রবিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৯
আজ আবারও আদালতে খালেদা জিয়া
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় হাজিরা দিতে আজ বৃহস্পতিবারও আদালতে যাবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়া আদালতে পৌঁছাবেন বলে জানান তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। তিনি বলেন, পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আকতারুজ্জামানের আদালতে মামলা দুটির বিচারকাজ চলছে। মামলা দুটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ধার্য রয়েছে। এর আগে বুধবার ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে ১ দিনের অব্যাহতি পাওয়ার পরও আদালতে হাজির ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১ দিনের জন্য আদালতের কার্যক্রম মুলতবি চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। আদালত শুধু তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন। কিন্তু খালেদা জিয়া সেটা চাননি, তিনি মামলার পুরো কার্যক্রম শুনতে আগ্রহী হওয়ায় ব্যক্তিগত অব্যাহতি গ্রহণ করেননি। গতকাল জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন আইনজীবী আহসান উল্লাহ। এরপর মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন তিনি। তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন আদালত। শরফুদ্দিননের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয় ১৬ জানুয়ারি। এরপর যুক্তি শেষ না হওয়ায় ১৭, ১৮, ২২, ২৩ ও ২৪ যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবী। এর আগে ১৯ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। এদিন রাষ্ট্রপক্ষ খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। ২০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। এরপর ২১, ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর এবং ৩, ৪, ১০, ১১ ও ১৬ জানুয়ারি খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় প্রথম মামলাটি করা হয়। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দ্বিতীয় মামলাটিও করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কবর জিয়ারত করবেন খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ (বুধবার)। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বনানী কবরস্থানে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ছেলের কবর জিয়ারত করবেন খালেদা জিয়া। বেগম জিয়ার মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার বলেন, আরাফাত রহমান কোকোর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার কবর জিয়ারত করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি আরও বলেন, দিনভর কোকোর কবরে কোরআন খতম করা হবে। কোরআন খতম শেষে কবরের সামনে দাঁড়িয়ে সুরা ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেবেন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া সন্ধ্যায় চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসভবন ফিরোজাতে এবং গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়েও কোরআন খতম ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
সেনা,নৌ ও বিমান বাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম
আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীতে যুক্ত করা হচ্ছে আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরে এ তথ্য জানান সংসদ কার্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আনিসুল হক। সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি নূরজাহান বেগমের প্রশ্নে তিনি বাহিনীগুলো নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিন বাহিনীতে এরই মধ্যে যেসব আধুনিক সরঞ্জাম দেয়া হয়েছে তা উল্লেখ করেন। সেনাবাহিনী নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনার তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, আগামী দুই অর্থবছরে সিলেট সেনানিবাসে ১১টি ইউনিট গঠন করা হবে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে রামু সেনানিবাসে গঠন করা হবে ১৪টি ইউনিট। ২০২৫ সাল নাগাদ মোট ৫৬টি ইউনিট গঠন করার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামাইন উপজেলায় সেনানিবাস গঠনের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে একটি আরই ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া সেনাবাহিনীতে স্বতন্ত্র আর্মস হিসেবে স্পেশাল ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে একটি সদর দফতর প্যারা-কমান্ডো ব্রিগেড এবং একটি প্যারা-কমান্ডো ব্যাটালিয়ন গঠনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া বিওএফ এর অধীনে চীন থেকে টেকনোলজি ট্রান্সফার এর মাধ্যমে এয়ার ডিফেন্স আর্টিলারির জন্য ভিসোরাদ মিসাইল উৎপাদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রশ্নোত্তরে নৌবাহিনীর ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এ বৈদেশিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ফ্রিগেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশাল সমুদ্র এলাকা টহলের জন্য ৬টি ফ্রিগেট নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া সামুদ্রিক নজরদারির জন্য দুটি এমপিএ কেনা প্রক্রিয়াধীন। পাশাপাশি দুটি হেলিকপ্টার কেনারও পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী জানান, নৌবাহিনীর ভবিষ্যত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আরও দুটি ফ্রিগেট, এমসিএমভি, সাবমেরিন রেসকিউ ভেসেল, লজিস্টিক শিপ, প্যাট্রোল ক্রাফট, ওশান টাগ, ফ্লোটিং ডক ইত্যাদি কেনা পরিকল্পনাধীন রয়েছে। বিমানবাহিনীর ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার, জহুরুল হক, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান এবং অগ্রবর্তী ঘাঁটি কক্সবাজারে চারটি এটিএস র্যাডার স্কোয়াড্রন স্থাপন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব র্যাডার স্কোয়াড্রনের সংস্থাপন প্রস্তাবগুলো ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল অনুমোদিত হয়েছে।
আওয়ামী লীগ বিএনপির পাল্টাপাল্টি যুক্তি
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বরাবরের মতো নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি করে আসছে বিএনপি, দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হতে দেবেনা দলটি। তবে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন তত্ত্বাবধায়ক কিংবা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নয়, সংবিধান অনুযায়ীই হবে আগামী নির্বাচন। এক্ষেত্রে নির্বাচন নিয়ে সংলাপের কোন প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেছেন দলটির নেতারা। গতকাল আলাদা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা এ মন্তব্য করেন। জাতীয় নেতা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ১০১ তম জন্মবার্ষীকি উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এবং উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু। এ সময় বক্তব্যে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন সংলাপের নামে আগামী নির্বাচন নিয়ে ঝড়যন্ত্র করছে বিএনপি। সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সংবিধান অনুযায়ী হবে আগামী নির্বাচন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, '১৯৯৫ সালে সংলাপ করেছি বিএনপির সঙ্গে, সংলাপ ব্যর্থ হয়ে গেছে। যতবার সংলাপ করা হয়েছে ব্যর্থ হয়ে গেছে। এই দেশের কোনো সংলাপ সফল হয়নি। সংলাপের নামে শুধু নাটক করা হয়েছে, অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা হয়েছে।' প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন ৭৫ এর মত আবারো ঝড়যন্ত্র করছে বঙ্গবন্ধ হত্যাকারীর দোষররা। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। এরআগে দুপুরে, জাতীয় প্রেসক্লাবে আরাফাত রহমান কোকোর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় অংশ নেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এসময়, বর্তমান সরকারের সমলোচনা করে, সহায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান রিজভী। এছাড়া, দুর্নীতির দায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা আটককে সরকার সাজানো নাটক বলে মন্তব্য রিজভী।
আগামীকাল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা
আসছে ২০ ফেব্রুয়ারি মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সাংবিধানিকভাবে যৌক্তিক বলে মনে করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। যদিও রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। এরিমধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে সংসদ সচিবালয়কে চিঠিও দিয়েছে ইসি। বৃহস্পতিবার কমিশনের ১৮ তম সভায় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে বলেও ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন এডভোকেট আবদুল হামিদ। সেই হিসেবে আসছে ২৩ এপ্রিল শেষ হচ্ছে তার মেয়াদকাল। আর সংবিধান বলছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। যেহেতু বর্তমানে, সংসদের একটি অধিবেশন চলমান রয়েছে, পরবর্তী অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই পার হয়ে যেতে পারে নির্বাচনের সময়কাল। তাই আসছে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সাংবিধানিকভাবে যৌক্তিক বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদিন মালিক বলেন, '৯০ থেকে ৬০ দিনের হিসেবে হলো ২৩ জানুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি। ২১ ফেব্রুয়ারি আবার সরকারি ছুটির দিন। তার আগেই ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন করতে হবে। সংসদের দু অধিবেশনের মধ্যে দু'দিন বা পাঁচ'দিন বিরতি থাকতে পারে। তবে যৌক্তিক হবে এ অধিবেশনে নির্বাচন করে ফেলা।' রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে থাকেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আর ভোট দিতে পারবেন শুধুমাত্র সংসদ সদস্যরা। সংবিধান বলছে, একাধিক প্রার্থী হলে সংসদ অধিবেশন চলাকালে অধিবেশন কক্ষেই অনুষ্ঠিত হতে হবে রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন। তাই এরিমধ্যে ভোটার তালিকা চেয়ে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যেকোনো সময় নির্বাচন করার প্রস্তুতির কথাও জানালেন এই কমিশনার। আসছে বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।' নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, 'বিধিবিধান গুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি। ভোটার তালিকা অর্থাৎ সংসদ সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। স্বাধীনতার পর থেকে ২০ মেয়াদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির আসনে বসেছেন ১৭ জন। নির্বাচন যখনই হোক, ২১ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে যিনি নির্বাচিত হবেন, শপথের জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হবে আসছে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত। আর মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি।
আজ ভোলায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
দুই দিনের সরকারি সফরে আজ ভোলায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। এ উপলক্ষে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে দ্বীপজেলা ভোলার চরফ্যাশন ও বাংলাবাজারে। বুধবার দুপুরে হেলিকপ্টারে করে চরফ্যাশনে যাবেন রাষ্ট্রপতি। পরে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আধুনিক ও সুউচ্চ জ্যাকব টাওয়ার, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ এবং টিচার্স টেনিং কলেজের নব নির্মিত ভবন উদ্বোধন করবেন তিনি। বুধবার বিকেলে টিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সুধী সমাবেশে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। পরদিন সকালে চরকুকরি মুকরিতে পর্যটন কেন্দ্র ও ইকোপার্ক এবং বাংলাবাজারে স্বাধীনতা জাদুঘর উদ্বোধন করবেন তিনি।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তারেকের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু
স্পর্শকাতর ও বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় পলাতক আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে। পলাতক আসামি তারেক রহমানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এ কে এম আখতার হোসেন যুক্তিতর্কে বলেন, মামলার এজাহার প্রথম অভিযোগপত্র, বিভিন্ন জিডিতে আসামি তারেক রহমানের নাম ছিল না। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার সময় তারেক রহমান কোন ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন না। ওই সময় তারেক রহমান বিএনপি এবং চার দলীয় জোট সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ের কেউ ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি আসামিদের প্রশাসনিকভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এ মামলার কোন সাক্ষীই আশ্বাসের কথা বলেননি। কোন সাক্ষীই নিজেদের সাক্ষ্যে তার নাম বলেননি। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে। এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তারেক রহমান জড়িত রাষ্ট্রপক্ষ তার সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তারেক রহমান তার তৎকালীন কার্যালয় বনানীর হাওয়া ভবনে ষড়যন্ত্র বৈঠক করেছেন তাও প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি। ওই বৈঠকের আলোকে হামলাকারীদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এ মামলায় কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়ানো হয়নি। অপরাধের সম্পৃক্ততার ভিত্তিতেই ঘটনায় জড়িতরা মামলার আসামি হয়েছেন। মামলার কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এ আদেশ প্রদান করেছেন। সোমবার ছিল এ মামলার যুক্তিতর্কের ৩৪তম দিন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান, এ্যাডভোকেট আকরাম উদ্দিন শ্যামল, এ্যাডভোকেট মোঃ আমিনুর রহমান, এ্যাডভোকেট আবু আব্দুল্লাহ ভুঞা, এ্যাডভোকেট আবুল হাসান জিহাদ। গত ১৭ জানুয়ারি মামলার আসামি মাওলানা আব্দুল হান্নান ওরফে সাব্বিরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী মঈদুদ্দিন মিয়া। তিনি সোমবারও সাব্বিরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। এ আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তার খালাসের আর্জি পেশ করা হয়। অন্যদিকে মামলার পলাতক আসামি বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এ কে এম আখতার হোসেন যুক্তিতর্কে বলেন, মামলাটির বিচারের সময় ৬১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পর এক আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার পুনর্তদন্তের আদেশ হয়। পুনর্তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল কাহ্্হার আখন্দের দাখিল করা সম্পূরক অভিযোগপত্রে তারেক রহমানকে সম্পৃক্ত করা হয়। যেখানে বলা হয়, ২১ আগস্ট হামলাকারীদের ঘটনা বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারেক রহমান। আইনজীবী যুক্তিতর্কে দাবি করেন, ওই সময় তারেক রহমান বিএনপি এবং চার দলীয় জোট সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ের কেউ ছিলেন না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল জানান, আসামি আবদুল হান্নান ওরফে মাওলানা সাব্বির রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলায় যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত। এর আগে গত ১ জানুয়ারি মামলার আসামিদের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করা হয়। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান আইনী পয়েন্টে যুক্তিতর্কে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনায় আনা মামলার তারেক-বাবরসহ ৪৯ আসামির সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছেন। মামলার সকল আসামির বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ স্বতন্ত্র, নিঃস্বার্থ, দালিলিক ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষীদের দ্বারা দেয়া সাক্ষ্যে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার প্রার্থী মানুষের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে আইনের বিধানের আলোকে আসামিদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করছি। এর আগে চার কার্যদিবসে পলাতক আসামি মাওলানা লিটন ওরফে জুবায়েরের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মোঃ আবদুল বাতেন, পলাতক আসামি মুফতি সফিকুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী মাজহারুল কুদ্দুস, পলাতক আসামি মোঃ ইকবালের পক্ষে আইনজীবী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম, পলাতক আসামি মাওলানা তাজউদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী আশরাফুল আলম, পলাতক আসামি জাহাঙ্গির আলম বদরের পক্ষে আইনজীবী সাইদুল হক, রাতুল আহমদ বাবুর পক্ষে এ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, মহিবুল মোত্তাকিনের পক্ষে এ্যাডভোকেট হালিমা আক্তার, হানিফ পরিবহনের মালিক মোঃ হানিফের পক্ষে আইনজীবী চৈতন্য চন্দ্র হালদার, পলাতক মোঃ খলিলের পক্ষে এ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান খান, বিএনপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের পক্ষে এ্যাডভোকেট আশরাফ-উল আলম, বিএনপি নেতা পলাতক হারিছ চৌধুরীর পক্ষে এ্যাডভোকেট আবু তৈয়ব ও পলাতক আনিসুল মোরসালিনের পক্ষে এ্যাডভোকেট সাখাওয়াৎ হোসেন, আসামি মুন্সি মুহিবুল্লাহ ওরফে অভির পক্ষে তার আইনজীবী সাইফুর রশিদ সবুজ ও পলাতক আসামি মুফতি আবদুল হাইয়ের পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবুল কালাম। আসামিপক্ষের এ আইনজীবীরা তাদের মোয়াক্কেলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি দাবি করে আসামিদের খালাসের আর্জি পেশ করেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়। ২১ আগস্টের ওই নৃশংস হামলায় পৃথক দুটি মামলায় মোট আসামি ৫২ জন। মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী, লে.কমান্ডার (অব) সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডির সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডির সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ মোট ৮ জন জামিনে রয়েছেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল (এলপিআর) এটিএম আমিন, লে. কর্নেল (অব) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারসহ ১৮ জন এখনও পলাতক। এছাড়া ৩ জন আসামি জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
আসন্ন নির্বাচনের আগে মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকা সব কাজ শেষ করার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
আসন্ন নির্বাচনের আগে মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকা সব কাজ সম্পন্ন করতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগেও তিনি এই নির্দেশ দেন। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোন মন্ত্রণালয়ে কয়টি কাজ পড়ে আছে তা জানতে চান তিনি। এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রীরা তাদের মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকা কাজ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। কোন কাজ কেন পড়ে আছে তাও ব্যাখ্যা করেন কোন কোন মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী পড়ে থাকা সকল কাজ আগামী জুনের মধ্যে সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া গত বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) মন্ত্রিসভায় নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এর আগের বছর একই সময়ে এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। মন্ত্রিসভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম এবং একটি বিশেষ সিলমোহর উন্মোচন করেছেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সংস্কার ও সমন্বয়) এন এম জিয়াউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, গত বছরের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) মন্ত্রিসভায় নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এর আগের বছর একই সময়ে এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। সচিব বলেন, গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮টি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ৬৮টি। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে ৫৩টি। ১৫টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অপরদিকে ২০১৬ সালের একই সময়ে ১০টি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়েছে জানিয়ে সংস্কার ও সমন্বয় সচিব বলেন, ওই সময়ে সিদ্ধান্ত হয় ১১৬টি। এর মধ্যে ৮০টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নাধীন ছিল ৩৬টি। বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। জিয়াউল আলম জানান, গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে একটি নীতি বা কর্মকৌশল এবং ৮টি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছে। এ সময়ে সংসদে আইন পাস হয়েছে ৩টি। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৫টি নীতি বা কর্মকৌশল এবং ৫টি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছে। এ সময়ে সংসদে ১১টি আইন পাস হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯ ফেব্রুয়ারি: আইনমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতি পদে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটে সংসদের চলতি ১৯তম অধিবেশনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন হবে। জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক । বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হবে এ বছরের ২৩ এপ্রিল। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সরকারকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের সদস্যরা রাষ্ট্রপতির নির্বাচনে প্রকাশ্য ভোট দেবেন। প্রকাশ্য ভোট গণনাও হবে। ওই দিন বেলা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী হলে ভোটের প্রয়োজন হবে না। একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোট হবে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীরা সমান ভোট পেলে লটারি হবে। নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদই আবারও রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, এমন খবর নাকচ করছেন কি না? উত্তরে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, এটা নাকচও করছি না, নিশ্চিত করছি না। আইন অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি (বুধবার) থেকে শুরু হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষণগণনা। ওই দিন থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২৩ এপ্রিল শেষ হবে। আর সংবিধান অনুযায়ী মেয়াদ অবসানে পূর্ববর্তী নব্বই থেকে ষাট দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী ৯০ হতে ৬০ দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর