করোনা টেস্ট বাড়ানো, দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার আহ্বান কাদেরের
২৮আগস্ট,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস শনাক্তে নমুনা পরীক্ষা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। একইসঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসার ভোগান্তি যাতে না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি টেস্ট রিপোর্ট দ্রুত নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের সংসদ ভবন এলাকায় তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালেকর উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনা টেস্ট আরও বাড়াতে হবে। রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি যাতে বিলম্ব না ঘটে, টেস্টের পরপরই যাতে রিপোর্ট পাওয়া যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। একজন ডাক্তার তার বাবার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে চিকিৎসা দিতে পারেননি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন ডাক্তার হয়ে বাবা-মাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে পারবেন না, পথে মারা যাবেন, এর চেয়ে বেদনাদায়ক আর কী হতে পারে। আমি স্বাস্থ্যের ডিজিকে অনুরোধ করব, এই যে হাসপাতালে হাসপাতালে চিকিৎসার উপেক্ষা, এটা যাতে দূর হয়, সে ব্যবস্থা নেবেন। যারা প্রবাসে চাকরি করেন, চাকরি আছে, চাকরি ফেরত পাওয়ার জন্য ফিরে যেতে টেস্ট করাতে গিয়ে সময় মতো রিপোর্ট পাওয়া যায় না। ফেরত আসতে হয়। এটা দেখবেন। ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অনুপ্রবেশকারীরা দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কিছু করেন না। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, সুবিধাবাদী অনুপ্রবেশকারীরা দলের ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। বসন্তের কোকিলরা, সুবিধাবাদীরা দুঃসময়ে দলে থাকে না। ত্যাগী পরীক্ষিত নেতাকর্মীরাই দুঃসময়ে দলকে ধরে রাখেন। তাই আমি সবাইকে বলব, দলের কোনো স্তরে, কোনো পর্যায়ে কোনো প্রকার অনুপ্রবেশকারী, সুবিধাভোগীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেন না। দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, আমাদের করোনা ভাইরাস চিকিৎসা সামগ্রীর সীমাবদ্ধতা ছিল। বিশ্বের কেউ বলতে পারবে না তাদের চিকিৎসা সামগ্রীর সীমাবদ্ধতা ছিল না। আমরা এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। তবুও মাঝে মধ্যে দুঃসংবাদ আসে।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ ও নাইজেরিয়ার স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত
২৮আগস্ট,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখাতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এবং নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিওফ্রে অনিইয়েমা আজ যৌথভাবে স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করেছেন। নাইজেরিয়ার ডাকবিভাগের পক্ষ থেকে এ স্মারক ডাকটিকেট আজ অবমুক্ত করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, জাতির পিতার আদর্শ, ত্যাগ ও সারাজীবনের সংগ্রাম পৃথিবীর সকল মুক্তিকামী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করায় নাইজেরিয়ার সরকারকে তিনি ধন্যবাদ জানান। এ ধরনের উদ্যোগ দু’দেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো গভীর ও দৃঢ় করবে বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন বন্ধ ও তাদের নিজ ভূমি মিয়ানমারে ফেরত নেয়ার বিষয়ে জাতিসংঘসহ অন্যান্য ফোরামে নাইজেরিয়ার জোরালো ভুমিকা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন ড. মোমেন। তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে গত দশকে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। রোহিঙ্গাদের সর্বশেষ আগমনের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে। তারা এখন এদেশের আর্থ-সামাজিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাইজেরিয়াকে আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, দু দেশ কৃষি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, দ্বৈত কর পরিহারসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে উভয় দেশ কাজ করছে। নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিওফ্রে অনিইয়েমা বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশ উপকৃত হবে। দু দেশের আন্তরিকতার নিদর্শন স্বরূপ এ স্মারক ডাকটিকেট অবমুক্ত করা হয়েছে। এসময় বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। ভার্চুয়াল এ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংযুক্ত ছিলেন। এছাড়া নাইজেরিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো: শামীম আহসান, নাইজেরিয়া পোস্টাল সার্ভিসের মহাপরিচালক ড. ইসমাইল আদেবায়াও আদেওশিসহ উভয় দেশের উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং নাইজেরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা সংযুক্ত ছিলেন।
সিনহা হত্যা: আদালতে ক্ষমাপ্রার্থনা রামু থানার ওসির
২৭আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের ভিডিওচিত্র নির্মাণের সহযোগী শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় থানা থেকে দু’টি জব্দ তালিকা পাঠানোয় আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. দেলোয়ার হোসেনের আদালতে কারণ দর্শানোর জবাব দাখিল করেন এবং এসময় তিনি আদালতের কাছে নিঃশর্তে ক্ষমা চান। তবে আদালত তাৎক্ষণিক এ সংক্রান্ত কোনো আদেশ দেননি। গত ৩১ আগস্ট রাতে টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা নিহত হন। এ ঘটনার পরে সিনহা যে কটেজে থাকতেন সেই হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে শিপ্রা দেবনাথকে গ্রেফতার করে রামুর হিমছড়ির ফাঁড়ি পুলিশ। পরদিন তাকে মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এ মামলায় সেই কটেজ থেকে উদ্ধার করা মালামালের একটি জব্দ তালিকা আদালতে জমা দেয় রামু থানা পুলিশ। কিন্তু শিপ্রা দেবনাথের ল্যাপটপ, মোবাইলসহ ২৯ রকমের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস জব্দ তালিকায় আনা হয়নি। পরে এসব মালামালের আরেকটি জব্দ তালিকা আদালতে জমা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় রামুর থানার ওসি মো. আবুল খায়েরকে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে আদেশ দেন গত ২০ আগস্ট। পরে আদালতের আদেশে রামু থানায় সংরক্ষিত ২৯ রকম মালামাল মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করে রামু থানা পুলিশ।
অস্ত্র মামলায় রিজেন্ট চেয়ারম্যান সাহেদের বিচার শুরু
২৭আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অস্ত্র মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামি ১০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত। অভিযোগ গঠনের সময় সাহেদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেন। এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে মামলার চার্জ গঠনের জন্য এদিন ধার্য করেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম জুলফিকার হায়াত মামলার চার্জশিটে (অভিযোগপত্র) স্বাক্ষর করেন। এরপর মামলার নথি বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করেন। ৩০ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়ার আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. শায়রুল তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে Rab। পরে হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকায় আনা হয়। পরদিন করোনা পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্টসহ বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর তাকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় এ মামলা করা হয়।
কাজী নজরুলকে সরকারিভাবে জাতীয় কবি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি
২৭আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কাজী নজরুল ইসলাম সব সময় মানুষের জয়গান গেয়েছেন। মানুষকে নিয়ে পথ চলেছেন বলেই তার গান, কবিতা, সাহিত্য আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি শিখিয়ে গেছেন চির উন্নত শির হতে, মানুষকে ভালোবাসতে। তাই জাতীয় কবিকে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন কবি পরিবার এবং বিশিষ্ট জনেরা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় কবির ৪৪তম প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করা হয়। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তাকে নিয়ে কথা বলেন বিশিষ্ট জনেরা। সেখানে জাতীয় কবিকে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তারা। সকালে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে আক্ষেপ করে নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফেরদৌস আরা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় কবি, তা আমাদের মেধায় আছে, মননে আছে। কিন্তু তা কোনো সরকারি গেজেটে নেই। অনেকের কথা থাকে, লিখিত রাখার কি দরকার আছে? আমরা তো জানিই যে তিনি জাতীয় কবি। সে কথাই যদি হতো, তাহলে কোথাও কোনো স্বীকৃতির প্রয়োজন হতো না। কোথাও কোনো কাগজে লিখতে হতো না। স্বাক্ষর-সিলের কোনো দরকার ছিল না। কাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় কবি, সে হিসেবেই তার স্বীকৃতি হওয়া উচিত। স্বাধীনতার এত বছর পর আজ তার ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী, এতদিনেও আমরা তাকে স্বীকৃতি দিতে পারিনি। একই কথা কবি পরিবারেরও। তাদের আশঙ্কা, গেজেট না হলে এক সময় নতুন প্রজন্ম হয়তো জানতেও পারবে না যে, কাজী নজরুল ইসলাম এ দেশের জাতীয় কবি। এ বিষয়ে কবি পরিবারের পক্ষ থেকে কবির নাতনি খিলখিল কাজী বাংলানিউজকে বলেন, সরকারিভাবে এটা (গেজেট) এখনো করা হয়নি। তিনি জাতীয় কবি, সরকারিভাবে গেজেট করা উচিত বলে আমিও মনে করি। যুগ যুগ পরে, হয়তো এমন একটা সময় আসবে যখন কেউ জানতে পারবে না যে, কাজী নজরুল ইসলাম এ দেশের জাতীয় কবি ছিলেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পরিবারের দাবি এটা করা হোক। সকাল সাড়ে ৯টায় কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এরপর তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। আমাদের চেতনায় তিনি চির জাগরূক থাকবেন। তার অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এ দেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিষ বৃক্ষের মূল উৎপাটন করবো বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। একইসঙ্গে নজরুলের চেতনায় সমৃদ্ধি ও সাম্যবাদী সমাজ বিনির্মাণ করবো। সকাল ৭টায় কবির সমাধিতে ফুল দেওয়া হয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। এসময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বদরুল আরেফীন বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহী কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন শান্তি ও সম্প্রীতির কবি। নজরুলের কীর্তি ও রচনা চর্চার মাধ্যমে আমরা আমাদের সাহিত্য অঙ্গন আরও এগিয়ে নেবো। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কবির সমাধিতে ফুল দেওয়ার পর বলেন, যখন গণতন্ত্রের কথা বলা হয়, তখন কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের উদ্বুদ্ধ করেন স্বেচ্ছায় নির্যাতন ভোগ করার। তিনি আমাদের জাতীয় জীবনের প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত। দুঃশাসনের এ যুগে তিনি আমাদের প্রতিটি ক্ষণ এমনভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছেন, এ দুঃসময় অতিক্রম করার জন্য, সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তিনি আমাদের পাশেই আছেন। তিনি আছেন বলেই এ নিপীড়নের মধ্যেও আমরা মিছিল করছি, সত্য উচ্চারণ করছি। তিনি আছেন বলেই আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করছি। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে প্রেরণার এক অসাধারণ উৎস কাজী নজরুল ইসলাম। কঠিনতম সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে নজরুলের গান ও কবিতা। সকালে আরও বিভিন্ন সংগঠন কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এবার আরও ১১টি আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার: পলক
২৬আগস্ট,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে আরও ১১টি জেলায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার গড়ে তুলতে যাচ্ছে সরকার। এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক তরুণ বেকারদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশের ৬৪ জেলায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অধীন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের ১২টি জায়গায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে রাজশাহী ও নাটোরে আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এবার আরও ১১টি আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন বিষয়ক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলে তা অনুমোদন পায়। প্রকল্পটি চলতি মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। এটি বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, জয়পুরহাটের কালাই, দিনাজপুর সদর, মানিকগঞ্জের শিবালয়, কিশোরগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, চাঁদপুরের মতলব, বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ভোলা সদর, কুষ্টিয়া সদর ও মেহেরপুর সদর উপজেলায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার গড়ে তোলা হবে। জানা যায়, এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্প নিয়ে আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আরও ১১টি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলায় এই ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার তৈরি করা হবে। এ সেন্টারের মাধ্যমে হাজারো তরুণ প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। দেশের সব জেলায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করা হলে ২০৪১ সাল নাগাদ এখান থেকে প্রায় ১০ লাখ প্রশিক্ষনার্থীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং প্রায় ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম বলেন, আমরা সব প্রকল্প তরুণ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে হাতে নিই। এখান থেকে সৃষ্ট মানবসম্পদ হাই-টেক ও সফটওয়ার পার্কগুলোর চাহিদা পূরণ করবে। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
ইতিহাস তার আপন গতিতে এগিয়ে যায় : প্রধানমন্ত্রী
২৬আগস্ট,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইতিহাস তার আপন গতিতে এগিয়ে যায়। কেউ ইতিহাস মুছতে পারে না এটা আজকে প্রমাণিত সত্য। আজকে শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্ব, এমনকি জাতিসংঘও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল। যদিও করোনা ভাইরাসের কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তবে ইতোমধ্যে তারা একটা স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে। বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে দেওয়া হতো না। ভাষণ বাজাতে চাওয়ায় অনেককে গ্রেপ্তার পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে এখন সবাই বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে পারছে। নতুন প্রজন্মের আগ্রহটা, বিশেষ করে তারা যে সুন্দরভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছে এ জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সেই অগ্রযাত্রাকে স্তিমিত করেছিল। পনেরো আগস্ট পরাজিত শক্তির উত্থান ঘটেছিল। তারা আমাদের বিজয়কে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা যে পথ আমাদের দেখিয়ে গেছেন, সেই পথ ধরেই দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে যদি আমরা ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত করে সোনার বাংলা হিসেবে গড়তে চাই, অবশ্যই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারও পরামর্শে নয়, সম্পূর্ণ নিজস্ব ধারণা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা প্রণয়ন করেছিলেন। আর দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে ছয় দফার ভূমিকা অনেক। তিনি বলেন, তিনি যখন লাহোরে যান, লাহোরে গিয়ে এটা পেশ করার চেষ্টা করেন, সেখানে প্রচণ্ড বাধা আসে। বাধা পাওয়ার পর তিনি ওখানেই একটা সাংবাদিক সম্মেলন করে তাদের কাছে এটা তুলে ধরেন। তারপর ওরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তার বিভিন্ন উদ্যোগের একটি পর্যায় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যে আজকে স্বাধীন দেশ, স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি, আমাদের আত্মপরিচয় সুযোগ হয়েছে, আত্মমর্যাদার সুযোগ হয়েছে, এই সুযোগটা যিনি এনে দিয়েছিলেন এবং কীভাবে তিনি দিয়েছিলেন তারই একটি পর্যায় হচ্ছে এই ছয় দফা।- একুশে টেলিভিশন
দুটি প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন প্রধানমন্ত্রীর
২৫আগস্ট,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করেছেন। প্রতিবেদন দুটো হলো- বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ (বাংলাদেশ পার্সপেক্টিভ প্ল্যান ২০২১-২০৪১) এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট : বাংলাদেশ অগ্রগতি প্রতিবেদন ২০২০ (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস : বাংলাদেশ প্রগ্রেস রিপোর্ট ২০২০)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে গণভবন থেকে রাজধানীর শেরে-ই-বাংলা নগরের ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের (এনইসি) কনফারেন্স রুমে এনইসির নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সাপ্তাহিক বৈঠকের শুরুতে প্রতিবেদন দুটির মোড়ক উন্মোচন করেন। একনেকের চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। এনইসি কনফারেন্স রুম থেকে একনেক সদস্যরা এ সময়ে তাঁর সাথে যুক্ত হন।- বাসস
ডিআইজি প্রিজনস পার্থের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট
২৫আগস্ট,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুর্নীতির মামলায় সাময়িক বরখাস্ত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার হওয়া এ কারা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন এ চার্জশিট দাখিল করেন। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ চার্জশিটের বিষয়ে ৩১ আগস্ট শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এর আগে ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর নগদ ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর, ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক ও ফেনসিডিলসহ কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রেন থেকে গ্রেফতার হন চট্টগ্রামের তত্কালীন জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস। ওই সময় তিনি গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে নিজের ঘুষবাণিজ্যের পেছনে সহায়ক শক্তি হিসেবে ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিকের কথা বলেন। সেই থেকে কারাগারের বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। এতে উঠে আসে কারাগারকে মাদকের হাট বানানোর চিত্র। এই সূত্র ধরে দুদকের অনুসন্ধানী টিম সেগুনবাগিচার কার্যালয়ে পার্থ গোপালকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই বেলা ২টার দিকে তার ফ্ল্যাটে অভিযানে গেলে ফ্ল্যাটে না ঢুকতে দিয়ে বণিকের স্ত্রী চিকিৎসক রতন মনি সাহা প্রায় ২ ঘণ্টা দুদক টিমের সঙ্গে টালবাহানা করেন। তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, পার্থ বাসায় নেই, মিরপুরে আছেন। অথচ সে সময় পার্থ ফ্ল্যাটেই ছিলেন। দুদক টিম বিকল্পভাবে ভেতরে প্রবেশের কথা জানালে দরজা খুলে দেন মনি সাহা। তবে এর আগেই বাসায় রাখা ওই ৮০ লাখ টাকা দুটি বস্তায় ভরে পাশের বাসার ছাদে ফেলে দেন পার্থের স্ত্রী। এ ঘটনায় ওইদিনই পার্থকে গ্রেফতার করা হয় এবং এর পর থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।- বণিক বার্তা অনলাইন

জাতীয় পাতার আরো খবর