সাগর-রুনি হত্যার ৮ বছর পূর্তি মঙ্গলবার
১০ফেব্রুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হত্যার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। শুধু ৪৮ ঘণ্টা নয়, কেটেছে দুইবারের মতো ৪৮ মাস বা ৮ বছর। কিন্তু প্রকৃত অপরাধীদের এখনও পাকড়াও করা যায়নি। আদালতে চাঞ্চল্যকর এই মামলার প্রতিবেদন এখনো জমা দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা Rab। এ হত্যাকাণ্ডের আট বছর পূর্তির একদিন আগে আজ সোমবার ফের মামলাটিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য আছে। তদন্ত শেষ না হওয়ায় আজও আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারছে না Rab বলে এক সূত্রে জানা যায়। আজও আদালতে সময় চাওয়া হবে। আট বছরে এ মামলায় আদালতের মোট দুই শতাধিক কার্যদিবস ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে শুধু তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৭১ বার সময় নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। দিনটি ছিল ২০১২ সালে ১১ ফেব্রুয়ারি। রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারোয়ার (সাগর সারোয়ার) ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন নাহার রুনা (মেহেরুন রুনী) দম্পতি খুন হন। ঘটনার পরের দিন রুনীর ভাই নওশের আলম রোমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। আগামীকাল মঙ্গলবার এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ৮ বছর পূর্ণ হবে। এ পর্যন্ত মামলার কোন অগ্রগতি না হলে আশা ছাড়েননি তাদের স্বজনরা। সাগর সারোয়ারের মা সালেহা মনির বলেন, ৩০ বছর পর যদি সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার বিচার শুরু হতে পারে, তবে আমাদের সন্তান হত্যার বিচার কেন হবে না। একদিন না একদিন বিচার হবেই। হয়তো আমি দেখে যাব, না হয় দেখে যেতে পারব না। তদন্ত সংস্থার সদিচ্ছা দরকার। আর আদালতকে ভূমিকা নিতে হবে উল্লেখ করে সালেহা মনি বলেন, তারা (আদালত) তদন্তের জন্য একটি সময় বেঁধে দিতে পারেন। যদি আমার সন্তানরা রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে থাকে তদন্ত করে দেখাক, আমি বিচার চাইব না। মামলায় যারা গ্রেফতার হয়েছে তারা হতে পারে অন্য কোনো ক্ষেত্রে অপরাধী, তবে এ ঘটনায় নয়। তাই প্রকৃত আসামি গ্রেফতার এবং বিচারের আশায় আছেন বলে জানান তিনি। মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (ডিবি) পর Rapid Action Battalion (Rab) তদন্তেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। ঘটনাস্থলে দুই অজ্ঞাত পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে। তবে তাদের শনাক্ত করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল্লাহ আবু বলেন, এটা দুঃখজনক যে, আট বছরেও মামলাটির তদন্ত শেষ হয়নি। বিলম্ব জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি করে। আশা করি তদন্ত সংস্থা সেটা উপলব্ধি করে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এ মামলার তদন্তকাজ প্রথমে শুরু করেন শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক মো. জহুরুল ইসলাম। এরপর ২০১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি গোয়েরন্দা শাখার (উত্তর) পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলম এ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। হাইকোর্ট বিভাগের এক রিট পিটিশনে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্তভার Rapid Action Battalion (Rab) কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়। পরদিন ১৯ এপ্রিল Rab সদর দফতরের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার মো. জাফর উল্লাহ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। Rabর এ কর্মকর্তা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ায় ২০১৪ সালের ১২ মার্চ এ মামলার তদন্তভার পান Rab সদর দফতরের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়ারেছ আলী মিয়া। নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি এ কর্মকর্তা মামলার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী সাগর-রুনীর ছেলে মাহির সরোয়ার মেঘকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার জবানবন্দি ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করেন। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি Rab সদর দফতরের সহকারী পরিচালক সহকারী পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহম্মদ এ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। তিনি মামলার নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ২০১৮ সালের Rab সদর দফতরের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সহিদার রহমানের হাত ঘুরে বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম। তিনি আগের সাক্ষীদের পর্যালোচনা করে তদন্ত অব্যাহত রেখেছেন। আট বছরে Rab এ মামলার পাঁচটি তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, একই বছরের ৭ জুন, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর ও সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২১ মার্চ তদন্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তদন্ত অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিটি প্রতিবেদনে প্রায় একই ধরনের তথ্য উল্লেখ করা হয়। সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে আলামত পরীক্ষা করে ঘটনাস্থলে দুই অজ্ঞাত পুরুষ ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এছাড়া আগের চারটি অগ্রগতি প্রতিবেদনের মতো সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদনেও বলা হয়- ঘটনাস্থল থেকে চুরি যাওয়া ল্যাপটপ বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে কিনা। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। মামলার ভিকটিম মিডিয়া কর্মী হওয়ায় তদন্তকালে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত, বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ, সমসাময়িক অন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিশ্লেষণ, ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী থানাসমূহে একই অপরাধ প্রক্রিয়ায় সংঘটিত অপরাধ ও অপরাধীদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রিল কাটা অপরাধে চোর-ডাকাতদের বিষয়েও নিবিড়ভাবে তদন্ত অব্যাহত আছে। হত্যাকাণ্ডের পর মামলাটিতে নিহত রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান, বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ গ্রেপ্তার হন। তাদের মধ্যে তানভীর ও পলাশ রুদ্র পাল জামিনে আছেন।- একুশে টেলিভিশন
করোনা ভাইরাস: সর্বোচ্চ সতর্কতায় বাংলাদেশ
১০ফেব্রুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চীনের উহানে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত চার বিদেশিসহ ৯০৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ হাজারের কাছাকাছি। যা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। নতুন এ ভাইরাস প্রতিরোধে গত ৩ ফেব্রুয়ারি এক জরুরি বৈঠকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যেভাবেই হোক করোনাকে প্রতিরোধ করতে হবে বলে কঠোর বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। সে আলোকেই স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ করোনা ভাইরাস ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা নিয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেশের সকল আন্তর্জাতিক চেকপোষ্টে প্রাথমিক সংক্রামক মেশিন বসানো হয়। একইসঙ্গে আকাশপথে প্রথম দিকে শুধু চীন ফেরত যাত্রীদের পরীক্ষা করেই দেশে ঢুকতে দেয়া হলেও পরে বিদেশ ফেরত প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ১২ হাজার যাত্রীকে পরীক্ষার আওতায় আনা হয়। তবে চীন ফেরত বর্তমান কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) দেয়া সূত্র অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাবে কারও মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ফলে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ নতুন এই ভাইরাসমুক্ত। যদিও এখনও দেশে এই নতুন করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা পদ্ধতি সীমাবদ্ধ বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তারপরও ২০১৯-এনসিওভি প্রতিরোধে সকল প্রস্তুতি বাংলাদেশের রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। অবশ্য, গতকাল রোববার সিঙ্গাপুরে প্রথমবারের মতো এক প্রবাসী বাংলাদেশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে আশার কথা হল, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি দেশ বা অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে ভারত ও মিয়ানমার। এ তালিকায় নাম নেই বাংলাদেশের। সম্প্রতি জার্মানির হামবোল্ট ইউনিভার্সিটি ও রবার্ট কচ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। উহান শহর থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাস সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে থাইল্যান্ড, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। থাইল্যান্ডে এ পর্যন্ত নতুন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ জন। জাপানে আক্রান্ত হয়েছেন ৯০ জন; এদের মধ্যে ৬৪ জনই একটি প্রমোদতরীর। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ জন। তারপরও সর্বোচ্চ সতর্কতায় বাংলাদেশ। কেননা, এখানকার আবহওয়া ও প্রকৃতির অবস্থা বিবেচনা করলে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, করোনা টেস্টের ফলাফল আরও দ্রুত পেতে কিছু সিস্টেম তৈরি হয়েছে, সেগুলোও শিগগিরই বাংলাদেশে পৌঁছে যাবে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, উন্নত বিশ্বের যে দুই থেকে তিনটা দেশ ল্যাবরেটরি নমুনা পরীক্ষার পদ্ধতি বের করেছে তা কয়েকদিনের ভেতরে আমাদের দেশেও আসবে। তখন আর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আর কোথাও পাঠাতে হবে না। আমরা নিশ্চিত করলেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেটা মেনে নেবে। কারণ, আমাদের ল্যাব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। তবে Rapid টেস্টের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে বাংলাদেশে কিছু চাহিদার কথা জানিয়েছে। কিন্তু সেগুলো এখনও দেশে না পৌঁছায়নি। আগামি কয়েকদিনের মধ্যে সেগুলো পাওয়া যাবে। করোনার ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রস্তুত কিনা প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, আমি মনে করি আমরা প্রস্তুত। কারণ, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস চীনের মতো হবে-এটা আমরা মনে করি না। পৃথিবীতে সব দেশেরই এখন প্রস্তুতি রয়েছে। চীনে ঝুঁকিপূর্ণ যে এলাকা রয়েছে সেগুলো তারা সিল করে দিয়েছে। প্রথম দিকে তাদের প্রস্তুতির ঘাটতি থাকলেও এখন সেটা শক্তিশালী হয়েছে। চীন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বা আক্রান্ত যারা রয়েছেন তারা বাইরে বের হতে পারছেন না। একইসঙ্গে সারা পৃথিবীতে মানুষ যখন অন্য দেশে যাচ্ছে তখন সে দেশ থেকে বের হওয়ার আগেই সেখানে প্রথম স্ক্রিনিং হয়ে আসছে, সেখানেও কিন্তু প্রটেকশন আছে। আবার বাংলাদেশে যদি কেউ সেরকম অবস্থায় (আক্রান্ত হওয়ার পর) আসতে চায়, তাহলে তাদের শনাক্ত করে ফেলার মতো কৌশল বর্তমানে আছে আমাদের। তিনি বলেন, কাউকে যদি সন্দেহভাজন মনে হয় তাহলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। পরীক্ষার প্রয়োজন হলে সেটা করা হবে, যেমনটা এখন করা হচ্ছে। যদি কেউ আক্রান্ত হয় তাহলে রোগ যেন ছড়াতে না পারে তার ব্যবস্থাও করা হবে। সেজন্য আমাদের সব ধরনের সামর্থ্য এবং প্রস্তুতি রয়েছে অপরদিকে আইইডিসিআর বলছে, করোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এর সঙ্গে অনেক ধরনের হিসাব-নিকাশ আছে। তাই জ্বর-সর্দি-কাশি কিংবা শ্বাসকষ্ট হলেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার দরকার নেই। আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, চীন থেকে ফেরত আসা অনেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন। তারা রোগ শনাক্তকরণের জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে, চীনের সব প্রদেশে একইসঙ্গে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা যদি উহানসহ চীনের অন্য এলাকা থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার ১৪ দিন আগে এসে থাকেন তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আবার উহান থেকে আসার পর যদি ১৪ দিন অতিক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। চীন থেকে আসার ১৪ দিন পার হওয়ার আগে কারও মধ্যে যদি কোনও লক্ষণ দেখা যায় তাদেরই কেবল আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সেভাবে ছড়াবে না। যদি অনেক বেশি কেস হয়ে যায়,তখন আর পরীক্ষার প্রয়োজনই হবে না। কারণ এটা কমন ফ্লু। এর কোনও বিশেষ চিকিৎসা নেই। আর এর পরীক্ষা পদ্ধতি শুধু বাংলাদেশ নয় পৃথিবীজুড়ে অপ্রতুল। আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, বর্তমানে করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করার পর ফলাফলের জন্য ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। আর কয়েকদিন পরই Rapid টেস্টের সব ধরনের ফ্যাসিলিটিজ দেশে চলে আসবে। তখন আর ৪৮ ঘণ্টা নয়, ২৪ ঘণ্টাতেই নমুনা পরীক্ষার ফল জানা যাবে। এদিকে, করোনার মহামারিতে ভুগতে থাকা চীনে বসবাসরত ১৭১ বাংলাদেশি দেশে ফেরত আসতে চাইলেও বেইজিংয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আপাতত তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তবে তাদের খাদ্য ও অন্যান্য সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস। চীনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আপাতত তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ভেজাল ওষুধ: সাড়ে ১২ কোটি টাকা জরিমানা
০৯ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, গত বছর নকল-ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির দায়ে ২ হাজার ১৪৫টি মামলায় ১২ কোটি ৪১ লাখ ৬ হাজার ৪৮৪ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ রোববার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের বেনজীর আহমদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। মন্ত্রী জানান, একই সময় ৩৯ জন আসামীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও ৪৪টি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা এবং ৪৬ কেটি ৬২ লাখ টাকার মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করা হয়। তিনি বলেন, এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জিএমপি গাইডলাইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় ৪১টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। তিনটি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওষুধ উৎপাদন সকল প্রকার ওষুধ উৎপাদন স্থগিত এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৯টি ওষুধ উৎপাদন স্থগিত করা হয়েছে। জাহিদ মালেক বলেন, এছাড়া সরকারি বিশ্লেষক কর্তৃক মানবর্হিভূত ৯টি ওষুধের নিবন্ধন সাময়িকভাবে বাতিল এবং ড্রাগ কন্ট্রোল কমিটি থেকে ৯৯টি জেনেরিক ওষুধ বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ওষুধের অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিদ্যমান আইনকে আরো যুগোপযুগি করতে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে প্রস্তাবিত ওষুধ আইন অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মিজান-বাছিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ
০৯ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অবৈধভাবে তথ্যপাচার ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। আজ রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ আসামিদের উপস্থিতিতে এ চার্জশিট গ্রহণ করেন। আদালত মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এ বদলির আদেশ দেন। একই সঙ্গে ৪ এপ্রিল চার্জ শুনানির তারিখ ধার্য করে দেন। এর আগে ১৯ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েসের আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিলাহ। আদালত ৯ ফেরুয়ারি চার্জশিটটির শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। ৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যলয়-১ এ দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে মামলা করেছিলেন।
সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক করে গড়ে তোলা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
০৯ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে স্বশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আজ রোববার সকালে মিরপুরের সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজে গ্রাজুয়েশন সম্পন্নকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন। সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, দুর্যোগ মোকাবেলাসহ সব কাজে সুনাম অর্জন করেছে সশস্ত্র বাহিনী। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, শুধু সামরিক অফিসার হিসেবে নয়, মানবিক গুণাবলীর কারণে বাংলাদেশের সেনারা মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। সরকারপ্রধান জানান, বিগত ১০ বছর ক্ষমতায় থাকায় দেশের আর্তসামাজিক উন্নতির পাশাপাশি সামরিক বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কোর্স উত্তীর্ণকারী সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন। এবছর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১২৫ জন অফিসার, নৌবাহিনীর ৩৪ জন অফিসার ও বিমান বাহিনীর ২২ জন অফিসার ডিএসসিএসসি কোর্সে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এছাড়া চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, নাইজেরিয়া, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের ৫৪জন সেনা কর্মকর্তার হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৯-২০২০ কোর্সে মোট ২৩৫ জন কর্মকর্তা গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।
চীনে থাকা ১৭১ বাংলাদেশিকে ফেরত আনা সম্ভব নয়: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
০৮ফেব্রুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চেষ্টা থাকলেও চীন থেকে ১৭১ জন বাংলাদেশিকে আপাতত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। শনিবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে এক অনুষ্ঠানে চীনে থাকা এসব বাংলাদেশিদের ফেরত আনার ব্যাপারে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। চীনজুড়ে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় এর উৎপত্তিস্থল উহান থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারী ৩১২ বাংলাদেশিকে ফেরত আনে বাংলাদেশ সরকার। এরপর থেকেই ওই পাইলটদের অন্য দেশ ঢুকতে দিতে না চাওয়ায় বিপাকে পড়েছে বিমান। অন্যদিকে চীনের বিভিন্ন শহরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটানো বাংলাদেশিদের অনেকে ফেরার দিন গুণছেন। এই পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা এখন আসতে চাচ্ছেন, তাদের জন্য আমরা অনেক খরচ করেছি। তারপরও সম্ভব হচ্ছে না। বিমানের ক্রুরা কেউ বাইরে যেতে পারছে না, বিমান কোথাও যেতে পারছে না। এমনকি সিঙ্গাপুরে পর্যন্ত যেতে পারছে না। তিনি জানান,তাদের দেশে ফেরত আনার ক্ষেত্রে একমাত্র চাইনিজ চাটার্ড ফ্লাইটে সম্ভব হত। চীন এক পর্যায়ে রাজিও হয়েছিল। কিন্তু পরে তারা না করে দিয়েছে। আমরা তো কোনো ফ্লাইট পাঠাতে পারছি না, কোনো ক্রুও যেতে চাচ্ছে না। চীনে থাকা ওই বাংলাদেশিদের অন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে জানিয়ে মোমেন বলেন, তাদের আরও অন্তত কিছুদিন সেখানে থাকতে হবে, তারপর দেশে ফিরতে হবে। তাদের খাওয়া-দাওয়া চাইনিজরা এনশিওর করছে। ২৩টি জায়গায় বাংলাদেশিরা থাকে, সবগুলো জায়গায়ই খাবার, পানি সময়মতো পাঠিয়ে দিচ্ছে তারা। তারা খাবার সঙ্কটে আছে বলে যেসব কথা শোনা যাচ্ছে, তা সঠিক না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দূতাবাস ওদের সাথে সব সময় যোগাযোগ করছে। ৩৮৪ জনের একটা গ্রুপ কনটিনিউয়াসলি খোঁজ নিচ্ছে তাদের। মরণব্যাধি এ ভাইরাসে চীনে এখন পর্যন্ত এক মার্কিন নাগরিকসহ ৭২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ২০ বছর আগে চীনের মূল ভূখণ্ড এবং হংকংয়ে সার্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যাকেও ছাড়িয়েছে করোনা ভাইরাস। নতুন ধরনের এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। শুধু চীন নয়, বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশে ছড়িয়েছে এ ভাইরাস।
বিমানে বাংলাদেশে আসা সব যাত্রীদেরই পরীক্ষা করা হবে
০৮ফেব্রুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের যে কোনো দেশ থেকে কেউ বাংলাদেশে ঢুকলে বন্দরে স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এতদিন শুধু চীন থেকে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা হলেও এখন তার পরিসর বাড়ানো হচ্ছে। আজ শনিবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আইইডিসিআরের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রসঙ্গত, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ২৫টি ফ্লাইটে গড়ে সাড়ে ১২ হাজার যাত্রী বাংলাদেশে আসছেন। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মাত্র চারটি ফ্লাইটে আসা চীনফেরত ৭০০ যাত্রীদের যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও মনিটর করত স্বাস্থ্য বিভাগ। বিমানবন্দরে কর্তব্যরত স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা এতদিন চায়না ইস্টার্ন, চায়না সাউদার্ন, ড্রাগন এয়ার ও ইউএস বাংলায় চীন থেকে আগত প্রত্যেক যাত্রীকে ফ্লাইটের কেবিন ক্রুদের মাধ্যমে মেডিকেল ডিক্লারেশন ফর্ম, স্বাস্থ্য তথ্য কার্ড ও প্যাসেঞ্জার লোকেটর ফরম বিতরণ করত। এছাড়া বিমানবন্দরে নামার পর ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকে তারা এসব ফরম সংগ্রহ করত এবং থার্মাল স্ক্যানার ও হ্যান্ড স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হতো। মাত্র চারটি ফ্লাইটের যাত্রীরা এর আওতায় থাকায় সিংহভাগ যাত্রীই স্বাস্থ্য পরীক্ষার বাইরে থেকে গেছেন। তাদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন রোগতত্ত্ববিদরা। চীন থেকে ইতোমধ্যে দুই ডজনেরও বেশি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এতে মৃতের সংখ্যা সাতশ ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এ কারণে বিমানবন্দরে আসা সবগুলো বিমানকেই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, ২১ জানুয়ারি থেকে চীন থেকে আগত চারটি ফ্লাইটের যাত্রীদের মাঝে মেডিকেল ডিক্লারেশন ফর্ম, স্বাস্থ্য তথ্য কার্ড ও প্যাসেঞ্জার লোকেটর ফরম বিতরণ করার কাজ চলছিল। তবে তারা নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন চারটি নয়, ১৩টি ফ্লাইটে চীনাসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক আসছেন। তিনি আরও জানান, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ২৫টি ফ্লাইটে সাড়ে ১২ হাজার যাত্রী বাংলাদেশে আসেন। বৈশ্বিক করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় অধিকতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রোগতত্ত্ববিদদের পরামর্শে এখন থেকে ২৫টি ফ্লাইটে আগত সকল যাত্রীদের মনিটর করা হবে। এদিকে গত বেশ কিছুদিন যাবত সকল যাত্রীকে থার্মাল স্ক্যানার ও হ্যান্ড স্ক্যানারে জ্বর পরীক্ষা করা হলেও তাদের প্রত্যেককে মেডিকেল ডিক্লারেশন ফর্ম, স্বাস্থ্য তথ্য কার্ড ও প্যাসেঞ্জার লোকেটর ফরম পূরণ করতে হয়নি। তবে এখন থেকে সকল যাত্রীর কাছ থেকে এ তিনটি কার্ডে তথ্য সংগ্রহ করা হবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশের সবগুলো বন্দরে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং করার সক্ষমতা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আছে কি না- এ প্রশ্নে অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, বিভিন্ন এয়ারলাইন্স, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতায় এ কাজটি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা এয়ারলাইন্সগুলোর সহযোগিতা নিচ্ছি। ফ্লাইটের মধ্যে যে ডিক্লেয়ারেশন ফর্ম দেওয়া হয়, তাতে এয়ারলাইন্সগুলো সহায়তা করে। আমরা সম্মিলিতভাবেই করছি। এখানে এয়ারলাইন্সগুলোর সহযোগিতা খুবই জরুরি। যে বন্দরে থার্মাল স্ক্যানার নেই, সেখানে আমরা হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানার দিয়েছি। থার্মাল স্ক্যানার এবং হাত দিয়ে যেটা করা হয়- দুটোর কার্যক্রম একই। বিমানযাত্রীদের বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের একটি কার্ড পূরণ করতে হচ্ছে।
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
০৮ফেব্রুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চারদিনের সরকারি সফর শেষে ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ইতালির স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে মিলান মালপেঁসা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে। ইতালিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুস সোবহান সিকদার বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। ইতালির রাজধানী রোম থেকে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী মিলান এসে পৌঁছান। এর আগে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিওসিপে কঁতের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চারদিনের সরকারি সফরে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রোম যান। ইতালি সফরকালে ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন পালাজো চিগিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন এবং একটি আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্ন ভোজে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে, তিনি রোমের ভায়া ডেল অ্যান্টারাইড এলাকার বাংলাদেশ দূতাবাসের চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন করেন। ইতালির ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল তার অবস্থানকালীন হোটেলে সাক্ষাৎ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী পার্কো দ্য প্রিনসিপি গ্র্যান্ড হোটেল অ্যান্ড স্পা তে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আয়োজিত নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী ৬ ফেব্রুয়ারি খ্রিষ্টান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে ভ্যাটিক্যান সিটিতে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের ইতালির শাখার উদ্যোগে পার্কো দ্য প্রিনসিপি গ্রান্ড হোটেল অ্যান্ড স্পা তে আয়োজিত এক সংবর্ধনাতেও অংশগ্রহণ করেন।
বিএনপির লোকজন হামলা করবে, এমন আশঙ্কা থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রে আসেননি
০৬ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিএনপির লোকজনের হামলার আশঙ্কা থেকেই ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটাররা কেন্দ্রে আসেননি বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ। তবে ভোটার সংখ্যা কম হলেও উপমহাদেশের মানদণ্ডে নির্বাচনে সবচেয়ে ভালো ভোট হয়েছে বলেও জানান তিনি।বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটারের অনুপস্থিতির কারণ জানাতে গিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির লোকজন হামলা করবে, এমন আশঙ্কা থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রে আসেননি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি বলেছে, এটি আন্দোলনের অংশ। এখন বিএনপির আন্দোলন মানে মানুষ মনে করে জ্বালাও-পোড়াও, অগ্নিসংযোগ খুন। বিএনপির এই সহিংসতার আশঙ্কায় মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি। তিনি বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে নানা রকম বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। আমি মনে করি উপমহাদেশের মানদণ্ডে এটি সবচেয়ে ভালো নির্বাচন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে কোনো হাঙ্গামা হয়নি। অবৈধভাবে কোনো সিল মারার ঘটনা ঘটেনি। ইভিএমে ভোটগ্রহণ করার কারণে কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। এ জন্য জালভোটও পড়েনি। কারণ ইভিএমে একজনের ভোট অন্যজনের দেওয়ার সুযোগ নেই। ইভিএম প্রশ্নে বিএনপির অভিযোগ বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ইভিএম নিয়ে বিএনপি নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আসলে বিএনপি প্রযুক্তিকে সব সময় ভয় পায়।

জাতীয় পাতার আরো খবর