বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৪, ২০১৯
শক্ত হাতে দমন,আন্দোলনের নামে নাশকতা করলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি যদি আন্দোলনের নামে কোনো নাশকতার চেষ্টা করে তাহলে শক্ত হাতে তা দমন করা হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে উন্নয়নের ধারা চলছে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সেটা হারিয়ে যাবে। তাই যেকোনো মূল্যে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানানোর পর বেলা ১১টায় স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সচিবালয়ে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির আন্দোলনের বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, তারা একটি রাজনৈতিক দল। তাই তারা রাজনীতি থাকতে পারে। তবে নাশকতা, অগ্নিসংযোগ এদেশের মানুষ পছন্দ করে না। এর আগেও তারা এ ধরনের আন্দোলন করে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, জনসম্পৃক্ত নয় এমন আন্দোলন যদি বিএনপি করে তাহলে তারা আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,এটা আমাদের চলমান প্রক্রিয়া। জঙ্গি, সন্ত্রাস দমন ও মাদককে আমরা জিরো টলারেন্সের (শূন্য সহনশীলতা) কথা বলেছিলাম। আমরা সবগুলোই কিছুটা কন্ট্রোল করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, আশা করি আমরা সামনের দিনগুলোতে মাদককে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। তিনি বলেন,মাদককে নিয়ন্ত্রণ আমাদের করতেই হবে, তা নাহলে আমাদের মেধা ও স্বপ্ন হারিয়ে যাবে।
৫০ বিলিয়ন ডলারে নিতে জোর দেয়া হবে রফতানি: বাণিজ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি ও বিনিয়োগ উন্নয়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে চান। এক্ষেত্রে দেশের রফতানি আয় ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে সর্বোচ্চ জোর দেয়া হবে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, উৎপাদন বহুমুখীকরণ, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি ও অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন গুরুত্ব পাবে বলে তিনি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার শেরেবাংলানগর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা চত্বরে স্থাপিত অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমেলা-২০১৯ এর বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুারোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ৫০ বিলিয়ন ডলার রফতানির টার্গেট রয়েছে। এক্ষেত্রে তৈরি পোশাক মূল। এর প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। চামড়াটা বাদে ওষুধটা ভালো করেছে। মাত্রই দায়িত্ব নিলাম। আমাদের টার্গেট পূরণে কাজ করব। তিনি বলেন, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, বিদিশি বিনিয়োগ বাড়ানোসহ সব জায়গায় কাজ করতে চাই। ময়মনসিংহে মাছ উদ্বৃত্ত আছে। সেখানে হিমাগার করা যায় কিনা তা নিয়ে ভাবব। রংপুরে কৃষিপণ্য আছে, এসব পণ্যের সঠিক ব্যবহার ও অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বাণিজ্যমেলার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটা শুধুমাত্র বাণিজ্য নয়, আনন্দ-বিনোদনের ব্যাপার। বহু দূর-দূরান্ত থেকে মেলায় মানুষ আসেন। এজন্য মেলায় যেসব বৈচিত্র্যতা আছে- মানুষের কাছে তা তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, এ মাসে নতুন সেলারি (বেতন) যুক্ত হতে যাচ্ছে। নতুন কোন কিছু শুরু করতে গেলে কিছু আপত্তি আসে। গতকাল সোমবার পোশাক মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা আজ আবার বসছি। আশা করি এর ভাল সমাধান পাব। উল্লেখ্য, সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি এবং এর বাস্তবায়ন দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা গত তিন দিন যাবৎ আন্দোলন করছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুারোর (ইপিবি) যৌথ আয়োজনে আগামীকাল বুধবার শেরেবাংলানগর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে মাঠে ২৪তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হচ্ছে। বুধবার বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মেলার উদ্বোধন করবেন। চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার বাণিজ্যমেলা এক সপ্তাহ দেরিতে শুরু হচ্ছে। সাধারণত প্রতিবছর ১ জানুয়ারি মেলা শুরু হয়ে থাকে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। প্রথমবারের মতো মেলায় থাকবে অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা, এতে ঘরে বসেই দর্শনার্থীরা মেলার টিকিট কিনতে পারবেন। মেলায় প্যাভিলিয়ন ও স্টলের সংখ্যা ৬০৫৷ ২২টি দেশ এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে।
ভুঁইফোঁড় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক: সদ্য শপথ নেয় তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, ভুঁইফোঁড় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথম দিন অফিস করতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ ঘোষণা দেন তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, গতকাল (সোমবার) শপথ নেয়ার পর অনেক সাংবাদিক বন্ধু প্রশ্ন করেছিলেন, দেশে অনেক ভুঁইফোড় অনলাইন সংবাদমাধ্যম তৈরি হয়েছে। তারা অনেক সময় ভুল সংবাদ পরিবেশন করে থােকে। এতে অনেকের চরিত্র হননের ঘটনাও ঘটে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক হারে ইন্টারনেট গ্রাহক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। এই সুযোগে তৈরি হয়েছে অনেক ভুঁইফোঁড় অনলাইন সংবাদমাধ্যম, যারা ফেসবুকে বিভিন্ন মনগড়া খবরও ছড়াচ্ছে। নতুন মন্ত্রী হওয়ার পর এ মন্ত্রণালয়ের কোন বিষয়গুলো চ্যালেঞ্জ মনে করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নিজের জীবনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি সব সময়। লাইফ ইজ ফুল অফ চ্যালেঞ্জেস। আমি মনে করি, সব কাজই সমাধানযোগ্য এবং সব কাজই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করা সম্ভব। সাংবাদিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে নতুন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, সাংবাদিক বন্ধুদের অনেক অভাব অভিযোগ আছে, আমি আগে থেকেই জানি। সেগুলো সমাধান করতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে কাজটি আমি করব। হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে অনলাইন মিডিয়ার যে ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে, সেটি শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়েছে। বাংলাদেশে আজকে যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রচণ্ড শক্তিশালী হয়েছে, সেটিও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হয়েছে। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। হাছান মাহমুদ বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়। রাষ্ট্রের চতুর্থ অঙ্গ হচ্ছে গণমাধ্যম। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সমাজের সব চিত্র দেখায় গণমাধ্যম। সমাজকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে। আলোকিত বাংলাদেশ
আমার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি: মাহবুব তালুকদার
অনলাইন ডেস্ক: সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া একাদশ সংসদ নির্বাচন অংশীদারমূলক হয়েছে- নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার বলেছেন, আমার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে ইসি মাহবুব তালুকদার এ কথা বলেন। তিনি বলেছেন, গত ৩ জানুয়ারিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে আমি যে বক্তব্য রাখি, তাতে কিছু বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অনেক সাংবাদিক আমাকে প্রশ্ন করেছেন, আমি আমার অবস্থান পরিবর্তন করেছি কি না। এ সম্পর্কে বিভ্রান্তির অবসান ঘটাতে বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে আমি কোনো কথা বলিনি। কেমন নির্বাচন হয়েছে- সাংবাদিকদের এহেন প্রশ্নের জবাবে আমি আগে বলেছি, নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন, তাহলে এ প্রশ্নের জবাব পেয়ে যাবেন। এখনো আমি সে কথাই বলি। আমার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। মাহবুব তালুকদার বলেন, আমি বক্তব্যে বলেছি, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিয়েছি। ইতিপূর্বে ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখের বক্তব্যে আমি বলেছিলাম, সব দল অংশগ্রহণ করলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়া একটা প্রাথমিক প্রাপ্তি। আসল কথা হচ্ছে, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হচ্ছে কিনা এবং বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে কিনা। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য না হলে অংশগ্রহণমূলক হলেও কোনো লাভ নেই।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ : জরুরি বৈঠকে সরকার
অনলাইন ডেস্ক: পোশাক শ্রমিকদের কয়েক দিনের বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী ঢাকা। এতে যানজট চরম আকার ধারণ করেছে। ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা তিন দিন ঢাকার রাস্তায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে গার্মেন্ট মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠকে ডেকেছে সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় শ্রম ভবনের সম্মেলন কক্ষে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ র্কমর্কতা মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন। শ্রম মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে কিছু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে বলে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য্য ধারণ করে আন্তরিকতার সাথে সহযোগিতা করার জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। সরকার ঘোষিত কাঠামো পর্যালোচনা করে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে গত রোববার থেকে প্রতিদিনই ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশমুখ বিমানবন্দর সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে পোশাক শ্রমিকরা। জানা যায়, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করে গত ২৫ নভেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে তা কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল সেখানে। এদিকে শ্রমিকদের অভিযোগ, সরকার তাদের জন্য যে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দিয়েছে, মালিকপক্ষ সে অনুযায়ী বেতন দিচ্ছে না। বরং তাদের নানাভাবে অন্যায়-অবিচারের শিকার হতে হচ্ছে। শ্রমিকরো জানান, নতুন মজুরিকাঠামোতে পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম বা ৭ নম্বর গ্রেডে মজুরি বেড়েছে ২ হাজার ৭০০ টাকা। তার মধ্যে মূল মজুরি ১ হাজার ১০০ টাকা। একই হারে অন্যান্য গ্রেডের মজুরিও বেড়েছে। সরল এই অঙ্কের মধ্যেই রয়েছে গলদ। কারণ, প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। সে জন্য ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডের পুরোনো অনেক শ্রমিক ঘোষিত নতুন মজুরিকাঠামোর সমপরিমাণ মূল মজুরি এখনই পাচ্ছেন। প্রায় প্রতিটি কারখানায় এই তিন গ্রেডেই সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কাজ করেন। আলোকিত বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী ঠিক লোককে ঠিক জায়গায় বসিয়েছেন : কাদের
অনলাইন ডেস্ক: নতুন মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ঠিক লোককে ঠিক জায়গায় বসিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সঠিক লোকই নির্বাচিত করেছেন। ঠিক মানুষকে ঠিক জায়গায় দায়িত্ব দিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সেতুমন্ত্রী এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা আমাদের যেটি ফোকাস, আমরা জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেব, কাজ করব- সেটিই অঙ্গীকার। শরিকদের মন্ত্রিত্ব নিয়ে তিনি বলেন, জোটে কোনো টানাপড়েন নেই। সবে একটি সভা হল। মেনন বা ইনু মন্ত্রিসভায় অনেক পরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হবে, রিশাফল হবে। পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ হবে- সেটাই স্বাভাবিক। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, জোটের কোনো শর্ত ছিল না যে, তাদের কাউকে মন্ত্রী করতে হবে। ‘টানাপড়েন নেই। ভুল বোঝাবুঝি আছে, ঠিক হয়ে যাবে। কারণ তারা দুঃসময়ের সঙ্গী। তিনি বলেন, আমাদের অনেকে বাদ পড়েছেন। এটি বাদ নয়, দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে। তাদের দায়িত্ব পরিবর্তন হয়েছে। দলের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করবেন।
পোশাক শ্রমিকদের অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ মিরপুরে
অনলাইন ডেস্ক: সরকারি মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেছে পোশাকশ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর থেকে তারা মিরপুরের কালশী সড়কে অবস্থান নেন। তাদের সরিয়ে দিতে একবার ধাওয়া দেয় পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকাল থেকে ২২ তলার পোশাক শ্রমিকরা রাস্তায় অবস্থান নেন। তাদের অবস্থানের কারণে বর্তমানে সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একবার সরে গেলেও শ্রমিকরা আবার অবস্থান নেন। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোবারক করিম বলেন, মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে তারা মূল সড়কে অবস্থান নিয়েছে। ওসি নজরুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এর আগে গত দুই দিনও বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, ন্যূনতম মজুরি কাঠামো বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দাবিতে এয়ারপোর্ট, উত্তরা, টঙ্গী, গাজীপুর সড়কে অবস্থান নেন পোশাক শ্রমিকরা।
প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রী পরিষদের শ্রদ্ধা জাতির পিতার প্রতি
অনলাইন ডেস্ক: টানা তৃতীয় বারের মতো তাঁর সরকার গঠন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শপথ গ্রহণের একদিন পরে শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের নবনিযুক্ত মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকবার শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ এবং হুইপবৃন্দ, আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সদস্যবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পরেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর নবনিযুক্ত মন্ত্রী সভার সদস্যদের নিয়ে ৭১র মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিপুল বিজয়ের পর গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী টানা তৃতীয় বার এবং এ নিয়ে মোট চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং তাঁর নবগঠিত ৪৭ সদস্যের মন্ত্রী সভা শপথ গ্রহণ করেন। বঙ্গভবনের দরবার হলে এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধামন্ত্রী এবং নতুন মন্ত্রী সভায় ২৪ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ জন উপমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ এই শপথ বাক্য পাঠ করান।
যত অর্জন শেখ হাসিনার
অনলাইন ডেস্ক: টানা তৃতীয়বার এবং দেশের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। আজ সোমবার বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনের দরবার হলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ৫৬ অনুচ্ছেদের তিন দফা অনুযায়ী প্রথমে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড শেখ হাসিনার। টানা তিনবার তো কেউ প্রধানমন্ত্রী হননি বরং চারবার প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার দৃষ্টান্ত তিনিই স্থাপন করেছেন। শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন, ঐতিহ্যবাহী ও বৃহত্তম দল আওয়ামী লীগকে। ওই দলের প্রধান হিসেবে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। টানা ৩৮ বছর ধরে দলটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। ওই বছর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এরপর ২০০৮, ২০১৪ ও সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিপুল আসনে জয়ী হয়। তিনটি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন। ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে তিনি ছিলেন সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা। সংগ্রামী শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে শেখ হাসিনা সবার বড়। গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের (বর্তমানে ইডেন মহিলা কলেজ) ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) হয়েছিলেন। তিনি এই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরের বছর সভাপতি ছিলেন। শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সব গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা ওই সময় পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান। পরবর্তীকালে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছয় বছর ভারতে অবস্থান করেন। ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে থেকে তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে অবশেষে তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর