শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২০
পাটকল আধুনিকায়ন করতেই বন্ধের সিদ্ধান্ত সরকারের
০৩,জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিজেএমসির পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর আধুনিকায়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একে আরও সক্ষম করে গড়ে তুলতে উৎপাদন বন্ধ করে শ্রমিকদের এককালীন পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে শ্রমিকদের প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার পাওনা পরিশোধ করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সকালে গণভবনে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো নিয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জানা গেছে, বর্তমানে দেশে যে পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হয়, তার শতকরা ৯৫ শতাংশই বেসরকারি পাটকলে উৎপাদিত হয়। সরকারি খাতটি অত্যন্ত স্কুইজড (সংকুচিত) হয়ে গেছে। যা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছিল না। তাই সরকারি খাতের পাটকলগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে শ্রমিকদের সমুদয় পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলোকে আবার প্রতিযোগিতায় কীভাবে আনা যায় এবং কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, সে বিবেচনায় এখন পাটকলগুলো বন্ধ করার ঘোষণা করা হয়েছে। এসব পাটকল বন্ধ থাকলে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়, চালু থাকলে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ক্ষতি হয়। কাজেই এসব পাটকলের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ভাইদের জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তার জন্য সরকার তাদের ২০১৫ সালের জাতীয় মজুরি কাঠামো অনুযায়ী সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনাও দিয়েছেন, যে পাটকলগুলো বন্ধ আছে, সেগুলো কীভাবে চালু করা যায় এবং সেগুলো যাতে বর্তমান এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। এ সংক্রান্ত একটি কর্মপন্থা প্রস্তুত করে অতি দ্রুত তার কাছে নিয়ে আসার জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো গত ৪৮ বছরের মধ্যে শুধু চার বছর লাভের মুখ দেখেছে এবং ৪৪ বছর ধরে অব্যাহতভাবে মোট ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। লোকসান হলে কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য সরকারের অর্থের ওপর নির্ভর করতে হত বলে প্রতি মাসেই শ্রমিক-কর্মচারীদের এ সংক্রান্ত সমস্যা চলছিল। পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের লক্ষ্যে আগামী তিনদিনের মধ্যে তাদের তালিকা প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৫ সালের সর্বশেষ মজুরি কাঠামো অনুযায়ী পাটকলগুলোর ২৫ হাজার শ্রমিককে তাদের অবসরকালীন সুবিধাসহ পাওনা পরিশোধ বাবদ সরকারের ৫০০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। পাটখাতের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নজর রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর দর্শন হচ্ছে পাটকল শ্রমিকদের বাঁচানো। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ইতোপূর্বে পাটের জন্মরহস্য উন্মোচনের জন্য গবেষণা খাতে অর্থায়ন করেছিলেন এবং পাটের বহুমুখী ব্যবহারের ওপর বিশেষ নজর দেন। প্রধানমন্ত্রী বন্ধের সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে যেসব শ্রমিক অনধিক দুই লাখ টাকা প্রাপ্য, তাদের পুরো টাকা এককালীন নগদ পরিশোধ করা হবে। এছাড়া দুই লাখ টাকার বেশি পাওনাদার শ্রমিকরা গড়ে ১৩ দশমিক ৮৬ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫৪ লাখ টাকা পাবেন। পাওনা টাকার মধ্যে ৫০ শতাংশ এককালীন নগদ এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনমাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র আকারে পরিশোধ করা হবে। ১১ শতাংশ সুদে প্রত্যেক শ্রমিক প্রতি তিন মাসে সর্বনিম্ন ১৯ হাজার ৩২০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৪ হাজার ৫২০ টাকা পর্যন্ত পাবেন। এছাড়া অনেক আগে অবসরে যাওয়া ৮ হাজার ৯৫৬ জন পাটকল শ্রমিকের অবসর ভাতা পরিশোধ করতে ওসরকারের ১০২০ কোটি টাকা খরচ হবে। পাটকল শ্রমিকদের পাওনা টাকা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে এবং কোন পাটকল অথবা অন্য কোন মধ্যস্বত্বভোগী এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকবে না। অবসরভোগীদের টাকা আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই নিজ নিজ ব্যাংক একাউন্টে চলে যাবে। এখানে কাউকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে না এবং পরবর্তীতে এ কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের ফলে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের স্বার্থ বাঁচানোর জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
চলতি বছরেই টরেন্টো-টোকিও রুটে ফ্লাইট চালু করবে বিমান
০৩,জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলতি বছরের মধ্যেই কানাডার টরেন্টো ও জাপানের টোকিওতে সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চলতি বছর আরও কয়েকটি গন্তব্যে ডানা মেলতে কাজ করছে রাষ্ট্রায়ত্ত এ উড়োজাহাজ সংস্থা। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোকাব্বির হোসেন জানিয়েছেন, কানাডার সঙ্গে এয়ার এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী উইন্টার সিডিউল অক্টোবরে টরেন্টোতে ফ্লাইট চালু করা হবে। এয়ার এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী মিনিমাম তিনটি ফ্লাইট চালানো হবে। বাংলাদেশ থেকে কোনো যাত্রী নিউইয়র্ক বা আমেরিকার যেকোনো জায়গায় যেতে চাইলে টরেন্টো হয়ে যেতে পারবে জানিয়ে মোকাব্বির হোসেন বলেন, আমরা যাত্রীর কাছ থেকে নিউইয়র্ক বা আমেরিকার অন্য ডেস্টিনেশনের টাকা নেবো। এয়ার কানাডার চুক্তি অনুসারে টরেন্টো থেকে নিউইয়র্ক বা আমেরিকার যেকোনো ডেস্টিনেশনে নিয়ে যাওয়া হবে। আমরা শুধু ঢাকা থেকে টরেন্টো পর্যন্ত যাত্রী পৌঁছে দেবো। ঢাকা থেকে জাপানেও খুব শিগগিরই বিমানের ফ্লাইট চালু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জাপান সরকারের সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে। জাপান সরকার যখন ইন্টারন্যাশনাল রুট চালু করবে তখনই আমরা ফ্লাইট চালু করবো। মোকাব্বির হোসেন বলেন, জাপানে জিএসএ (জেনারেল সেলস এজেন্ট) নিয়োগ দিতে জাপানি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছি। আশা করছি খুব শিগগিরই নিয়োগ হয়ে যাবে। জাপানে ফ্লাইট চালু হলে জাপান থেকে অন্য এয়ারলাইন্সে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও কোরিয়াসহ অন্য ডেস্টিনেশনে যাতে বাংলাদেশ থেকে যাত্রী যাতায়াত করতে পারে সে বিষয়ে জাপানের এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে আমরা একটি চুক্তি করার চিন্তা-ভাবনা করছি। চুক্তি হয়ে গেলে জাপান পর্যন্ত আমরা যাত্রী পৌঁছে দেবো। তারপর জাপান থেকে অন্য ডেস্টিনেশনে যেতে পারবে যাত্রীরা। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ভারত অনুমতি দিলে চেন্নাইতে আমরা ফ্লাইট চালু করবো। এ বিষয়ে চেন্নাইতেও জিএসএ নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া চীনের গুয়াংজু ও মালদ্বীপের মালেতে ফ্লাইট চালুর কাজ চলছে বলেও জানান বিমানের এ শীর্ষ কর্মকর্তা। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মুহিবুল হক বলেন, ঢাকা-কানাডা হয়ে নিউইয়র্ক ফ্লাইট আগামী ১৫ অক্টোবরের পর থেকে শুরু করবো। এছাড়া জাপানে ফ্লাইট চালু করবো। এ বিষয়ে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে গত ৩০ মার্চ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আন্তর্জাতিক নিয়মিত রুটে সর্বশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করে। এরপর গত ২১ জুন থেকে ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা রুটে পুনরায় আন্তর্জাতিক সিডিউল ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে বিমান। যা প্রতি সপ্তাহে একদিন (প্রতি রোববার) ফ্লাইট চলছে। আগামী ৬ ও ৭ জুলাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আন্তর্জাতিক আরও দুটি দুবাই ও আবুধাবি রুটে সিডিউল ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে।
পাটকল শ্রমিকরা ঠকবেন না, ২ ধাপে পাবেন সব টাকা
০৩,জুলাই,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাটকল শ্রমিকদের ঠকানো হবে না। তাদের দুই ধাপে টাকা দেওয়া হবে। অর্ধেক দেওয়া হবে ক্যাশে, বাকি অর্ধেক দেওয়া হবে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে। পাশাপাশি শ্রমিকদের পুনর্বাসন করা হবে। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে শ্রমিকদের শতভাগ পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। সিদ্ধেশরীতে মন্ত্রীর বাসভবনে এ সংবাদ সম্মলন আয়োজিত হয়। শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, পাটকল বন্ধ ঘোষণা করা মানে এগুলোকে শেষ করে দেওয়া না। পাটকল পিপিপি প্রকল্পের আওতায় নতুন করে যাত্রা শুরু করবে। আমার দৃষ্টিতে শ্রমিকরা কর্মহীন হচ্ছে না, ভালো জায়গায় যেতে হলে কিছু বেদনা থাকবে। তবে আমার দাবি থাকবে যাতে টাকাগুলো শ্রমিকরা এককালীন পান।
করোনার শুরু থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাহস দিয়েছেন শেখ হাসিনা: শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল
০২,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা করোনা সংকটের শুরু থেকে সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে সাহস জুগিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের এই যুদ্ধে মাঠে থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন, নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে এই সংকট মোকাবিলায় সবাইকে মাঠে নামিয়েছেন। ১৯৭১ সালে যেভাবে সারা দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ ভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল আজ ঠিক তেমনি ভাবে সারা দেশবাসী এক হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই সংকট শক্ত হাতে মোকাবেলা করছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নগরের পাঁচলাইশে প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পক্ষ থেকে করোনা আইসোলেশন সেন্টারকে অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, করোনা আইসোলেশন সেন্টার জনগণের মনে আস্থা তৈরি করতে পেরেছে। চিকিৎসা সেবার জন্য সাধারণ মানুষ সেখানে যাচ্ছে এবং প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কর্তৃক প্রদান করা অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিনের কারণে তাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান আরো সহজ ও উন্নত হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়েও মানবিক কাজে এগিয়ে আশায় প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলকে ধন্যবাদ জানান শিক্ষা উপমন্ত্রী। তাদের এই উদ্যোগ দেখে আরো অনেকে আগ্রহী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল হক খান স্বপনের সভাপতিত্বে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মিজানুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বদিউল আলম, অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্সি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল পরিচালনা পর্ষদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলজার আলম আলমগীর, প্রফেসর আমির মুহাম্মদ নসরুল্লাহ বাহাদুর, স্কুল উপাধ্যক্ষ ই.ইউ.এম ইনতেখাব, ফিরোজ চৌধুরী, মোহাম্মদ জসিম, মো. সাজ্জাদ হোসেন, নুরুল আজিম রনি।
পাটকল শ্রমিকদের এককালীন পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার
০২,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকার বিজেএমসি পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর আধুনিকায়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একে আরো সক্ষম করে গড়ে তুলতে উৎপাদন বন্ধ করে শ্রমিকদের এককালীন পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনর (বিজেএমসি) ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে শ্রমিকদের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার পাওনা পরিশোধ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ সকালে গণভবনে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, সরকারি খাতের পাটকলগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে শ্রমিকদের সমুদয় পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মুখ্য সচিব বলেন, বর্তমানে দেশে যে পাট ও পাট জাত পণ্য উৎপাদিত হয় তার শতকরা ৯৫ শতাংশই বেসরকারী পাটকলে উৎপাদিত হয়। সরকারী খাতটি অত্যন্ত স্কুইজড (সংকুচিত) হয়ে গেছে। যা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছিল না। এগুলোকে আবার প্রতিযোগিতায় কিভাবে আনা যায় এবং কিভাবে শক্তিশালী করা যায় সে বিবেচনায় এখন পাটকলগুলো বন্ধ করার ঘোষণা করা হয়েছে, বলেন তিনি। একইসঙ্গে এসব পাটকল বন্ধ থাকলে যে পরিমাণ ক্ষতি হয় চালু থাকলে তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ক্ষতি হয়, উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাজেই এসব পাটকলের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ভাইদের জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তার জন্য সরকার তাঁদেরকে ২০১৫ সালের জাতীয় মজুরি কাঠামো অনুযায়ী সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ড.কায়কাউস বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনাও দিয়েছেন যে-পাটকলগুলো বন্ধ আছে সেগুলো কিভাবে চালু করা যায়, যাতে সেগুলো বর্তমান এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। এ সংক্রান্ত একটি কর্মপন্থতা প্রস্তুত করে অতি দ্রুত তাঁর নিকট নিয়ে আসার জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, বলেন তিনি। মুখ্য সচিব ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো গত ৪৮ বছরের মধ্যে শুধু চার বছর লাভের মুখ দেখেছে এবং ৪৪ বছর ধরে অব্যাহতভাবে মোট ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। তিনি বলেন, লোকসান হলে কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য সরকারের অর্থের উপর নির্ভর করতে হতো বলে প্রতি মাসেই শ্রমিক কর্মচারীদের এ সংক্রান্ত সমস্যা চলছিল। মুখ্য সচিব বলেন, পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের লক্ষ্যে আগামী তিন দিনের মধ্যে তাঁদের তালিকা প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ড. কায়কাউস বলেন, ২০১৫ সালের সর্বশেষ মজুরি কাঠামো অনুযায়ী পাটকল সমূহের ২৫ হাজার শ্রমিককে তাদের অবসরকালীন সুবিধাসহ পাওনা পরিশোধ বাবদ সরকারের ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। মুখ্য সচিব বলেন, পাটখাতের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নজর রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর দর্শন হচ্ছে পাটকল শ্রমিকদের বাঁচানো। এরই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ইতোপূর্বে পাটের জন্মরহস্য উন্মোচনের জন্য গবেষণা খাতে অর্থায়ন করেছিলেন এবং পাটের বহুমুখী ব্যবহারের উপর বিশেষ নজর দেন বলেও উল্লেখ করেন ড. কায়কাউস। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের ধরন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে যেসব শ্রমিক অনধিক দুই লক্ষ টাকা প্রাপ্য তাদেরকে পুরো টাকা এককালীন নগদ পরিশোধ করা হবে। মুখ্য সচিব বলেন, পাওনা টাকার মধ্যে ৫০ শতাংশ এককালীন নগদ এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ শ্রমিকদের ভবিষ্যত জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয় পত্র আকারে পরিশোধ করা হবে। সঞ্চয় পত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধার বর্ণনা দিয়ে ড. কায়কাউস বলেন, ১১ শতাংশ সুদে প্রত্যেক শ্রমিক প্রতি তিন মাসে সর্বনি: ১৯ হাজার ৩২০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৪ হাজার ৫২০ টাকা পর্যন্ত পাবেন। এছাড়া এ পর্যন্ত অবসরে যাওয়া ৮ হাজার ৯৫৬ জন পাটকল শ্রমিকের অবসর ভাতা পরিশোধ করতে সরকারের ১ হাজার ২০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে ও জানান তিনি। মুখ্য সচিব বলেন,পাটকল শ্রমিকদের পাওনা টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে এবং কোন পাটকল অথবা অন্য কোন মধ্যস্বত্বভোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকবে না। ব্রিফিংয়ে উপস্থিত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া জানান, অবসর ভোগীদের টাকা আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই নিজ নিজ ব্যাংক একাউন্টে চলে যাবে । সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ্য সচিব বলেন,এখানে কাউকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে না এবং পরবর্তীতে এ কারখানাগুলো পুনরায় চালু হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং বিজেএমসির চেয়ারম্যানও ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
বাজেটের কপি ছেঁড়া বিএনপির ঔদ্ধত্যের নতুন বহিঃপ্রকাশ : তথ্যমন্ত্রী
০২,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সংসদের সামনে বাজেটের কপি ছেঁড়া বিএনপির ঔদ্ধত্যের নতুন বহি:প্রকাশ। তিনি আজ দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যারা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে মানুষকে হত্যা করেছিল। পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের কর্মসূচি যে রাজনৈতিক দল দেয়, সংসদের সামনে গিয়ে তাদের বাজেটের কপি ছিঁড়ে ফেলা খুব স্বাভাবিক। যে উদ্ধত আচরণ তারা সবসময় করে আসছে, সেটিরই নতুন বহি:প্রকাশ হচ্ছে সংসদের সামনে গিয়ে বাজেটের কপি ছিঁড়ে ফেলা, বলেন ড. হাছান । মন্ত্রী বলেন, বিএনপি যে এবারই বাজেট প্রত্যাখ্যান করছে তা তো নয়, গত ১১ বছর ধরে প্রতিবারই তারা বাজেট প্রত্যাখ্যান করছে এবং প্রতিবারেই বলেছে বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য না। জনগণের কল্যাণে আসবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু গত ১১ বছর ধরে সমস্ত বাজেটই বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাস্তবায়নের হার ৯৭-৯৮ শতাংশ। সেই বাজেটগুলো বাস্তবায়নের প্রেক্ষিতে দেশের দারিদ্র্য কমে অর্ধেকে নেমেছে, মানুষের মাথাপিছু আয় সাড়ে তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, জিডিপি প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ খাদ্যে উদ্বৃত্ত হয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের পথে উন্নীত হয়েছে। এটিই হচ্ছে বাস্তবতা। কিন্তু তারা কোনোভাবেই বাজেট গ্রহণ করতে পারেনি। ড. হাছান বলেন, বিএনপি সেখানে বলেছে, মাত্র একদিন বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আসলে তা নয়, পুরো বাজেট সেশনেই কিন্তু বাজেটের ওপর বক্তৃতা হয়েছে। তারা নিজেরা বাজেট অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেনি, বাজেট অধিবেশনে যে আলোচনা হয়েছে সেটিও ঠিকমত খেয়াল রাখেনি, সে কারণেই তারা এ ধরণের ভুল বক্তব্য দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিন সংসদ চালানো সম্ভবপর নয়। পৃথিবীর কোনো দেশে সেটি হচ্ছে না। আমাদের দেশে এখন করোনাভাইরাস প্রায় তুঙ্গে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, গড়ে প্রায় ৪০ জন বা তার বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। এই সময় তো সংসদ প্রতিদিন চালানো সম্ভবপর নয়, এই বাস্তবতা তারা বুঝেও তারা এ ধরণের অসত্য, অপ্রাসঙ্গিক কথাগুলো বলে। সাংবাদিকরা এসময় কুয়েতে মানবপাচারের দায়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপলু গ্রেপ্তারের ফলে সেখানে কর্মী রপ্তানি ব্যাহত হবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. হাছান বলেন, কুয়েতের তদন্তে সেখানকার সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদদের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে এসেছে। তাদের সম্পৃক্ততা, সহযোগিতা ছাড়া এই কাজগুলো হতো না, সুতরাং তারাও সমভাবে দায়ী। সুতরাং এ ঘটনায় আমাদের শ্রমবাজারে অর্থাৎ কুয়েতে কর্মী রপ্তানীর ক্ষেত্রে আমাদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি না। করোনা পরীক্ষার ফি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এটি নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছি এটি পুণর্বিবেচনা করার জন্য। তবে, একেবারেই বিনামূল্যের কারণে অনেক সময় যাদের প্রয়োজন নেই তারাও পরীক্ষা করে। কিন্তু গরীব মানুষ যাতে প্রয়োজনে বিনামূল্যে পরীক্ষা করাতে পারে, সেটি নিয়ে তার সাথে আমি ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলেছি। এর আগে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ভিডিও কনফারেন্সে চট্টগ্রামের সল্টগোলায় ৫০ শয্যার বিজিএমইএ কোভিড-১৯ ফিল্ড হাসপাতাল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। এ উদ্যোগে সম্পৃক্ত হবার জন্য তিনি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিজিএমইএকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। তৈরি পোশাক রপ্তানি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফ-লাইন বলেন মন্ত্রী। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক, প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম ও বোর্ড সদস্যবৃন্দ উদ্বোধনী সভায় অংশ নেন। চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদ জানান, করোনার শুরুতে চট্টগ্রামে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু আমরা ক্রমাগতভাবে সমন্বয় সভা করে প্রশাসন, পুলিশ, ব্যবসায়ী-স্বেচ্ছাসেবী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছি, সে কারণে আগের পরিস্থিতি এখন নেই, অনেক উত্তরণ ঘটেছে। আইসিইউ, ভেন্টিলেটরসহ যে সুবিধাগুলোর অপ্রতুলতা ছিল, আমরা সেই সংকট সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি, জানান তিনি।
ডিএসসিসিকে ২০ হাজার মাস্ক প্রদান
০২,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ফ্রান্স-ভিত্তিক ক্রীড়া-সামগ্রী বিপণন প্রতিষ্ঠান ডেকাথ্লন বাংলাদেশ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে ২০ হাজার নন-সার্জিকেল ফেব্রিক-মাস্ক প্রদান করেছে। আজ নগর ভবনে ডিএসসিসি মেয়রের কার্যালয়ে ডেকাথ্লন বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার দীপক ডিসুজার নেতৃত্বাধীন এক প্রতিনিধি দল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে মাস্কগুলো হস্তাস্তর করেন। ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস এ সময় ডেকাথ্লন বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান এবং মাস্কগুলো কর্পোরেশনের মশক-নিধন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী কর্পোরেশনের কর্মীদের সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করার নির্দেশনা দেন।
আরও ৪০১৯ জনের করোনা, নতুন মৃত্যু ৩৮
০২,জুলাই,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে গত একদিনে অর্থাৎ শেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন চার হাজার ১৯ জন। মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৮ জনের। সুস্থ হয়েছেন আরও চার হাজার ৩৩৪ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত এক লাখ ৫৩ হাজার ২৭৭ জন। মোট মৃত্যু এক হাজার ৯২৬ জন। মোট সুস্থ ৬৬ হাজার ৪৪২ জন। বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭০টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নতুন করে একটি ল্যাব যুক্ত হয়েছে। এছাড়া গতকাল নতুন একটি ল্যাব যুক্ত হয়ে ৬৯টি হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৯৪৭টি। এরমধ্যে আগের সংগ্রহ মিলে ১৮ হাজার ৩৬২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে আট লাখ দুই হাজার ৬৯৭টি। তিনি জানান, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাড়িতে উপসর্গবিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ৩৩৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৬৪ হাজার ৪৪২ জন। নাসিমা সুলতানা জানান, মৃত ৩৮ জনের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ। ছয়জন নারী। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে ১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২ জন, খুলনা বিভাগে পাঁচজন, রাজশাহী বিভাগে পাঁচজন, রংপুর বিভাগে একজন, সিলেট বিভাগে দুইজন এবং বরিশাল বিভাগে দুইজন। এরমধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৩ জন। বাসায় পাঁচ জন। তাদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুই জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে আটজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে দুইজন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন। তিনি আরও বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৯৬০ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৭৫ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন ২৮ হাজার ৫০২ জন। মোট ছাড়া পেয়েছেন ১২ হাজার ৭৭৫ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৫ হাজার ৭৫৭ জন। প্রতিবারের মতো করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সবাইকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দিকনির্দেশনা বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার এবং শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে বেড়েই চলেছে মৃত্যু।

জাতীয় পাতার আরো খবর