রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০
গ্রেনেড হামলায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হয়েছিল- ওবায়দুল কাদের
২৩আগস্ট,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হাওয়া ভবনের ছক অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে পারেনি বলেই বিএনপি ২১ আগস্টের হত্যাকে দুর্ঘটনা বলছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসভবন থেকে রাজশাহী সড়ক জোনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে দেয়ার লক্ষ্যেই এ হামলা করা হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির নেতারা দিবালোকের মতো সত্যকে বিকৃত করে বলছে, ২১ আগস্ট নাকি দুর্ঘটনা। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছিল, যা ছিল ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডেরই ধারাবাহিকতা। ২১ আগস্টের টার্গেট ছিল দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মুফতি হান্নানসহ অন্যদের বক্তব্য এবং দালিলিক প্রমাণে বেরিয়ে এসেছে কারা এর পেছনে মদদ দিয়েছে, কারা বৈঠক করেছে, ষড়যন্ত্র করেছে। এ হামলার মাস্টারমাইন্ড হাওয়া ভবন, তাদের নির্দেশেই এ হামলা। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সবই জানত। তারা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে চেয়েছিল। মুছে দিতে চেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, খুনিদের নিখুঁত হত্যা পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় তারা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দুর্ঘটনাই মনে করতে পারে। তদন্তে বাধা দেয়া, জজ মিয়া নাটক সাজানো, আলামত নষ্ট করাসহ পদে পদে বাধাদানের মাধ্যমে তাদের সংশ্লিষ্টতার অকাট্য প্রমাণ জাতির কাছে আজ স্পষ্ট। করোনাভাইরাস শিগগিরই চলে যাবে বা চলে যাচ্ছে এমন মনে করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে রয়েছে। বাড়ছেও না, আবার কমছেও না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে তুলনামূলক অবস্থান ভালো হলেও আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। নিউজিল্যান্ড ও স্পেনসহ ইউরোপের অনেক দেশে দ্বিতীয় ওয়েব শুরু হয়ে গেছে। যেকোনো সময় পরিস্থিতির আরো অবনতি কিংবা দ্বিতীয় ওয়েভ শুরু হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, সেক্ষেত্রে করোনাভাইরাস শিগগিরই চলে যাবে বা চলে যাচ্ছে এমন মনে করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। এমন ভেবে স্বাস্থ্যবিধির প্রতি অবহেলা প্রদর্শন বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে। আমাদের অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটিয়ে তা স্বাস্থ্যবান্ধব করতে হবে। বিআরটিএ মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুপারিশ মন্ত্রণালয় হয়ে কেবিনেট ডিভিশনে প্রেরণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সংক্রমণ রোধে প্রতিরোধ ব্যবস্থায় অধিক মনোযোগ দেয়াই হচ্ছে সর্বোত্তম কৌশল। সরকার করোনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়। গাড়ির আসন সংখ্যা অর্ধেক খালি রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে ভাড়া সমন্বয় করে এ সময়ের জন্য। শুরুতে কিছু পরিবহন প্রতিশ্রুতি মেনে চললেও এখন অনেকেই মেনে চলছে না। আসন খালি না রাখলে এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানলে যাত্রীসাধারণ অতিরিক্ত ভাড়া কেন দেবে?
বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য চীন প্রস্তুত
২৩আগস্ট,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বের বীজ বপনে অবদানের জন্য বঙ্গবন্ধু চীনে সর্বদাই পরম শ্রদ্ধেয়। বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথ ধরেই তাঁর সুযোগ্য কন্যা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের নেতৃত্ব দিয়ে একজন মহান নেত্রী ও রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে নিজের অসামান্য যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। এক নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসাবে, চীন আগামী দিনে উভয় জাতির সাধারণ স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সদা প্রস্তুত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) কর্তৃক আয়োজিত বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। সভায় মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, মুহাম্মদ জমির এবং ড. শাম্মী আহমেদ আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন৷
ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের ষড়যন্ত্র চলমান রেখেছে- আইসিটি প্রতিমন্ত্রী
২২আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়লাভের পর শেখ হাসিনার সরকার মাত্র কয়েক বছরে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করেছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে শেখ হাসিনা কাজ করছেন। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের ষড়যন্ত্র চলমান রেখেছে। সব ষড়যন্ত্রকে রুখে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সবাইকে নিরলস পরিশ্রম ও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল বিকালে নাটোরের সিংড়া পৌর চত্বরে আয়োজিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বিচারের রায় কার্যকরের দাবিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৫ আর ২১ আগস্ট হামলা একই সূত্রে গাঁথা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হামলায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু আর বাঙালির স্বাধীনতার চেতনাকে নস্যাতের চেষ্টা করেছিল। আর বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার অসমাপ্ত স্বপ্ন যাতে বাস্তবায়ন না হয়, সেজন্য ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট হামলা চালানো হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ২১ আগস্টে সিংড়ায় প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহানের স্মরণসভা চলাকালে আমরা গ্রেনেড হামলার তথ্য জানতে পারি। ওই সময় জানা যায়, হামলায় শেখ হাসিনাও হয়তো মারা গেছেন। তাত্ক্ষণিকভাবে সভা মুলতবি করে প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। ওই সময় স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা হামলা চালিয়ে আব্দুল কুদ্দুস এমপিসহ অনেককেই রক্তাক্ত করে। পরে আবার তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলাও হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। সিংড়া উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নাটোর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর আসনের এমপি আব্দুল কুদ্দুস। সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ওহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বকুল, সিংড়া উপজেলা চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিক ও সিংড়া পৌর মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ গ্রেনেড হামলায় আহতদের দীর্ঘায়ু কামনা ও ১৫ আগস্টে নিহত জাতির পিতাসহ তার পরিবারের অন্য সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
২ হাজার কোটি টাকা মানিলন্ডারিং মামলায় ফরিদপুর ছাত্রলীগের সভাপতি ঢাকায় গ্রেফতার
২১আগস্ট,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দায়ের করা মামলায় ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহমুদ শামীম গ্রেফতার হয়েছেন। আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডির একটি দল। এই মামলায় গ্রেফতার ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের কাছ থেকে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়ার পর নিশান মাহমুদ শামীমকে গ্রেফতার করা হলো বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থাটির। সিআইডি সদরদপ্তরের সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জিসানুল হক জানান, দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দায়ের হওয়া মানিলন্ডারিং আইনের মামলায় আজ বিকালে উত্তরা থেকে নিশান মাহমুদ শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৬ জুন শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে প্রধান আসামী করে অবৈধ উপায়ে ২ হাজার কোটি টাকা আয় ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলাটি দায়ের করে সিআইডি। সেই মামলায় আদালতের মাধ্যমে রুবেল ও বরকতকে ৫ দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। সেসময় এর সাথে জড়িত অনেকের নাম প্রকাশ করে রুবেল ও বরকত। স্বীকারোক্তিতে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহমুদ শামীমকে গ্রেফতার করা হলো। এর আগে এই মামলায় আরো গ্রেফতার হয়েছে শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী ও জেলা শ্রমিক লীগের অর্থ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন। এর আগে, গত ১৬ জুন রাতে শহরের মোল্লাবাড়ি সড়কে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে সুবল চন্দ্র সাহা গত ১৮ জুন ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। ৭ জুলাই পুলিশের বিশেষ অভিযানে সুবল সাহার বাড়িতে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার হন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ আরও ৭ জন। এর পরে ঢাকায় সিআইডি বরকত ও রুবেলের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তদন্তে নামে। তদন্তে প্রাথমিক ভাবে ২ হাজার কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে অর্জন ও পাচারের তথ্য পাওয়া গেলে ঢাকার কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করে সিআইডি পুলিশ। - বণিক বার্তা অনলাইন
দুই মিনিটের মধ্যেই সিনহাকে গুলি করা হয়: Rab
২১আগস্ট,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদকে গুলি করা হয় বলে জানিয়েছেন Rapid Action Battalion (Rab) অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল। শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। Rabর অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, ওইদিন শামলাপুর চেকপোস্টে কী এমন ঘটেছিলো যে, মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (ইনচার্জ) লিয়াকত আলি অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত কর্মকর্তারা। এমনকি এ ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটেছে নাকি আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখা হয়েছিল, সে প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ওই দিন এই ঘটনা নিজ চোখে দেখেছেন এমন প্রতক্ষ্যদর্শীদের ভাষ্যমতে, লিয়াকতের হাতে আগেই থেকেই অস্ত্র ছিলো। কথা হলো, অভিযানটি যদি হঠাৎই হয় তাহলে তার হাতে আগে থেকেই অস্ত্র থাকবে কেনো? আবার পুলিশের ভাষ্যমতে, মেজর সিনহা পুলিশের দিকে অস্ত্র তাক করাতেই লিয়াকত গুলি করেছে। তাহলে এখন প্রশ্ন উঠে ওইদিন চেকপোস্টে কী এমন ঘটেছিলো যে মেজর সিনহা মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে তার দিকে অস্ত্র তাক করেছিলো। এসব বিষয়ে তদন্ত করে দেখো হচ্ছে। কর্নেল তোফায়েল আরো বলেন, ওইদিন মাত্র এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে গুলির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু চেকপোস্টে গাড়ি থামানো থেকে শুরু করে পরিচয় জানতে চাওয়া, গাড়ি তল্লাশি করা এবং গুলি চালানো এই এক-দুই মিনিটের মধ্যে সম্ভব না। তাহলে কী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ গুলি করেছে তা তদন্ত করে দেখতে প্রতিটি সেকেন্ড বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। চেকপোস্টে প্রতিটি পয়েন্ট ব্যারিকেড থেকে ব্যারিকেড ও প্রতক্ষ্যদর্শীর দূরত্ব সরেজমিনে পরিমাপ করা প্রয়োজন। তাহলেই এই ঘটনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। এদিকে ঘটনার সার্বিক তদন্ত করতে এ মামলার প্রধান তিন আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক (ইনচার্জ) লিয়াকত আলি ও সাময়িক বরখাস্তকৃত উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিতকে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়েছে। দুপুর ১টার দিকে তাদের Rab-15 এর কার্যালয় থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেমে কক্সবাজার-টেকনাফ পুরাতন মহাসড়ক দিয়ে শামলাপুর চেকপোস্টে নেওয়া হয়। এ সময় তাদের দেখতে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করে। গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ। পুলিশের পক্ষ থেকে ওই সময় বলা হয়, রাশেদ সিনহা তার পরিচয় দিয়ে তল্লাশিতে বাধা দেন। এরপর তিনি পিস্তল বের করলে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। পরে ঘটনার বিচার চেয়ে টেকনাফ উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আদালতে ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। বর্তমানে এ মামলার তদন্ত করছে Rab।
সরকারি মদদেই ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা: প্রধানমন্ত্রী
২১আগস্ট,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক জিয়া এবং তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার সরাসরি জড়িত মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের মদদ না থাকলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটানো সম্ভব হতো না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা জানান তিনি। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতা এসে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ঘটায়। এর সঙ্গে তার ছেলে তারেক রহমান যে জড়িত সেটাও যারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত তাদেরই কথায় বেরিয়ে এসেছে তারা কোথায় মিটিং করেছে, কীভাবে এই ষড়যন্ত্র করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, এই সন্ত্রাসীদের এক জায়গায় করা, তাদের ট্রেনিং দেওয়া, তাদের আনা, পরবর্তীতে তাদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। তাদের মনে হয়েছিল আমি মারা গেছি। যখন শুনেছে আমি মারা যাইনি তখন তাদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। ওই হামলাকারীরা তারা যাতে নির্বিঘ্নে ওই এলাকা ত্যাগ করতে পারে সেই সুযোগটা সৃষ্টি করে দেওয়া হয়েছিল। কাজেই সরকারের মদত না থাকলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা এভাবে হতে পারে না। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি সরকার যদি এর সঙ্গে জড়িত নাই থাকবে তাহলে তারা আলামতগুলো কেন নষ্ট করবে? ওই গ্রেনেড হামলার পরেই সিটি করপোরেশনে তখন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা তার লোকজন নিয়ে এসে পুরো এলাকা ধুয়ে ফেলে। আর যে গ্রেনেডটা ওখানে পাওয়া গিয়েছিল একটা রমনা ভবনের কোণায়, আরেকটা ওই স্পটেই ছিল বিস্ফোরিত হয়নি। আরেকটা বিস্ফোরিত হয়েছে আমি যখন ওখান থেকে চলে আসি গাড়ি নিয়ে ঠিক তার পরেই। সেই গ্রেনেডটা একজন সেনা অফিসার এটিকে আলামত হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন বলে খালেদা জিয়া তাকে চাকরিচ্যুত করেছিল। কোন আলামতই তারা রাখতে চায়নি। তারপর আপনারা জানেন একটা নাটক সৃষ্টি করে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে খালেদা জিয়া জড়িত মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, একেকটা ঘটনা ঘটবার আগে খালেদা জিয়া যে বক্তৃতাগুলো দিয়েছে- যখন কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল তার আগে বলেছিল যে, আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পূর্বে খালেদা জিয়ার বক্তব্য ছিল যে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, বিরোধী দলীয় নেতাও কোন দিন হতে পারবে না। এই ভবিষ্যৎ বাণী খালেদা জিয়া কীভাবে দিয়েছিল? কারণ তাদের চক্রান্তই ছিল যে, আমাকে তারা হত্যা করে ফেলবে তাহলে তো আমি কিছুই হতে পারব না। এটাই তাদের চক্রান্ত ছিল। প্রতিটি ঘটনার আগে তার বক্তৃতা যদি আপনারা অনুসরণ করেন এই কথাগুলোই বলেছে। ২১ আগস্টের ঘটনা নিয়ে সংসদে তৎকালীন বিরোধী দলকে কোন কথা বলতে দেওয়া হয়নি জানিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অনেক সংসদ সদস্যই এই গ্রেনেড হামলায় আহত। আমরা যখন এটার ওপর আলোচনা করতে চাইলাম। একটা রেজ্যুলেশন নিতে চাইলাম অপজিশন থেকে। খালেদা জিয়া কিন্তু সেটা হতে দেয়নি। আলোচনা করতে দেয়নি। শেখ হাসিনা বলেন, দেশে এ রকম একটা ঘটনা ঘটে গেছে, আমি বিরোধী দলের নেতা। আমার ওপর এই রকম গ্রেনেড হামলা। বিরোধী দলে- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মতো একটি দল, যে দল স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। সেই দলের সভায় এই রকম গ্রেনেড হামলা। আর পার্লামেন্টে যিনি সংসদ নেতা, বলে দিল ওনাকে আবার কে মারবে? তখন তো বলতে হয় আপনিই তো মারবেন। চেষ্টা করেছেন, ব্যর্থ হয়েছেন সেই জন্য আর পারছেন না। এই রকম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে আমাদের কোন কথা বলতে দেয়নি এই হামলা সর্ম্পকে। আমাদের কাউকে মাইক দেয়নি। আলোচনা করতে দেয়নি। এতে কী প্রমাণ হয় তারা যদি সরাসরি জড়িত না থাকত তাহলে কি তারা এতভাবে বাধা দিত। গ্রেনেড হামলায় আহতদের চিকিৎসায় বাধা দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যখনই গ্রেনেড হামলাটা হলো। সাধারণত একটা সভ্য দেশ হলে কী করতো সাথে সাথে পুলিশসহ অন্যান্য সবাই ছুটে আসতো আহতদের সাহায্য করতে, উদ্ধার করতে, চিকিৎসা করতে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, সেখানে কোনো রোগী ঢুকতে পারবে না, যেতে পারবে না, চিকিৎসা নিতে পারবে না। ঢাকা মেডিকেল কলেজে বিএনপির কোন ডাক্তার সেখানে উপস্থিত নেই। যাদের ডিউটি ছিল তারাও নেই। কারণ, রোগীদের চিকিৎসা করবে না। আমাদের যারা ডাক্তার তারা সেখানে ছুটে গিয়েছিল তারা সেখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকা শহরে কত হাসপাতাল, কত ক্লিনিক আছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর বোধ হয় আমরা জানতে পারি। সমগ্র ঢাকা শহরে নেতা-কর্মীরা যে যেখানে পেরেছে তাকে সেখানে নিয়ে গেছে। আহতদের সাহায্য করতে আসা নেতাকর্মীদের তা করতে দেওয়া হয়নি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দূরে ছিল তারা যখন ছুটে আসে পুলিশ তাদের টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে, লাঠিপেটা করে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। গ্রেনেড হামলার ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, এই ধরনের গ্রেনেড হামলা বোধ হয় পৃথিবীতে আর কখনও কোথাও ঘটেনি। সাধারণত রণক্ষেত্রে, যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা ঘটে। কিন্তু আমাদের সেই Railly তে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং আমাকে হত্যার উদ্দেশ্য নিয়েই এই ঘটনাটা ঘটিয়েছিল। ভাগ্যক্রমে আমি বেঁচে গিয়েছি। কিন্তু সেইদিন আইভী রহমানসহ আমাদের ২২ জন নেতাকর্মী শাহাদাৎবরণ করেছেন। সেই সাথে অনেক নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন, অনেকে আহতে হয়ে পরে মারা গেছেন। মানুষের জন্য কিছু করার জন্যই আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, সারা দেশকে তারা একটা সন্ত্রাসের রাজত্ব করেছিল। আমি জানি না আল্লাহ কেন বাঁচিয়ে রেখেছেন। বাংলাদেশের মানুষের জন্য যাতে কিছু করতে পারি সেই জন্যই হয়তো বাঁচিয়ে রেখেছেন। নইলে এ রকম অবস্থা থেকে বেঁচে আসা এটা অত্যন্ত কষ্টকর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগে বহুবার বিভিন্ন হামলার স্বীকার হয়েছি। কিন্তু একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো ভয়াবহ হামলা হতে বেঁচে যাওয়া নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কিছু কাজ রেখে দিয়েছেন, সেটা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত হয়তো কাজ করে যেতে পারব। আল্লাহ সেই সুযোগ দেবেন। দেশটাকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আওয়ামী লীগ নেতারা ২১ আগস্টের নিহতের স্মরণে অস্থায়ী সৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।- বাংলা নিউজ
সিনহার মৃত্যু: আরো ৭ দিন সময় পেলো তদন্ত কমিটি
২০আগস্ট,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটিকে আরো সাত দিন সময় দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে তদন্ত কমিটির মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত কমিটি সময় বাড়ানোর জন্য আবেদনের প্রেক্ষিতে আরও সাত কর্মদিবস বাড়ানো হয়েছে, যা শেষ হবে ৩১শে অগাস্ট। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করা গঠিত এই কমিটির সদস্যরা হলেন- কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাজাহান আলি, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (ডিআইজি) একজন প্রতিনিধি এবং সেনাবাহিনীর রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসির একজন প্রতিনিধি। পুনর্গঠিত এই তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও ১০শে অগাস্ট তদন্ত কমিটি সময় বাড়ানোর আবেদন করে। তখন ২৩শে অগাস্ট পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল কমিটির। কমিটিকে সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার কারণ ও উৎস অনুসন্ধান করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে মতামত দিতে বলা হয়েছে। গত ৩১শে জুলাই কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা। তল্লাশি চৌকিতে থামালে সিনহা গুলি করতে উদ্যত হলে পাল্টা গুলি চালানো হয় বলে পুলিশ দাবি করলেও তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর গত ১ অগাস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরদিন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।।
গৃহিণী হয়েও প্রদীপের স্ত্রী এত টাকার মালিক কীভাবে?
১৯,আগস্ট,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমারের স্ত্রী চুমকির নামে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার অবৈধ সম্পদ ও অস্থাবর পাওয়া গেছে। যে আয়ের বৈধ কোনো উৎস দেখাতে পারেননি চুমকি। এমনকি অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, চুমকি একজন গৃহিণী হয়েও কীভাবে এত টাকার মালিক হয়েছেন। এই সম্পদের হিসাব দেখাতে পারেননি প্রদীপ কুমার ও তার স্ত্রী। তাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুদক। একইসঙ্গে প্রদীপ দম্পত্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করতেও আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন। দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, প্রদীপের স্ত্রী চুমকির নামে চট্টগ্রামের কোতোয়ালিতে জমিসহ ছয়তলা বিলাসবহুল বাড়ি। এ বিষয়ে চুমকি দুদককে বলেছেন, ২০১৩ সালে বাড়িটি তার বাবা তাকে দান করেছেন। কিন্তু চুমকির অন্যান্য ভাই ও বোনদের তার বাবা কোনো সম্পত্তি দান করেননি। শুধু তাই নয়, ২০০৬ সালে শ্বশুরের নামে কেনেন বাড়ির জমি। এরপর ৬ তলা বহুতল ভবন গড়ে তোলেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে বাড়িটি প্রদীপ অবৈধ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে বাড়িটি নি: ও জমি ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া চুমকি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মাছের ব্যবসা করে আয় দেখিয়েছেন দেড় কোটি টাকা। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে যার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। আয়কর নথিতে কমিশন ব্যবসা থেকে আয় দেখিয়েছেন চুমকি। যেখানে ব্যবসার মূলধন হিসেবে দেখিয়েছেন ১১ লাখ ২২ হাজার টাকা আর আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু অনুসন্ধানে কমিশন ব্যবসার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া চুমকি কমিশন ব্যবসার লাইসেন্স, সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে ব্যবসা করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের তথ্য কিছুই দুদকে দেখাতে পারেনি। ফলে প্রদীপ কুমার দাশ অবৈধ সম্পত্তি স্ত্রীর নামে গড়লেও দুদকের কাছে বৈধ কোনো উৎস দেখাতে পারেননি। যে কারণে প্রদীপ দম্পতির বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়। এখন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন পেলেই হবে প্রদীপ দম্পত্তির বিরুদ্ধে মামলা। দুদকের অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, চুমকির নামে ৪ কোটি ৪৪ লাখ ১৮ হাজার ৮৬৯ টাকার সম্পদের প্রমাণ রয়েছে দুদকের কাছে। এর মধ্যে খরচ দেখিয়েছেন ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আর আয় দেখিয়েছেন ৪৯ লাখ ১৩ হাজার ২৩৪ টাকা। ফলে চুমকি দুদকের কাছে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার কোনো বৈধ খাত দেখাতে পারেনি। অপরদিকে ভারতের আগারতলা, গৌহাটি ও বারাসাতে প্রদীপের বাড়ি থাকার কথা বলা হলেও প্রাথমিকভাবে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে মামলার পরে প্রদীপ দম্পতির বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে আরো অনেক সম্পদ থাকলে সেগুলো বেরিয়ে আসতে পারে বলে দুদক কর্মকর্তারা মনে করছেন। মেজর সিনহা হত্যার পর বেরিয়ে আসতে থাকে টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের অপকর্মের কথা। একের পর এক জট খুলতে থাকে অপরাধের। মাদক সংশ্লিষ্টতাসহ বন্দুকযুদ্ধে বিভিন্ন কারণে সাধারণ মানুষকে হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসতে থাকে। একই সাথে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের কথাও বেরিয়ে আসে।
জনগণের দিকে তাকিয়ে ফি কমানো হলো
১৯,আগস্ট,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা পরীক্ষা করাতে ফি ধরার কারণে টেস্ট কমে গিয়েছিল। তবে এখন ফি কমানোর পর টেস্টের সংখ্যা বাড়বে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, জনগণের দিকে তাকিয়ে ফি কমানো হলো। বুধবার ( ১৯ আগস্ট) সচিবালয়ে করোনার নমুনা পরীক্ষার ফি কমানো বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ফিয়ের কারণে অনেক দরিদ্র মানুষ পরীক্ষা করতে কিছুটা আগ্রহ হারিয়েছেন। এ বিষয়ে পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাও করেছি। তার একটা নির্দেশনা নিয়েছি। আমাদের প্রস্তাবনায় তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, হাসপাতালে গিয়ে ২০০ টাকা যে ফি নেওয়া হতো সেটা কমিয়ে ১০০ টাকা করার জন্য। আর বাড়িতে পরীক্ষা করাতে হলে ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নেওয়া হবে। জনগণের দিকে তাকিয়ে ফিয়ের নতুন হার বলবত করা হলো। আমরা আশা করি, ফি কমিয়ে দেওয়ায় টেস্টের সংখ্যা বাড়বে। তিনি বলেন, আমাদের সবসময় ইচ্ছা, টেস্ট করা হোক এবং সংক্রমিত ব্যক্তি চিহ্নিত হোক, তাদের সেবার আওতায় আনা হোক। কিন্তু টেস্টের সংখ্যা সেভাবে বাড়ে নাই। আমাদের এখন যথেষ্ট ল্যাব রয়েছে, কিটসের কোনও অভাব নাই। আশা করি, এই পরিবর্তনের ফলে আগামীতে টেস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। কবে নাগাদ এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে, পত্রিকাতেও দিয়ে দেবো। সার্কুলার হতে যতটুকু সময় লাগে। তবে শিগগিরই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুন ফি নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) টেস্ট বিনামূল্যে হওয়ার ফলে অধিকাংশ মানুষ উপসর্গ ছাড়াই পরীক্ষা করার সুযোগ গ্রহণ করছে। এমন পরিস্থিতিতে কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য অপ্রয়োজনীয় টেস্ট পরিহার করার লক্ষ্যে ফি নির্ধারণ করে সরকার। সরকারি হাসপাতালে বা বুথে নমুনা পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা এবং বাড়িতে ডেকে নমুনা পরীক্ষা করা হলে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয় তখন। ফি দিয়ে করোনার পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তের পর থেকেই নমুনা পরীক্ষা কমে যেতে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর