বাংলাদেশ-ভারত ৬ সমঝোতা স্মারক সই, ৩ প্রকল্প উদ্বোধন
০৫অক্টোবর,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকে তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন ও ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যৌথভাবে খুলনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইনজিনিয়ার্সে বাংলাদেশ-ভারত প্রফেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিআইপিএসডি); রামকৃষ্ণ মিশন, ঢাকায় বিবেকানন্দ ভবন উদ্বোধন ও বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় এলপিজি আমদানি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এর আগে শনিবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে পৌনে ২টার দিকে সমাপনী বক্তব্য রাখেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীর দীর্ঘস্থায়িত্ব কামনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ভবিষ্যতে যৌথ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশ্বে দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
১০ বছরে দেশে নতুন কোটিপতি ৫৭ হাজার
০৪অক্টোবর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে অস্বাভাবিক হারে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গত ১০ বছরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫৭ হাজার। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে এই সংখ্যা ছিলো ১৯ হাজার। চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ২৮৬ জন। দশ বছরে ৫৭ হাজারেরও বেশি মানুষ কোটিপতির তালিকায় নাম লেখানোকে বৈষম্যের উন্নয়ন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,দেশে কিছু মানুষ লুটপাট করার মধ্য দিয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। সংবিধান পরিপন্থী ও কল্যাণ অর্থনীতির নীতি থেকে সরে যাওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। বর্তমান অর্থনীতি জোর-জুলুমের নীতিতে চলছে। এর ফলে টাকাওয়ালাদের কাছে ব্যাংকিং খাত জিম্মি হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দশ বছরে এক কোটি টাকার ওপরে কিন্তু ৫ কোটি টাকার নিচে এমন ব্যক্তি নতুন করে তালিকায় নাম লেখিয়েছেন ৪৩ হাজার ৫৯৫ জন। ২০০৯ সালে এক কোটি টাকা আমানত রাখা ব্যক্তি ছিল ১৬ হাজার ৩৮৫ জন। আর ২০১৯ সালে এই সংখ্যা হয়েছে ৫৯ হাজার ৯৮০ জন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা। আর ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি ছিলেন মাত্র পাঁচজন। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে এই সংখ্যা বেড়ে ৪৭ জনে দাঁড়ায়। ১৯৮০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৮ জনে। এরশাদ সরকারের পতনের সময় ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৯৪৩ জন। ১৯৯৬ সালের জুনে কোটিপতি ছিলেন দুই হাজার ৫৯৪ জন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ১৬২ জনে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৮৮৭ জনে। ২০০৮ সালে ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ১৯ হাজার ১৬৩ জন। এ দিকে, কোটিপতি অ্যাকাউন্ট ও তাদের টাকার পরিমাণ বাড়লেও ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকার পরিমাণ বাড়েনি বরং তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। ২০১৮ সালের জুন শেষে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অ্যাকাউন্টে টাকার পরিমাণ রয়েছে মোট আমানতের পৌনে ৬ শতাংশ, যা ২০০৮ সাল শেষে ছিল ৩৬ শতাংশ। ক্ষুদ্র আমানতকারীদের আমানতের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ক্ষুদ্র আমানতকারীরা তাদের আয়ের সাথে ব্যয় সমন্বয় করতে পারছেন না। সব ধরনের পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। সেই সাথে বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। এর পাশাপাশি বেড়েছে বাসা ভাড়াসহ বিদ্যুতের দাম। সব মিলে জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। এর ফলে আগে একই আয় দিয়ে যে পরিমাণ পণ্য পাওয়া যেত, এখন তা দিয়ে কম পাওয়া যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো হচ্ছে রেশনিং করে অর্থাৎ, কম ব্যয় করে। আয়ের সাথে ব্যয় সমন্বয় করতে না পারায় তারা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। এতে গরির আরো গরিব হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সংখ্যা তুলনামূলক না বাড়ায় সম্পদের বণ্টন ঠিকভাবে হচ্ছে না। এতে গরিবরা আরো গরিব হচ্ছে। পাশাপাশি এক শ্রেণীর মানুষ সম্পদশালী হচ্ছে। এর ফলে সমাজে ধনী গরিবের বৈষম্য বেড়ে চলছে। এর কারণ হিসেবে তারা জানিয়েছেন, বিগত দুই বছরে ভোগ্যপণ্যের দাম সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। মানুষ আয়ের সাথে ব্যয় মেলাতে পারছে না। যে পরিমাণ আয় করছে সংসারের ব্যয় হচ্ছে তার চেয়ে বেশি। বাড়তি ব্যয় মেটাতে মানুষ তাদের সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে।
পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করুন: ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী
০৪অক্টোবর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ ও ভারত বর্তমানে সর্বকালের সেরা সম্পর্ক উপভোগ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ জনগণের পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করে এই অঞ্চলকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমি আপনাদের সকলকে প্লাটফর্মটির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে এবং আমাদের জনগণের পারস্পরিক বৃহত্তর স্বার্থে উভয় দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার অনুরোধ করছি এবং এর মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশ ও এই অঞ্চলকে আরও সমৃদ্ধ এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার এখানে আইসিটি মৌর্য হোটেলের কামাল মহল হলে ভারত-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের (আইবিবিএফ) উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন। আইবিবিএফের প্লাটফর্মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারত সবচেয়ে ভাল সম্পর্ক উপভোগ করছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আপনাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্লাটফর্মটি রয়েছে এবং আমরা আপনাদের প্রচেষ্টা সহজ করার জন্য সব ধরনের সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। প্রধানমন্ত্রী ভারতের ব্যবসায়ীদের বংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন,বেশ কয়েকটি হাইটেক পার্ক প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে। মংলা, ভেড়ামারা ও মিরেরসরাইয়ে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য তিনটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই তিনটি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের পর্যাপ্ত বিনিয়োগ আমাদের রফতানিযোগ্য খাতকে আরও প্রশস্ত করতে সহায়তা করবে। আমরা সারাদেশে একশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি, যার মধ্যে প্রায় ১২টি তৈরি হয়ে গেছে, যেখানে ৪টি অঞ্চল ৩টি দেশের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যোগ করেন তিনি। এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের গড়ে ওঠার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে এই অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমে ভারত, উত্তর দিকে চীন এবং পূর্বদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া- বাংলাদেশ ৪ বিলিয়ন মানুষের বাজারের মাঝামাঝি রয়েছে। বৈশ্বিক সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবৃদ্ধির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আমাদের সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশে বৈশ্বিক এফডিআইর ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থারই প্রতিফলন। সংসদের প্রাসঙ্গিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির দ্বারা বিদেশি বিনিয়োগকে সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা একসঙ্গে আরো বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ দেখতে চাই যেখানে ভারতীয় বড় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে শিল্প স্থাপন করতে এবং আমাদের মধ্যে বিদ্যমান উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলো এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে পণ্য রপ্তানি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন,আমরা জানি যে, বিশ্বের বেশিরভাগ বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির দেশগুলো তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতেই তাদের প্রাথমিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। একইভাবে ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতারা আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিতে খুব বড় ভূমিকা পালন করেতে পারেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বা সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব এবং এভাবেই আমরা আমাদের শহিদ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারি, বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে দেশে সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ নীতি বলবৎ থাকার বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন,দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে উদার বিনিয়োগের পরিবেশ বিরাজ করছে। যার মধ্যে রয়েছে- বৈদেশিক বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা, উদার রাজস্ব ব্যবস্থা, মেশিনপত্র আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়, আনরেসট্রিকটেড এক্সিট পলিসি, সম্পূর্ণ বিনিয়োগ ও পুঁজি নিয়ে চলে যাবার সুবিধাসহ নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা। প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের বিশাল জনসংখ্যা, যাদের বেশির ভাগের বয়স ২৫ বছরের কম, যারা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক মজুরিতে নিযুক্ত হতে প্রস্তুত রয়েছেসহ বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন,দ্রুত নগরায়নের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীদের বাজার সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করে। সন্ত্রাস এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,বাংলাদেশ ১৬২ মিলিয়ন জনসংখ্যা সমন্বিত একটি প্রগতিশীল ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাণিজ্যের ভারসাম্য যদিও এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষে রয়েছে। তিনি আরও বলেন,দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালে, বাংলাদেশে ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করে ভারত এবং বাংলাদেশ এই দেশটির আটতম বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। ভারতে আমাদের রপ্তানিও গত বছরের প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সুতরাং, অগ্রগতি দৃশ্যমান, তবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর করার অনেক সুযোগ রয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে বাংলাদেশে পেঁয়াজসহ যেকোনো পণ্যের রপ্তানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আগে থেকে জানানোর জন্য অনুরোধ জানান। তিনি হিন্দিতে বলেন, হঠাৎ করে আপনারা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছেন। আগে নোটিশ দিলে আমরা অন্য দেশ থেকে ব্যবস্থা করতে পারতাম। ভবিষ্যতে এমন কিছু করলে আগে জানালে ভালো হয়। শেখ হাসিনা তার বাসায় রাঁধুনিকে রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন বলেও রসিকতা করে জানান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ভারতের শিল্প ও রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী, ফেডাবেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, ভারতের কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) সভাপতি বিক্রম শ্রীকান্ত কিরলসকার, ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি সন্দীপ সোমনি অ্যাসোসিয়েটেড চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি অব ইন্ডিয়ার (এএসএসওসিএইচএএম) সভাপতি বালকৃষ্ণ গোয়েঙ্কা। অনুষ্ঠানে প্রতিশ্রুতিশীল বাংলাদেশ শীর্ষক একটি ভিডিও উপস্থাপনা পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে ভারতে শিল্প ও রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত এখন সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্ক উপভোগ করছে। তিনি সুসম্পর্কের এই সুবিধা গ্রহণ করে দুই দেশের মানুষের উন্নতির জন্য অর্থনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য খাতকে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
আজ থেকে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব
০৪অক্টোবর,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ক্ষণে ক্ষণে উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসর আর ঢাকের বাদ্যি জানান দিচ্ছে ঠাকুরঘরে উদ্ভাসিত মৃন্ময়ী রূপ প্রতিমাবরণ। চিন্ময়ী আনন্দরূপিণীর বোধন হয়েছে গতকাল। শুরু হয়েছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রাণের উৎসব, শারদীয় দুর্গোৎসব। আজ শুক্রবার মহাষষ্ঠী। রাত ৯টা ৫৭ মিনিট অবধি তিথি থাকবে। আগামীকাল শনিবার মহাসপ্তমী। মহাসপ্তমীর প্রভাতে ঢাক-ঢোলক-কাঁসর বাজিয়ে কলাবউ স্নান ও আদরিণী উমার সপরিবারে তিথি বিহিতপূজা। মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপচারে অর্থাৎ ১৬টি উপাদানে দেবীর পূজা হবে। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হবে। দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করবেন ভক্তরা। সপ্তমী পূজা উপলক্ষ্যে সন্ধ্যায় পূজামণ্ডপে ভক্তিমূলক সংগীত, রামায়ণ পালা, আরতিসহ নানা অনুষ্ঠান হবে। আলো-সানাই আর ঢাকের রোয়াবে হিন্দু নারী-পুরুষ-শিশু-কিশোরদের প্রাণ আনচান করছে। বাঙালি হিন্দুবিশ্বাসে, কৈলাসশিখর ছেড়ে পিতৃগৃহে আসা মা দুর্গার অকালবোধন হয়েছে। আকাশে-বাতাসে এখন শারদ উৎসবের বিন্দাস শিহরন। শিল্পী তার তুলির নিপুণ আঁচড়ে বর্ণাঢ্য বিভায় উদ্ভাসিত করে তুলেছে মহিষাসুর মর্দিনীকে। কুমারটুলি থেকে প্রতিমার অধিষ্ঠান হয়েছে মণ্ডপে। বোধনে খুলে গেছে তার আয়ত চোখের পলক। অসুর বধে চক্র, গদা, তির, ধনুক, খড়গ-কৃপাণ-ত্রিশূল হাতে মাতৃরূপেণ দেবী হেসে উঠেছেন। ধূপের ধোঁয়ায় আজ সায়ংকালে ঢাক-ঢোলক-কাঁসর মন্দিরার চারদিক কাঁপানো নিনাদ আর পুরোহিতদের জলদকণ্ঠে : যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা, নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ মন্ত্রোচ্চারণের ভেতর দূর কৈলাস ছেড়ে মা পিতৃগৃহে আসবেন ঘোটকে চড়ে। বিশুদ্ধ হিন্দু পঞ্জিকামতে ফল ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে। অর্থাৎ ঘোটকে আগমনে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংসারিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা প্রকাশ পাবে। সুদর্শন পঞ্জিকামতে, বিজয়া দশমীতে এয়োস্ত্রীদের দেবীবরণ ও সিঁদুর খেলার পর বিদায় নেবেন আবারও ঘোটকে করে। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মোড় থেকে মন্দির প্রাঙ্গণের দিকে এগিয়ে যেতে চোখে পড়ছে লাল-নীল আলোর চোখ ধাঁধানো খেলা। মন্দিরের প্রবেশ তোরণ থেকে মন্দির জুড়েই বর্ণিল আলোকের রূপবিন্যাস। বিশুদ্ধ পঞ্জিকামতে, আজ পূর্বাহ ৯-৫৭ মধ্যে ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ, সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের পর ষষ্ঠী তিথির সূচনা ঘটে। আজ রাত ৮টা ২৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড অব্দি তিথি থাকবে। অতঃপর শুরু হবে মহাসপ্তমী তিথি। কাল মহাসপ্তমীর প্রভাতে ঢাক-ঢোলক-কাঁসর বাজিয়ে কলাবউ স্নান ও আদরিণী উমার সপরিবারে তিথি বিহিতপূজা। সাধারণত আশ্বিন শুক্লপক্ষের ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে দশম দিন অর্থাৎ দশমী অবধি পাঁচ দিন দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে দুর্গাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। আবার সমগ্র পক্ষটি দেবীপক্ষ। দেবীপক্ষের সূচনা হয় পূর্ববর্তী অমাবস্যার দিন; এই দিনটি মহালয়া। অন্যদিকে দেবীপক্ষের সমাপ্তি পঞ্চদশ দিন পূর্ণিমায়; এই দিনটি কোজাগরি পূর্ণিমা নামে পরিচিত ও বার্ষিক লক্ষ্মীপূজার দিন। দুর্গাপূজা মূলত পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উৎসবের সূচনা ও কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় তার সমাপ্তি। কোনো কোনো পরিবারে অবশ্য ১৫ দিনে দুর্গোৎসব পালনের প্রথা আছে। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবার সারাদেশে ৩১ হাজার ৩৯৮ পূজামণ্ডপে দুর্গোত্সব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এবার পুলিশের এআইজির ব্যাংক হিসাব তলব
০৩অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এবার পুলিশের এআইজি মো. আনিসুর রহমান ও তার পরিবারের অর্থের খোঁজে নেমেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের সকল ব্যাংক হিসাব তলব করে ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট। জানা গেছে, একটি গোয়েন্দা সংস্থার অনুরোধে আনিসুর, তার স্ত্রী, বাবা ও মায়ের অ্যাকাউন্টে কী পরিমাণ লেনদেন হয়েছে সে তথ্যও চাওয়া হয়েছে। এর আগে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সব ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট থেকে ওমর ফারুক চৌধুরীর সব ব্যাংক হিসাব তলব করে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওমর ফারুক চৌধুরীর নামে থাকা সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন, বিবরণীর তথ্য তিন কার্যদিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির ঘটনায় এর আগেও কয়েকজন যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনেকের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধও (ফ্রিজ) করা হয়। ফ্রিজ করা হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ
০৩অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ শিকার, আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়, বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময়টা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। প্রতিবছরের মতো এবারো মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলায় সচেতনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, নদী, সাগরের মোহনায় ও হাটবাজারে মাইকিং, ব্যানার, পোস্টারিং, প্রচারপত্র বিতরণ, জেলেদের সঙ্গে মতবিনিময় ও উঠান বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে। প্রসঙ্গত, প্রতিবছর আশ্বিন মাসের প্রথম উদিত চাঁদের পূর্ণিমার আগের চারদিন, পরের ১৭ দিন এবং পূর্ণিমার দিনসহ মোট ২২ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা ২০১৭ সাল থেকে জারি রয়েছে। তবে ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ১১ দিন এবং ২০১৫ সালে এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ছিলো ১৫ দিন। নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করলে ১ থেকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে।
নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
০৩অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও কয়েকটি চুক্তি সম্পাদনের পাশাপাশি শেখ হাসিনা ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করবেন। আজ বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ০৮টা ১৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০৩০ ভিভিআইপি ফ্লাইটে নয়াদিল্লির উদ্দেশে তিনি রওনা হন এবং ভারতীয় সময় সকাল ১০টায় দিল্লি পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সফরকালীন আবাসস্থল তাজমহল হোটেলে যাবেন। ওইদিন শেখ হাসিনা দুপুরে তাজমহল হোটেলের দরবার হলে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ইন্ডিয়া ইকোনোমিক সামিট শীর্ষক কান্ট্রি স্ট্যাটিজি ডাগালগ অন বাংলাদেশ এ অংশগ্রহণ করবেন। একই দিন সন্ধ্যায় তিনি তার সম্মানে বাংলাদেশ হাই কমিশনের মৈত্রী হল ও বাংলাদেশ হাউসে আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে যোগ দেবেন। ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার নৈশভোজের আয়োজন করবেন। টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর শেখ হাসিনা এই প্রথম ভারত সফরকালে ৫ অক্টোবর নয়াদিল্লীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠকে বসবেন। তিনি একই দিনে ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী রাম নাথ কোবিন্দের সাথে রাষ্ট্রপতি ভবনে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর অবস্থানকালীন আবাসে সাক্ষাৎ করবেন। ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তিয়ানে আইসিটি মোরিয়ার ভারতীয় সিইওদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নিবেন। এছাড়াও তিনি আইসিটি মোরিয়ার কমল মহলে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম (আবিবিএফ)র উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং হোটেল তাজ প্যালেসের দরবার হলে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের সমাপনী অধিবেশনে যোগ দেবেন। সিঙ্গাপুরের উপ প্রধানমন্ত্রী হেং সুই কিয়েট বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। কর্মকর্তারা বলেন, নিউইয়র্কের ৭৪তম ইউএনজিএ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি যে ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন, হায়দ্রাবাদ হাউসের বৈঠকে তারা সেই ইস্যুগুলোই পর্যালোচনা করবেন। একই দিন, কয়েকটি এক্সচেঞ্জ অব এগ্রিমেন্ট ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে এবং হায়দ্রাবাদ হাউস থেকে দু দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে কয়েকটি প্রকল্প শুরু করবেন। এর আগে ওই দিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শংকর বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর অবস্থানকালীন বাসভবনে দেখা করবেন। শেখ হাসিনা একই দিন সরকারি মধ্যাহ্ন ভোজে যোগ দিবেন এবং হায়দ্রাবাদ হাউসে দর্শনার্থীদের বইয়ে স্বাক্ষর করবেন। ভারতের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগাল বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। তাকে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র তৈরির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ৬ অক্টোবর শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন।
রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেবে মিয়ানমার
০২অক্টোবর,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া সব রোহিঙ্গাকেই ন্যাশনাল কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মিয়ানমার বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বুধবার (২ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টায় রাজধানীর হোটেল লেক ক্যাসেলে আয়োজিত সহিংসতা ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে যুব সমাজের ভূমিকা: উত্তরবঙ্গ থেকে অভিজ্ঞতা শীর্ষক জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। ওইখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এ তিন দেশ মিলে একটি কমিটি করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ওই বৈঠকে মিয়ানমার বলেছে, সব রোহিঙ্গাকে ন্যাশনাল কার্ড দেবে। চীনও এতে সম্মত হয়েছে। যেটা আমাদের জন্য অত্যন্ত খুশির খবর। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার স্বীকার করেছে, তাদের ফরমে ভুল আছে। এটা সংশোধন করবে। যাচাই বাছাইয়ের পর তারা রোহিঙ্গাদের নাগরিক পরিচয়পত্র দিতেও রাজি হয়েছে। এটা একটা বড় অর্জন।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারি বেতন দিতে Rab মহাপরিচালকের প্রস্তাব
০২অক্টোবর,বুধবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: Rapid Action Battalion (Rab) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, আমার বিশ্বাস দেশের মসজিদগুলোয় নিয়োজিত ঈমাম ও মুয়াজ্জিনদের চাকরি সরকারি করা হলে সরকারের পক্ষে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ হবে। আজ বুধবার রাজধানীর হোটেল লেক ক্যাসলে সহিংসতা ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে যুবসমাজের ভূমিকা : উত্তরবঙ্গ থেকে অভিজ্ঞতা শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বেনজীর আহমেদ বলেন, অনেক চেষ্টার পরও সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সাধারণ বিবৃতি দিতে বাংলাদেশের ইসলামী নেতাদেরকে এক জায়গায় আনা যায়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, সব ইমামকে সরকারি চাকরির আওতায় আনা উচিত। তাহলে এটা সহজ হবে। তাহলে আমরা অনেক কিছুই করতে পারব। তিনি বলেন, ইসলামে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জুমআর খুতবায় ইমামরা কিছু বলেন না। আমরা দেখি তারা রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। ইমামরা রাজনীতি করতে চাইলে করেন, কিন্তু মসজিদকে ব্যবহার করবেন না। জাতীয় বাজেটের আকারের কথা তুলে ধরে Rab মহাপরিচালক বলেন, আমার মনে হয় মসজিদের সংখ্যা ৭ লাখের বেশি হবে না। তাদের বেতন দেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের আছে। এছাড়া জঙ্গিবাদ নির্মূলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে Rabর মহাপরিচালক বলেন, জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থাকে উৎসাহিত করতে ফেইসবুক, টুইটার ও ব্লগে লাখ লাখ বিষয়বস্তু ঘুরে বেড়াচ্ছে। এক্ষেত্রে ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হয়েছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর