পাঁচ সাংবাদিকের অবিলম্বে মুক্তি দাবি আইএফজের
০৭মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মে মাসের প্রথম ৫ দিনে বহুল বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫ সাংবাদিককে। সংবাদ প্রকাশ ও ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার কারণে এসব সাংবাদিককে গ্রেপ্তারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে)। একই সঙ্গে তাদেরকে অবিলম্বে মুক্তি ও তাদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বেলজিয়ামভিত্তিক আইএফজে এক বিবৃতিতে বলেছে, ফেসবুকের পোস্টে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য মুয়াজ্জম হোসেন রতন সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে নিজের বাসভবন থেকে ৫ই মে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাংবাদিক মোহাম্মদ মাহতাব উদ্দিন তালুকদারকে। তিনি হাওরাঞ্চলের কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও এসএটিভির জেলা প্রতিনিধি। ঢাকা ট্রিবিউনের মতে, মাহতাবউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলায় ফেসবুকের পোস্ট উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওই পোস্টের মাধ্যমে এমপি রতনের মানহানি হয়েছে। সরকারি অর্থ আত্মসাতে জড়িত থাকার অভিযোগে এই এমপিকে এ বছর শুরুর দিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা মুক্ত সাংবাদিকতা দিবসে একটি পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলকে গ্রেপ্তারের কয়েকদিন পরেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে মাহতাব উদ্দিনকে।মানবজমিন। সংবাদ প্রকাশের কারণে ১লা মে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দৈনিক গ্রামীণ দর্পণের বার্তা সম্পাদক রমজান আলী প্রামাণিক, স্টাফ রিপোর্টার শান্তা বণিক এবং নরসিংদী প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক খন্দকার শাহিনকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি কখনো সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। এর ফলে দাবি করা হয়, তারা যে উদ্ধৃতি দিয়েছেন তা বানোয়াট। ঘোড়াশালে এক যুবককে পুলিশ পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ নিয়ে ওই রিপোর্ট করা হয়েছিল। আইএফজে আরো বলেছে, ২০১৮ সাল থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে কমপক্ষে ১০০০ মামলা করা হয়েছে। এর বেশির ভাগই ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে। তারা আরো বলেছে, ২০২০ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট সরকারকে এই আইনের কিছু বিধানকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে বলে। বিতর্কিত এই আইনটি কার্যকর হয় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে। বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) বলেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হামলার কড়া নিন্দা জানাই আমরা। সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই। ওদিকে আইএফজে বলেছে, গ্রেপ্তার করা ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় আইএফজে। এর মধ্য দিয়ে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে তারা। এ ছাড়া অনলাইন নিয়ন্ত্রণের যেকোনো প্রচেষ্টা, সাংবাদিকতাকে ক্রিমিনালাইজ করা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অবস্থান আইএফজের। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধনের আহ্বান জানায় এ সংগঠন।
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭০৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত
০৭মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৭০৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ৪২৫ জন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৬ হাজার ৩৮২টি। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয় ৫ হাজার ৮৬৭টি। পরীক্ষা করা নমুনার মধ্যে ৭০৬ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, এ মুহূর্তে মৃত্যুর তথ্য দিতে পারছি না। প্রেস রিলিজে দিয়ে দেবো। তিনি আরো বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৩০ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট এক হাজার ৯১০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। প্রসঙ্গত, গত ৮ই মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। শুরুর দিকে রোগীর সংখ্যা কম থাকলেও এখন সংক্রমণ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চীনের উহানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। ভাইরাসটি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। চীনের পর ইরান, কোরিয়াসহ বেশকিছু দেশে সংক্রমণ ছড়ালেও সবচেয়ে বেশি করোনা আঘাত হানে ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের দেশগুলোতে। তবে এ মুহূর্তে তাণ্ডব চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ২৩৮ জন মানুষ। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ জন । অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন ১৩ লাখ ৬ হাজার ৪৮৩ জন।
করোনা পরিস্থিতি আরও কঠিন হওয়ার আশঙ্কা ওবায়দুল কাদেরের
০৭মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্হিতি আগামীতে আরও কঠিন হবার আশঙ্কা রয়েছে এমন শঙ্কা প্রকাশ করে দলের সকল নেতাকর্মীদের মানসিক প্রস্তুতি রাখার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি আজ তাঁর সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে বলেন, আওয়ামী লীগ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণের পাশে আছে। এই দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও জনগণের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন যা দেশে বিদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। বর্তমানে করোনা আক্রান্ত ২১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৭তম। সামনে আরও কঠিন সময় আসছে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই চ্যালেঞ্জিং সময় অতিক্রম করতে হবে আমাদের সাহসিকতার সঙ্গে। তাই আমি আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের মানসিক প্রস্তুতি রাখার আহ্বান জানাচ্ছি এই দুর্যোগ মোকাবেলার। দলের সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যগণ আওয়ামী লীগের পক্ষে সারাদেশে ৯০ লাখ ২৫ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা এবং নগদ ৮ কোটি ৬২ লাখ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছে বলেও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এসব কর্মসূচি তৃণমূল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানান। এছাড়া ২০০৮ সালের ৭ মে ততকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিদেশ থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসা নিয়েও কথা বলেন কাদের। এর আগে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির ত্রাণ ও সমাজকল্যান উপকমিটির উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগনের মাঝে প্রতিনিধির মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী,উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খানসহ উপ কমিটির নেতারা।
একমাস পর তিন মন্ত্রী নিয়ে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত
০৭মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে পুরো দেশ যখন স্থবির। তখন দীর্ঘ একমাস পর অনুষ্ঠিত হলো মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠক। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে গণভবনে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে নিরাপত্তা বজায় রাখতে মাত্র তিনজন মন্ত্রীর উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয় এই বৈঠক। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে বৈঠকে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম. মুস্তফা কামাল। এর আগে, করোনা মহামারীর পরিস্থিতিতে গেল ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল দেশের শীর্ষস্থানীয় এই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বৈঠক। সামাজিক সংক্রমণ রোধে দেশে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত চলছে সাধারণ ছুটি। দেশে চলমান করোনা মহামারী পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি, এই বৈঠক থেকে সরকারের নেয়া সিদ্ধান্ত জানা যাবে দুপুর নাগাদ। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।
২৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করবে টিসিবি
০৭মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, শনিবার (৯ মে) থেকে ২৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করবে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এতদিন এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৩৫ টাকা কেজি। বৃহস্পতিবার (০৭ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যে স্টক আছে তাতে আগামী চার মাসে কোনো সংকট হবে না। এছাড়া বেনাপোল রেল রুট, হিলি, দর্শনা ও বিরল সীমান্ত দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে শিগগিরই। তবে ভারতের সমস্যার কারণেই তিন দিন চালু থাকার পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি আবারো বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, শিশুখাদ্য আমদানিতে স্বল্প সুদে জামানতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব ধরণের নিত্যপণ্য আমদানি আরো সহজ করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধেই সিটি গ্রুপ ও মেঘনা গ্রুপ তাদের পণ্যের দাম কমিয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়েছে সরকার। এসময় তিনি শপিংমল খোলার বিষয়ে বলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে অঞ্চলভিত্তিক শপিংমলে কেনাকাটার নির্দেশনা জারির চিন্তা করছে সরকার। তবে দোকান মালিক সমিতির সভাপতির চিঠি পেয়েই দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, কেউ খুলবে নাকি বন্ধ রাখবে তা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।
১২ মে নগদ অর্থ পাবে ৫০ লাখ পরিবার
০৭মে,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছাতে না পারার কারণেই পুরোপুরি ভেঙে পড়ছে লকডাউন। ফলে দিন দিন বেড়েই চলছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। এমনটাই মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। তবে এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বলছে, গত দুই মাসে প্রায় সোয়া ১ কোটি পরিবারকে ত্রাণের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো আগামী ১২ মে ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা করা হবে। করোনা সংক্রমণ রোধে মার্চের ২৫ তারিখ থেকে দেশে শুরু হয় সাধারণ ছুটি। এর পরপরই একে একে লকডাউন ঘোষণা হতে থাকে দেশের বিভিন্ন জেলা। প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ ঘোষণা করা হয় রাজধানী থেকেও। দিন দিন করোনার প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ ছুটি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রায় দেড় মাস ধরে অঘোষিত লকডাউনে পুরো দেশ। তবে সম্প্রতি খাতা কলমে ছুটি কিংবা লকডাউন থাকলেও বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লকডাউন কার্যকর করতে হলে মানুষের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়ার কোনো বিকল্প নেই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা, রিদউয়ানউর রহমান বলেন, একদিকে বলছে যে লকডাউন, ঘরের বাইরে যেতে পারবে না, দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আবার অন্য দিকে কিছু সুযোগ খুলে দিচ্ছে যেখানে অনেকগুলো মানুষের যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাহলে এই দুইটি অবস্থান তো স্ববিরোধী। এতে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বাড়বে। তবে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বলছে, শুধু খাবারের অভাবে নয়, দীর্ঘদিন হয়ে যাওয়ায় মানুষ আর ঘরে থাকতে চাইছে না। তারপরও লকডাউন কার্যকর করতে তালিকাভুক্ত ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ সাড়ে ১২শ কোটি টাকা ও প্রায় ৫ কোটি লোককে মে ও জুন মাসে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনাম বলেন, প্রথমদিকে আমরা শুধু কর্মহীন মানুষদের দিয়েছি। এর পরে হতদরিদ্র, দরিদ্র এবং মধ্যবিত্তসহ প্রায় ৫ কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। এর পরে যদি কেউ বলে, খাদ্য সহায়তা পায়নি, তাহলে এই তথ্যটি ঠিক নয়। মে মাসে ৫০ লাখ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল ও ২৫শ টাকা প্রধানমন্ত্রী মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিবেন। এর একটি ডাটাবেজ প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেয়া হবে। সেখানে তালিকা অনুযায়ী ২৫শ টাকা করে ১২ তারিখে প্রত্যেক পরিবারের কাছে পৌঁছে দিবেন। জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে তালিকা প্রস্তুত করার কাজ প্রায় শেষের দিকে বলেও জানান মন্ত্রী।
চলতি মাসেই করোনার ওষুধ উৎপাদন করবে বেক্সিমকো
০৬মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর প্রতিষেধক হিসেবে কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়া রেমডেসিভির প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করে বাংলাদেশও এ ওষুধ প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। এজন্য দেশের একাধিক প্রতিষ্ঠানকে ওষুধটি উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে সরকার। অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি বেক্সিমকো। প্রতিষ্ঠানটি চলতি মে মাস থেকেই রেমডেসিভির উৎপাদন শুরু করছে। বেক্সিমকোরর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৪ মে বাংলাদেশের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর জানায়, দেশের ছয়টি ওষুধ কোম্পানিকে নভেল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর জন্য রেমডেসিভির উৎপাদনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। বেক্সিমকোর চিফ অপারেটিং অফিসার রাব্বুর রেজা জানিয়েছেন, তাদের রেমডেসিভির ইনজেকশন হিসেবে শিরায় প্রবেশ করানোর জন্য তৈরি হচ্ছে। একজন রোগীকে ৫ থেকে ১১ বোতল পরিমাণ ওষুধ গ্রহণ করতে হতে পারে। প্রতি বোতল ওষুধের দাম হতে পারে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা।
ঈদের আগে খুলছে না যমুনা ফিউচার পার্কও
০৬মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শর্তসাপেক্ষে দোকানপাট ও মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে শপিং-মল থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় যমুনা ফিউচার পার্ক না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশের আরেক বৃহৎ শপিং মল বসুন্ধরা সিটিও ঈদের আগে খুলছে না। বুধবার (০৬ মে) যমুনা ফিউচার পার্ক কর্তৃপক্ষ সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, করোনা প্রাদুর্ভাবের চলমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় যমুনা ফিউচার পার্ক খোলা হবে না। আগামী ১০ মে থেকে দোকান ও শপিংমল সীমিত আকারে খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধ না হলে রমজান মাসে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিং-মল হিসেবে পরিচিত যমুনা ফিউচার পার্ক খোলা হবে না।
সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন : তথ্যমন্ত্রী
০৬মে,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা মহামারীর মধ্যে সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। সবকিছু লকডাউন হলেও গণমাধ্যম খোলা থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত দেশে প্রায় ৬০ জন গণমাধ্যমকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং আমি আমার প্রিয় বন্ধুপ্রতিম সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর খোকনকে হারিয়েছি। ড. হাছান আজ দুপুরে ঢাকার সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-ডিআরইউতে ডিজইনফেকশন চেম্বার উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার সদ্যপ্রয়াত নগর সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খোকন স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এসময় প্রয়াত খোকনের আত্মার মাগফেরাত ও করোনা-আক্রান্তদের দ্রুত সুস্থতা প্রার্থনা করেন মন্ত্রী। সাংবাদিকদের প্রতি গভীর মমতার কথা উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমি সবসময় মন্ত্রী ছিলাম না বা থাকবো না, কিন্তু আমি সবসময় সাংবাদিকদের সাথে ছিলাম। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আমি সকল সাংবাদিকের করোনা পরীক্ষার বিশেষ ব্যবস্থার জন্য অনুরোধ করেছি, তারা সে ব্যবস্থা করেছে। বিশেষ বুথের জন্যও আমি তাদের তাগাদা দেবো। সেইসাথে দুঃস্থ সাংবাদিকদের জন্য আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যথাসম্ভব কিছু করার চেষ্টা করছি, শিগগিরই কিছু করতে পারবো বলে আশা করি, জানান তথ্যমন্ত্রী। ড. হাছান আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্বে রাষ্ট্রীয়ভাবে মেডিকেল গবেষণায় যে অর্থব্যয় হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যয় হয় সামরিক খাতে। কিন্তু সমগ্র বিশ্ব আজ এক অদৃশ্য শত্রুর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত, যেখানে শুধু মাস্ক, স্যানিটাইজার আর জীবাণুনাশক নিয়েই আমাদের কাজ কওে যেতে হচ্ছে। আমার প্রশ্ন, এখনো কি আমরা অস্ত্রের প্রতিযোগিতায় থাকবো, না কি সম্মিলিতভাবে মানব সমাজের জন্য কাজ করবো? আর অস্ত্রের প্রতিযোগিতা নয়, সবাই মিলে মানুষের সুরক্ষার জন্য কাজ করাই হোক পৃথিবীর সব রাষ্ট্রের ব্রত, আশাপ্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী এসময় করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক রূপ তুলে ধরে বলেন, এটি কোনো জাতীয় দুর্যোগ নয়, এটি বৈশ্বিক মহামারী। এসময় মানুষ যেন হতাশাগ্রস্ত হয়ে না পড়ে, সেজন্য আপনারা আশাব্যঞ্জক সংবাদ পরিবেশন করুন। এ প্রসঙ্গে সরকারের কর্মতৎপরতার কথা উল্লেখ করে ড. হাছান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় মানুষের জীবন ও জীবিকারক্ষা, অর্থনৈতিক প্রণোদনাসহ দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষকে সরকারি সহায়তার আওতায় এনে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা আজ সমগ্র বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস এমনকি ইকনোমিস্ট-ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা করেছে। তথ্যমন্ত্রীর অনুরোধে সাড়া দিয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী অনুষ্ঠানে ডিআরইউ নেতৃবৃন্দের কাছে এন্টিসেপটিক সাবান ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার হস্তান্তর করেন। এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সুজিত রায় বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশে যখন যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই ত্রাণ ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। ডিআরইউ সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ডিজইনফেকশন চেম্বার প্রদানকারী সংগঠন ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট অভ বাংলাদেশ-এনআইবির নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও ডিআরইউ সহ-সভাপতি নজরুল কবীর। ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোরসালিন নোমানী, দৈনিক বর্তমানের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মোতাহার হোসেন প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর