ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মোছার ষড়যন্ত্র হয়েছিল
২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। আর সেই বঙ্গবন্ধুর নামই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, শিগগিরই গৃহহীনদের জন্য ঘর বানিয়ে দেয়া হবে। পাশাপাশি বাংলা ভাষার জন্য বঙ্গবন্ধুর নানা অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, ভাষা শহীদের আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে দেয়া হবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি দেশ এবং জাতির আত্মমর্যাদা দিয়ে গেছেন বলেই দেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলছে। তিনি আরো বলেন, যারা পাকিস্তানের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি সেই সময় থেকেই তারা পাকিস্তানের পদলেহন করছে এবং তারা আজও দেশে অগ্নি সন্ত্রাস লুটপাট চালিয়েছে।
দেশের যা উন্নয়ন হয়েছে তা শেখ হাসিনার সময়ে হয়েছে
২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের যে পরিবর্তন করেছেন তা সত্যি অকল্পনীয়। গত ১১ বছরে দেশের যা উন্নয়ন হয়েছে তা শেখ হাসিনার সময়ে হয়েছে। শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় নতুন বাগবাড়ি মাঠ প্রাঙ্গনে দিরাই প্রবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আপনারা বুকে হাত দিয়ে বলুন- কি পাননি এই ১১ বছরে। বৃদ্ধদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে, যাদের স্বামী নেই তারাও ভাতা পাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা বছরের শুরুতে নতুন বই পাচ্ছে, শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো হচ্ছে, অফিসারদের বেতন বাড়ছে। এই গুলো হয়েছে শেখ হাসিনার সময়ে। সবার আগে শিক্ষা দরকার, তা না হলে আমাদের দুর্দশার শেষ হবে না। আরো পড়ুন : করোনা ভাইরাস: বিল গেটসের অনুদানের প্রশংসায় শি আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুখ আহমদ, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সফর উদ্দিন, দিরাই প্রবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আজিজ সরদার, দিরাই পৌরসভার মেয়র মোশারফ মিয়া, শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আল আমিন চৌধুরী, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আছাব উদ্দিন সরদার প্রমুখ।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সমৃদ্ধশালী অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে
২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সমৃদ্ধশালী অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শনিবার বসুন্ধরা গ্রুপের অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের বিটুমিন প্লান্টের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির তিনি বক্তব্যে এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। সরকারি সব সহযোগিতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিনিয়োগের বিকাশ ঘটায় অর্থনীত আরো সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বেসরকারি পর্যায়ে দেশের প্রথম বসুন্ধরা বিটুমিন প্লান্ট প্রতিষ্ঠায় সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এর আগে দেশের চাহিদার ৯০ভাগ বিটুমিনই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। এখন বসুন্ধরার কল্যাণে আর বিটুমিন আমদানি করতে হবে না। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ,জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশের ক্রমবিকাশমান অর্থনীতি আজ সারা বির্শ্বে ঈর্শ্বানীয়। সরকার সোনার বাংলা বির্নিমাণে কাজ করে যাচ্ছে। আর এসব খাতে বর্তমান সরকারের আমলে হাজার হাজার মানুষের কর্ম সংস্থান হয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড.এম.শামীম জেড বসুনিয়া, কেরাণীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, বসুন্ধরা গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান সাদাত সোবহান তানভীর, ভাইস চেয়ারম্যান সিফাত সোবহান সানভীর, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর ও ওয়ালিদ সোবহান। বাসস
করোনা সংক্রমণের প্রমাণ মেলেনি
২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাভাইরাস নিয়ে অতি উৎসাহী হয়ে আতঙ্ক না ছড়াতে সবার প্রতি আহবান জানিয়েছে রোগ ও রোগতত্ত্ব অধিদপ্তর। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ার) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পরিচালক জানান, এ পর্যন্ত সংগৃহীত ৭৭টি নমুনার একটিতেও সংক্রমণের প্রমাণ মেলেনি। গত ৪৮ ঘণ্টায় সিঙ্গাপুরে নতুন করে কেউ ভাইরাসে আক্রান্ত হননি বলেও জানানো হয়। এ সময় তিনি আরো বলেন, কেউ বিদেশ থেকে এসেছেন তাদের মনে যদি কোনো ধরনের সংশয় থাকে অনুগ্রহ করে তারা রোগ ও রোগতত্ত্ব অধিদপ্তরের হটলাইনে যোগাযোগ করবেন। তিনি আরো বলেন, তাহলে সঠিক পরামর্শটা পাবেন। কেউ বাড়াবাড়ি করবো না যাতে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। এ পর্যন্ত ৭৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যার একটিতেও করোনা সংক্রমণের প্রমাণ মেলেনি।
সন্ত্রাসবাদ দমনে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে বাংলাদেশ
২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শনিবার সকালে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জাতীয় প্রেসক্লাবে ,উগ্রবাদ রোধে গণমাধ্যমের ভূমিকা, শীর্ষক সেমিনারে এ আহ্বান জানান।। সময় টিভি মনিরুল ইসলাম জানান, উগ্রবাদীরা যেন নায়ক হিসেবে উপস্থাপিত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্সে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি থেকে ছয় ধাপ কমে বাংলাদেশ ৩১ নম্বরে এসেছে। গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স (জিটিআই) হলো প্রতি বছর ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি) দ্বারা প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন। সূচিটি ২০০০ সাল থেকে সন্ত্রাসবাদের মূল বৈশ্বিক প্রবণতা এবং নিদর্শনগুলোর একটি বিস্তৃত সংক্ষিপ্তসার সরবরাহ করে। গত বছরের নভেম্বরে সিডনিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিসের (আইইপি) বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক-২০১৯ প্রকাশিত হয়। ২৩টি গুণগত ও পরিমাণগত নির্দেশকের ভিত্তিতে বিশ্বের ১৬৩টি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি করেছে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক-২০১৯। এসব দেশের জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ছয় ধাপ নেমে হয় ৩১তম। স্কোর ৫.২০৮। অর্থাৎ এ দেশে সন্ত্রাসবাদের প্রভাব মাঝারি মাত্রার। ২০১৮ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৫তম। এর আগের বছর বাংলাদেশ ছিল ২১তম। অর্থাৎ সন্ত্রাসবাদ দমনে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এবার বাংলাদেশের অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অঞ্চলের মালদ্বীপ বাদে বাকি সাত দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে নেপাল (বৈশ্বিক তালিকায় ৩৪তম), শ্রীলঙ্কা (৫৫তম) ও ভুটান (১৩৭তম)। এই অঞ্চলে আফগানিস্তান বাদে বাকি ছয় দেশ ২০১৮ সালে সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতিতে উন্নতি করেছে। এই ছয় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের।
গুটি কয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে জিম্মি দেশের ব্যাংকিং খাত
২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে ঋণ খেলাপির পরিমাণ ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণের অর্ধেকই সরকারি ব্যাংকগুলোর। ব্যাংকিং কমিশন গঠন প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করে সিপিডি। গত বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ব্যাংকিং কমিশন গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে আজ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, গুটি কয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে জিম্মি দেশের ব্যাংকিং খাত। তিনি বলেন, আমরা নাগরিকরা অসহায় আতঙ্ক নিয়ে একটা ভয়ংকর ভঙ্গুর পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছি। এই পরিস্থিতির বিভিন্ন সূচক আপনারা ইতিমধ্যেই জানেন। এটা শুধু মন্দঋণের বিষয় নয়। শত প্রতিশ্রুতির পরও মন্দঋণ অব্যাহত রয়েছে। এর নিচে লুকিয়ে রয়েছে আরও গল্প। প্রতিটি ব্যাংকের এখন পুঁজির ঘাটতি, সঞ্চিতির ঘাটতি, তাদের প্রকৃত বাণিজ্যিক লাভজনকতার ঘাটতি। এখন ব্যাংকে মানুষের টাকা রাখার পরিমাণ ক্রমাণ্বয়ে কমে যাচ্ছে। এর সঙ্গে সুদের সমস্যা আছে, জমার ক্ষেত্রে সুদের সমস্যা আছে। কি হারে, কোন সুদে টাকা বিনিয়োগ করবো, তাতে সমস্যা আছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে যে সমস্ত সুবিবেচিত নীতিমালা দেয়া হয়েছে, তার প্রকাশ্য বরখেলাপ ঘটছে। এই বরখেলাপগুলি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেআইনি কার্যকলাপে পরিণত হচ্ছে। যার ফলে দুদকের মতো প্রতিষ্ঠানকেও এখানে যুক্ত হতে হচ্ছে। ড. দেবপ্রিয় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই যে ব্যাপারগুলো আমরা দেখছি, শুনছি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাগজ থেকে দেখছি- গুটিকয় ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের হাতে ব্যাংকিং সেক্টর জিম্মি হয়ে গেছে। এই পরিস্থতি যখন বিকাশ লাভ করছিল, তখন আজ থেকে ৮ বছর আগে হলমার্ক কেলেংকারির সময় থেকে আমরা এ কথা বলে আসছি। তিনি বলেন, এখন এ ব্যাপারে যখন কিছু অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে, তখন আমরা এতে অত্যন্ত খুশি, প্রীত এবং সন্তুষ্ট। আমরা জেনে উৎসাহিত বোধ করেছি, এই ব্যাংকিং কমিশন গঠনের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায় থেকে আশীর্বাদ এসেছে, সম্মতি এসেছে। এবং আমরা মনে করি অত্যন্ত বিচক্ষণ একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে আমাদের সামনে এসেছে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ব্যাংকিং কমিশনের মেয়াদ হওয়া উচিত সাময়িক। সমস্যা চিহ্নিত করার পর সমাধানের উপায় নির্ধারণ করে ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে সুপারিশ দেবে কমিশন। এই কমিশন সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে, কারা দায়ী তা চিহ্নিত করে এসব সংকট উত্তরণের উপায় নির্ধারণের করবে। ব্যাংকিং কমিশন গঠন হবে একটা অভুতপুর্ব সুযোগ। রাজনৈতিক দূরদর্শিতা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাক ফেরানোর সুযোগ আসতে পারে এতে। তিনি আরো বলেন, ব্যাংকিং কমিশন শুধু ব্যাংকগুলোকে দেখবে না, সরকার যে ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে তাও দেখবে। এছাড়া ব্যাংকের টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে কি না সে বিষয়েও প্রতিবেদন দেবে।
শিক্ষক নিয়োগে ফের তোলপাড়
২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে সারাদেশের মাদাসায় শিক্ষক নিয়োগে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের প্রতিনিধি করার এক আদেশ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মাদরাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারকে বাদ দেয়ায় সৃষ্ট অসন্তোষের মধ্যেই বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের জারি করা আদেশ নিয়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষকদের মাঝে। মাদরাসা ও সাধারণ শিক্ষায় সক্রিয় শিক্ষক সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে আদেশ প্রত্যাহার করে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের ক্ষমতা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচীর ডাক দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। এদিকে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আদেশ নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে রাজি না হলেও কর্মকর্তাদের অনেকেই বলছেন, এ আদেশে তারা করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে। তবে সরকার সমর্থক শিক্ষক সংগঠনের নেতারাও শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার এমন আদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এটা ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় এ ঘটনায় অসন্তোষ সৃষ্টি হলে তার সুযোগ নেবে অনেকেই। যা সঙ্কটের কারণ হতে পারে। তাই এমন কিছু করা যাবে না যা সরকারকে বিব্রত করবে। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির পদে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের বাইরে গিয়ে নিয়োগ দেয়ার পর থেকেই অসন্তোষ বেড়েছে। অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার আগে মাদরাসা শিক্ষা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি শাখা। আর অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে সব সময় আছেন বিসিএস ক্যাডারের শিক্ষকরাই। ফলে নিয়োগে ডিজির প্রতিনিধিও রাখা হয় সরকারী কলেজর শিক্ষক কিংবা শিক্ষা প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের। কিন্তু মাদরাসা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার পরই এ পদে নিয়োগ পান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য। গত ১ বছর আগে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাইদীর এক আত্মীয়র সঙ্গে গোপন বৈঠকের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টির মধ্যেই বিদায় নিতে হয় মহাপরিচালকদের। সেখানে আবার নিয়োগ পান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা। এখন ডিজি হিসেবে আছেন অতিরিক্ত সচিব সফিউদ্দিন আহমদ। এসব ঘটনায় সৃষ্ট অসন্তোষের মধ্যেই মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসককে সরকারী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার আদেশ জারি করেছে অধিদপ্তর। মহাপরিচালক সফিউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি হিসেবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসককে মনোনয়ন দেয়া হবে বা তারা অন্য প্রতিনিধি দেবেন। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষক-কর্মচারীসহ সকল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা প্রযোজ্য বলে গণ্য হবে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করারও নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মাদরাসার শীর্ষ পদ দুটিতে নিয়োগ দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ একটি গ্রম্নপ নানা ধরনের বাণিজ্যে লিপ্ত হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় মাদরাসা অধিদপ্তরের একটি সিন্ডিকেট। অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ পাইয়ে দিতে স্থানীয় ও অধিদপ্তরের একটি বলয় তৈরি করে। কখনো স্থানীয় বিষয়াদি না জেনেই হঠাৎ করে একজন প্রার্থীকে বাদ দিয়ে দেন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি। এছাড়া মাদরাসা অধিদপ্তরের শিক্ষা ক্যাডারের একজন উপ-পরিচালক এবং একজন সহকারী পরিচালক মিলে সব নিয়োগ কমিটি যান। সারাদেশ থেকে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার পর উপ-পরিচালককে বদলি করলেও অদৃশ্য কারণে এখনও রয়েছেন অধিদপ্তরে। নানা চেষ্টায় এ বলয় ভাঙাতে না পেরে ডিসি-ইউএনওদের মাধ্যমে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা ও কারিগরি বিভাগ। কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মুনসী শাহাবুদ্দীন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মাদরাসা অধিপ্তরের কর্মকর্তা নাই বললেই চলে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন দিয়ে মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও সুপার, ভাইস প্রিন্সিপাল নিয়োগ কমিটিতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা থাকবে। জেলা পর্যায়ে ডিসির এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি থাকবে। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা কমার পাশাপাশি আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে আমরা মনে করেছি। তাই অধিদপ্তরকে এ নির্দেশনা দিয়েছি। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়োগ সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধিদপ্তরের কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে বলেই আমরা স্বচ্ছতা চাচ্ছি। এ বিষয়ে মাদরাসা শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেসীনের মহাসচিব সাব্বির আহমেদ মমতাজী আদেশের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, সারাদেশের শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনকে মর্যাদা ও কর্তৃত্ব শূন্য করার এটা একটা উদ্যোগ। আমরা এ সিদ্ধান্ত কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য মনে করি না। মাউশি অধিদপ্তরের ডিজি শিক্ষক তাই সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনকে মর্যাদা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু মাদরাসার জিডি শিক্ষা ক্যাডারের নয় বলেই তার কারণেই এ ধরনের হটকারী সিদ্ধান্ত এসেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই এটা মানব না। আমরা বহুবার দেখা করে বলেছি শিক্ষা প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে নিয়োগ কমিটি করার জন্য। কিন্তু তা না করে এখন উল্টো যে কাজটা অধিদপ্তর করেছে তাতে সারাদেশে অসন্তোষ হবে। শিক্ষার ক্ষতি হবে। তাই এটা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। এদিকে স্বাধীনতা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সাজাহান আলম সাজু বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। অন্যথায় সমস্যা বাড়তে পারে। তাছাড়া এতে নিয়োগে যে অনিয়ম দুর্নীতি বাড়বে না তার নিশ্চয়তা কে দেবে। তাই হুট করে এটা করা কোনভাবেই উচিত নয়।- আলোকিত বাংলাদেশ
বাবার প্রতিকৃতির সামনে প্রধানমন্ত্রীর সেলফি
২২ফেব্রুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনী ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় লাইটিং দ্য ফায়ার অব ফ্রিডম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিরোনামে এই প্রদর্শনী চলছে। শুক্রবার বিকালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ভাষা দিবসের আলোচনা সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী শিল্পকলা একাডেমির এই প্রদর্শনী দেখতে যান। এ সময় বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন তার সঙ্গে ছিলেন। প্রদর্শনীতে এসে বিভিন্ন চিত্রকর্ম ও আলোকচিত্র দেখার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে বোন রেহানা ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদকে নিয়ে সেলফি তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস রানা এ তথ্য জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের গবেষণা উইং সিআরআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রদর্শনী দেখার সময় চিত্রকর্মগুলো নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ করার পর সে সময় পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন প্রদর্শনীতে দেখে সরাসরি আন্দোলনে অংশ নেওয়ার স্মৃতিচারণ করেন তিনি। এসময় শেখ হাসিনা জানান, তাদের আন্দোলন অংশ নেয়ার ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে কয়েক দিন বাসা থেকে বের হতে দিতেন না মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিও দেখানো হচ্ছে। সেখানে এসে অনেকটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। একে অপরের হাত ধরে সম্পূর্ণ ভাষণ শোনেন তারা। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন-সিআরআইয়ের সহযোগিতায় গত ৭ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি সিসমিক মুভমেন্ট নিয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয় ঢাকা আর্ট সামিট। মুজিববর্ষের অংশ হিসেবে এই আয়োজনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে রাখা হয় বিশেষ প্রদর্শনী লাইটিং দি ফায়ার অব ফ্রিডম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ঢাকা আর্ট সামিট শেষ হয়ে গেলেও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনী সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকছে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

জাতীয় পাতার আরো খবর