সংসদ নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ ইসির
অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী এলাকায় ভোটের পরদিন পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (১২ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, মোবাইল কোর্ট আইন অনুযায়ী, ২০০৯-এর আওতায় আচরণবিধি প্রতিপালের জন্য প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ৩০০টি নির্বাচনি এলাকায় ভোটগ্রহণের পরের দিন পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা প্রয়োজন। প্রতিটি উপজেলায় একজন, সিটি করপোরেশন এলাকায় ভৌগোলিকভাবে পাশাপাশি অবস্থিত প্রতি ৩ থেকে ৪টি ওয়ার্ডের জন্য একজন, সিটি করপোরেশন ছাড়া জেলা সদরে প্রতি পৌর এলাকায় এক থেকে দুইজন এবং পাবর্ত্য এলাকায় ভৌগোলিকভাবে পাশাপাশি অবস্থিত ৩ থেকে ৪টি উপজেলার জন্য একজন করে নির্বাাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ছাড়া সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সংশ্লিষ্ট উপজেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে। যেসব সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মরত নেই, সেসব উপজেলায়, জেলা পর্যায়ে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডারে কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে অথবা বিভাগীয় বা অন্য কোনো অফিস/ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রশাসন ক্যাডারে কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্বাচনের আচরণবিধি পালনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ জানায় ইসি। এর আগে আজ সকালে আগামী ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন ঘোষণা করেছে সিইসি। আর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর। তবে নির্বাচন পেছালেও এই নির্দেশনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও ইসি জানিয়েছেন।
৩০ ডিসেম্বর ভোট,মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২ ডিসেম্বর
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২ ডিসেম্বর এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ ডিসেম্বর। আজ কমিশনের পক্ষ থেকে একথা জানানো হয়। এর আগে আজ সোমবার (৯ নভেম্বর) ইভিএম মেলার উদ্বোধন শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা জানান, আগামী সংসদ নির্বাচন আগামী ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নির্বাচনের রি-সিডিউলে মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন রাখা হয়েছে ২৮ নভেম্বর। পরে কমিশনের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের শেষ সময় ঘোষণা করা হয়। এর আগে, গত ৮ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণের শেষ তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে ১৯ নভেম্বর।
ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তাদের সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে। তিনি আজ বিকেলে এখানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলীয় সভাপতি হিসেবে বক্তৃতাকালে বলেন,নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে শক্তিশালী করবে। আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে আমরা একসাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই এবং যে দল জনগণের ভোট পাবে তারা নির্বাচনে জিতবে। তিনি বলেন, চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে এক সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপে আমরা একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, বিরোধী দলগুলো সংলাপে বিশেষ কিছু দাবি তুলেছে এবং আমরা সেগুলোর অধিকাংশই মেনে নিয়েছি। তিনি বলেন, এখন তার সরকার নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে সবাই যেন সমান সুযোগ পায় তা নিশ্চিতে সতর্ক থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭০টি রাজনৈতিক দলের ২৩৪ জন রাজনৈতিক নেতা সংলাপে অংশ নিয়েছেন, যা ২০ ঘন্টার বেশি সময় ধরে চেলেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে এবং তাঁর দল সব সময় চায় উন্নয়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকুক এবং এই ধারা যাতে থেমে না যায়। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর দল ৩০০টি নির্বাচনী আসনের প্রত্যেকটিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সেরা প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ার চেষ্টা করবে। তবে কিছু আসন দলের মিত্রদের ছেড়ে দেয়া হবে। দলের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও রাশেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের লক্ষ্য নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নিশ্চিত করা: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গণতন্ত্র জোরদার এবং অব্যাহত উন্নয়নের স্বার্থে তাঁর সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠান করা আমাদের লক্ষ্য। আমি আশা করি অন্যান্য রাজনৈতিক দলও এই নির্বাচনে অংশ নেবে। খবর বাসসর বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আজ গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, এটাই বাস্তবতা যে নির্বাচনে অংশ না নিলে একটি রাজনৈতিক দলের শক্তি হারায়। আমরা আশা করি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও নির্বাচনে অংশ নেবে এবং এর মাধ্যমে গণতন্ত্র অধিকতর শক্তিশালী ও দেশের আরো উন্নয়ন হবে। যুবলীগ সভাপতি আলহাজ ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ বক্তৃতা করেন। এরআগে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতৃবৃন্দ ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। নির্বাচন দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার অনেক মেগা প্রকল্প নিয়েছে এবং দারিদ্র্য বিমোচনের অঙ্গীকার করেছে। যদি আমরা ক্ষমতায় আসতে না পারি তাহলে কেউ এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে না। তিনি বলেন, আমরা অনেক মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করে বাংলাদেশে উন্নয়নের ধারা চালু করেছি। আমরা দরিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। যদি আমরা আবার ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্যের হার ৪/৫ শতাংশে নামিয়ে আনা। তখন আমরা বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত বলতে পারবো।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক মাস পেছাতে ইসিকে ঐক্যফ্রন্টের চিঠি
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফন্ট। রোববার (১১ নভেম্বর) ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ইসিকে এ চিঠি দেয়া হয়। এর আগে দুপুর ১টার দিকে প্রেসক্লাবের এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী সংসদ নির্বাচনে নেবে বলে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয়ে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত রায় চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, জেএসডি সহ-সভাপতি তানিয়া রব ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন প্রমুখ। এদিকে, শনিবার (১০ নভেম্বর) কয়েক দফা রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়ার বিষয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট রোববার (১১ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। শনিবার (১০ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানে বৈঠকে বসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি সদস্যরা। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাও। তবে অসুস্থতার কারণে যেতে না পারা ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন তার দল গণফোরামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বেইলি রোডের নিজ বাসভবনে। বৈঠক শেষে ড. কামাল সাংবাদিকদের বলেন, রোববার (১১ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবেই জানাবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত। উল্লেখ্য, আগামী ২৩ ডিসেম্বর (রোববার) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর (সোমবার)। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার)। আর প্রতীক বরাদ্দ ৩০ নভেম্বর (শুক্রবার)।
আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ১৩ নভেম্বর নির্দেশনা দেবে ইসি
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে রিটার্নিং ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ নভেম্বর মঙ্গলবার নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউটে তাদেরকে নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও তাদের সঙ্গে আলোচনা করবে ইসি। ইসি সচিবালয়ের যুগ্ন সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা ও বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম এবং সকল জেলা প্রশাসককে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ হয়েছে। আগামী ১৩ নভেম্বর নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট, ঢাকায় তাদের ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত ব্রিফিংয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারগণ এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব উপস্থিত থাকবেন। এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে নৌকা প্রতীকে ভোট করতে চায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের (বিটিএফ)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার কাছে চিঠি দিয়েছে এ দুটি দল। জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়,গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ২০ এর ১ এর (এ) ধারায় অনুযায়ী ১৪ দলীয় জোটের শরীক দল হিসেবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও ১৪ দলীয় জোট মনোনীত অভিন্ন প্রার্থীদের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নির্বাচনী প্রতীক নৌকা সংরক্ষিত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাধিত করবেন। বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের (বিটিএফ) মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরি স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক দল হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছি। এ ছাড়া ধানের শীষ ও ছাতা এই দুই প্রতীকে নির্বাচন করতে চেয়ে আজ ইসিতে চিঠি দিয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। দলের প্রেসিডেন্ট ড. অলি আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠি সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম এ সংক্রান্ত চিঠি ইসিতে পৌছে দেন। আগামী ২৩ ডিসেম্বর রোববার সংসদ নির্বাচনের ভোট। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর সোমবার। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। আর প্রতীক বরাদ্দ ৩০ নভেম্বর শুক্রবার।
বেআইনি হবে না নির্বাচনী তফসিল পেছানো: এম সাখাওয়াত
অনলাইন ডেস্: সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সিডিউল পেছানো সম্পূর্ণ ইলেকশন কমিশনের এখতিয়ার। সিডিউল পেছানো বেআইনি বা আউট অফ দ্য ল হবে না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা দুবার পিছিয়েছিলাম। আজ রোববার বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইলেকশন কমিশন ইচ্ছে করলে উদ্যোগটি নিতে পারে। এখন আগের মত অনেক দাবি-দাওয়ার কথা শুনছি না যে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে ইত্যাদি। তারা এখন শুধু অনুরোধ করছে, সিডিউল পেছান। নির্বাচন কমিশন বলেছে যে,যারা জোট করবে তাদের যাবতীয় তথ্য রোববারের মধ্যেই ইলেকশন কমিশনে জমা দিতে হবে- রাজনৈতিক অনেক মতানৈক্যের ভেতর বিষয়টি তাড়াহুড়ো হয়ে যাচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, তাড়াহুড়ো না। আরপিওর ভেতরেই এটা আছে, তবে অনেকটা ফাঁকফোকরও আছে। যদি পার্টি রিকোয়েস্ট করে, এটা কোন হার্ড এন্ড ফাস্ট বিষয় না যে ইলেকশন কমিশন একসেপ্ট করতে পারে না। ইলেকশন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যতটুকু যেভাবে আগানো দরকার সব পারবে। রুলিং পার্টি আওয়ামী লীগও দুয়েক দিন বাড়ানোর অনুরোধ জানাতে পারে বলে শুনলাম। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এর বিষয়টি দুইভাবে দেখতে হবে। একটি হচ্ছে- প্রাক নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, যা এক নির্বাচন থেকে পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত। অপরটি হচ্ছে, তফসিলের পরের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। প্রাক নির্বাচনী যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকার কথা সেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কিন্তু ছিল না। তো এখনও প্রভাবটা রয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। যেমন পত্রপত্রিকায় দেখা যাচ্ছে, এখনও এরেস্ট হচ্ছে, গতকালও এরেস্ট হয়েছে। ঐ এফেক্টটি কিভাবে বিরোধীজোট কাটিয়ে উঠবে বা কিভাবে মোকাবেলা করবে তা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। ইভিএম যেখানে বসানো থাকবে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে প্রসঙ্গে সাবেক নির্বাচন কমিশনার বলেন, এখন সেনা মোতায়েন বলতে আমরা কী বুঝছি? সেনাবাহিনী কি সেন্টারে মোতায়েন থাকবে? নাকি তারা ইভিএম কেন্দ্রগুলোর নির্বাচন পরিচালনা বা কনডাক্ট করবে? এটা আইনসিদ্ধ কি না তা ভালভাবে ইলেকশন কমিশনের দেখা উচিত যেহেতু অতীতে এরকম কোন ঘটনা নেই।
আ. লীগের আপত্তি নেই নির্বাচনের তারিখ পেছানো হলে: ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার দাবির বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন পেছাবে কি পেছাবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন পেছানোর এখতিয়ার সরকারের নেই। আজ রোববার ধানমণ্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচনে যে তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে, তা যৌক্তিক। আমরা স্বাগত জানিয়েছি। বিএনপি নির্বাচন পেছানোর দাবি বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশন। আমাদের আপত্তি নেই। তবে নির্বাচন কমিশন একটি দলের দাবির মুখে নির্বাচনের তারিখ পেছাতে পারে না বলেও মন্তব্য করে তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে বহু দল অংশ নেবে। বিএনপি কিংবা তাদের জোটের বাইরেও আমরা আছি, ১৪ দল আছে, বিরোধী দল আছে; তাদের মতামতও ইসিকে বিবেচনায় নিতে হবে। এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ তফসিলকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল স্বাগত জানালেও বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার দাবি করেছে।
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের নিরাপত্তায় থাকবে সেনাবাহিনী
অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে, সেসব কেন্দ্রে এসব পরিচালনা করবে সেনাবাহিনী। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের নিজ কার্যালয়ে শনিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ। নির্বাচনে ইভিএমের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ইসির পক্ষ থেকে যেসব কেন্দ্র ইভিএম ব্যবহার করা হবে কেন্দ্রগুলো সেনাবাহিনীর দ্বারা পরিচালনা করার আলোচনা করেছি। এটি আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। কমিশন সিদ্ধান্ত নিলে কেন্দ্রগুলো সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালনা করা হবে। জোটবদ্ধ নির্বাচন করতে তথ্য জানানোর বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, আগামীকাল রোববারের মধ্যে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন অংশগ্রহণের তথ্য জানাতে হবে। অন্যথায় তাদের স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে হবে। প্রসঙ্গত, ইসির ঘোষিত তফসিল অনুসারে, আগামী ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত। ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে। আর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ নভেম্বর। আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর