টিভি মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল, হলো সহায়তা সেল
২৭মার্চ,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:সমালোচনার মুখে বেসরকারি টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমগুলো মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্তে গণমাধ্যমকে সহায়তায় একটি সেল গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যে গণমাধ্যমগুলো অপপ্রচার বা গুজব প্রচার রোধে বেসরকারি টেলিভিশনগুলোর খবর মনিটরিং করতে তথ্য মন্ত্রণালয় ১৫ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে বুধবার আদেশ জারি করেছে। এছাড়াও অনলাইন নিউজপোর্টালগুলো তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) মনিটরিং করবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। টিভি মনিটর নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের টিভি-২ শাখার আদেশে বলা হয়, ২৪ মার্চ কভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিহতকরণ প্রচার-প্রচারণা সংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভার সিদ্ধান্তের আলোকে বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোতে সম্প্রচারিত বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ে অপপ্রচার কিংবা গুজব প্রচার হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করার জন্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো বেসরকারি টিভি চ্যানেল করোনাভাইরাস সম্পর্কে অপপ্রচার কিংবা গুজব প্রচার হচ্ছে বলে চিহ্নিত হলে তা বন্ধ করতে সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। গণমাধ্যমে বৃহস্পতিবার ছুটির দিন এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ হলে গণমাধ্যমগুলোর কর্মীদের সমালোচনার মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তথ্য মন্ত্রণালয়। ওই নির্দেশনা বাতিল করে নতুন চিঠিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ (করোনা ভাইরাস) সংক্রমণ প্রতিরোধ সংক্রান্ত প্রচারণা বা গুজব মনিটরিং করার জন্য জারিকৃত পত্রে ভুলভ্রান্তি থাকায় তা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বাতিল করা হলো। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে কোভিড-১৯ (করোানা ভাইরাস) বিষয়ে কোনো গুজব বা ভুল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং প্রচার মাধ্যমকে সহায়তা করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ে একটি সেল গঠন করা হয়। গত ৮ মার্চ হতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪৪ জন রোগী সনাক্ত করা হয়েছে, আর মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।
ঢাকায় খোলা রাখা যাবে খাবার হোটেল তবে ,দোকানে বসে কেউ খেতে পারবে না
২৭মার্চ,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকায় খোলা রাখা যাবে খাবার হোটেল তবে দোকানে বসে কেউ খেতে পারবে না, প্রয়োজন হলে কিনে বাসায় নেয়া যাবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে রাজধানীসহ সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধসহ বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সুপারশপ, কাঁচাবাজার, মুদি দোকান, ওষুধের দোকান নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। বাংলাট্রিবিউন, প্রিয়ডটকম, বাংলানিউজ ২৪ ।ডিএমপি রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ যেন দু্র্ভোগে না পড়ে সেজন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার কথায়, করোনা প্রতিরোধে সব সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে হোটেল খোলা রাখা যাবে। তবে ভেতরে বসিয়ে খাবার পরিবেশনের সুযোগ নেই। ক্রেতারা শুধু পার্সেল নিয়ে যেতে পারবে। হোটেল মালিকরা খাবার তৈরি থেকে শুরু করে বিক্রি করার পুরো প্রক্রিয়া যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে করছেন কিনা, তাও তদারকি করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। শর্তসাপেক্ষে খাবারের হোটেল খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়ে চকবাজার থানার ওসি মওদুদ হাওলাদার বলেন, ওয়্যারলেসে নির্দেশনা পেয়েছি, খাবারের হোটেল খোলা থাকবে। তবে দোকানের ভেতরে বসিয়ে কাউকে খাওয়ানো যাবে না, শুধু পার্সেল দিতে হবে। ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিশ রিলেশন্স বিভাগ) মাসুদুর রহমান পার্সেলের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ক্রেতা সশরীরে হোটেলে এসে খাবার নিয়ে যেতে পারবে। হোটেল থেকে বাসায় বাসায় খাবার পৌঁছে দেয়ার সুযোগ থাকছে না । খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পার্সেল হিসেবে খাবার বিক্রির সুযোগ থাকার বিষয়টি এখন পর্যন্ত জানেন না অনেক মালিক। এ কারণে তারা হোটেল খুলছেন না। তাছাড়া ১০ দিন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা পেয়ে অধিকাংশ কর্মচারী ইতোমধ্যে ঢাকা ছেড়ে চলে গেছেন। ডিএমপির পক্ষ থেকে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত থাকলেও গতকাল রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার হোটেল বন্ধ ছিলো। এ প্রসঙ্গে ধানমন্ডি এলাকার বাসমতি কাচ্চির স্বত্বাধিকারী বাসুদেব সরকার বলেন, গত বুধবার থেকেই দোকান বন্ধ করে কর্মচারীদের ছুটি দিয়েছি। এমনিতেই করোনা আতঙ্কে কয়েকদিন ধরে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে, তাছাড়া ১০দিন সবকিছু বন্ধ। তাই এখন আমাদের বিক্রি আশানুরূপ হবে না। খাবারের হোটেল খোলা রেখে শুধু পার্সেল দেয়ার কোনও সুস্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় বেশিরভাগ মালিক দোকান বন্ধ রেখেছেন বলে মন্তব্য এ ব্যবসায়ীর। তবে ডিএমপির পক্ষ থেকে সত্যিই খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে সব নিয়ম মেনে আবারও দোকান খুলতে চান তিনি। এদিকে করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ সবাইকে ঘরে অবস্থান করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী ৪ এপ্রিল সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো ভিন্ন পরিবেশে স্বাধীনতা দিবস
২৭মার্চ,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:ছিল না লাখো মানুষের ঢল, ফুলের স্তূপ। শিশু থেকে বৃদ্ধ কাউকে ব্যানার হাতে দাঁড়িয়েও থাকতে দেখা যায়নি। অনেকটা সুনসান নীরবতা। ফাঁকা। এ এক অচেনা পরিবেশ। ভিন্ন আবহ। গতকাল মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এমন পরিবেশই ছিল সাভার স্মৃতিসৌধ এলাকায়। প্রতি বছর এই দিনে জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে লাখো মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো করোনা সতর্কতার কারণে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি বাতিল করা হয়। শুধু সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ নয় একই চিত্র ছিল গোটা বাংলাদেশে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এক ভিন্ন পরিবেশে পালিত হলো স্বাধীনতার ৪৯তম বার্ষিকী। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোসহ সকল জাতীয় কর্মসূচি বাতিল করা হয়। আওয়ামী লীগও এর আগে স্বাধীনতা দিবসের সকল কর্মসূচি বাতিল ঘোষণা করে। কর্মসূচি বাতিল করে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও। স্বাধীনতার ৪৯তম বার্ষিকীতে এবার ভিন্ন ইমেজ ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। করোনার কারণে জাতির পিতার জন্মশতবর্ষের কর্মসূচিও কাটছাট করা হয়েছে। এবার গোটা বিশ্বের মতো অদৃশ্য এক শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে বাংলাদেশও। করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করায় কার্যত লকডাউনে আছে দেশ। এমন অবস্থায় বিজয় দিবসের কর্মসূচি না থাকলেও মহান বীর শহীদ স্মরণ করা হয়েছে গভীর শ্রদ্ধায়। ফাঁকা স্মৃতিসৌধ: এদিকে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল স্মৃতিসৌধে আসেনি কেউ। করোনা সতর্কতার কারণে ফুল ও ব্যানার হাতে ছিল না লাখো জনতার ঢল। একেবারে ফাঁকা ছিল সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ। রাষ্ট্রীয় সকল আনুষ্ঠানিকতা সরকারিভাবে স্থগিত করা হয়েছে আগেই। তবে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ধোয়া মোছা ও রংতুলিসহ সকল কার্যক্রম করা হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে লোক সমাগম নিষেধ থাকায় স্মৃতিসৌধে কোন নেতাকর্মী বা কোন সংগঠন ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেনি। প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসে রাষ্টী্রয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতো সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে। দিবসটি উপলক্ষে সকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন স্মৃতিসৌধে। এরপরই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢল নামতো সাধারণ মানুষের। এদিকে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সকালে সাভার উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় সঙ্গীত এর মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। এসময় তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস রোধে বর্তমান সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের কোন মানুষ না খেয়ে থাকবে না। ইতিমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের সকল অসহায় ও দুস্থদের মাঝে চালসহ নগদ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। পরে প্রতিমন্ত্রী করোনা ভাইরাস রোধে সাভারের থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পানি দিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। মন্ত্রীর সঙ্গে এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান, সাভার মডেল থানার ওসি এ এফ এম সায়েদসহ আরো অনেকে।
পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান বিজিএমইএ র
২৬মার্চ,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:শ্রমিকদের সুরক্ষায় পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি রুবানা হক। আজ রাতে এক বার্তায় কারখানা মালিকদের এ অনুরোধ জানান তিনি। কারখানা মালিকদের উদ্দেশে রুবানা হক বলেন, মহান স্বাধীনতা এবং জাতীয় দিবস উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবাইকে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। সবার সুরক্ষার এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য কিছু সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিতে বলেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করে সর্ববৃহৎ শিল্প হিসেবে আমাদের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত। এ অবস্থায় কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে আশা করি। সরকারের সাধারণ ছুটির সময়ে কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে রুবানা হক বলেন, তবে কেউ চাইলে কারখানা খোলা রাখতে পারবেন। পিপিই ও মাস্ক তৈরি হচ্ছে এমন কারখানাগুলো খোলা থাকবে বলে জানা গেছে। খোলা রাখা কারখানাগুলোকে শ্রমিকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি।
করোনায় আক্রান্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দপ্তরের এক কর্মকর্তা
২৬মার্চ,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দপ্তরের এক কর্মকর্তা। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে যেতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদিকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে দেশে নতুন পাঁচজন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানান রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা। জানা গেছে, ওই পাঁচজনের একজন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বিষয়টি এড়িয়ে যান। গতকালই প্রথম আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, বাংলাদেশে সীমিত পরিসরে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে। অর্থাৎ এর আগে শুধু বিদেশফেরত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা আক্রান্ত হলেও এখন সমাজে ছোট পরিসরে রোগটি ছড়িয়েছে। দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৪। এর মধ্যে ১১ জন সুস্থ হয়ে গেছেন। মারা গেছেন পাঁচজন। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে আইইডিসিআর।সময় টিভি ।
আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজে মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি সীমিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে ইফাবার
২৬মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজে মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি সীমিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমীন জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশের বিশিষ্ট আলেম-উলামাদের পরামর্শ অনুযায়ী আগামীকালের জুমাসহ সব জামাতে মুসল্লিদের উপস্থিতি সীমিত রাখার আহ্বান করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত না হয়ে, মসজিদে না যাওয়ার আহ্বান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের। এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে অনলাইনে ব্রিফিংয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, দেশে আরও পাঁচজনের শরীরে নভেল করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
করোনা নিয়ে গণমাধ্যমের খবর নজরদারিতে সরকার
২৬মার্চ,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে গণমাধ্যম অপপ্রচার ও গুজব ছড়াচ্ছে কিনা- তা মনিটরিংয়ের (তদারকি) জন্য ১৫ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। এসব কর্মকর্তারা দেশের ৩০টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদ নজরদারিতে রাখবেন। গত মঙ্গলবার তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্যেক কর্মকর্তা দুটি করে টেলিভিশন চ্যানেল মনিটরিং করবেন। আদেশে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কোনো বেসরকারি টিভি চ্যানেলে করোনাভাইরাস সম্পর্কে অপপ্রচার কিংবা গুজব প্রচার হচ্ছে বলে চিহ্নিত করলে- তা বন্ধ করার জন্য সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।খবর যুগান্তর অনলাইন । তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) মো. মিজান উল আলম বলেন, আগেই গণমাধ্যম মনিটরিং করা হতো। এখন করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। করোনাভাইরাস নিয়ে যেন গুজব ও অপপ্রচার চালানো না হয়- সে জন্য বেসরকারি টেলিভিশনগুলোকে মনিটরিং করার জন্য আমরা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়েছি। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত তারা এ দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া অনলাইন নিউজপোর্টালগুলো তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) মনিটর করছে বলেও জানান অতিরিক্ত সচিব মো. মিজান উল আলম।
চীনের কিট-পিপিই নিয়ে বিশেষ ফ্লাইট ঢাকায় পৌঁছেছে
২৬মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:চীনের দেয়া টেস্টিং কিট ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে বিশেষ ফ্লাইট শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সাড়ে ৪টার পর এসে ফ্লাইটি পৌঁছেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে ঢাকায় চীনা দূতাবাস। এর আগে গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানান, কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের সাথে লড়তে চীন থেকে আসছে বিশেষ উপহার। এই কনসাইনমেন্ট ১০ হাজার টেস্ট কিট, ১০ হাজার মেডিকেল প্রটেক্টিভ ক্লথিং ও এক হাজার ইনফ্রারেড থার্মোমিটার আসছে। তারা ১৫ হাজার সার্জিকাল রেস্পিরেটর বা এন-৯৫ মাস্কও উপহার দেবে। ড. মোমেন বলেন, চীন সরকারের উপহার হিসেবে স্বাধীনতা দিবসে এসব চিকিৎসা সামগ্রী ঢাকায় পৌঁছাবে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে চীন বাংলাদেশকে উন্নত প্রযুক্তির ৫০০ করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ কিট উপহার দেয়।
করোনা ভাইরাস মোকাবেলাও একটা যুদ্ধ,সকলের প্রচেষ্টায় এ যুদ্ধে জয়ী হব ইনশাল্লাহ
২৬মার্চ,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:ঘরে বসেই যে যার অবস্থান থেকে সচেতনতার মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা শত্রুর মোকাবেলা করে বিজয়ী হয়েছি। করোনা ভাইরাস মোকাবেলাও একটা যুদ্ধ। এ যুদ্ধে আপনাদের প্রধানতম দায়িত্ব ঘরে থাকা। আমরা সকলের প্রচেষ্টায় এ যুদ্ধে জয়ী হব ইনশাল্লাহ। ঘরে বসেই সচেতনতার মাধ্যমে করোনার বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলুন। ওবায়দুল কাদের আজ বৃহষ্পতিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বরাবরের মতো এ দেশের মানুষের প্রতি সহানুভূতিপ্রবণ ও সংবেদনশীল হয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণ দিয়েছেন। দেশের জনগণের একজন হয়েই জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আশা করি, দেশের জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই সংকট মোকাবেলা করতে সক্ষম হবো, ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাঙালি জাতির নেতা হিসেবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পূর্ব প্রস্তুতি ও বর্তমান প্রস্তুতিসহ ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। করোনা সংকট মোকাবেলায় বিদেশ ফেরত যাত্রীদের স্ক্রিনিং করা থেকে শুরু করে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা, হাসপাতাল প্রস্তুত ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহে সরকার কর্তৃক সম্পন্ন সকল কার্যক্রমের কথা তিনি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, অনাকাক্সিক্ষত সংকটের মুখে নিশ্চিত সমাধানে যেখানে সারা বিশ^ হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার সীমাবদ্ধতাকে জয় করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লুএইচও) করোনা ভাইরাস মোকাবেলাকে একটি যুদ্ধ ঘোষণা করে সকলকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে, এই সংকট মোকাবেলায় তার সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি তাঁর ভাষণে মিথ্যার ফানুস উড়ান নি। তিনি অবাস্তব ও কল্পনাপ্রসূত প্রতিশ্রুতি দেন নি। তিনি বাস্তবতার নিরিখে স্বাভাবিক জীবনের দরজায় কড়া নাড়া অনাকাক্সিক্ষত করোনা ভাইরাসের সৃষ্ট সংকট মোকাবেলার রূপরেখা ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার প্রদত্ত দিক-নির্দেশনাগুলো ছিল নির্মোহ, নির্মেদ ও আশা জাগানিয়া। করোনা ভাইরাসে সারা বিশ^ গভীর সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জাতির অভিভাবক হিসেবে শেখ হাসিনা স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বুধবার সন্ধ্যায় এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দিক-নির্দেশনা দিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, কতিপয় মহল বা কিছু ব্যক্তি সংকট ও সম্ভবনার কথা বিশ্লেষণ না করে বরাবরের মতো প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সমালোচনা করেছেন। অনাকাক্সিক্ষত সংকট নিরসনে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে যেখানে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন সেখানেও তারা বিভেদের রাজনীতি করতে চায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ জনগণের একজন হয়েই গণ-দায়িত্ববোধ সৃষ্টির মাধ্যমে এই সংকটের মোকাবেলা করতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে কর্মহীন খেটে খাওয়া মানুষের জন্য সহায়তার কথা সুনির্দিষ্টভাবে বলেছেন। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ৬ মাসের খাদ্য, নগদ অর্থ প্রদান এবং বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ ও ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। যার দ্বারা শ্রমিক কর্মচারিদের বেতন পরিশোধ করা হবে। এই পদক্ষেপগুলো আপদকালীন এই সংকট মোকাবেলায় স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা। দীর্ঘ মেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বাজারে যোগান ও চাহিদার সামঞ্জস্য রেখে অর্থনীতির সচলতা কিভাবে ধরে রাখতে হয় সেটা শেখ হাসিনা বিগত ১০ বছরে তাঁর সরকারের সময়ে করে দেখিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ওবায়দুল কাদের দেশের সর্বস্তরের জনগণকে এবং আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান।বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর