শুক্রবার, এপ্রিল ৩, ২০২০
মোদির বাংলাদেশ সফর বাতিল
০৯মার্চ,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের কারণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর বাতিল করা হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের নেয়া এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। এর আগে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে মুজিববর্ষের ১৭ মার্চের আয়োজন সীমিত করার ঘোষণা দেয়া হয়। ওই ঘোষণায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, মুজিববর্ষ হলো বছরব্যাপী আয়োজন। বিদেশি অতিথিদের আসার কথা ছিল। যেহেতু বিষয়টি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, তাই বিদেশি অতিথিরাও পরেই আসবেন। আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর (মুজিববর্ষ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামদেক হুন সেন, ইউনেস্কোর সাবেক মহাসচিব ইরিনা বোকোভাসহ বেশ কয়েকজন বিদেশি অতিথির। এছাড়া কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কোন্তের থাকার বিষয়েও আলোচনা চলছিল। প্রসঙ্গত রোববার (০৮ মার্চ) বাংলাদেশে তিন জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। তাদের দু’জন ইতালি থেকে এসেছেন এবং অপরজন সংক্রমিত একজনের সংস্পর্শে এসেছিলেন।
করোনা মোকাবেলায় সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক: বাণিজ্যমন্ত্রী
০৮মার্চ,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি বলেছেন, সরকার করোনা ভাইরাস নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। এর মোকাবেলায় সরকার সব ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস (কোভিড -১৯) র কারণে বাংলাদেশে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কি প্রভাব পড়ছে সরকার তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই ভাইরাস মোকাবেলায় সরকার সবধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (বিআইসিসি)র উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় দ্বিতীয় সেশনে নিউ ইনকোটার্মস-২০২০ রুলসের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। এর আগে টিপু মুন্সী বলেন, বিশ্ববাণিজ্যে বিধিবিধান সময়োপযোগী হওয়া প্রয়োজন। বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্যে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য প্রচলিত নিয়ম-কানুনগুলোরও পরিবর্তন প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড বিজনেস অর্গানাইজেশনের সহায়তায় সময়ে সময়ে তালমিলিয়ে নতুন রুলস প্রবর্তন করা হয়। এজন্য নিউ ইনকোটার্মস-২০২০ রুলস চালু হতে যাচ্ছে। টিপু মুন্সী বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। বিদেশী বিনিয়োগও বাড়ছে। তিনি বলেন, গত বছর ৮ দশমিক ১৫ ভাগ জিডিপি অর্জিত হয়েছে। এবছর জুলাই অক্টোবর সময়ে দেশে ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেষ্টমেন্ট এসেছে। গতবছর দেশের রপ্তানি আয় ছিল ৩৯ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সালিশের মাধ্যমে দিনদিন বাণিজ্য বিরোধ সমাধানের গ্রহনযোগ্যতা বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে বাংলাদেশ সকল ক্ষেত্রে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আগামী ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। প্রতিযোগিতা করেই বাংলাদেশকে বিশ্ববাণিজ্যে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, তবে বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধও বাড়বে, আর এটাই স্বাভাবিক। নতুন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন নতুন নিয়ম কানুন। নতুন নতুন বাণিজ্য বিরোধ সমাধানে নিউ ইনকোটার্মস-২০২০ রুলস অধিক কার্যকর হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী নিউ ইনকোটার্মস-২০২০ রুলস এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিআইসিসির প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ও আইসিসি বাংলাদেশ ব্যাংকিং কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সিইও মুহাম্মদ এ রুমি আলী।
করোনায় হজে যেতে না পারলে টাকা মার যাবে না: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী
০৮মার্চ,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাসের কারণে কেউ যদি হজে যেতে না পারেন, তাহলে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন না বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ। রবিবার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে ২০২০ সালের হজ নিবন্ধন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাকা জমা দিয়ে কেউ যদি করোনা ভাইরাসের কারণে হজে যেতে না পারেন তাহলে তাদের টাকা মার যাবে না। এবার যেতে না পারলে আগামীবার যেতে পারবেন। তিনি জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে নিয়মিতভাবে যোগাযোগ হচ্ছে। তারা সব রকমের সহযোগিতা দেবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট তিনটি হজ প্যাকেজ ঘোষিত হয়েছে। প্যাকেজ-১ এ খরচ সর্বমোট চার লাখ ২৫ হাজার, প্যাকেজ-২ এ তিন লাখ ৬০ হাজার ও প্যাকেজ-৩ এ তিন লাখ ১৫ হাজার টাকা। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৩০ জুলাই (৯ জিলহজ) হজ অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ জুন শুরু হবে হজ ফ্লাইট। আর ১৫ মার্চের মধ্যে শেষ করতে হবে নিবন্ধন।
নারী স্বাবলম্বী হলে সমাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে : প্রধানমন্ত্রী
০৮মার্চ,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারী যত স্বাবলম্বী হবে একটা সমাজ তত দ্রুত এগিয়ে যাবে। নারীরা বিভিন্ন সময় প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। তবে আমরা সেগুলো প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যারা নারীদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালায় তাদেরকে মানুষ বলতে ইচ্ছে করে না। এ নির্যাতন বন্ধে পুরুষদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। আজ রোববার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি আন্দোলনে নারীরা ভূমিকা রেখেছেন। এ পথ দেখিয়েছিলেন বেগম রোকেয়া। তিনি যদি নারীদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা না করে দিতেন তাহলে নারীরা এ পর্যন্ত আসার সুযোগ পেত না। নারী দিবস মার্চ মাসে। মহান স্বাধীনতার মাস এটি। সংবিধানের মধ্যে জাতির পিতা নারীদের অধিকার দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নারী হিসেবে নিজের মায়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশে ছিলেন আমার মা। তিনি আমাদেরকে মানুষ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। মা যদি দায়িত্ব না নিতেন তাহলে বাবা দেশ গঠনের জন্য কাজ করতে পারতেন না। ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ ভাষণের বিষয়ে মা বাবাকে বলেছিলেন, তোমার মনে যা আছে তুমি তাই বলবে। আমার বাবা ঐ দিন ভাষণে মনের কথা বলেছিলেন। কোন কাগজ ছিল না, কোন নোট ছিল না। সেই ভাষণ এখন ইউনোস্ক স্বীকৃতি দিয়েছে। নারী অধিকারে জাতির পিতার অবদানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই তিনি নারীদের জন্য সমান অধিকারের কথা বলেছেন। সে সময়ে এ কাজটা বেশ কঠিন ছিল। তিনি বলতেন, মেয়েদের জন্য শুধু অধিকারের কথা বললে হবে না। তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। একটা মেয়ে যদি বাসায় ফেরার সময় আঁচলে দশটা টাকা নিয়ে আসতে পারে তাহলে তাকে কেউ অবহেলা করতে পারবে না। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগই এক মাত্র সংগঠন যেখান বলা হয়েছে, নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের কথা। নারী যত স্বাবলম্বী হবে একটা সমাজ তত দ্রুত এগিয়ে যাবে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে নারীদের উপর বর্বর নির্যাতনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী নারীদের উপর নির্মম নির্যাতন করেছিল। এ কাজে তাদেরকে সহযোগিতা করেছিল স্বাধীনতার দোসররা। তারা হানাদারদের হাতে মেয়েদের তুলে দিতেন। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পন করলে নির্যাতিত মেয়েদেরকে উদ্ধার করা হয়। তখন জাতির পিতা নারীদের পুনঃবাসনের জন্য বোর্ড গঠন করেছিলেন। নির্যাতিত নারীদের সম্মাননা দিয়েছিলেন, বীরঙ্গনা উপাধীর মাধ্যমে। তখন অনেক বাবাই নির্যাতিত মেয়েকে ফেরত নেয়নি। সে সময় জাতির পিতা তাদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আমার মা তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। অনেক বাবাই মেয়েকে পরিচয় না দিলে বিয়ের সময় কাবিননামায় জাতির পিতা নিজের নাম লিখে তাদের বিয়ে দিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা আরও বলেন, মেয়েদের অধিকার নিশ্চিত করতে জাতির পিতা সরকারী চাকরিতে ১০ ভাগ কোটার ব্যবস্থা করেছিলেন। সব ক্ষেত্রে যেন মেয়েরা অধিকার পায় তার ব্যবস্থা করেছিলেন। সে সময় বিচার বিভাগে নারীকে নিয়োগ দেওয়া হতো না। জাতির পিতা আইন করে নারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করেছিলেন। সংবিধানে নারীদের অধিকার নিশ্চিত করে ছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে এসে নারীদের জন্য বিভিন্ন কাজ করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সরকারে এসে দেখলাম অনেক ক্ষেত্রেই নারীদের অবস্থান নেই। আমি তখন বিভিন্ন বাহিনীতে নারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করি। আমরা বাবার নামের পাশে মায়ের নামকেও পরিচয়ে যুক্ত করি। এখন প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত মেয়েদেরকে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। খেলাধুলায় নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য আমাদেরকে অনেক প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়েছিল। নারীরা আজ খেলাধুলায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বয়ে আনছে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে নারী বিচারক ছিলেন না। ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করে নারী বিচারক নিয়োগের ব্যবস্থা করেছি। এ সময় নারীদের অধিকার ও উন্নয়নের জন্য তার সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ছাত্রলীগের শ্রদ্ধা
০৭মার্চ,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের আহমেদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মো. ইব্রাহিম ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান হৃদয়সহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষ নেতাকর্মীরা। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মানুষ হাজির হয়েছিলেন মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। মুক্তিকামী মানুষের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও নিরাশ করেননি তাঁদের। জনসমুদ্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯ মিনিটের যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা ইতিহাস হয়ে আছে। এবার ৭ মার্চ জাতির সামনে অন্য মহিমায় হাজির হয়েছে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা বা ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ঐ দিনের বিশাল জনসমাবেশে দেয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। আসন্ন যুদ্ধপ্রস্তুতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ঐ ভাষণই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার আহ্বানের অধীর অপেক্ষায় ছিল বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। স্লোগান ছিল ময়দানজুড়ে পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা।
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ববাসীর জন্যও প্রেরণার চিরন্তন উৎস: রাষ্ট্রপতি
০৭মার্চ,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল বাঙালি জাতির নয়, বিশ্ববাসীর জন্যও প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে। তিনি ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার এক বাণীতে এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামীকাল ৭ মার্চ, বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে অবিস্মরণীয় একটি দিন। এ দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর অনন্য-সাধারণ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে অর্জন করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বাধীনতা বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন, তবে তা একদিনে অর্জিত হয়নি উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনের এই দীর্ঘ বন্ধুর পথে বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম সাহস, সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সঠিক দিক-নির্দেশনা জাতিকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১ মার্চ থেকে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সাথে ঢাকায় রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) লাখো জনতার উদ্দেশ্যে বজ্রকণ্ঠে যে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন তা ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, অনন্য বাগ্মিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় ভাস্বর ওই ভাষণে জাতির মুক্তির আকাঙ্খাকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধু বলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, যা ছিল মূলত স্বাধীনতার ডাক। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক সেই ভাষণের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, বাঙালি জাতির বহুকাঙ্খিত স্বাধীনতা। তাঁরই নেতৃত্বে দীর্ঘ নমাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর কালজয়ী ভাষণগুলোর অন্যতম এ কথা উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে মুক্তিকামী জনগণকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ঐ ভাষণ ছিল এক মহামন্ত্র। একটি ভাষণ কীভাবে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর এ ভাষণকে ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজর মর্যাদা দিয়ে মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তিনি বলেন, বাঙালি হিসেবে এটি আমাদের বড় অর্জন। এ ভাষণের কারণে বিশ্বখ্যাত নিউজ উইক ম্যাগাজিন ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল সংখ্যায় বঙ্গবন্ধুকে পোয়েট অব পলিটিক্স হিসেবে অভিহিত করে। তাই বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল আমাদের নয়, বিশ্ববাসীর জন্যও প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশকে সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করাই ছিল বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্ন-এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন,আমাদের মহান নেতার সে স্বপ্ন পূরণে আমাদের অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্ম-শতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপিত হবে। এছাড়া ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ একটি দেশে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-৪১ ঘোষণা করেছেন। রাষ্ট্রপতি এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান। সূত্র: বাসস
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
০৭মার্চ,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ শনিবার সকাল ৭টা ৮ মিনিটে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে তিনি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে আওয়ামী লীগের প্রধান হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। এপর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবনে প্রবেশ করেন এবং সেখানে বেশ কিছু সময় কাটান। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোর পর যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমাবেশে দেয়া ওই ভাষণে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে সেদিন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পায় স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা। ঐতিহাসিক এ দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এদিকে আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হয়ে সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ
০৭মার্চ,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করতে দেয়নি তখনকার পাকিস্তান সরকার।৪৮ বছর পর বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ অমূল্য বিশ্বসম্পদ ও ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে তা সংরক্ষণ করার এবং বিশ্বকে জানানোর দায়িত্ব নিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেসকো)।এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, মনে রাখবা-রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব; এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লা-১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা মার্চের ৭ তারিখ বঙ্গবন্ধুর সেই মহাকাব্যিক দৃপ্ত উচ্চারণ আগে থেকে লেখা ছিল না। বরং তা ছিল মুক্তিকামী বাঙালির প্রতি বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনামূলক এক তাৎক্ষণিক ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণকে গত বছর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টার-এ স্থান দিয়েছে ইউনেসকো। এ প্রসঙ্গে ইউনেসকো তার ওয়েবসাইটে লিখেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি সামরিক শাসকরা ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ ছিল কার্যত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা। ইউনেসকো তার ওয়েবসাইটে আরো লিখেছে, উপনিবেশ থেকে মুক্ত হওয়া জাতিরাষ্ট্রগুলো অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে ব্যর্থ হয়ে কিভাবে বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত বা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জনগণকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে, তার যথার্থ প্রামাণ্য দলিল বঙ্গবন্ধুর ভাষণ।

জাতীয় পাতার আরো খবর