রবিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৯
জনগণের সেবা করার সুযোগ হিসেবে দেখি প্রধানমন্ত্রিত্বকে
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পদকে জনগণের সেবা করার সুযোগ হিসেবেই তিনি বিবেচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ আমার কাছে যতটা না মূল্যবান তার চাইতে এইটা একটা বড় সুযোগ জনকল্যাণের এবং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন। খবর বাসসর তিনি বলেন,আমি মানুষের সেবায় এবং দেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি । বাংলাদেশ অবশ্যই এগিয়ে যাবে, ইনশাল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার-পরিজন এবং মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মানে সেনানিবাসের মাল্টি পারপাস কমপ্লেক্সে এই সংবর্ধনার আয়োজন করেন। সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো.মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমদ এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর ১০১ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং ৭জন বীরশ্রেষ্ঠের ঘনিষ্ট পরিবার-পরিজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোল মডেল এবং এটি একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তিনি বলেন,বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই আজকে আমরা এই সম্মান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি এবং বিশ্বের বহু দেশ এখন বাংলাদেশ অনুকরণ করতে চাইছে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং তাঁর সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে উন্নয়নের এই গতিকে অব্যাহত রাখা। তিনি বলেন,আমরা অবশ্যই লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হব এবং অনেক ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে আমরা আজকের অবস্থানে এসেছি এবং কেউই এই গতিকে রুখতে পারবে না, ইনশাল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ একটি স্বাধীন দেশ এবং লক্ষ্য প্রাণের বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীনতা অর্জন করেছি। তিনি বলেন,বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ, এই স্বাধীনতা কখনই ব্যর্থ হতে পারে না। আমরা দেশের প্রত্যেকটি ঘরে স্বাধীনতার এই সুফলকে পৌঁছে দিতে চাই এবং এই দেশের আর কোন মানুষ দরিদ্র থাকবে না, অনাহারে কষ্ট পাবে না। বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের ভাষণের অংশ আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা নার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আর কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব বলে জানিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়াধীন গুজব প্রতিরোধ ও অবহিতকরণ সেল। একই সঙ্গে এতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্যও আহ্বান জানিয়েছে সেল। আজ বুধবার (২১ নভেম্বর) এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বাসসর বিবরণীতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিখোঁজ শিরোনামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রচারিত সংবাদটি একটি গুজব। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস এলেনিয়া স্পেস বাংলাদেশকে বুঝিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে প্রতিদিন সফলভাবে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। তথ্য বিবরণীতে আরও বলা হয়, অতএব বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিখোঁজ শিরোনামে প্রচারিত সংবাদটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব। এতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়াধীন গুজব প্রতিরোধ ও অবহিতকরণ সেল সংবাদটিকে গুজব হিসেবে নিশ্চিত করেছে।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের জন্ম ও ওফাত দিবস পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা
অনলাইন ডেস্ক: প্রিয়নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) এর স্মৃতিবিজড়িত মহান ১২ রবিউল আউয়াল বুধবার। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই মহামানবের জন্ম ও ওফাত দিবস আজ। দিবসটি মুসলমানদের কাছে পবিত্র। দিনটি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। দিবসটি পালন উপলক্ষে আজ রাজধানীতে পাড়া মহল্লা, অলি-গলিতে মিছিল হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশে সরকারি-বেসরকারিভাবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের কমর্সূচিও পালন করা হচ্ছে। প্রায় এক হাজার ৪০০ বছর আগে এই দিনে আরবের মরুপ্রান্তরে মা আমেনার কোলে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আবার এই দিনেই তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তৌহিদের মহান বাণী নিয়ে। প্রচার করেছেন শান্তির ধর্ম ইসলাম। রাসুলের জন্ম ও মৃত্যুর দিন হিসেবে মুসলমানদের কাছে দিবসটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়াও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদও পৃথক বাণী দিয়েছেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। দিনটি উপলক্ষে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে আয়োজিত মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা ও ইসলামি ক্যালিওগ্রাফি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ধর্মসচিব মো. আনিছুর রহমান। পক্ষকালব্যাপী অন্যান্য অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে ১৫ দিনব্যাপী ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল, বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় সপ্তাহব্যাপী সেমিনার, ইসলামী ক্যালিগ্রাফি, মহানবী (সা.) এর জীবনীভিত্তিক পোস্টার ও গ্রন্থ প্রদর্শনী, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সমমানের মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী এবং অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা. স্মরণিকা প্রকাশ, রাসূল (সা.) এর শানে স্বরচিত কবিতা পাঠের মাহফিল এবং ক্বিরআত ও হামদ-নাত মাহফিল। এছাড়া পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন খানকাহ, দরবার শরিফ, মসজিদসহ ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন জশনে জুলুস, শান্তি মহাসমাবেশ, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল, কোরআন খানি, ফাতেহা পাঠ, দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে। মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাজধানীতে আনজুমানে রহমানিয়ার মইনীয়া মাইজভান্ডারিয়া জশনে জুলুস বা আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে। সকাল ১০টায় বের হওয়া এই শোভাযাত্রায় চার হাজারের মতো মানুষ অংশ নেয়। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তি মহাসমাবেশ ও জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের অনুষ্ঠানমালা। এরপর দরবারের ভক্ত ও স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে বের করা হয় বিশাল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় অংশ নেন প্রায় চার হাজার মানুষ। একইভাবে শিয়া ও সুন্নী সম্প্রদায়ের মানুষও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করছে। রাজধানীর মিরপুর এলাকার বেশ কিছু মাজার শরীফ এবং দরবারে আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার। একই সঙ্গে আয়োজন করা হয়েছে শোভাযাত্রার। তারা হামদ-নাতসহ বিভিন্ন ইসলামিক সঙ্গীত পরিবেশন করছেন। শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া মানুষ রাসুল (সা.) এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে খালি পায়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
সশস্ত্র বাহিনী দিবসে রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধা
অনলাইন ডেস্ক :সশস্ত্র বাহিনী দিবসে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ , বুধবার সকালে রাষ্ট্রপতি শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। রাষ্ট্রপতির পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে আজ তিন বাহিনী প্রধানরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ৭১-এর এই দিনেই আত্মোৎসর্গের ব্রত নিয়ে দেশমাতৃকাকে শত্রুমুক্ত করতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অকুতোভয় বীর সেনানীরা মুক্তিকামী আপামর জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে অপ্রতিরোধ্য আক্রমণের সূচনা করেছিলেন। এর পর থেকে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে।
বাঙালির ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছে সরকার :প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিকৃত ইতিহাস থেকে দেশকে মুক্ত করতে কাজ করছে বর্তমান সরকার। দেশের উন্নয়নের গতি অব্যাহত থাকবে, কেউ রুখতে পারবে না। বাঙালির ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।বুধবার (২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্রবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও ভাইবোনেরাও ভাতা পাবে। মুক্তিযুদ্ধে বিদেশিদের অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক বিদেশিরা আমাদের হয়ে কাজ করেছেন। আমরা তাদের সম্মানিত করেছি। ভারত আমাদের মিত্র শক্তি ছিলো। যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের সহায়তা করেছে সেইসব বিদেশিদের আমরা সম্মান জানিয়েছি।এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৮ উপলক্ষে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তিনি ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে (শিখা চিরন্তন) পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্যে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি।এ সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। সে সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরে শিখা অনির্বাণ প্রাঙ্গণে রাখা পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
অনলাইন ডেস্ক :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৮ উপলক্ষে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি আজ সকালে ঢাকা সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে (শিখা চিরন্তন) পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্যে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। সে সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরে শিখা অনির্বাণ প্রাঙ্গণে রাখা পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শিখা অনির্বাণে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নিজামউদ্দিন আহমদ, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান তাঁকে স্বাগত জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে যান। সেখানে তিন বাহিনীর প্রধানগণ তাঁর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী এএফডিতে পেঁৗঁছালে এফডিএর পিএসও এবং মহাপরিচালকগণ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের এইদিনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী গঠিত হয়। এরপর এ বাহিনী পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে। আর এই অভিযানের মধ্যদিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় ত্বরান্বিত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঐতিহাসিক দিবসটি প্রতিবছর সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালিত হয়।
বাংলাদেশ ওপিসিডব্লিউর নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত
অনলাইন ডেস্ক :বাংলাদেশ আগামী ২০১৯-২০২১ মেয়াদে তিন বছরের জন্য রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংস্থা -ওপিসিডব্লিউ -এর নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিঃপ্রচার অনুবিভাগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ১৯ নভেম্বর সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্রসমূহের ২৩তম অধিবেশনে সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ নির্বাহী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। বাংলাদেশ সর্বসম্মতিক্রমে এ অধিবেশনের ভাইস-চেয়ারপার্সনও নির্বাচিত হয়েছে। ওপিসিডব্লিউ -এর নির্বাহী পরিষদের ২০১৯-২০২১ মেয়াদের জন্য এশিয়া গ্রুপ থেকে বাংলাদেশসহ ৬টি দেশ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।বাসস
আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস
অনলাইন ডেস্ক: আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটির মসজিদে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। আন্তবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বলা হয় , ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তিন বাহিনী প্রধানরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৮ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসস্থ আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্বাচিতসংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা জানাবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নয়জন সেনা, একজন নৌ এবং তিনজন বিমান বাহিনী সদস্যকে ২০১৭-২০১৮ সালের শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করবেন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বিশেষ সহকারী, সামরিক সচিব, প্রেস সচিব ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে এক বৈকালীন সংবর্ধনার আয়োজন করেছেন। এতে উল্লেখযোগ্য আমন্ত্রিত ব্যক্তিত্বের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় সংসদের ¯িপকার, প্রধান বিচারপতি, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিগণ, সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টাগণ, মন্ত্রী ও মন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ, প্রতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি, ডেপুটি স্পিকার, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানগণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারগণ, বিচারপতিগণ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, মুখ্য সচিব, সংসদ সদস্য (ঢাকা এলাকার এবং প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তাগণ)। এছাড়াও বাহিনীত্রয়ের প্রাক্তন প্রধানরা, ২০১৭ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, স্বাধীনতা যুদ্ধের সব বীরশ্রেষ্ঠের উত্তরাধিকারীরা, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে ঢাকা এলাকায় বসবাসরত খেতাবপ্রাপ্ত কর্মকর্তা/তাদের উত্তরাধিকারী, উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তা এবং তিন বাহিনীর চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দও আমন্ত্রিত। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে তিন বাহিনী প্রধান নিজ নিজ বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা/তাদের উত্তরাধিকারীদের অনুরূপ সংবর্ধনা দেবেন। ঢাকা ছাড়াও বগুড়া, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, রংপুর, খুলনা ও রাজেন্দ্রপুর (গাজীপুরসহ) সেনানিবাসসমূহেও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী প্রিয়নবী (সা.) এর স্মৃতিবিজড়িত দিন
অনলাইন ডেস্ক: ইসলামের নবী মোহাম্মদের (সা.) স্মৃতিবিজড়িত মহান ১২ রবিউল আউয়াল আজ। রাসুলের জন্ম ও মৃত্যুর দিন হিসেবে মুসলমানদের কাছে দিবসটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে এই দিনে আরবের মরু প্রান্তরে মা আমেনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)। আবার এই দিনে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে তৌহিদের মহান বাণী নিয়ে এসেছিলেন এই মহামানব। তিনি ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন। এরপর বিশ্ববাসীকে মুক্তি ও শান্তির পথে আহ্বান জানান। সব ধরনের কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অন্যায়, অবিচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তির বার্তা বহন করে এনেছিলেন তিনি। ৬৩ বছর বয়সে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। ইসলাম ধর্মমতে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মোহাম্মদ (সা.) শেষ নবী। তার জন্ম ও মৃত্যুদিবস ১২ রবিউল আউয়াল মুসলমানদের কাছে এক পবিত্র দিন। আমাদের দেশে দিনটি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে সরকারিভাবে পালিত হয়। প্রতিবারের মতো এবারও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। আজ সরকারি ছুটি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে পক্ষকালের অনুষ্ঠান পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব চত্বরে উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর বাদ এশা ওয়াজ করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান ও ঢাকার মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুর রাজ্জাক আল আজহারি। ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বাদ মাগরিব থেকে বায়তুল মোকাররমে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। দেশবরেণ্য পীর-মাশায়েখ ও উলামায়ে কেরাম মাহফিলে বয়ান করবেন। বাংলাদেশ বেতারের সাথে যৌথ প্রযোজনায় ২১ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম মিলনায়তনে বাদ আসর অনুষ্ঠেয় সেমিনার রেকর্ডিং করে বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন রাত ১০টা ১৫ মিনিটে প্রচার করা হবে। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ চত্বরে গতকাল থেকে মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলা শুরু হয়েছে। মেলায় কোরআন-হাদিসসহ বিভিন্ন ইসলামি বই বিশেষ কমিশনে পাওয়া যাবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।

জাতীয় পাতার আরো খবর