করোনা থেকে মুক্তি কামনায় দেশব্যাপী বিশেষ মুনাজাত
১৩মার্চ,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্তি কামনায় দেশের সকল মসজিদে জুমার নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ মুনাজাত। ইসলামী ফাউন্ডেশনের পূর্ব আহ্বান অনুযায়ী জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু করে কারওয়ান বাজার, পান্থপথসহ দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় করোনার প্রকোপ থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে পানাহ চান মুসলিমরা। বায়তুল মোকাররমে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহিবুল্লাহিল বাকী। মোনাজাতে বিশ্বের সব দেশকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের আরোগ্য কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন বিভাগের পরিচালকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মুসল্লিরা দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। জুমার নামাজের খুতবায় করোনার প্রকোপ নিয়ে কথা বলেছেন লালবাগ কেল্লার পাশে অবস্থিত জামেয়া কোরআরনিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন লালবাগ শাহী মসজিদের খতিবও। তিনি বলেন, ‘মহামারি হলে পালিয়ে যাওয়া নয় বরং ধৈর্য ধারণ করতে হবে। করোনার মত ভাইরাসের মহামারিতে যদি কারও মৃত্যু হয় তাহলে সে শহীদের মর্যাদা পাবে বলে উল্লেখ করেন লালবাগ শাহী মসজিদের খতিব। একই সঙ্গে এ খতিব বলেন, ‘মহামারি প্রতিরোধ করার জন্য কেউ যদি হাতে মোজা, মাস্ক ব্যবহার করে সেগুলোর বিষয়ে শরীয়তে কোনো বাধা নিষেধ নেই। তবে কেই যদি মনে করে মাস্ক/ মোজার জন্য ভাইরাস জনিত রোগ হতে বেঁচে গেলাম তাহলে সে শিরক করবে। কারণ রোগ দেওয়ার মালিক আল্লাহ, উনি চাইলেও সকল প্রটেকশনের মধ্যে দিয়েও রোগ দিতে পারেন। তাই আমাদের ঈমান ও আকিদা নিয়ে চলতে হবে। বাংলা খুতবা পাঠের সময় খতিব আরও বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। সেগুলো আমাদের মেনে চলতে হবে। বর্তমানে ভাইরাস নিয়ে অনেকেই অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন তা ভলোর জন্য করবেন। সরকার যদি কোনো এলাকা থেকে বের হওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করে আমাদের তা মেনে চলতে হবে।’ প্রসঙ্গত, চীন থেকে শুরু হওয়া ভাইরাসটিতে আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে। বিশ্বের অন্তত ১১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত দেড় লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন অন্তত ৬৮ হাজার মানুষ। আর বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এখন পর্যন্ত ৩ জন। দুজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সুস্থ দু’জনের মধ্যে একজন বাড়ি ফিরে গেছেন। করোনা ভাইরাস যেন বাংলাদেশে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে না পড়ে সে কামনায় আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর আল্লাহর দরবারে দু’হাত উঁচু করে মুক্তি কামনা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
করোনা প্রতিরোধে ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
১২মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও আতঙ্কিত মানুষের সংখ্যা বেশি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতন-সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু নির্মাণ সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু উদ্বোধন করার পর প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বত্র পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। পরে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
করোনাকে মহামারি ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
১২মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনা ভাইরাসকে মহামারি ঘোষণা করেছে। বুধবার রাতে সংস্থার প্রধান টেড্রোস অ্যাডানোম গ্রেবিয়াসিস জানান, গত দুই সপ্তাহে ভাইরাসটি চীনের বাইরে ১৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুত গতিতে করোনা ভাইরাসের বিস্তার হতে থাকায় গত ৩০ জানুয়ারিতে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। ওই সময়ে সংস্থাটির প্রধান জানান, এর মাধ্যমে দুর্বল স্বাস্থ্য সেবার দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বুধবার করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নিষ্ক্রিয়তার মাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস অ্যাডানোম গ্রেবিয়াসিস। প্রাদুর্ভাবকে মহামারি ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশগুলোর করণীয় নিয়ে দেওয়া ডব্লিউএিইচওর পরামর্শে পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোন রোগ ছড়িয়ে পড়তে থাকলে তখন মহামারি ঘোষণা করা হয়। ভাইরাস মোকাবিলায় দ্রুত ও সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে টেড্রোস অ্যাডানোম গ্রেবিয়াসিস বলেন, কয়েকটি দেশ দেখিয়ে দিয়েছে যে এই ভাইরাসটি দমন ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। শান্ত থেকে সঠিক ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বের নাগরিকদের রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান ডব্লিউএইচও প্রধান।-
দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
১২মার্চ,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা দেশে প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে। তিনি বৃহস্পতিবার তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন। ভ্রমণের সময় কমানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর লোকদের জন্য আরামদায়ক ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এশিয়ান হাইওয়ে করিডর-১ এর অংশ এই এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকা প্রান্ত হতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার। সদ্য নির্মিত এক্সপ্রেসওয়ে ধরে এই দূরত্ব অতিক্রম করতে সাধারণভাবে সময় লাগবে মাত্র ৪২ মিনিট। আর ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে যেতে সময় লাগবে ২৭ মিনিট। অবশ্য এখনই ঢাকা থেকে সরাসরি ভাঙ্গা পর্যন্ত যাওয়া যাবে না। পদ্মা সেতু হওয়ার পর এই সুফল ভোগ করা যাবে। রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল এই প্রকল্পের। মাওয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। বাকি ছিল ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার অংশের কাজ। চলতি মাসে এসে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৬ হাজার ২৫২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরুর পর পরবর্তিতে সংশোধিত ডিপিপিতে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৮৯২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর বাইরে মূল প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়নি এমন কিছু কাজের জন্য পরবর্তীতে ২০১৮ সালের জুনে চার হাজার ১১১ কোটি টাকার আরেকটি পৃথক ডিপিপি অনুমোদন করে সরকার। এই ডিপিপি অনুযায়ী কাজের মেয়াদ ধরা হয়েছে জুন ২০২০ সাল পর্যন্ত। দুটি ডিপিপি মিলিয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে মোট ব্যয় হচ্ছে ১১ হাজার ৩ কোটি টাকা। আট লেনের এই এক্সপ্রেসওয়েটি সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন-এসডব্লিউও (পশ্চিম)।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুদের সাজা দেওয়া বৈধ নয়: হাইকোর্ট
১১মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভ্রাম্যমাণ আদালতে শিশুদের সাজা দেওয়া অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিভিন্ন বয়সী ১২১ শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাজা অবৈধ ও বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আবদুল হালিম ও ইশরাত হাসান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। আদালত রায়ে বলেন, এখতিয়ার না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত কখনোই শিশুদের সাজা দিতে পারবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে একই সময়ে ঐ ১২১টি শিশুকে যে প্রক্রিয়ায় সাজা দেওয়া হয়েছে, তা মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং অমানবিক। একই সঙ্গে এই ধরনের সাজা প্রদান আমাদের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বহির্বিশ্বে দেশের সুনামকে ব্যাহত করেছে। এদের সবার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও আইনি জ্ঞান কম, এগুলো বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ দরকার। এর আগে গত ৩১ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডিত হয়ে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে শিশু আদালত ব্যতীত অন্যান্য আদালতের অধীনে সাজাপ্রাপ্ত ১২ বছর বয়সী থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত বয়সী শিশুদের ৬ মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। গত কয়েকদিন আগে একটি দৈনিকে আইনে মানা, তবু ১২১ শিশুর দণ্ড শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. মাহমুদুর হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন। হাইকোর্ট তার আদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক শিশুদের দণ্ড প্রদানকে অসাংবিধানিক, অবৈধ এবং বাতিল বলে ঘোষণা করেন। এছাড়াও শিশুদের মধ্যে যাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালত দণ্ড দিয়েছে, তাদেরকে দ্রুত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র বা হাজত থেকে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন। এছাড়া সাত কার্য দিবসের মধ্যে ওই ১২১টি শিশুকে দণ্ড প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট Rab কর্মকর্তাদের যারা অবৈধভাবে দণ্ড দিয়েছেন, তাদেরকে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই দণ্ডপ্রাপ্ত শিশুদের মামলার যাবতীয় নথি আলাদা করে দাখিল করতে বলেন আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক পরিচালিত শিশুদের দণ্ড প্রদানের বিষয়ে শিশু আইন এবং দণ্ডবিধির বিধি বহির্ভূত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ড কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েও আদালত রুল জারি করেন। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের এসব রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার যাত্রাবাড়ী-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
১১মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মুজিববর্ষের প্রক্কালে যাত্রাবাড়ী-মাওয়া-ভাঙ্গা রুটে দেশের প্রথমবারের মত এক্সপ্রেসওয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি আনুষ্ঠানিকভাবে এই এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করবেন। ভ্রমণের সময় কমানোর পাশাপাশি দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর লোকদের জন্য আরামদায়ক ও নিরবিচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়। প্রকল্প কর্মকর্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মানের এই এক্সপ্রেসওয়ে দুইটি সার্ভিস লেনের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীকে যুক্ত করবে। স্থানীয় এক পরিবহন চালক বলেন, এটি একটি চমৎকার এক্সপ্রেসওয়ে, যা ভ্রমণের সময় সাশ্রয় করবে এবং এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন দ্রুত নির্বিঘ্নে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে চলাচল করবে। প্রকল্পের বিবরণ অনুসারে, এক্সপ্রেসওয়েতে পাঁচটি ফ্লাইওভার, ১৯ টি আন্ডারপাস এবং প্রায় ১০০টি সেতু এবং কালভার্ট রয়েছে, যা দেশের ব্যবসা- বাণিজ্য বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। এটিতে মাওয়া থেকে ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এবং ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পানছার থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত দুটি এক্সপ্রেসওয়ে পুরো খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং ঢাকা বিভাগের একটি অংশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা শহর এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করবে। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা, খুলনা বিভাগের ১০ টি জেলা এবং ঢাকা বিভাগের ছয় জেলাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২২ টি জেলার মানুষ সরাসরি এই আন্তর্জাতিক মানের এক্সপ্রেসওয়ে থেকে উপকৃত হবেন। আধুনিক এক্সপ্রেসওয়ের দুটি অংশ ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর মধ্য দিয়ে সংযুক্ত হবে, যা বর্তমানে নির্মাণাধীন রয়েছে। দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতুর চার কিলোমিটার গতকাল মঙ্গলবার ২৬তম স্প্যান বসানোর পরে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে ট্র্যাফিকের জন্য ব্রিজটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেলে, কোনও ভ্রমণকারীকে ভাঙ্গা থেকে ঢাকা আসা এবং যেতে এক ঘন্টা সময় লাগবে না। এই হাইওয়েতে আগামী ২০ বছরের জন্য ক্রমবর্ধমান ট্রাফিকের পরিমাণ বিবেচনা করে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে প্রায় ১১০০৩.৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মিত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যৌথভাবে ২০১৬ সালে চারটি জেলা ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর এবং ফরিদপুরে এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করে এবং এটি নির্ধারিত সময়সীমার তিন মাস আগে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ২০২০ সালের ২০ জুন। ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মুজিব বর্ষ উদযাপন শুরুর প্রাক্কালে এক্সপ্রেসওয়ে ট্রাফিকের জন্য উন্মুক্ত হতে চলেছে। স্থানীয় ও ধীর গতি সম্পন্ন যানবাহনের জন্য এক্সপ্রেসওয়ের দু পাশে দুটি পরিসেবা লেন রাখা হয়েছে যাতে দ্রুত যানবাহনগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে রাস্তায় চলাচল করতে পারে এবং এইভাবে দীর্ঘপথের যাত্রীদের ভ্রমণের সময় হ্রাস করতে পারে। এক্সপ্রেসওয়ের পাঁচটি ফ্লাইওভারের মধ্যে একটি ২.৩ কিলোমিটার কদমতলী-বাবুবাজার লিংক রোড ফ্লাইওভার রয়েছে। অন্য চারটি ফ্লাইওভার হলো আবদুল্লাহপুর, শ্রীনগর, পুলিয়াবাজার এবং মালিগ্রামে। ৫৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়েতে জুরাইন, কুচিয়ামোড়া, শ্রীনগর ও আতাদিতে চারটি রেলওয়ে ওভার ব্রিজ রয়েছে এবং চারটি বড় সেতু রয়েছে যার মধ্যে ৩৬৩ মিটার ধলেশ্বরী -১, ৫৯১ মিটার ধলেশ্বরী -২, ৪৬৬-মিটার আড়িয়াল খান এবং ১৩৬-মিটার কুমার সেতু। মাওয়ার নিকটবর্তী রাস্তার পাশে নিরালা রেস্তোঁরার মালিক মোহাম্মদ মাসুদ বলেছেন, এক্সপ্রেসওয়ের কারণে মাওয়া থেকে ঢাকা যেতে আগের দুই ঘন্টার পরিবর্তে এখন ৩০-৪০ মিনিট সময় লাগে। এক্সপ্রেসওয়েতে যানজট না থাকায় বাস ও ট্রাক দ্রুতগতিতে চলাচল করতে পারে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগে পোস্তগোলা রেলপথ পারাপারে ৩০ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট সময় লেগেছিল, তবে এখন মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই স্পটটি অতিক্রম করা যায়। তিনি বলেন, ভ্রমণের সময় হ্রাস হওয়ায় রোগীরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে রাজধানী থেকে খুব সহজেই মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন। দ্রুত যোগাযোগের অগ্রগতির কারণে এখন অনেক লোকই আমাদের এলাকায় ঘরবাড়ি এবং অন্যান্য স্থাপনা তৈরি করতে চায়। তিনি আশাবাদী তাঁর অঞ্চলটি একটি পর্যটন স্পটে পরিণত হবে। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থানরত ব্রিটিশ বাংলাদেশী নাগরিক আরিফ চৌধুরী এক্সপ্রেসওয়ে পরিদর্শন করে বলেছেন, এটা চমৎকার, আমি অভিভূত । আমার কাছে মনে হয় আমি যুক্তরাজ্যের কোথাও আছি , এই এক্সপ্রেসওয়ের মান এবং সৌন্দর্য দেখে আমি গর্ব অনুভব করছি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছে, বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের মর্যাদা অর্জন করতে চলেছে।- বাসস
রূপনগরের বস্তির আগুন ছড়িয়ে পার্শ্ববর্তী ভবন ও মসজিদে
১১মার্চ,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর রূপনগরে বস্তির আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট। সবশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, রূপনগরের আগুন বস্তি ছাড়িয়ে এখন পার্শ্ববর্তী কয়েকটি বহুতল ভবন ও মসজিদে ছড়িয়ে গেছে। এছাড়া পুড়ে গেছে কয়েকশো ঘর। যত সময় যাচ্ছে আগুনের গতি তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে জানায়, আজ বুধবার (১১ মার্চ) সকালে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত এবং আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়নি। এ বিষয়ে ফায়ার অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ডিউটি অফিসার রাসেল শিকদার বলেন, সকাল পৌনে ১০টায় মিরপুরের রূপনগরের ত ব্লকের বস্তিতে আগুন লাগে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত এবং আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়নি। তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট প্রথমে কাজ শুরু করে। পরে আরও ৯টি ইউনিট যোগ হয়ে মোট ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এরপর পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় আরও ৫টি ইউনিট আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে ২৫টি ইউনিট কাজ করছে। এছাড়াও তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষও যে যার মতো পানি ও বালি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
নির্ধারিত তারিখেই হবে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
১০মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি মাসের ১৭ তারিখেই মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান করা হবে। সেই ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মুজিববর্ষ বাস্তবায়ন আন্তর্জাতিক উপকমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ওই দিন বড় কোনও গণজমায়েতের চিন্তা নেই, তবে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সঙ্গে অনুষ্ঠানের সংযোগ থাকবে। আমাদের অনুষ্ঠানের মধ্যে আরও ছিল ২২ ও ২৩ মার্চ সংসদে বিশেষ অধিবেশন, ২০ মার্চ শিশুদের সংগীত, ২৬ মার্চ ও ২৭ মার্চ অতিথিদের নিয়ে অনুষ্ঠান। সবগুলোই হবে, তবে জনসমাগম এড়িয়ে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তার ২ কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা চেয়েছিলেন মুজিবশতবর্ষ উদযাপন হোক, আমরাও ভক্ত হিসেবে চেয়েছিলাম। কিন্তু মানুষের কথা বিবেচনা করে গণজমায়েতের পরিবর্তে অনুষ্ঠানের সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। আমরা বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছি সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে, তারাও চিঠির জবাব দিয়েছেন। পরিবেশ ভালো হলে আগামীতে বড় অনুষ্ঠান করা হবে। আব্দুল মোমেন বলেন, বিশ্বে করোনা ভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের মন্ত্রণালয় দেশ সফর সীমিত করেছে। এছাড়া আমরা ৬ টি দেশের (চীন, ইরান, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড) ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখছি। ওইসব দেশে থেকে আমাদের দেশে আসতে মেডিকেল টেস্ট করাতে বলেছি, খুব জরুরি না হলে প্রবাসীদের দেশে আসতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে তিনজন আক্রান্ত হয়েছে, এর বাইরে কেউ নেই। দেশের বাইরে সিঙ্গাপুরে ৫ জন আক্রান্ত হয়েছিল তারা সবাই ভালো আছেন। যেসব দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি তাদেরকে আমরা আপাতত দেশে আসতে নিরুৎসাহিত করছি।
জয় বাংলা- কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা
১০মার্চ,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রীয় সব অনুষ্ঠানে জয় বাংলা স্লোগান বাধ্যতামূলক ঘোষণা করলো হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন এ ঘোষণা দেন। রায়ে আদালত বলেছেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সর্বস্তরের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে- জয় বাংলা স্লোগান বলতে ও দিতে হবে। আদালত আরো বলেন, সামনে ১৬ ডিসেম্বর আছে বা পরবর্তী সময়ে যেসব জাতীয় দিবস আছে, প্রতিটি দিবসে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের শীর্ষপর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরের প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে ভাষণ বা বক্তব্যের শুরু ও শেষে জয় বাংলা স্লোগান দিতে হবে। জয় বাংলা কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা চেয়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. বশির আহমেদ। ঐ বছরের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রিটের ওপর রুল জারি করে। রুলে জয় বাংলা কে কেন জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। চলতি বছর ঐ রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবীরা জয় বাংলা কে জাতীয় স্লোগান করার পক্ষে তাদের মত তুলে ধরেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর