রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২০
বঙ্গমাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক সহযোদ্ধা: ওবায়দুল কাদের
০৯আগস্ট,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। গতকাল বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংসদ ভবন এলাকায় সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন তিনি। সকাল ৯টায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ওবায়দুল কাদের। শ্রদ্ধা জানানো শেষে মোনাজাত, মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে শুধু বাঙালির জাতির পিতা আর বাংলাদেশের স্রষ্টাই হননি, তিনি হয়ে উঠেছিলেন একজন বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক। আর এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তারই সহধর্মিণী ও বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সহযোদ্ধা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তিনি বলেন, বঙ্গমাতা বেগম মুজিবের সঙ্গে বিশ্বের আরেক খ্যাতিমান নারী এলিনর রুজভেল্টের অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। এলিনর রুজভেল্ট যুক্তরাষ্ট্রের চারবার নির্বাচিত ও দীর্ঘকালীন সময়ের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের স্ত্রী। বেগম মুজিব আর এলিনর রুজভেল্ট দুজনই শৈশবে তাদের বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন, দুজনই তাদের চাচাতো ভাইকে বিয়ে করেছিলেন আর দুজনই তাদের স্বামীর রাজনীতিতে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে তাদের দুজনের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব একটা রাষ্ট্রের স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ অবদান রেখেছিলেন, আর এলিনর রুজভেল্টে তা হয়নি। মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক অর্থাৎ ৭ মার্চের ভাষণের আগ মুহূর্তে বঙ্গমাতাই জাতির পিতাকে চূড়ান্ত অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। জাতির পিতার আমৃত্যু সঙ্গী মহীয়সী নারী, দেশের স্বাধীনতাসহ সব গৌরব অর্জনের নেপথ্য প্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা মুজিব। প্রসঙ্গত, ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তার ডাক নাম রেনু। তার বাবা শেখ জহুরুল হক ও মা হোসনে আরা বেগম। তবে মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি বাবা ও পাঁচ বছর বয়সে মাকে হারান। দাদা শেখ কাসেম কিশোরী বয়সেই শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বেগম ফজিলাতুন্নেছার বিবাহ দেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে নিহত হন তিনি।
বঙ্গবন্ধুর প্যারোলে মুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বঙ্গমাতা রাজনৈতিক ইতিহাস বদলে দিয়েছেন
০৮আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তাঁর মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতির যে কোনও কঠিন সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, তাঁর (বঙ্গমাতার) বঙ্গবন্ধুর প্যারোলে মুক্তি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারা বদলে দিয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমার মায়ের অবদান সম্পর্কে সবচেয়ে আকাঙ্খিত বিষয়টি হল আমার মা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে, আমি দুঃখের সাথে বলছি, অনেক বড় নেতাই তা করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন বা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম পাকিস্তানে গোলটেবিল আলোচনায় যোগ দেয়ার জন্য প্যারোলে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির প্রস্তাব দেয়া হলে জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তা প্রত্যাখ্যান করে তিনি (বঙ্গমাতা) সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, এই সঠিক ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত আইয়ুব খানকে (আগরতলা ষড়যন্ত্র) মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছিল এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পথও বদলে দিয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, তিনি (বঙ্গমাতা) দলকে যোগ্যতার সাথে পরিচালনা করতেন (বিশেষত বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকাকালীন) এবং সঠিক সিদ্ধান্ত দিতেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ্য কন্যা শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে গণভবন থেকে যোগদান করেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গোপালগঞ্জ থেকে অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা সংযুক্ত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, পাকিস্তানী সামরিক জান্তা বঙ্গমাতাকেও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল। যে কারণে তাঁকে (বঙ্গমাতাকে) বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। তিনি বলেন, বঙ্গমাতা জানতেন এবং তাঁর বড় মেয়ে হিসেবে আমিও বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছিলাম। কিন্তু তিনি কখনও মনোবল হারাননি। তিনি আরো বলেন, জাতির পিতাকে প্যারোলে মুক্তি দিলে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বাকী আসামীদের কি হবে সেটা সব সময়ই বঙ্গমাতার চিন্তায় ছিল, কেননা ৩৫ জন আসামীর মধ্যে সার্জেন্ট জহুরুল হককে কারাগারেই হত্যা করেছিল পাকিস্তানী সামরিক জান্তা। এ সময় জাতির ক্রান্তিলগ্নে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ প্রদানের সময়ও বঙ্গবমাতা যে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন তার উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি কোন লিখিত ভাষণ ছিল না বা এজন্য বঙ্গবন্ধু কোন রিহার্সেলও করেননি। ভাষণ দিতে যাওয়ার আগে বঙ্গবন্ধুকে একটি কক্ষে খানিকটা বিশ্রামের সুযোগ করে দিয়ে বঙ্গমাতা তাঁকে একান্তে যে কথা বলেন, সে সময়ে সে কক্ষে উপস্থিত পরিবারের অপর সদস্য শেখ হাসিনা সে কথাও ভাষণে তুলে করেন। বঙ্গমাতা বলেছিলেন,তুমি বাংলার মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছ কাজেই তুমি জান কি বলতে হবে। তোমার মনে যা আসে তাই বলবে, কারো কথা শোনার দরকার নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জাতির পিতার ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসেবে ইউনেস্কো কতৃর্ক বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে তাঁর স্থান করে নিয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বঙ্গমাতার অবদান স্মরণ করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলনে বঙ্গমাতার বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল যেখানে সে সময়কার অনেক বড় বড় নেতারাও বিভ্রান্তিতে পড়ে গিয়েছিলেন। শিশু একাডেমি প্রান্ত থেকে বঙ্গমাতার জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এবং সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে একশ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ল্যাপটপ, দরিদ্র, অসহায় নারীদের মধ্যে ৩২শ সেলাই মেশিন এবং ১৩শ দরিদ্র নারীকে নগদ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা করে প্রদান করেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তন প্রান্ত থেকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তারও বক্তৃতা করেন। গণভবন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। এছাড়া অনুষ্ঠানে সংযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতার জীবন ও কর্মের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি ভিডিও চিত্রও প্রদর্শিত হয়। ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জাতির পিতার সহধর্মিনী এবং শেখ হাসিনার মা বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের নির্মম বুলেটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ সপরিবারের নিহত তিনি। বঙ্গমাতার সংগ্রাম ও ত্যাগের কিছু খন্ড চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ত্যাগের মধ্যে দিয়ে একটা সংসারকে সুন্দর করা যায়, একটা প্রতিষ্ঠানকে সুন্দর করা যায়, একটা দেশকে সুন্দর করা যায়। তিনি বলেন, আব্বার যে আর্দশ, সেই আর্দশটা তিনি খুব সঠিক ভাবে তিনি ধারণ করেছিলেন। আর সেটা ধারন করেই তিনি নিজের জীবনটাকে উৎসর্গ করে দিয়ে গেছেন। চাওয়া-পাওয়ার উর্ধ্বে উঠে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার চেয়ে বড় আর কিছু হয় না। আমার মা সেই দৃষ্টান্তই দেখিয়ে গেছেন, যোগ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, মহীয়সী নারী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন যোগ্য ও বিশ্বস্ত সহচর এবং বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সহযোদ্ধা। বঙ্গমাতা অসাধারণ বুদ্ধি, সাহস, মনোবল, সর্বসংহা ও দূরদর্শিতার অধিকারী ছিলেন এবং আমৃত্যু দেশ ও জাতি গঠনে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, আজকে বঙ্গমাতার জন্মদিন। সেই জন্মের পর ৩ বছর থেকেই পিতা মাতা সব হারিয়ে সারাটা জীবন শুধু সংগ্রামই করে গেছেন। কষ্টই করে গেছেন। কিন্তু এই দেশের স্বাধীনতা, এই স্বাধীনতার জন্য তিনি যে কত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন সেটা আমরা জানি। সংসার সামলে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে তার সহধর্মিনী সহযোগিতা করতেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কাজে আমার মাকেও দেখেছি বাবার পাশে থেকে থেকে সহযোগিতা করেছেন। কখনো সংসারের কোন সমস্যা নিয়ে বিরক্ত করেননি বা বলেনও নি। তিনি বলেন, বেশির ভাগ সময়ই তো আমার বাবা কারাগারে ছিলেন। একটানা দুই বছরও তিনি কারাগারের বাইরে থাকেন নি। কিন্তু আমার মা যখন কারাগারে দেখা করতে যেতেন তখন মা নিজেই বলতেন, চিন্তার কিছু নেই। সব কিছু তিনি নিজেই দেখতেন । আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমাদের মানুষ করার দায়িত্ব আমার মায়ের হাতেই ছিল। তার পাশাপাশি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ প্রতিটি সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। নির্দেশনা দেওয়া বা বাইরের অবস্থা জেলখানায় থাকা আব্বাকে জানানো, বাবার নির্দেশনা নিয়ে এসে সেগুলো পৌঁছে দেওয়া। এই কাজগুলো তিনি খুব দক্ষতার সঙ্গে করতেন। বঙ্গমাতার মধ্যে কোন অহমিকা বোধ ছিল না, উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা যখন প্রধানমন্ত্রী হয়ে ফিরে এলেন তখনও কিন্তু আমার মায়ের মধ্যে এই অহমিকা বোধ কখনো ছিল না এবং তিনি কখনো সরকারি বাস ভবনে বসবাস করেননি। কাজের জন্য আমার বাবা সকালে চলে আসতেন, বাড়ি থেকে নাস্তা করে চলে আসতেন। আবার দুপুরে আমার মা নিজের হাতে রান্না করে টিফিন ক্যারিয়ারে করে খাবার পাঠিয়ে দিতেন। রান্নাটা সব সময় নিজের হাতে করতেন। তিনি যে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী পাকের ঘরে গিয়ে রান্না করবেন সেই সমস্ত চিন্তা তার কখনো ছিল না, বলেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের মায়ের হাতের রান্না সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার মায়ের হাতের রান্না খুবই সুস্বাধু ছিল। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা শিক্ষা পেয়েছি বাবা-মায়ের কাছ থেকে মাটির দিকে তাকিয়ে চলার। অন্তত তোমার চেয়ে খারাপ অবস্থায় কে আছে তাকে দেখো। উপরের দিকে না, তোমার চেয়ে কে ভালো আছে সেটা তোমার চেয়ে খারাপ যারা আছে তাদের দিকে দেখো এবং সেটাই উপলব্ধি করো। কখনো নিজের দৈন্যতার কথা বলতেন না। কখনো কোন চাহিদা ছিল না। নিজে কোন দিন কিছু চাননি। সব সময় তিনি দিয়ে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন তাঁর মা গণভবনে বা সরকারি বাস ভবনে না থাকার কারণ সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি বলতেন (বঙ্গমাতা) আমার ছেলে মেয়েকে নিয়ে সরকারি বাস ভবন বা শানশওকতে থাকবো না। তারা বিলাসী জীবনে অভ্যস্থ হোক সেটা আমি চাই না। প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, বিলাসিতায় আমরা যেন গা না ভাসাই সেটার ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। তিনি সব সময় আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছেন। বঙ্গমাতার দৃঢ়চেতা মনভাবের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায় স্মরণ করেন। তিনি বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট বেগম ফজিলতুন নেছা মুজিব খুনিদের কাছে জীবন ভিক্ষা চাননি। নিজেও বাঁচতে চাননি। তিনি সাহসের সঙ্গে একথাই বলেছেন-আমার স্বামীকে হত্যা করেছো, আমি তাঁর কাছেই যাব। শেখ হাসিনা বলেন, সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। কাজেই জীবনে-মরণে তিনি আমার বাবার একজন উপযুক্ত সাথী হিসেবেই চলে গেছেন।
আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর ছায়াসঙ্গী বঙ্গমাতা বাঙালির সব সংগ্রামে অবদান রেখে গেছেন : তথ্যমন্ত্রী
০৮আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুকে ছায়ার মতো অনুসরণ করেছেন, সেরা পরামর্শ দিয়েছেন এবং বাঙালির সকল সংগ্রাম ও সফলতায় তার অবদান মিশে আছে। তিনি আজ দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতির পিতার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কৃষক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। বক্তব্যের শুরুতেই জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গমাতাকে ও একইসাথে শোকের মাস আগস্টে নিহত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ড. হাছান বলেন, আজ এমন এক মহিয়সী নারীর জন্মদিন, যিনি শুধু বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী নন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জননী নন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে জাতির প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামের বাঁকে বাঁকে নিরবে-নিভৃতে প্রচারবিমুখ হয়ে যিনি অবদান রেখেছেন, জাতিকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সন্ধিক্ষণে পৌঁছে স্বাধীনতা অর্জনে তার ভূমিকা কোনোদিন জনসম্মুখে প্রকাশ করেননি, তারই জন্মদিন আজ। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার দীর্ঘ সংগ্রামে, দুর্যোগে অনেক নেতা অনেক সময় ভোল পাল্টেছে, পিছু হটেছে, ক্ষমতাসীনদের সাথে হাত মিলিয়েছে, ঠিক পরামর্শ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, আর সেই সময় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সবচেয়ে ভালো পরামর্শ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর পাশে হাজির হয়েছেন, বলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাঙালি ও বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস যেমন একে অপরের কথা ছাড়া লেখা যায় না, তেমনি বাঙালির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা লিখতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কথা অবিচ্ছেদ্যভাবেই এসে যায়। ড. হাছান বলেন, বঙ্গমাতার মতো একজন অসম সাহসী, ধৈর্যশীল, সৎ পরামর্শদাতা স্ত্রী পাশে থাকার কারণেই বঙ্গবন্ধুর পক্ষে জীবনকে হাতের মুঠোয় নিয়ে, বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জাতির জন্য লড়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে আমার ধারণা। তিনি বলেন, জাতির জন্য উৎসর্গীকৃত জীবনে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে একনাগাড়ে সংসারধর্ম পালন করা হয়ে ওঠেনি। বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকার সময়গুলোতে বঙ্গমাতাই পরম যতও বিচক্ষণতায় সংসার ও দল উভয়ই আগলে রেখেছেন। জাতির ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, তখন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৪ শতাংশ, যা আবার অর্জন করতে আমাদের ৪০ বছর লেগেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা অর্জিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কৃষিনীতিতে ১৯৭৫ সালে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে ১০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য অতিরিক্ত ছিলো। অর্থাৎ, বঙ্গবন্ধুকে তখনই হত্যা করা হয়, যখন তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে সফলভাবে পুণর্গঠন করছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে দেশ আজ উন্নয়নে মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যেতো। বঙ্গবন্ধু তার স্বপ্নপূরণ করে যেতে পারেননি, কিন্তু তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার ধমনী-শিরায় শেখ মুজিবের রক্ত প্রবাহিত, যার কন্ঠে বঙ্গবন্ধুর কন্ঠের প্রতিধ্বনি, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ জানান, গত ১১ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। হাছান মাহমুদ বলেন, নানা বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করে করোনা মোকাবিলায় গত পাঁচ মাসে একজন মানুষও অনাহারে মৃত্যুবরণ করেনি, করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহারও বিশ্বে অন্যতম সর্বনিম্ন। বিএনপি নেতাদের মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে ঘরে বসে টিভি আর অনলাইনে উঁকি দিয়ে সমালোচনা বাদ দিয়ে আর ভুল ধরা পার্টির লোকের মতো টক শোতে টিভির পর্দা ফাটিয়ে ফেলা পরিহার করে সবার সাথে দেশ গড়ায় অংশ নেয়ার আহবান জানান ড. হাছান মাহমুদ। সভা শেষে বঙ্গমাতা ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকল সদস্য, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়।
দেশে করোনায় আরও ৩২ মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১১
০৮আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ৩৬৫ জনের। নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৬১১ জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৫৫ হাজার ১১৩ জনে। শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গ বিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ২০ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ৬০৪ জন। তিনি আরও জানান, সারাদেশে সরকারি-বেসকারি ব্যবস্থাপনায় ৮৪টি ল্যাব চালু আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১১ হাজার ৫৩০টি। আগের নমুনাসহ মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ হাজার ৭৩৭টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬০টি। নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩২ জনের মধ্যে ২৫ জন পুরুষ ও নারী সাতজন। এদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিভাগে ১৬ জন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে চারজন করে আটজন, খুলনা বিভাগে পাঁচজন, সিলেট বিভাগে দুইজন, বরিশাল বিভাগে একজন রয়েছেন। এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩১ জন, বাড়িতে একজন। মৃত্যুদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১-৯০ বছরের মধ্যে এক জন, ৭১-৮০ বছরের মধ্যে চার জন, ৬১-৭০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৫১-৬০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে চার জন, ২১-৩০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৮৬৪ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪৯০ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ৫৬ হাজার ৩৯ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন ৩৭ হাজার ১৪ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৯ হাজার ২৫ জন।
গুলির পর লিয়াকতকে মিথ্যা শিখিয়ে দেন এসপি মাসুদ
০৮আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হওয়ার পর গুলি ছোড়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেনকে ফোন করেন। এ সময় এসপি মাসুদ হোসেন গুলিবর্ষণকারী পরিদর্শক লিয়াকতকে মিথ্যা বক্তব্য শিখিয়ে দেন। ওসি প্রদীপ কুমার এসপিকে জানান তার নির্দেশ পেয়েই লিয়াকত আলী সিনহাকে গুলি করেন। এ কথোপকথনের মধ্য দিয়ে সিনহা হত্যাকা- ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপতৎপরতা চালিয়েছিলেন এসপি, সেটি নতুন করে সামনে এলো। ঘটনার পরদিনও তিনি আত্মরক্ষার্থে পুলিশের গুলি, সিনহাকে সন্দেহভাজন ডাকাত ও মাদক জব্দের ভুয়া গল্প গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। এ ঘটনায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত চলমান অবস্থায় এখনো এসপি মাসুদ হোসেন স্বপদে বহাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। ওই রাতে তাদের পুরো কথোপকথনটি তুলে ধরা হলো। ওসি প্রদীপ : লিয়াকতরে গুলি করছে নাকি স্যার, আমি যাচ্ছি ওখানে। এসপি মাসুদ : হ্যাঁ। ওসি প্রদীপ : চেকপোস্টে একটা গাড়িকে সিগন্যাল দিছে, সিগন্যাল দেওয়ায় গাড়ি থেকে তাকে পিস্তল দিয়ে গুলি করছে। ওই সময় আমি তাকে বললাম, ঠিক আছে তুমিও তাড়াতাড়ি ওকে গুলি করো। সেও নাকি তাকে গুলি করেছে স্যার, আমি যাচ্ছি স্যার ওখানে, স্যার। এসপি মাসুদ : যান যান। তবে ওসি প্রদীপের বক্তব্যের সঙ্গে গুলিবর্ষণকারী পরিদর্শক লিয়াকত আলীর বক্তব্যের মিল নেই। এই তিন পুলিশ কর্মকর্তার কথোপকথনের কোথাও মাদকের উল্লেখ নেই। এখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে সিনহার কাছে মাদক এলো কীভাবে? এসপি মাসুদ : হ্যালো। পরিদর্শক লিয়াকত : আসসালামু আলাইকুম স্যার। স্যার ওখানে একটা প্রাইভেটকার, ঢাকা মেট্রো লেখা। আর্মির পোশাক-টোশাক পরা। সে ওই বোরকা খুলে ফেলছে। পরে যখন তাকে চার্জ করছি, সে মেজর পরিচয় দিয়ে গাড়িতে চলে যেতে চাইছিল। পরে অস্ত্র তাক করছিল, আমি গুলি করছি স্যার। একজনকে ডাউন করছি, আরেকজন ধরে ফেলছি স্যার। স্যার, আমি কী করব স্যার? আমাকে পিস্তল তাক করছে, পিস্তল পাইছি তো স্যার। এবার এসপি মাসুদ হোসেন পরিদর্শক লিয়াকতের বক্তব্য পরিবর্তন করে তাকে মিথ্যা বয়ান শিখিয়ে দেন। এসপি মাসুদ : আচ্ছা ঠিক আছে। তোমারে গুলি করছে, তোমার গায়ে লাগে নাই। তুমি যে গুলি করছ সেডা তার গায়ে লাগছে। সিনহা গুলি করেছে বলে লিয়াকতকে বলতে শিখিয়ে দেন এসপি মাসুদ। এদিকে টেলিফোন কথোপকথনের বিষয়ে পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেনের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। এদিকে, সিনহা হত্যা মামলায় আগামীকাল রবিবারে ওসি প্রদীপসহ ৭ পুলিশ সদস্যকে রিমান্ডে নেবে Rab। Rab জানিয়েছে, মামলাটি স্পর্শকাতর হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন তারা, যেন আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার পর সময় নষ্ট না হয়। এ বিষয়ে Rab এর আইন গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ নিউজ একাত্তরকে বলেন, আমাদের কিছু প্রস্তুতি রয়েছে। সেগুলো শেষ করে আশা করছি রবিবার থেকে রিমান্ড শুরু হবে। গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের টেকনাফ থানার শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় সিনহার বড় বোন ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় গত বৃহস্পতিবার ওসি প্রদীপসহ ৭ পুলিশ সদস্যের ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন কক্সবাজার আদালত।
রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠাতে ট্রাম্পকে চিঠি প্রধানমন্ত্রীর
০৮আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এক শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জানিয়ে পাঠানো ফিরতি চিঠিতে রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি পুনরায় উল্লেখ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের একজন কানাডায় আছে এবং আরেকজন যুক্তরাষ্ট্রে আছে এবং তাদের ফেরত আনার জন্য যা যা করার দরকার সেটি করবো। মন্ত্রী বলেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চিঠি দিয়েছেন এবং আমরা আশা করছি আমরা সফল হবো। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রত্যাশা এই মুজিববর্ষে একজনকে আনা হয়েছে এবং আরেকজনকে যেন আনতে পারি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গত এপ্রিল মাসে একটি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান। যেখানে তিনি লিখেছেন, এ ধরনের নেতা পৃথিবীতে খুব কম দেখা যায় এবং এরপরে প্রধানমন্ত্রী ফিরতি চিঠি পাঠান। উল্লেখ্য, ২০০৪ এর ৩১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বোর্ড রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদন মঞ্জুর করলে এর বিরুদ্ধে আপিল করে ওই দেশের সরকার। ২০০৬ এর ২৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রানসিসকো অভিবাসন কোর্ট রাশেদ চৌধুরীর পক্ষে রায় দেয়। সূত্র : একুশে টিভি
বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের অন্যতম অগ্রদূত ছিলেন বঙ্গমাতা
০৮আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বাঙালির অহংকার, নারী সমাজের প্রেরণার উৎস। তিনি কেবল বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণীই ছিলেন না, ছিলেন বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের অন্যতম অগ্রদূতও। বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৩০ সালের ৮ আগস্ট গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন সাহসী ও দৃঢ়চেতা। যেকোনো পরিস্থিতি তিনি বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা দিয়ে মোকাবেলা করতেন। তিনি কেবল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণীই ছিলেন না, বাঙালির মুক্তিসংগ্রামেও তিনি ছিলেন অন্যতম অগ্রদূত। বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি এই মহীয়সী নারীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, এ বছর বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীতে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে 'বঙ্গমাতা ত্যাগ ও সুন্দরের সাহসী প্রতীক' যা মহীয়সী এ নারীর জীবন ও কর্মের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এবং যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি। মো. আবদুল হামিদ বলেন, দেশের স্বার্থে বঙ্গবন্ধুকে অসংখ্যবার কারাবরণ করতে হয়েছে। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব সেই কঠিন দিনগুলো স্বামীর পাশে থেকে দৃঢ়তার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। পরিবারের দেখাশোনার পাশাপাশি স্বামীর মুক্তির জন্য মামলা পরিচালনা, দলের সাংগঠনিক কাজে পরামর্শ ও সহযোগিতা দান সবই তাঁকে করতে হয়েছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের নেপথ্যেও ছিলেন বঙ্গমাতা। তাঁরই অনুপ্রেরণায় বঙ্গবন্ধু হৃদয় থেকে উৎসারিত যে অলিখিত ভাষণ প্রদান করেছিলেন তা ছিল স্বাধীনতার ডাক। দেশ ও জাতির জন্য অপরিসীম ত্যাগ, সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও বিচক্ষণতা তাঁকে বঙ্গমাতায় অভিষিক্ত করেছে। বঙ্গবন্ধু জেলে থাকাকালে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গমাতার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানে কারাবন্দি স্বামীর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে গভীর অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মাঝেও তিনি অসীম ধৈর্য, সাহস ও বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। আমাদের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, বঙ্গমাতা ছিলেন নির্লোভ, নিরহংকার ও পরোপকারী। পার্থিব বিত্ত-বৈভব বা ক্ষমতার জৌলুস কখনও তাঁকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পত্নী হয়েও তিনি সবসময় সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি সকলের সাথে ভালো ব্যবহার করতেন, গরিব-দুখীদের সাহায্য করতেন। তিনি ছিলেন আদর্শ বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি। রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে স্বামী-পুত্র-পুত্রবধূসহ নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে তিনি ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে নির্মমভাবে শহীদ হন। জাতির ইতিহাসে সে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। বঙ্গমাতা আমাদের মাঝে না থাকলেও তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ সবসময় আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীতে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।- কালের কন্ঠ অনলাইন
বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান
০৮আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। দিনটি জাতীয়ভাবে উদযাপন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গণভবন থেকে অনলাইন প্লাটফর্মে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন। অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেছেন। এদিকে, বেগম মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী এবং ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল- ৮ আগস্ট সকাল ১০টায় বনানী কবরস্থানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো বঙ্গমাতা শহীদ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্মদিনে শ্রদ্ধা অর্পণ, কোরান খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। একই দিনে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ ৩২নং ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মোমবাতি প্রজ্বলন করবে। ৯ আগস্ট ১৯ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ। উল্লেখ্য, ১৯৩০ সালের এদিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে তিনি জাতির পিতার হত্যাকারীদের হাতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নির্মমভাবে নিহত হন।
দিন যতই যাচ্ছে ডিজিটাল সেবায় আগ্রহ বাড়ছে
০৮আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার এই সময়ে দিন যতই যাচ্ছে ডিজিটাল সেবার প্রতি অনেকের আগ্রহ বাড়ছে। বাইরে না গিয়ে ঘরে বসেই ব্যাংকিং সেবা পেতে কন্টাক্টলেস লেনদেন, কন্টাক্টলেস শপিং করতে অনেকে উদ্যোগী হচ্ছেন। কল সেন্টারের পরিবর্তে চ্যাটবটের ব্যবহার, তথ্য জানতে বটের সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে এখন। ঘরে বসেই পরিচালনা করা যাচ্ছে অফিস। ডকুমেন্টেশন ও সইয়ের জন্য অফিসে না গিয়েও সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভেরিফাই করা যাচ্ছে। দিন দিন বাড়ছে ডিজিটাল রিচার্জ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষ ঝামেলা এড়ানোর জন্য এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ডিজিটাল সার্ভিসের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। তাই নতুন নতুন ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। এই সময়ে হোয়াটসঅ্যাপকে কাস্টমাইজ করে ব্যবহার করা যাচ্ছে। জুড়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে চ্যাটবট। করোনার এই সময়ে এসেছে কন্টাক্টলেস শপিংয়ের সুবিধা। ওটিটি (ওভার দ্য টপ) সেবা হোয়াটসঅ্যাপ দিচ্ছে চ্যাট ও ভিডিও কলের মাধ্যমে কেনাকাটার সুবিধা। স্যামসাং পণ্য কেনা যাচ্ছে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এজন্য প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ আইকনে ক্লিক করে আউটলেট ম্যানেজারের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। এরপর ভিডিও কলের (ভার্চুয়াল ট্যুর) মাধ্যমে পণ্য পছন্দ করে অর্ডার কনফার্ম করে দাম পরিশোধ করতে হবে। ক্রেতা ঘরে বসে পছন্দের পণ্যটি পেয়ে যাবেন। মোবাইল ফোন অপারেটর রবি ও এয়ারটেল তার গ্রাহকদের ঝামেলামুক্ত সেবা দিতে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট তৈরি করেছে। হোয়াটসঅ্যাপে প্রবেশ করে রবি বা এয়ারটেলবাজ লিখে সার্চ দিলে পাওয়া যাবে চ্যাটবট। গ্রাহকের কোনও প্রশ্ন বা কোয়েরি থাকলে এখানে লিখলে চ্যাটবট উত্তর দেবে। জানা গেছে, কল সেন্টারের ওপর থেকে চাপ কমাতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে গ্রাহককে কল-সেন্টারে ফোন করে যাতে ওয়েটিংয়ে থাকতে না হয় সেজন্য এই ব্যবস্থা। প্রসঙ্গত দেশে, হেয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩ কোটির বেশি। আর ভাইবারের ব্যবহারকারী দেড় কোটি। করোনা ভাইরাসের এই সময়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর হোয়াটসঅ্যাপ ও ভাইবারের সহযোগিতায় দেশের মানুষকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত তথ্য সরবরাহ করতে চালু করেছে চ্যাটবট তথা বট। এসব বট তৈরি করছে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান প্রেনিউর ল্যাব। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা আরিফ নিজামি বলেন, মানুষকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবা দিতে হলে এ ধরনের উদ্ভাবন আরও বেশি বেশি করতে হবে। সেবা গ্রহণকারীদের এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহী করতে পারলে সেবাদানও সহজ হয়ে যাবে। তিনি মনে করেন, করোনাকালে প্রযুক্তি অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এখন কোথাও ফোন না করে শুধু হাতের মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করে অনেক ধরনের সেবা পাওয়া সম্ভব। কেনাকাটা, খাবার অর্ডার দেওয়াতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। তিনি জানালেন তার প্রতিষ্ঠান থেকে বেশ কয়েকটি বট তৈরি করা হয়েছে। এই সময়ে ই-কমার্সে বড় বড় লেনদেনও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে প্রযুক্তি ব্যবহার করে। দামি দামি মোটরবাইক অনলাইনে বিক্রি করা এবং সেই ডিজিটাল লেনদেন সুরক্ষিত করার মতো ঘটনা এই ঈদেই ঘটেছে বলে জানা গেছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ব্র্যান্ডের দামি দামি কয়েকশত মোটরবাইক বিক্রি করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাসায় বসে অফিসে যাবতীয় কাজ করা যাচ্ছে এখন। বাসায় বসে কর্মীদের উপস্থিতি, কাজ ব্যবস্থাপনা, নোটিশ দেওয়া ইত্যাদি কাজও করা যাচ্ছে। এজন্য রয়েছে অফিস ডট এআই নামের প্রযুক্তি। কয়েকটি অফিস এই সময়ে এগুলো ব্যবহারও করছে। এই সময়ে ডিজিটাল ফরম্যাটে ডকুমেন্টেশন ও ডকুমেন্ট আদান প্রদানের হার বেড়েছে। ফলে সামনে চলে এসেছে ভেরিফিকেশনের বিষয়টি। আর এ ধরনের কাজের জন্য আছে ই-স্ট্যাম্প প্রযুক্তি। ডকুমেন্ট ভেরিফাই করা, সাইন করা ইত্যাদি ঘরে বসেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদন করা যাচ্ছে। করোনা টেস্টের রিপোর্ট যাতে কেউ পরিবর্তন করতে না পারে এজন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তা সুরক্ষিত রাখায় সম্ভব বলে জানান এর এই প্রযুক্তির ডেভেলপাররা। এছাড়া লকডাউনের শুরুতে মোবাইল আউলেট, রিচার্জের দোকান, খুচরা ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ থাকায় মোবাইলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রিচার্জের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। মোবাইল ফোন অপারেটর রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন এই তথ্য। বিকাশ, নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা, বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেও মোবাইলে রিচার্জের পরিমাণ বেড়েছে বলে জানা গেছে।- দেশ বিদেশ

জাতীয় পাতার আরো খবর