বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে ৭টি চুক্তি স্বাক্ষরিত
২২এপ্রিল,সোমবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ ও ব্রুনাই সোমবার কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া এবং এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য সাতটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ব্রুনাইয়ের সুলতানের সরকারি বাসভবন ইস্তানা নূরুল ইমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রুনাইয়ের সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এই চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। সাতটি চুক্তির মধ্যে ছয়টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং একটি বিনিময় নোট। এগুলো হচ্ছে, কৃষি ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), মৎস্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, পশুসম্পদ ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, সাংস্কৃতিক ও শিল্প সহযোগিতা সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক, যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, এলএনজি সরবরাহে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক এবং কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্ট হোল্ডারদের জন্য ভিসার ছাড় সংক্রান্ত বিনিময় নোট। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের বলেন, দু দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এমওইউ এবং বিনিময় নোট স্বাক্ষর করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রনাইর সুলতান হাসানাল বলকিয়া উপস্থিত ছিলেন। কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং ব্রুনাইয়ের প্রাথমিক সম্পদ ও পর্যটনমন্ত্রী হাজি আলী বিন আপং নিজ নিজ পক্ষে কৃষি ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতা সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু ও ব্রুনাইয়ের প্রাথমিক সম্পদ ও পর্যটন মন্ত্রী হাজি আলী বিন আপং মৎস্য ক্ষেত্রের এবং প্রাণিসম্পদের ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক দুটি স্বাক্ষর করেন। সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ ও ব্রুনাইয়ের সংস্কৃতি, যুবা ও ক্রীড়ামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) হাজি আমিনউদ্দীন ইহসান সাংস্কৃতিক ও শিল্প সহযোগিতাবিষয়ক এমওইউ স্বাক্ষর করেন। যুবা ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং ব্রুনাইয়ের সংস্কৃতি, যুবা ও ক্রীড়া মন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) হাজি আমিনউদ্দীন ইহসান যুব ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং ব্রুনাইর জ্বালানি, জনশক্তি ও শিল্পমন্ত্রী ড. আওয়াং হাজী মাত সানি এলএনজি সরবরাহে সহযোগিতার ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। ব্রুনাইয়ের সুলতানের আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ব্রুনাইতে রয়েছেন।
আজ পবিত্র শবেবরাত
২১এপ্রিল,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় আজ রোববার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এ রাতটি লাইলাতুল বরাত হিসেবে পরিচিত। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে সোমবার সরকারি ছুটি থাকবে। বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে রাত অতিবাহিত করবেন। মহিমান্বিত এ রজনীতে মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশ্বের মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত করবেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এক বাণীতে পবিত্র শবেবরাতে দেশের অব্যাহত অগ্রগতি, কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করেছেন। এ উপলক্ষে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, শবেবরাত মুসলমানদের জন্য এক মহিমান্বিত ও বরকতময় রজনী। মাহে রমজান ও সৌভাগ্যের আগমনী বারতা নিয়ে লায়লাতুল বরাত প্রতিবারের ন্যায় এবারও আমাদের মাঝে সমাগত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা এবং পবিত্র শবেবরাতের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানব কল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন,আসুন, সকল প্রকার কুসংস্কার ও কূপমন্ডূকতা পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করি। এ রজনীতে বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে সারা রাত নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগামীকাল বাদ মাগরিব থেকে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে রাতব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত, ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাত। ফজরের নামাজের পর আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এছাড়া দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করবে।
১১ দিন দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে: বিএসসিসিএল
২১এপ্রিল,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারে সাবমেরিন ক্যাবল রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী ১১ দিন (২০ এপ্রিল- ১ মে) দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) জানায়, ২০ এপ্রিল- ১ মে সময়কালে সাবমেরিন ক্যাবলের বাংলাদেশ ব্রাঞ্চে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে দুটি রিপিটার প্রতিস্থাপনের কাজ চলমান থাকতে পারে। এই সময়কালে ইন্টারনেটের ধীরগতি থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন টেলিকম সংস্থাকে বিএসসিসিএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আন্তর্জাতিক সার্কিট চালু রাখার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করা হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণকালীন সময়ে ইন্টারনেট গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিএসসিসিএল।
তিনদিনের সফরে ব্রুনাইয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী
২১এপ্রিল,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রুনাই দারুসসালামের সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়ার আমন্ত্রণে তিনদিনের সরকারি সফরে রবিবার সকালে ব্রুনাইয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে শেখ হাসিনা ও তার সফর সঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্রুনাইয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে। এ সফরে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে দুদেশের মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমঝোতা স্মারক হতে পারে এমন ছয়টি খাত হচ্ছে- কৃষি, শিল্প ও সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, মৎস্যখাত, পশুসম্পদ খাত ও জ্বালানি খাত। রবিবার দুপুর পৌনে ৩টায় (স্থানীয় সময়) বিমানটির ব্রুনাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময়সূচি রয়েছে। বিমানবন্দরে ব্রুনাই দারুসসালামের ক্রাউন প্রিন্স হাজী আল-মুহতাদী বিল্লাহ প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা শেষে তাকে শোভাযাত্রা সহকারে ইম্পায়ার হোটেল অ্যান্ড কাউন্ট্রি ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হবে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী এই হোটেলে অবস্থান করবেন। সফরের সময়সূচি অনুযায়ী, রবিবার ইম্পায়ার হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি কমিউনিটি ইভেন্ট ও ব্রুনাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনারের আয়োজনে নৈশভোজে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার ব্রুনাই সুলতানের সরকারি বাসভবন ইস্তানা নুরুল ইমান প্রাসাদে সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়া ও তার রাজকীয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন শেখ হাসিনা। এরপর সুলতানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও ব্রুনাই দারুসসালামের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্রুনাই সফর নিয়ে সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, এই সফর দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দৃঢ়তর করার পাশাপাশি জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, খাদ্য, বিমান যোগাযোগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, পর্যটন ও কারিগরি সহায়তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশেষ অবদান রাখবে। রোহিঙ্গা সমস্যাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরু্ত্বপূর্ণ ইস্যুতে ব্রুনাই ও আসিয়ান সদস্য দেশসমূহের কার্যকর সমর্থন আদায়ে এ সফর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও এ সফর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ন ও কার্যকর সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ব্রনাই আসিয়ানে সদস্য রাষ্ট্র বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ব্রুনাই ১৯৮৪ সালে স্বাধীনতা লাভের অব্যবহিত পর দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে ব্রুনাই-এ বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন পুনঃস্থাপনের পর হতে দুদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত বিগত এক দশকে ব্রুনাইয়ের সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার বিকালে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠন, ব্রুনাই ব্যবসায়ী সংগঠন ও ব্রুনাই ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। পরে প্রধানমন্ত্রী জামে আসর মসজিদ পরিদর্শন করবেন এবং সেখানে আসরের নামাজ আদায় করবেন। প্রধানমন্ত্রী ইস্তানা নুরুল ইমান প্রাসাদে ব্রুনাই সুলতানের রাজকীয় ভোজসভায় যোগ দেবেন। মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জালান কেবাংসানে বাংলাদেশ হাইকমিশনের নতুন চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরপর তিনি ব্রুনাইয়ের রাজধানী বন্দর সেরি বেগওয়ানের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রয়্যাল রেজালিয়া জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। মঙ্গলবার বিকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ বিমানযোগে ব্রুনাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়ার সময়সূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢালে জাবেদ, চেপে ধরেন মনি
২১এপ্রিল,রবিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন ঢালেন তার সহপাঠী জাবেদ হোসেন। আর জাবেদকে সহযোগিতায় নুসরাতকে চেপে ধরেন আরেক সহপাঠী কামরুন্নাহার মনি। নুসরাত হত্যায় তাদের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবাবন্দি দিয়েছেন কামরুন্নাহার মনি ও জাবেদ হোসেন। শনিবার বিকালে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমদের আদালতে তাদের হাজির করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। কয়েক ঘণ্টার জবানবন্দি রেকর্ডের পর রাত ১০টার দিকে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পিবিআই এর চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল। তিনি বলেন, আদালতে এ দু জন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে তারা নুসরাত কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত ছিলেন। নুসরাতের সারা শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেন জাবেদ। আর নুসরাতের শরীরে ভালোভাবে কেরোসিন লাগাতে ও আগুন দেয়ার জন্য তাকে চেপে ধরেন মনি। তাদের এ জবানবন্দিতে নতুন কিছু নামও উঠে এসেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তা উল্লেখ করেনি পিবিআই। গত ১৫ এপ্রিল কামরুন্নাহার মনিকে সোনাগাজী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৭ এপ্রিল আদালত তাকে সাতদিনের রিমান্ডে পাঠায়। শুক্রবার মনিকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় পিবিআই। সে সময় মনি কীভাবে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে তার বর্ণনা দেন। অপরদিকে, জাবেদকে ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন থেকে তাকে সাতদিনের রিমান্ড দেন আদালত। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বিকালে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালত আবার জাবেদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। নুসরাত হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত এজহারভুক্ত আটজনসহ মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সাতজন। ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে পাঁচদিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করেছে এমন সংবাদ দিলে সে ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যায়। সেখানে মুখোশপরা ৪/৫ জন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। সে অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুবৃত্তরা। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফেনীর সোনগাজী উপজেলার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান।-ইউএনবি
নুসরাত হত্যায় ব্যবহৃত বোরকা খাল থেকে উদ্ধার
২০এপ্রিল,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার মেধাবী ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় আসামিদের পরিহিত বোরকা উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শনিবার (২০ এপ্রিল) সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রার অদূরে কাশমির বাজার সংলগ্ন ডাঙ্গি খাল থেকে বোরকাগুলো উদ্ধার করা হয়। এর আগে, এ হত্যা মামলায় গ্রেফতার নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানা যায় বোরকা পরে কিলিং মিশনে পাঁচজন অংশ গ্রহণ করেছিলেন। পিবিআইর পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, আসামিদের পরিহিত উদ্ধার হওয়া বোরকাগুলো এ হত্যা মামলার অন্যতম আলামত।প্রসঙ্গত, ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করেছে, এমন সংবাদ দিলে সে (নুসরাত) ওই ভবনের তৃতীয় তলায় যায়। সেখানে মুখোশপরা ৪/৫ জন ছাত্রী নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তারা নুসরাতের গায়ে কোরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল (সোমবার) রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নামোল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত এজহারের আটজন গ্রেফতারসহ মোট ১৮ জনকে আটক করা হয়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন চারজন। ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকেও আটক করেছে পিবিআই। রুহুল আমিন নুসরাতের প্রতিষ্ঠান সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি। এই কমিটি অবশ্য শুক্রবারই বাতিল হয়ে গেছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ৪২ জনের নাম অনুমোদন দিলেন শেখ হাসিনা
২০এপ্রিল,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: এক বছর হয়ে গেছে ছাত্রলীগের এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয় সাধারণত সর্বনিম্ন ২৭১ জন থেকে সর্বোচ্চ ৩০১ জনের। শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ৪২ জনের নাম চূড়ান্ত করেছেন। এই ৪২ জনের নাম যেকোনো সময় ঘোষণা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এটা অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী তিনদিনের সফরে ব্রুনেই যাচ্ছেন। তিনি সেখান থেকে দেশে ফেরার পর বাকি নামগুলো নিয়ে কাজ করবেন বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। ছাত্রলীগের দুই দিনব্যাপী সম্মেলন হয় ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে। এর প্রায় দেড় মাস পর গত বছর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ওই দিন গণভবন থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাদের নাম ঘোষণা করেন। একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগরীর দুটি ইউনিটের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। তারপর প্রায় এক বছর হতে চললেও ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি করতে পারেনি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। সর্বশেষ গত সোমবার আওয়ামী লীগের চার কেন্দ্রীয় নেতাকে গণভবনে ডেকে রোববারের মধ্যে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার নির্দেশ দেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ওই কেন্দ্রীয় নেতারা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা শোভন ও রাব্বানীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পৌঁছে দেন। গত বৃহস্পতিবার শোভন ও রাব্বানীকে গণভবনে ডেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি আবার একই নির্দেশ দেন। আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এসব তথ্য জানান। তারা আরো জানান, শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলেও গত দুই দিন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক টানা বৈঠক করেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেননি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৪২ জনের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। অবশ্য এ ৪২ জনের নামের তালিকা আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডই ঠিক করে দিয়েছে। ওই ৪২ জনের নামের তালিকা আমাদের হাতে এসেছে। তারা হলেন- গোপালগঞ্জের সায়েম খান, বরিশালের শেখ ওয়ালী অসিদ ইনান, ভোলার ইয়াজ আল রিয়াদ, কিশোরগঞ্জের ইশাত তাসমিয়া ইরা, টাঙ্গাইলের মেহেদী হাসান রনি, বগুড়ার রাকিব হাসান রাকিব, গাজীপুরের রাকিব আহমেদ রাসেল, বরিশালের আল নাহিয়ান খান জয়, ময়মনসিংহের মো. সোহান খান, গোপালগঞ্জের আমিনুল ইসলাম বুলবুল, মাগুরার শাওকতুল হাসান সৈকত, গাইবান্ধার আল মামুন, ফরিদপুরের মো. রনি, নওগাঁর আপেল মাহমুদ, বরিশালের সোলায়মান ইসলাম মুন্না, পিরোজপুরের মামুন বিন সত্তার, ফরিদপুরের বিদ্যুৎ শাহরিয়ার কবির, সুনামগঞ্জের মাহবুব খান, মুন্সীগঞ্জের সারমিন ইতি, বরগুনার আরিফুজ্জামান ইমরান, ঝালকাঠির ইমরান জমাদ্দার, মাগুরার বেনজীর হোসেন নিশি, কুষ্টিয়ার রকিবুল ইসলাম বাঁধন, শরীয়তপুরের ফুয়াদ হোসেন শাহদাত, পিরোজপুরের বরকত হোসেন হাওলাদার, পাবনার আবু সাইদ কনক, রংপুরের হায়দার হোসেন জিতু, নোয়াখালীর খাজা যোয়ের সুজন, কিশোরগঞ্জের মোবারক হোসেন, বরিশালের খাদিমুল বাশার জয়, বুয়েটের শুভ্র জ্যোতি শিকদার, ময়মনসিংহের মিয়া মোহাম্মদ রুবেল, মাসুদ লিবন, রাজশাহীর শ্রাবণী শায়লা, নাহিদ হাসান শাহিন, গোপালগঞ্জের মহিউদ্দিন, শরীয়তপুরের শাহাদাত হোসেন, ইসরাত সাদিয়া খান মিলি, মাহমুদুল রহমান মিঠু, তামান্না তাসনিম তমা, আসিকুর রহমান রাজীব ও পরশ রহমান। তাদের নাম চূড়ান্ত হলেও কাকে কোন পদ দেওয়া হবে তা নিশ্চিত হয়নি। তাদের বেশিরভাগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। অল্পসংখ্যক অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের। দুই বছর মেয়াদি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ২৭১ বা ৩০১ যত সদস্যেরই হোক না কেন, এই ৪২ জন ছাড়া বাকি কারো নামই চূড়ান্ত করতে পারেননি ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের দুই সদস্য ও ছাত্রলীগের দুই নেতা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলেও ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে অমিল থাকার কারণে তা হচ্ছে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান নিয়ে যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে শেখ হাসিনা দ্রুত ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ওই নির্দেশ দেন। এ প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, সভাপতি কারো নাম প্রস্তাব করলে মানছেন না সাধারণ সম্পাদক। আবার সাধারণ সম্পাদক কারও নাম প্রস্তাব করলে তা মানছেন না সভাপতি। এ অবস্থায় কমিটি ঘোষণা করতে আরো কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা বলেন, শোভনের পক্ষ থেকে কিছু নাম চূড়ান্ত করা হয়ে গেছে। কিন্তু রাব্বানীর পক্ষ থেকে নামগুলো মেনে নেওয়া হচ্ছে না এবং রাব্বানী চূড়ান্ত করে কারও নামও দিচ্ছেন না। ফলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশমতো দ্রুত সময়ে কমিটি হচ্ছে না। ছাত্রলীগের সাবেক ওই নেতা আরও বলেন, রাব্বানীর অসহযোগিতা থাকলে শোভন তার মতো করে একটি নামের তালিকা শেখ হাসিনার কাছে জমা দিয়ে আসবেন। পরে শেখ হাসিনাই নেবেন সিদ্ধান্ত। এ প্রসঙ্গে জানতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাব্বানীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন বলেন, আমরা চেষ্টা করছি দুয়েক দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে। যদি না পারি সে ক্ষেত্রে এ মাসে অবশ্যই কমিটি ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো অমিল নেই।
নুসরাত হত্যাকাণ্ডে অর্থ লেনদেনে কয়েকজন জড়িত
২০এপ্রিল,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকাণ্ডে অর্থ লেনদেনের বেশ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানায় সংস্থাটি। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত সংবাদ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। হত্যাকাণ্ড ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কিংবা ঘটনা ধামাচাপা দিতে কোনো অবৈধ লেনদেন হয়েছে কিনা কিংবা কে বা কারা এসব লেনদেনের সঙ্গে জড়িত সেসব খুঁজে করতে কাজ শুরু করছে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট। সিআইডির সিনিয়র সহকারী বিশেষ পুলিশ সুপার শারমিন জাহান এ তদন্ত শুরুর বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিমের আরবি পরীক্ষা প্রথম পত্র দিতে গেলে মাদরাসায় দুর্বৃত্তরা গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ দিন পর ১০ এপ্রিল রাতে মারা যায়। পরদিন ১১ এপ্রিল বিকেলে তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো চার-পাঁচজনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ৩৬,৭৪৬টি পদ শূন্য: প্রতিমন্ত্রী
২০এপ্রিল,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রশাসনকে আরও গতিশীল করতে সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ৩৬,৭৪৬টি শূন্য পদ পূরণের ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি। শূন্যপদ কবে পূরণ হবে জানতে চাইলে ফরহাদ বলেন, শূন্য পদ পূরণের জন্য আমাদের কাছে মন্ত্রণালয়ের আবেদন আসলে আমরা সাথে সাথে সেগুলো অনুমোদন করে দেব। আশা করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শূন্য পদ পূরণ করতে পারবো। জনপ্রশাসনে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন,নিম্ন আয়ের অবস্থা থেকে দেশকে মধ্যম আয়ের দিকে উন্নীত করতে আমরা প্রশাসনে গতিশীল আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। দেশ ও প্রশাসনকে আরও গতিশীল করতে সকল শূন্য পদ পূরণের জন্য যা যা করা দরকার আমরা তা করবো। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে অনেক সময় হয়রানি করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন,জনমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তোলার জন্য আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। জনগণকে খুব দ্রুত সেবা দিতে আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত পাঁচ বছর আমি যখন সংসদ সদস্য ছিলাম, তখন আমি নিজেই দেখেছি ও অনুভব করেছি যে আসলে অনেক সাধারণ মানুষ অফিসে যেতে চান না। গেলেও হয়তো প্রাপ্য সম্মানটুকু তারা পায় না। অথচ জনপ্রতিনিধিদের কাছে মানুষ খুব সহজে আসতে পারেন। এই ক্ষেত্রে আমাদের বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে। আমাদের প্রশাসনকে জনমুখী ও কল্যাণমুখী করতে হবে। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা ১০ বছর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। আমি সেই নীতি মেনেই কাজ করছি। তিনি স্মরণ করেন, বঙ্গবন্ধু বলেছেন, যারা সেবা নিতে আসে তারা আমাদের ভাই বোন, আমাদের আত্মীয় স্বজন, তাদেরকে প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে হবে। আমরা ব্যাপকভাবে এ লক্ষ্য পূরণে কাজ করছি। আশা করছি জনসেবার মান বাড়াতে পারবো, যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী। জনপ্রশাসনকে অত্যন্ত জনবান্ধব গড়ে তোলা হবে জানিয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন,আগামী দিনে জনপ্রশাসনের প্রকৃতি হবে অত্যন্ত আন্তর্জাতিক মানের। অতি সাধারণ মানুষের জন্য তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। হাসিমুখে তারা তাদের কর্মকর্তাদেরকে গ্রহণ করতে পারবে। এজন্য কর্মকর্তাদেরকে কর্মদক্ষ করে উপযুক্তভাবে গড়ে তোলা হবে। আমরা এ কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো। তিনি আরও বলেন, মাঠ প্রশাসনে অতি সাধারণ মানুষ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদের কাছে সহযোগিতার জন্য আসেন। গরিব মানুষ যেন হাসি মুখে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিতে পারেন, সে জায়গাটি আমরা নিশ্চিত করতে চাই। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে মাঠ প্রশাসনকে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি প্রতি সপ্তাহে একদিন মানুষের দুঃখ-কষ্ট শোনার জন্য হেয়ারিং ব্যবস্থা করা। প্রত্যেকটি বিভাগের ভেতর জেলা প্রশাসকের অধীনে সমন্বয়ভাবে কাজ তৈরি করে মানুষের কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা। প্রশাসনকে মানুষের শেষ ভরসার জায়গা, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য জায়গায় পরিণত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কর্মকর্তাদের লক্ষ্য স্থির করতে আমার অনেক কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। তাদের সাথে বসার চেষ্টা করছি এবং বোঝানোর চেষ্টা করছি। মনে রাখতে হবে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ, জনগণের সেবক হিসেবে আমাদের কাজ করতে হবে, যোগ করেন তিনি। ফরহাদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সুশাসন নিশ্চিত করতে চাই। সুশাসন বলতে মানুষকে প্রাপ্য সম্মানটুকু দেয়া, জনগণের সেবক হিসেবে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান করা। মানুষের সেবায় আমি কাজ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবো, বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।-ইউএনবি

জাতীয় পাতার আরো খবর