শনিবার, জানুয়ারী ২৩, ২০২১
দু-একদিনের মধ্যেই আরও ৫০ লাখ টিকা আসবে: পাপন
২৩,জানুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আগামী দু-একদিনের মধ্যেই দেশে আরও ৫০ লাখ করোনা টিকা আসবে বলে জানিয়েছেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন। শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ইকবাল রোডে উদয়াচল পার্কের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তির তিন কোটি করোনা টিকা আমদানির চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ২১ জানুয়ারি ভারত সরকার বাংলাদেশকে ২০ লাখ করোনার টিকা উপহার দিয়েছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই চুক্তির প্রথম চালান ৫০ লাখ টিকা বাংলাদেশে আসবে।
মুক্তিযোদ্ধা তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের তারিখ ফের পেছালো
২৩,জানুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের প্রতি উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাইয়ের শুনানি ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পৌরসভা নির্বাচনের কারণে সেটা পেছানো হয়েছে। নতুন তারিখ আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। এর আগে যাচাই-বাছাই কাজ ১৯ ডিসেম্বর হওয়ার কথা ছিল। পরে তা পরিবর্তন করে করা হয়েছিল ৯ জানুয়ারি। এরপর ৩০ জানুয়ারি। এখন ৯ জানুয়ারি তারিখও পরিবর্তন করা হলো। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মহাপরিচালক জহরুল ইসলাম রোহেল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০০২ এর ৭ (ক) ধারা এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে সুপারিশবিহীনভাবে প্রকাশিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটসমূহকে নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে যাচাই-বাছাই এর জন্য নির্ধারিত তারিখ ছিল আগামী ৩০ জানুয়ারি। কিন্তু ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই এর দিন দেশের কোনো কোনো স্থানে পৌরসভা নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় নির্বাচনী উপজেলায় যাচাই-বাছাই কার্যক্রম আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তারিখ অনুষ্ঠিত হবে। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, যেসব এলাকায় কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না, সেসব স্থানে নির্ধারিত এক বা একাধিক তারিখে উক্ত যাচাই-বাছাই কার্যক্রম যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের জারি করা এ সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণযোগ্য হবে। উল্লেখ্য, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) অনুমোদন ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকাশিত বেসামরিক গেজেট যাচাই-বাছাইয়ের জন্যই এই কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশের অংশ হিসেবে এই যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। গত ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৭১তম সভায় এই যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মুজিববর্ষ: ৭০ হাজার পরিবার পেলো শেখ হাসিনার উপহার
২৩,জানুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রথম ধাপে প্রায় ৭০ হাজার পরিবার পেলো একটি আধাপাকা বাড়ি। মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে এসব ঘর ও জমি দেওয়া হচ্ছে। এক সঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে বিনামূল্যে ঘর করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বে অন্যন্য নজির সৃষ্টির করলো বাংলাদেশ। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘর বিতরণের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ভূমিহীন, গৃহহীনদের তালিকা তৈরি করে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৩ পরিবারকে সরকার জমি ও ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে। আর এ উদ্যোগটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায়- দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি প্রকল্প, ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায়- গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের- আশ্রয়ন প্রকল্প-২ নামে তিনটি প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পরিবারের জন্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে সেমিপাকা বাড়ি। প্রতিটি বাড়িতে থাকছে দুটি শোবার ঘর, একটা রান্নাঘর, একটা ইউটিলিটি রুম, একটি করে বারান্দা ও টয়লেট। ইটের দেয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং রঙিন টিনের ছাউনি ছাড়াও প্রতিটি ঘরে থাকবে ভূমিকম্পরোধক ব্যবস্থা। জানা গেছে, প্রথম ধাপে- (ক) শ্রেণিভুক্ত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দুই শতাংশ খাস জমি দিয়ে ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। (ক) শ্রেণিভুক্ত এমন পরিবারের সংখ্যা (জুন ২০২০ পর্যন্ত) ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি। আর (খ) শ্রেণিভুক্ত অর্থাৎ যার ১-১০ জমি আছে কিন্তু ঘর নেই বা ঘর আছে খুবই জরাজীর্ণ এমন পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি। (ক) ও (খ) দুই শ্রেণিতে মোট পরিবারের সংখ্যা ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২। দেশের একটি মানুষও গৃহহীন বা ভূমিহীন থাকবে না এমন ঘোষণা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ২০২০ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, মুজিবর্ষে দেশের কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সরকার সকল ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই ঘোষণা বাস্তবায়নে মাঠ প্রশাসনের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়। সে অনুযায়ী শুরু হয় প্রতিটি অঞ্চলে গৃহহীনদের তালিকা তৈরির কাজ। তালিকা তৈরি শেষে শুরু হয় করে বাড়ি নির্মাণের কাজ। এরইমধ্যে প্রায় ৭০ হাজার বাড়ির কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।
আজ আমার অত্যন্ত আনন্দের দিন : প্রধানমন্ত্রী
২৩,জানুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান করতে পারা নিজের সবচেয়ে বড় আনন্দের বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এদিন দেশের ৪৯২ উপজেলার প্রায় ৭০ হাজার পরিবারকে পাকাঘর হস্তান্তর করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আমার অত্যন্ত আনন্দের দিন। গৃহহীন পরিবারকে গৃহ দিতে পারছি, এটি আমার সবচেয়ে আনন্দের। আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের কথাই ভাবতেন। আমাদের পরিবারের লোকদের চেয়ে তিনি গরীব অসহায় মানুষদের নিয়ে বেশি ভাবতেন এবং কাজ করেছেন। এই গৃহ প্রদান কার্যক্রম তারই শুরু করা। এ সময় লাইভে যুক্ত ছিল খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা, চাপাইনবাবগঞ্জ সদর, নীলফামারীর সৈয়দপুর ও হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা। এছাড়াও দেশের সব উপজেলা অনলাইনে যুক্ত হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রায় নয় লাখ মানুষকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকাঘর উপহার দেয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ঘর পেল প্রায় ৭০ হাজার পরিবার। আগামী মাসে আরও ১ লাখ পরিবার বাড়ি পাবে। অনুষ্ঠানে আশ্রয়ন প্রকল্পের তৈরি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
একসঙ্গে ঘর পাচ্ছে ৭০ হাজার পরিবার, বিশ্বে নতুন ইতিহাস
২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বছরের পর বছর ঘর না থাকার কষ্টের জীবন শেষ হতে যাচ্ছে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত মুজিব বর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আধা পাকা ঘর এবং জমি পাচ্ছেন এসব মানুষ। চলমান কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে শনিবার (২৩ জানুয়ারি) প্রায় ৭০ হাজার পরিবার পাবে আধা পাকা ঘর। এটিই বিশ্বে গৃহহীন মানুষকে বিনামূল্যে ঘর করে দেওয়ার সবচেয়ে বড় কর্মসূচি। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্টরা জানান, গৃহহীন-ভূমিহীনদের ঘর করে দেওয়ার এত বড় কর্মসূচি পৃথিবীতে আর একটিও নেই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপকারভোগীদের ঘর বুঝিয়ে দেবেন। মুজিব বর্ষের মধ্যে সবার জন্য ঘর নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৯ লাখ পরিবারকে ঘর করে দেবে শেখ হাসিনার সরকার। দেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন অসহায় মানুষদের মধ্যে যাদের ভূমি নেই তাদের সরকারের খাস জমি থেকে ২ শতাংশ ভিটে এবং ঘর দিচ্ছে সরকার। যাদের ভিটে আছে ঘর নাই তাদের ঘর দিচ্ছে সরকার। প্রতিটি ঘর দুই কক্ষ বিশিষ্ট। এতে দুটি রুম ছাড়াও সামনে একটি বারান্দা, একটি টয়লেট, একটি রান্নাঘর এবং একটি খোলা জায়গা থাকবে। পুরো ঘরটি নির্মাণের জন্য খরচ হবে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং মালামাল পরিবহনের জন্য ৪ হাজার টাকা দেওয়া হবে প্রতি পরিবারকে। বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত এসব ঘর। যারা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছেন তাদের চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ইশ্বরিপুর ইউনিয়নের স্বামী পরিত্যক্তা মর্জিনা বেগম বলেন, এক মেয়ে নিয়ে বাঁশের কঞ্চির বেড়ার ঝুপড়িতে থাকি। দিন মজুর খেটে কোনো রকমে জীবন চলছে। নিজের একটা ঘর হবে কোনোদিন ভাবিনি। প্রধানমন্ত্রীকে দোয়া করি তিনি আমাদের ঘর দিয়েছেন, জমি দিয়েছেন। সাতক্ষীরা সদরের দিনমজুর অরবিন্দ গাইন বলেন, আগে সরকারি খাস জমিতে খড়ের চালার ঘরে থাকতাম। নিজের ঠিকানা ছিল না। শেখের বেটি আমাদের ঘর ও জমি দিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মুজিব বর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না- সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২৩ জানুয়ারি প্রথম পর্যায়ে সারাদেশে ৬৯ হাজার ৯০৪ ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ঘর দিচ্ছে সরকার। ২৩ জানুয়ারি ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ২ শতাংশ খাস জমির মালিকানা দিয়ে বিনা পয়সায় দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী প্রদান করবেন। একইসঙ্গে ব্যারাকের মাধ্যমে ২১টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ হাজার ৭১৫টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হবে বলে জানান মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, সারা দুনিয়াতে এটি প্রথম ঘটনা এবং একমাত্র ঘটনা একসঙ্গে বিনে পয়সায় এত ঘর করে দেওয়া। মাদার অব হিউম্যানিটি সারা দুনিয়াতে একটি নজির স্থাপন করলেন। ২৩ জানুয়ারি প্রায় ৬৯ হাজার পরিবারকে ঘর দেওয়ার পর থেকে আগামী ১ মাসের মধ্যে আরও ১ লাখ ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানান মাহবুব হোসনে। সারা বাংলাদেশে ঘরও নাই, জমিও নাই এমন পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১। ভিটেমাটি আছে, ঘর জরাজীর্ণ কিংবা ঘর নাই এমন পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা বাংলাদেশে যে তালিকা করা হয়েছে সব মিলিয়ে সেই তালিকায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবার রয়েছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের নথি থেকে জানা যায়, ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ণ নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস অবধি ৩ লাখ ২০ হাজার ৫২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো- ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্ন অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, ঋণপ্রদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা এবং আয় বাড়ে এমন কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ।
সাড়ে ৩ হাত মাটি সুরক্ষিত রাখতে হারাম খাই না : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম বলেছেন, আমি হারাম খাই না। আমার মন্ত্রণালয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ হয়, কেউ বলতে পারবে না আমাকে কারো টাকা দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, মৃত্যুবরণ করলে আমাকে সাড়ে ৩ হাত মাটির মধ্যে থাকতে হবে। সেটিকে আমি সুরক্ষিত রাখতে চাই। আমার মৃত্যু হলে মন্ত্রী হিসেবে কেউ ৫ হাত কবর করে দিতে পারবে না। এ জন্য আমি হারাম-টারাম খাইতে চাই না এবং খাই না। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার ইলেকশন। সদর উপজেলার উন্নয়ন করতে চাইলে আমার মনোনীতদের ভোট দেন। আমার মনোনীত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত। আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি আমাদের মনোনীতদের বিজয়ী করে আনুন, তাদের চুরি করতে দেব না, তারা কাজ করবেন। এতে আপনাদেরই ভালো হবে। আর কেউ খারাপ কাজ করলে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারবেন। তাদের কীভাবে শায়েস্তা করতে হয় তা অন্যভাবে করব। জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে আমাকে বরিশাল সদর আসন থেকে মনোনায়ন দেন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। আমি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ, নদী ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট আমি জানি। সেজন্য আমি বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াই। এর ভেতরেও প্রতি শুক্র ও শনিবার আমি বরিশালে আসি। কারণ, আমি চাই আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য বানিয়েছেন। আমার সাথে দেখা করার জন্য ঢাকায় কারো যাওয়ার দরকার নেই। আমি আপনাদের জন্য প্রতি সপ্তাহে আসব। কেউ বলতে পারবেন না শুক্র এবং শনিবার দেখা করতে এসে পারেননি কিংবা ফিরে গেছেন, আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগে আমরা ভিক্ষুকের দেশ ছিলাম, এখন মধ্যম আয়ের দেশে চলে এসেছি। ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব। দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে সে কথাই সবসময় প্রধানমন্ত্রী চিন্তা করেন।
বাংলাদেশকে ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন উপহার দেয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা
২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের ২০ লাখ ডোজ বাংলাদেশকে উপহার দেয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা জানেন যে ভারতের উপহার হিসেবে আমাদেরকে দেয়া করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন ইতোমধ্যেই এখানে পৌঁছেছে। আমরা যে ভ্যাকসিন কিনেছি সেগুলো ২৫ থেকে ২৬ জানুয়ারি নাগাদ এখানে পৌঁছাবে। প্রধানমন্ত্র্রী তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেলিব্রেটিং হানড্রেড ইয়ারর্স অব দি ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা : রিফ্লেকশনস ফ্রম দ্য অ্যালামনাই- ইন্টারন্যাশনাল এন্ড ন্যাশনাল শীর্ষক ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক ই-সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধনী ভাষণে এ কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কেনার ক্ষেত্রে সরকারী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা করোনাভাইরাস মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তার সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে গোটা পৃথিবী থমকে গেছে। আশা করছি এই পরিস্থিতির একদিন অবসান ঘটবে। শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপু মনি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর রেহমান সোবহান অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. ইমতিয়াজ আহমেদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য পাঠ করেন এবং উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল প্রধানমন্ত্রী এবং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এর আগে ঢাবি ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত সুভ্যেনিয়র গ্রহন করেন।
ঘন কুয়াশায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সব ফ্লাইট বাতিল
২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঘন কুয়াশার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সবগুলো অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে। মূলত ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট অবতরণ করতে না পারায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিন ১৫০ যাত্রী নিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট (বোয়িং ৭০৭) মালয়েশিয়া থেকে এসে ঢাকায় নামতে না পেরে সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার ফরহাদ হোসেন খান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের তিনটি ফ্লাইটে ভ্রমণ করার কথা রয়েছে ৫ শতাধিক যাত্রীর। কিন্তু আপাতত তাদেরকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বিমানবন্দরেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ফ্লাইট চালু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে
২১,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায়, ৪১ সালের মধ্যে সুখী সমৃদ্ধ শোষনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। তারা বলেন, পরাজিত শক্তি আবারো ষড়যন্ত্র করছে। ঐক্যবদ্ধভাবে এ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার ছিল রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার তৃতীয় দিন। গত ১৮ জানুয়ারি বছরের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা উত্তর টেবিলে উপস্থাপন ও ৭১ বিধির নোটিশের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। গত ১৯ জানুয়ারি চিফ হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সরকারি দলের সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ এ প্রস্তাব সমর্থন করেন। আজ আলোচনায় অংশ নেন, সরকারি দলের বীরেন শিকদার, ইকবাল হোসেন, মো.আলী আজগর, পংকজ নাথ, বেগম খাদিজাতুল আনোয়ার, বেগম জিন্নাতুল বাকিয়া, বেগম আঞ্জুম সুলতানা সীমা,জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী, নুরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিকল্প ধারার আব্দুল মান্নান। আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেন, ভাষণে রাষ্ট্রপতি সরকার সূচিত গত ১২ বছরের উন্নয়ন অগ্রগতিতে সাফল্যের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরার পাশাপাশি উন্নত- সমৃদ্ধ দেশ গড়ার দিক-নির্দেশনাও দিয়েছেন। ভাষণে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন দর্শন তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক মহামারি সফলভাবে মোকাবেলা করে দেশ যে আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তাও উল্লেখ করা হয় ভাষণে। তারা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশ যে উন্নত অবস্থানে আসীন হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য তা সম্ভব হয়েছে। তারা এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের কৃষি, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সব খাতে ব্যাপক সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন,পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, কর্নফূলি বঙ্গবন্ধু ট্যানেলসহ ২৪টি মেগা প্রকল্প সাফল্যের সাথে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব বাস্তবায়ন শেষ হলে দেশের অর্থনীতি বদলে যাবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী সমৃদ্ধশালী শোষনমুক্ত সোনার বাংলা বিনির্মানে অনেকদূর এগিয়ে যাবে জাতি। তারা বিশ্ব ব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগিদের সহযোগিতা ছাড়া শত প্রতিকূলতার মুখে নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার নামে নামকরণ করার প্রস্তাব করেন। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তা এবং রাষ্ট্রনায়কোচিত সিদ্ধান্তেই এ সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। তারা কোরোনা মোকাবেলায় সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, আজ ২০ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে। এটাও শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছে। সূত্র : বাসস

জাতীয় পাতার আরো খবর