আজও শনাক্ত সহস্রাধিক, মারা গেছেন ২১ জন
২৬মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশে আরও ১ হাজার ১৬৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া গেল ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২১ জন। করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে মঙ্গলবার (২৬ মে) এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বুলেটিনে অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, গেল ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪ হাজার ৪১৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগের দিনের নমুনাসহ এই সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৪০৭টি নমুনা। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষাকৃত নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৬৩ জনের শরীরে। এই নিয়ে দেশে মোট ৩৬ হাজার ৭৪৮ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হলো। নাসিমা সুলতানা বলেন, গেল ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন করে ২২ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ৫২২ জনে। নতুন মারা যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ১৪ জন পুরুষ এবং ৭ জন নারী। এর আগে ঈদের দিন দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয় ১ হাজার ৯৭৫ জনের শরীরে। এছাড়া এদিন মারা যান ২৮ জন। ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়ি ফেরা মানুষ এবার রাজধানীতে ফিরতে শুরু করায় সংক্রমণের হার আগের সব রেকর্ড ছাড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই পূর্ণ হওয়া কোভিড হাসপাতালগুলো বাড়তি রোগীর চাপ কতটা নিতে পারবে সে নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। তাই সংকট সমাধানে সরকারি তত্ত্বাবধানে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে এখনই প্রস্তুত রাখার পরামর্শও দিয়েছেন তারা। এদিকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখের কাছে পৌঁছেছে। এছাড়া দেশটিতে মারা গেছেন চার সহস্রাধিক মানুষ। অন্যদিকে বিশ্বে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ মানুষের শরীরে। এছাড়া এতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ। অন্যদিকে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন ২৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৯১ জন।
বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রতিমন্ত্রী নুরুল ইসলাম মনজুর আর নেই
২৬মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধু সরকারের সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মনজুর (৮৪) আর নেই। সোমবার (২৫ মে) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে (সাবেক অ্যাপোলো) বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান তিনি। তার তৃতীয় ছেলে আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সুমন জানান, তার বাবা বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। ১৪ দিন আগে তাকে এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার রাতে সেখানেই মারা যান। তিনি স্ত্রী, চার ছেলে ও তিন মেয়েসহ অসংখ্যা গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের মরদেহ গুলশানের ৮৮ নম্বর সড়কে তার নিজ বাড়িতে নেয়া হয়েছে। বাদ আছর গুলশান সোসাইটি মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
সাবেক এমপি এম এ মতিন আর নেই
২৬মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি (চাঁদপুর-৫) আসনের চারবারের সাবেক এমপি, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রবীণ রাজনীতিক এম এ মতিন আর নেই। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি… রাজিঊন)। এম এ মতিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। তিনি বলেন, প্রবীণ এই রাজনীতিকের শূন্যস্থান কখনোই পুরণ হবার নয়। মানিক জানান, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এম এ মতিনের মরদেহ চাঁদপুর আনা হবে না। হাজীগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হবে। তার এলাকার লোকজন জানান, এম এ মতিনের বাড়ি হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার টোড়াগড় এলাকায়। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।
ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বীর স্ত্রী আর নেই
২৬মে,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার স্ত্রী আনোয়ারা রাব্বী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। মঙ্গলবার (২৬ মে) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ডেপুটি স্পিকারের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগতে থাকা আনোয়ারাকে সম্প্রতি ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে গত ১৯ মে তাকে সিএমএইচে নেয়া হয়। পরে সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে (কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসে) রাখা হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন নরেন্দ্র মোদি
২৫মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ সোমবার বিকালে টেলিফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। তিনি জানান, বিকালে ফোন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের জনগণের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এর আগে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে বাংলা নববর্ষ এবং পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানান নরেন্দ্র মোদি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং জনগণকে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানান।
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনাকালও একদিন শেষ হবে: আইজিপি
২৫মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, দীর্ঘতম রজনী শেষেও একসময় ভোরের আলো আসে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ করোনাকালও একদিন শেষ হবে। বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফায়েড পেজ থেকে দেয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি একথা বলেন। ঈদ শুভেচ্ছায় আইজিপি বলেন, প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম। ঈদ মোবারক। করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ দুর্যোগপূর্ণ সময়ে আমরা এক ভিন্ন পরিস্থিতিতে এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করছি। করোনা মোকাবেলায় আপনারা সকলে সচেতন থাকবেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। দীর্ঘতম রজনী শেষেও একসময় ভোরের আলো আসে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ করোনাকালও একদিন শেষ হবে। আমরা ফিরে যাবো স্বাভাবিক জীবনে। সেই দিনের জন্য তোলা থাক এবারের ঈদ। ঈদের আনন্দ যেটুকু সম্ভব এবার ঘরে বসেই উপভোগ করুন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। সবাইকে আবারও ঈদের শুভেচ্ছা।
কারাগারে হয়নি ঈদ জামাত, সাক্ষাতও বন্ধ
২৫মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিলনের বার্তা নিয়ে আবার এসছে ঈদুল ফিতর। সবার মতো কারাগারে বন্দিরাও ঈদ পালন করবেন। তবে অন্যবারের তুলনায় এবারের ঈদটা ব্যতিক্রম। দেশের কোনও কারাগারেই এবার উন্মুক্তস্থানে ঈদের জামাত হয়নি। এর সাথে যুক্ত হচ্ছে এবার কোনও স্বজনও চাইলে বন্দির দেখা পাবেন না। কারা অধিদপ্তরের হিসাব মতে সারাদেশে ৭৫ হাজার ৬১৭ জন বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে পুরুষ বন্দি ৭২ হাজার ৬৩৯ জন আর মহিলা বন্দি দুই হাজার ৯৭৮ জন। মোট হাজতি রয়েছে ৬০ হাজার ৯৯৫ জন। এদের মধ্যে পুরুষ বন্দি ৫৮ হাজার ৫৭৪ জন আর মহিলা বন্দি দুই হাজার ৪২১ জন। কয়েদি রয়েছেন ১২ হাজার ৬৩১ জন। এদের মধ্যে পুরুষ রয়েছেন ১২ হাজার ১২৬ জন আর মহিলা রয়েছেন ৫০৫ জন। সারাদেশে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন এক হাজার ৮৯৮ জন। এদর মধ্যে পুরুষ রয়েছে এক হাজার ৮৫০ জন আর মহিলা ৪৮ জন। বিদেশি বন্দি রয়েছে ৫৬২ জন। এদের মধ্যে হাজতি ৪১২ জন। তার মধ্যে পুরুষ ৩৯৮ জন আর মহিলা ১৪ জন। কয়েদি ৫৭ জন। এছাড়া আরপি বন্দি রয়েছে ৯৩ জন। পুরুষ ৮৯ জন আর মহিলা চারজন। মায়ের সাথে শিশু রয়েছে ৩৬৭ জন। এদের মধ্যে ছেলে ১৬৫ জন আর মেয়ে ২০২ জন। সাজাপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য ৭৮৯ জন। জঙ্গি রয়েছেন ৭৮২ জন। এর মধ্যে জেএমবি ৫০০ জন এবং অন্যান্য ২৮২ জন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিদের জন্য উন্মুক্তস্থানে কোনও নামাজের ব্যবস্থা ছিল না। তবে বন্দিরা চাইলে সামাজিক দুরুত্ব মেনে নিজেদের সেলের মধ্যে নামাজ পড়ার নির্দেশনা রয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রায় আট হাজার সাতশ জন বন্দি রয়েছেন। তাদেরকে সকাল বেলায় সেমাই আর মুড়ি নাস্তা খেতে দেওয়া হয়। দুপুরে তারা খাবার পাবেন পোলাও, গরু বা খাশির মাংস, সালাদ, একটি করে মিষ্টি পান সুপারি, রাতে তারা খাবার পাবেন সাদাভাতা, রুই মাছ, আলুরদম।
এবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় হচ্ছে না
২৫মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের কারণে বঙ্গভবনে এবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন না। এছাড়া বঙ্গভবনের দরবার হলে ঈদের জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ঈদের এই জামাত অনুষ্ঠিত হবে। রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে রাষ্ট্রপতি এবার ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিচ্ছেন না। বঙ্গভবনের দরবার হলে সীমিত পরিসরে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি সেই জামাতে অংশ নেবেন। সব সময় ঈদের দিন রাষ্ট্রপতি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে বঙ্গভবনে ঈদের যে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, সেটাও এবার হচ্ছে না বলে জানান জয়নাল আবেদীন। বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, দরবার হলে অনুষ্ঠেয় ঈদের জামাতে রাষ্ট্রপতি ছাড়াও তার পরিবারের সদস্যরা এবং বঙ্গভবনে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন কর্মকর্তা অংশ নেবেন। বঙ্গভবনের দরবার হলে সাধারণত রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলো হয়ে থাকে। এছাড়া, দরবার হলে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথও অনুষ্ঠিত হয়। প্রসঙ্গত, দেশের রাষ্ট্রপতি সব সময় ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে থাকেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণের জাতীয় ঈদগাহে দেশের প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ হলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি অংশ নিয়ে থাকেন। করোনার কারণে এবার জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা
২৫মে,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাসের এই মহামারিতে গণজমায়েত এড়িয়ে ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানান তারা। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রোববার (২৪ মে) এক বাণীতে এই আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযম পালনের পর অপার খুশি আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। এদিন সব শ্রেণিপেশার মানুষ এক কাতারে শামিল হন এবং ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেন। ঈদ সবার মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন। তিনি আরও বলেন, ইসলাম শান্তি ও কল্যাণের ধর্ম। এখানে হিংসা-বিদ্বেষ, হানাহানির কোনও স্থান নেই। মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সহাবস্থান, পরমতসহিষ্ণুতা ও সাম্যসহ বিশ্বজনীন কল্যাণকে ইসলাম ধারণ করে। বিশ্বব্যাপী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এ বছর ঈদুল ফিতর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে পালিত হবে। এ কঠিন সময়ে আমি সমাজের স্বচ্ছল ব্যক্তিবর্গের প্রতি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আমি দেশবাসীর প্রতি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপনের আহ্বান জানাচ্ছি। ঈদ উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মুসলিম জাহানের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানদের জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মুসলমানদের আত্মশুদ্ধি, সংযম, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন পরিব্যক্তি লাভ করুক-এটাই হোক ঈদ উৎসবের ঐকান্তিক কামনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্বাভাবিক পরিবেশে এবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করছি। করোনাভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এক অদৃশ্য ভাইরাস মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই বিপদের সময় আমাদের স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ যারা জীবন বাজি রেখে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের এই মহামারিতে অনুরোধ করবো, যথাসম্ভব গণজমায়েত এড়িয়ে আমরা যেন ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করি এবং আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়া করি যে এই সংক্রমণ থেকে আমরা সবাই দ্রুত মুক্তি পাই। মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর উন্নতি, সমৃদ্ধি ও অব্যাহত শান্তি কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় পাতার আরো খবর