দেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে
২৪জানুয়ারী,শুক্রবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, কিছুদিন আগেও দেশের মানুষকে বিদেশে অপমানিত হতে হতো। বলা হতো, ভিক্ষুকের জাতি। অথচ আজ দেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত দশ বছরে দেশে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। শুক্রবার সকালে কুমিল্লায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ১০ দিনব্যাপি স্পেশাল মোটিভেশনাল ক্লাস-রেজিমেন্ট ক্যাম্পিংয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জোবেদা খাতুন পারুল। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ময়নামতি রেজিমেন্টের কমান্ডার লেফটেনেন্ট কর্নেল সালাহ উদ্দিন আল মুরাদ। ক্যাম্পিংয়ে কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ১০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাডেটরা অংশগ্রহণ করেন।
পিতার কবরের পাশে বসে প্রধানমন্ত্রীর কোরআন তেলাওয়াত
২৪জানুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের কবরের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার বেলা ১১ টা ১০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকৃত হেলিকাপ্টার। এ সময় হেলিপ্যাডে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ তাঁকে স্বাগত জানান। বেলা ১১ টা ২০ মিনিটে হেলিপ্যাড থেকে সড়ক পথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে বঙ্গবন্ধু ভবনে কিছু সময় অবস্থান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বঙ্গন্ধুর সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে ঢুকে পিতার কবরের পাশে বসে দীর্ঘক্ষণ কোরআন তেলাওয়াত করেন। এছাড়া, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ টুঙ্গিপাড়া পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ও পরে দলীয় প্রধান হিসাবে বঙ্গবন্ধুর সমাধী সৌধে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে ফাতেহাপাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিবেন। এরপর নবগঠিত কমিটির প্রথম সভায় যোগদান করবেন বলে জানাগেছে। সকল কর্মসূচী শেষ করে বিকাল তিনটার দিকে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেলা ব্যাপী তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন আইন শৃংখলার বাহিনীর সদস্যরা পোশাকে ও সাদা পোশাক দায়িত্ব পালন করছেন।- আলোকিত বাংলাদেশ
বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
২৪জানুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার দুপুর ১টায় দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। এরপর সেখানে ফাতেহাপাঠ ও বিশেষ মোনাজাত হয়। এর আগে সকাল ১১টা ১০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে স্বাগত জানান। সেখান থেকে সকাল ১১টা ২০মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে এলাকায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জাতির পিতার সমাধির পাশে বসে কোরআন তেলোয়াত করেন। বিকেলে আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পলাশকে দায়ী করে বিমান ছিনতাই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন
২৪জানুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আলোচিত বিমান ছিনতাই মামলার ঘটনায় প্যারা কমান্ডো অভিযানে নিহত পলাশ আহমেদকে দায়ী করে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয় বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া। তিনি বলেন, গত বছর ২৪শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাইগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৩৭ ময়ূরপঙ্খী বিমানটি মাঝআকাশে ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা টানটান উত্তেজনার পর চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করে। পরে কমান্ডো অভিযানে নিহত হন পিস্তলধারী যুবক পলাশ আহমেদ। তিনি চিত্রনায়িকা শিমলার সাবেক স্বামী। তদন্তে দেখা যায়, নিহত পলাশ আহমেদ একাই একটি খেলনা পিস্তল ও বোমা সদৃশ বস্তু নিয়ে আকাশে বিমানটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় আর কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তাই এ মামলা নিস্পত্তির জন্য চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। রাজেশ বড়ুয়া জানান, মামলার তদন্তে শিমলাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া বিমানের পাইলট, কেবিন ক্রু, বিমানযাত্রী, আসামি পলাশের স্বজন, বন্ধু, অভিযান পরিচালনাকারী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ মোট ৭৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে আদালতে ৩০৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা করা হয়। প্রতিবেদনের সঙ্গে শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবেশসহ পলাশের গতিবিধির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে পাইলটের কথোপকথনের অডিও এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বুলেটের খোসাও জমা দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো টিম বিমানের অভ্যন্তরে অভিযান শুরুর আগে মাইকে আসামিকে আত্মসমর্পণ করার অনুরোধ জানান। তাতেও সাড়া না দেওয়ায় সন্ধ্যা ৭টা ১৭ মিনিটে বিমানের ভেতরে অভিযান শুরু করে ৭টা ২৫ মিনিটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আসামিকে বিমানের বাইরে নামিয়ে আনেন। এরপর সে মারা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পলাশ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলা বারুদ বিস্ফোরণের ভয় দেখিয়ে বিমানের অভ্যন্তরে ত্রাস সৃষ্টি করে যাত্রী, পাইলট, কেবিন ক্রুদের আতঙ্কিত করে বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করায় তার বিরুদ্ধে করা সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ৬ এবং ১৯৯৭ সালের বিমান-নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধ দমন আইনের ১১ (২) ও ১৩ (২) ধারায় অপরাধের প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া যায়। সিআইডির ফরেনসিক প্রতিবেদন মতে, পলাশের সঙ্গে থাকা পিস্তলটি ছিল প্লাস্টিকের তৈরি খেলনা অস্ত্র। তবে এই খেলনা পিস্তলে রবারের গোলাকার বল নিক্ষেপ করা যায় এবং মৃদু শব্দ হয়। এ পিস্তলে কোনো কার্তুজ স্থাপন করে গুলি করা সম্ভব নয়। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা স্কচটেপ মোড়ানো সাতটি প্লাস্টিকের পাইপ, ২৪টি এলইডি বাল্ব, সার্কিট, ব্যাটারি একত্র করে বোমা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। সেখানেও কোনো বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থ ছিল না। বিমানে পলাশ পটকা ফুটিয়েছিল বলে উদ্ধার করা আলামত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি থেকে উল্লেখ করা হয়। ওই ঘটনায় পলাশসহ কয়েকজনকে আসামি করে পতেঙ্গা থানায় ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলা করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। পলাশের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের বেশ কিছু ঘটনা তুলে ধরে চুড়ান্ত প্রতিবেদনে। বিমানে অভিযানের পরে আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে জানা যায় নিহত যুবক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের দুধঘাটা এলাকার পিয়ার জাহান সরদারের ছেলে পলাশ আহমেদ। পলাশ ২০১২ সালে তাহেরপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন। পরবর্তীতে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে সোনারগাঁ সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন। শিক্ষা সনদে পলাশের নাম মো. সাকিব হোসাইন উল্লেখ ছিল। পলাশের মা-বাবার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ২০১৪ সালে পলাশ বাবা-মার অমতে এক নারীকে বিয়ে করে বাড়িতে আনেন। স্ত্রীকে বাড়িতে রেখে তিনি কয়েকবার নেপাল ও ভুটানে যান। তার একটি সন্তানও রয়েছে। নির্যাতনের কারণে ওই স্ত্রী পলাশকে তালাক দিয়ে চলে যান। ২০১৬ সালে পলাশকে তার পরিবার চাকরির জন্য মালয়েশিয়া পাঠিয়ে দিলেও এক মাসের মধ্যে তিনি ফিরে আসেন এবং ঢাকায় অবস্থান করলেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। চিত্রনায়িকা শিমলার প্রসঙ্গে বলা হয়, বিয়ের পর ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর চিত্রনায়িকা সিমলা পলাশকে ডিভোর্সের নোটিশ পাঠিয়ে মুম্বাই চলে যান। শিমলার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে না পেরে ২৬ নভেম্বর পলাশ ভারতে যান। কিন্তু যোগাযোগ করতে না পেরে দুদিন পর পলাশ দেশে ফিরে এলেও পাওনাদারদের ভয়ে আত্মগোপন করেন। দুই মাস পর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পলাশ গ্রামের বাড়ি যান। ২২ ফেব্রুয়ারি পলাশ দুবাই যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি চট্টগ্রামের বিমান টিকিট কাটেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি সাড়ে ৪টায় বিমানটি ঢাকা থেকে ছাড়ার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরের কারণে ৫টা ১৩মিনিটে ৫৮ জন চট্টগ্রামের যাত্রী (ডমেস্টিক) ও ৮৫ জন দুবাইগামী যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা করে।- আমাদের সময়
প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ওপরে
২৩জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিশ্ব গণতান্ত্রিক সূচকে বাংলাদেশের আট ধাপ অগ্রগতি দেশে গণতন্ত্রচর্চা নিয়ে সমালোচনাকে অন্তঃসারশূন্য প্রমাণ করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি আরো বলেন, দ্য ইকনোমিস্ট পত্রিকার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) এর সদ্যপ্রকাশিত বিশ্ব গণতান্ত্রিক সূচক-২০১৯ এ বাংলাদেশের ৮ ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। প্রতিবেশী অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ওপরে। দেশে বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতি না থাকলে এক্ষেত্রে আরো অগ্রগতি হতো বলে জানান তিনি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত দুর্নীতি সূচকেও দেশের অগ্রগতি প্রসঙ্গেও কথা বলেন ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, এ সূচকে দেশের তিন ধাপ অগ্রগতি এটাই প্রমাণ করে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে সুশাসন বিরাজ করছে এবং সুশাসনের পথে এগিয়ে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে। নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক আদালতে মায়ানমারের গণহত্যা মামলায় দেয়া রায়ের চারটি বিশেষ অংশের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রথমতঃ মায়ানমার আর কোনোভাবেই 'জেনোসাইড কনভেনশন' ভঙ্গ করবে না, নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দ্বিতীয়তঃ মিয়ানমারের সেনা বা অন্য কোনো বাহিনী কোনোভাবেই আর গণহত্যা বা এধরনের কাজে লিপ্ত হবে না বা প্ররোচনা দেবে না। তৃতীয়তঃ পূর্বে সংঘটিত সকল গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে এবং আগামী চারমাস পর আদালতের আদেশ পালনের 'কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট' দাখিল করতে হবে, যা পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রতি ছয় মাস অন্তর প্রতিবেদন দাখিল অব্যাহত রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক আদালতের এ রায়কে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার প্রতিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'সেইসাথে আমি এটাও আশা করি, মায়ানমার তাদের দেশ থেকে পালিয়ে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে অতিদ্রুত ফিরিয়ে নেবে এবং পূর্ণ নাগরিকত্ব দেবে ।
সরকারি কর্মকর্তাকে স্বচ্ছ থাকতে হবে
২৩জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অতি লোভী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। তিনি বলেন, সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে, তারপরও অতি লোভী হওয়ার কোন মানে নেই। তাই এনবিআরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সততা আনতে যতটুকু কঠোর হওয়া প্রয়োজন সেটা হবেন বলেও জানান নতুন এ চেয়ারম্যান। বৃহস্পতিবার সেগুন বাগিচায় এনবিআরের সম্মেলেন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। ২৬ জানুয়ারি কাস্টমস দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমাদের ভালো উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। সেইভাবে কাজ করতে হবে। প্রচুর হয়েছে ব্যক্তি উন্নয়ন। এখনতো অভাব-অনটন সেই পরিমাণ নেই যে অস্বচ্ছ হতে হবে। সরকার বেতন থেকে শুরু করে অবসরকালে সুযোগ-সুবিধা যেগুলো দেয় যথেষ্ট ভালো। একজন সরকারি কর্মকর্তাকে স্বচ্ছ থাকতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে চেয়্যারম্যান বলেন, জিরো টলারেন্স এটা ফাঁকা বুলি, মিষ্টি মিষ্টি কথা। দেখা যায় যে, জিরো টলারেন্স বলে সেটা বাস্তবায়ন করতে পারে না, ম্যান্টেন হয় না। জিরো টলারেন্সের কথা বলে নিজেই একটা অপকর্ম করে বসে। জিরো টলারেন্স বলে জনপ্রিয় হওয়ার জন্য। আমি চাইবো এই সেক্টরে (এনবিআর) আমাদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সততা আনতে। এটা আনার জন্য আমাকে যতটুকু কঠোর হতে হবে আমি ততটুকু হবো। আপনারা সহোযোগিতা করবেন। সবাইকে দেশকে নিয়ে ভাবার তাগিদ দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এই দেশের উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করা উচিত, ব্যক্তি উন্নয়ন নয়। প্রচুর হয়েছে ব্যক্তি উন্নয়ন। ব্যক্তি ‍উন্নয়ন করতে করতে আগামী প্রজন্মের সামনে কোনো একটা ভালো দৃষ্টান্ত করতে পারছি না, কোনো একটা ভালো জিনিস আপগ্রেট করতে পারছি না। আমাদের সন্তানরা বাবা-মায়ের দিকে যখন তাকায় তখন দেখে তাদের ভেতরে কোনো আদর্শ নেই। তার প্রতিবেশীদের মধ্যে কোনো অদর্শ নেই। একটা লোককে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করবো তেমন লোক দেখে না। এই সমস্যা তৈরি হয়ে আছে, এটি জাতির জন্য ভালো বিষয় নয়। সবাই মিলে পরবর্তী প্রজন্মের সামনে একটা ভালো দৃষ্টান্ত তৈরি করে যেতে হবে আমাদের। দেশ উন্নত চাই কিন্তু সেটা শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়। এটা মিন করে চিন্তায়-চেতনায়। ভালো চিন্তা-চেতনায় কালচারে সব দিক দিয়ে উন্নত একটা জাতি হতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমাদের উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে। এনবিআর নিয়ে পরিকল্পনার বিষয়ে জানাতে গিয়ে নতুন এই চেয়্যারম্যান বলেন, দেশের অনেক সেক্টরে অনেক কিছু ইনোভেটিভ করার সুযোগ রয়েছে। এই (এনবিআর) সেক্টরেও আছে। রাজস্ব আহরণ নির্বিঘ্ন করা ও বৃদ্ধি করার জন্য কী কী পদ্ধতি বা কী কী ইনোভেশন করা যায় সেটা চেষ্টা থাকবে। এনবিআর নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চেয়্যারম্যান বলেন, কোনো ভ্যাট ট্যাক্স যদি না দেওয়া যায় তাহলে ব্যবসাবান্ধব হয়ে যাবে। যেই ভ্যাট ট্যাক্স দিতে হবে তখন ব্যবসাবান্ধব হলো না, ব্যবসা শেষ- এটা চিরায়িত অভিযোগ। এটা থাকবেই। আমরা চেষ্টা করি কোন সেক্টরের ব্যবসার কোন ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়। এর জন্য ভ্যাট ট্যাক্সের হার কী হওয়া উচিত চিন্তা করেই এটা করা হয়। আগামী ২৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে সেদিন সকাল সাড়ে ৭টায় রাজস্ব ভবনের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শুরু হবে। এছাড়া সেমিনার ও মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।
দৈনিক সংগ্রামের মিডিয়া তালিকাভুক্তি বাতিল
২৩জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়া আসামি কাদের মোল্লাকে শহীদ উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করায় দৈনিক সংগ্রামের মিডিয়া তালিকাভুক্তি বাতিল করেছে সরকার। চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদফতর (ডিএফপি) বুধবার (২২ জানুয়ারি) পত্রিকাটির মিডিয়া তালিকাভুক্তি বাতিল করে আদেশ জারি করে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ডিএফপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় গত ১২ ডিসেম্বর শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার ষষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী আজ শিরোনামে অসত্য সংবাদ প্রকাশ করায় চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদফতর ২২ জানুয়ারি পত্রিকাটির সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্তি বাতিল করে। ১২ ডিসেম্বর সংবাদ প্রকাশের পরই ডিক্লারেশন কেন বাতিল করা হবে না- সেই বিষয়ে কারণ দর্শানোর জন্য দৈনিক সংগ্রামকে নোটিশ দেয়া হয়। সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্ত পত্রিকা প্রচার সংখ্যা অনুযায়ী বিভিন্ন রেটে সরকারি বিজ্ঞাপনসহ কিছু সুবিধা পেয়ে থাকে। ডিএফপির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্তি বাতিল করায় সংগ্রাম পত্রিকাটি কোনো সরকারি বিজ্ঞাপন পাবে না। এছাড়া অন্যান্য সরকারি সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হবে পত্রিকাটি।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন দেশের ১০ সাহিত্যিক
২৩জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯ পেয়েছেন দেশের ১০ সাহিত্যিক। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী তাদের নাম ঘোষণা করেন। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন কথা সাহিত্যে ওয়াসি আহমেদ, কবিতায় মাকিদ হায়দার, প্রবন্ধে স্বরোচিষ সরকার, অনুবাদে খায়রুল আলম সবুজ, আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা ও ভ্রমণকাহিনিতে ফারুক মঈনউদ্দীন, নাটকে রতন সিদ্দিকী, বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞানে নাদিরা মজুমদার, শিশুসাহিত্যে রহীম শাহ, ফোকলোরে সাইমন জাকারিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় রফিকুল ইসলাম। এ সময় একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, একাডেমির পরিচালক অপরেশ কুমার ব্যানার্জি, কেএম মুজাহিদুল ইসলাম, জালাল আহমেদ, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সংস্কৃতি উপবিভাগের উপপরিচালক নূরুন্নাহার খানম, জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা কবি পিয়াস মজিদ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহিত্যিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। পুরস্কার হিসেবে তারা পাবেন ৩ লাখ টাকা, সনদপত্র ও ক্রেস্ট।
রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার
২৩জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার অন্তর্বর্তী রায়ে রোহিঙ্গাদের হত্যা কিংবা শারীরিক-মানসিক আঘাত না করতে মিয়ানমারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন আইসিজে। আজ বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের হেগে এই আদালতের আদেশে বলা হয়, জেনোসাইড কনভেনশন ২ অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের হত্যা, শারীরিক বা মানসিক নিপীড়ন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা যাবে না। আর এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই রায় মানবতার জয়। এই বিজয় সারা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মীদের জন্য মাইলফলক। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, রায়টি গাম্বিয়া, ওআইসি, রোহিঙ্গা এবং অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য এক বড় ধরনের জয়। এর আগে মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চলছে এমন অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করে গাম্বিয়া। মামলায় বলা হয়, মিয়ানমার ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে। গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর তিন দিনব্যাপী নেদারল্যান্ডসের হেগে ওই মামলার শুনানি হয়। এতে মিয়ানমারের পক্ষে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি অংশ নেন। সে সময় তিনি রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। ২০১৭ সালে রাখাইনে সেনা অভিযানকালে কিছু সেনা আইন লঙ্ঘন করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন সু চি। অন্যদিকে, গাম্বিয়া মিয়ানমারের প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখা যায় না বলে জানায়। তারা রোহিঙ্গা গণহত্যা ও সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে অন্তর্বর্তী নির্দেশের দেওয়ার অনুরোধ করে। পরে আজ অন্তর্বর্তী আদেশে আলোচিত এই মামলাটি চালানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আদালত। মিয়ানমারের প্রতিনিধি ও আইনজীবীরা আদালতের আদেশের বিষয়ে কোনো ধরনের কথা বলেননি বলে জানা যায়।

জাতীয় পাতার আরো খবর