বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর শহীদ হওয়ার স্থানেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এসময় আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনে শীর্ষ নেতারা শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ধানমন্ডি থেকে বনানী কবরস্থানে যান। সেখানে ১৫ আগস্টের শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটে আওয়ামী লীগ সফলতা পেয়েছে বিস্ময়কর। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে দলটি যে হারে ভোট পেয়েছে, এবার পেয়েছে তার চেয়ে বেশি। ২৫৯টি আসনে প্রার্থী দিয়ে জিতেছে ২৫৬টিতেই। আবার শরিক দলকে দেওয়া ১৪টি আসনের ১১টি আসনেই জয় এসেছে। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ২ জানুয়ারি বুধবার চূড়ান্ত ফলাফলে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। বিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেব অনুযায়ী, ৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবারই হতে পারে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। কাল ২ জানুয়ারি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
স্বাগত ২০১৯ নতুন সূর্যের উদয়ে
অনলাইন ডেস্ক: নতুন সূর্যের উদয়ে স্বাগত ২০১৯। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় নতুন বছরেও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ এমন প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। অন্যদিকে, নতুন বছরে সম্প্রীতির বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে এমন স্বপ্নের কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন বছর, নতুন স্বপ্ন নিয়ে দিনের সূচনা। পেছনে ফেলে আসা আনন্দ-বেদনা, প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসাব; সরল অংকের মত মিলে যায় না সব। তবুও এগিয়ে যাবার আকাঙ্খা তো মানুষের আজন্ম লালিত। নতুন বছরের শুরুতেই তাই সবারই প্রত্যয় ভালো থাকুক প্রতিটি প্রাণ। মুক্তিযুদ্ধের ধারায়েই এগুবো স্বপ্নের বাংলাদেশ এমন প্রত্যাশার কথা বলছেন অনেকেই। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, অন্তরের অংশ গুলো প্রতিটি মানুষের জীবনে বিস্তারিত হোক। যাতে করে দু বেলা খেয়ে পড়ে শিক্ষায় স্বাস্থ্য সামাজিকতায় নিরাপত্তায় এবং চলমানতায় মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। হাজারো বছর ধরে এগিয়ে চলা বাঙালি সংস্কৃতির ধারক এই জনপদের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন নতুন বছরে আরো দৃঢ় হবে এমন স্বপ্নের কথা বলছেন গবেষকরা। কাল নিরবধি উজান স্রোত ঠেলেই এগিয়েছে বাংলাদেশ। তাই যতই বাঁধা আসুক বাঙালির থাকবে সমৃদ্ধি ধারায়।
রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন শেখ হাসিনাকে
অনলাইন ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তায় এ কথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে আমি আপনাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি দেশবাসীসহ বিজয়ী সব প্রার্থীকে। আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে, যাদের সক্রিয় সহযোগিতায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি বলেন, এ নির্বাচন সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এবং স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও উন্নয়ন-অগ্রগতির পক্ষে জনগণের মতামতের সুস্পষ্ট প্রতিফলন। আবদুল হামিদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জন করে। বঙ্গবন্ধু সবসময় রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি তথা সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীচক্র বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে সে স্বপ্ন স্তব্ধ করে দেয়। গণতন্ত্র ও উন্নয়নের চাকা উল্টোপথে চলতে শুরু করে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেন। বাংলাদেশ এগুতে থাকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে। ২০০১ সালে এ ধারা থেমে গেলেও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আবারও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেন। তার প্রজ্ঞা ও সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পার আলোকে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সার্বিক অর্জনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব গোটা জাতি এ দুটি উৎসব উদযাপন করবে ইনশাল্লাহ। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। শেখ হাসিনার বিচক্ষণ ও গতিশীল নেতৃত্বে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসিক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হোক—এ আমার একান্ত কামনা। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সব সদস্যের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। সূত্র: বাসস
নিজস্ব ভুল এবং দুর্বলতার কারণেই ভরাডুবি হয়েছে বিএনপির: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিরোধীদের বিভ্রান্তি এবং ভুল রোববারের নির্বাচনে তাদের ভরাডুবির জন্য দায়ী। তিনি বলেন, তিনি সবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই আগামী পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। এটি একটি প্রশংসাযোগ্য এবং স্বচ্ছ নির্বাচন ছিল। কিন্তু বিএনপির নিজস্ব ভুল এবং দুর্বলতার কারণেই তাদের ভরাডুবি হয়েছে, যোগ করেন তিনি। খবর বাসসর। শেখ হাসিনা সোমবার বিকালে গণভবনে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসা বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি বিএনপির নেতৃত্বের শূন্যতা প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এটাই ছিল তাদের প্রধানতম দুর্বল দিক। কারণ তাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একটি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান পলাতক তারেক রহমানও বিদেশে অবস্থান করছেন। কারণ, ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করে ২৪ জনকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আদালত তাকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন। জনগণ জানেই না বিরোধী দলের নেতা কে, যদিও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বিরোধী ঐক্যজোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যাদের মূল শরিক বিএনপি, বলেন তিনি। এছাড়া, তারা প্রতিটি আসনে টাকার বিনিময়ে চার থেকে পাঁচজন প্রার্থী দিয়েছে, যে কারণে দলের আসল প্রার্থী নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয় এবং তাদের অধিকাংশ প্রার্থীই জনগণের কাছে ছিল অপরিচিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিজয়ের আরেকটি প্রধান কারণ ছিল গেল ১০ বছরে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন। দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনা এবং জনগণের জীবন-মানের উন্নয়ন এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করা। তিনি বলেন, তারা (জনগণ) সরকারের ধারাবাহিকতা চেয়েছিল, উন্নয়ন চেয়েছিল যে কারণে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আমাদের ভোট প্রদান করেছে। তবে, আমি সকলেরই প্রধানমন্ত্রী যোগ করেন শেখ হাসিনা। তার আগামী সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, এরই মধ্যে যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো গৃহিত হয়েছে সেগুলো সমাপ্ত করা এবং তার সরকারের আরেকটি অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা প্রদান করা। তিনি বলেন, আমাদের প্রধান দায়িত্ব হবে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকা-কে অব্যাহত রাখা, যাতে করে মানুষ উন্নত জীবন পেতে পারে। নির্বাচনকালীন সহিংসতার জন্য প্রধানমন্ত্রী বিএনপি এবং তাদের সহযোগীদের দায়ী করে বলেন, নিহতদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের হাতে তারা প্রাণ হারিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামাতের লোকজন আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করেছে, তারা ব্যালট পেপার এবং ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করেছে এবং নির্বাচনে ভীতির সঞ্চার করতে চেয়েছে। কিন্তু তাদের এ পরিকল্পনা সম্পর্কে জনগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী সজাগ ছিল। তিনি বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মূল কারণই ছিল বিশ্বকে দেখানো যে, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি বা তাদের ষড়যন্ত্র ছিল অন্যকিছুর বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, এখন জনগণ এসব (বিএনপি-জামায়াত) রাজনৈতিক দলকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনে করে এবং তাদের দুর্নীতির কথা সবারই জানা, তাই জনগণ মনে করে দেশের কোনো উন্নতিই তারা করতে পারবে না। বিবিসির এক সাংবাদিকের নির্বাচনের স্বচ্ছতা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরো ব্যাপরটিই সাজানো ছিল। তিনি বলেন, এ ব্যালট ভর্তি বাক্সের ফুটেজটি ৩০ ডিসেম্বরের ছিল না। এটি ছিল মেয়র নির্বাচনের সময়কার, যে বাক্সটি তখন ভোট গণনার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, যেখানেই কোনো অভিযোগ উঠেছে এবং তাদের গোচরে এসেছে নির্বাচন কমিশন সেখানেই তৎক্ষণাৎ ভোটগ্রহণ বন্ধ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আমরা কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দিই না। কোনো কোনো জায়গায় কিছু ঘটনা ঘটে থাকতে পারে, কিন্তু তৎক্ষণাৎ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এইচটি ইমামও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব বিপ্লব বড়ুয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। গতকাল তার নেতৃত্বে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করলেন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা। সোমবার সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তারা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন তার বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান রাজনৈতিক ব্যক্তি, সচিব, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা, পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব কর্মকর্তারা। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বেসরকারি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মসিহুজ্জামান সেরনিবায়াত, নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, পুুলিশের পক্ষ থেকে আইজিপি মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারি, Rab মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম, ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিএসএমএমইউ ভিসির অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদমুক্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নাই। উন্নয়নের গণতন্ত্রের রূপকার শেখ হাসিনার পক্ষেই বাংলাদেশ সঠিকভাবে সঠিকপথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। ইউজিসি চেয়ারম্যানের অভিনন্দন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল ও দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশ আরও সাফল্য ও অগ্রগতি অর্জন করবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিনন্দন : জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে কৃষিদরদি, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণঢালা অভিনন্দন। শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত ভোটের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে নিরঙ্কুশ বিজয়ী করায় দেশের জনগণকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। ঢাবি ভিসি-শিক্ষকদের অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়লাভ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি আখতারুজ্জামান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকরা। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিনন্দন জানানো হয়। তারা নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে রায় দেওয়ায় বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
ঢাবি ভিসি-শিক্ষকদের অভিনন্দন শেখ হাসিনাকে
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে জয়লাভ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি আখতারুজ্জামান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকরা। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক দুই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিনন্দন জানানো হয়। তারা নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে রায় দেয়ায় বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে ঢাবি ভিসি বলেন, এ বিজয়ের মাধ্যমে দেশে বিরাজমান গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক মূল্যবোধ আরও বিকাশ লাভ করবে এবং উন্নয়নের অব্যাহত ধারা বেগবান হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক জেডএম পারভেজ সাজ্জাদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাবি শিক্ষকরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, টানা তিনবারসহ চারবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিপুল উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে নির্বাচনে: সিইসি
অনলাইন ডেস্ক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা জানিয়েছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে। সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে সিইসি একথা জানান। সিইসি কেএম নূরুল হুদা বলেন, ৩০ ডিসেম্বর উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, 'জনগণ যেভাবে ভোট দিয়েছে, সেভাবে ফল হয়েছে। নতুন করে ভোট গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই।' আর এ কারণে পুনরায় ভোট গ্রহণের যে দাবি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জানিয়েছে তা মেনে নেয়া সম্ভব নয় বলেও এ সময় উল্লেখ করেন সিইসি। আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হ্যাটট্রিক জয় পেয়েছে। জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও শরিকদের ছাড়াই তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এ পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ঘোষিত ফলাফলে ২৫৯ আসনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী এই দল।
বিজয়ের মাসে দেশের জনগণের আরেক বিজয়: শেখ হাসিনা
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের বিজয় ডিসেম্বর মাসে দেশের জনগণের আরেক বিজয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা ও তাঁর দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে পুনরায় বিজয় লাভ করায় আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাজনৈতিক নেতা, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তারা তাঁকে অভিনন্দন জানাতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ তথ্য জানায়। শেখ হাসিনা জানান, এ বিজয় ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, বরং দেশ ও জনগণের প্রতি তাঁর বড় দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী জানান, আবার নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে দেশের জনগণের সেবা করা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অসাধারণ সুযোগ পেয়েছেন তিনি। নববর্ষ উপলক্ষে দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনা। বিভিন্ন নেতা ও কর্মকর্তারা তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানরা, আইজিপি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, বিজিবি ও Rab মহাপরিচালক। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানালেন নরেন্দ্র মোদি
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ায় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও তার দলকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী টেলিফোন করে এই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ ছাড়া বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইতিহাস গড়ে জয় পেয়েছে নৌকা। টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়ে আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্বগ্রহণ করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রসঙ্গত, রোববার শেষ হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৫৯টি আসন। বিএনপি পেয়েছে ৬টি এবং জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২টি আসন।
জনগণের রায় উন্নয়নের পক্ষে
অনলাইন ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয় পেল আওয়ামী লীগ। টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়ে ৫ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্বগ্রহণ করতে যাচ্ছে দলটি। রোববার উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সব দলের অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন ভোটাররা। রোববার রাতে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, নৌকা প্রতীক ২৫৯ আসনে জয়ী হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ০৬ আসন। লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছে ২২ আসন। অন্য দলগুলো পেয়েছে ০৬ আসন। যদিও ভোটগ্রহণের মাঝপথে শতাধিক আসনের প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি অধিকাংশ আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীদের এজেন্ট দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছে দলটি। ভোটগ্রহণ শেষে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, মানুষের প্রত্যাশিত ভোটের উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। ২৯৩ আসনে ভোটের উৎসব হয়েছে ব্যালটের মাধ্যমে। আর ছয়টি আসনে ভোটের উৎসব ছিল ইভিএমের মাধ্যমে। ৪০ হাজার কেন্দ্রের মধ্যে গোলোযোগ ও অনিয়মের কারণে ২২টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়েছে। বাকি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছু জায়গায় সহিংতার ঘটনা ঘটেছে বলে কমিশনের নজরে এসেছে। কমিশন সহিংসতার ঘটনার কেন্দ্রগুলোর প্রতিটিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনের পর প্রিসাইডিং অফিসারসহ সব নির্বাচন কর্মকর্তা যাতে ফল ও নির্বাচন সামগ্রী নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ফিরে আসতে পারেন, সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি কয়েকটি আসনের আংশিক ফল ঘোষণা করেন। সকালে রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আশা ব্যক্ত করেছেন- নৌকার জয় হবে, হবেই। নির্বাচনে যে ফলই আসুন না কেন, তিনি ও তার দল তা মেনে নেবেন। সকাল ৯টার কিছু আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, আমি কারও মুখে কোনো আনন্দ উল্লাস দেখছি না। যেটা হওয়া উচিত ছিল। যে খবর পাচ্ছি তা উদ্বেগজনক। বেলা ১১টার দিকে উত্তরায় নিজের ভোট দেওয়ার পর সিইসি কেএম নূরুল হুদা বলেন, এখন পর্যন্ত সারা দেশে নির্বাচনের পরিবেশ ভালো। কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তবে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক কেন্দ্রে কেন ধানের শীষের কোনো এজেন্ট নেই? জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ধানের শীষের এজেন্টরা কেন্দ্রে না এলে কী করার আছে! তারা কেন্দ্রে কেন আসেননি বা কেন কোনো এজেন্ট নেই, সেটা প্রার্থীর নির্ধারিত এজেন্টরাই বলতে পারবেন। ভোট দিতে গিয়ে নিজের ভোটকেন্দ্রে বিরোধী দলের কোনো পোলিং এজেন্ট পাননি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। রাজধানীর ইস্পাহানী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোট দিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা নিয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ারও আমার কোনো প্রয়োজন নেই। সকাল থেকেই আমি অসংখ্য টেলিফোন পেয়েছি। কমিশনার হিসেবে আমার একক কোনো দায়িত্ব আছে বলে এখন আর আমি মনে করি না। শীতের কারণে সকালে ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা কম দেখা গেলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে ভোটার বাড়ে। পরিবারের সদস্যদে নিয়ে অনেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। রাজধানীর বিভিন্ন আসনে নারী ভোটকেন্দ্রগুলোয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেন নারীরা। তরুণদের উপস্থিতিও ছিল বেশ। নির্বাচনের আগের রাতে সারা দেশের কয়েকটি স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কথা জানা গেছে। নির্বাচন কেন্দ্র করে সারা দেশে ১৮ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অধিকাংশই ক্ষমতাশীন দলের কর্মী-সমর্থক। তবে রাজধানীতে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, ঢাকায় নির্বাচন ভবনের ফোয়ারা প্রাঙ্গণে বিশেষ মঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হয়। বিভাগ অনুসারে আটটি এলইডি টিভিতে এ ফল প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া দলীয় এবং কেন্দ্রীয়ভাবে দুটি মনিটরে পৃথকভাবে ফল দেখানো হয়। সেখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। ইসি ঘোষিত ফল অনুসারে, শেখ হাসিনা পেয়েছেন ২ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৯ ভোট। ধানের শীষ পেয়েছে ১২৩ ভোট। শেখ হাসিনাকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে ইসি। জয়ী প্রার্থীরা হলেন : ঢাকা বিভাগ, গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) শেখ হাসিনা (আওয়ামী লীগ, নৌকা); ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) মনজুর হোসেন (আওয়ামী লীগ, নৌকা); ফরিদপুর-৩ (সদর) ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন (আওয়ামী লীগ, নৌকা); রাজশাহী বিভাগ, নাটোর-৩ (সিংড়া জুনাঈদ আহমেদ পলক (আওয়ামী লীগ, নৌকা); নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) শহিদুজ্জামান সরকার (আওয়ামী লীগ, নৌকা); নওগাঁ-৬ (আত্রাই ও রানীনগর) ইসরাফিল আলম (আওয়ামী লীগ, নৌকা); বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা) আবদুল মান্নান (আওয়ামী লীগ, নৌকা); সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) তানভীর ইমাম (আওয়ামী লীগ, নৌকা); সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহাজাদপুর) হাসিবুর রহমান স্বপন (আওয়ামী লীগ, নৌকা); খুলনা বিভাগ, মেহেরপুর-১ (সদর ও মুজিবনগর) ফরহাদ হোসেন (আওয়ামী লীগ, নৌকা); মেহেরপুর-২ (গাংনী) সাহিদুজ্জামান খোকন (আওয়ামী লীগ, নৌকা); কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ (আওয়ামী লীগ, নৌকা); কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর ও ভেড়ামারা) হাসানুল হক ইনু (১৪ দল, জাসদ-ইনু, নৌকা); কুষ্টিয়া-৩ (সদর) মো. মাহবুব-উল-আলম হানিফ (আওয়ামী লীগ, নৌকা); কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী ও খোকসা) সেলিম আলতাফ জর্জ (আওয়ামী লীগ, নৌকা); যশোর-১ (শার্শা) শেখ আফিল উদ্দিন (আওয়ামী লীগ, নৌকা); যশোর-৬ (কেশবপুর) ইসমাত আরা সাদেক (আওয়ামী লীগ, নৌকা); মাগুরা-১ (সদর আংশিক ও শ্রীপুর) সাইফুজ্জামান শিখর (আওয়ামী লীগ, নৌকা); মাগুরা-২ (মোহাম্মদপুর, শালিখা ও সদর আংশিক) বীরেন শিকদার (আওয়ামী লীগ, নৌকা); নড়াইল-১ (কালিয়া ও সদর আংশিক) কবিরুল হক মুক্তি (আওয়ামী লীগ, নৌকা); নড়াইল-২ (লোহাগড়া ও সদর আংশিক) মাশরাফি বিন মুর্তজা (আওয়ামী লীগ, নৌকা); বাগেরহাট-৩ (রামপাল ও মংলা) হাবিবুন নাহার (আওয়ামী লীগ, নৌকা); চট্টগ্রাম বিভাগ-চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন (আওয়ামী লীগ, নৌকা); চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) মাহফুজুর রহমান মিতা (আওয়ামী লীগ, নৌকা); পার্বত্য বান্দরবান বীর বাহাদুর উ শৈ সিং (আওয়ামী লীগ, নৌকা); রংপুর বিভাগ, রংপুর-৩ (সদর ও রসিক) হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (মহাজোট, জাতীয় পার্টি, লাঙ্গল); রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী (আওয়ামী লীগ, নৌকা); ময়মনসিংহ বিভাগ, জামালপুর-৩ (মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ) মির্জা আজম (আওয়ামী লীগ, নৌকা)। ঢাকা-২ ও ১০ আসনের বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ঢাকা-২ আসনের ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান ও ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী আবদুল মান্নান নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাদের নির্বাচনি এলাকায় সকাল থেকে কোনো কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। যারা প্রবেশ করেছিলেন তাদেরও মেরে বের করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-২ আসনের একজন পোলিং এজেন্ট মেজবাহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে ইসিতে আলাদা আলাদাভাবে তারা লিখিত অভিযোগ করেন। ঢাকা-২ আসনের আমান সাংবাদিকদের বলেন, সকাল থেকেই এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস বাহিনী ও পুলিশ। অনেক কেন্দ্রে ভোটাররা গিয়ে ফিরে এসেছেন। কেন্দ্র থেকে ভোটারদের বলা হয়েছে ভোট হয়ে গেছে। তাছাড়া আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা সকাল থেকেই লাঠি ও বড় বড় অস্ত্র নিয়ে ভোটারদের মাঝে ভয়ভীতির সৃষ্টি করছে। এভাবে কখনও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব নয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এখনও ভোট বর্জন করিনি। তবে দল যে সিদ্ধান্ত দেবে আমি সেটাই করব। অন্যদিকে ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী আবদুল মান্নান বলেন, আমি নিজেই সকাল থেকে ২০ কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি কেন্দ্রে আমার কোনো পোলিং এজেন্ট নেই। এছাড়া বাকি ১১৫ কেন্দ্রেও কোনো এজেন্টকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেও কোনো সহায়তা পাইনি। অবশেষে বাধ্য হয়ে ইসিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণতন্ত্র উদ্ধারে আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। যেটাই হোক না কেন আমি নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। বাইরে বৃহৎ লাইন ভেতরে ভোটার শূন্য : সকাল ১০টায় পুরোনো ঢাকায় সিদ্দিক মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় বাইরে বৃহৎ লাইনে ভোটাররা দাঁড়িয়ে আছেন। স্কুলের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ভোটকেন্দ্রের চারটি বুথে গিয়ে দেখা যায় কোনো ভোটার নেই। প্রিসাইডিং অফিসার এবং সহকারী প্রিসাইডিং অফিসাররা বসে আছেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তারা নড়েচড়ে বসেন। প্রিসাইডিং অফিসার সাদিক উর রহমান জানান, তার কেন্দ্রে ভোটসংখ্যা ২ হাজার ৫০০। তারা আটজন করে লোক একত্রে ঢোকাচ্ছেন। তবে আলমগীর হোসেন নামে এক ভোটার জানান, প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু লাইন থেকে এক হাতও আগাতে পারেননি। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে গিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে পার্শ্ববর্তী সৃষ্টি স্কুলে। রতন নামে ভোটার বলেন, ২ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভেতরে ঢুকতে পারেননি। ভোট দিতে না পেরে ফিরে যাওয়া আবদুল মতিন নামে ৬৭ বছর বয়সি এক ব্যক্তি জানান, তার ভোট নাকি দেওয়া হয়ে গেছে। তার স্ত্রী আফরোজা বেগমও ভোট দিতে পারেননি। একই অভিযোগ করেন শিমুল আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। বেলা ১১টায় সরকারি মাদ্রাসা ই আলিয়াতে গিয়ে দেখা যায় মানুষ ভোট দিচ্ছে। দ্রুত ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। সেখানে অবস্থানকালীন ১০ মিনিটে ভোটের কোনো ধরনের অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়নি। দুপুর ১টায় মহাখালী আবদুল হামিদ দর্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ঢুকতে পুলিশের বাধার মুখোমুখি হতে হয়। স্কুলের তিনটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হলেও তা ছিল খুবই মন্থর। দীর্ঘসময় পরপর স্কুলের ভেতর ভোটারদের ঢোকানো হয়েছে। কিছু ভোটারকে দেখা যায় দীর্ঘসময় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার পর ভোট না দিয়েই চলে যেতে। ঢাকা ১০, ১২ ও ১৩ আসনেও এজেন্ট নিয়ে অভিযোগ বিএনপির : ভোটকেন্দ্রের ভেতর নির্ধারিত আসনেই বসা নৌকা প্রতীকের পোলিং এজেন্টরা। ভোটাররা প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ভোটার তালিকার পাতা উল্টে উল্টে বলে দিচ্ছেন নম্বর, নাম, ঠিকানা। তবে এমন চিত্রের সঙ্গে সমন্বয় নেই বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের। কেন্দ্রগুলোতে তাদের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। তাদের অভিযোগ, সকালে বিএনপির যেসব পোলিং এজেন্টরা এসেছিলেন তাদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ কেন্দ্রেই শুধু নৌকার প্রার্থী ছাড়া অন্য কারও এজেন্ট ছিলেন না। সরেজমিন ঘুরে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে ঢাকা ১০, ১২ ও ১৩ আসনে। বিএনপি প্রার্থীদের অভিযোগ থাকলেও অনেকটা উৎসবমুখর আমেজে শেষ হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। কেন্দ্রগুলোতেও ছিল ভোটারদের উপস্থিতি। ভোটকেন্দ্রের সামনে থেকে ভোটারদের নম্বর খুঁজে বের করে দিতে সহযোগিতা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতেও দেখা গেছে। কেন্দ্রের সামনেই প্রার্থীদের তথ্য বুথ থেকে ভোটার নম্বর বলে দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের। কর্মীরা জানান, কে কোন দলের ভোটার সেটি বিবেচনায় নয় বরং ভোটারদের সহযোগিতা করতেই তথ্য দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-১০ আসনের জিগাতলা, ধানমন্ডি, নিউমার্কেটসহ বেশকিছু এলাকায় ভোট দিতে দেখা গেছে ভোটারদের। এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে ঢাকার ১৩ নম্বর আসনে। ঢাকা ১৩-এর আসাদ গেট, মোহাম্মপুর, শ্যামলীর একাংশসহ বিভিন্ন এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকা-১০ আসনের হাজারীবাগের ফিউচার গ্রিন ইন্টারন্যাশনালে ভোট দিতে আসা রাবেয়া খাতুন বলেন, তথ্যকেন্দ্র থেকে নিজেদের ভোটার নম্বর নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছি। ভোট প্রদান শেষে কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিজের ভোট নিজে দিতে পারে আনন্দিত। একই কেন্দ্রের পুলিশ কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, ভোটাররা আসছেন। সুশৃঙ্খলভাবে তারা ভোট দিচ্ছেন। ঢাকা-১০ এর নারী ভোটকেন্দ্র মনেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও দেখা গেছে এ দৃশ্য। এছাড়া জিগাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরিজ হাইস্কুল, ঢাকা সিটি কলেজ, ঢাকা কলেজসহ আরও কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের ভোট দিতে দেখা গেছে। তবে ঢাকা-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুল মান্নান অভিযোগ করেছেন, কোনো কেন্দ্রেই পোলিং এজেন্টদের থাকতে দেওয়া হয়নি। কয়েকটি সেন্টার থেকে পোলিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ঢাকা-১২ আসনের গণভবন সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে দুপুর ১টার দিকে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ওই সময় কেন্দ্রর ভেতরটা ছিল একেবারেই ফাঁকা, কোনো ভোটারের উপস্থিতিই ছিল না, যদিও বাইরে নৌকার প্রার্থীর শতাধিক কর্মী-সমর্থককে অবস্থান করতে দেখা গেছে। তবে নির্বাচনি কর্মকর্তারা জানান, ১ হাজার ৯৪৯ ভোটার সংখ্যার কেন্দ্রটিতে ওই সময় পর্যন্ত ৬০ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে। একই আসনের ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্র এবং সরকারি বিজ্ঞান কলেজ সংলগ্ন হাইস্কুলসহ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। এ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব অভিযোগ করেন, মগবাজারসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি, যারা ভেতরে ছিল তাদেরও বের করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা-১৩ আসনের বেগম নূরজাহান মেমোরিয়াল উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ের পুরুষ কেন্দ্রের ৮ নম্বর কক্ষে একটি ইভিএম মেশিন সকালে সমস্যা দেখা দিলেও দুপুর ১টার পর ভোটগ্রহণ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রিসাইডিং অফিসার স্বপন কুমার বিশ্বাস। একই আসনের মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটাররা ইভিএমে ভোট দিয়েছেন। ঢাকা-১৩ আসনের প্রত্যেক ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুস সালাম। আলহাজ মকবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় এ অভিযোগ করেন। আবদুস সালাম বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকেই এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এরপর আলী হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। ঢাকা-১৩ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মুরাদ হোসেনের পোলিং এজেন্ট দেখা গেছে বিভিন্ন কেন্দ্রে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. সাদেক হোসেন বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে ইভিএম পদ্ধতিতে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছে। কোনো রকম সহিংসতা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন ভোটাররা। ঢাকা-৮ ও ১৫ আসনেও বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ : ঢাকা-৮ আসনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং অপর এক কর্মী মেহেদী হাসান। সকাল ৮টায় এ ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, ঢাবি ক্যাম্পাসের আটটি ভোটকেন্দ্রের ৪৭ পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, ঢাবি ক্যাম্পাসে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে তিনটি, উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একটি, সায়েন্স অ্যানেক্সে একটি ও কার্জন হলে তিনটি কেন্দ্র রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বড় অংশটিই মহানগর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। শুধু কার্জন হলের তিনটি কেন্দ্র ২০ নম্বর ওয়ার্ডে পড়েছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভোটগ্রহণের আগে থেকেই কেন্দ্রগুলোর বাইরে সতর্ক অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে এই এলাকায় বিএনপি বা এর ছাত্র সংগঠনের কোনো অবস্থান বা তৎপরতা চোখে পড়েনি। ক্যাম্পাসের কেন্দ্রগুলো থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়ার বিষয়ে শাহবাগ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মিন্টু অভিযোগ করে বলেন, ঢাবি ক্যাম্পাস এলাকাসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার কেন্দ্র থেকে আমাদের ৪৭ জন পোলিং এজেন্টকে হুমকি-ধামকি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা-৮ আসনের হাতপাখা মার্কা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি খুবই কম। আমাদের অনেক এজেন্টকেও বের করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দুপুরের দিকে ঢাকা-১৫ আসনের হালিম ফাউন্ডেশন স্কুল, আভা অ্যাডভ্যান্স এডুকেয়ার স্কুল এবং গ্লোরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বেশ ভালো ছিল। দুপুর ১২টার দিকে হালিম ফাউন্ডেশন স্কুলের ভোট কেন্দ্রে সারিবদ্ধ হয়ে ভোটাররা ভোট দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিল। ওই কেন্দ্রে সস্ত্র¿ীকসহ ভোট দিতে আসা করিম মিয়া নামের এক দিনমজুর বলেন, পরিবেশ ভালো থাকায় বউ ও সন্তানসহ ভোট দিতে আসলাম। হালিম ফাউন্ডেশন স্কুলের প্রিসাইডিং অফিসার কামাল উদ্দীন বলেন, এ কেন্দ্রে মোট ২ হাজার ভোটার ছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৪০০ ভোট কাস্ট হয়েছে। এ কেন্দ্রে ধানের শীষের প্রতীকের পুলিং এজেন্ট ছিল না বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর এক বিবৃতিতে বলেন, ঢাকা-১৫ আসনে পুলিশের সহায়তায় সরকারি দলের কর্মীদের সীমাহীন বাধার মুখোমুখি হয়েছেন ধানের শীষের প্রতীকের পোলিং এজেন্টসহ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তরা। কোথাও কোথাও তাদের নির্দয়ভাবে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। এ আসনে প্রায় সব কেন্দ্রেই ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি পুলিশ ও নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা। অর্ধশতাধিক ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টকে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্তৃক অপহরণ ও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-৮ আসনের রাজধানীর বেইলি রোডে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী হামিদা হোসেন ও মেয়ে সারা হোসেন ছিলেন। সকাল ৮টার থেকে এ আসনে ভোট দিতে আসেন ভোটাররা। এ সময় অনেক ভোটাররা সারিবদ্ধ হয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা আসমা হোসেন নামের ৪০ ঊর্ধ্ব এক নারী বলেন, কেন্দ্রের পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে। আমাদের কথাগুলোকে গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল : বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, আমরা বার বার বলছিলাম যে, ব্যালট পেপারে আগেই সিল মারা হবে, কোথাও কোথাও আগেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হবে। ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে মেরে পিটিয়ে কেন্দ্র থেকে দূরে রাখা হবে। সেই চিত্রই কিন্তু আমরা দেখলাম এবং আমাদের সেই আশঙ্কাই সত্যি বলে প্রমাণ হলো। অথচ আমাদের এই কথাগুলোকে গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। রোববার আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে নির্বাচনের পরিস্থিতি তুলে ধরে দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) আশঙ্কাটাই এখন সত্য হচ্ছে। বহুল প্রতিক্ষিত ও বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি জাগরণ এসেছিল। কিন্তু যেদিন আমরা দেখলাম, সব নির্বাচনি ইতিহাসের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের দিন সব হাসপাতাল, ডাক্তার ও অ্যাম্বুলেন্সকে স্যান্ডবাই রাখার জন্য বলা হলো। সেদিনই আমরা ভেবেছিলাম, বোধ হয় নির্বাচনটা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার সেটা আগেই জেনেছিলেন। জেনেই উনি ভোটারদের সতর্ক করেছিলেন। ওনার সেই আশঙ্কাটাই এখন সত্য বলে প্রমাণ হচ্ছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে ভুল করা হবে। অংশগ্রহণ না করলে বিএনপি পিছিয়ে যাবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র বাধাগ্রন্ত হবে। তাই আমরা পরিপূর্ণ উদ্যমে অংশগ্রহণ করে বাধাগ্রস্ত হয়ে দেখালাম, দলীয় সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে পরিপূর্ণ দাপটের সঙ্গে ক্ষমতায় থেকে টানা দুই মেয়াদে কোনো সুষ্ঠু ও অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। শনিবার রাত থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সারা দেশের বিভিন্ন আসনে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হচ্ছে বা কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ভোটারদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে, নারী ভোটারদের প্রকাশ্যে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। অথবা তাদের সামনে সিল মেরে দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অতি উৎসাহী সদস্যদের সহযোগিতায় এগুলো করা হচ্ছে। আলাল আরও বলেন, মানুষের বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচনের সঙ্গে যারা তামাশা করলেন, বিদ্রুপ করলেন, রক্তাক্ত করলেন, আহত করলেন, তারা বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়কে ক্ষত-বিক্ষত করেছেন। জনগণের একদিনের রাজা হওয়ার সুযোগটাকে ধুলিসাৎ করা হয়েছে। আমাদের ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- খুলনা : কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান, নেতাকর্মীদের মারধর, ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতিসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে ধানের শীষ সমর্থিত ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ছিল বিভিন্ন কেন্দ্রে। এদিকে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান, নেতাকর্মীদের মারধর, ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই ধানের শীষ প্রতীকের পাঁচ প্রার্থী এবং জাতীয় পার্টির এক প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তবে খুলনা-২ (সোনাডাঙ্গা-সদর) ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিলেন। ভোট বর্জনকারী খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী জামায়াত নেতা অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোটগ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যে পাঁচ আসনের সব ভোটকেন্দ্রের তাদের এজেন্টদের বের করে দিয়ে ভোট কক্ষের দরজা বন্ধ করে নৌকা প্রতীকে জাল ভোট দেওয়া হয়। ভোটগ্রহণের পর থেকে শত শত ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু নেতাকর্মীদের পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। অনেককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে সেনাবাহিনী, রিটার্নিং অফিসার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এদিকে সরেজমিন গিয়ে, নগরীর ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রের ছয়টি বুথের মধ্যে চারটিতে বিএনপির এজেন্ট পাওয়া যায়নি। নগরীর ১৮নং ওয়ার্ডের পল্লি মঙ্গল শেখ হাতেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে ফিরে যান ভোটার নূর আলম। তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে- মর্মে সরকারি দলের সমর্থকরা তাকে ফিরিয়ে দেন। সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে মুজাহিদ, ৩০নং ওয়ার্ডের জাহাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস ভোট দিতে গেলে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা জানান, দুপুর ১২টার আগেই আপনার ভোট সম্পন্ন হয়েছে। জিলা স্কুল কেন্দ্রে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোটার বুথে ঢোকার আগে সরকারি দলের সমর্থকরা তাদের দেখিয়ে ভোট দিতে বললে ভোট প্রদান না করেই নীরবে কেন্দ্র ত্যাগ করেন তিনি। অপরদিকে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় ধানের শীষের এজেন্ট জেলা বিএনপি নেত্রী অ্যাডভোকেট সেতারা সুলতানার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি দলের সমর্থকরা শনিবার তার বাড়িতে হামলা চালায়। এছাড়া রোববার তিনি স্থানীয় সেনহাটির বগদিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে সরকারি দলের নারী কর্মীরা তাকে অপদস্থ করে বের করে দেন। পরে তাকে স্থানীয় মোকামপুর খেয়াঘাট দিয়ে খুলনায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। খুলনা-২ আসনের জাতীয় এক্যফ্রন্টের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগের রাতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমার এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি দেয়। পুলিশও একইভাবে এজেন্টদের গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছে। ভয়ে অনেক এজেন্ট কেন্দ্রে যেতে পারেনি। সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর আহ্ছানউল্লাহ ভোট কেন্দ্রে মহাজোট সমর্থিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বলেন, খুলনা-২ আসনে শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির প্রার্থী নিশ্চিত পরাজয় জেনেই আগে-ভাগেই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। এটা তাদের চারিত্রিক দোষ। খুলনা জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন সকাল সাড়ে ১০টায় বলেন, এ পর্যন্ত আমি প্রায় ২০টি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা আমার চোখে পড়েনি। তিনি বলেন, খুলনা-২ আসনে ইভিএমে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন। জেলার বাকি পাঁচটি আসনেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেন। এক বুথের ইভিএম অকেজো, ভোট বিড়ম্বনায় ৪৫০ ভোটার : খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রের পাঁচ নম্বর বুথের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) অকেজো থাকায় বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৪৫০ জন ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পারেনি। তবে বিকাল ৩টায় হেলিকপ্টারে করে পোলিং কার্ড আসার পর ইভিএম মেরামত করার পর এ বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয় বলে জানান, খুলনার রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। এ বুথের সবাই ছিলেন নারী ভোটার। ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সনজিৎ সিংহ জানান, ভোট শুরু হওয়ার আগে থেকেই এভিএমটির পোলিং কার্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অকেজো ছিল। খুলনা-২ আসনে ইভিএমে খুশি ভোটাররা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টায় এ আসনের ১৫৭টি ভোট কেন্দ্রের ৭২০টি ভোটকক্ষে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নগরীর কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, নতুন এ পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণে ভোটাররা খুব আগ্রহী। তবে কোথাও কোথাও ধীরগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। কোথাও কোথাও আঙ্গুলের ছাপ সঠিক না হওয়ার একাধিকবার ছাপ দিতেও দেখা গেছে। এতে একটি ভোট দিতে প্রায় ৪ থেকে পাঁচ মিনিট সময় লেগে গেছে। ফলে কিছু কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ সময় ভোটারদের ভিড় লেগে ছিল। নগরীর পল্লি মঙ্গল শেখ হাতেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটার সত্তরোর্ধ্ব সাহিদা খাতুন বলেন, আমি এভিএমে ভোট দিতে পেরে খুশি। অল্প সময়ের মধ্যে এ পদ্ধতিতে ভোট দেওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, আঙ্গুলে টিপ দেওয়ার চাইতি ইভিএমে ভোট দেওয়া সুবিধার। ভোটার হাসেম উদ্দিন বলেন, ইভিএম মেশিনে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিটা ভালো। সারা দেশে এ পদ্ধতি চালু হলে দ্রুত সময় ভোটগ্রহণ ও ফল দেওয়া সম্ভব হবে। এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কিংকর বিশ্বাস বলেন, ভোট ভালো হচ্ছে। এই পদ্ধিতে মানুষ খুব খুশি। নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনেই বিভিন্ন এলাকার ভোটকেন্দ্রেই বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান, ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত নগন্য। আগের রাতেই অধিকাংশ কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মেরে রাখার অভিযোগ করেছেন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীরা। আড়াইহাজারে এক পোলিং এজেন্টকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে আগের রাতেই ৪৫ কেন্দ্রে ব্যালটে সিল মারা, পোলিং এজেন্ট বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল ও প্রার্থীকে অবরুদ্ধের অভিযোগে ধানের শীষের এক প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন আমাকে মেঘনাঘাট এলাকায় নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। যে কারণে আমার নিজের ভোটও দিতে পারিনি। এদিকে আমার ছোট ছেলে সাকিবকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি টিম গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে। চকরিয়া : কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদ অভিযোগ করেছেন রোববার অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ১৩৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১০টি কেন্দ্র দখল ও এজেন্টদের বের করে দিয়েছে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা। সকাল থেকে নিজ নিজ কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট চললেও বেলা বাড়ার সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা ধানের শীষ প্রার্থীর এজেন্টদের একের পর এক বের করে দেয়। পাশাপাশি ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার পর ভোটকেন্দ্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রশাসনের সহায়তায় ব্যালট ছিঁড়ে বাক্সে ভরেছে নৌকা প্রার্থীর এজেন্টরা। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে বিএনপির অর্ধশতাধিক এজেন্টকে রক্তাক্ত আহত করে। কালিয়াকৈর : নির্বাচনি সরঞ্জাম কেন্দ্রে পৌঁছলে রাতেই ব্যালটে সিল মেরেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন কেন্দ্র দখল করে বিজিবি, পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ মিলে মিশেই ব্যালটে সিল মেরে ভোট ডাকাতির উৎসব করেছে। এসব বিষয় সেনাবাহিনী ও রিটার্নিং অফিসারদের জানালেও তারা নীরব থেকেছে বলে অভিযোগ বিএনপির। হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। এসব ঘটনায় রোববার দুপুরে গাজীপুর-১ আসনের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ও ধানের শীষের প্রার্থী চৌধুরী তানভীর আহমদের ছোট ছেলে ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী তার বাসভবন কালিয়াকৈর উপজেলার বলিয়াদী এসব বিষয় তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মী ও কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া সাধারণ ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন। গাজীপুর-১ আসনের সহকারী রিটানিং অফিসার ও কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গাজীপুর-১ আসনে কোথাও কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। সম্পূর্ণ নিরবিচ্ছিন্নভাবে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়েছে। তবে কিছু কিছু জায়গা থেকে কিছু অভিযোগ পেয়েছিলাম, সেগুলো আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করেছি। মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজার-৩ এ ধানের শীষের প্রার্থী এম নাসের রহমান অভিযোগ করেন শনিবার রাত থেকে পুলিশ, বিজিব ও প্রিসাইডিং অফিসারের সহায়তায় নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বক্স ভরাট করে রেখেছে বিভিন্ন কেন্দ্রে। রোববার সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শুরু হলেও বেলা ১১টার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কেন্দ্র দখলের এক মহোৎসব শুরু করে ব্যালেটে নৌকার প্রতিকে সিল মারে ও প্রত্যেকটি বাক্সে হাজার হাজার ভোট ঢুকিয়ে দেয়। তিনি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, পুলিশ ও বিজিবির নেতৃত্বে মৌলভীবাজার সদর থানার ২৮টি, পৌরসভার ১০টি এবং রাজনগর উপজেলার ২৭টি কেন্দ্র দখল করার অভিযোগ করেন। রোববার বিকাল সাড়ে ৩টায় তার বাহারমর্দান নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এসব কেন্দ্র ছাড়া আরও অনেক কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের পুলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল করে রাখে। কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) : ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন হজরতপুরে মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেছেন ঢাকা-২ এর বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমানপুত্র ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান। এটাই তার জীবনের প্রথম ভোট বলে তিনি জানান। রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি এ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন। ভোট প্রদান শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন তার নির্বাচনি এলাকার সব কেন্দ্র থেকেই বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানোর পরও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তার। এছাড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি সমর্থকদেও ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা প্রদান করার অভিযোগ করেন ব্যারিস্টার ইরফান। অপরদিকে সকাল সাড়ে ৮টায় নিজ কেন্দ্র দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আরাকুল এলাকায় ভোট দিতে এসে ভোটের পরিবেশ দেখে ভোট প্রদান করা থেকে বিরত থাকেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ এর বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। পরে সকাল সারে ১০টায় থানা বিএনপির জিনজিরাস্থ কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এ নির্বাচনকে একতরফা নির্বাচন বলে মন্তব্য করেন এবং সিইসিকে এ ভোট ডাকাতির নায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এ সময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তার নির্বাচনি এলাকার ১০৭টি কেন্দ্রের মধ্য থেকে ১০৫টি কেন্দ্রেরই পুলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট, ডিসি, এসপি অবগত করা হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। দেখছি, শুনছি, পাঠাচ্ছি এরমধ্যেই তারা সীমাবদ্ধ ছিলেন বলে অভিয়োগ তার। নানা কৌশলেও ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে থাকতে পারেনি বলে মন্তব্য এ বিএনপি নেতার। অপরদিকে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতাল কেন্দ্র-২ এ ভোট প্রদান করেছেন ঢাকা-২ এর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। এটা ছিল তার নিজ নির্বাচনি এলাকার বাইরের একটি কেন্দ্র। ভোটপ্রদান শেষে তিনি এ নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে মন্তব্য করেছেন। সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) : নোয়াখালী-১ (সোনাইমুড়ী-চাটখিল) আসনের সোনাইমুড়ী উপজেলা সকাল ৮টা ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখল করে। ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেন। রোববার সকালে ৮টার দিকে উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ৯টার পরে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে বিএনপি এজেন্টদের বের করে দেন। বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মুটুবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করলে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দিলে বিদ্যালেয়ের দরজা জানালা ভাঙচুর করে।

জাতীয় পাতার আরো খবর