রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের সংবিধান :স্পিকার
অনলাইন :জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান বিশ্বে অনন্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই ১৯৭২সালে জাতিকে এই সংবিধান উপহার দেন। কোন অনুকম্পা কিংবা সমঝোতা নয়, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের সংবিধান। ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাঙালী জাতি পেয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ ও গৌরবময় সংবিধান। স্পিকার মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুর ক্যান্টনমেন্টস্থ ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে পার্লামেন্ট: রোল, ফাংশন এ্যান্ড পার্লামেন্টারী প্র্যাকটিসেস ইন দ্যা কনটেক্সট অব পার্লামেন্টারী ডেমোক্রেসি শীর্ষক সেশনে বক্তৃতাকালে এসব কথা বলেন। স্পিকার সংবিধানের আলোকে সংসদীয় গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, শোষণ-বৈষম্যহীন আইনের শাসন, সংসদীয় চর্চা ও রীতিনীতির উপর বিশদ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, দেশের সর্বময় ক্ষমতার মালিক জনগণ, আর সংসদ হচ্ছে সেই ক্ষমতার প্রতীক। সংসদের সকল কর্মকান্ড পরিচালিত হয় সংবিধান, কার্যপ্রণালী বিধি ও সংসদীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে। সংসদের মূল কাজ আইন প্রণয়ন। সংসদ সদস্যগণ সংবিধানের সাথে কোন সাংঘর্ষিক আইন প্রণয়ন করে না। আইন প্রণয়ন ছাড়াও সরকারের জবাদিহিতা ও স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে সংসদীয় কমিটিগুলো কাজ করে থাকে। সরকার ও বিরোধীদলের যৌথ অবদান সংসদকে কার্যকর করতে সহায়তা করে। সেক্ষেত্রে অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় দশম জাতীয় সংসদ ছিল অনন্য। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগ- নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগ। প্রত্যেকটি বিভাগ সংবিধান এর আওতায় নিজ সীমারেখায় সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করে থাকে। প্রতিটি বিভাগের কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র সচল থাকে। এই তিন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় এবং সুসম্পর্ক বজায় থাকলে রাষ্ট্র স্বাভাবিক গতিতে চলে। বক্তব্য শেষে প্রশ্নপর্ব সেশনে স্পিকার অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। ডিএসসিএসসি কোর্সে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ১৭০ জনসহ বিশ্বের ১৯টি দেশের ৪৫জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। এ সময় ডিএসসিএসসির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. এনায়েত উল্লাহ, ডেপুটি কমান্ড্যান্ট কমোডর এম. রাশেদ আলী, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এস. এম মাহবুব উল আলমসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য কি নির্বাচন বসে থাকবে ?ওবায়দুল কাদের
অনলাইন :নির্বাচন কমিশন ৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ রাখায় বিএনপি যে সন্দেহ প্রকাশ করেছে, তাকে অযৌক্তিক বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, কোনো কারণে যদি বিদেশি পর্যবেক্ষক আসতে না পারে, সেজন্য কি নির্বাচন পেছাতে হবে? ঐক্যফ্রন্টের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের নতুন তারিখ ঠিক করে দিয়েছে। কিন্তু তাতে আপত্তি তুলে ভোট এক মাস পেছানোর দাবিতে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে বিএনপি। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২৫ ডিসেম্বর খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিন। এরপর ইংরেজি নববর্ষ। বিদেশি পর্যবেক্ষক ও কূটনীতিবিদরা অনেকেই এ সময় ছুটিতে থাকেন। তাদের দৃষ্টির অন্তরালে একটা বড় ভোট চুরির নির্বাচন করতে সরকারের কৌশলী নির্দেশে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন নির্ধারণ করছে ইসি। বিএনপির ওই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য কি নির্বাচন বসে থাকবে? তিনি বলেন, দেশটাকে ছোট ভাববেন না, দেশটাক উপরে তুলে দিন। আমাদের দেশ সবার উপরে। আমরা কারো চেয়ে ছোট না। বন্ধু দেশ আমাদের অসংখ্য আছে। কিন্তু মর্যাদায় আমরা কারো চেয়ে ছোট না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, যারা মনোনয়নপত্র নিয়েছেন তাদের সাক্ষাৎকার হবে আগামীকাল বুধবার। মনোনয়ন বোর্ডে সভাপতি হিসেবে থাকবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারের পর মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস দিনটি বিশেষভাবে গর্বের :রাষ্ট্রপতি
অনলাইন :রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ডায়াবেটিস সম্পর্কে গণসচেতনতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন। আগামীকাল ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে আজ এক বাণীতে তিনি বলেন, এব্যপারে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যমসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত হচ্ছে জেনে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য দিনটি বিশেষভাবে গর্বের। কারণ আজ থেকে এগারো বছর আগে বাংলাদেশের উদ্যোগেই দিবসটি জাতিসংঘ দিবসের মর্যাদা লাভ করে। রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রযুক্তির প্রসার ও নগরায়ণের প্রভাবে মানুষের জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। কায়িক পরিশ্রমের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শরীরচর্চার স্থান ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। অতিমাত্রায় ফাস্টফুড, কোমল পানীয়র মতো ক্যালরিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের ফলে বাড়ছে স্থুলতার ঝুঁকি। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতে পরিবর্তিত জীবনধারণসহ জিনগত এবং অপরিকল্পিত গর্ভধারণের কারণেও ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বর্তমানে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই ডায়াবেটিস এখন উদ্বেগের অন্যতম কারণ। এ প্রেক্ষাপটে এবারের বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস এর প্রতিপাদ্য ডায়াবেটিস প্রতিটি পরিবারের উদ্বেগ যথাযথ হয়েছে। আবদুল হামিদ বলেন, ডায়াবেটিসকে প্রতিরোধ করতে হলে এ রোগের ঝুঁকি এবং প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সবাইকে জানতে হবে। পরিবারের মধ্য থেকেই এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির কাজটি শুরু করতে হবে ।বাসস
জিরো টলারেন্সে থাকবে ইসি
অনলাইন :ত্রিশ ডিসেম্বরের পর সংসদ নির্বাচনের তারিখ আর পেছাবে না জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে অনিয়মের সুযোগ নেই। মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) সকালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে একথা বলেন তিনি। এ সময় প্রার্থী বা কোনো রাজনৈতিক নেতাকে প্রতিপক্ষ না ভেবে সন্দেহ'র উর্ধ্বে উঠে নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাজ করার নির্দেশ দেন কমিশনাররা। ৩০ ডিসেম্বরের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ পেছানোর আর সুযোগ নেই। সকালে আগাঁরগাওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেন, 'সব ভোটার, ভোটকেন্দ্রে বিনা বাঁধায় স্বাধীনভাবে, স্বাধীনচিত্তে আনন্দঘন পরিবেশে ভোট দিবেন। উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিবেন। ৩০ তারিখের পরে আমাদের আর পিছানোর কোন সুযোগ নেই। সেটাকে আপনাকে সামনে রেখেই এই প্রস্তুতি নিতে হবে।' নির্বাচনের আগে সবকিছু নিয়ন্ত্রনে রাখা কমিশনের জন্য চ্যালেঞ্জ উল্লেখ্য করে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় জিরো টলারেন্স থাকবে ইসি। মাহবুব তালুকদার বলেন, 'নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোন প্রকার শিথিলতা আমরা বরদাস্ত করবো না। নির্বাচনে গাফেলতির জন্য যে কঠোর শাস্তির ব্যবস্তা রয়েছে তা প্রয়োগ করতে আমরা দ্বিধাবোধ করবো না।' অন্যদিকে, রিটার্নিং অফিসারদের ব্যর্থতার দায় যেন ইস্র উপর না আসে সে ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেন নির্বাচন কমিশনাররা। কবিতা খানম বলেন, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে আপনারা আপনাদের কাজ করবেন, যেন কোন পক্ষ থেকে আপনাকে কোন মন্তব্য করতে না পারে।
দ্রুত গতিতেই জাপানে প্রস্তুত হচ্ছে ট্রেন সিমুলেটর
অনলাইন ডেস্ক: বেশ দ্রুত গতিতেই এগিয়ে চলেছে মেট্রোরেলের কাজ। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের উড়ালপথ এবং স্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর। সে লক্ষ্যেই মেট্রোরেলের কাজ শুধু বাংলাদেশে নয়, কাজ জাপানেও হচ্ছে। এরমধ্যে অন্যতম রোলিং স্টক (কোচ) ও ট্রেন সিমুলেটর। জাপানে এগুলো প্রস্তুতের পরে পানিপথে বাক্সবন্দী হয়ে বাংলাদেশে আসবে এই রেল কোচ। কোচ শতভাগ প্রস্তুতির পর ঢাকায় শুধুমাত্র মেট্রোরেল ট্র্যাকের উপরে বসিয়ে দেয়া হবে। কোচগুলো সরবরাহ করবে জাপানের কাওয়াসাকি-মিটসুবিসি কনসোর্টিয়াম। কোচে লাল-সবুজের প্রাধান্য রয়েছে, যা তৈরির আর্থিক অগ্রগতি ১৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। বাংলাদেশে ট্র্যাক নির্মাণের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোচগুলো পানিপথে দেশে আসবে। এসব কথা বিবেচনা করেই এগিয়ে চলেছে লাল-সবুজের কোচ তৈরির কাজ। সূত্র আরো জানায়, প্যাকেজ-০৩ ও ০৪ এর আওতায় উত্তরা নর্থ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৯টি স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। উভয় প্যাকেজের কাজ ২০১৭ সালের ১ আগস্ট শুরু হয়েছে। সংশোধিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। টেস্ট পাইল, চেক বোরিং এবং মোট ৭৬৬ টি পাইল ক্যাপের মধ্যে ২৩৫টির নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া মোট ৪৪৮ টি পিয়ার হেডের মধ্যে ৮৮টি এবং ৪,৫৭৭ টি প্রিকাস্ট সেগম্যান্টের মধ্যে ৬১৭টি সম্পন্ন হয়েছে। দৃশ্যমান হয়েছে ৩০০ মিটার ভায়াডাক্ট। সংশোধিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ শে জুন ২০১৯ তারিখ এ প্যাকেজের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এর বাস্তব অগ্রগতি ২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ২৫ দশমিক ১৪ শতাংশ। প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রসঙ্গে মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) খান মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। কাজের গতি বাড়াতেই বিভিন্ন প্যাকেজে কাজ ভাগ করা হয়েছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, জাপানেও হচ্ছে মেট্রোরেলের কাজ। আমাদের দেশে ট্র্যাক নির্মাণ হলেই জাপান থেকে কোচ এনে বসিয়ে দেবো। বাক্সের মোড়ক খুলে রেডিমেট কোচগুলো বসিয়ে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ করা। আমাদের কাজ সম্পূর্ণ হলেই কোচগুলো জাপান থেকে আনতে পারবো। তিনি বলেন, কোচগুলো হবে অত্যাধুনিক সময়োপযোগী। প্রতিটি কোচ হবে ট্রেনেস্টেইনলেস স্টিলের তৈরি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। ছয়টি বগি থাকবে, যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে এক হাজার ৭৩৮। বগির উভয় পাশে থাকবে চারটি দরজা। ট্রেনে সিটের ধরন হবে লম্বালম্বি এবং প্রতি ট্রেনে ২টি হুইল চেয়ার থাকবে। এছাড়া থাকবে স্টার্টকার্ড টিকেটিং পদ্ধতি। মিজানুল বলেন, ২৪ জোড়া মেট্রোরেল চলাচল করবে ঢাকায়। উত্তরা থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-ফার্মগেইট হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত চলবে মেট্রো রেল, সময় লাগবে মাত্র ৪০ মিনিট। প্যাকেজ ৮-এ রেল কোচ প্রস্তুতে ব্যায় হবে চার হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। এছাড়া রোলিং স্টক পরিচালনা সংরক্ষণের জন্য ডিপোর যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয় এবং রোলিং স্টক প্রকৌশলী, পরিচালনা ও সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ অন্তুর্ভুক্ত রয়েছে এই প্যাকেজে। ২০ দশমিক ১ কিলোমিটার মেট্রোরেলের বাকি অংশের (মতিঝিল পর্যন্ত) কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে ২০২০ সালের মধ্যে। মোট ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে জাইকা ঋণ দিচ্ছে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। উত্তরা থেকে মিরপুর হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের মোট ১৬টি স্টেশন থাকবে। ২৪টি ট্রেন প্রতি ঘণ্টায় আপ ও ডাউন রুটে ৬০ হাজার যাত্রী আনা-নেওয়া করবে। মেট্রোরেলের সার্বিক বাস্তব গড় অগ্রগতি ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। সার্বিক আর্থিক অগ্রগতি ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব হতে আগারগাঁও অংশের আর্থিক বেশি। অন্যান্য প্যাকেজ ভিত্তিক বাস্তবায়ন অগ্রগতির মধ্যে প্যাকেজ-০১ (ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন) বাস্তব কাজ ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয়ে নির্ধারিত সময় ০৯ (নয়) মাসে সমাপ্ত হয়েছে। প্যাকেজ-২ (ডিপো এলাকার পূর্ত কাজ) ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয়। সংশোধিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৩০ জুন প্যাকেজের কাজ শেষ হবে। বর্তমানে বাস্তব অগ্রগতি ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ। প্যাকেজ- ৫ হলো আগারগাঁও থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত ৩.২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৩ টি স্টেশন নির্মাণকাজ। এই প্যাকেজের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে। বর্তমানে এ অংশে স্টেশন এরিয়ার চেকবোরিং এবং পরিসেবা স্থানান্তর সম্পন্ন হয়েছে। ভায়াডাক্ট এরিয়ার চেকবোরিং চলমান আছে। বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ২ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ১৫ শতাংশ। প্যাকেজ- ৬ কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ৪.৯২ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও ৪ টি স্টেশন নির্মাণ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে এই প্যাকেজের কাজ শুরু করে। স্টেশন এরিয়ার চেকবোরিং সম্পন্ন হয়েছে। ভায়াডাক্ট এরিয়ার চেকবোরিং চলমান আছে। বর্তমানে এ অংশে পরিসেবা স্থানান্তর শেষে কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। বাস্তব অগ্রগতি ২ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ১৫ শতাংশ। প্যাকেজ-৭ অনুযায়ী ইলেকট্রিক্যাল এন্ড মেকানিক্যাল সিস্টেম সরবরাহ ও নির্মাণ কাজ ২০১৮ সালের ১১ জুলাই শুরু হয়। বর্তমানে হাই ভোল্টেজ ফিডার ক্যাবল রাউট সার্ভে ও আন্তঃপ্যাকেজ সমন্বয়ের কাজ চলছে। বাস্তব অগ্রগতি ৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
এবার সুষ্ঠু নির্বাচন করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করা হবে :সিইসি
অনলাইন ডেস্ক :জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ আর পেছানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। আজ মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন সিইসি। সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, নির্বাচন পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন করতে আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সব ভোটার বিনা বাধায় উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে যাবে, এটা যেনো কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। সরকার বহাল থাকা সত্ত্বেও এবার সুষ্ঠু নির্বাচন করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করা হবে, উল্লেখ করে সিইসি নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে আপনাদের দায়িত্ব পালন করুন। আপনাদের কারণে নির্বাচন কমিশনের যাতে বদনাম না হয়। এদিকে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগে এই তারিখ ২৩ ডিসেম্বর থাকলেও সোমবার দুপুরে তারিখ পরিবর্তন করে পুন:তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। নতুন তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ২৮ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই এবং প্রত্যাহারের বিষয়টি পরে জানানো হবে।
সবাই আজ ফরম জমা দিতে পারবেন :ওবায়দুল কাদের
অনলাইন ডেস্ক :যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছে তাদের সবাই আজ ফরম জমা দিতে পারবেন। মঙ্গলবার (১৩ নভেম্বর) বেলা ১২ টায় আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির কার্যালয়ে দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারী সবাই আজ ফরম জমা দিতে পারবেন।' এ নিয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার সময় নিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। গতকাল দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ জানিয়েছিলেন আজও মনোনয়ন ফরম জমা দেয়া যাবে। এরআগে আজ সকালে দলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ জানান, আর কোন ফরম জমা নেয়া হবে না। টানা চারদিন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শেষে জমা পড়েছে ৩ হাজার ৬শ ২৬টি ফরম।
হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন আজ
অনলাইন ডেস্ক :নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন আজ। ৬১তম জন্মদিনে হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত লিখে যেতে চাই। লেখালেখিই আমার বিশ্রাম। লেখালেখি বন্ধ হলে আমার বেঁচে থাকা অর্থহীন হয়ে পড়বে, আমি বাঁচতে পারবো না। পাঠকদের উদ্দেশে তার আবেদন দোয়া করবেন, আমি যেন আমৃত্যু লিখে যেতে পারি। তার সেই আশা পূরণ হয়েছিল। নিউইয়র্কে হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তিনি দেয়াল উপন্যাস লিখেছেন। হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে আজ সারাদিন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। টিভিতে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। গতকাল রাত ১২টা এক মিনিটে হুমায়ূন আহমেদের বাসা দখিন হাওয়ায় কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন পরিবারের সদস্যরা। নুহাশপল্লীর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল ইত্তেফাককে জানান, হুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশপল্লীর পক্ষ থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল রাতেই স্যারের কবর আর নুহাশ পল্লীতে মোমবাতি জ্বালানো হয়েছে। আজ সকালে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে নিয়ে নূহাশপল্লীতে কবর জিয়ারত করবেন। এদিকে, পাবলিক লাইব্রেরী প্রাঙ্গণে আজ বিকালে শুরু হবে সপ্তাহব্যাপী হুমায়ূন আহমেদ বইমেলা। জাতীয় জাদুঘর আয়োজন করেছে হুমায়ূনকে নিয়ে সেমিনারের। এছাড়া, চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সপ্তমবারের মতো হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে হুমায়ূন মেলা। সকাল ১১টায় হিমুপ্রেমিরা হলুদ পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে উপস্থিত থেকে হলুদ বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করবেন। উপস্থিত থাকবেন হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন অঙ্গনে তার ভক্ত ও বিশিষ্টজনরা। তার স্মরণে স্মৃতিকথা বলবেন অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা। নৃত্য পরিবেশন করবে চ্যানেল আই সেরা নাচিয়ে ও অন্য নৃত্যশিল্পীরা। মেলার স্টলগুলোতে থাকবে হুমায়ূন আহমেদের বই, তার নির্মিত চলচ্চিত্র ও নাটকের ভিডিও সিডি। মেলা সরাসরি সমপ্রচার করবে চ্যানেল আই ও রেডিও ভুমি। ১৯৪৮ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে প্রকাশের পর পরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে হিমুমিসির আলী শুভ্র তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়। নব্বই দশকের মাঝামাঝি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে লেখালেখিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেন। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে নন্দিত নরকে, লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, গৌরিপুর জংশন, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দারুচীনি দ্বীপ, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমনি, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে আগুনের পরশমনি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবন মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা ও নয় নম্বর বিপদ সংকেত। তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ঘেটুপুত্র কমলাও জয় করেছে দর্শক ও সমালোচকদের মন। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদিও স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন। দেশের বাইরেও তাকে নিয়ে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তার প্রমাণ জাপান টেলিভিশন এনএইচকে তাকে নিয়ে নির্মাণ করেছে পনের মিনিটের তথ্যচিত্র হু ইজ হু ইন এশিয়া। হুমায়ূন আহমেদের শরীরে ২০১১ সালের সেপ্টেস্বর মাসে মরণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর তিনি উন্নত চিকিত্সার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। সেখানে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে এগারোটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এটিই নির্বাচনকালীন সরকার
অনলাইন ডেস্ক: মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেছেন, নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণার পর থেকে যে সরকার আছে এটিই নির্বাচনকালীন সরকার। যদিও আমাদের সংবিধানে এ সরকার সম্পর্কে তেমন কিছু বলা নাই। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বৈঠকে দুটি আইনের খসড়ার অনুমোদনের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক বলেই জানিয়েছেন তিনি। মোহাম্মদ শফিউল আলম আরও বলেন, এতে সাংবিধানিক কোনও বাধা নাই। এগুলো কেবিনেটের কার্যক্রমের মধ্যেই পড়ে। এগুলোকে রুটিন ওয়ার্কই বলা যায়। এখানে তো আর কোনও উন্নয়ন প্রকল্প নাই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার তো রেগুলারই আছে, কোনও সমস্যা তো দেখছি না। আরেক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বলেন, আর যে নামই বলেন, এগুলো তো আমাদের দেওয়া নাম। এগুলো কনস্টিটিউশনাল (সাংবিধানিক) কোনও নাম নয়। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া চার মন্ত্রী আজকের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কারণ, আমাদের সংবিধানের বিধান মতে, প্রজ্ঞাপন না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ একজন মন্ত্রী যদি উনার দয়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন, সেক্ষেত্রে সাবমিশন হচ্ছে, গেজেট নোটিফিকেশন হওয়া পর্যন্ত। ওনার পদত্যাগটা চূড়ান্ত হবে, যখন গেজেট নোটিফিকেশনটা হবে। যেহেতু তা হয় নাই, সেহেতু তারা মন্ত্রী হিসেবে বহাল আছেন বলে গণ্য হবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর