শনিবার, জানুয়ারী ২৩, ২০২১

আরও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে করোনার নতুন ধরন

২৩,জানুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার নতুন ধরন নিয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেছেন, করোনার নতুন ধরনটি আগের ধরনের চেয়ে আরও বেশি প্রাণঘাতী হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া দেশজুড়ে ভ্যাকসিন কার্যক্রমও চলছে। যদিও ভ্যাকসিন কতটা কাজ করছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। করোনার পুরোনো এবং নতুন ধরনের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার গবেষণা করে নতুন নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য থেকেই জানা যাচ্ছে যে, পুরোনো ধরনের চেয়ে নতুন ধরনের করোনাভাইরাসে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যেই করোনার নতুন ধরনটি ছড়িয়ে পড়েছে। ডাউনিং স্ট্রিট থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জনসন বলেন, দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে এই নতুন ধরনটির কারণে মৃত্যু হারও বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। লন্ডন এবং দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে প্রথম করোনার এই নতুন ধরনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। করোনার নতুন ধরনটি কতটা ভয়াবহ তা মূল্যায়ণের চেষ্টা করছে ইংল্যান্ডের গণস্বাস্থ্য, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, দ্য লন্ডন স্কুল অব হাইজিন এবং ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড দ্য ইউনিভার্সিটি অব এক্সিটার। এই গ্রুপটি বলছে যে, নতুন ধরনের ভাইরাসটি মারাত্মক হয়ে উঠেছে বলে- বাস্তববাদী সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়টি এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। যুক্তরাজ্য সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা প্যাট্রিক ভ্যালেন্স এই তথ্যকে এখনও পর্যন্ত ততটা শক্তিশালী নয় বলেই বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। আমাদেরকে এ বিষয়ে আরও কাজ করে যেতে হবে। তবে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়াটা অবশ্যই উদ্বেগের। একই সঙ্গে সংক্রমণও বাড়ছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এর আগে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, করোনার নতুন ধরনটি আগের ধরনের চেয়ে ৩০ থেকে ৭০ ভাগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে এটি ৩০ শতাংশ বেশি প্রাণঘাতী বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, করোনার পুরোনো ধরনে ৬০ বছর বয়সী এক হাজার আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হতে পারে বলে ধরে নেয়া যায়। কিন্তু নতুন ধরনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা প্রায় ১৩ জন। অর্থাৎ নতুন ধরনে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হারও বেশি। গত সেপ্টেম্বরে কেন্ট এলাকায় প্রথম করোনার নতুন ধরনের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এটি এখন ইংল্যান্ড এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে করোনাভাইরাসের সাধারণ ধরনে পরিণত হয়ে গেছে। বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে এই ধরনটি ছড়িয়ে পড়েছে।...

ইউক্রেনে নার্সিং হোমে আগুন লেগে ১৫ জনের মৃত্যু

২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইউক্রেনের একটি নার্সিং হোমে আগুন লেগে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৫ জন। এছাড়া ঘটনায় আরও পাঁচ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) দেশটির পুলিশকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিল্ডিংটি মূলত একটি আবাসিক ভবন ছিল। তবে এটিতে একটি নার্সিং হোম কাজ চালাচ্ছিল। বিল্ডিংটি নার্সিং হোমের জন্য নিবন্ধিত কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিয়য়ে বাড়ির মালিক ও নার্সিং হোমের কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে দমকল বাহিনী। নার্সিং হোমে আটকে থাকা প্রচুর মানুষকে উদ্ধারও করা হয়েছে। তবে এরমধ্যেই ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও পাঁচ জন মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন।...

ফের বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হবে আমেরিকা: বাইডেন

২১,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শপথ নেওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে ধীরে ধীরে বের করে নিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি মিত্র দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক মজবুত রেখে যাননি ক্ষমতা থেকে যাওয়ার আগে। তার স্থলে জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ঘোষণা দিলেন, মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করবেন তিনি। বুধবার (২০ জানুয়ারি) ক্যাপিটল হিলে শপথ অনুষ্ঠান শেষে বাইডেন এ ঘোষণা দেন। বিশ্বের প্রতি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রতি বার্তা হলো, আমেরিকাকে পরীক্ষা করা হয়েছে, আমরা এটির জন্য আরও শক্তিশালী হয়ে এসেছি। আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত করবো। পাশাপাশি ফের বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হবে আমেরিকা। আমরা বিশ্বকে শক্তি দিয়ে নয় বরং উদাহরণ সৃষ্টি করে নেতৃত্ব দেবো। আমরা শান্তি, অগ্রগতি এবং সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী এবং বিশ্বস্ত অংশীদার হবো। এদিকে বাইডেন এবং কমলা হ্যারিস শপথ নেওয়ার পরপর ইউরোপের বহু নেতা নতুন প্রশাসনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট করেছেন। এসব টুইটে তারা নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ...

নীরবতা ভেঙে বিদায়ী বক্তব্য দিলেন ট্রাম্প

২০,জানুয়ারী,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে পরাজয়ের পর আমেরিকার ইতিহাস পাল্টে দিয়েছেন। তর্ক-বিতর্ক আর আলোচনার মধ্যেই বিদায় নিচ্ছেন এই প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউসে আজই তার শেষ দিন। তার চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ওপর হামলার পর গত এক সপ্তাহ ধরে দেখা মেলেনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের। অবশেষে এক ভিডিওবার্তায় নীরবতা ভেঙে বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত পূর্বে রেকর্ড করা ভাষণে ট্রাম্প বলেন, তিনি কঠোর লড়াইয়ের মোকাবিলা করেছেন, কঠিনতম যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করা ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আমরা এখানে যা করতে এসেছিলাম তা করেছি, তার চেয়ে বেশি করেছি। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের শেষ দিনে দেওয়া ভাষণে আরো বলেন, আমরা নতুন প্রশাসনের অভিষেক করতে যাচ্ছি এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সম্ভাবনার ক্ষেত্রে সফল হোক সেই প্রার্থনা করছি। এ সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সসহ বেশ কয়েকজনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি তার পরিবার, হোয়াউট হাউসের কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রশাসন এবং দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে আমি সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রেসিডেন্ট হিসেবে আপনাদের সেবা করা অনেক বেশি সম্মানের। ট্রাম্প তার ভাষণে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আমার মেয়াদ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা একসঙ্গে যা অর্জন করেছি তাতে সত্যিই গর্বিত। এই সপ্তাহে, একটি নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে এবং নতুন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ রাখবে এই প্রার্থনা করছি। আমার শুভকামনা রইল। ট্রাম্প বলেন, মনে রাখতে হবে যে মার্কিনিদের মধ্যে মতবিরোধ থাকবে, তবে মার্কিন জনগণ বিশ্বস্ত এবং শান্তিকামী নাগরিক, যারা তাদের দেশকে সমৃদ্ধ দেখতে চায়। তিনি আরও বলেন, সারা যুক্তরাষ্ট্র ক্যাপিটলে আক্রমণের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়েছিল। এ রকম রাজনৈতিক সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের ওপর আক্রমণ। এটি কখনোই সহ্য করা যায় না। ট্রাম্প বলেন, (আজ) বুধবার দুপুরে আমি যখন নতুন প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি জানাতে চাই যে আন্দোলন আমরা শুরু করেছি, তার কেবল সূচনা হলো। ...

ফটিকছড়ি উপজেলায় গৃহহীন পরিবারের মাঝে গৃহের দলিল,খতিয়ান ও সনদ হস্তান্তর

২৩,জানুয়ারী,শনিবার,সজল চক্রবর্তী,ফটিকছড়ি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: মুজিব শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক সারাদেশ ব্যাপী ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান উপলক্ষে গনভবন হতে ২৩ জানুয়ারী প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন করেন।উদ্বোধন উপলক্ষে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্স দেখেন, সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এমপি, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, ফটিকছড়ি পৌরসভার মেয়র মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন,নাজির হাট পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজ উদ-দ্দৌলা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) শাহাদাৎ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান এড. সালামত উল্লাহ চৌধুরী,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেবুন নাহার, ওসি মোঃ রবিউল ইসলাম,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী, বিভিন্ন ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহ উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তারা ও উপকারভোগিরা। ...

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, নিহত ৪

২৩,জানুয়ারী,শনিবার,কক্সবাজার প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবির ঘটনায় ৪ জনের মরদেহ ও ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। এতে এখনো পর্যন্ত আরও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের ২টি এবং নৌবাহিনীর ৩টি জাহাজ অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে এ ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। কোস্টগার্ডের সেন্টমার্টিন স্টেশনের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট আরিফুজ্জামান রনি জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে এ ট্রলার ডুবির ঘটনাটি ঘটেছে। আরিফুজ্জামান বলেন, ভোরে ঘন কুয়াশায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হলে এফবি যানযাবিল চুমকেন নামের মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবে যায়। খবর পেয়ে কোস্টগার্ডের শ্যামল বাংলা ও মনসুর আলী নামে ২টি জাহাজ জেলেদের উদ্ধারে অভিযানে যায়। এছাড়াও সমুদ্র অভিযান ও নিমূলসহ ৩টি জাহাজ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তিনি বলেন, বিকেল ৫টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযানে ৪ জনকে মৃত এবং ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে আরো ৯ জন। নিখোঁজদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানান কোস্টগার্ডের এ কর্মকর্তা। আরিফুজ্জামান বলেন, মৃত ও জীবিত উদ্ধার হওয়াদের নৌবাহিনীর চট্টগ্রামের ঘাঁটিতে নেওয়া হবে। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ঘটনার ব্যাপারে ব্রিফিং করা হবে।...

নওগাঁয় ১০৫৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর প্রদান

২৩,জানুয়ারী,শনিবার,নওগাঁ প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে জমি ও গৃহ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারাদেশের ন্যায় এক যোগে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে ১১০টি ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসক হারুন-আর-রশিদ এর সভাপতিত্বে, নওগাঁ সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন উপকারভোগীদের মাঝে জমিসহ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট গৃহ প্রদানের সার্টিফিকেট, কবুলিয়ত দলিল, খতিয়ান ও ডিসিআর সম্বলিত ফোল্ডার প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া, নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মির্জা ইমাম উদ্দিন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার পূনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলার ১১টি উপজেলায় এক হাজার ৫৬টি পরিবার ঘর পেয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১০টি, বদলগাছীতে ৪৮টি, মহাদেবপুরে ৩৪টি, আত্রাইয়ে ১৭৫টি, রানীনগরে ৯০টি, মান্দায় ৯০টি, সাপাহারে ১২০টি, নিয়ামতপুরে ৭১টি, পোরশায় ৫৪টি, ধামইরহাটে ১৫০টি এবং পত্নীতলায় ১১৪টি। উপকারভোগীদের মধ্যে ভিক্ষুক পরিবার ৩১টি, প্রতিবন্ধী ১৫টি, অন্যের বাড়িতে-রাস্তার পাশে ও খোলা জায়গায় ঝুপড়ি ঘরে থাকা ১১টি, স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা ৫৫টি, দিনমজুর ১২টি, আদিবাসী ৯১টি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার রয়েছে ৭৩টি। এসব আধাপাকা প্রতিটি গৃহ নির্মাণে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রতিটি বাড়িতে আছে- দুটি শোবার ঘর, একটি টয়লেট, রান্নাঘর, কমনস্পেস ও একটি বারান্দা। এসব ঘর প্রত্যেক পরিবারের জন্য আলাদা করে নির্মাণ করা হয়েছে।...

পাবনায় ট্রাক-সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ, নিহত ২

২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,পাবনা প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: পাবনায় ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে অন্তত ২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে আতাইকুলা থানার দুবলিয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতরা সবাই অটোরিকশার যাত্রী। নিহতরা হলেন, সুজানগর পৌর সদরের বাসিন্দা আব্দুল বারেকের স্ত্রী আরিফা সুলতানা (৪৫) ও একই এলাকার মনা কুন্ডুর ছেলে ঝন্টু কুন্ডু (৬০)। আহতরা হলেন, আব্দুল কাদের (৫৫), তার স্ত্রী রওশন আরা রেনু (৪৫) ও নিহত আরিফা সুলতানার স্বামী আব্দুল বারেক (৫৫)। তাদের সবার বাড়ি সুজানগরে। তাদেরকে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ও সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, সকালে একটি ট্রাক পাবনা থেকে সুজানগরের দিকে যাচ্ছিল। সুজানগর থেকে যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাবনায় যাওয়ার পথে আতাইকুলার দুবলিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে ঘন কুয়াশার কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ঝন্টু কুন্ডু নিহত হয়। আহত চারজনকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিফা সুলতানাকে মৃত ঘোষণা করেন।...

ডুমুরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজছাত্র নিহত

২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,খুলনা সিনিয়র প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় জাহিদ খান (২৪) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা আঞ্চলিক মহাসড়কের বালিয়াখালী ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জাহিদ উপজেলার বানাই গ্রামের জাকির খানের ছেলে। তিনি ডুমুরিয়া কলেজের স্নাতক পড়ুয়া শিক্ষার্থী। পুলিশ জানায়, সকালে খুলনা থেকে সাতক্ষীরার দিকে একটি বাস যাচ্ছিল। পথে বালিয়াখালী ব্রিজের কাছে এলে বাসটির সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী জাহিদের মৃত্যু হয়। এ সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে আটকে যায়। এতে বাসের কয়েকজন যাত্রী সামান্য আঘাত পেয়েছেন। খবর পেয়ে ডুমুরিয়া ফায়ার সার্ভিস, খর্নিয়া হাইওয়ে থানা ও ডুমুরিয়া থানার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। ডুমুরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদ হোসেন বলেন, মরদেহ ও বাসটি খর্নিয়া হাইওয়ে থানার হেফাজতে আছে। ...

২০২০ সালে লক্ষ্য পূরণ হয়নি ভিয়েতনামের চাল রফতানির

১৬,জানুয়ারী,শনিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর ধাক্কা লেগেছে ভিয়েতনামের চাল রফতানিতে। সংকটকালে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশৃঙ্খল বজায় রাখা ও জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল রফতানি সাময়িক বন্ধ রেখেছিল ভিয়েতনাম। এর প্রভাব পড়েছে খাদ্যপণ্যটির সামগ্রিক রফতানিতে। ২০২০ সালে ভিয়েতনাম থেকে ৬১ লাখ টনের বেশি চাল রফতানি হলেও খাদ্যপণ্যটির বার্ষিক রফতানি লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি দেশটি। তবে গত বছর চাল রফতানি করে আয় বেড়েছে ভিয়েতনামের রফতানিকারকদের। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রায়ত্ত জেনারেল স্ট্যাটিস্টিকস অফিসের (জিএসও) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও বিজনেস রেকর্ডার। ভিয়েতনাম বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশ। খাদ্যপণ্যটি রফতানিকারদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় দেশটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভিয়েতনামের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী বছরে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬১ লাখ ৪৬ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এ সময় চাল রফতানি করে ভিয়েতনামিজ রফতানিকারকদের আয় আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৩০৬ কোটি ৯০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারীর মধ্যে চালের রফতানি মূল্য বাড়তি ছিল। এ কারণে গত বছর চাল রফতানির পরিমাণ কমলেও এ বাবদ ভিয়েতনামের আয় বাড়তির দিকে ছিল। মাসভিত্তিক হিসাবে গত ডিসেম্বরে ভিয়েতনাম থেকে সব মিলিয়ে ৪ লাখ ৪৩ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে জিএসও। এ সময় খাদ্যপণ্যটির রফতানি বাবদ দেশটির আয় দাঁড়িয়েছে ২৪ কোটি ডলারে। বিদায়ী বছরজুড়ে প্রায় সাড়ে ৬১ লাখ টন চাল রফতানি করলেও খাদ্যপণ্যটির বার্ষিক রফতানি লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে ভিয়েতনাম। ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬৩ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছিল। আয় হয়েছিল ২৮০ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ২০২০ সালে ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬৭ লাখ টন চাল রফতানির পূর্বাভাস দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু করোনা মহামারী এ লক্ষ্য পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর লক্ষ্যের তুলনায় ৫ লাখ ৫৪ হাজার টন কম চাল রফতানি করতে পেরেছে ভিয়েতনাম। ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বছরজুড়ে ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬৪ লাখ টন চাল রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটি থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমতে পারে। ২০১৯ সালে ভিয়েতনাম থেকে মোট ৬৭ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছিল। ২০২০ সাল শেষে ইউএসডিএর এ লক্ষ্য পূরণেও ব্যর্থ হয়েছে ভিয়েতনামের চাল রফতানি খাত। চাল রফতানিতে বার্ষিক লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার পেছনে করোনা মহামারীকে দায়ী করছেন ভিয়েতনামের ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা। তাদের ভাষ্য, গত বছরের মার্চের শেষভাগে চাল রফতানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভিয়েতনাম সরকার। মূলত করোনাকালে জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অভ্যন্তরীণ খাদ্যশৃঙ্খল নির্বিঘ্ন রাখতে সাময়িক এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে মে মাসে এসে বিদ্যমান এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। ফলে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল রফতানি ফের শুরু হয়। তবে খাদ্যপণ্যটির রফতানিতে এ সাময়িক নিষেধাজ্ঞা না থাকলে বার্ষিক রফতানি লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হতো। করোনাকালীন সংকট কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া আরো সহজ হতো ভিয়েতনামের চাল রফতানি খাতের।...

বরিশালে আগাম ইরি-বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষক

১৪,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,অর্থনীতি ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বরিশালের বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা আগাম ইরি-বোরো চাষে নেমেছেন। বিশেষ করে আগৈলঝাড়া উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের শুরুতেই কনকনে শীত উপেক্ষা করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের চারা বীজ লাগাতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। কৃষকরা জানিয়েছেন, গতবারের চেয়ে এবার দ্বিগুণ চাষি আগাম ইরি-বোরো চাষের জন্য কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। অন্য বছরের ন্যায় এবারও ইরি-বোরোর পুরো মৌসুমে সার ও সেচকাজের জন্য সঠিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে চলতি মৌসুমেও ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। এছাড়া, অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র রায় জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে মোট প্রায় ৯ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ করে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, যার মধ্যে ৪৮ হাজার ৪শ মেট্রিক টন হাইব্রিড ও ২ হাজার ৫০ মেট্রিক টন উফসী চাল। এ কৃষিবিদ আরও জানান, উপজেলায় মোট আবাদি জমির মধ্যে ৮ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড ধান ও ৫শ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফসী) বোরো ধান আবাদ করা হবে। এর মধ্যে ৪৫০ হেক্টর জমিতে আগাম বোরো আবাদ করেছেন চাষিরা। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সূত্র মতে, চলতি রবি মৌসুমে ৯১ জন চাষিকে সরিষা, ভুট্টা, মুগ, মশুর, খেসারি, আলু ও আখের বীজ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, সরকারের পুনর্বাসন বীজ সহায়তা, প্রণোদনা, প্রকল্প ও রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৩২৫টি কৃষক পরিবারকে ধানের বীজসহ বিভিন্ন ধরনের বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ...

স্কুল খুললেই শিক্ষার্থীদের একবেলা খাবার: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

১৬,জানুয়ারী,শনিবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনার কারণে অনেক অভিভাবকের আয় কমে গেছে কিংবা চাকরি হারিয়েছেন। এ অবস্থায় অনেকে তাদের সন্তানকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠানে বাড়তি খরচের কারণে সন্তানের ভর্তি কিংবা পড়ালেখা দুঃশ্চিন্তায় দিন পার করছেন তারা। যেসব অভিভাবক এ অবস্থায় পড়েছেন তাদের সন্তানকে সরকারি স্কুলে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, করোনায় যেসব পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে, তাদের সন্তানদের নিজ নিজ এলাকায় সরকারি স্কুলগুলোয় ভর্তি নেওয়ার নির্দেশনা আগেই দিয়েছি। জাকির হোসেন বলেন, সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর আগের শ্রেণির যেকোন ডকুমেন্ট দেখালেই চলবে। আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমিয়ে আনতে বৃত্তি, উপবৃত্তি এবং জামাকাপড় কেনার জন্য সহায়তা দিচ্ছি আমরা। গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুলের যে মিড-ডে মিল বিস্কুট দেওয়া হতো, সেটি এখন বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীরা স্কুলেই একবেলা খেতে পারবে। বেসরকারি স্কুলে খরচ বেশি। এজন্য অভিভাবকদের প্রতি আহবান থাকবে- আপনার সন্তানকে স্থানীয় সরকারি স্কুলে ভর্তি করান। ...

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়লো ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত

১৫,জানুয়ারী,শুক্রবার,শিক্ষা ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (কওমি মাদরাসা ছাড়া) চলমান ছুটি আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এ তথ্য জানান। বাংলাদেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গত ১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর ১৬ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত ছুটি ছিল, সেই ছুটি এবার ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়লো। শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান এ ছুটি বাড়ানো হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে এবছর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী, অষ্টমের সমাপনী ছাড়াও এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে এইচএসসির ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত হলেও প্রাথমিকের অন্য শ্রেণিগুলোয় পরীক্ষা ছাড়া পরবর্তী ক্লাসে তুলে দেওয়া হচ্ছে। আর মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অন্যদিকে, উচ্চশিক্ষা স্তরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনার্স ও মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা নিতে অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসি।...

হোয়াইটওয়াশ মিশনে চট্টগ্রামে টাইগাররা

২৩,জানুয়ারী,শনিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হওয়া সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে সহজ জয়ই পেয়েছে টাইগাররা। এবার হোয়াইটওয়াশ মিশনে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে তামিম বাহিনী। (শনিবার) দুপুর গড়াতেই বন্দর নগরীতে চলে গেছে টাইগাররা। বেলা পৌনে একটায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে নেমেছেন তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমানরা। শুধু স্বাগতিক বাংলাদেশই নয়, শনিবার বেলা ১২টার ফ্লাইটে একসঙ্গে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দুপুর পৌনে ১টায় বন্দর নগরীতে গিয়ে পৌঁছেছে জেসন মোহাম্মদের ওয়েস্ট ইন্ডিজও। গত ২০ জানুয়ারি (বুধবার) প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটে জয়ের পর শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে তামিম ইকবালের দল। আগামী ২৫ জানুয়ারি (সোমবার) চট্টগ্রামের সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। তবে তামিমের দল এরই মধ্যে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলায় এখন শেষ ম্যাচটি অনেকটাই গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। সেটা এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। এখন স্বাগতিকদের সামনে রয়েছে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করার সুবর্ণ সুযোগ। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে দুই দলের শেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। সেবার প্রথম ম্যাচ জিতলেও দ্বিতীয় খেলায় হেরেছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। তাই সিরিজ জিততে অপেক্ষায় থাকতে হয় শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। তারপর তৃতীয় ম্যাচে গিয়ে জয় ধরা দেয়। এবার অবশ্য চিত্র ভিন্ন। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ বিজয়ের উৎসব রাজধানীতেই করে ফেলেছে টাইগাররা। সোমবারের ম্যাচটি জিতলে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করার পাশাপাশি পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট নিয়েই ওয়ানডে সুপার লিগের প্রথম সিরিজ শেষ হবে বাংলাদেশের।...

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক সিরিজ জয়

২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোয়াড ঘোষণার পরই আভাস পাওয়া গিয়েছিল ফলাফলের ব্যাপারে। দেখার বিষয় ছিল, মাঠে ঠিক কতটা দাপুটে জয় পায় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ক্যারিবীয়দের ১২২ রানে অলআউট করে স্বাগতিকরা জিতেছিল ৬ উইকেটে। আজ (বুধবার) দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছে ১৪৮ রান। যার জবাবে অধিনায়ক তামিম ইকবালের ফিফটির সুবাদে ৩ উইকেট হারিয়ে, ৭ উইকেটের ব্যবধানে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। প্রথমে ২০১৮ সালের জুলাইতে প্রতিপক্ষের মাটিতে ২-১, একই বছর ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে ২-১, এবার ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত হয়ে গেল সিরিজের ট্রফি; সবমিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের হ্যাটট্রিক করে ফেলল বাংলাদেশ দল। এবং সবমিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পঞ্চম সিরিজ জয়টি টাইগারদের। জিম্বাবুয়ের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে কোনো দেশের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের হ্যাটট্রিক হলো টাইগারদের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ টানা ৬টি সিরিজ জেতার রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের। ১৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন দাস। দৃষ্টিনন্দন কিছু বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিনি সাজঘরে ফিরে যান ষষ্ঠ ওভারে। আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে করেন ২২ রান। আরও একবার হতাশ করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার ব্যাট থেকে আসে ২৬ বলে ১৭ রান। তিনি জেসন মোহাম্মদের বলে সহজ ক্যাচ তুলে দেন জর্ন ওটলের হাতে। একপ্রান্তে অবিচল ছিলেন অধিনায়ক তামিম। দলকে ১০০ রান পার করিয়ে আউট হন তিনি। তার আগেই তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৪৮তম ওয়ানডে ফিফটি। তবে এরপর আর টিকতে পারেননি। তিন চার ও এক ছক্কায় সাজানো ইনিংসে ৭৫ বলে ৫০ রান করেন তামিম। অধিনায়ক ফিফটি করলেও সাকিব অপরাজিত ছিলেন ৪৩ রানে। মুশফিকুর রহীমের (৯) সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৪০ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন সাকিব। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আজও ইতিবাচক শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার সুনিল অ্যামব্রিস। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে রুবেল হোসেনের করা প্রথম বলেই দারুণ টাইমিংয়ে বাউন্ডারি মারেন তিনি। কিন্তু প্রথম ম্যাচের মতো এদিনও ফিরে যান খানিক পরেই। আগের ম্যাচের মতো আজও তিনি আউট হয়েছেন মোস্তাফিজের বোলিংয়ে, তার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে আসা বলটি সহজেই তালুবন্দী করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। অ্যামব্রিস করতে পেরেছেন ১৫ বলে ৬ রান। দলীয় ১০ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারানোর পর অভিষিক্ত জর্ন ওটলেকে নিয়ে প্রতিরোধের আভাস দেন জশুয়া ডা সিলভা। দুজন মিলে যোগ করেন ২৬ রান। ইনিংসের ১১তম ওভারে হাসান মাহমুদকে অসাধারণ এক পুল শটে ছক্কা হাঁকান ওটলে। তবে স্পিন আসতেই ভাঙে জশুয়া-ওটলের প্রতিরোধ। এক ওভারেই দুজনকে ফেরান মিরাজ। দশম ওভারে প্রথম আক্রমণে এসে নিজের তৃতীয় ওভারে জোড়া সাফল্যের দেখা পান অফস্পিনার মিরাজ। ইনিংসের ১৪তম ওভারের প্রথম বলে শর্ট মিডঅফে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ৪৪ বলে ২৪ রান করা অভিষিক্ত ওটলে। একই ওভারের চতুর্থ বলে ভুল লাইনে ডিফেন্ড করে সোজা বোল্ড হয়ে যান জশুয়া, তার ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ৫ রান। মিরাজের জোড়া উইকেটের পরের ওভারেই ডাকা হয় আরেক স্পিনার সাকিব আল হাসানকে। নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে আন্দ্রে ম্যাকার্থিকে আর্মারে বোকা বানান সাকিব। স্লগ করতে গিয়ে সোজা বোল্ড হন ৭ বলে ৩ রান করা ম্যাকার্থি। উইন্ডিজের মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে আসে ১৮তম ওভারের রানআউট। অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদ শর্ট স্কয়ার লেগে ঠেলেই দ্রুত রানের জন্য দৌড় শুরু করেন। দারুণ থ্রোতে স্ট্রাইকার এন্ডে মায়ারসের বিদায়ঘণ্টা বাজান নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের ম্যাচে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৪৪ রান করা মায়ারস এবার ফেরেন শূন্য রানে। মাত্র ৪১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কঠিন চাপে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ষষ্ঠ উইকেটে ইনিংস সর্বোচ্চ ২৬ রানের জুটি গড়েন জেসন মোহাম্মদ ও এনক্রুমাহ বোনার। নিজের প্রথম স্পেল থানা প্রান্ত থেকে করে এক উইকেট নেয়ার পর ২৫তম ওভারে মিডিয়া প্রান্তে বোলিং শুরু করেন সাকিব। সেই ওভারের শেষ বলেই ভাঙেন জেসন-বোনার জুটি। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন ১১ রান করা ক্যারিবীয় অধিনায়ক। এর পরের ওভারে প্রথম উইকেটের দেখা পান আগের ম্যাচে অভিষেক হওয়া হাসান মাহমুদ। তার নিচু হওয়া ডেলিভারিতে বোল্ড হন ইতিবাচক খেলে ২৫ বলে ২০ রান করা বোনার, মাত্র ৭১ রানে ঘটে উইন্ডিজের সপ্তম উইকেটের পতন। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে তাদের বিপদ আরও বাড়ান মেহেদি মিরাজ। ইনিংসের ৩০তম ওভারের চতুর্থ বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন ২ রান করা রেইফারকে। আম্পায়ার আউট দেননি সেটি, রিভিউ নিয়ে উইকেট পায় বাংলাদেশ। দলীয় নব্বইয়ের আগেই অষ্টম উইকেট হারানোর পর পাল্টা আক্রমণ করেন রভম্যান পাওয়েল ও আলঝারি জোসেফ। দুই স্পিনার মেহেদি মিরাজ ও সাকিব আল হাসানের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকেন তারা। তাদের জুটিতে আসে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩২ রান। ইনিংসের ৩৮তম ওভারে আলঝারিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ। শর্ট গালিতে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন ২১ বলে ১৭ রান করা আলঝারি। শেষ উইকেট জুটি ভাঙতে ৬.১ ওভার বোলিং করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। নিজের শেষ ওভার করতে এসে চতুর্থ বলে স্ট্যাম্পিং করেন ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোরার রভম্যান পাওয়েলকে। এগিয়ে এসে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে নিজের উইকেট হারান ৬৬ বলে ৪১ রান করা পাওয়েল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস থামে ১৪৮ রানে। সবমিলিয়ে ৯.৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন মিরাজ। ওয়ানডেতে এটিই তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। এছাড়া ২টি করে উইকেট গেছে সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমানের ঝুলিতে। ...

মুম্বাইয়ে বঙ্গবন্ধু- বায়োপিকের মহরত অনুষ্ঠিত

২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক- বঙ্গবন্ধু-এর শুভ মহরত ভারতের মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বছরের মার্চে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু সিনেমার শুটিং শুরুর কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে তা পিছিয়ে যায়। এ বছর শুটিং শুরুর আগে পরিচালক শ্যাম বেনেগাল মুম্বাইয়ের একটি স্টুডিওতে বঙ্গবন্ধু বায়োপিকের মহরত অনুষ্ঠান করলেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে টানা আড়াই মাস মুম্বাইতে সিনেমাটির শুটিং হবে বলে জানা গেছে। মহরত অনুষ্ঠানে সিনেমাটির পরিচালক শ্যাম বেনেগাল, অভিনেতা আরিফিন শুভসহ অন্যান্য শিল্পী-কুশলীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রের মহরতে মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি হাইকমিশনার মহম্মদ লুতফর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। এদিকে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ থেকে একঝাঁক শিল্পী-অভিনেতা মুম্বইতে গিয়ে পৌঁছেছেন। জানা গেছে, টানা প্রায় আড়াই মাস মুম্বইতে সিনেমাটির শুটিং চলবে, তারপর পুরো ইউনিট ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ যে- মুজিব বর্ষ উদযাপন করছে তা চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিনেমার কাজ তার মধ্যেই শেষ করে সেটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পরিচালক শ্যাম বেনেগালের।...

প্রথমবার বই লিখলেন তাহসান, প্রকাশ হবে বইমেলায়

২০,জানুয়ারী,বুধবার,বিনোদন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ক্যারিয়ারটা শুরু করেছিলেন গায়ক হিসেবে। গান গেয়ে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা তিনি পেয়েছেন। এরপর তাকে পাওয়া গেছে সুরকার, গীতিকার হিসেবেও। তিনি মডেল হয়ে কিছু বিজ্ঞাপনে প্রশংসিত হন। এরপর বনে যান নিয়মিত অভিনেতা। অভিনয় করেছেন গান, নাটক ও সিনেমায়। এবার তিনি নতুন আরও এক পরিচয়ে হাজির হচ্ছেন। তাহসান খান এবার আত্মপ্রকাশ করছেন লেখক হিসেবে। তিনি নিশ্চিত করেন, প্রথমবারের মতো বই লিখেছেন। নাম- অনুভূতির অভিধান। আসছে বইমেলায় এটি অধ্যায়ন প্রকাশনী থেকে বের হবে। প্রথমবার বই লেখা নিয়ে তাহসান বলেন, অন্যরকম একটা অনুভূতি অবশ্যই। নিজের লেখা প্রথম বই। আবেগটা দারুণ। ২০-২৫টি গল্প নিয়ে বইটি তৈরি করা। আশা করছি পাঠক পড়ে আরাম পাবেন। মানুষের জীবনে বেড়ে ওঠার সময়ে অনেক কিছুই শেখা হয়। আমার মনে হয় আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপটে একটা জিনিসই কম শিখছি, সেটা হচ্ছে অনুভূতি কীভাবে ধারণ করতে হয়; সেটাকে কীভাবে প্রক্ষেপণ করতে হয়, অনুভূতির চরাই উৎরাই কীভাবে পার করতে হয় সেটা। এটা আমরা শিখি না। কারণ স্কুল-কলেজে এটা শেখানো হয় না, পরিবারেও খুব একটা হয় না। যার কারণে টিনেজ বয়সে কিংবা তার পরবর্তী বয়সে বিভিন্ন সময়ে ফ্রাস্ট্রেশন বা ডিপ্রেশন চলে আসে। আমার বইটা হচ্ছে একটা- কনভার্সেশন স্টার্টার; যেন কথার শুরু হয়। আমি বলবো না যে এভাবেই শুরু করতে হবে! আমি আমার গল্পের মাধ্যমে বলতে চাই যে, এভাবে শুরুটা হতে পারে- যোগ করেন এই গায়ক-অভিনেতা। তাহসান বর্তমানে ভালোবাসা দিবসের নাটক নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শিগগিরই তাকে দেখা যেতে পারে সিনেমায়ও। সম্প্রতি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) শুভেচ্ছা দূত নির্বাচিত হয়েছেন তাহসান খান। ...

অনিয়মের অভিযোগে চেয়ারম্যান কাউন্সিলর ও ইউপি সদস্যসহ ১১ জন বরখাস্ত

২জুন,মঙ্গলবার,ক্রাইম সোর্স প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ত্রাণ বিতরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে একদিনেই ১১ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিভাগটি। যাদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৪জন ইউপি চেয়ারম্যান, একজন পৌরসভার কাউন্সিলর ও ৬জন ইউপি সদস্য রয়েছেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, দরিদ্র মানুষকে নগদ অর্থ সহায়তা ও ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে আরও ১১ জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তাঁদের মধ্যে চারজন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ছয়জন ইউপি সদস্য এবং একজন পৌর কাউন্সিলর রয়েছেন। বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যানেরা হলেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউপির মো. আনোয়ারুল হক, একই জেলার বাজিতপুর উপজেলার হালিমপুর ইউপির হাজী মো. কাজল ভূইয়া, বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউপির মো. শাহনেওয়াজ এবং নলটোনা ইউপির হুমায়ুন কবীর। বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সিংপুর ইউপির চেয়ারম্যান করোনোভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় ত্রাণকাজে সহায়তা না করে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন। বাজিতপুরের হালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যানও দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। এ ছাড়া করোনোভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিঘ্ন সৃষ্টি, এপ্রিল মাসের ভিজিডি খাদ্যশস্য বিতরণ না করা, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়নে ব্যর্থ হওয়া এবং কারণ দর্শানোর পরিপ্রেক্ষিতে নিজে জবাব প্রদান না দিয়ে অন্যের মাধ্যমে জবাব দেওয়া। বরগুনার এম বালিয়াতলী ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে মৎস্য ভিজিএফের চাল ৮০ কেজির জায়গায় ৬০ কেজি দেওয়া এবং তালিকার বাইরেও অন্যদের চাল দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। নলটোনা ইউপির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জেলেদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, ভুয়া টিপসইয়ের মাধ্যমে চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া ইউপি সদস্যরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপজেলার মজলিশপুর ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারিছ মিয়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাছান মিয়া, বরগুনা জেলার সদর উপজেলাধীন নলটোনা ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হারুন মিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. হানিফ, ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মোসা. রানী এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মোসা. ছাবিনা ইয়াসমিন। বরখাস্ত হওয়া পৌরসভার কাউন্সিলর হলেন চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সোলাইমান বাবুল।...

প্রায় ৪শ লোককে অবৈধভাবে বিদেশে পাঠায় চক্রের অন্যতম হোতা কামাল

১জুন,সোমবার,ক্রাইম সোর্স প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা কামাল হোসেন ওরফে হাজী কামালকে গ্রেফতার করেছে RAB। প্রায় ৪শ লোককে অবৈধভাবে তিনি বিদেশে পাঠায়। RAB বলছে, তিনিই বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে মানবপাচারকারীর মূল হোতা। এরসঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে RAB। বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া হয়ে অবৈধ ভাবে ইতালিতে যাওয়া। তারা বিভিন্ন শ্রমিকদের যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখানো হয়। এবং তাদের বিদেশে যাওয়ার পরই বাকি টাকা দেবে। এ ধরনের আশ্বাস দেয়া হয়। আমারা একাধিক দালাল পেয়েছি। তারা মাদারীপুর, শরিয়রতপুরসহ বিভিন্ন জেলার লোক রয়েছে। তারা প্রথমে বাইরুটে ঢাকা থেকে কলকাতা নেয়া হয়। এই হাজী কামালই সবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা বাংলাদেশ থেকে ১০-১৫ দিন লাগে বেনগাজীতে যাওয়ার। এ চক্রটি লিবিয়াতে যাওয়ার পরই তারা টাকার জন্য পেশার দেয়া শুরু হয়। RAB জানায়, লিবিয়ার ত্রিপোলিতে কিছু কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এই বেনগাজীতে পৌঁছানোর পরই তাদের পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এরপর তাদের ত্রিপোলিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ত্রিপোলিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবারও পরিবারের কাছে ২ থেকে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। সেখানে তাদের শুরুতে ভূমধ্যসাগরে বোট চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তিনি গত ১০-১২ বছরে ৪শ লোককে পাঠিয়েছেন। তার সঙ্গে যুক্ত আছেন ১৫-১৬ জন। আমরা পুরো সার্কিটের তথ্য পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযান চলতে থাকবে। গত ২৮ মে লিবিয়ার মিজদা শহরে ২৬ জন বাংলাদেশি অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মারা যাওয়া ২৬ জনসহ ৩৮ বাংলাদেশি ও কিছু সুদানি নাগরিক প্রায় ১৫ দিন ধরে ওই অপহরণকারী চক্রের হাতে আটক ছিলেন। ইতালিতে অভিবাসনের উদ্দেশে ওই ৩৮ জন বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে লিবিয়ায় যান।...

কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রমী মোস্তফা ভুঁইয়া

২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মোঃ মোস্তফা ভুঁইয়া ১৯৫০ সালের মার্চ মাসের ৪ তারিখে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বাস গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম ডাঃ মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া, মাতার নাম মরহুমা রৌশনারা বেগম। তিনি তিন সন্তানের জনক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা, আত্মীয়স্বজন সহ অসংখ্য সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি একসময় খাদ্য অধিদপ্তরে সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে চাকুরিতে যোগদান করেন। তার চাকুরি জীবন শুরু হয় পাকিস্তানের করাচিতে। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান যা বর্তমানে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় খাদ্য অধিদপ্তরে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহন করেন। তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী স্বদেশ পার্টিতে যাত্রা শুরু করেন। তিনি আমৃত্যু স্বদেশ পার্টির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সমাজসেবা, জনকল্যাণ, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের অধিকার সংগ্রামে জড়িত ছিলেন। তিনি অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা- লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে একজন বলিষ্ট প্রতিবাদী ছিলেন। তিনি গত ২০২০ সালের ৮ আগস্ট জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পারি জমান। তার অসংখ্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সহকর্মী শোকাহিত হৃদয়ে তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে। তার অভাব পূরণ হবার নয়। তার কর্মীরা এক মূহূর্তের জন্য তাকে ভুলতে পারে না। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, শান্তি, এবং জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি। ...

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে আকুল আবেদন

২০সেপ্টেম্বর,রবিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: সকল শিক্ষারর্থীদের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হতে বিরত থাকুন। মার্চ ২০২০ হতে কোভিড-১৯ (করোনা) সংক্রমণ শুরু হয়। পর্যবেক্ষণ দেখা যায় শীত প্রধান অঞ্চলে কোভিড-১৯ সংক্রমণ অধিক। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে সংক্রমণ বেড়েই চলছে। আমাদের দেশ ঘনবসতি পূর্ণ জনবহুল দেশ। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি বেসরকারি ব্যাক্তি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রচার প্রচারণায় দেশবাসী সচেতন হয়েছে। দেশের মানুষ সতর্ক হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলছে। যার ফল আমরা প্রত্যক্ষ করছি। সামনে শীত মৌসুম। এ অবস্থায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা একেবাড়ে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিভিন্ন মহল বিশিষের দাবীর মুখে একাধিক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জানা যায় সদাসয় সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শ্রেণির পরিক্ষা ও ক্লাস শুরু করার তথ্য। অবশ্যই এই উদ্যেগ ভাল। কিন্তু এ মুহূর্তে তা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। কোভিড-১৯ একটি সংক্রামক ও ছোঁয়াছে রোগ। এর চিকিৎসা ও প্রতিরোধ ব্যাবস্থা অত্যন্ত জটিল। তাই এর সংক্রমণ ঠেকাতে আমাদের দেশের সরকার শত চেষ্ঠার পর সম্পূর্ণ সফল হতে পারেনি। অবশ্য আংশিক সফলতা, যথাপোযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অবশ্যই সরকারের সাধুবাদ। ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কৃতজ্ঞতাচিত্তে ধন্যবাদ জানাচ্ছিও। আমাদের দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি শ্রেণিতে ছাত্র-ছাত্রী অনেক। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে ক্লাস করা কোন অবস্থাতেই সম্ভব নয়। তাই সকল দিকে বিবেচনা করে, প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিশ্চিত না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাস শুরু না করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।- ...

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সফলতার সাথে শেষ হবে টিকা প্রদান : কাদের

২১,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিউজ ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা টিকা সংগ্রহ ও প্রদানের কাজ স্বচ্ছতা ও সফলতার সাথে শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা টিকা সংগ্রহ ও টিকা প্রদান কাজ স্বচ্ছতা এবং সফলতার সাথে আমরা শেষ করবো ইনশাআল্লাহ। ওবায়দুল কাদের আজ বৃহষ্পতিবার সকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ শীতার্তদের মাঝে এই শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওবায়দুল কাদের তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। করোনার টিকা নিয়ে বিএনপি আবারও অপপ্রচার শুরু করেছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনকল্যাণে নিবেদিত সরকারের যে কোন প্রশংসনীয় উদ্যোগকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করা তাদের অপরাজনীতির অংশ। তারা টিকা আসার আগেই লুটপাটের মিথ্যা অভিযোগের কলের গান অবিরাম বাজিয়ে যাচ্ছে। আমরা বলতে চাই, বিএনপি নামক গুজব পার্টির অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। প্রতিক্রিয়াশীলতা এখন বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্রের অংশ বলে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ধর্মের দোহাই ও সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে মানুষকে আর বোকা বানানো যাবে না। বিএনপি বিপদে মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে শুধু সমালোচনার তীর ছুঁড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকারান্তরে আওয়ামী লীগ যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। যা আওয়ামী লীগের গত সাত দশকের ঐতিহ্য। বিএনপি প্রো-একটিভ নয়,তাদের রাজনীতি হচ্ছে রি-একটিভ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা চারিদিকে শুধু ধ্বংস দেখতে পায়, তারা সরকারের কোন উন্নয়ন ও অর্জন দেখতে পায় না। আসলে তাদের সৃষ্টিশীলতাকে গ্রাস করেছে দুর্ভেদ্য নেতিবাচকতা। কারণ বিএনপির দৃষ্টিশক্তিতে এখন শীতের ঘনকুয়াশা জমেছে। বিএনপির রাজনীতি এখন কুয়াশাচ্ছন্ন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোতো দুরের কথা, তারা নিজেরাই শীতে কাতর। বিএনপি মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে আছে জুলুম আর লুটপাটতন্ত্র। পৌরনির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ৩য় ও ৪র্থ ধাপের নির্বাচন সামনে, তাই আবারও স্মরণ করে দিতে চাই, যারা নৌকার বিপক্ষে গিয়ে বিদ্রোহ করবে এবং জনপ্রতিনিধি বিদ্রোহে উস্কানী দিবে তাদের ভবিষ্যতে মনোনয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কোন পদ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে হবে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সম্মেলন করতে হবে। সম্মেলন করতে গিয়ে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পকেট কমিটি কোন ভাবেই করা যাবে না, দলের ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে সুযোগ করে দিতে হবে। পরে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন নেতৃবৃন্দ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরসহ সভাপতি ডা. দিলীপ রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আশরাফ তালুকদার, দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস...

কাবা শরিফ-মদিনায় জুমআ পড়াবেন শায়খ জুহানি ও হুসাইন

১৫,জানুয়ারী,শুক্রবার,ধর্ম ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আলহামদুলিল্লাহ! কাবা শরিফ ও মদিনায় পবিত্র জুমআ অনুষ্ঠিত হবে। মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জুমাদা আল-আখিরাহর প্রথম জুমআ আজ। দুই পবিত্র মসজিদের খুতবাহ ও জুমআর নামাজের জন্য দুইজন সম্মানিত শায়খকে নির্বাচিত করেছে হারামাইন কর্তৃপক্ষ। আজ ১৫ জানুয়ারি ২০২১ মোতাবেক ০২ জুমাদা আল আখিরা। নতুব বছরের তৃতীয় জুমআ ও জুমাদা আল-আখিরার প্রথম জুমআ আদায়ে মুসলিম উম্মাহর সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে মক্কা ও মদিনা। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজে অংশগ্রহণকারীরা যাদের খুতবাহ শুনবেন- কাবা শরিফ : প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার প্রসিদ্ধ ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আব্দুল্লাহ আওয়াদ আল জুহানি।- মদিনা মুনাওয়ারা : প্রসিদ্ধ ইমাম ও খতিব শায়খ ড. হুসাইন আল আশ-শায়খ। তবে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা জন্য যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে নিজস্ব মুসাল্লাসহ এ দুই পবিত্র মসজিদে জুমআর নামাজে পড়তে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ করতে হবে। উল্লেখ্য, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জুমআর নামাজের খুতবা ও নামাজ সরাসরি সম্প্রচার করবেন। হারামাইনডট ইনফোসহ অনেক চ্যানেলেও এ নামাজ সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।...

যেসব ভুলে পর্বত সমান নেক আমলও ধূলিকণায় পরিণত হবে

০৭,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,ধর্ম ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মর্যাদার দিক থেকে সৃষ্টি জগতে মানুষই সেরা। এদের মধ্যে যারা আল্লাহর বিধান যথাযথভাবে পালন করেন তারা দুনিয়া ও পরকালে সফল। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যারা আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করার পরও কিছু ভুল বা অন্যায়ের কারণে তাদের আমলনামায় থাকা পর্বত সমান নেকগুলো কোনো কাজে আসবে না বলে সতর্ক করেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সেসব লোক কারা? কী তাদের অন্যায়? প্রকাশ্যে ভালো কাজ তথা ইবাদত-বন্দেগির বিনিময়ে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাকে অনেক নেক দান করবেন। বড় বড় পর্বত সমান নেকও সামান্য ভুল তথা অন্যায়ের কারণে কোনো কাজে আসবে না। হাদিসে বর্ণনায় তাদের সুস্পষ্ট বিবরণ ওঠে এসেছে- হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই আমি আমার উম্মাতের কয়েকটি দল সম্পর্কে জানি, যারা কেয়ামতের দিন তিহামার শুভ্র পর্বতমালার সমতুল্য নেক আমল নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলা সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেবেন। (এ কথা শুনে) হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাদের পরিচয় পরিস্কারভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করুন; যাতে আমরা যেন নিজেদের অজান্তে তাদের দলভূক্ত হয়ে না যাই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- তারা তোমাদেরই ভাই; তোমাদের সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত। তোমাদের সঙ্গেই (একই সমাজে) বসবাস করে। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতই (আল্লাহর) ইবাদত করে। কিন্তু তারা এমন লোক যে- একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে লিপ্ত হয়। (ইবনে মাজাহ)। হারাম কাজগুলো কী হতে পারে? কুরআনুল কারিমের ঘোষণা- নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন। এ শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ অনেক সময় আল্লাহ তাআলা কর্তৃক হারাম ঘোষিত কাজও করে থাকে। অথচ তারা সমাজে সবার সঙ্গে আল্লাহর সব বিধান মেনে চলা ব্যক্তি। কিন্তু গোপনে সুযোগ পেলেই- দৃষ্টির খেয়ানত করে। সামনাসামনি কারো দিকে না তাকালেও পেছনে কিংবা লুকিয়ে এ কাজটি করে থাকে। লজ্জাস্থানের খেয়ানত করে। সবার সামনে অনেক পরহেজগার কিন্তু লোক চোখের অন্তরালে চারিত্রিক কুলষতায় জড়িয়ে পড়ে। মানুষের অধিকার নষ্ট করে। গোপনে মানুষ ধন-সম্পদ, জমা-জমি ও ফল-ফসলের ক্ষতি করে। নির্জনে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় জানা-অজানা হারাম অনেক কাজে নিয়োজিত হয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদিসে মানুষের গোপন সেসব অন্যায় অপরাধের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করার কথা বলেছেন। যেন তাদের এসব অন্যায় অপরাধের কারণে দুনিয়ার জীবনের সব নেক আমলগুলো পরকালে ধূলিকনায় পরিণত না হয়। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। গোপনে হারাম কাজে জড়িত হওয়া থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন। ...

ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: শহীদুল হক

স্পেশাল প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের পর খুন হওয়া মেয়েটি জীবিত ফেরার পর পুলিশের তদন্ত এবং রিমান্ডপ্রক্রিয়া আরো একবার প্রশ্নের মুখে। বিরাট প্রশ্ন ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়েও। এসব প্রশ্ন নিয়েই পুলিশের সাবেক আইজি শহীদুল হকের মুখোমুখি হয়েছিলেন নিউজ একাত্তর একজন স্পেশাল প্রতিনিধি। প্রশ্ন : সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের মামলায় তিনজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেছে, তারাই ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ওই ছাত্রী জীবিত ফিরে এসেছে। পুলিশের পুরো তদন্তব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল না? শহীদুল হক : দেখুন, এখানে যে সঠিক তদন্ত হয়নি তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা হয়তো পুলিশের ভয়েই এটা করেছে। এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সত্য তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা যা তা হলো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় বাদীপক্ষের চাপে বা বাদীপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক কোনো সুযোগ নিয়ে কাউকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। কাউকে কাউকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে। প্রশ্ন : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তে তো জজ মিয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শহীদুল হক : সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে, সরকারের চাপে জজ মিয়ার নাটক সাজানো হয়েছে। ওই ঘটনা পুলিশ বাহিনীর জন্য দুঃখজনক। তবে মনে রাখতে হবে, ওটা ছিল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ২১ আগস্ট মামলায় প্রথমদিকে যা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা ভালো হলে তাঁর ওপর সরকারের চাপ থাকলে প্রয়োজন হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে পারতেন। তা কিন্তু করেননি। দুর্নীতিপরায়ণ দুই-চারজন তদন্ত কর্মকর্তার কারণেই মাঝে মাঝে পুলিশের ওপর দোষ চাপে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমি চাঁদপুরের এসপি পদে থাকার সময় সেখানে একজন ওসি ছিল, মিয়া মো. শরীফ। তাকে কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছিল না। এক প্রভাবশালীর ছত্রচ্ছায়ায় একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলো। কিন্তু সে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে চলে গেল। এরপর একদিন তৎকালীন আইজি মহোদয় আমাকে ফোন করে বললেন, এটা নিয়ে যেন আমি আর কথা না বলি। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। আমি চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি। প্রশ্ন : কিন্তু এ রকম একজন-দুজনের কারণে তো গোটা পুলিশ বাহিনীর ওপরই দায় চলে আসছে। শহীদুল হক : এক-দুজনের কারণে গোটা বাহিনী কলঙ্কিত হতে পারে না। হয়ও না। দেশের মানুষ সচেতন। তারা সব বোঝে। দেখুন, করোনাভাইরাসের মতো মহামারির সময় এই পুলিশ বাহিনীর কর্মকাণ্ড সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছে। জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সবাই দেখছে। পুলিশের এত ভালো কাজের মধ্যে দু-একটি ঘটনা গোটা বাহিনীর সাফল্যকে ম্লান করে দিতে পারে না। প্রশ্ন : প্রতিটি ক্রসফায়ারের ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা সব ঘটনার ক্ষেত্রে একই ধরনের। সত্যি বললে মানুষের কাছে এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। হাসাহাসিই হয় অনেক ক্ষেত্রে। শহীদুল হক : আমি নিজেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিশ্বাস করি না। কেউ অপরাধ করলে তাকে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তবে একটা কথা, আমাদের দেশে মাঝে মাঝে কিছু এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে। এই ক্রসফায়ারের ঘটনার প্রেক্ষাপট জানতে হবে। দেশে অনেক বড় বড় সন্ত্রাসী ছিল, যাদের গ্রেপ্তার করে রাখা যেত না। কয়েক দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আরো বড় বড় অপরাধ করত। আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে শুরু হয় ক্রসফায়ারের ঘটনা। তখন বড় সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। দেশের মানুষ ওটাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দিয়েছে। এভাবে দেখলে, সেই সময় ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আরেকটা কথা, কোনো মামলায় অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর অভিযোগপত্র দেওয়া হয় আদালতে। কিন্তু আদালতে মামলা বছরের পর বছর পড়ে থাকে। বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আরো অপরাধ করে। দেশে যদি দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন হতো এবং আসামিদের যদি জামিন না হতো তাহলে এই ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটত না বল মনে করি। প্রশ্ন : ক্রসফায়ারে নিরীহ মানুষ হত্যার অভিযোগ উঠছে। কখনো কখনো অর্থ নিয়ে বা অর্থের জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এমনও আমরা দেখছি... শহীদুল হক : এ রকম দু-একটি ঘটনা যে ঘটছে না তা বলা যাবে না। এ কারণেই তো এটা নিয়ে এত কথা হচ্ছে। আমার কথা হলো, এ রকম নিরীহ মানুষ হত্যা করা হলে জড়িত আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা দরকার। প্রশ্ন : দেখা যায়, আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড়জোর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করার ঘটনা ঘটে। এরপর আর কিছু হয় না। শহীদুল হক : এ কথা সত্য নয়। প্রথামিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত, বেতন কমানো, পদের অবনমন ইত্যাদি ঘটনা ঘটে। এ রকম বহু ঘটনা আছে। যা কখনো মিডিয়ায় আসে না বলেই মানুষ প্রথমটুকুই দেখে মূল্যায়ন করে। পরেরটুকু দেখলে বা মিডিয়ায় এলে মানুষের ভুল ধারণা কেটে যাবে। ...

জামাল খানের উন্নয়নই আমার একমাত্র চাওয়া: কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন

০১মার্চ,রবিবার,কমল চক্রবর্তী,বিশেষ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন এলাকার উন্নয়ন ভাবনা ও আগামী নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা নিউজ একাত্তর এর কাছে তুলে ধরেন। শনিবার ২৯শে ফেব্রুয়ারি বিকালে তার নিজ কার্যালয়ে নিউজ একাত্তরকে দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার নানা কর্মকাণ্ড ও এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তার চিন্তা ধারার কথা তথা আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি এলাকার জন্য কি কি কাজ করবেন তা সবিস্তর ব্যক্ত করেছেন। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি তার অনুভুতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়ে অনেক খুশী যে তাকে আবারও মুল্যায়ন করেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন প্রধানমন্ত্রীকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানান তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য। তার উপর আস্থা রাখার জন্য। তিনি প্রধানমন্ত্রীর আস্থার প্রতিদান দিবেন। তিনি মনে করেন এই মনোনয়ন এর মধ্য দিয়ে তার দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেলো এবং কাজের গতি দ্বিগুন বেড়ে গেছে। কাউন্সিলর প্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন জানান, আজকের এই নান্দনিক জামাল খানের রুপান্তর সম্ভব হয়েছে মানুষের সহযোগিতার জন্য। ওয়ার্ডবাসী তাদের মুল্যবান রায় দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে এবং আমার উপর আস্থা রেখেছেন। যার ফলে তিনি বিগত পাঁচ বছরে নগরীর জামাল খান ওয়ার্ডকে একটি নান্দনিক জামাল খানে রুপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন। এক সময় যে জামাল খানে একটু রাত হলেই ঘনিয়ে আসতো অন্ধকার, স্ট্রিট লাইট গুলো জ্বলত মিট মিট করে। গনি ব্যাকারী থেকে জামাল খান পর্যন্ত নেমে আসা নিরবতার কারনে বেড়ে যেত ছিনতাই আর নেশা খোরদের আনাগোনা। সেই জামাল খান আজ চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের একটি আদর্শ ওয়ার্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। ৪১ টি ওয়ার্ডের মধ্যে একটি অন্যতম ওয়ার্ড হিসাবে পরিচিত। চারিদিকে সবুজের সমারোহ তিরি করা হয়েছে, লাগানো হয়েছে বিচিত্র গাছ গাছালি ও ফুলের বাগান। সেই সাথে রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য বসার স্থান। সড়ক জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে এলডি বাল্ব।পথচারীদের বিশ্রামের জন্য বসানো হয়েছে ছাউনি। জামাল খানের প্রতিটি দেয়ালে দেয়ালে বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সুনিপুণ কারুকাজ করা হয়েছে। যা ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেয়। গোল চক্করে স্থাপন করা হয়েছে রঙ্গিন ফোয়ারা যা জামাল খানের সৌন্দর্যকে অনেক খানি বাড়িয়ে দিয়েছে। বসানো হয়েছে লাইভ ফিশ একুরিয়াম( স্ট্রিট একুরিয়াম)। অতি সম্প্রতি দেয়ালে স্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম কাঁচের তৈরি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। তিনি এলাকার মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। মাদক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবেন। যুবক সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত রাখতে কাজ করবেন। তার এলাকায় জলজট নেই তবে কিছুটা জলাবদ্ধতা আছে। তিনি আশা বাদী সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ ভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্পের কাজ করছে। এটির বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি নিরসন করা যাবে। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে এই জামাল খানকে বিশ্বের একটি আধুনিক ওয়ার্ডে রুপান্তর করবেন। পার্কের আদলে গড়ে তুলবেন পুরো জামাল খানকে। জামাল খানে গড়ে তুলবেন একটি সমন্বিত বার্ড জোন ও একটি পাঠাগার। জামালখান কে তামাক মুক্ত ও ফুটপাত হকার মুক্ত রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। তাছাড়া এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আনসার নিয়োগের পরিকল্পনা ও রয়েছে। তিনি ২১ নং জালাল খানের ওয়ার্ড বাসীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন, তার শৈশব কৈশোর কেটেছে এই জামাল খানে। এই এলাকার সাথে তার আত্মার সম্পর্ক। আপনারা আমার পরম আত্মীয়। তাকে আবারও নির্বাচিত করে আরও একটিবার সুযোগ দেওয়ার জন্য যাতে এলাকাবাসীর সেবা করতে পারেন। সেই সাথে দলীয় নেতা কর্মীদের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তাকে সহযোগিতা করার জন্য। তিনি নির্বাচিত হলে সব সময় সুখে দুঃখে এলাকাবাসীর পাশে থাকবেন। অতীতের মত নিরলস ভাবে কাজ করে যাবেন এবং জনগনের ভালোবাসার প্রতিদান দিবেন। জামালখান বাসী আমরা সবাই একটা পরিবার। আপনারা যদি মনে করেন আমাকে বিগত পাঁচ বছরে আপনাদের কাছে পেয়েছেন তাহলে আমাকে আবার সেবা করার সুযোগ দিবেন। ...

কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রমী মোস্তফা ভুঁইয়া

২২সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: মোঃ মোস্তফা ভুঁইয়া ১৯৫০ সালের মার্চ মাসের ৪ তারিখে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বাস গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম ডাঃ মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া, মাতার নাম মরহুমা রৌশনারা বেগম। তিনি তিন সন্তানের জনক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা, আত্মীয়স্বজন সহ অসংখ্য সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি একসময় খাদ্য অধিদপ্তরে সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে চাকুরিতে যোগদান করেন। তার চাকুরি জীবন শুরু হয় পাকিস্তানের করাচিতে। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান যা বর্তমানে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পুনরায় খাদ্য অধিদপ্তরে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহন করেন। তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী স্বদেশ পার্টিতে যাত্রা শুরু করেন। তিনি আমৃত্যু স্বদেশ পার্টির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সমাজসেবা, জনকল্যাণ, কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের অধিকার সংগ্রামে জড়িত ছিলেন। তিনি অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা- লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে একজন বলিষ্ট প্রতিবাদী ছিলেন। তিনি গত ২০২০ সালের ৮ আগস্ট জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পারি জমান। তার অসংখ্য রাজনৈতিক, সামাজিক, সহকর্মী শোকাহিত হৃদয়ে তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে। তার অভাব পূরণ হবার নয়। তার কর্মীরা এক মূহূর্তের জন্য তাকে ভুলতে পারে না। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, শান্তি, এবং জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করছি।


ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: শহীদুল হক

স্পেশাল প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের পর খুন হওয়া মেয়েটি জীবিত ফেরার পর পুলিশের তদন্ত এবং রিমান্ডপ্রক্রিয়া আরো একবার প্রশ্নের মুখে। বিরাট প্রশ্ন ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়েও। এসব প্রশ্ন নিয়েই পুলিশের সাবেক আইজি শহীদুল হকের মুখোমুখি হয়েছিলেন নিউজ একাত্তর একজন স্পেশাল প্রতিনিধি। প্রশ্ন : সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের মামলায় তিনজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেছে, তারাই ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ওই ছাত্রী জীবিত ফিরে এসেছে। পুলিশের পুরো তদন্তব্যবস্থাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল না? শহীদুল হক : দেখুন, এখানে যে সঠিক তদন্ত হয়নি তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। যে তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা হয়তো পুলিশের ভয়েই এটা করেছে। এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সত্য তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ ক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা যা তা হলো, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় বাদীপক্ষের চাপে বা বাদীপক্ষের কাছ থেকে অনৈতিক কোনো সুযোগ নিয়ে কাউকে মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। কাউকে কাউকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে। প্রশ্ন : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তে তো জজ মিয়ার ঘটনাও ঘটেছে। শহীদুল হক : সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে, সরকারের চাপে জজ মিয়ার নাটক সাজানো হয়েছে। ওই ঘটনা পুলিশ বাহিনীর জন্য দুঃখজনক। তবে মনে রাখতে হবে, ওটা ছিল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ২১ আগস্ট মামলায় প্রথমদিকে যা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা ভালো হলে তাঁর ওপর সরকারের চাপ থাকলে প্রয়োজন হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে পারতেন। তা কিন্তু করেননি। দুর্নীতিপরায়ণ দুই-চারজন তদন্ত কর্মকর্তার কারণেই মাঝে মাঝে পুলিশের ওপর দোষ চাপে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমি চাঁদপুরের এসপি পদে থাকার সময় সেখানে একজন ওসি ছিল, মিয়া মো. শরীফ। তাকে কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছিল না। এক প্রভাবশালীর ছত্রচ্ছায়ায় একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছিল। একপর্যায়ে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হলো। কিন্তু সে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে চলে গেল। এরপর একদিন তৎকালীন আইজি মহোদয় আমাকে ফোন করে বললেন, এটা নিয়ে যেন আমি আর কথা না বলি। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। আমি চাপের কাছে নতি স্বীকার করিনি। প্রশ্ন : কিন্তু এ রকম একজন-দুজনের কারণে তো গোটা পুলিশ বাহিনীর ওপরই দায় চলে আসছে। শহীদুল হক : এক-দুজনের কারণে গোটা বাহিনী কলঙ্কিত হতে পারে না। হয়ও না। দেশের মানুষ সচেতন। তারা সব বোঝে। দেখুন, করোনাভাইরাসের মতো মহামারির সময় এই পুলিশ বাহিনীর কর্মকাণ্ড সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছে। জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সবাই দেখছে। পুলিশের এত ভালো কাজের মধ্যে দু-একটি ঘটনা গোটা বাহিনীর সাফল্যকে ম্লান করে দিতে পারে না। প্রশ্ন : প্রতিটি ক্রসফায়ারের ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা সব ঘটনার ক্ষেত্রে একই ধরনের। সত্যি বললে মানুষের কাছে এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। হাসাহাসিই হয় অনেক ক্ষেত্রে। শহীদুল হক : আমি নিজেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিশ্বাস করি না। কেউ অপরাধ করলে তাকে বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তবে একটা কথা, আমাদের দেশে মাঝে মাঝে কিছু এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে। এই ক্রসফায়ারের ঘটনার প্রেক্ষাপট জানতে হবে। দেশে অনেক বড় বড় সন্ত্রাসী ছিল, যাদের গ্রেপ্তার করে রাখা যেত না। কয়েক দিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে এসে আরো বড় বড় অপরাধ করত। আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালে শুরু হয় ক্রসফায়ারের ঘটনা। তখন বড় সন্ত্রাসীরা ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। দেশের মানুষ ওটাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দিয়েছে। এভাবে দেখলে, সেই সময় ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে বলেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আরেকটা কথা, কোনো মামলায় অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর অভিযোগপত্র দেওয়া হয় আদালতে। কিন্তু আদালতে মামলা বছরের পর বছর পড়ে থাকে। বিচারের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণেই আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আরো অপরাধ করে। দেশে যদি দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন হতো এবং আসামিদের যদি জামিন না হতো তাহলে এই ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটত না বল মনে করি। প্রশ্ন : ক্রসফায়ারে নিরীহ মানুষ হত্যার অভিযোগ উঠছে। কখনো কখনো অর্থ নিয়ে বা অর্থের জন্য এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এমনও আমরা দেখছি... শহীদুল হক : এ রকম দু-একটি ঘটনা যে ঘটছে না তা বলা যাবে না। এ কারণেই তো এটা নিয়ে এত কথা হচ্ছে। আমার কথা হলো, এ রকম নিরীহ মানুষ হত্যা করা হলে জড়িত আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা দরকার। প্রশ্ন : দেখা যায়, আইন-শৃঙ্খল বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড়জোর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করার ঘটনা ঘটে। এরপর আর কিছু হয় না। শহীদুল হক : এ কথা সত্য নয়। প্রথামিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত, বেতন কমানো, পদের অবনমন ইত্যাদি ঘটনা ঘটে। এ রকম বহু ঘটনা আছে। যা কখনো মিডিয়ায় আসে না বলেই মানুষ প্রথমটুকুই দেখে মূল্যায়ন করে। পরেরটুকু দেখলে বা মিডিয়ায় এলে মানুষের ভুল ধারণা কেটে যাবে।

ক্ষমতা আর টাকার নিকট জিম্মি প্রিয় রাজনীতি- তসলিম উদ্দিন রানা

৩০ডিসেম্বর,বুধবার,নিউজ একাত্তর ডট কম: এডভোকেট আইয়ুব হোসেন মৃত্যু্ঞ্জয়ী- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ৮২ এর দিকে দাপুটে নেতা ছিলেন।১৯৮৪ সালে শিবিরের সাথে সংঘর্ষ হয় এতে শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করতে গিয়ে ও তাদেরকে বিতাড়িত করতে গিয়ে শিবিরের ৪ জন নিহত হওয়ার পর এরশাদ সরকার মার্শাল আইনে বিচারের পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে আর সেই মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সংকটময় জীবন যাপন করে।সেই দুঃসময়ে রাজনীতি করতে গিয়ে তার জীবনে নেমে আসে এক কালো অধ্যায়।সেই দুঃসময়ের কাল অতিক্রম করে এগিয়ে যায়। তারপর প্রাইভেটে লেখাপড়া করেন আর নওগা জেলায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এক সময়ে ৮৮সালের দিকে (সুলতান - রহমান) কমিটি অনুমোদিত নওগা জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ৯৪ সালের দিকে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হন।১৯৯৮ সালে ধামরাইহাট ইউনিয়ন বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ও এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ করেন। ৮০,৯০ দশকের জিয়া,এরশাদ স্বৈরচ্চার বিরোধী আন্দোলন,,৯৬ খালেদা বিরোধী আন্দোলন ও ২০০১,১/১১ আন্দোলন সংগ্রামে আইয়ুবের অনেক অবদান আছে তা ভুলবার নয়।তার পরিবারের দুই ভাই মুক্তিযোদ্ধা আর পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ। এমনকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অতুলনীয়।অনেক সংগ্রাম আর আন্দোলন করে দলকে ক্ষমতায় আনলে তাদের কপালে জুটল না কোন পদবী বা জনপ্রতিনিধি। দেশের সেরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতার পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজের মাধ্যমে নিজ গুণে একবার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান হলেও আর কখনো স্থানীয় এমপির দাপটে কোন পদবী এমনকি তার নিজ পৌরসভা ধামরাইহাট দীর্ঘ ১৫ বছর পর নির্বাচন হলে তৃনমুল থেকে তার নাম পর্যন্ত দেয়নি।যার কারণে কেন্দ্রীয় নেতার সুপারিশ নিয়ে নমিনেশন নিলেও ক্ষমতা আর টাকার নিকট পরাজিত হয়ে নমিনেশন পায়নি। ছোট একটা পৌরসভা নওগা জেলার ধামরাইহাট।প্রায় ১৫ বছর যাবত কোন নির্বাচন ছাড়া মেয়র ছিলেন এমপির লোক।সেই ১৫ বছরের জঞ্জাল সরানোর জন্য আদর্শিক ও পরিক্ষীত এডভোকেট আইয়ুব হোসেন মামলা পরিচালনা করে জিতে নির্বাচন করাচ্ছে আর সেই নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লাভের আশায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা স্থানীয় সরকার কমিটির প্রতিটি সদস্যদের কাছে আকুতি মিনতি এমনকি কান্নায় জর্জরিত হয়ে তার রাজনীতির ত্যাগের কথা তুলে ধরলেও নমিনেশন বোর্ড তাকে নমিনেশন দেয়নি।অসহায় হয়ে খালি হাতে বাড়িতে যেতে হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা। আজ অবহেলিত ও আদর্শিক যোদ্ধা আইয়ুবের কোন মুল্যায়ন নাই।সব জায়গায় হাইব্রিড,চামচা,ব্যবসায়ী,এমপিলীগের কাজে বন্দী মনোনয়ন।আর কত ত্যাগ করলে জুটবে দলীয় মনোনয়ন সেটা প্রশ্ন আইয়ুবের মত হাজারো রাজনৈতিক পরিক্ষীত ও আদর্শিক কর্মীর?কখন তাদের ভাগ্য আর দলের আদর্শিক যোদ্ধারা মনোনয়ন পাবেসেটা তার প্রশ্ন? আইয়ুব মেয়র প্রার্থী ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতা ও বোর্ডের সদস্যদের নিকট গিয়েছিলেন সামান্য একটা মেয়র হওয়ার জন্য কিন্তু সেই তার ত্যাগের মূল্যায়ন পায়নি।সেখানে দেওয়া হয়েছে দলের নবাগত রাজনীতিক এমপির ঘনিষ্ঠ ভাজন লোক।এমপির বাইরে লোকজন রাজনীতির মাঠে কোন পদে বা দলীয় নমিনেশন দেবে না সেটা সেই দাম্ভিকতার সাথে বলেছে। এমনকি ওয়ার্ড,ইউনিয়ন,উপজেলায় সব জায়গায় তার লোক ভালো পদে অধিষ্ঠিত।কেউ ভয়ে কোন কিছু বলেনা।সেখানে আদর্শিক ও পরিক্ষীত আওয়ামী লীগ খুবই অসহায়। দেখার কেউ নাই।সবাই ক্ষমতার নিকট জিম্মি। আইয়ুবের মত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মেয়র হলে তাদের অসুবিধা।কেননা আইয়ুবের সব বন্ধুরা সচিব,অতিরিক্ত সচিব বা ভালো পদে আছে।প্রশাসনের কর্মকর্তাগন তার নিকট কোন বিষয় নয়।এডভোকেট আইয়ুবের তো শিক্ষিত,ত্যাগী ও আদর্শিক ছাত্রনেতারা মফস্বল এলাকায় নেতৃত্বে আসলে লোকাল প্রশাসন দলীয় নেতা কর্মিকে একটু সমীহ করে চলবে।কারণ -প্রশাসনের কর্তাবাবুরা কোন না কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে চাকুরীতে এসেছে।তারা আইয়ুবদের মতো কারো না কারো বন্ধু, বড় ভাই বা ছোট ভাই হবে।কাজ করা তার জন্য খুব সহজ হবে।সব বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে যেতে কোন সমস্যা হবে না।এলাকার উন্নয়ন করতে এমপির প্রয়োজন হবেনা আর জনতার নেতা হবে বলে স্থানীয় এমপি সাহেব ত্যাগী ও আদর্শিক আইয়ুবদেরকে এত ভয় পায়। আইয়ুবদের দলে বা জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে যথাযথ মূল্যায়ন হলে পরিক্ষীত আর আদর্শিক যোদ্ধারা বেশি খুশী হতাম। দলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মাননীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে নতুন উদ্যোমে এগিয়ে যেত।দল সুসংগঠিত হত আর আদর্শ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে আইয়ুবেরা আজীবন কাজ করত। লেখক: তসলিম উদ্দিন রানা, সাবেক ছাত্র নেতা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা।

আজকের মোট পাঠক

49433

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : আহাম্মদ হোসেন ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা | রেজি নং: চ-১২৪২৭/১৭

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা ০২৪৩১৫০৪৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১৯/২০/২১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত