রবিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৯
শাহজালালে ভারতীয় দুই যাত্রী আটক আড়াই কেজি সোনাসহ
ঢাকা কাস্টম হাউস হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভারতীয় দুই যাত্রীর কাছ থেকে দেড় কোটি টাকার ২ কেজি ৭৮৪ গ্রাম সোনা জব্দ করেছে । দুবাই-ঢাকা ইকে ৫৮৬ বিমানে আসা গুরজান্ট সিং ও অনীল কুমার নামে ভারতীয় দুই যাত্রীর কাছ থেকে বুধবার সকালে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়। ঢাকা কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ জানায়, দুবাই থেকে আসা যাত্রীর কাছ থেকে ২৪টি সোনার বার আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যাত্রীরা কাছে সোনা থাকার কথা অস্বীকার করে। পরে যাত্রীর ব্যাগ স্ক্যান করে ও শরীর তল্লাশি করে সোনার বারগুলো তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায়। সোনার বারের মোট ওজন ২ কেজি ৭৮৪ গ্রাম। যার বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আটক যাত্রীদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত পটিয়া
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ বুধবার চট্টগ্রাম আসছেন। বিকালে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আজ তিনি পটিয়ায় যাচ্ছেন। স্বাগত প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে পটিয়ার সর্বত্র সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত পটিয়া। ইতোমধ্যে মঞ্চ তৈরি ও হেলিপ্যাড নির্মাণ হয়েছে। জনসভাস্থল থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে খরনার জলুয়ারদীঘি পাড় এলাকায় বিলের মাঝখানে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি হেলিপ্যাড। তাঁর নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এ জনসভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের উন্নয়নে আরো এক গুচ্ছ প্রকল্প ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রীণ্ডএমনটা আশা করছেন পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসী। আজ বুধবার বেলা ২টা থেকে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (কলেজ মাঠ) এই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করবেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ। প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা গতকাল কর্মব্যস্ত দিন অতিবাহিত করেছেন। ৩ হাজারের অধিক পুলিশ সদস্য, আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন, রযাব, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সসহ (এসএসএফ) বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা জনসভাকে ঘিরে নিষ্ফিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছেন। আজ জনসভার চারদিকে শতাধিক সিসি টিভি ক্যামেরা ছাড়াও প্রবেশ পথে মেটাল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় সাদা পোশাকে পুলিশ দায়িত্বে থাকবে। সেনাবাহিনী ও রবের ডগ স্কোয়াড ঠিম গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সমাবেশস্থলে জনসভার মঞ্চ ও মাঠে তল্লাশি চালিয়েছে। জনসভার মাইক লাগানো, সার্ব ণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মাঠের পাশে জেনারেটরসহ বাড়তি বিদ্যুতের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ধুলোবালি থেকে রক্ষা পেতে দমকল বাহিনীর সদস্যরা গতকাল বিকালে মাঠে পানি ছিটিয়েছে। পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থার লোকজন পাশের বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থান নিয়েছেন। সমাবেশে ৫ লক্ষ লোকের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশস্থল ছাড়াও আশপাশের তিন কিলোমিটার এলাকা লোকে লোকারণ্য হবে বলে জানান তারা। জনসভায় যানজট নিরসনে বিকল্প রাস্তা হিসেবে চন্দনাইশ আনোয়ারা হয়ে আজ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী যানবাহন চলাচল করবে। আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নৌকার আদলে নির্মাণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার মঞ্চ। দুই হাজার চারশ বর্গফুট আয়তনের এই মঞ্চে ২০০ জনের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মঞ্চটি নির্মাণ করা হয়েছে নজরকাড়া। স্থানীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী জানান, এই মঞ্চে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি দক্ষিণ জেলার কার্যনির্বাহী কমিটির ৭০ জন নেতা এবং মহানগর ও উত্তর জেলার ২০ জন করে ৪০ জন নেতা মঞ্চে বসবেন। জনসভাস্থল এবং এর বাইরে পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে লাগানো হচ্ছে ১১০টি মাইক। জনসভাস্থলের বাইরে যারা থাকবেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তাদের সরাসরি দেখাতে লাগানো হয়েছে প্রজেক্টর। তবে জনসভাস্থলে নিরাপত্তার কারণে কোনো ব্যানার ফেস্টুন লাগানো হয়নি। পটিয়ায় জনসভা হলেও মহানগরের প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিট থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে জনসভায় গাড়ি যাবে বলে জানান নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি জানান, আনুমানিক ২০০ গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ ট্রেন, নৌকা ও সাম্পানেও মানুষ জনসভায় আসবেন। পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী ২০০১ সালে এসেছিলেন নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করতে। অবশ্য তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে এ মাঠে এসে জনসভা করেছিলেন। সেই কারণে প্রধানমন্ত্রীর জন্য পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠটি স্মৃতি বিজড়িত স্থান। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর সফর করেছেন এবং জনসভা করছেন। যেসব বিভাগীয় শহরে যাচ্ছেন সেখানে এক গুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন, উদ্বোধন করছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, জনসভার সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণে প্রস্তুত। দক্ষিণ চট্টগ্রামের মধ্যে পটিয়া রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে। ফলে পটিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনে একটি ভিন্নমাত্রা সৃষ্টি হয়েছে। এক কথায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভার জন্য যেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার নেওয়া হয়েছে। এ জনসভার প্রচার দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রতি ঘরে ঘরে করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০১ সালের পর দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি পটিয়ায় আসছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জনগণের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এ জনসভায় তিনি ৪১টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তুর ছাড়াও জনগণের দাবি দাওয়ার ভিত্তিতে আরো প্রকল্প দেবেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামে এ জনসভা গুরশুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আজকের জনসভায় কেউ ঘরে বসে থাকবে না। সবাই প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে ছুটে আসবে। এদিকে গতকাল জনসভার মাঠ পরিদর্শনে আসেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপহ্মব চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, এম এ লতিফ এমপি, সামশুল হক চৌধুরী এমপি, ইছহাক আলী খান পান্না এমপি, বদিউল আলম বদি এমপি, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দীন হাসান রিপন, শাহজাদা মহিউদ্দিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল আলম সোহাগ, মহানগর যুবলীগের সভাপতি মহিউদ্দিন বাচ্চু। শেখ হাসিনার পটিয়া সফরকে ঘিরে নানা জল্পনা কল্পনা শুরশু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী পটিয়াকে জেলা ঘোষণা করতে পারেন। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পটিয়াকে জেলা ঘোষনা করলেও অদৃশ্য কারণে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরণে পটিয়া ও দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার ৫ লক্ষ মানুষ প্রস্তুত রয়েছে। জনসভার সার্বিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। কেন্দ্রীয়, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগরের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ জনসভার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি দুই বার পটিয়ায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দেড় হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন কাজ করেছি। পটিয়ায় আরো ৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। জনগণ তাকে আবার সুযোগ দিলে তা বাস্তবায়ন করবেন। পটিয়া জেলা বাস্তবায়ন, দুটি স্কুল সরকারিসহ যেসব দাবি উঠেছে তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় রেখেছেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর হেলিপ্যাড এলাকা থেকে শুরু করে জনসভাস্থল পর্যন্ত পুলিশ ও আইনশৃংখলা বাহিনীর বিশেষ হিউম্যান ট্রেন তৈরি করা হবে। জনসভাস্থল ও আশপাশে এসএসএফ, পিজিডি, পোষাকি পুলিশ ও সাদা পোশাকের চারস্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হবে। সাথে থাকবে মোবাইল পার্টি। তাছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে ৫০টি উচ্চ মাত্রার ক্লোজ সার্কিট বসানো হবে। রাস্তায় ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে চন্দনাইশ থেকে ক্রসিং পর্যন্ত ৫শ ট্রাফিক পুলিশ দেওয়া হবে। জনসভার আশপাশে হাইরাইজ বিল্ডিংগুলোর উপর ও নিচে আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া সাদা পোশাকে থাকবে ৪৫ পুলিশ সদস্য। জনসভাস্থল পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ পরির্দশনে গিয়ে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও রূপালী ব্যাংকের পরিচালক আবু সুফিয়ান জানান, প্রধানমন্ত্রী কোথাও খালি হাতে যান না। যেখানেই যান হাত ভর্তি করে নিয়ে যান এক গুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প। পটিয়ায়ও প্রধানমন্ত্রী খালি হাতে আসবেন না। সেটা মনে করেন পটিয়া ও দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসী। প্রধানমন্ত্রী এই চট্টগ্রামকে অনেক কিছু দিয়েছেন। এখন চট্টগ্রামবাসীর উচিত প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া। সেটা হবে আগামী নির্বাচনে চট্টগ্রামের সবগুলো আসন প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়া। এদিকে নগরীর কর্ণফুলী সেতু চত্বর থেকে ২৭ কিলোমিটার পথ বেয়ে পটিয়া পৌরসভায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়ল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত রঙ বেরঙের ব্যানার আর মোড়ে মোড়ে তোরণ। ভাঙাচোরা সড়কে চলছে সংস্কার কাজ। রাস্তার দুই পাশের গাছপালায় রঙের ছোঁয়া। নগরীসহ কর্ণফুলী উপজেলা থেকে শুরু করে পটিয়ার প্রতিটি সড়ক, অলি গলিতে চলছে জনসভার মাইকিং। রাস্তার পাশে লাগানো মাইকে ভেসে আসছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ। উপজেলা জুড়ে উৎসবের আমেজ। রাস্তায় উৎসুক জনতার ভিড়। সবার চোখ পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী এবং দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী আজকের জনসভায় কালুরঘাট সেতুর দ্রুত নির্মাণ কাজ, চট্টগ্রাম কক্সবাজার রেললাইন দ্রুত বাস্তবায়ন, চট্টগ্রাম কক্সবাজার চার লাইনের মহাসড়ক, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ ঘোষণা, পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে গ্যাস সংযোগসহ আরো বেশ কয়েকটি প্রকল্পের ঘোষণা দিতে পারেন। দুই নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের চাওয়ার কিছু নেই। চাওয়ার আগেই তিনি চট্টগ্রামকে সবকিছু দিয়ে দিয়েছেন। বিশেষভাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামে টানেল হচ্ছে। এটি স্বপ্ন নয়, বাস্তব। দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারা পশ্চিম পটিয়া অংশে ইকোনমিক জোন হচ্ছে। মেরিন ড্রাইভ হবে। রেললাইন কক্সবাজার হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত যাচ্ছে। বাঁশখালী দিয়ে কক্সবাজারের বিকল্প সড়ক হবে। বহদ্দারহাট থেকে শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ পাড়ে চারলেনের কাজ হচ্ছে। মহানগরে যে ফ্লাইওভারগুলো হয়েছে, সেগুলো দক্ষিণ চট্টগ্রামের জন্যই হয়েছে। আরো অনেক কিছু করবেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামবাসীকে উন্নয়নের আরো সুখবর দিতে পারেন বলে ধারণা করছেন দলের নেতাকর্মীরা। মূলত চট্টগ্রামে ৫ বছর পর আজ বড় আকারের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৩ সালে সর্বশেষ চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রাজনৈতিক জনসভা করেছিলেন। ২০১২ সালে সর্বশেষ নগরীর পলোগ্রাউন্ড ময়দানে মহাসমাবেশে এসেছিলেন। চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ৬ ঘণ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে আজ প্রায় ৬ ঘণ্টা অবস্থান করবেন। পটিয়ার জনসভাকে কেন্দ্র করে মূলত প্রধানমন্ত্রীর আগমন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দাপ্তরিক পত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকা থেকে সকালে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে রওনা হবেন। আজ সকাল ১০টা ১০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঘাঁটি বানৌজা ঈসা খানে পৌঁছবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনএ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি বিএনএ ডকইয়ার্ডকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করবেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের উদ্বাধনসহ অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। বেলা আড়াইটা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে পটিয়ার সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। পটিয়ার সমাবেশে পৌঁছতে ১০ মিনিট সময় লাগবে। প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে ২টা ৪০ মিনিটে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুতকৃত হেলিপ্যাডে অবতরণ করার কথা উলেহ্মখ আছে। সেখান থেকে সমাবেশস্থলে যোগদানের পর বিকাল ৩টা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন ৪১টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিয়ে। এরপর তিনি সমাবেশে যোগ দেবেন। বিকাল ৪টা ২০ মিনিটের মধ্যে জনসভাস্থল ত্যাগ করবেন এবং হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় রওনা হবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব, সামরিক সচিবসহ এসএসএফের মহাপরিচালক, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব, ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং প্রধানমন্ত্রীর এডিসির আসার কথা রয়েছে।
বিশ্বমানের এয়ারলাইন্স হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বিমানকে
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল বলেছেন, বিমানকে বিশ্বমানের এয়ারলাইন্স হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মঙ্গলবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিমানের প্রধান কার্যালয় বলাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিমানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ যে ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে সে ধারাবাহিকতায় বিমানকেও বিশ্বমানের একটি এয়ারলাইন্স হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য তিনি সততা, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার জন্য বিমানের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। একেএম শাহজাহান কামাল বলেন, দেশের বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে আকাশপথের গুরুত্ব উপলব্ধি করেই জাতির জনক ১৯৭২ বাংলাদেশ বিমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ ক্যরিয়ার হিসেবে বিমানকে দেশের বাইরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই যাত্রী সেবা এবং পণ্য পরিবহনে বিমানকে তৎপর থাকতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী আকাশপথে যাত্রীর উল্লম্ফন ঘটেছে সেটা বিবেচনায় নিয়ে নতুন নতুন গন্তব্যে বিমানকে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নিতে হবে এবং এটি করতে পারলে জাতীয় অর্থনীতিতে বিমান আরো সক্রিয় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। সভায় বক্তব্য রাখেন বিমান ও পর্যটন সচিব এস এম গোলাম ফারুক, বিমান বোর্ডের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) ইনামুল বারী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিমানের এমডি মোসাদ্দিক আহমদ।
সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বুধবার
দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০১৮-১৯ সেশনের দু’দিনব্যাপী নির্বাচন বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে ওই রাতেই (বৃহস্পতিবার) ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ইতিমধ্যেই ভোটগ্রহণের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য বুথ করা হয়েছে আইনজীবী ভবনের শহীদ শফিউর রহমান অডিটরিয়ামে। এদিকে সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট ড. ইউনুস আলী আকন্দ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন উভয় প্যানেলের আইনজীবীরা। আইনজীবীদের রুমে রুমে যাচ্ছেন তারা। নির্বাচনে সভাপতি সম্পাদকসহ ১৪টি পদে মোট ৩৩ জন করছেন। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নির্দলীয় হলেও বরাবরের মতো এবারো সরকার ও বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত দুটি আলাদা প্যানেল করছে। মূলত এ দুটি প্যানেলের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ দুটি প্যানেল ছাড়াও বিভিন্ন পদে আরও পাঁচজন আইনজীবী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। সুপ্রিমকোর্টের সুপারিনটেনডেন্ট নিমেশ চন্দ্র দাশ বলেন, কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ১৪টি পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। মাঝে আধাঘণ্টার বিরতি থাকবে। এবারের নির্বাচনে ৬ হাজার ১৫২ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তিনি বলেন, গত ১ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়ন সংগ্রহ ও দাখিল এবং ১৪ মার্চ মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ ছিল। ২১ ও ২২ মার্চ দুই দিন ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে সভাপতি এবং শেখ মোহাম্মদ মোরশেদকে সম্পাদক করে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের একটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অপরদিকে বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক এম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল নামে আরেকটি একটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সরকার সমর্থক প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক পদে শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ, সহসভাপতি আলহাজ আলালউদ্দীন ও ড. মোহাম্মদ শামসুর রহমান, ট্রেজারার ড. মোহাম্মদ ইকবাল করিম, সহসম্পাদক মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক ও ইয়াদিয়া জামান, সদস্য ব্যারিস্টার আশরাফুল হাদী, হুমায়ুন কবির, চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, শাহানা পারভীন, রুহুল আমিন তুহিন, শেখ মোহাম্মদ মাজু মিয়া, মোহাম্মদ মুজিবর রহমান সম্রাট। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সভাপতি ও বর্তমান সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সম্পাদক, সহসভাপতি ড. মো: গোলাম রহমান ভুইয়া, এম গোলাম মোস্তফা, কোষাধ্যক্ষ নাসরিন আক্তার, সহসম্পাদক কাজী জয়নুল আবেদীন, আনজুমানারা বেগম, সদস্য ব্যারিস্টার সাইফুর আলম মাহমুদ, মো. জাহাঙ্গীর জমাদ্দার, মো. এমদাদুল হক, মাহফুজ বিন ইউসুফ, সৈয়দা শাহীনারা লাইলী, মো. আহসান উল্লাহ ও মোহাম্মদ মেহদী হাসান। এছাড়া আরো পাঁচজন বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হচ্ছেন, সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট ইউনুস আলী আকন্দ ও শাহ খসরুজ্জামান, সহসভাপতি পদে মো. আব্দুল জব্বার ভুইয়া, সম্পাদক পদে আলহাজ মোহাম্মদ আবুল বাসার, ও সদস্য পদে তাপস কুমার দাস। আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীদের সাদা প্যানেল ও বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেলের মধ্যে হবে। এ দুটি প্যানেলের সভাপতি ও সম্পাদক প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, ২০১৭-১৮ সেশনের নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকসহ মোট ৮টি পদে জয়ী হয় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল)। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের মোর্চা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের (সাদা প্যানেল) পেয়েছিল ৬টি পদ। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষায় বর্তমান সরকার কাজ করছে। বিচার বিভাগের উন্নয়নের জন্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবীদের সব উন্নয়নে আমি অতীতেও কাজ করেছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকব। এ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সম্পাদক পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বিচার বিভাগ তলানিতে পৌঁছেছে। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে নজিরবিহীনভাবে প্রধান বিচারপতির পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন স্বাধীনভাবে কোনো বিচারক কাজ করতে পারছেন না। উচ্চ আদালত এবং নিম্ন আদালতে সর্বত্র এখনো এসকে সিনহা ভীতি কাজ করছে। এজন্য বিচারকদের সাহস জোগানোর প্রয়োজন আছে। তিনি বলেন, অতীতে বিচার বিভাগের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য কাজ করেছি। ভবিষ্যতেও কাজ করার চেষ্টা করব। সুপ্রিমকোর্টে আইনজীবীদের কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করব। এদিকে সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট ড. ইউনুস আলী আকন্দ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি বলেন, গত সোমবার সুপ্রিমকোর্টে প্রার্থী পরিচিতি সভায় তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তালিকায় এক নম্বরে থাকলেও বক্তৃতায় সুযোগ দেয়া হয়েছে সবার শেষে। বক্তৃতার সময় সবাই আসন ছেড়ে চলে গেছেন। সভাপতি প্রার্থী অন্যদের মঞ্চে বসার ব্যবস্থা করলেও তাকে বসার জায়গা দেয়া হয়েছে দর্শকসারিতে।
বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও গর্জন করে বিরোধী দলে থাকলেও গর্জন করে: ওবায়দুল কাদের
বিএনপি গর্জনের দল দাবি করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে অর্জনের পার্টি আর বিএনপি হচ্ছে গর্জনের পার্টি। তারা ক্ষমতায় থাকলেও গর্জন করে বিরোধী দলে থাকলেও গর্জন করে। বিএনপির চরিত্র হচ্ছে গর্জন করা। মঙ্গলবার সকালে বনানীতে দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করা গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকা হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলামের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আদালতের আদেশ নিয়ে যদি তারা প্রশ্ন তোলে, সেখানে আমাদের কী বলার আছে? তিনি বলেন, তারা তো আইন-আদালত কিছুই মানে না। রায় যদি তাদের বিরুদ্ধে যায় তা হলে বিএনপি নামক দলটি কখনও আদালতের রায় মেনে নেয়নি। তাই দেশবাসীকে বলতে চাই- যারা আদালতের রায়কে মানে না, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশটাকে কোথায় নিয়ে যাবে? আমরা আদালতকে সম্মান করি, কিন্তু বিএনপি বারবার আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছে বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।
দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির সকল প্রকার ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা প্রতিহত করতে জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, তারা দেশের স্বাধীনতা গণতন্ত্র ও উন্নয়নের শত্রু। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। সকলের মাঝে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সোমবার এখানে রাজবাড়ি মাঠে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া পযর্ন্ত প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারছে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, নতুন প্রজন্মকে অবশ্যই স্বাধীনতা যুদ্ধে কার কি অবদান রয়েছে, সে সম্পর্কে জানতে হবে। খন্ডিত ইতিহাস কোন জাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারে না। তিনি বলেন, বিগত দিনে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক মিথ্যাচার ও তথ্য বিকৃতি হয়েছে। তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ১৯৭১ পরবর্তী প্রজন্মকে মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস শিক্ষা দেয়ার অপচেষ্টা করেছে। তারা সবকিছু জেনে শুনেই করেছে। তারা বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভয় পায় বলেই এ সব করছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি মুক্তিযুদ্ধে তাদের পরাজয়ের যন্ত্রনা ভুলতে পারেনি। ফলে এই অশুভ শক্তি যখনই সুযোগ পায়, তখনি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতির পিতা তাঁর ভাষণে দেশের স্বাধীনতার ও মুক্তিযদ্ধের রূপরেখা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন। ভাষণে তাঁর অবর্তমানে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কেও তিনি পরিষ্কার দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে ৭ মার্চের ভাষণ হচ্ছে বাঙালীর মুক্তি সনদ। রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এবং স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণীয় দিন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে জয়দেবপুরে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। তিনি ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ গাজীপুরে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধে শহীদ নেয়ামত, মনু খলিফা, হরমতসহ সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, এই প্রতিরোধ সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের প্রস্তুতিকে বেগবান করেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে জনগণকে উৎসাহিত করেছিল। তিনি সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাশিত রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে অধিক গুরুত্ব দেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের একটি সুখি সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, মো. জাহিদ আহ্সান রাসেল এমপি, গাজীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান, নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট আজমত উল্লাহ্ খান এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জাহাঙ্গির আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান এম হুমায়ন কবির।
মন্ত্রিসভায় জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা-২০১৮র খসড়া অনুমোদন
যুদ্ধকালীন বা সংকটে সব আধা সামরিক বাহিনী ও সহায়ক বাহিনী থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর কর্তৃত্বে অপারেশনাল কমান্ডে- এমন বিধান যুক্ত করে জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা-২০১৮ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি ভেজাল সার বিক্রির শাস্তি বাড়িয়ে সার (ব্যবস্থাপনা) (সংশোধন) আইন-২০১৮ এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৮ ও বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট আইনের খসড়াও অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব বিষয়ের অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা তৈরি করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটি একটি ব্রডবেইজ (বিস্তৃত) নীতিমালা। সুনির্দিষ্টভাবে আইনের মতো নয়, নীতিমালা হওয়ায় জেনারালাইজ ফর্মে এটি আনা হয়েছে। এটি বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে দেয়া হয়েছে। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু একটি নীতিমালা দিয়ে গেছেন। সেটার ওপর ভিত্তি করে আরও বিস্তৃতভাবে নতুন নীতিমালাটি করা হয়েছে। এতে প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় সরকারের সাধারণ রূপরেখা বর্ণিত হয়েছে। সংকটকাল বা ক্রান্তিকাল ঠিক করবেন সরকার প্রধান। ক্রাইসিস বা যুদ্ধকালীন আধা সামরিক ও সহায়ক বাহিনী থাকবে সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ডে। যেমন বিজিবি, কোস্টগার্ড, বিএনসিসি, পুলিশ বাহিনী, আনসার, গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী অন্যান্য প্রতিরক্ষা দল ক্রান্তিকালীন সেনবাহিনীর সঙ্গে কাজ করবে। এ নীতিমালায় জাতীয় স্বার্থ, প্রতিরক্ষা মূলনীতি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, সামরিক ও বেসামরিক সম্পর্ক কী, গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক কী এ ধরনের বিভিন্ন বিষয় নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। এ প্রতিরক্ষা নীতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের প্রতিরক্ষা পরিবেশ সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করবে। এছাড়া এ দলিল সার্বিক পরিসরে প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের চলমান ও পরিকল্পিত সক্ষমতা এবং ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা দেবে। মুখ্য জাতীয় মূল্যবোধগুলো, জাতীয় লক্ষ্য ও প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্য, জাতীয় স্বার্থ, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষার মৌলিক বিষয়গুলো নীতিমালার মধ্যে আনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্থাৎ সশস্ত্র বাহিনীর মূল সক্ষমতা কী হবে, যুদ্ধকালীন সশস্ত্র বাহিনী কিভাবে মোতায়েন হবে এসব বিষয়ে নীতিমালায় বিস্তারিত বলা হয়েছে। শফিউল আলম বলেন, সামরিক ও অসামরিক সম্পর্ক কী হবে, সশস্ত্র বাহিনী ও নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক কী হবে এটা আরেকটা চ্যাপ্টারে বলা হয়েছে। গণমাধ্যমের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক কী হবে সেটাও ডিটেইল করা আছে। নীতিমালা অনুযায়ী সংসদ আগের মতোই প্রতিরক্ষা বিষয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করবে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা প্রতিরক্ষা বিষয়গুলো ডিল করবে। গণমাধ্যমের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সচেতন নাগরিক সশস্ত্র বাহিনীর সবচেয়ে ভালো বন্ধু। নিরাপত্তা সম্পর্কিত অনুমোদিত তথ্য দায়িত্বশীল প্রচারের মাধ্যমে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সুতরাং একটি বন্ধুপ্রতিম গণমাধ্যম-সামরিক সম্পর্ক অপরিহার্য। গণমাধ্যম-সামরিক সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এ দুটি প্রতিষ্ঠান জাতীয় সক্ষমতার উপাদান। উভয়ই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাড়ছে ভেজাল সার বিক্রির সাজা : ভেজাল সার বিক্রিতে সাজার মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন আইনের খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, আইনের ৮(১) ধারা লঙ্ঘনে বা ভেজাল সার বিক্রিতে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৩০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড ছিল। সেখানে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০০৬ সালের এ আইনের সংজ্ঞায় একটি শব্দ যুক্ত করা হয়েছে তা হল- আবশ্যকীয় উদ্ভিদ উপাদান, সংযোজনে পুষ্টির বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সংজ্ঞার ২ এর ২০ অনুচ্ছেদে মিক্সড ফার্টিলাইজার পরিবর্তন করে সুষম সার করা হয়েছে বা মিক্সড ব্যালেন্স ফার্টিলাইজার করা হয়েছে। এছাড়া আইনে জাতীয় সার প্রমিতকরণ কমিটি ১৫ সদস্য থেকে ১৭ সদস্য করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন : এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে এ প্রতিষ্ঠানটি রেজুলেশনের মাধ্যমে চলছে। এটার কোনো আইন ছিল না, এটিকে আইনে পরিণত করা হয়েছে। সরকার যেটুকু ঘোষণা করবে সেটুকু বরেন্দ্র এলাকা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বরেন্দ্র এলাকা বলতে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সব জেলাকে বোঝাবে। অর্থাৎ বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগ নিয়ে এ বরেন্দ্র এলাকা গঠিত হবে। সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন করে যে কোনো এলাকাকে বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট আইন, ২০১৮ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। রূপপুরে ভারতীয় পরামর্শক নিয়োগের চুক্তি : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজে ভারতীয় পরামর্শকের সেবা নেয়া সংক্রান্ত চুক্তির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) ও ভারতের গ্লোবাল সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার এনার্জি পার্টনারশিপের (জিসিএনইপি) মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এছাড়া সভায় পায়রা বন্দরের রাদনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল অ্যান্ড মেইন্টেন্যান্স ড্রেজিং কম্পোনেন্ট জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় মন্ত্রিসভার শোক : নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৫১ জন আরোহী এবং মুক্তিযোদ্ধা-ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১২ মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মর্মান্তিক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় ২৬ জন বাংলাদেশিসহ ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২০ জন। এ বিষয়ে বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রিসভা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে। এজন্য একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বনামধন্য ভাস্কর ও মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুতে মন্ত্রিসভা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। মন্ত্রিসভা বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতিপত্র পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম। বিশ্বে দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে জাতিসংঘে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করায় সোমবার মন্ত্রিসভা তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিক ইন্টারন্যাশনাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বে দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করায় তাকে অভিনন্দন জানানো হয়। অর্থনৈতিক অবস্থার তিনটি বিভাগেই স্থিতিশীলতার জন্য ১৫ মার্চ ইউনাইটেড নেশন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিপিডি) বাংলাদেশকে এই স্বীকৃতি দেয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল ও যোগ্য নেতৃত্বের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতা ও মানবিক মূল্যবোধের আন্তরিকভাবে প্রশংসা করেন। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক এক জরিপে যোগ্য নেতৃত্ব, রাষ্ট্রনায়ক, মানবতা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বিষয়ে বিশ্ব গণমাধ্যমে সর্বোচ্চ উপস্থিতির জন্য শেখ হাসিনাকে বিশ্বে দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতি দেয়া হয়। জরিপটিতে রোহিঙ্গা বিষয়ে ভূমিকা এবং তাদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সসম্মানে প্রত্যাবর্তনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সফল কূটনীতিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। জরিপে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গা ইস্যুটি বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে শেখ হাসিনা যেভাবে সফল হয়েছেন, খুব কম রাষ্ট্রনায়কই তা পারেন।
বিমসটেক হতে পারে উন্নয়নের বিকল্প সংস্থা:পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বিমসটেক দেশগুলোর মধ্যে সম্ভাবনা অপার জানিয়ে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উন্নয়নের একটি বিকল্প সংস্থা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী। মঙ্গলবার (২০ মার্চ) গুলশানে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল আ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) সচিবালয়ে 'বিমসটেক প্রতিষ্ঠার ২০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত কনফারেন্সে এ মন্তব্য করেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিমসটেক দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য মাত্র ৭ শতাংশ। এটি ২১ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। বিনিয়োগ ও জ্বালানি বিনিময়ে এ এলাকার উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বিমসটেক দেশগুলো। স্বাগত বক্তব্যে বিমসটেক মহাপরিচালক রাষ্ট্রদূত মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিমসটেক দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সেতু হিসেবে যোগাযোগের অতুলনীয় ভূমিকা রাখছে। কনফারেন্সে পাঠানো ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বক্তব্য পাঠ করেন তার প্রতিনিধি পিয়ুস শ্রীবাস্তব। বক্তব্যে সুষমা বলেন, বিমসটেক বিশ্বে এক পঞ্চমাংশ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুত সংস্থা। সন্ত্রাসবাদ এ এলাকার সবচেয়ে বড় হুমকি। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে লড়াই বিভিন্ন খাতে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান বিমসটেক সভাপতি নেপালের রাষ্ট্রদূত প্রফেসর ড. চোপ লাল ভুষাল বলেন, বিমসটেক এমন একটি সংস্থা যা দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে বিশেষ লাভবান করবে। সার্ক ও আসিয়ানের মতো সংস্থাগুলোর সাফল্য ও ব্যর্থতা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। বিমসটেক সাতটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯৭ সালে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাত দেশের জোট বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) গঠিত হয়। ব্যাংকক ঘোষণার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড এ উদ্যোগ নেয়; পরে মায়ানমার, নেপাল ও ভুটান যোগ দেয়। সহযোগিতার ক্ষেত্রও বেড়ে ১৪ সদস্যে দাঁড়িয়েছে। ২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে এটির প্রধান কার্যালয় স্থাপিত হয়।

জাতীয় পাতার আরো খবর