বদরউদ্দিন আহমদ কামরান আর নেই
১৫জুন,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনায় আক্রান্ত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। গত ৫ জুন কামরানের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। পরদিন হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে অবস্থার অবনতি হওয়াতে গত ৭ জুন সন্ধ্যায় তাকে সিএমএইচে আনা হয়। বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ছিলেন তৃনমুল থেকে ওঠে আসা এক রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন সিলেট নগরীর ছড়ারপারের বাসিন্দা। প্রথম নির্বাচনে অংশনেন ১৯৭৩ সালে। তৎকালীন সিলেট পৌরসভার ৩ নং তোপখানা ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল কামরানের পথচলা। ১৯৯৫ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন । সিটি করপোরেশন ঘোষণার পর ২০০২ সালে ভারপ্রাপ্ত মেয়র এবং ২০০৩ সালের ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন । ২০০৮ সালে কারাগারে থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশনেন । সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর চেয়ে ৮৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন কামরান। ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে প্রায় ৩৫ হাজর ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। এর আগে পর্যন্ত কখনো কমিশনার, দুই দফা পৌরসভার চেয়ারম্যান ও ২ দফা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন কামরান। ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচন ছিল তাঁর জীবনের সর্বশেষ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি তিনি। ২০০৪ সালের ৭ আগস্ট সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর তালতলাস্থ গুলশান সেন্টারে গ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছিলেন। অনেকের সাথে সে দিন আহত হয়েছিলেন তিনি। রাজনৈতিক জীবনে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি। বিভিন্ন সময়ে তিনি শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন কামরান।
স্বজন হারাবার বেদনাটা যে কি সেটা আমি জানি: প্রধানমন্ত্রী
১৪জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে উচ্চহারে সংক্রমিত এলাকাগুলোতে লকডাউনের পাশাপাশি কারো যেন খাবারের অভাব না হয় সেজন্য অর্থনীতির চাকাকেও সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাস আতঙ্ককটা এখন এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যেটা খুব দুঃখজনক। তবু, আমরা ঠিক করেছি কোন কোন এলাকায় বেশি (করোনা সংক্রমণ) দেখা যাচ্ছে সেটা লকডাউন করা। আমরা সেটা আটকাচ্ছি যাতে সেখান থেকে আর কোনভাবে সংক্রমিত না হয়। তিনি আরো বলেন,সাথে সাথে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডগুলো যেন সচল থাকে সেদিকেও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আমরা একটা বাজেটও দিতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা আজ দুপুরে একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টম (বাজেট) অধিবেশনে সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে গৃহীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় একথা বলেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। বাস্তবতার নিরীখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মানুষগুলোকে তো আমরা করোনার ভয়ে না খাইয়েতো মারতে পারি না। তাঁদের বেঁচে থাকার ব্যবস্থাতো আমাদের নিতে হবে। তাঁদের জীবনযাত্রাটা যেন চলে সে ব্যবস্থাটাতো আমাদের করতে হবে। করোনা ভাইরাসকে অত্যন্ত শক্তিশালী আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত পশ্চিমা দেশগুলোতে এই রোগের যে ধরন দেখেছেন তাতে এই রোগের সংক্রমণ এবং মৃত্যুহার ক্রমেই বেড়ে গিয়ে একটি পর্যায়ে গিয়ে থামে। বর্তমানে যে ওয়েভটি দক্ষিণ এশিয়া তথা বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চলছে। যে কারণে জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে তাঁর সরকার, বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি জনগণকে বোঝাতে যে, আপনারা অন্তত একটু স্বাস্থ্যবিধিটা মেনে চলেন। কারণ, এটা খুব সাংঘাতিক একটা সংক্রামক ব্যাধি। কাজেই, সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করেন। প্রধানমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে এ সময় তাঁর দুজন সারথীর বিয়োগকে অত্যন্তদুঃখজনক আখ্যায়িত করে তাঁদের বিভিন্ন অবদানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, এটাও এক ধরনের একটা যুদ্ধ আর সেই সময় আমার দুইজন যাদেরকে সবসময় পাশে পেয়েছি প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে পেয়েছি। কাজেই, তাঁদেরকে হারানো অত্যন্ত কষ্টদায়ক। আমি মোহাম্মদ নাসিম এবং শেখ মো. আব্দুল্লাহর রুহের মাগফিরাত কামনা করে তাঁদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা জানাচ্ছি, বলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যদের শুধু এটুকুই বলবো যে, ধৈয্য ধরতে হবে। কারণ স্বজন হারাবার বেদনাটা যে কি সেটাতো আমি জানি। তিনি বলেন, সবাইকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবর দান করুন, আর আমাদের ছেড়ে যাঁরা চলে গেছেন তাঁদের বেহেস্ত নসীব করুন, সেই কামনাই করি। মোহাম্মদ নাসিম ও শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন, সরকারি দলের বেগম মতিয়া চৌধুরী, হাবিবে মিল্লাত, মৃণাল কান্তি দাস, বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির মোস্তফা লুতফুল্লাহ। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এরপর মোহাম্মদ নাসিম ও এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা প্রর্দশনের জন্য এক মিনিট নিরবতা পালন ও তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। এরপর প্রথা অনুযায়ী কোন সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে সংসদ মূলতবির রেওয়াজ থাকায় এদিনের সংসদ মূলতবি ঘোষণা করা হয়। সংসদ নেতা তাঁর ভাষণে বলেন, আজকে আমি সংসদে আসবো কিন্তু আমাকে অনেক জায়গা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। ভীষণভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁদের আমি বললাম হুমকি, বোমা, গ্রেনেড কত কিছুই তো মোকাবিলা করে করে এ পর্যন্ত এসেছি। এখন কী একটা অদৃশ্য শক্তি তার ভয়ে ভীত হয়ে থাকবো। তিনি আরো বলেন, আমাদের আওয়ামী লীগ পরিবারের একজন পার্লামেন্ট মেম্বার তাঁকে হারিয়েছি,আমাদের ক্যাবিনেট সদস্য একজন তাঁকেও হারালাম, সেখানে আমি যাবো না, এটা তো হয় না। নেতাকর্মীদের মৃত্যুতে পাশে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য হলেও করোনা সংক্রমণের কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না, উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, অথচ, আমরা আওয়ামী লীগের যেকোনো একজন কর্মী মারা গেলে ছুটে গিয়েছি। জানাজায় অংশ নেওয়া, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো, পরিবারের সঙ্গে দেখা করা, সবই করেছি। কিন্তু এখন এমন একটা অস্বাভাবিক পরিবেশ, সেটা আর করতে পারছি না। প্রচন্ড আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটু দেখা করা, তাদের একটু সান্তনা দেওয়া সেই সুযোগটা পেলাম না কেন, এটা সব থেকে কষ্টকর। এ সময় মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুকে তিনি অপূরণীয় ক্ষতিআখ্যায়িত করে বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে নাসিম ভাইকে সবসময় আমার পাশে পেয়েছি। রাজনীতিতে পাশে থেকে যারা সাহস ও সমর্থন দিয়েছেন, তারা একে একে আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। নাসিম ভাইয়ের পর ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ ভাইও চলে গেলেন। এটা আমার জন্য খুবই দুঃখজনক। বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন গণ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে মোহাম্মদ নাসিমের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁকে ১৪ দলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কারণ, তিনি সকলকে নিয়ে চলতে পারতেন। শরিক দলের সদস্যরাও তাকে ভালো জানতেন। তিনি সফলতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে বিরাট ক্ষতি হয়েছে নিঃসন্দেহে। শেখ আব্দুল্লাহর মৃত্যুতেও যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ হওয়ার নয়,যোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোহাম্মদ নাসিমের বাবা মো. মনসুর আলী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে রাজনীতি করতেন। যখন ছোট ছিলাম তখন থেকেই চিনতাম। সে সময় মোহাম্মদ নাসিম ভাইদের সাথে আমাদের একটা পারিবারিক সম্পর্ক ছিল, আসা-যাওয়া ছিল। শেখ হাসিনা স্মৃতি রোমন্থনে বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক যখন মোহাম্মদ নাসিমের বাবাকে মন্ত্রী হওয়ার জন্য ডেকে নিয়ে যায় তখন তিনি সে প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। তোমার হাতে বঙ্গবন্ধুর রক্ত, তুমি কী করে ভাবলে আমি তোমার মন্ত্রিসভায় আসব, তা কখনই আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়,ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর এই কথার উদ্ধৃতি দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্ট আমাদের বাসায় আক্রমণ হয়েছে শুনে মনসুর আলী অনেক জায়গায় টেলিফোন করেন, অনেক চেষ্টাও করেছিলেন। এমনকি বাসা থেকে চলে গিয়েছিলেন কিছু করা যায় কিনা। যেহেতু মোশতাকের প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এ জন্য জাতীয় চার নেতার সাথে তাঁকেও কারাগারে হত্যা করা হয়। মোহাম্মদ নাসিম একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন,উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি ৮১ সালে দেশে ফেরার পর আমার একটা প্রচেষ্টা ছিল শহীদ পরিবারগুলোর ছেলেমেয়েদের নিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার পুনরুজ্জীবিত করা, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করা। সেই রাজনীতি করতে গিয়ে নাসিম ভাইকে সবসময় আমার পাশে পেয়েছি। তিনি বলেন, এটা ঠিক যে চলার পথ এত সহজ ছিল না,বার বার বাধা এসেছে। সে (নাসিম) প্রতিটি ক্ষেত্রে আমার পাশে থেকেছে, সমর্থন দিয়েছে। সংসদ নেতা বলেন, মোহাম্মদ নাসিম অত্যন্ত সাহসী ছিলেন। যে কারণে যেকোন অবস্থার মোকাবেলা করতে যেতেন। আর এ কারণে তাঁকে বার বার অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। জিয়াউর রহমানের আমলে যেমন তিনি নির্যাতিত হয়েছিলেন এরশাদের আমলেও সেভাবেই নির্যাতিত হয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, এরশাদ ক্ষমতায় থাকার সময় মার্শাল ল জারির পরপরই সাভারে ফুল দেয়ার জন্য সেনারা তাদের হকিস্টিক দিয়ে প্রত্যেকের ওপর নির্যাতন করেছিল। অনেককেই সাভার থানায় নিয়ে বন্দি করে রাখা হয় সেই সময়। তিনিও (নাসিম) ঘাড়ে ও হাতে আঘাত পান। তিনি বলেন, এরপর খালেদা জিয়ার আমলেতো আরো অত্যাচার। যেটার সীমা পরিসীমা নেই। এরপর এলো ওয়ান ইলেভেন। তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হলো এবং সে সময় তাঁর স্ট্রোক হয়। তখন হাসপাতালে সময় মত পৌঁছাতে পারার কারণে সে যাত্রায় নাসিম ভাই বেঁচে যান, উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তবে স্ট্রোক করার পর তাঁর শরীরের একটা দিক প্যারালাইজড হয়ে যায়। শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০টা সাড়ে ১০টার দিকে শুনলাম তিনি (আব্দুল্লাহ) খুব অসুস্থ। তাঁকে হাসপাতালে নিতে হবে। তাঁর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে না নিয়ে যাওয়া হলো সিএমএইচে। তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর গেট পার হতে না হতেই তার আরেকটা হার্ট অ্যাটাক হলো এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে পর পর তিনটা অ্যাটাক। রাত ১১টা প্রায় বাজে তখন খবর এলো তিনি নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া- যে সময় যে ক্ষমতায় এসেছে তাদের যেন একটা লক্ষই ছিল (রোষানল) গোপালগঞ্জের প্রতি, বহু নেতা-কর্মী নির্যাতিত হয়েছে। সেই দুঃসময়গুলোতে সংগঠনকে ধরে রাখা, নেতা-কর্মীদের দিকে নজর দেওয়া, এই কাজগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গেই তিনি সামলেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, যাঁরা সবসময় পাশে থেকেছেন। একইদিনে এমন দু জনের মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। আমার অত্যন্ত কষ্ট হচ্ছে বলতে।
বাবা-মার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
১৪জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) বাদ আসর তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কেকানিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে বিকেলে বাড়ির মসজিদ প্রাঙ্গণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে তার নামাজে জানাজা সম্পন্ন করা হয়। এসময় তাকে গার্ড অব অনার ও রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করা হয়। জানাজায় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) শাহিদা সুলতানা, পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান, সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিকুর রহমান খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ লুৎফার রহমান বাচ্চুসহ জেলা-উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, বিকেলে আল-মারকাজুল ইসলাম হাসপাতালের একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা থেকে সরাসরি তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি কেকানিয়া গ্রামে এসে পৌঁছায়। এসময় তার কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। সৃষ্টি হয় শোকাবহ আবহ। জেলার সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর খবরে শেষ বারের মতো তাকে দেখতে শহরের কলেজ রোডের বাসায় ও গ্রামের বাড়িতে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহচর, সহকর্মী, নেতা-কর্মী ও স্বজনরা ছুটে যান। শনিবার (১৩ জুন) দিনগত রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তার মুত্যৃতে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, সদর উপজেলা আওয়ামী ও সহযোগী সংগঠন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা সম্মিলিত ব্যবসায়ী সমিতি, জেলা উদীচী, রিপোর্টার্স ফোরাম, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, কোটালীপাড়া সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষে শোক জানানো হয়।
মোহাম্মদ নাসিম ও শেখ আবদুল্লাহর মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ
১৪জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: একাদশ জাতীয় সংসদের সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাভাবে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। আজ রোববার স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী এ শোক প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে এই শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নেন। খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গতকাল ১৩ জুন শনিবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি …রাজেউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর ২মাস ১১ দিন। মোহাম্মদ নাসিম ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল পাবনা জেলায় (বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলা) এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জাতীয় চার নেতার অন্যতম, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্বস্ত সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং মাতা আমেনা মনসুর। তাঁর স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানু। তিনি তিন পুত্র সন্তানের জনক। মোহাম্মদ নাসিম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য। তিনি রাজনৈতিক কারণে বহুবার কারাবরণ করেছেন। মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জ-১ আসন হতে মোট ছয়বার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পর সংসদে বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপের দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ নাসিম। ১৯৯৬ সালে সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মোহাম্মদ নাসিম। ১৯৯৭ সালের মার্চে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দায়িত্বও দেওয়া হয় তাঁকে। মোহাম্মদ নাসিম একই সঙ্গে দুইটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৯ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত। পরবর্তীতে, মন্ত্রিসভায় রদবদলে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। রাজনীতির সঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম সম্পৃক্ত হন ষাটের দশকে। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সরকারের ভুট্টা খাওয়ানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে পিতা এম মনসুর আলীর সঙ্গে কারাগারে যেতে হয় মোহাম্মদ নাসিমকে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন তিনি। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে মোহাম্মদ নাসিম যুব সম্পাদক হন। ১৯৮৭ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৯২ ও ১৯৯৭ সালের জাতীয় সম্মেলনে তাঁকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১২, ২০১৬ ও ২০১৯ সালের জাতীয় সম্মেলনে তাঁকে বাংলাদেশ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দেশপ্রেমিক ত্যাগী নেতা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর হাত ধরে রাজনীতিতে আসা মোহাম্মদ নাসিম আজীবন পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পর জেলে থাকা অবস্থায় ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে অপর তিন জাতীয় নেতার সাথে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পিতা ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ন্যায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জ্বীবিত ও অটল থেকে মোহাম্মদ নাসিম ১৯৭৫ পরবর্তী রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০১ সালের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারবিরোধী আন্দোলনে তিনি বার বার রাজপথে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পাকিস্তানের স্বৈরশাসন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলনসহ স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যাকান্ডের বিচার, যুদ্ধাপরাধীসহ সকল ঘাতকের বিচারের আন্দোলন সংগ্রাম এবং বিচার কার্যকরণ প্রক্রিয়ায় মোহাম্মদ নাসিম সক্রিয় ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গেছেন। দেশের সকল অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্র সৈনিক। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মোহাম্মদ নাসিম সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এছাড়া ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ গতকাল ১৩ জুন শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হার্ট এটাকজনিত কারণে রাজধানীর সম্মিলিতি সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি …রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর ৯ মাস ৫ দিন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ১৯৪৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার মধুমতী নদীর তীরবর্তী কেকানিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ধার্মিক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আলহাজ্ব শেখ মো: মতিউর রহমান এবং মাতা মরহুমা আলহাজ্ব মোসাম্মৎ রাবেয়া খাতুন। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ গত ৭ জানুয়ারি ২০১৯ বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করে শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ খুলনার আযম খান কমার্স কলেজে প্রথম ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালের ছয়দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্ট মুজিব বাহিনীর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর কঠিন দুর্দিনে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত রাখতে শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে প্রতিবার আলহাজ্ব শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাঁর পক্ষে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সকল নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার সংসদীয় প্রতিনিধি হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আলহাজ্ব এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ দীর্ঘ দিন যাবত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নসের গভর্নর, ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান সরকার কর্তৃক বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসা বোর্ডসমূহের শিক্ষা সনদের যে সরকারি স্বীকৃতি প্রদান করা হয়, তা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। মোহাম্মদ নাসিম ও শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন, সরকারি দলের বেগম মতিয়া চৌধুরী, হাবিবে মিল্লাত, মৃণাল কান্তি দাস, বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির মোস্তফা লুতফুল্লাহ। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এরপর মোহাম্মদ নাসিম ও এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা প্রর্দশনে এক মিনিট নিরবতা পালন ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।
বাবা-মায়ের কবরের পাশেই সমাহিত হবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
১৪জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পরিবার সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মৃতদেহ গোপালগঞ্জে নিয়ে আসা হচ্ছে। রোববার (১৪ জুন) বাদ আসর তার গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার কেকানিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে। এর আগে বাড়ির মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরিবারের সদস্যরা জানান, ইতোমধ্যে পারিবারিক কবরস্থানে কবর খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন শহরের কলেজ রোডের যে বাসায় থেকে তিনি রাজনীতি করেছেন সেই বাসায় তাকে আনা হবে না। সরাসরি ঢাকা থেকে লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি কেকানিয়ায় পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হবে। এদিকে, ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মৃত্যুর খবরে জেলার সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিজ দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের লোকজন শোক প্রকাশ করেছেন। উল্লেখ্য, শনিবার (১৩ জুন) রাত পৌনে ১২টায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ঢাকার একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। পরে রোববার সকালে তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
দেশ একজন পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারালো: রাষ্ট্রপতি
১৪জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি রোববার এক শোক বার্তায় বলেন, শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর মৃত্যু বাংলাদেশর রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার মৃত্যুতে দেশ একজন পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারালো। রাষ্ট্রপতি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ শনিবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকে গোপালগঞ্জে দাফন করতে চায় পরিবার
১৪জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর দাফন জন্মস্থান গোপালগঞ্জে করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানানো হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। এদিকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সরকারি বাসভবন রাজধানীর বেইলী রোডে আত্মীয় স্বজন এবং তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীরা ভিড় করছেন। শনিবার (১৩ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় হঠাৎই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন শেখ মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ। এরপর তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে রোববার সকালে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন জানান, মৃত্যুর পর তার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা নেয়া হয়। রোববার পিসিআর টেস্টে তার করোনা পজিটিভ আসে।
মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত নাসিম
১৪জুন,রোববার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এ সদস্য। এর আগে তার দুদফা জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজার পরে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা-গার্ড অব অনার দেয়া হয় মুক্তিযুদ্ধের এ সংগঠককে। পরে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এ লড়াকু রাজনীতিকের মরদেহে। বনানীতে দ্বিতীয় নামাজে জানাজায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মরদেহ ধানমণ্ডির বাসা থেকে সোবহানবাগ জামে মসজিদে নেয়া হয়। সেখানেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত হয় তার প্রথম জানাজা। এতে পরিবারের সদস্য ছাড়াও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। শনিবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এ রাজনীতিবিদ। গত ১ জুন রক্তচাপজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ৫ জুন ভোরে ব্রেইন স্ট্রোক করে কোমায় চলে যান সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরই মধ্যে পরপর তিনটি কোভিড টেস্ট নেগেটিভ আসে তার। মোহাম্মদ নাসিম সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে ১৯৪৮ সালের ২ এপ্রিল জন্ম। তরুণ বয়সেই বাবার হাত ধরে জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত এই নেতা আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারনী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং ১৪ দলের মুখপাত্র।

জাতীয় পাতার আরো খবর