একুশের গৌরবময় ইতিহাস সব প্রজন্মকে জানতে হবে
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একুশের গৌরবের ইতিহাস সব প্রজন্মকে জানতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক ২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকেই জাতির পিতা ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন। তবে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, একসময় তার নাম ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস ইতিহাসই, তা কেউ মুছে ফেলতে পারে না। বাস্তবতা হলো, ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধু যখন ভাষা আন্দোলন শুরু করেন, তখন থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী তার ওপর নজরদারি ও তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন লিখতে শুরু করে। তিনি বলেন, একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করতে। একুশের রক্তে লেখা হয়েছিল স্বাধীনতা। আমাদের জন্য এ দিনটি অত্যন্ত গৌরবের। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইবি (গোয়েন্দা) রিপোর্টে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলা হয়- ১৯৫২ সালে জেলে থেকেও তিনি ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। জেলে গিয়ে ছাত্ররা তার সঙ্গে দেখা করতেন। তারা দেখা করতে গিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে গিয়ে কী কথা বলতেন, তা শোনার জন্য বাইরে থেকে অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছু শুনতে পাইনি। দায়িত্বরত পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল: ছাত্ররা যেনো জেলে এসে বৈঠক করতে না পারে, কিন্তু পুলিশ তা শোনেনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পৃথিবীর কোনও দেশেই কোনও নেতার বিরুদ্ধে লেখা গোয়েন্দা প্রতিবেদন কেউ প্রকাশ করেনি। আমি এটা করেছি। কারণ, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ, সবকিছু থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার একটা চেষ্টা করা হয়েছে দীর্ঘ ২১ বছর। তাই আমি চেয়েছি, সত্যটা মানুষের জানা উচিত। এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের এর চার খণ্ড বই আকারে প্রকাশ হয়েছে। পঞ্চম খণ্ড প্রকাশ হচ্ছে। মোট চৌদ্দ খণ্ড প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশের যে ইতিহাস, তার বিরাট অংশ এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৪৭ সালে করাচিতে শিক্ষা সম্মেলন হয়, সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় যে- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। তখন থেকেই কিন্তু আন্দোলনের সূত্রপাত। তখনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিনের বাসায় মিছিল নিয়ে যায় ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসে। এরপর ১৯৪৮ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনে ভূমিকা রাখেন। এরপর থেকেই গোয়েন্দারা তার নামে গোপন প্রতিবেদন লিখতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার। আমরা চাই এই গৌরবের ইতিহাস আমাদের দেশের প্রজন্মের পর প্রজন্ম পর্যন্ত পৌঁছে যাক। এখন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে অন্য ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা আছে, তাই বলে নিজের ভাষাকে ভুলে যাওয়া ঠিক নয়। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি পেতে কানাডাপ্রবাসী আবদুস সালাম ও রফিকুল ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তাদের উদ্দেশে বলেন, ১৯৫২ সালের দুজন ভাষা শহীদের নামে আপনাদের নাম। আপনাদের মাধ্যমেই হয়তো ভাষা শহীদ ও দিবসের স্বীকৃতির উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসালাম। এর আগে, অমর একুশে ফেব্রুয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২০ ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক-২০২০ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একুশে পদক ২০২০ প্রাপ্তরা হলেন- ভাষা আন্দোলনে প্রয়াত আমিনুল ইসলাম বাদশা (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) বেগম ডালিয়া নওশিন, শঙ্কর রায় ও মিতা হক, শিল্পকলায় (নৃত্য) মো. গোলাম মোস্তফা খান, শিল্পকলায় (অভিনয়) এম এম মহসীন, শিল্পকলায় (চারুকলা) অধ্যাপক শিল্পী ড. ফরিদা জামান, মুক্তিযুদ্ধে প্রয়াত হাজি আক্তার সরদার (মরণোত্তর), প্রয়াত আব্দুল জব্বার (মরণোত্তর), প্রয়াত ডা. আ আ ম মেসবাহুল হক (বাচ্চু ডাক্তার) (মরণোত্তর), সাংবাদিকতায় জাফর ওয়াজেদ (আলী ওয়াজেদ জাফর), গবেষণায় ড. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ কারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ, শিক্ষায় অধ্যাপক ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, অর্থনীতিতে অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, সমাজসেবায় সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ভাষা ও সাহিত্যে ড. নুরুন নবী, প্রয়াত সিকদার আমিনুল হক (মরণোত্তর) ও বেগম নাজমুন নেসা পিয়ারি এবং চিকিৎসায় অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার। পাশাপাশি গবেষণায় একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।
মাতৃভাষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে :প্রধানমন্ত্রী
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশে পদক-২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, অন্য ভাষা শেখার প্রয়োজন আছে, তবে মাতৃভাষার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এর আগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ২০ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও একটি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক-২০২০ প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার যারা একুশে পদক পেলেন-ভাষা আন্দোলনে আমিনুল ইসলাম বাদশা (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) বেগম ডালিয়া নওশিন, শঙ্কর রায় ও মিতা হক, শিল্পকলায় (নৃত্য) মো. গোলাম মোস্তফা খান, শিল্পকলায় (অভিনয়) এম এম মহসীন, শিল্পকলায় (চারুকলা) অধ্যাপক শিল্পী ড. ফরিদা জামান, মুক্তিযুদ্ধে হাজি আক্তার সরদার (মরণোত্তর), আব্দুল জব্বার (মরণোত্তর), ডা. আ আ ম মেসবাহুল হক (মরণোত্তর), সাংবাদিকতায় জাফর ওয়াজেদ (আলী ওয়াজেদ জাফর), গবেষণায় ড. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ কারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ, শিায় অধ্যাপক ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, অর্থনীতিতে অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, সমাজসেবায় সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ভাষা ও সাহিত্যে ড. নুরুন নবী, সিকদার আমিনুল হক (মরণোত্তর) ও বেগম নাজমুন নেসা পিয়ারি এবং চিকিৎসায় অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার। এ ছাড়া গবেষণায় একুশে পদক পেয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।
রাষ্ট্রপতির কাছে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের পরিচয় পত্র পেশ
২০ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম:বাংলাদেশে নবনিযুক্ত পাকিস্তানের আবাসিক হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকি বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে তার পরিচয় পত্র পেশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে পাক দূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে , সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়। বাংলাদেশ সবসময়ে সকল রাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, বাংলাদেশ সকল প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছে এবং আঞ্চলিক পযার্য়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে বিশ্বাস করে। এ বছরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বাষির্কী উদযাপন করবে এবং আগামী বছরে দেশে ও বিদেশে, বিশেষ করে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উদযাপন করবে। নতুন পাক দূত বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির সবধরনের সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাকে প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। এর আগে পাক হাইকমিশনার বঙ্গভবনে এসে পৌছুলে রাষ্ট্রপতির গার্ড রেজিমেন্টের একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ
১৯ফেব্রুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা সফররত নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গাওয়ালি। বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়। গেলো ১৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিপক্ষীয় সফরে ঢাকায় আসেন প্রদীপ কুমার গাওয়ালি। এরই মধ্যে মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে মোমেনের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন তিনি। সকালে এই সৌজন্য বৈঠকে দুই দেশের সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন তারা। উল্লেখ্য, দেশটি থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানিসহ বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলো নিয়ে বেশক'বছর ধরে আলোচনা করছেন দু'দেশের নীতিনির্ধারকরা। এ সময়, ঢাকায় নেপাল দূতাবাসের কর্মকর্তাসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সুপ্রিমকোর্ট বারের ভোটের তারিখ ঘোষণা
১৯ফেব্রুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী ১১ ও ১২ মার্চ সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিমকোর্ট বার) ২০২০-২০২১ইং সেশনের নির্বাচনের তারিখ ঠিক করে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন লিখত বক্তৃতায় জানান, ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল এবং ৪ মার্চ মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ ধার্য করা হয়েছে। প্রার্থীতা যাচাই বাছাই করা হবে ১ মার্চ। কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ১৪টি পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিমকোর্ট সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিনসহ আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে আহবায়ক করে সাত সদস্যের নির্বাচন উপ-কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ধর্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
১৯ফেব্রুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, মাদক এবং জঙ্গিবাদের মত ধর্ষকদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, মানুষ নামের কিছু পশু ছোট শিশু থেকে শুরু করে মেয়েদের বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ করছে। এদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদের ৬ষ্ঠ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা এবং অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে একথা বলেন। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং মাদকের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নিয়েছি তেমনি এখন আমরা সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ, মাদক এবং ধর্ষকের বিরুদ্ধে একইভাবে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসীকে আমি আহবান করবো- এই ধরনের ঘটনা (ধর্ষণ) যারা ঘটাচ্ছে তাদের ধরতে সকলেই যেন আমাদের সহযোগিতা করেন। কারণ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আমরা আইনগতভাবেই নেব এবং এ বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন রয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ, ডেঙ্গু প্রসংগ, আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দেশের ব্যাংকে টাকা নেই বলে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দেশের বর্তমান রিজার্ভসহ আর্থ-সামাজিক অবস্থার উত্তরণের চিত্র তাঁর ভাষণে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার চাচ্ছে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা যেন চলমান থাকে। চলার পথে নানা সময় বিভিন্ন সমস্যা দেখা গেলে সরকার তাৎক্ষনিকভাবেই সেটা সমাধানের উদোগ গ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে বলেন, এটা যখন চীনে দেখা দেয় তখনই তাঁর সরকার এ বিষয়ে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অন এরাইভাল ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। তাঁর সরকারের বিমানবন্দরে প্রতিরোধমূলক সতর্কাবস্থা গ্রহণের প্রসংগ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীন বা যেসব দেশে এই ভাইরাস দেখা গিয়েছে সেসব দেশ থেকে কেউ আসলে তার সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা নিশ্চিত হচ্ছি এই ভাইরাস নিয়ে কেউ ঢুকছে কিনা। কাউকে এতটুকু সন্দেহ হলে হাসপাতালে নিয়ে তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কোয়ারান্টাইনে রেখে তারপর আমরা ছাড়ছি। তিনি বলেন, এটা যেন বাংলাদেশে বিস্তার লাভ করতে না পারে সেজন্য যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। অতীতে দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার প্রসংগ টেনে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে বাড়ি-ঘর এবং চারপাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে এই রোগ সৃষ্টিকারি এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধ করার বিষয়েও সবাইকে পুনরায় সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে একটা সমসা সৃষ্টি হয়েছিল। আবারও মশার উপদ্রব বাড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমি দেশবাসীকে বলবো নিজেদেরকেও একটু সচেতন থাকতে হবে এবং বাড়ি-ঘর পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যেন মশা না জন্মাতে পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে আসন্ন রমজান মাসে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সমাগ্রীর সরবরাহকে সুষম রাখার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্যকে জনগণের নাগালের মধ্যে রাখার জন্যও সংশ্লিষ্ট মহলকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
শহীদ মিনারে থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তা: ডিএমপি কমিশনার
১৯ফেব্রুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার (ডিএমপি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ২১ ফেব্রুয়ারি মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। শহীদ মিনারে জঙ্গি হামলা বা নাশকতার কোনো আশঙ্কা নেই। এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকিও নেই। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত শহীদ মিনার ও এর আশপাশের এলাকায় কোনো যানবাহন ঢুকতে দেওয়া হবে না। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় জাতীয় শহীদ মিনারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ সব তথ্য জানান। কমিশনার বলেন, ‘শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা নাগরিকদের আর্চওয়ের মধ্যদিয়ে প্রবেশ করানো হবে। তল্লাশি ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হবে। এ ছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশ, ডিবি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। প্রস্তুত থাকবে সোয়াত, সিটিটিসির স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ ও ডগ স্কোয়াড টিম। ডিএমপি কমিশনার জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি বিভাগ। শফিকুল ইসলাম বলেন, শহীদ মিনার এলাকায় ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। ব্যারিকেডের ভেতরের প্রতি ইঞ্চি জায়গায় সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। ব্যারিকেডের ভেতরে প্রবেশের সময় সবাইকে তল্লাশি করা হবে। তল্লাশি ছাড়া কাউকে ব্যারিকেডের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া নিয়মিত টিমের পাশাপাশি সোয়াট, সাদা পোশাকে ডিবি, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও মোবাইল টিম থাকবে। যেন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে ডিএমপির নির্দেশিত ম্যাপ ফলো করতে সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।
একনেক সভায় ৯ প্রকল্প অনুমোদন
১৮ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ২৯তম সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ১৩ হাজার ৬৩৯ কোটি ১ লাখ টাকা খরচে ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদন দেয়া প্রকল্পগুলোতে সরকার দেবে ৮ হাজার ৮৮৬ কোটি ৪৪ লাখ, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৯৩ কোটি ১৬ লাখ এবং বৈদেশিক ঋণ ৪ হাজার ৪৫৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তিনটি প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে নোয়াখালী জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাজী কামাল উদ্দীন সড়ক (বেগমগঞ্জের গ্লোব ফ্যাক্টরি হতে কবিরহাটের ফলাহারী পর্যন্ত) (জেড-১৪৫৩) উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ হবে ২৮২ কোটি ১১ লাখ টাকা। আনোয়ারা উপজেলা সংযোগ সড়কসহ কর্ণফুলী টানেল সংযোগ মড়ককে চারলেনে উন্নীতকরণ (শিকলবাহা-আনোয়ারা সড়ক) প্রকল্পে ৪০৭ কোটি ৮ লাখ টাকা খরচ হবে। আর ১ হাজার ৬৮২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা খরচে শরীয়তপুর-জাজিরা-নাওডোবা (পদ্মা ব্রিজ এপ্রোচ) সড়ক উন্নয়নপ্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাটুরিয়া এবং দৌলতদিয়ায় আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদীবন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পে ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৭০ লাখ টাকা খরচ হবে। অন্য প্রকল্পটি হলো ৬ হাজার ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা খরচে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প। ১২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা খরচে বিলুপ্ত ছিটমহল ও নদী বিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প এবং ১১৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা খরচে হাওর অঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন নামে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া সভায় ২ হাজার ৯৩১ কোটি ৬২ লাখ খরচে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের রাজশাহী জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর বাম তীরের স্থাপনাসমূহ নদী ভাঙন হতে রক্ষা প্রকল্প এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৭২২ কোটি ২৪ লাখ টাকা খরচে রাজশাহী জেলার চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পদ্মা নদীর বাম তীরের স্থানসমূহ নদী ভাঙন হতে রক্ষা প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।
৬টি ইউনিটকে রেজিমেন্টাল কালার প্রদান করলেন সেনাবাহিনী প্রধান
১৮ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬টি ইউনিটের রেজিমেন্টাল কালার প্রদান করেছেন। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনানিবাসস্থ ১৯ পদাতিক ডিভিশনে আজ অনুষ্ঠিত রেজিমেন্টাল কালার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। সেনাবাহিনী প্রধান প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হলে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম তাকে অভ্যর্থনা জানান। এরপর প্যারেড কমান্ডার লে. কর্নেল খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের একটি সম্মিলিত চৌকস দল কুচকাওয়াজ প্রদর্শন এবং সেনাবাহিনী প্রধানকে জেনারেল সালাম প্রদান করেন। গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক ইউনিটসমূহ কর্তৃক সেনাবাহিনী তথা দেশমাতৃকার সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য রেজিমেন্টাল কালার প্রদান করা হয়। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ১১ আর ই ব্যাটালিয়ন, ১৮ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৩ সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন, ১৭ বীর এবং ১৯ বীর এই কালার প্যারেডে অংশগ্রহণ এবং প্রধান অতিথির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিমেন্টাল পতাকা গ্রহণ করে। সেনাবাহিনী প্রধান রেজিমেন্টাল কালার প্রাপ্ত ইউনিটসমূহকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, রেজিমেন্টাল কালার প্রাপ্তি যে কোন ইউনিটের জন্য একটি বিরল সম্মান এবং পবিত্র আমানত। তিনি কর্মদক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম ও কর্তব্যনিষ্ঠার স্বীকৃতি স্বরূপ প্রাপ্ত পতাকার মর্যাদা রক্ষা এবং দেশ মাতৃকার যে কোন প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে ইউনিটসমূহকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে প্রাক্তন সেনাবাহিনী প্রধানগণ, সেনাসদর ও বিভিন্ন ফরমেশনের উর্ধতন সেনাকর্মকর্তা, কোর অব আর্টিলারি, ইঞ্জিনিয়ার্স, সিগন্যালস ও বীর এ চাকুরীরত, অবসরপ্রাাপ্ত উর্ধতন সেনাকর্মকর্তা এবং রেজিমেন্টাল কালার প্রাপ্ত ইউনিটসমুহের প্রাক্তন অধিনায়কবৃন্দ ও সুবেদার মেজর এবং অসামরিক প্রশাসনের আমন্ত্রিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর