তফসিল ঘোষণার আগে-রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে যাচ্ছে ইসি
অনলাইন ডেস্ক: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন সংক্রান্ত সামগ্রিক পরিস্থিতির ব্যাপারে আলোচনা করতে পুরো কমিশন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বঙ্গভবনে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, আগামী ২৮, ২৯ ও ৩০ অক্টোবরের যে কোনো একদিন রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চাওয়া হয়েছে। তবে আমাদের সময় চাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তার সময় কখন হবে। সুযোগ মতো তিনি আমাদেরকে জানাবেন। আমরা সেই অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করব। তবে আশা করছি সেটা নভেম্বরের আগেই হবে। এই নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও তফসিলসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক বিষয়ে আমরা রাষ্ট্রপতিকে জানাতে চাই। আমাদের সামনে তো জানানোর মতো রাষ্ট্রপতি ছাড়া আর কেউ নেই। সাধারণত তফসিল ঘোষণার আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করা একটি রেওয়াজও বটে। মূলত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করতেই এই সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে বাকি চার কমিশনার ওই সাক্ষাতের সময় উপস্থিত থাকবেন। ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ চলছে পুরোদমে। কমিশনও ইসি সচিবালয়ের কাছে সামগ্রিক প্রস্তুতির ব্যাপারে জানতে চেয়েছে। সেজন্য কমিশন সভার আহ্বান করা হয়েছে। সেদিন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তফসিল নিয়েও আলোচনা হতে পারে। না হলে পরে দ্রুতই আরো একটি কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে তফসিল ঘোষণা নিয়ে। সেদিন হয়তো চূড়ান্তভাবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে ইসি। ইসি সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর থেকে আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা আছে ইসির। সেজন্য নভেম্বরের প্রথম দিকে তফসিল ঘোষণা করতে পারে কমিশন। এরপর ডিসেম্বরের শেষ অবধি অথবা জানুয়ারির শুরুতে নির্বাচনের দিন ধার্য করতে চায় নির্বাচন কমিশন। সুতরাং নির্বাচনী প্রস্তুতি, তফসিল ঘোষণাসহ নির্বাচন সংক্রান্ত সমগ্র বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চায় কমিশন। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য রাষ্ট্রপতি কোনো পরামর্শও দিতে পারেন। ইসি সূত্র আরো জানায়, আগামী ১৫ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে ৩৬তম সভায় বসবে কমিশন। সেখানে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব কাজের টুকিটাকি হিসাব থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কাছে জানতে চাইবেন কমিশনাররা। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে তফসিলসহ অন্য বিষয়গুলো নিয়ে ভাববে ইসি।
সমাজকে সুন্দর রাখতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন : প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: অশুভ তৎপরতা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সমাজকে সুন্দর রাখতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। তাই সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ হয়ে কাজ করতে টেলিভিশন মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকালে, তেজগাঁওয়ের নিজ কার্যালয়ে বেসরকারি টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন, অ্যাটকোর পরিচালকদের সাথে মতবিনিময়ে তিনি এ আহ্বান জানান। সামাজিক মাধ্যমের কারণে সমাজে বেড়ে চলা অশান্তি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অপপ্রচার রোধে এ আইন জনগণকে সুরক্ষা দেবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশ ও সমাজের উন্নয়নে জনগণকে সঠিক পথ দেখাতে উদ্যোগী হবে টিভি মালিকরা। সে বিষয়ে ভূমিকা রাখতে টিভি স্টেশনগুলোর মালিকদের তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টেলিভিশন মালিকদের সাথে ঘণ্টা দুয়েক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে অ্যাটকো প্রেসিডেন্ট সালমান এফ রহমান জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি সংশোধনী বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত সম্প্রচার আইন ও গণমাধ্যমের কর্মী আইন অনুমোদনের জন্য আগামী সোমবার মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
গ্রেনেড হামলা মামলার রায় বিশ্ব গণমাধ্যমে
অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বের প্রধান প্রধান সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হচ্ছে বাংলাদেশে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দেয়ার খবর। এর মধ্যে আল-জাজিরা দিনের প্রধান শিরোনাম করেছে খবরটিকে। ২০০৪ সালের হামলার ঘটনায় ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত শিরোনামে প্রকাশিত আল-জাজিরার প্রধান খবরের উপ-শিরোনামে বলা হয়,বাংলাদেশের শীর্ষ বিরোধীদলীয় নেতা তারেক রহমানকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে রায়ে। আল-জাজিরার সংবাদে আরও বলা হয়,বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির অভিযোগে এখন জেল খাটছেন। চলতি বছরের শেষে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে জেলে যেতে হয়। বিবিসির শিরোনাম ছিল ২০০৪ সালে সমাবেশে নৃশংস হামলার ঘটনায় ১৯ জনের ফাঁসি দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত। সংক্ষিপ্ত সংবাদটির বডিতে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার একক ছবি ব্যবহার করে ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া এখন জেলে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার শিরোনাম ছিল শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছেলের যাবজ্জীবন, ১৯ জনের ফাঁসি।অন্যদিকে ভারতের ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস শিরোনাম করেছে বাংলাদেশে বিরোধীদলীয় নেতার যাবজ্জীবন। পশ্চিমবঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকা দ্বিতীয় শিরোনামে ছেপেছে রায় দেয়ার খবর। শিরেনাম ছিল হাসিনার উপর হামলা: মৃত্যুদণ্ড ১৯, খালেদা-পুত্র সহ যাবজ্জীবন ১৭ জনের।
তারেকের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল: আইনমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ঘটনার মূলহোতাদের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ের নিজ দফতরে রায় পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, রায়ের কপি হাতে পেলে আমরা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেব। তারেক-হারিছদের সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে আপিলের সিদ্ধান্ত নেব। তবে কোনো কিছুই এই মুহূর্তে চূড়ান্ত নয়। সামগ্রিকভাবে এই বিচারের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী। দুপুরে নাজিম উদ্দিন রোডে বিশেষ আদালতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। শীর্ষ নিউজ
২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আগামীকাল
অনলাইন ডেস্ক: বহুল আলোচিত একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় দেওয়া হবে আগামীকাল। রায়ে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হবে প্রত্যাশা অ্যাটর্নি জেনারেলের। অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা আশা করছেন তাদের মক্কেলরা খালাস পাবেন। এদিকে, আলোচিত এই মামলার রায়কে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। গত ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় তৎকালীন মহিলা লীগ সভাপতি আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। দলীয় সভাপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আহত হন অসংখ্য নেতাকর্মী। ভয়াবহ এই হামলার ঘটনায় ওই দিন মামলা হয় মতিঝিল থানায়। এই ঘটনার পর নোয়াখালীর সেনবাগের এক ভবঘুরে যুবক জজ মিয়াকে গ্রেফতার দেখিয়ে হাজির করা হয় আদালতে। নানা প্রলোভন আর অত্যাচার নিপীড়ন করে হামলার দায় স্বীকার করতে রাজি করানো হয় তাকে। কিন্তু অচিরেই বের হয়ে আসে থলের বিড়াল। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নতুন করে তদন্তের পর দেওয়া হয় অভিযোগপত্র। ৬১ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অধিকতর তদন্ত করে দেওয়া হয় সম্পূরক চার্জশিট। আসামি করা হয় তারেক রহমান, হারিস চৌধুরীসহ ৩০ জনকে। মোট আসামি সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২ জনে। এদের মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ আসামি পলাতক রয়েছে। আসামিদের মধ্যে জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদ ও জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও শাহেদ শরীফুল ইসলাম বিপুলের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় অব্যাহতি দেওয়া হয় তাদের। ১১৯ কার্যদিবস শুনানির পর ধার্য হয় রায়ের দিন। অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, ইতিহাসের বর্বরতম একটি হত্যাকাণ্ড এটি। যে কটি হত্যাকাণ্ড আমাদের দেশে হয়েছে, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, জেল হত্যাকাণ্ড সেগুলোর মতো এটিই একটি হত্যাকাণ্ড। এই মামলার রায় সমগ্র জাতীর জন্য প্রত্যাশিত এবং আশা করি দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে।' আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেওয়া হলে তারেক রহমানসহ সকল রাজনৈতিক নেতা নির্দোষ প্রমাণ হবেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা আশাকরি যদি সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হয় তাহলে এদের কাউকে সাজা দেয়া যাবে না আইনগতভাবে। এদিকে পুলিশ বলছে, রায়কে ঘিরে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। তবে রায়ের দিন পুরো রাজধানী নিরাপত্তার জোরদার থাকবে। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) শেখ নাজমুল আলম বলেন, 'দশ তারিখের রায়কে কেন্দ্র করে আমাদের একটা প্রোগ্রাম করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে কেউ যাতে ঢাকা শহরে সহিংস ঘটনা ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে। পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল একের বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন।
বরিশালে নির্মিত হবে দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র : প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের দ্বিতীয় পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, আমরা ২৪শ মেগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছি রূপপুরে। আমরা ইতোমধ্যে বরিশাল বিভাগের কয়েকটি দ্বীপ সার্ভে করেছি। আমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা রয়েছে বরিশালের এই দ্বীপগুলোর একটিকে বেছে নিয়ে ভবিষ্যতে আরেকটি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র আমরা করবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (বিএসএমসি) সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সরকার প্রধান বলেন, বরিশালসহ সারাদেশে তাঁর সরকার একশ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। ভোলা থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে বরিশালে যেন গ্যাস আসে তার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা আমরা ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে। এই অঞ্চলে কিছু শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠা একান্তভাবেই প্রয়োজন এবং আমরা সেভাবেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ সময় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তৃতা করেন। আর স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালিক গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ-র শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁর সরকারে গবেষণায় প্রণোদনা দানের ফলে দেশীয় বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যেই লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধান বীজ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলমগ্ন ধান উৎপাদনেরও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, আর আমাদের গোপালগঞ্জের ধাপের ওপর করা সবজির চাষ বা ফ্লোটিং চাষ পদ্ধতি আমরা এ অঞ্চলসহ সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছি। এক সময় শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত বরিশালে যেন আবার সুদিনে ফিরতে পারে, সেজন্যও আমরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছি। জনগণের দোড়গোড়ায় সব ধরনের সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁর সরকার ব্যাপক কর্মসূটি বাস্তবায়ন করে যচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণের সাথে সাথে তাদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা-দীক্ষা সব দিক থেকে মানুষ যেন আরো উন্নত হয়, সমৃদ্ধশালী হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং যার উন্নয়নের ছোঁয়াটা দেশের মানুষ পাচ্ছে। জিনিসপত্রের দামও আমরা নিয়ন্ত্রণে রেখেছি, তেমনি মানুষের মাথাপিছু আয়ও আমরা বৃদ্ধি করেছি। সরকার প্রধান বলেন, নদীগুলো ড্রেজিং করে নৌপথগুলোকে আমরা পুনরায় চালু করছি। তার ফলে অল্প খরছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও আরো সম্প্রসারণ হতে পারবে। যোগাযোাগের ক্ষেত্রে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বরিশালসহ পুরো দক্ষিণ জনপদটিই তাঁর সরকারের শাসনামলে আর অবহেলিত নয় স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি পায়রা সমুদ্র বন্দরের কথা উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে ওটা গভীর সমুদ্রবন্দরে রুপান্তরিত হবে এবং ইতোমধ্যেই সেখানে ১৩শ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ এক হাজার বেডের করা সহ সরকারের অন্যান্য পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাশাপাশি আমাদের একটা পরিকল্পনা রয়েছে- প্রত্যেক বিভাগে আমরা একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করবো। ইতোমধ্যে ৪টি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আমরা করেছি। এ অঞ্চলেও করবো। তবে, একটি কথা আমি স্পষ্ট বলে দেই- কোন মেডিকেল কলেজকে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর করবো না। বিশ্ববিদ্যালয় হবে সম্পূর্ণ আলাদা। আর বিশ্ববিদ্যালয় হবে গবেষণামূলক, বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে পোষ্ট গ্রাজুয়েশন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেবল পোষ্ট গ্রাজুয়েশন এবং গবেষণা থাকবে এবং সেখানে শুধু নার্সিং ট্রেনিয়ের ব্যবস্থাটা থাকবে, এটা সম্পূর্ণ আলাদাভাবে করবো। সকল মেডিকেল কলেজগুলো সেখানকার স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এফিলিয়েটেড থাকবে. যোগ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, তাঁর দেশের মানুষ যেন সেবা পায় সেজন্য তাঁর সরকার ইতোমধ্যেই ডাক্তার এবং নার্স একের পর এক নিয়োগ দিয়ে চললেও দু:খজনক যে আমাদের উপজেলাগুলোতে ডাক্তার থাকছেনা। তিনি বলেন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে জেলা এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোতে তাঁর সরকার শয্যা এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করে দিলেও বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় অপারেশন থিয়েটার পড়ে আছে কিন্তু অপারেশনের জন্য, সার্জন, এনেসথেসিষ্ট, নার্স কেউ নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু প্রতিষ্ঠান করে যাব আর সেগুলি অবহেলিত থাকবে, এটা কিন্তু হতে পারে না। মানুষের সেবা দেওয়াটা প্রত্যেকের দায়িত্ব আমি আশা করি এই সেবাটা প্রত্যেক মানুষই পাবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রত্যক উপজেলায় বহুতল ভবন নির্মাণে তাঁর সরকারের পরিকল্পনা পুণর্ব্যক্ত করে বলেন, এই সব ভবনে তাঁরা (চিকিৎসকবৃন্দ) ভাড়ায় আবাসন সুবিধা লাভ করতে পারবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর দয়াগঞ্জ ও ধলপুর সিটি কলোনিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য নির্মিত ৪টি বহুতল আবাসিক ভবনে ৩৪৫টি আবাসিক ফ্লাটের উদ্বোধন করেন। এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দোকার মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান অনুষ্ঠানে প্রকল্পের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা খান মোহাম্মাদ বিলাল সহ স্থানীয় উপকারভোগী জনগণ এসময় দয়াগঞ্জ প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন। সরকার সিটি কর্পোারেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাসনের জন্য ২০১৩ সালে দয়াগঞ্জে ৫টি, ধলপুরে ৫টি এবং সূত্রাপুরে দুটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১৯০ কোটি টাকা। সেই প্রকল্পের আওতায় আজকে ৪টি ভবনের উদ্বোধন হলো এবং আরো ৮টি নির্মাণ কাজ এখনো চলছে। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ছেলে-মেয়েরা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেদের উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মত দক্ষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে। দৈনিক পরিস্কার পরিচ্ছতা অভিযানের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতির সন্নিবেশন ঘটাতে প্রধানমন্ত্রী এ সময় সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছনা বিভাগগুলোর প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী গৃহহীনকে ঘর দেওয়ায় তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যাদের ঘর-বাড়ি নেই তাদের আমরা ঘরবাড়ি করে দেব এবং দিচ্ছি। আর যারা আমাদের চারপাশকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখছে তাদের জীবন ধারণের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশের নিশ্চয়তা বিধান করাও সরকারের কর্তব্য।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
অনলাইন ডেস্ক: মন্ত্রিসভা ইয়াবা বহন, বিক্রি, সেবন, চোরাচালানে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি, মৃত্যুদন্ডের প্রস্তাব রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ সোমবার তাঁর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়া ইয়াবার বিষয়ে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। আইনে ৫ গ্রামের বেশি ইয়াবা বহন, বিক্রি, সেবন, চোরাচালানে যুক্ত থাকলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অপরাধে সর্বনিম্ন সাজার প্রস্তাব করা হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদন্ড। ৫ গ্রামের কম ইয়াবা বহনে সর্বনিম্ন ৫ বছর ও সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদন্ড। এছাড়াও উভয় ক্ষেত্রেই অর্থ দন্ড জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম একথা বলেন। তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের আগের আইনটি ১৯৯০ সালে করা। ২৮ বছরের পুরনো আইনটির সঙ্গে বর্তমানে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী সব আইনের সমন্বয় করে নতুন খসড়া তৈরি করা হয়েছে। মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, নতুন আইনে এই সময়কালে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়া ইয়াবা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া হেরোইন-কোকেনসহ সমজাতীয় ক শ্রেণিভুক্ত মাদকদ্রব্য ২৫ গ্রাম বা তার বেশি পরিমাণে বহনে সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ২৫ গ্রামের কম বহনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের এবং সর্বনিম্ন ২ বছরের কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সচিব জানান, যদি কোনও পানীয়তে ০.৫ শতাংশ বা এর বেশি পরিমাণ অ্যালকোহল থাকে তবে সেটি বিয়ার হিসেবে গণ্য হবে। এই জাতীয় পণ্য বিক্রির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্সের কোনও শর্ত ভঙ্গ করলে, লিখিত মুচলেকা প্রদান সাপেক্ষে এক লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। তিনি বলেন, শিসাবার ও ডোপ টেস্টের মত বিষয়গুলো আইনে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। সব ধরনের মাদককে নতুন আইনে যুক্ত করা হয়েছে। এমন কোনো বিষয় নেই এই আইন যা কভার করবে না। এছাড়াও বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০১৮ এর খসড়ার চূড়ান্ত এবং ‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড আইন,-২০১৮ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। এছাড়াও সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবলে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী ফুটবল দলকে মন্ত্রীসভার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়।-বাসস
ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলসহ ৭টি বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি
অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল, ২০১৮সহ সংসদের ২২তম অধিবেশনে পাস হওয়া ৭টি বিলে সম্মতি দিয়েছেন। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় রাষ্ট্রপতি আজ এ বিলগুলোতে সম্মতি প্রদান করেছেন। সম্মতি দেয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল, ২০১৮ ছাড়া অন্য বিলগুলো হচ্ছে, সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮, আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’য়া আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এর অধীন কওমি মাদরাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান প্রদান বিল, ২০১৮, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিল, ২০১৮ পণ্য উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত্ব শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্রমিক (চাকরির শর্তাবলী) বিল, ২০১৮,বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট বিল,২০১৮ ও কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট বিল,২০১৮।-বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর