর আমাদের জন্য এক বিরাট সফলতা বলে আমি মনে করি।’ সেজন্যে প্রধানমন্ত্রী সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার দুপুরে এখানে জাতির পিতার ৯৯তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শিশু সমাবেশ,আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভাষণকালে একথা বলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জাতির পিতার সমাধি কমপ্লেক্সে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের জন্য একটা সুখের সংবাদ। জাতির পিতার জন্মদিনেই এই সংবাদটা আমরা পেলাম যে আমাদের এতদিনের প্রচেষ্টার ফলে আজকে বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ ছিল, সেই দেশ জাতিসংঘ কতৃর্ক উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, অর্থাৎ আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলো যেমন-ভারত, শ্রীলংকা এমনকি পাকিস্তানসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের কাতারেই আজ বাংলাদেশের অবস্থান। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এক ধাপ পিছিয়ে ছিলাম। আজকেই আমরা খবর পেয়েছি আমরা আর পিছিয়ে পড়ে নেই। এই অঞ্চলের সকল দেশের সঙ্গে সমানতালে তাল মিলিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। আমরা চলতে পারবো। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে একটি উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য হয়ে উঠেছে, কারণ এটি এলডিসি ব্লক থেকে বের হওয়ার জন্য প্রথমবারের মতো তিনটি মানদন্ডই পূরণ করেছে। জাতিসংঘের প্যানেল দ্য কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি কমিটি (সিডিপি) শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে এক সভায় বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিষয়ে একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে।
দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে হতাশায় ভুগছে রোহিঙ্গারা
বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পাদনের সাড়ে তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আশা-নিরাশার দোলাচলে পড়ে অনেকেই হতাশায় ভুগছে। রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ স্বদেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও বড় একটিং অংশ বাংলাদেশে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ খুঁজছে। প্রতিনিয়ত ক্যাম্প ত্যাগ করে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক পথে শহরের দিকে পা বাড়াচ্ছে তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মাঝে কিছু রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠালেও বেশির ভাগ রোহিঙ্গা তাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাচ্ছে। এ দিকে, প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পাদনের পরেও মিয়ানমার সরকার সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ, ফাঁকা গুলিবর্ষণ, তুমব্রু শূন্যরেখার আশ্রিত রোহিঙ্গাদের উপর হামলার চেষ্টা করছে। এছাড়াও মাইকিং করে তাদের স্থান ত্যাগ করার হুমকি প্রদর্শন করছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুতুপালং বস্তির ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিকের সাথে আলাপ হয়। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় নতুন করে ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার ব্যাপারে। তিনি জানান, প্রত্যাবাসন বিলম্বের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বিরাজমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের অনেকেই স্বদেশে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছে। তারা মনে করছে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার চাইতে এ দেশের আনাচেকানাচে কোথাও অবস্থান নিয়ে কাজকর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করাটা ভালো হবে। এভাবে গত ছয় মাসে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্প ত্যাগ করেছে। বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সেক্রেটারি নূর জানান, বস্তির পুরাতন রোহিঙ্গা ছাড়া নতুন রোহিঙ্গাদের অনেকেই বস্তির বাইরে বিভিন্ন এলাকায় বাসা-বাড়ি ভাড়া নিয়ে রয়েছে। আর কিছু কিছু রোহিঙ্গা তাদের স্বজনদের কাছে চলে গেছে। এভাবে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে যাচ্ছে। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খায়ের জানান, উখিয়া থানার পক্ষ থেকে পুলিশ কুতুপালং, উখিয়া সদর, মরিচ্যা চেকপোস্টসহ ভ্রাম্যমাণ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে গত ছয় মাসে অর্ধ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে ক্যাম্প ফেরত পাঠিয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, ক্যাম্পে যে সমস্ত রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে তাদের প্রত্যাবাসন না হওয়ায় তারা এখানে স্থায়ী বসবাসের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। যার ফলে বিভিন্ন গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়ক পথে পায়ে হেঁটে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, টেকনাফ থেকে সোনারপাড়া ঝাউবাগান এলাকায় তল্লাশি চালালে এখনো লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এখানে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে। তাদের অনুসরণ করে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ত্যাগ করার চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের ফেরত পাঠানোর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় সরকার কাজ করছে। তবে কখন, কিভাবে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হবে তা এখন সঠিক করে বলা যাচ্ছে না।
প্রথম সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ চালু করেন বঙ্গবন্ধুই:মেনন
সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম দেশের সাধারণ মানুষের জন্য সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি দেশের মানুষকে নিজের জীবনের চাইতেও বেশি ভালোবাসতেন। শনিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেন,বঙ্গবন্ধু খেটে খাওয়া সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের কথা ভাবতেন। তিনি সমাজসেবায় সুদমুক্ত ঋণপ্রথা চালু করেছিলেন গরিব মানুষের কথা ভেবেই। অথচ এই বাংলাদেশেই ক্ষুদ্রঋণের নামে গরিব মানুষের সহায় সম্বল কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছে এক বিশেষ ব্যক্তি। তারা এই ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছে, কিন্তু তাতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের কোনো লাভ হয়নি। এ নিয়ে দেশের মানুষ বহুবার আন্দোলনে নেমেছে। রাশেদ খান মেনন বলেন, অনেক গরিব পরিবারের অসহায় নারীদের এই সুদযুক্ত ঋণের দায় শোধ করতে নিজের শেষ সম্বল বসতভিটাসহ কানের দুল বিক্রি করতে হয়েছে। একজন গরিব মানুষও পাওয়া যাবে না, যিনি ড. ইউনূসের এই সুদযুক্ত ঋণের বোঝা নিয়ে শান্তিতে কখনো ঘুমাতে পেরেছেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মুহাম্মদ নুরুল কবীরের সভাপতিত্বে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুশান্ত কুমার প্রামাণিক, পরিচালক (কার্যক্রম) আবু মো. ইউছুফ। অনুষ্ঠান শুরুর আগে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে ৯৮ পাউন্ড ওজনের একটি কেক কাটা হয়।
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদিতে প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও পরে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানান। এর আগে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে টুঙ্গিপাড়া হেলিপ্যাডে পৌঁছান। এরপর পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধা জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেন। বেলা ১১টায় হেলিকপ্টারে করে টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন তারা। এদিকে ঢাকায় বেলা ১১টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররমস্থ মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও আগামীকাল রোববার দুপুর ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসে আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচিগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করতে দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তদানীন্তন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শেখ লুৎফর রহমান ও মায়ের নাম সায়েরা খাতুন। লুৎফর-সায়েরা দম্পতির এ সন্তানই পরে এ দেশের মানুষের পরাধীনতা মুক্তির ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন। টুঙ্গিপাড়ার খোকা থেকে হয়ে ওঠেন বঙ্গবন্ধু।
বাঙালি জাতির পিতার জন্মদিনে দুটি খুশির বার্তা এসেছে
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসে আমাদের জন্য এসেছে দুটি খুশির বার্তা বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ শনিবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, দুটি খুশির বার্তা হল এক. বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতি সংঘ। দুই. শ্রীলংকাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল শ্রীলংকাকে হারিয়ে অসাধারণ জয় পেয়েছে। বাঙালি যে একটা লড়াকু জাতি সেটা আমাদের ক্রিকেটাররা প্রমাণ করে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল ও সরকার। কাদের বলেন, কিন্তু আজ বঙ্গবন্ধু নেই। তার দুটি সপ্ন ছিল। বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত করা, আর এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। প্রথম সপ্নটি তার পূরণ হয়েছে। আর দ্বিতীয়টি পূরণে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তবে বাধা আছে। বিএনপি প্রত্যেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। এই ধরনের মন-মানসিকতার কারণেই তারা ১৯৭৫-এর পর স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় বসিয়ে ছিল। অন্যদিকে, শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, টাকার বিনিময়ে রাজনীতি কেনার চেষ্টা করে দেশটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল জিয়াউর রহমান। এ সময় মতিয়া চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, ড. আবদুস সোবাহান গোলাপসহ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আরও একধাপ এগিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণে আনন্দ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটি জাতির জন্যে এক বিরাট অর্জন। তিনি বলেন,জাতির পিতার যে স্বপ্ন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা, সেই পথেই আমরা আরো একধাপ এগিয়েছি। তাই আজকে জাতির পিতার এই জন্মদিনে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণের এই সুখবর আমাদের জন্য এক বিরাট সফলতা বলে আমি মনে করি। আজ শনিবার দুপুরে এখানে জাতির পিতার ৯৯তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শিশু সমাবেশ,আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভাষণকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জাতির পিতার সমাধি কমপ্লেক্সে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমাদের জন্য একটা সুখের সংবাদ। জাতির পিতার জন্মদিনেই এই সংবাদটা আমরা পেলাম যে আমাদের এতদিনের প্রচেষ্টার ফলে আজকে বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ ছিল, সেই দেশ জাতিসংঘ কতৃর্ক উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি বলেন, অর্থাৎ আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলো যেমন-ভারত, শ্রীলংকা এমনকি পাকিস্তানসহ বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের কাতারেই আজ বাংলাদেশের অবস্থান। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এক ধাপ পিছিয়ে ছিলাম। আজকেই আমরা খবর পেয়েছি আমরা আর পিছিয়ে পড়ে নেই। এই অঞ্চলের সকল দেশের সঙ্গে সমানতালে তাল মিলিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। আমরা চলতে পারবো। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে একটি উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য হয়ে উঠেছে, কারণ এটি এলডিসি ব্লক থেকে বের হওয়ার জন্য প্রথমবারের মতো তিনটি মানদন্ডই পূরণ করেছে। জাতিসংঘের প্যানেল দ্য কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি কমিটি (সিডিপি) শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে এক সভায় বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিষয়ে একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ করে।-বাসস
উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর কয়েক দশকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্জনের ফলশ্রুতিতে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক এ স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন যাত্রায় অর্জিত হলো আরও একটি গর্বের পালক। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন স্বীকৃতি বাংলাদেশের আগামীর পথ চলাকে করবে আরও সুগম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীর দিনটি আরও একটি কারণে বাঙালির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কয়েক দশক স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকার পর বাংলাদেশ স্বীকৃতি পেলো উন্নয়নশীল দেশের। যুক্তরাষ্ট্র সময় শুক্রবার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি-সি.পি.ডি এই ঘোষণা সংক্রান্ত চিঠি জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের কাছে হস্তান্তর করে। উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিতে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক- এ তিনটির যেকোনো দু'টি অর্জন করতে পারলেই স্বীকৃতি মেলে। বাংলাদেশ তিনটি সূচকেই পর্যাপ্ত মানদণ্ড অর্জন করে বিশাল এ স্বীকৃতি অর্জন করে নিয়েছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কাউন্সিলের মানদণ্ডে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২শ ৩০ ডলার। বাংলাদেশের সেখানে রয়েছে ১২শ ৭১ ডলার। মানবসম্পদ সূচকে প্রয়োজন ৬৬ বা এর বেশি। বাংলাদেশ সেখানে অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯। এছাড়া অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে হতে হবে ৩২ বা এর কম। সেখানে বাংলাদেশের আছে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ। সব মিলিয়ে এমন একটি অর্জনে, সংশ্লিষ্টদের মত, এর মধ্য দিয়ে আগামী দিনগুলোতে আরও এগিয়ে যাবে লাল সবুজের দেশ।
রাষ্ট্রপতি আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮ তম জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি জাতির পিতার বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এ সময় বাংলদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে। আবদুল হামিদ এ সময় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মুনাজাত করবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি সমাধি সৌধের দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকবৃন্দ তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবেন বলে কাল বিকেলে বঙ্গভবন থেকে জানানো হয়। আজ বঙ্গবন্ধুর ৯৯তম জন্মদিনটি দেশব্যাপী জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালিত হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর