আজ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মহাপ্রয়াণ দিবস
অনলাইন ডেস্ক: আজ বাইশে শ্রাবণ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মহাপ্রয়াণ দিবস। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ তিনি কলকাতায় পৈত্রিক বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদাসুন্দরী দেবীর চতুর্দশ সন্তান রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের আকাশে রবি হয়েই উদিত হয়েছিলেন। জন্ম ১২৬৮ বঙ্গাব্দের পঁচিশে বৈশাখ। রবীন্দ্রনাথ কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সঙ্গীতজ্ঞ, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, ভাষাবিদ, চিত্রশিল্পী, গল্পকার- সবগুলো শৈল্পিক গুণের সমন্বিত এক বিস্ময়কর প্রতিভা। আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় তার সাহিত্যকর্ম অনুদিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের পাঠ্যসূচিতে তার লেখা সংযোজিত হয়েছে। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কবিকাহিনী’ প্রকাশিত হয় ১৮৭৮ সালে। ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয় তার‘গীতাঞ্জলী’ কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থের ইংরেজী অনুবাদের জন্য তিনি ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করে তিনি সেখানেই বসবাস করেন। ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য ‘শ্রীনিকেতন’ নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ বিশ্বভারতী’ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৯১ সাল থেকে পিতার আদেশে কবি কুষ্টিয়ার শিলাইদহে, পাবনা, নাটোরে জমিদারী তদারকিতে ছিলেন। যা বাংলাদেশের এক আলোকোজ্জ্বল অধ্যায়। শিলাইদহে তিনি দীর্ঘদিন অতিবাহিত করেন। এখানে জমিদার বাড়িতে তিনি অসংখ্য কবিতা ও গান রচনা করেন। ১৯০১ সালে শিলাইদহ থেকে সপরিবারে কবি বোলপুরে শান্তিনিকেতনে চলে যান। বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত নেওয়া হয়েছে এই প্রতিভাধর কবির রচনা থেকেই। তার লেখা ও সুর করা আড়াই হাজারের বেশি গান বাংলা সাহিত্যের অতুলনীয় সম্পদ। রবীন্দ্রনাথ বোলপুরের শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন ধারা প্রবর্তন করেন। কৃষির উন্নতির জন্য তার প্রতিষ্ঠিত শ্রীনিকেতনও এক যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠান। বাঙালির প্রতিটি আবেগ অনুভবে জড়িয়ে আছেন রবীন্দ্রনাথ। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধেও তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণাস্বরূপ। বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথের ৫২ কাব্যগ্রন্থ, ৩৮ নাটক, ১৩ উপন্যাস, ৩৬ প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয়। ১৯৩০-এর দশক থেকেই রবীন্দ্রনাথ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। জীবনের শেষ চার বছর তিনি বেশ অসুস্থ ছিলেন। ১৯৩৭ সালে তিনি একবার গুরুতর অসুস্থ হন। এর পর কিছুটা সুস্থ হলেও ১৯৪০ সালে তার অসুস্থতা বেড়ে যায়। তিনি শেষ জীবনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘনঘটা এবং মানবতার সংকট দেখে দুঃখিত হন। তবু তিনি মানবতার জয়ে আস্থা হারাননি। ১৯৪১ সালে শেষবারের মতো শান্তিনিকেতন থেকে জোড়াসাঁকোর প্রাসাদে চলে আসতে হয় অসুস্থ কবিকে। মৃত্যুর সাত দিন আগেও কবিতা লিখেছেন তিনি। বাইশে শ্রাবণ তার পার্থিব জীবনের সমাপ্তি ঘটলেও বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রেষ্ঠ আসন অধিকার করে আছেন চিরদিনের জন্য। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারিভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। বাংলা একাডেমি আজ বিকেল চারটায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে ‘আজকের বিশ্বে রবীন্দ্রসৃজনের প্রাসঙ্গিকতা ’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করবেন নাট্যজন আতার রহমান । সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জমান। পরে রয়েছে গীতিনৃত্যালেখ্য ‘ওই পোহাইলো তিমির রাতি।’ গীতিনৃত্যালেখ্য পরিবেশন করবে রক্তকরবী ও শুদ্ধ সংগীত চর্চা কেন্দ্র। এ ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমি বিকেলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন দিবসটি পালনের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দায়ভার নিতে হবে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে
অনলাইন ডেস্ক: এবার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে তার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। রোববার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ঢাকা মহানগরীর সব স্কুল-কলেজের (সরকারি-বেসরকারি) প্রধানদের সঙ্গে জরুরি মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদেরকে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বোঝাতে হবে। প্রধান শিক্ষক হয়ে যদি শিক্ষার্থীদের বোঝাতে না পারেন তাহলে প্রধান শিক্ষক হয়েছেন কেন? শিক্ষামন্ত্রী বলেন,প্রধান শিক্ষকদের শিক্ষা প্রতষ্ঠানের শিক্ষার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আগামীকাল সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে সমাবেশ করে সবার কাছে বার্তা পৌঁছে দিন, শিক্ষার্থীদের যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে। গুজব রটিয়ে যেন কেউ শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত না করতে পারে। সব শিক্ষক মিলে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যবস্থার জন্য শিক্ষকদের দায়িত্ব নিতে হবে। যারা পারবেন না, তাদের জবাবদিহি করতে হবে। কোনো অজুহাতে তা অমান্য করা হলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আজ থেকেই এই ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ধমক দিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়ে বোঝাতে হবে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করতে হবে। অভিভাবকদের ডেকে সভা করতে হবে। শিক্ষক-অভিভাবক মিলে এ ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনও অজুহাত দেখানোর সুযোগ নেই। আমরা খবর নেবো, তথ্য রাখবো, কে করছেন, কে করছেন না। শিক্ষার্থীদের অবশ্যই শিক্ষকদের কথা শুনতে হবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন,মিথ্যা গুজবে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। কোনো কোনো মহল এর সুবিধা নিতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের এখন ক্লাসে ফিরতে হবে, ঘরে ফিরতে হবে। তাদের দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। তার বাস্তবায়নে কাজ চলছে। শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক দাবিতে রাস্তায় নেমেছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,আমরা তাদের দোষারোপ করছি না। তবে শিক্ষা পরিবারের সদস্য হিসেবে আমরা তাদের একা ছেড়ে দিতে পারি না। এ সময় গভর্নিং বডির সদস্যদের সহায়তা নিয়ে প্রতিষ্ঠান যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য স্কুল-কলেজ প্রধানদের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী।
গুরুতর আহত ৫,সাংবাদিকের ওপর হামলা
অনলাইন ডেস্ক: নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে মাথায় হেলমেট ও মুখে কাপড় বেঁধে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) ফটো সাংবাদিক এ এম আহাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগকর্মীরা হামলা চালিয়ে বলে অভিযোগ করেছেন আহত সংবাদকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সিটি কলেজের সামনে এই হামলা হয়। এসময় এ এম আহাদ ছাড়াও জনকণ্ঠের জাওয়াদ, বণিক বার্তার পলাশ, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আহমেদ দীপ্তসহ বেশ কয়েকজন আহন হন। গুরুতর আহত ফটোসাংবাদিক আহাদকে পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বার্তসংস্থা ইউএনবির দেওয়া সূত্রমতে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আহাদকে নির্দয়ভাবে মারধর করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার মোবাইল ফোন ও ক্যামেরাটিও কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এরপরে তাকে পার্শ্ববর্তী ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহাদ মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। এতে তার মাথায় সেলাই দেয়া হতে পারে। উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হলে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এরপর ৯ দফা দাবিতে টানা অষ্টম দিনের মতো আন্দোলন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
ছয় কোম্পানির আওতায় চলবে ঢাকার পরিবহন : মেয়র আনিসুল হক
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় ছয়টি কোম্পানির আওতায় চার হাজার বাস নামানোর জন্য প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার (৫ আগস্ট) নগর ভবনের ব্যাংক ফ্লোরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি বলেন,বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীকাল (সোমবার) স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক হবে। সেখানে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। নিরাপদ সড়কে আমাদের করণীয় শীর্ষক অনুষ্ঠিতব্য মুক্ত আলোচনায় মেয়র বলেন,শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। কিন্তু এখন একটির মহল ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আমরা শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের অনুরোধ করছি, আপনার বাড়ি ফিরে যান। সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আমীর খসরুর সঙ্গে মুঠোফোনে কথোপকথনকারী সেই যুবক আটক
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথোপকথনকারী মিলহানুর রহমান নওমিকে আটক করা হয়েছে। রোববার (৫ আগস্ট) ভোরে জেলার বরুড়া উপজেলার দেওরা গ্রামের নাওমির ফুফুর বাড়ি থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটক নওমি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর কাউন্সিল এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার উনাইসা এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। সিদ্দিকুর রহমান বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও আগে তিনি জামায়াতের সদস্য ছিলেন। নাওমির বাবা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সিদ্দিকুর রহমান সুরুজ জানান, আজ ভোরে ঢাকা থেকে আসা ডিবি পুলিশ নাওমির মামা মঞ্জুর আলম ও চাচা ফরিদুর রহমানকে নিজ বাড়ি নগরীর উনাইসার থেকে নাওমির খোঁজে বরুড়ায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে নাওমিকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে যায়। নাওমির বাবা তার ছেলেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং সে দেশের রাজনীতির কোন দলের সঙ্গে জড়িত নয় বলে জানান। তিনি বলেন, তার ছেলে ছোট বেলায় পড়াশুনার জন্য বিদেশে চলে যায় এবং লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি পড়া শেষ করে গত ৬ মাস আগে দেশে আসে। বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে তার বাসায় তার চাচাতো বোনের বিয়ের দাওয়াত দেয়ার জন্য ফোন করেছিল নাওমি। বাড়তি কথাগুলো সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন বলেও উল্লেখ করেন নাওমির বাবা। তিনি আরও জানান, যদি নাওমি অপরাধ করে থাকে তাহলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার করা হোক, তবে তার প্রতি যেন অবিচার করা না হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে এক ছাত্রের অডিও ফোনালাপ ভাইরাল হয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। অডিও ক্লিপটি আন্দোলনের সপ্তম দিন গতকাল শনিবার ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ওই অডিওতে নাওমিকে ঢাকায় আন্দোলনে সক্রিয় হতে বলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নাশকতায় উসকানি ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন নগর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর।
হামলায় ৫ ফটোসাংবাদিক আহত
অনলাইন ডেস্ক :রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় ছাত্রলীগের হামলায় অন্তত পাঁচজন ফটো সাংবাদিক আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপির ফটোসাংবাদিক এএম আহাদ ও দৈনিক বণিক বার্তার ফটোসাংবাদিক পলাশ। তাৎক্ষনিকভাবে বাকি তিনজনের পরিচয় জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর দুইটার দিকে ফটোসংবাদিকরা আন্দোলত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ছবি তুলছিল। এসময় ছাত্রলীগের কর্মীরা রড, লাঠিসোটা নিয়ে প্রায় ৫০জন সাংবাদিকদের একটি গ্রুপকে ধাওয়া দেয়।খবর মানবজমিন। ধাওয়ার মধ্যেই প্রায় ৫ জন ফটোসাংবাদিক ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন। পুলিশের সামনে হামলার ঘটনা ঘটলেও পুলিশ তাদের বাধা দেয়নি বলে আক্রান্ত সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের রমনা জোনের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন। পুলিশ ছাত্রলীগের হামলাকারীদের প্রশ্রয় দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। তখন ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সময় কে হামলাকারী, কে শিক্ষার্থী আর কে সাংবাদিক তা চিহ্নিত করা যাচ্ছিল না। পুলিশ কর্মকর্তা কথা বলার সময় ২০০ গজ দূরেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সিটি কলেজের সামনে সশস্ত্র অবস্থানে ছিল। বিষয়টি দৃষ্টিতে আনা হলে উপ-পুলিশ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, তারা বিভ্রান্ত। এর আগে গতকাল জিগাতলায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন। ছাত্রলীগের কর্মীরা কয়েকটি ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনও ভাঙচুর করে।
হামলা করেছে বিএনপি জামায়াত
অনলাইন ডেস্ক :চলমান আন্দোলনের ওপরে ভর করে কোমলমতি শিশুদের আন্দোলনের সুযোগে বিএনপি ও জামায়াত তাদের রূপ পরিবর্তন করে জন নেত্রী প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা করেছে। আজ রবিবার (৫ আগস্ট) প্রেসক্লাবে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ৭০তম জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতি জোটের আয়োজিত আলোচনা সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজলনৈতিক কার্যালয়ে যে হামলা হয়েছে তাতে অ ব্যবহার হয়েছে, গুলি করা হয়েছে। তাতে মনে হয়, এটি বিএনপি ও জামায়াতর কাজ। কারণ শিশুদের হাতে তো অ ছিলো না। তিনি আরো বলেন, কোমলমতি শিশুরা রাস্তায় শৃঙ্খলা আনার জন্য যে কাজ করেছে আমরা তাতে সাধুবাদ জানাই। আগামী কাল মহান জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহনের আইন অনুমোদন করা হবে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের ৪র্থ স্তম্ব, এই নগ্ন হামলা থেকে তারাও বাদ যায়নি। আমাদের ছাত্র লীগের প্রায় ৩০ জন কর্মী আহত হয়েছে। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ
অনলাইন ডেস্ক :পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে জিগাতলা ও এর আশপাশের এলাকায়। টিয়ার শেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে এরই মধ্যে সেখানে পুলিশসহ কয়েকজন আহত হয়েছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর পাশাপাশি সেখানে যুক্ত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীও। আজ রোববার সকাল থেকেই সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং শাহবাগ এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান লক্ষ করা যাচ্ছিল। সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ের দিকে মূলত ইউনিফর্ম পরা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অন্যান্য দিনের মতো মূল সড়কে অবস্থান করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল। তবে বড় জমায়েতটি ছিল শাহবাগ এলাকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ জড়ো হয় শাহবাগে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বাচ্চাদের ওপর নির্যাতন হয়েছে, সেটার জন্য বিচার চাই। আর অবশ্যই নিরাপদ সড়ক চাই।’ আরেকজন বলেন, ‘কালকে (শনিবার) জিগাতলায় যা হলো ছোটদের, বাচ্চাদের ওপর যেভাবে হামলা চলল, তার জন্য আমরা সবাই জাস্টিস চাই।’ আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এটা তো সর্বস্তরের জনগণের দাবি। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থী যারা আছে, সবাই এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছে। আমরাও এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে আন্দোলনে নেমেছি।’ দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ শাহবাগ থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এলিফ্যান্ট রোড হয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে দিকে যেতে থাকে। একসময় আন্দোলনকারীরা মুখোমুখি হয় পুলিশের। দুপুর ১টা নাগাদ শুরু হয় সংঘর্ষ। একদিকে শিক্ষার্থীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ, অন্যদিকে পুলিশের টিয়ার শেল নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে সংঘর্ষ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে উত্তেজনা চলছে এবং সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়, যাদের মধ্যে পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে এরই মধ্যে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন। নৌমন্ত্রী শাজাহান খানও নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। টানা অষ্টম দিনের মতো তারা রাস্তায় নিয়েছে। গতকাল রাজধানীর জিগাতলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় একদল যুবক। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তার অবস্থান নেওয়ার থেকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় বাস চলাচল একেবারেই কমে যায়। এমনকি আন্তজেলা বাস চলাচলও বন্ধ করে দেন মালিক ও শ্রমিকরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নয়টি দাবি করেছে। তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এখন তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার উচিত বলে জানান তিনি। এরই মধ্যে গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা বলেছেন, নিরাপদ বোধ না করা পর্যন্ত তাঁরা রাস্তায় বাস নামাবেন না। ফলে অঘোষিত ধর্মঘট চলছে।

জাতীয় পাতার আরো খবর