গোপন ফোন নম্বরে হত্যার পরিকল্পনা করে মিন্নি
২২জুলাই২০১৯,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: একটি গোপন মুঠোফোন নম্বরে নয়ন বন্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে রিফাতকে শিক্ষা দিতে বলেন আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা বলেছেন বরগুনার নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। স্বীকারোক্তিতে মিন্নি আরও জানান, ওই নম্বরে শুধু নয়ন বন্ডের সঙ্গেই কথা বলতেন তিনি। মুঠোফোন নম্বরটি ক্রসফায়ারে নিহত নয়নের মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা। এমনকি রিফাত হত্যা হওয়ার পরও ওই নম্বরে নয়নের সঙ্গে মিন্নির দীর্ঘ সময় ধরে ফোনালাপ হয়। হত্যার পর পলাতক থাকা নয়নকে মিন্নি বলেন,তুমি তো রিফাতরে কোপাইয়া মাইরা ফালাইছ। এখন তো তুমি ফাঁসির আসামি হইবা।হত্যার ঘটনার আগে-পরে এসব কথাবার্তার ভয়েস রেকর্ড ও কললিস্ট সিডি আকারে মামলার নথিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুলাই) বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম গাজীর খাসকামরায় এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডকালে বিচারক ও মিন্নি ছাড়া আর কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আড়াই পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে রিফাত হত্যার বিবরণ দেন মিন্নি। পুলিশের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র রবিবার (২১ জুলাই) গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে। তবে আদালতে দেওয়া এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাখ্যান করেছে মিন্নির পরিবার। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর রবিবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন,আহা রে এই হল দুনিয়া। আমার মেয়েটারে মারধর করে জবানবন্দি নিয়েছে পুলিশ। জেলখানায় যখন আমি কথা বলতে গেছি তখন মেয়েটা আমার কান্নায় ভেঙে পড়ে। বলেছে,বাবা পুলিশ আমাকে যা শিখিয়ে দিয়েছে তাই বলেছি। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। স্বামীকে আমি কেন হত্যা করাতে যাব। তিনি বলেন, ১২ ঘণ্টা পুলিশ লাইনে বসিয়ে রেখে আমার মেয়েকে প্রচুর মারধর করা হয়। যখন আদালতে তোলা হয় তখন আমার মেয়ে ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতেও পারছিল না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন রবিবার গণমাধ্যমকে বলেন,মিন্নির পরিকল্পনায় রিফাত শরীফ হত্যা হন। তিনি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সব স্বীকার করেছেন। গোপন ফোন নম্বরে হত্যার পরিকল্পনা করে মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মিন্নি বলেন, ছয় লাখ টাকা কাবিনে ২০১৮ সালের অক্টোবরের ১৫ তারিখে নয়ন বল্ডের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। নয়ন বন্ডের মা সাহিদা বেগমসহ অনেকেই এই বিয়ের বিষয়টি জানতেন। কিন্তু মিন্নি বিয়ের বিষয়টি গোপন রেখে পরে রিফাত শরীফকে বিয়ে করেন। রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়ন বন্ডের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। কলেজে গিয়ে কলেজের দেয়ালের নিচ দিয়ে তিনি নয়নদের বাড়িতে প্রায়ই যেতেন। জবানবন্দিতে মিন্নি বলেন, নয়নের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েও পারেননি। কারণ মিন্নির একটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও নয়নের কাছে ছিল। এছাড়া চলতি বছরের ০৩ জুন নয়ন বন্ড গ্রুপের সদস্য হেলালের মুঠোফোন সেট জোর করে নিয়ে যায় রিফাত শরীফ। এ নিয়ে নয়ন বন্ডের সঙ্গে রিফাতের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নয়ন বন্ড মিন্নিকে বলেন, রিফাতকে ফোন ফিরিয়ে দিতে বল। না হলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। হত্যার ঘটনার দুদিন আগে রিফাতকে মিন্নি বলেন, তুমি হেলালের ফোন ফেরত দাও। একথা শুনে রিফাত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। নয়নের সঙ্গে মিন্নির যোগাযোগ আছে কিনা জানতে চেয়ে মিন্নিকে প্রচণ্ড মারধরও করে রিফাত। এতে মিন্নি রিফাতের ওপর ক্ষুব্ধ হন। পরদিন নয়নের কাছে রিফাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন এবং শিক্ষা দিতে বলেন। এরপর নয়ন তাকে শিখিয়ে দেন, কোথায় কিভাবে রিফাতকে নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। কথা অনুযায়ী মিন্নি ঘটনার দিন রিফাতকে কলেজে এসে তাকে নিয়ে যেতে বলেন। রিফাত এলে তাকে সঙ্গে নিয়ে কলেজ থেকে বের হন মিন্নি। কিন্তু তখনো নয়ন বন্ডের লোকজন প্রস্তুত না হওয়ায় মিন্নি গোপন একটি ফোন নম্বর দিয়ে নয়ন বন্ডের নম্বরে ফোন করে বলেন,তোমার পোলাপান কই।এরপর নয়ন বন্ডের ছেলেরা আসার কিছুক্ষণ পরই মিন্নি রিফাতকে সঙ্গে নিয়ে কলেজ থেকে বের হন। এ সময় নয়ন বন্ডের সাঙ্গপাঙ্গরা তাকে ঘিরে ধরে। প্রথমে কিল-ঘুষি দেওয়ার পর এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করে। এদিকে মিন্নির মা মিলি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমকে জানান,আমরা শুরু থেকেই বলছি, শম্ভুর লোকজন এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এখন নিজেরা বাঁচতে মিন্নিকে ফাঁসাতে চাইছে। মিন্নি একেবারেই নির্দোষ। এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হমায়ুন কবির গণমাধ্যমকে বলেন, মিন্নি অনেকগুলো মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করতেন। এসব নম্বর ব্যবহার করে তিনি হত্যার আগে-পরে নয়ন বন্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে সিমগুলো তার নিজের নামে ছিল না। তিনি জানান, নয়ন বন্ড মাদক কারবারি ছিলেন। মিন্নির একটি ব্যাংক হিসাবে নয়ন বন্ডের মোটা অংকের টাকা রাখা আছে। ইতোমধ্যে এর প্রমাণও তারা পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ বলছে, মিন্নির জবানবন্দির প্রতিটি পর্যায়ের প্রমাণ সংগ্রহ করে তা মামলার নথিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে নয়নের সঙ্গে মিন্নির ফোনালাপের ভয়েস রেকর্ড, গোপন মুঠোফোন নম্বরের সিম, কল লিস্ট, ভিডিও ফুটেজ ও খুদেবার্তা বা এসএমএস। বরগুনা জেলার একজন পুলিশ কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, খুনের ঘটনার পর থেকেই মিন্নি সন্দেহের তালিকায় ছিলেন। কিন্তু সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মিন্নি রিফাতকে রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এমন দৃশ্য ভাইরাল হওয়ায় জনমত মিন্নির পক্ষে চলে যায়। এজন্য নিরাপত্তার নামে তাকে মূলত নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। তবে শেষমেশ পুলিশি জেরার মুখে তথ্যপ্রমাণ দেখেশুনে মিন্নি সব কিছু অকপটে স্বীকার করেন। এ সময় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। জুন মাসের ২৬ তারিখে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সিনেমা স্টাইলে প্রকাশ্য দিবালোকে রিফাত শরীফকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তোলে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যার সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ও মাদক কারবার নিয়ে বিরোধের জের ছিল। এ নিয়ে জনমনে নানা ধরনের অভিযোগও আছে।-আলোকিত বাংলাদেশ
মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহার ও চিকিৎসার আবেদন নামঞ্জুর
বরগুনা সদরে চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য আদালতে তলব এবং হাসপাতালে নিয়ে তার চিকিৎসা দেয়ার আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার (২২ জুলাই) বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী এ আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর আগে ১৬৪ ধারায় দেয়া মিন্নির জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য তাকে আদালতে তলবের আজ বেলা ১১টার দিকে আবেদন করেন তার আইনজীবী ও জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল বারী আসলাম। এসময় আইনজীবী মিন্নি অসুস্থ বলেও দাবি করে তাকে উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়ার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর আবেদন করেন। দুটি আবেদনই নামঞ্জুর করেন আদালত। ১৬ জুলাই সকালে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশ লাইনসে নিয়ে যায় পুলিশ। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে মিন্নিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।- আরটিভি অনলাইন
মৎস্য ও পশু সম্পদ খাতে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ রাষ্ট্রপতির
২২জুলাই২০১৯,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে মৎস্য ও পশু সম্পদ খাতে সব ধরনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন। ১৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ- ২০১৯ উপলক্ষে বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রোববার তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, এই খাতে যারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে। আপনারা জলাশয়ে মৎস্য অবমুক্ত করাসহ সব ধরনের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবেন। মৎস্য খাতের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে এ খাত থেকে সুযোগ গ্রহণে রাষ্ট্রপতি হামিদ মৎস্য অধিদপ্তরসহ এ খাতে নিয়োজিত সকল সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী ও বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের উপর জোর দেন। মৎস্য খাত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাছের খাদ্য উপাদান নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেশকিছু নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছে। এতে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতি অসাধু লোকের জন্য যাতে এ খাতের সম্ভাবনা নষ্ট না হয় সেদিকে সংশ্লিষ্ট সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দেশের ভাবমূর্তি ও এই অপার সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতকে নষ্ট করছে। কিন্তু আপনারা জানেন যে মৎস্য ও পশু সম্পদ দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি বলেন, মৎস্য খাত দেশের আমিষের চাহিদার ৬০ শতাংশের যোগান দেয়। অধিকন্তু দেশের ১১ শতাংশের বেশি লোক জীবন ও জীবিকার জন্য এই খাতের উপর নির্ভরশীল। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক মাছ চাষের পাশাপাশি পরিবেশ ও জৈববৈচিত্র রক্ষায় আমরা জনগণকে সকল প্রজাতির মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করেছি। আব্দুল হামিদ বলেন, সম্প্রতি পাস্তুরিত দুধ নিয়েও ক্ষতিকারক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এতে ভোক্তাদের মাঝে পণ্য সম্পর্কে বিরূপ ধারণা সৃষ্টির পাশাপাশি প্রান্তিক চাষি ও উৎপাদনকারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের এই অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িত সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। রাষ্ট্রপতি মৎস্য আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য মৎস্যজীবী, মৎস্য চাষি, মাছ ব্যবসায়ী, উৎপাদনকারী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সকলের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির উপর জোর দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০৪১ ও ২০২১ বাস্তবায়নে যথাযথ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সঠিক ব্যবহার খুবই জরুরি। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু এমপি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ সচিব মো. রাইছুল আমল মন্ডল, মৎস্য বিভাগের ডিজি আবু সৈয়দ মো. রাশেদুল হক অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন।
ইউরোপের সাথে অর্থনৈতিক বিষয়েও জোর দিতে হবে
২১জুলাই২০১৯,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উন্নয়নের স্বার্থে ইউরোপের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতেও জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২০ জুলাই) বিভিন্ন দেশে নিয়োজিত ১৫ রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং স্থায়ী প্রতিনিধির সাথে সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। লন্ডনে আয়োজিত বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান এসব কথা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউরোপে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক প্রসার এবং দেশে বিনিয়োগে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করতে হবে। এছাড়া, কিভাবে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোতে দক্ষ জনশক্তি রফতানি করা যায় সেটাও লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক-কূটনৈতিক বিষয়ের বাইরেও আমাদের অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে।
প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার দুটি মামলাই খারিজ
২১জুলাই২০১৯,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। রোববার (২১ জুলাই) ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। পেনাল কোডের ১২৩ (এ), ১২৪ (এ) ও ৫০০ ধারায় মামলাটি আমলে নেয়ার জন্য ব্যারিস্টার সুমন আদালতে আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পরে মামলা খারিজের আদেশ দেন। এদিকে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে ঢাকার আদালতে করা অপর মামলাটিও খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। পেনাল কোডের ১২৩ (এ), ১২৪ (এ) ও ৫০০ ধারায় মামলাটি আমলে নেয়ার জন্য ব্যারিস্টার সুমন আদালতে আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পরে মামলা খারিজের আদেশ দেন। অন্যদিকে একই অভিযোগে ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী সদস্য ইব্রাহীম খলিল তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান নোমানের আদালতে দণ্ডবিধি ১২৪ (ক) ধারায় তিনি মামলাটি করেন। ইব্রাহীম খলিল পেনাল কোডের ১২৪ (এ) ধারা অনুযায়ী প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশ পরে দেবেন বলে জানান। বিকেলের দিকে এ মামলাটিও খারিজ করে দেন আদালত।
প্রিয়ার বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্রোহিতা দেখেন না আইনমন্ত্রী
২১জুলাই২০১৯,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর ওপরে নির্যাতনের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রিয়া সাহার দেয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্রোহীতা দেখেন না আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। রাজধানীতে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আজ রোববার বিচারকদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে ট্রাম্পকে যে তথ্যগুলো প্রিয়া সাহা দিয়েছেন তা সর্বৈব মিথ্যা, বিএনপি-জামায়াতের সময় ছাড়া বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এটা তার ব্যক্তিগত ঈর্ষা চরিতার্থের জন্য করেছে। এতে ছোট্ট ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহ হয়ে গেছে, তা মনে করি না। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু গুম ও নির্যাতনের মিথ্যা তথ্য দেয়ায় প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহের ২টি মামলার আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন। রোববার (২১ জুলাই) সকাল পৌনে ১১টায় ঢাকার মহানগর হাকিম জিয়াউল হাসানের আদালতে ব্যারিস্টার সায়্যেদুল হক সুমন ও ঢাকার মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির (বার) নির্বাহী সদস্য ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। ব্যারিস্টার সুমন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। ইব্রাহিম খলিল জানান, এরই মধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুপুর ১২টায় আদালতে মামলার বিষয়ে শুনানি হবে। তখন জানা যাবে, মামলাটি বিচারক আমলে নেবেন কি না। খলিল আরো জানান, প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া হয়েছে।
মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর
২১জুলাই২০১৯,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রিফাত হত্যা মামলায় ১ নম্বর সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২১ জুলাই) বরগুনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে জামিন আবেদন করেন এ মামলায় মিন্নির আইনজীবীরা। এ মামলার প্রধান আইনজীবী ও বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী আসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রিফাত হত্যা মামলায় মিন্নি পক্ষে বিস্তারিত শুনানি হয়েছে। আদালতে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ৪ জন প্রতিনিধি, ব্লাস্টে পটুয়াখালী ও বরিশাল প্রতিনিধিসহ বরগুনা আদালতের ৩০ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, রিফাত হত্যা মামলায় আজকে আমরা বিস্তারিত শুনানি করেছি। যেহেতু মিন্নি এখনো রিমান্ডে ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং রাব্বি-রিফাত ফরাজি দাবি করছে যে মিন্নি এর সঙ্গে জড়িত সে কারণে আদালত জামিন না মঞ্জুর করেছেন। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, কাল রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে আমি বরগুনার এমপির চেম্বারে যাই। তিনি কিন্তু একজন আইনজীবীও বটে। আমার সঙ্গে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন, সেখানে বাদী পক্ষের কেউ ছিল না। তবে অতিরিক্ত পিপি আকতারুজ্জামান বাহাদুর ছিলেন। সেখানে আমাদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কথা হয়েছে।
রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে প্রিয়ার বিরুদ্ধে দুই মামলা
২১জুলাই২০১৯,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য দিয়ে অভিযোগ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করায় বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে প্রথমে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। অন্যদিকে একই অভিযোগে ঢাকার মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালতে ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী সদস্য ইব্রাহীম খলিল তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। ইব্রাহিম খলিল জানান, আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুপুর ১২টায় আদালতে মামলার বিষয়ে শুনানি হবে। তখন জানা যাবে, মামলাটি বিচারক আমলে নেবেন কি না। উল্লেখ্য, গেল ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমন কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলেন। এতে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, স্যার, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। আর এখানকার ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান গুম হয়ে গেছে। দয়া করে আমাদের, বাংলাদেশের জনগণকে সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।

জাতীয় পাতার আরো খবর