১০ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ
অনলাইন ডেস্ক: ১০ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, চাঁদপুর, দিনাজপুর, মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম এবং সিলেটে নতুন ডিসি নিয়োগ দিয়ে বৃহস্পতিবার আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বরগুনা, পিরোজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, নড়াইল, নাটোর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, সাতক্ষীরা ও বগুড়ায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেয় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক অতুল সরকারকে জয়পুরহাট, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর একান্ত সচিব সেবাস্টিন রেমাকে গাইবান্ধা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে সংযুক্ত উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিনকে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক করে পাঠানো হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী আবেদ হোসেন ঠাকুরগাঁও, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী পটুয়াখালী এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব কে এম কামরুজ্জামান সেলিম চাঁদপুরের ডিসির দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগে সংযুক্ত উপসচিব মো. মাহমুদুল আলমকে দিনাজপুরে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত উপসচিব আতাউল গণিকে মেহেরপুর, ভূমি মন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে কুড়িগ্রাম এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এম কাজী এমদাদুল ইসলামকে সিলেটে পাঠানো হয়েছে ডিসি হিসেবে। আলাদা আদেশে ঠাকুরগাঁওয়ের ডিসি মো. আক্তারুজ্জামানকে রাজউকের পরিচালক, চাঁদপুরের ডিসি মো. মাজেদুর রহমান খানকে জীবন বীমা করেপোরেশনের জিএম এবং দিনাজপুরের ডিসি আবু নাঈম মুহাম্মদ আব্দুস সবুরকে রাজউকের পরিচালক পদে বদলি করা হয়েছে। মেহেরপুরের ডিসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষের যুগ্ম-পরিচালক, জয়পুরহাটের ডিসি মোহাম্মদ হোসেনকে সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব এবং গাইবান্ধার ডিসি গৌতম কুমার পালকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব করেছে সরকার। এছাড়া সিলেটের ডিসি নুমেরি জামানকে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব, কুড়িগ্রামের ডিসি মোছা. সুলতানা পারভিনকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এবং পটুয়াখালীর ডিসি মো. মাছুমুর রহমানকে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব পদে বদলি করা হয়েছে।
নির্বাচনে না এলে নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়বে বিএনপি: সিইসি
অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, কোন রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসবে কি না সেটা সেই দলের স্বাধীনতার বিষয়। এটা নির্বাচন কমিশনের সমস্যা নয়। রাজনৈতিক দল নির্বাচনে না এলে সেই দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয়। বৃহষ্পতিবার বিকেলে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একাদশ নির্বাচন উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। সিইসি বলেন, তবে নির্বাচন কমিশন চায়, সবদলের অংশগ্রহনে দেশে প্রতিযোগীতামূলক, প্রতিদ্বন্দিতামূলক, অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হোক। এ জন্য কমিশন সব প্রস্ততি গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে বিএনপির নিবন্ধন ঝুঁকির মুখে পড়বে। নির্বাচন কমিশন আশাবাদি, বিএনপি নির্বাচনে আসবে। ভোটগ্রহণে ইভিএম ব্যবহারের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি নুরুল হুদা বলেন, ইভিএম ব্যবহারের চুড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশন চাচ্ছে না, নির্বাচনে ব্যাপকভাবে ইভিএম ব্যবহার কমিশনও চাচ্ছে না। তবে ভোটকেন্দ্রে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। সিইসি বলেন, ইভিএম ব্যবহার করতে হলে আইনের পরিবর্তন করাতে হবে। এ জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আইন পাস হলে সীমিত আকারে যতটুকু সম্ভব হবে, ততটুকু ব্যবহার করার চেষ্টা করা হবে। তবে তার আগে ইভিএম নিয়ে প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ মানুষকে এ পদ্ধতি সর্ম্পকে সচেতন করা হবে। দেশজুড়ে উন্নয়ন মেলায় ইভিএম সর্ম্পকে প্রদর্শন থাকবে। সেই প্রদর্শনী দেখে রাজনৈতিক দল, জনগণ সন্তুষ্ট হলে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। সিইসি দাবি করেন, ইভিএম এমন এক পদ্ধতি যেখানে নির্বাচনে কোন অনিয়ম করা সম্ভব নয়। ইভিএম নিয়ে বিএনপিকে বোঝানোর চেষ্টা করা হবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে কি না প্রথম আলোর এমন প্রশ্নে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন এখনো ঠিক হয়নি, এটা পরিস্থিতি বুঝে নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। সিইসি নুরুল হুদা আরও জানান, নির্বাচন কবে হবে সেটা এখনো চুড়ান্ত হয়নি। তবে বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই অনুযায়ী ভোটগ্রহণের প্রস্ততি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বগুড়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ নূরে আলম সিদ্দিকী, বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. আশরাফ আলী ভূঞা, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার রাজশাহী সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, র‌্যাব-১২ বগুড়া কমান্ডার মেজর এসএম মোর্শেদসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা। এর আগে সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা জেলা নির্বাচন কার্যালয় ও সার্ভার ষ্টেশনে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে বিশেষ ডাকটিকিট
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের উদ্দ্যোগে অস্ট্রেলিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিশেষ ডাকটিকিট প্রকাশ করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া পোস্টের পার্সোনালাইজড স্ট্যাম্প অফার প্রকল্পের আওতায় এ বিশেষ ডাকটিকিট প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তার জন্মদিনে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ এ ডাকটিকিট প্রকাশ করা হবে। অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর বিশেষ এ ডাকটিকিট অস্ট্রেলিয়া পোস্টের নির্দিষ্ট কয়েকটি দোকানে পাওয়া যাবে। এ উদ্যোগে দাফতরিক সহায়তা করেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এজন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. শাম্মী, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন ও নিউ সাউথ ওয়েলস আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান শিমুন ফারুক রবিন।
যে পাইলটের জন্য রক্ষা পেলেন ইউএস-বাংলার ১৭১ যাত্রী
অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। ১৭১ যাত্রী নিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় ৭৩৭ মডেলের বোয়িং বিমানটি ক্র্যাস ল্যান্ডিং থেকে বাঁচিয়েছেন ক্যাপ্টেন জাকারিয়া। বুধবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে এগারোটায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে বিমানটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পাইলটের অসাধারণ দক্ষতায় ৭৩৭ মডেলের বোয়িং বিমানটি ক্র্যাস ল্যান্ডিং থেকে বেঁচে গেছে। রক্ষা পেয়েছেন ফ্লাইটে থাকা ১১ শিশুসহ (ইনফ্যান্ট) ১৬৪ যাত্রী ও সাত ক্রু। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বিমানটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের কথা নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের পাঁচটি গাড়ি ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জানতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ইউএস-বাংলার ৭৩৭ মডেলের বোয়িং বিমানটির সামনের নোজ হুইল কাজ না করায় পেছনের চাকাগুলোর ওপর ভর করে বিমানটি শাহ আমানতে অবতরণ করে। অবতরণের সময় বিমানটির সামনের অংশে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে সব যাত্রী অক্ষত অবস্থায় বিমান থেকে নেমে আসতে সক্ষম হন। সূত্র আরো জানায়, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটিতে ১৭১ জন যাত্রী ছিল। সামনের নোজ হুইল কাজ না করায় বিমানটি কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণে ব্যর্থ হয়। পরে বিমানটি চট্টগ্রামের আকাশে অনেক্ষণ উড়তে থাকে। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, বিমানটি ক্রাস ল্যান্ডিং করবে। তবে দুপুর দেড়টার দিকে পাইলটের দক্ষতায় বিমানটি শাহ আমানত বিমানবন্দরে শুধু পেছনের চাকাগুলোর ওপর ভর করে ল্যান্ডিং করে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম-পিআর) কামরুল ইসলাম বলেন, ফ্লাইটে ১১ শিশুসহ (ইনফ্যান্ট) ১৬৪ যাত্রী ও সাত ক্রু ছিল। তাদের সবাই নিরাপদে আছেন। ফ্লাইটটি পরিচালনা করছিলেন ক্যাপ্টেন জাকারিয়া। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান বলেও জানান তিনি।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের সংস্কার চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ এর সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাহিনীতে সেনা ও পুলিশ সদস্য পাঠানোর দিক থেকে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের সংস্কারের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে অ্যাকশন ফর পিসকিপিং (এফোরপি) এর ওপর একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অ্যান্তোনিও গুতেরেসও বক্তব্য দেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা একটি বৈশ্বিক জনকল্যাণমুখী সেবা। এই বাহিনীর মর্যাদা ধরে রাখতে আমাদের সবাইকে অবশ্যই একটি ইতিবাচক চিন্তাধারা নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। এটা অনেকের জীবনের আশার আলো জ্বালিয়েছে। আমাদের অবশ্যই এই আশার আলোকে সম্মান জানাতে হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের এখন নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে মোতায়েন করা হচ্ছে। ওই সব স্থানে শান্তি বজায় রাখার মতো পরিস্থিতি নেই। রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে তারা ক্রমবর্ধমান হুমকির শিকার হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের মিশনগুলো প্রায়ই বিভিন্ন মান ও ধরনের বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে থাকে। আর এটা জাতিসংঘ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযানগুলোকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলছে। এজন্য শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া উচিত। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের মতো ক্ষমতা ও সরাঞ্জামাদি তাদের দেয়া উচিত। শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো রাষ্ট্রের সদস্যদের মোতায়েনের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিশ্রুতি এবং সেই অনুযায়ী কতটা নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে তা বিবেচনা করা উচিত। তাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার অবশ্যই উত্তরণ ঘটাতে হবে। আমরা আশা করছি এ ফোর পি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীকে তাদের লক্ষ্য পূরণে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দি ডিক্লিয়ারেশন অব শেয়ার্ড পিসকিপিং কমিটমেন্টস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল বয়ে এনেছে। -বাসস
স্বল্প খরচে প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্বল্প খরচে প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ এবং ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশ্বের দেশগুলোর কাছে স্বল্প ব্যয়ে প্রযুক্তি স্থানান্তরে বিশ্ব সম্প্রদায়ের একটি দায়িত্ব রয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকালে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের প্লেনারি হলে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম আয়োজিত চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে টেকসই উন্নয়ন শীর্ষক এক প্লেনারি সেশনে প্রদত্ত ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতো, হল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট, জনসন অ্যান্ড জনসন এর সিইও এবং মজিলা ফায়ার ফক্সের সিইও এই প্লেনারি সেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সেশনে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের আবহের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বিভিন্ন দেশের কর্মকাণ্ডের প্রতি বিশেষ করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্য খাতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে যে ধরনের চ্যালেঞ্জ এবং ঝুঁকির সৃষ্টি হতে পারে সে সম্পর্কে তাদের চিন্তা-ভাবনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী এর উত্তরে বলেন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ভূখণ্ডের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দেশ। আমাদের সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জই হচ্ছে এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা এবং সুশিক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রযুক্তি সমৃদ্ধ করা, যাতে করে তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা বিধান করতে পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশকে সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত করা যাতে করে সকলে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফল পেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য স্বল্প ব্যয়ে এবং সহজে প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, যেহেতু আমরা বৃহৎ প্রযুক্তি উৎপাদনকারী দেশ নই, তাই আমরা যাতে করে সহজে এবং স্বল্পমূল্যে প্রযুক্তি পেতে পারি সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে এর জনশক্তিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত দক্ষতায় যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। তাই তার সরকার বিভিন্ন করিগরি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যাতে করে শিল্প বিপ্লবের আমলে তাদেরকে কর্মচ্যুত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে পড়তে না হয়। প্রধানমন্ত্রী এ সময় শিক্ষার প্রসারে তার সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে-বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, নানা বৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদান এবং নারী শিক্ষাকে উৎসাহ প্রদান। এখন প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী বাংলাদেশে বৃত্তি-উপবৃত্তি পাচ্ছে, বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতার শুরুতেই তাকে নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট প্রায় ১০ লাখের অধিক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদানের জন্য অভিনন্দিত করেন। এ সময় উপস্থিত সব অংশগ্রহণকারী জোরে করতালির মাধ্যমে এই অভিনন্দনকে স্বাগত জানান। -বাসস
আজ লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লইটে লন্ডন থেকে আজ নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। জাতিসংঘের এ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে শুক্রবার লন্ডন পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। শনিবার লন্ডনে কাটিয়েছেন তিনি। আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি লন্ডনের স্থানীয় সময় শুক্রবার বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। আগে শুক্রবার সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। ১০ দিনের এ সফরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।
জয় আমাদের নিশ্চিত: কাদের
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় নিশ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন দলটি সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে গত ১০ বছরে যেসব উন্নয়ন হয়েছে তাতে নৌকা ভাসতে ভাসতে আগামী ডিসেম্বরে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবে। শনিবার সকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে থেকে সড়কপথে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে সাংগঠনিক সফর শুরুর আগে এ কথা বলেন তিনি। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী পথসভা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। গত ৩০ আগস্ট আকাশপথে ঢাকা থেকে সিলেটে যাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নির্বাচনী যাত্রা। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর ট্রেনযোগে নীলফামারীর পথে দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী যাত্রা হয়। এবারের যাত্রা শেষ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। সড়কপথে সাংগঠনিক সফরের রওনা হওয়ার আগে ওবায়দুল কাদের বলেন,এই সফরে আমরা নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ব্যাপারে কথা বলবো। পাশাপাশি, কোন্দল মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেব। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ সফর থেকে আমাদের সরকারের বিপুল উন্নয়ন ও অর্জনের বার্তাগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দেবো। আমরা আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ব্যাপারে কথা বলব। আওয়ামী লীগের ওপর দেশের জনগণের আস্থা আছে এমনটা দাবি করে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন,আমাদের বিশ্বাস আছে। সেই সঙ্গে গত ১০ বছরে অর্জিত উন্নয়ন ও অর্জন এবং জনগণের ওপর যে আস্থা তাতে করে জয় আমাদের নিশ্চিত। পাশাপাশি আইআরআইয়ের যে সমীক্ষা, জনমত জরিপ তাতে দেখা গিয়েছে আমাদের নেত্রীর জনপ্রিয়তা ৬৬ শতাংশ। আর দল আওয়ামী লীগের ৬৪ শতাংশ পোলারিটি। এটিই বাংলাদেশের ছবি, এটিই জনমতের ছবি। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নৌকা ভাসতে-ভাসতে ডিসেম্বরে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাবে। এ সময় গুলিস্থানে মহানগর নাট্যমঞ্চে যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। অনুমতি নিয়ে তারা যেকোনো সময় মিটিং করতে পারেন। এক্ষেত্রে সরকারের সামান্যতম বাধা থাকার কোনো কারণ নেই। কাজেই তারা তাদের সভা করবে। আমাদের অসুবিধাটা কোথায়! তারা তাদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সভা করবে। এর মধ্যে সহিংস কোনো উপাদান যুক্ত হয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।
শান্তির বাংলাদেশ গড়তে আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি: ড. কামাল
অনলাইন ডেস্ক: শান্তির বাংলাদেশ গড়ার জন্য সকলে এখানে উপস্থিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। আজ বিকালে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্যের নাগরিক সমাবেশে স্বাগত বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, আপনারা অনেক কষ্ট করে এখানে হাজির হয়েছেন। এই জন্য আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাই। আমরা এমন এক সময় এখানে উপস্থিত হয়েছি যখন দেশে গণতন্ত্র নেই। জনগণ উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নেই। দেশে কার্যকর গণতন্ত্র নেই। দুর্নীতি ও দুঃশাসনে ভরে গেছে দেশ। যখন দেশ থেকে দুর্নীতি ও দুঃশাসন দূর হবে তখন বাংলাদেশে শান্তি দৃশ্যমান হবে। তিনি বলেন, জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক। জনগণের মত প্রকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। সেই লক্ষ্যে সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রণয়ণের জন্য আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। এখানে অনেক নেতা উপস্থিত হয়েছেন। আশা করি জনগণকে অনুপ্রেরিত করে বক্তব্য পেশ করবেন তারা। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিনের পরিচালনায় ও ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী। এছাড়া ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মহসিন মন্টু, আওয়ামী লীগের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মনসুর আহমদ, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন। শীর্ষ নিউজ

জাতীয় পাতার আরো খবর