করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী
১০মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় তাঁর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে দেশের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ করেছেন। শেখ হাসিনা আজ সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সাথে যুক্ত হন। পিএমওতে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং ব্যক্তিবর্গকে তাদের অনুদানের জন্য ধন্যবাদ জানান। অনুদান প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং ব্যক্তিরা হচ্ছে- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল ও কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (কেএইউ), কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, নেত্রকোনা, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি (ডুয়েট), গাজীপুর, নর্থ সাউথ ইউনিভার্র্সিটি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্স ইউনিভার্সিটি, ডাক ও টেলিযোগাযোগাগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (নগদ), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কেম্পানী লিমিটেড (ডিএমটিসিএল), মিনিস্ট্র অব ডিফেন্স কনস্টাবুলারি (এমওডিসি), দ্যা কমিউনিষ্ট পার্টি অব চায়না, বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), জীবন বীমা কপোরেশন, সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, ইনভেষ্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশন, বিসিএস কাষ্টমস এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিক্স, বিসিএস কৃষি এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন অফিসার্স এসোসিয়েশন, পোলট্রি এসোসিয়েশন, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ, সড়ক ও জনপথ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি, বঙ্গবন্ধু পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি, বাংলাদেশ টি এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ক্লাব লিমিটেড, বুয়েট টিচার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রেজিষ্ট্রেশন সার্ভিস এসোসিয়েশন, থার্মাক্স গ্রুপ, ম্যাক্স গ্রুপ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, পূর্বাচল ক্লাব লিমিটেড, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং জনাব মোস্তাসিম বিল্লাহ সিয়াম।
একদিনে দেশে আক্রান্ত-মৃত্যুর রেকর্ড
১০মে,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নেয়া করোনাভাইরাসে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। বাংলাদেশেও আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ড সংখ্যক ৮৮৭ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪ হাজার ৬৫৭ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড সংখ্যক ১৪ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২২৮ জনে। রোববার (১০ মে) দুপুরে করোনা ভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ হাজার ৬৪২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আগের কিছু মিলিয়ে মোট পরীক্ষা করা হয় ৫ হাজার ৭৩৮টি নমুনা। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো ১ লাখ ২২ হাজার ৬৫৭ টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরও ৮৮৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪ হাজার ৬৫৭ জন। এ ছাড়া আরও ১৪ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২২৮ জনে। নাসিমা সুলতানা আরও জানান, আক্রান্তদের মধ্যে আরও ২৩৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ২৬৫০ জন করোনা রোগী। ডিসেম্বরে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে বেশিরভাগ দেশই ভাইরাসটিতে তেমন পাত্তা দেয়নি। অনেক দেশই ধারণা করেছিল, এটি চীনা ভাইরাস এবং এর সংক্রমণ হয়তো ইউরোপ-আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়বে না। এজন্য সেখানকার দেশগুলো তেমন কোনো পদক্ষেপও নেয়নি। ফলও দিতে হচ্ছে তাদের। কারণ সংক্রমণ সংখ্যার দিক থেকে প্রথম দেশগুলোর তালিকার মাঝেই নেই চীন। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হলেও প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়ানো হয় সেই ছুটি, যা এখনও অব্যাহত আছে। পঞ্চম দফায় সেই ছুটি বাড়ানো হয় ৫ মে পর্যন্ত। তার আগেই আরেক দফা ছুটি বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার তথ্যানুযায়ী রোববার (১০ মে) এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২ লাখ ৮০ হাজার ৪৩২ জন। এছাড়া এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৪১ লাখ ৭৯৬ জনের শরীরে। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৪ লাখ ৪১ হাজার ৪৮৪ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮০ জন। এদের মধ্যে ২৩ লাখ ৩১ হাজার ১৯৯ জনের শরীরে মৃদু সংক্রমণ থাকলেও ৪৭ হাজার ৬৮১ জনের অবস্থা গুরুতর।
দুই হাজার চিকিৎসককে যোগদান ১২ মে
১০মে,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:করোনাকালে দেশে চিকিৎসা সেবায় রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে নিয়োগ দেয়া দুই হাজার চিকিৎসককে পদায়ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। রোববার (১০ মে) তাদের পদায়ন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে গত ৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাদের নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অধিদপ্তরের আদেশে বলা হয়, ৩৯তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষা, ২০১৮ এর ফলাফলের ভিত্তিতে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের আলোকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সহকারী সার্জন পদে জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ অনুসারে ২২০০০-৫৩০৬০ টাকা বেতনক্রমে পদায়ণ করা হলো। আদেশে বলা হয়, নবনিয়োগপ্রাপ্ত এবং পদায়নকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ১২ মে আবশ্যিকভাবে পদায়ন/সংযুক্তকৃত কার্যালয়ে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে। এক্ষেত্রে ইতোপূর্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত যোগদান পত্রের নির্ধারিত নমুনা অনুসরণ করতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সংযুক্ত কর্মকর্তাগণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন ভবনে যোগদান করবেন। অন্যান্য শর্তের মধ্যে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত কর্মকর্তারা শুধু কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল/প্রতিষ্ঠানসমূহে দায়িত্ব পালন করবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ অধিশাখার ৪ মে প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত শর্তাবলী প্রযোজ্য হবে। চাকরিতে যোগদান করা কর্মকর্তাদের ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নিজে বা পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য কোনো যৌতুক নেবেন না এবং কোনো যৌতুক দেবেন না মর্মে অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করতে হবে, যা দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যোগদানের সময়ে জমা প্রদান না করে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অবশ্যই যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর দাখিল করবেন।দ্য গর্ভনমেন্ট সার্ভেন্টস (কনডাক্ট) রুলস, ১৯৭৯ এর ১৩(১) উপবিধি অনুযায়ী সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণ সম্বলিত একটি ঘোষণাপত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করোনা পরবর্তী সময়ে অবশ্যই অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। করোনা পরিস্থিতে চিকিৎসকের জরুরি সংকট মোকাবিলায় গত ৩০ এপ্রিল ২০০০ চিকিৎসককে সাময়িকভাবে নিয়োগের সুপারিশ করেছিল পিএসসি। ওই দিন সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে পাঁচ হাজার ৫৪ জনও নিয়োগের সুপারিশ করে কমিশন। নার্সদের ৭ মে পদায়ণ করে ১৩ মে’র মধ্যে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
দিনে সর্বোচ্চ ৬৫০০০ মানুষ সংক্রমিত হতে পারে
১০মে,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম কালাম আজাদ বলেছেন, পরিস্থিতি খুব খারাপ হলে দিনে ৬৫ হাজারের মতো মানুষ সংক্রমিত হতে পারে, এমন একটা বিশ্লেষণ তাদের রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আমাদের কাছে দুই ধরণের বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তাদের বিশ্লেষণ হচ্ছে, যদি খুব খারাপ পরিস্থিতি হয়, তাহলে একদিনে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজারের মতো মানুষ সংক্রমিত হতে পারে। যদি আমরা সেটাও মাথায় রাখি, তাহলে কিন্তু তার পাঁচ ভাগের এক ভাগকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হতে পারে। এটা যদি হয়, তাহলে আমাদের ১২থেকে ১৩ হাজারের মতো মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে।; বিবিসি বাংলাকে তিনি এসব কথা বলেছেন। ওদিকে, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির উপদেষ্টা ডা. এবিএম আবদুল্লাহ বলেছেন, যেহেতু অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল করা হয়েছে। এখন এর প্রভাবে সংক্রমণ বেড়ে গেলে আবারও কঠোর লকডাউন এমনকি প্রয়োজনে কারফিউ দেয়া ছাড়া অন্য উপায় থাকবে না। করোনা ভাইরাস: লকডাউন ভেঙে পড়ায় সরকারের সামনে এখন উপায় কী বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে,বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যখন বাড়ছে, তখন গার্মেন্টস কারখানা চালু করার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় লকডাউনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক চাপের কারণে সীমিত পরিসরে শিল্প কারখানা বা ব্যবসা চালু করার কথা বলা হলেও তা সীমিত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, লকডাউন ভেঙে পড়ায় হাজার হাজার মানুষের সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করাও সম্ভব হয়নি বলে তারা মনে করেন। তাহলে বাংলাদেশের জন্য এখন উপায় কী আছে বা কোন পথ খোলা আছে-এসব প্রশ্ন এখন আলোচনায় আসছে। সীমিত পরিসরের বিষয়টি কথাতেই রয়ে গেছে। বাস্তবতা হলো, গার্মেন্টস মালিকরা প্রায় সবাই তাদের কারখানা চালু করেছেন। কারখানাগুলো খোলার সময় দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার শ্রমিকের ঢাকায় ছুটে আসার সেই অভাবনীয় দৃশ্য নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। এখন অনেক কারখানায় শ্রমিকের করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকির প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু গার্মেন্টস খোলার মধ্যেই সরকারের চিন্তা সীমাবদ্ধ থাকেনি। একের পর এক শিল্পকারখানা এবং দোকান বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে দ্রুততার সাথে নানামুখী অর্থনৈতিক কর্মকান্ড শুরু করার একটা চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। সরকারি গবেষণা সংস্থা বিআইডিএস এর সিনিয়র গবেষক নাজনীন আহমেদ বলেছেন, এখন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করা ছাড়া বিকল্প নেই। তবে তাড়াহুড়ো না করে পরিকল্পনার প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মনে করেন। এখন কোন অবস্থাতেই জীবন আর জীবিকাকে আলাদা করে দেখার উপায় নাই। আমি যদি বলি শুধু জীবন রক্ষা করবো, কি করে করবো-কোটি কোটি মানুষ, এত মানুষের খাবারের সংস্থান আমি কি করে করবো?সুতরাং সেই জায়গাটাতে চিন্তা করলে আমাকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যেতে হবে। কিন্তু সেখানেই পরিকল্পনার প্রয়োজন ছিল বলে গবেষক নাজনীন আহমেদ মনে করেন। লকডাউন অবস্থা থেকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কতটা যাবো,সেটা নির্ভর করবে আমি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করার ফলে বাড়তি যে স্বাস্থ্যঝুঁকিটা তৈরি হলো বা সহজ কথায় বললে বাড়তি যে করোনা রোগী আসার সম্ভাবনা তৈরি হলো, সেটা সামাল দেয়ার মতো স্বাস্থ্য সুবিধা আমার আছে কি না-এটা দৃষ্টিভঙ্গি হওয়ার দরকার ছিল। তিনি আরও বলেছেন, মুশকিলটা হচ্ছে, দেড়মাস পর এখন যে গতিতে আমরা সবকিছু খুলে দিতে চাচ্ছি, সেই অবস্থায় কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সামাল দেয়ার ক্ষমতা আমরা বাড়াইনি। চাপের কারণেই কি ঢিলেঢালা লকডাউন? প্রায় দেড় মাস ধরে লকডাউনের প্রেক্ষাপটে শ্রমিক-কর্মচারীসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকার তাগিদ একটা চাপ তৈরি করছিল। এছাড়া গার্মেন্টস মালিকসহ বিভিন্ন মহলের চাপ সরকারের বিবেচনার বড় বিষয় ছিল। ইসলামপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের চাপের মুখে মসজিদে জামাতে নামাজও মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে। সবকিছুই যেন চালু হচ্ছে এমন একটা পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। যানবাহন আর মানুষের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর রাস্তাগুলোও আগের সেই ব্যস্ত অবস্থায় ফিরতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সাইন্সের শিক্ষক নাদিরা পারভিন মনে করেন, আরও সময় নেয়ার সুযোগ থাকলেও তার আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন দিন দিন সংক্রমণ যখন বাড়ছে, তখন আরেকটু সময় নেয়া উচিত ছিল। এখনই সময় হয়নি সবকিছু খুলে দেয়ার লকডাউন বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিথিল করা ছাড়া সরকারের বিকল্প ছিল না। বাণিজ্যমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের অনেকে এমন বক্তব্যই দিয়েছেন। কিন্তু মানুষকে ঘরে রেখে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর অন্যতম উপায় হিসাবে দেখা হয় লকডাউন পদ্ধতিকে। সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে লকডাউন শিথিল করার সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন।লকডাউন ভেঙে পড়ায় সংক্রমণে বিপর্যয় দেখা দিলে উপায় কী হতে পারে? করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, যেহেতু অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল করা হয়েছে। এখন এর প্রভাবে সংক্রমণ বেড়ে গেলে আবারও কঠোর লকডাউন এমনকি প্রয়োজনে কারফিউ দেয়া ছাড়া অন্য উপায় থাকবে না বলেও তিনি মনে করেন। এখন করোনার ঝুঁকি প্রতিদিনই বাড়ছে। এই অবস্থায় লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। এখন সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এটা। তারা হয়তো অর্থনৈতিক দিকটা বেশি বিবেচনা করেই লকডাউন শিথিল করেছে। তবে শর্ত দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ভয় হলো যদি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়, তাহলে ঝুঁকির মধ্যে পড়বো আর কি। অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আরও বলেছেন, আমাদের কোন ঝুঁকি নেয়ার আগে আরেকবার চিন্তাভাবনা করা উচিত। এমনকী আমি একথাও বলছি, যেহেতু লকডাউন শিথিল করা হলো, এবং তাতে যদি দেখা যায় যে আবার সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। তাহলে আবার খুব শক্তভাবে লকডাউন দিতে হবে। প্রয়োজনে যেন কারফিউ দেয়া হয়, এই অবস্থা করতে হবে। আবারও কঠোর লকডাউন প্রয়োজনে কারফিউ দেয়ার পরামর্শ: সরকার কী চিন্তা করছে? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই লকডাউন কিছুটা শিথিল করেছে। তবে বিশ্লেষণ করে পরিস্থিতি খারাপ হলে আবারও লকডাউন কঠোর করা হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। লকডাউনে কারণে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড যেহেতু বন্ধ, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কতদিন আর এভাবে সবকিছু বন্ধ করা যাবে। কাজেই সরকারের সকল মহলে একসাথে আলোচনা করে মনে করা হযেছে যে,আমরা কিছুটা শিথিল করি। অবশ্যই এই শিথিলের সাথে সাথে মানুষকে সতর্ক হতে হবে এবং মানুষকে আমরা সেই পরামর্শ দিচ্ছি। অধ্যাপক বলেছেন, লকডাউন শিথিল করার পাশাপাশি আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো। যদি সংক্রমণের সংখ্যাটা খুব বেশি বেড়ে যায়, তাহলে অবশ্যই আবার লকডাউন কঠোর করতে হবে। সে ব্যাপারে সরকার সজাগ রয়েছে বলে আমরা মনে করি। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের অন্যতম উপায় লকডাউন যখন ঢিলেঢালা হয়েছে। তখন সংক্রমণ খারাপ অবস্থায় চলে যেতে পারে- এই ধারণা সরকারের মাঝেও রয়েছে। পরিস্থিতির বিপর্যয় হলে তা সামলাতে চিকিৎসার ব্যবস্থা কতটা করা হয়েছে-তা নিয়েও কিন্তু অনেক প্রশ্ন রয়েছে। পরিস্থিতির শুরু থেকেই সীমিত পর্যায়ে পরীক্ষা এবং চিকিৎসার অপ্রতুলতা নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক একজন পরিচালক ডা: বে-নজীর আহমেদ বলেছেন, সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে গেলে সেই পরিস্থিতি জন্য পরীক্ষা করার ক্ষমতা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই বলে তিনি মনে করেন। প্রথমে পরীক্ষার ক্ষমতার কথা বলি, আমরা ক্যালকুলেশন করছিলাম যে প্রতিদিন ৫০হাজার পরীক্ষা করা দরকার। সেখানে ২০ হাজার করা গেলেও চলে। কিন্তু আসলে ঘাটতি রয়েছে। আর চিকিৎসার কথা যদি বলেন, তাতে আমাদের অনেকটা পথ হাঁটতে হবে। সংক্রমণ যদি হয়, তাহলে আনুপাতিকহারে হাসপাতালে ভর্তির চাহিদাও বাড়বে। সেটা সামাল দেবার মতো ব্যবস্থা বাংলাদেশে নাই। সরকারি হিসাবে সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে ১২শোর মতো আইসিইউ যা আছে, তার সবগুলো ব্যবহার করেও চাপ সামাল দেয়া সম্ভব হবে কি না- এনিয়েও আলোচনা রয়েছে।পরিস্থিতি খুব খারাপ হলে দিনে সর্বোচ্চ ৬৫০০০মানুষ সংক্রমিত হতে পারে। অধ্যাপক আবুল কালাম কালাম আজাদ বলেছেন, পরিস্থিতি খুব খারাপ হলে দিনে ৬৫ হাজারের মতো মানুষ সংক্রমিত হতে পারে, এমন একটা বিশ্লেষণ তাদের রয়েছে। আমাদের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আমাদের কাছে দুই ধরণের বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তাদের বিশ্লেষণ হচ্ছে, যদি খুব খারাপ পরিস্থিতি হয়, তাহলে একদিনে সর্বোচ্চ ৬৫ হাজারের মতো মানুষ সংক্রমিত হতে পারে। যদি আমরা সেটাও মাথায় রাখি, তাহলে কিন্তু তার পাঁচ ভাগের এক ভাগকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হতে পারে। এটা যদি হয়, তাহলে আমাদের ১২থেকে ১৩ হাজারের মতো মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হতে পারে। সেই খারাপ পরিস্থিতির হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি আরও বলেছেন, আমাদের এই মুহূর্তে অনেকগুলো হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা আছে। সম্প্রতি চিকিৎসা প্রটোকলটাও একটু পরিবর্তন হয়েছে। যেমন অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কোন উপসর্গ না থাকলেও এবং ঔষধের প্রয়োজন না হলেও আমরা নেগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত তাদের হাসপাতালে রাখতাম। সেখানে এখন প্রটোকলে পরিবর্তন এনে বলা হয়েছে যে, যদি পর পর তিন দিন কোন ঔষধ প্রয়োজন না হয় এবং রোগী ভাল থাকে তাহলে তাকে ছুটি দেয়া যেতে পারে, বলেছেন অধ্যাপক আবুল কালাম কালাম আজাদ। এছাড়া আমরা বসুন্ধরা কনভেশন সেন্টারে দুই হাজার শয্যার আইসোলেশন হাসপাতাল করছি। এভাবে আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থা সুন্দরভাবে চালিয়ে নিতে পারবো বলে বিশ্বাস করি। দেশে করোনাভাইরাসের চিকিৎসা ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু শিথিল করা হয়েছে লকডাউন। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ হার্ড ইমিউনিটির কথা বলছেন। একটি জনগোষ্ঠির মধ্যে যদি নির্দিষ্ট অনুপাতে ভ্যাকসিন দেয়া যায় এবং ঐ কমিউনিটিতে সংক্রমণ বন্ধ হয়। তখন তাকেই বলা হয় হার্ড ইমিউনিটি। আর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের আগে প্রাকৃতিকভাবে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তুলতে একটি জনগোষ্ঠির প্রায় ৭০ বা ৮০ শতাংশ মানুষকে আক্রান্ত হতে হবে। তাতে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। করোনাভাইরাস সম্পর্কিত সরকারের কারিগরি কমিটির একজন সদস্য ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছেন, ভ্যাকসিন দিয়ে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তুলতে ঝুঁকি কম থাকে। তবে বাংলাদেশে সবকিছু ছেড়ে দিয়ে যে অবস্থা করা তৈরি করা হচ্ছে, তাতে প্রাকৃতিকভাবে হার্ড ইমিউনিটির উপরই নির্ভর করতে হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে এখনও যেহেতু ভ্যাকসিন আসেনি, বাংলাদেশে তার আগে প্রাকৃতিকভাবে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তোলার বিষয়কে সমাধানের পথ হিসাবে দেখা সঠিক হবে না বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মুনশি। আমাদের লকডাউন তো লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। এরফলে আমরা যদি হার্ড ইমিউনিটির কথা চিন্তাও করি, যে সব দেশে এনিয়ে কাজ হচ্ছে বা চিন্তা করা হচ্ছে, তারাও কিন্তু প্রকাশ্যে বা বৈজ্ঞানিকভাবেও বলছে না যে হার্ড ইমিউনিটি কাজ করছে। তিনি আরও বলেছেন, হার্ড ইমিউনিটি যদি গড়ে তুলতে হয়, তাহলে ৭০থেকে ৮০ শতাংশ লোককে আক্রান্ত হতে হবে। তাহলে এতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে,হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়বে। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কিন্তু এত বেশি রোগী এবং এত বেশি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত নয়। আমার মনে হয়, আমরা আসলে একটা ব্লাকহোলে দিকে এগুচ্ছি, অজানা গন্তব্যের দিকে এগুচ্ছি। অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহও মনে করেন, প্রাকৃতিক হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তোলার ভরসায় বসে থাকা ঠিক হবে না। তিনি বলেছেন, যেহেতু চিকিৎসার সীমাবদ্ধতা আছে। সেখানে প্রাকৃতিকভাবে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে তোলার চিন্তা থাকলে সেটা একটা অসহায় পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন পেতে এখনও অনেক সময় প্রয়োজন। এর চিকিৎসায় সুনির্দিষ্ট কার্যকর কোন ঔষধও নেই। তাহলে করোনাভাইরাস মহামারি সামলাতে বাংলাদেশের সামনে কি কোন পথ খোলা নেই। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, বাংলাদেশকে এখনও প্রতিরোধের দিকেই নজর দেয়া উচিত। এখন মাস্ক পরা আর হাত ধোয়া ছাড়া কী বাংলাদেশের আর কোন উপায় নাই ডা: বে-নজীর আহমেদ বলেছেন, প্রতিদিনই সংক্রমণের হার বাড়ছে এবং প্রতিরোধের অনেক সময় ও সুযোগ নষ্ট হয়েছে। এরপরও এখনও প্রতিরোধের পথে হেঁটেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এখন আর প্রায় কিছুই আমাদের হাতে নেই। লকডাউনটা ছিল। এখনও প্রতিরোধ বা প্রিভেনটিভ ছাড়া কিউরেটিভ সাইটে আমরা ভাল করতে পারবো না। ফলে প্রতিরোধের ব্যবস্থাগুলোতেই আবার জোর দিতে হবে। এখনকার পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে দেখেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে পরিস্থিতি যে অবস্থায় নেয়া হয়েছে, তাতে আরও খারাপ অবস্থা এড়ানোর উপায় সংকুচিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য হচ্ছে, প্রতিরোধের বিষয়টা এখন একেবারে মানুষের ব্যক্তিগত চেষ্টার ওপর নির্ভর করবে। এছাড়া এলাকাভিত্তিক কঠোর লকডাউনের মাধ্যমেও সংক্রমণের বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টা করা যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন। বাংলাদেশে এখন অপশন ঐ মাস্ক পড়া আর হাত ধোয়া ছাড়াতো আর কিছু থাকলো না। লকডাউন তো মানে না। তার গার্মেন্টস, দোকান পাট মসজিদ সব খুলে দেয়া হলো। তাহলে মাস্ক পরা আর হাত ধোয়া ছাড়া থাকলোটা কী? আর ব্যক্তিগত সচেতনতাই এখন প্রধান উপায়। সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগও প্রতিরোধের প্রশ্নে মানুষের চেষ্টার ওপর নির্ভর করছে বলে মনে হচ্ছে। ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত সংক্রমণ স্লো করার চেষ্টা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সংক্রমণের গতি শ্লথ করা যায় কি না- সেই চেষ্টা তারা করবেন। ফলে লকআউনসহ প্রতিরোধের উপায়গুলো বাস্তবায়নের দিকেও তাদের নজর থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। আমরা মনে করি যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে। বাংলাদেশও সেই ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সাথে সাথে যাতে জনগণকে দিতে পারে, বাংলাদেশও কিন্তু সে ব্যাপারে সজাগ রয়েছে। আর দ্বিতীয় বিষয় হলো, এই ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা যদি সংক্রমণের হার একটু স্লো করতে পারি। এটা আমাদের কৌশল। যদিও সরকারের নীতি নির্ধারকদের অনেকে বলেছেন, একদিকে সংক্রমণের বিস্তার ঠেকানো এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকট বা দুর্ভিক্ষ যাতে না হয়-এই উভয় সংকট নিয়ে এগুতে গিয়ে তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী সব উপায় ব্যবহার করছেন। আর তাতে তারা ঝুঁকির বিষয়ও বিবেচনায় নিচ্ছেন। তবে সংক্রমণের বিস্তার ঠেকানোর উপায় এবং সময় শেষ হয়ে যায় কি না- সেই উদ্বেগ রয়েছে বিশ্লেষকদের মাঝে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করোনা আক্রান্ত
১০মে,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও তার মেয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. মো আবদুল মুঈদ ও তার কৃষিবিদ মেয়ে বর্তমানে মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের মহাসচিব মো. খায়রুল আলম প্রিন্স বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও তার মেয়ের করোনা পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এসেছে। দজনই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কৃষিবিদ খায়রুল আলম আরও জানান, আরেক কৃষিবিদ নুরুল আমিনও করোনার উপসর্গ নিয়ে কোয়ারেন্টিনে আছেন। তার ফলাফল এখনো আসেনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি ওয়ালিউর রহমানের মৃত্যুতে স্পিকারের শোক
০৯মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদের সদস্য, স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউর রহমান রেজার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। স্পিকার ওয়ালিউর রহমান রেজার রুহের মাগফেরাত কামনা এবং তার শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। আজ ভোর ৪টায় ঢাকাস্থ নিজ বাস ভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন রেজা। এছাড়া, ওয়ালিউর রহমান রেজার মৃত্যুতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া এবং চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা ও নির্দিষ্ট চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করুন
০৯মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম কর্মরত সাংবাদিকদের আরো উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টির লক্ষ্যে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান ও তাদের জন্য নির্দিষ্ট চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করার আহ্বন জানিয়েছেন। আজ শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বন জানান। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, করোনা যুদ্ধে ফ্রন্টফাইটার আজকের সাংবাদিক বন্ধুরা। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন শহর ও মফস্বল অঞ্চলে দিন রাত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর, সরকারি ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ তৎপরতাসহ চিকিৎসা সংক্রান্ত সকল সুবিধা-অসুবিধার সংবাদ মাঠে থেকে সংগ্রহ করছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে দুই জন সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করেছেন এবং অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকেই অনেক অসুবিধার মধ্যে প্রতিনিয়ত সংবাদপত্র চালু রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক এই পরিস্থিতিতেও করোনা আক্রান্ত সাংবাদিকদের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়নি। এই অবস্থায় সাংবাদিকদের আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাসহ অন্য বিষয়গুলো কার্যকর করতে এগিয়ে আসতে তথ্যমন্ত্রীর প্রতি আবারও অনুরোধ জানান নাসিম।
ছয় দফা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে সভা
০৯মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস ডিজিটাল পদ্ধতিতে উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই বিশেষ সভা আজ বিকাল ৩টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির আমন্ত্রিত সদস্যরা অনলাইন অ্যাপ্স জুম এর মাধ্যমে সভায় অংশগ্রহণ করেন। প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সভার সূচনা করেন। গত ১৭ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী জনসমাগম এড়ানোর জন্য ধারণকৃত অনুষ্ঠান রেডিও-টেলিভিশন-অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করে তিনি একইভাবে আগামী ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উদ্যাপনের প্রস্তাব করেন। করোনা ভাইরাসজনিত বর্তমান পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উদ্যাপনে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে উপস্থিত সবাই মতামত প্রদান করেন। সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম পরবর্তীতে অনুষ্ঠেয় অনলাইন সভায় সদস্যদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মণি, আসাদুজ্জামান নূরএমপি, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইয়েদ আহমেদ পলক, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. কামাল হোসেন, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী হাশেম খান, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়য়া, কবি তারিক সুজাত এবং বাস্তবায়ন কমিটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।বাসস
ডিআরইউতে করোনাভাইরাস সংক্রমনের নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপন
০৯মে,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমন পরীক্ষার লক্ষ্যে নমুনা (স্যাম্পল) সংগ্রহের জন্য ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) একটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। ডিআরইউর উদ্যোগে ও ব্র্যাকের সহযোগিতায় স্থাপিত এই বুথে নমুনা সংগ্রহের কাজ আগামী সোমবার থেকে শুরু হবে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে আজ বলা হয়, এ বুথে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং ক্রাইম রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) এর সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নাম এন্ট্রি করে করোনা সংক্রমন পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে পারবেন।এখানে প্রতিদিন ৪০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা যাবে। সপ্তাহে ৫-৬দিন সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্তএ কার্যক্রম চলবে। যাদের করোনা উপসর্গ যেমন-জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যাথা ও শাসকষ্ট রয়েছে তারা নমুনা দিতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশনে সদস্যের নাম ও মোবাইল নম্বর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ডিআরইউ ও ক্রাবের যেসব সদস্য তাদের বা পরিবারের সদসদ্যদের নমুনা দিতে ইচ্ছুক তাদের অবিলম্বে নিন্মে উল্লেখিত কর্মকর্তা ও সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে নাম এন্ট্রি করার জন্য অনুরোধ করা হয়। যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে তারা হলেন,খালিদ সাইফুল্লহ-০১৭১৭-৮১৩০১২,কামরুজ্জামান বাবলু-০১৮১৮-০০৪৭৬৮,শহিদুল ইসলাম রাজী (ক্র্যাব)-০১৯১৩-১৫৩৯৩৯,মাইনুল হাসান সোহেল-০১৭১৯-০১৪৪৩১

জাতীয় পাতার আরো খবর