স্টুপিড বললেন উত্তর কোরিয়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টকে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে ‘স্টুপিড’ বলে অভিহিত করেছেন উত্তর কোরিয়ার এক কর্মকর্তা। সেই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কূটনীতি ব্যর্থ হলে উত্তর কোরিয়া ‘পরমাণু শোডাউন’ শুরু করতে পারে। বৃহস্পতিবার উত্তর কোরিয়ার ওই কর্মকর্তা জানান, পিয়ংইয়ং আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে করজোড় করবে না অথবা তাদেরকে আলোচনায় বসতে প্ররোচিতও করবে না। আগামী ১২ জুন সিঙ্গাপুরে সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে। তবে সাম্প্রতিককালে উভয়পক্ষই একে অপরকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আগামী ১২ জনের সম্মেলন বিলম্বিত কিংবা প্রত্যাহার হতে পারে। ফলে কার্যত সম্মেলনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পিয়ংইয়ং জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি একতরফাভাবে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র বর্জনের কথা বলে তবে তারা দেশটির সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। আগে মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়াকে আলোচনায় বসতে হলে আগে শর্ত পূরণ করতে হবে। গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক আলোচনায় জড়িত ছিলেন চো সান-হি নামের উত্তর কোরিয়ার ওই কর্মকর্তা। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ’র এক প্রতিবেদনে এই নারী কূটনীতিক বলেন, সাম্প্রতিককালে মাইক পেন্স মিডিয়ায় লাগামহীন ও ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তার মন্তব্যে এটিও ছিল যে, উত্তর কোরিয়া লিবিয়ার মতো শেষ হয়ে যাবে। উত্তর কোরিয়াকে লিবিয়ার সাথে তুলনা করায় মাইক পেন্সকে ‘রাজনৈতিক সাক্ষী-গোপাল’ উল্লেখ করে চো সান-হি বলেন, লিবিয়া কেবল কয়েকটি যন্ত্রপাতি ছিল এবং তাই ঢোল পিটিয়ে বেড়াত। উত্তর কোরিয়া এমনটি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্টের এমন অজ্ঞ ও স্টুপিড বক্তব্য মুখ থেকে নিঃসৃত হওয়া দেখে আমি আমার বিস্ময় প্রকাশের ভাষা হারিয়ে ফেলেছি বলেও উল্লেখ করেন উত্তর কোরিয়ার ওই কর্মকর্তা।...

সৌদি রাজা ও যুবরাজকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান খালেদ বিন ফারহানের

সৌদি আরবের রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদ মাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের জন্য তার দুই চাচা প্রিন্স আহমেদ বিন আব্দুল আজিজ ও প্রিন্স মুকরিন বিন আব্দুল আজিজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার আহ্বানে ইতোমধ্যে অনেকেই সাড়া দিয়েছেন।জার্মানিতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান। তিনি বর্তমান রাজা ও যুবরাজের সমালোচনা করে বলেছেন, বর্তমান রাজা সালমান এবং তার ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ রাজপরিবারের অনেক ক্ষতি করেছেন। তারা যে মর্যাদা হানি করেছেন তা আর ফিরে পাওয়া যাবে না। রাজা ও যুবরাজের অযৌক্তিক ও বাজে সিদ্ধান্তের কারণেই সৌদি রাজপরিবারের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।খালেদ বিন ফারহান বলেন, রাজা এবং তার ছেলেকে ক্ষমতা থেকে সরালে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীসহ সবাই তাদের সমর্থন জানাবে। ইতোমধ্যে তিনি সেনাবাহিনী এবং পুলিশের কাছ থেকে অভ্যুত্থানের সমর্থনে অনেক ই-মেইল পেয়েছেন বলেও জানান। তিনি বলেন, বর্তমান যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের মানসিক সমস্যা রয়েছে। স্কুলে একসঙ্গে পড়ার সময় তিনি বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন বলে জানান ফারহান। সৌদি আরবের নির্বাসিত প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান এমন সময় এসব বক্তব্য দিলেন যখন যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান এক মাসের বেশি সময় ধরে রহস্যজনকভাবে জনসমক্ষে আসছেন না। গত ২১ এপ্রিল রিয়াদে অভ্যুত্থান চেষ্টার পর থেকেই তাকে আর দেখা যাচ্ছে না। প্রিন্স ফারহান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ২১ এপ্রিলের ঘটনাও প্রমাণ করে সৌদি আরবে বর্তমান রাজার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি রয়েছে।...

যৌথ তদন্তে তুর্কি-বিদেশি গোয়েন্দারা,এরদোগানের ওপর হামলার তথ্য ফাঁস

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগানের ওপর হামলার প্রস্তুতির তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। হামলা সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনসমূহ তদন্তের জন্য তুরস্ক ও বলকান রাষ্ট্রগুলোর গোয়েন্দারা যৌথভাবে কাজ করছে। তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সমপ্রচারকারী চ্যানেল টিআরটি এ খবর জানিয়েছে। নির্ধারিত সফরে বসনিয়া ও হারজেগোভিনা যাওয়ার কথা প্রেসিডেন্ট এরদোগানের। তার এই সফরের ঠিক আগ মুহূর্তে সম্ভাব্য এই হামলার তথ্য প্রকাশ পেল। দেশটিতে বসবাসরত তুর্কিদের কাছ থেকে সম্ভাব্য এই হামলার তথ্য পায় মেসিডোনিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। পরে তথ্যটি তারা তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে স্থানান্তর করেন। তুর্কি উপ-প্রধানমন্ত্রী বেকির বোজাদাগ তার টুইটার পেজে লিখেছেন,আমরা জানি যে এমন কিছু গোষ্ঠী রয়েছে, যারা আমাদের এইরকম দৃঢ়চেতা নেতাকে সহ্য করতে পারে না, তাই তারা তাকে হত্যা করতে চায়। তার ওপর পরিকল্পিত হামলার অনেক প্রতিবেদন রয়েছে। আমাদের প্রেসিডিন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগান এমন ব্যক্তি নন, যিনি হুমকিকে ভয় পাবেন এবং তার নীতি পরিবর্তন করবেন। যারা এখনো তাকে বুঝতে পারেননি, তারা বোকা। টানা ১১ বছর তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন শেষে এরদোগান ২০১৪ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট হন। আগামী জুন মাসে তুরস্কের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এই নির্বাচনে এরদোগান দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য অংশ নিচ্ছেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে কসোভোর গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ফেতুল্লাহ গুলেনের ৬ সিনিয়র সদস্য আটক করেছিল। প্রসঙ্গত, গত বছর তুরস্কের বর্তমান প্রেসিডেন্টের দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার সুযোগ সৃষ্টি করতে গণভোটের সময় দেশটির বাইরে এ ধরনের সমাবেশের আয়োজন করা হয়। কিন্তু তখন জার্মানীসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ ওই সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ জন্য সারাজেভোতে এরদোগানের নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত আঙ্কারা ও ব্রাসেলসের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। স্পুটনিক নিউজ, এএফপি।...

রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি

রমজানের শুরুতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। গরু আর খাসির মাংস ছাড়া সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না অন্য কোনো পণ্য। তবে টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। হঠাৎ করে ৫০ টাকার বেগুন ৯০ টাকা, শসা ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও শুক্রবারে দেখা যায় ভিন্নচিত্র। বৃষ্টির কারণে শশা, গাজর, কাঁচামরিচ ও বেগুনের দাম গতকালের চেয়ে কিছুটা কমেছে।বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে রমজানের শুরুতেই বাজারদরের ছন্দপতন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। বাজারে সব সবজিই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ৪০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি মিলছেই না।রাজধানীর বাজারে একমাত্র গরু আর খাসির মাংস ছাড়া আর কোনো পণ্যই সরকারের বেধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না। রমজানের অজুহাতে ব্রয়লার বা দেশি মুরগি দুটোর দামই চড়া। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমলেও মানছেন না বিক্রেতারা। সবজির বাজারেও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি...

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

চট্টগ্রাম নগরীতে অভিযান চালিয়ে সালাহ উদ্দিন প্রকাশ দুলাল নামে তালিকাভুক্ত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। শনিবার ভোরে আসাদগঞ্জ আনসার ক্লাবের মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত দুলাল কোতোয়ালী থানাধীন খাতুনগঞ্জ রামজয় মহাজন লেইনের মৃত মফজ্জল আহম্মদের ছেলে। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ইয়াবাসহ সালাহ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সালাহ উদ্দিন তালিকাভুক্ত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের সদস্য। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় ১৫টির বেশি মামলা আছে।...

চট্টগ্রাম ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

চট্টগ্রামের একটি দূরপাল্লার বাসে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের সামনে এ অভিযান চালানো হয়।তারা হলেন- চালক মাসুদ রানা (৪০), সহকারী জয়নাল আবেদিন (২০) ও সুপারভাইজার আবুল কালাম (৩৮)। লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামলী পরিবহনের একটি এসি বাসে তল্লাশি চালানো হয়। পরে বাস থেকে ইয়াবাসহ চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারকে গ্রেফতারের পাশাপাশি বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়-দীর্ঘ দিন ধরে তারা ইয়াবা পাচারের কাজ চালিয়ে আসছিল। তাদের মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।...

খুলশী ক্লাব লিঃ ইফতার মাহফিলে বক্তারা, সঠিক যাকাত বন্টন দারিদ্র বিমোচনে ভুমিকা রাখে

খুলশী ক্লাব লিঃ এর উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমযানে উপলক্ষে মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে যাকাত প্রদান অনুষ্ঠান ক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব শামসুল আলমের সভাপতিত্বে গত ২৫মে বিকেল ৫টায় ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাওলানা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন তালুকদার, ক্লাবের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আহমদুল হক, ক্লাবের সম্মানিত পরিচালক দৈনিক পুর্বকোণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দীন চৌধুরী, ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ এম,এ,করিম,অর্থ সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল কাদির, প্রেস ও মিডিয়া সম্পাদক সাংবাদিক হাসান আকবর, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডাঃ শংকর কুমার ঘোষ, সাংস্কৃৃতিক সম্পাদক অমল চন্দ্র দাশ, অধ্যাপক আনিসুল আলম, রফিকুল ইসলাম, ফজলুর রহমান পারভেজ, ডাঃ আবদুর রহমান, ডাঃ নুরুল কিবরিয়া, আমির হোসেন, শওকত আলী তালুকদার, মীর্জা জামশেদুল আলম, আমিরুল হুদা কোরাইশী, ডাঃ কুতুব উদ্দীন, মোঃ ফিরোজ উদ্দীন, ডাঃ সাদেক, ডাঃ জসিম উদ্দীন, এড,এম,এ,ওয়াহেব, নুরুল আবছার চৌধুরী প্রমুখ। সভায় প্রধান আলোচক তার বক্তব্যে বলেন রমযান আমাদেরকে আতœশুদ্ধি ও আতœত্যাগের শিক্ষা দেয়। রমযানে আমরা ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও মানুষকে সহযোগিতা করার সুযোগ পায়। এই রমযানে আমরা ধর্মীয় মুল্যবোধে আল কোরআনের শিক্ষা নিজে গ্রহণ ও অনুধাবন করার শ্রেষ্ঠ সুযোগ পেয়ে থাকি। তিনি বলেন কোরআন নিজে তেলওয়াত করে যে সওয়াব লাভ করা যায় অন্যের মাধ্যমে কোরআন খতম বরে ততটুকু সওয়াব কখনো লাভ করা সম্ভব না। যেমন ডাক্তার আমাকে রোগের জন্য যে ঔষধ দিয়েছে তা অন্যকে খাওয়ালে আমার অসুখ কখনো দুর হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। তিনি আরো বলেন এই পবিত্র রমযানে আমরা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমরা যদি সুষ্ঠু ও পরিকল্পনা এককালীন যাকাত প্রদান করি তবে সমাজের দারিদ্রতা নির্মুল করা অত্যন্ত সহজ হবে। সভার সভাপতি বলেন খুলশী ক্লাব প্রতিনিয়ত মানুষের কল্যাণে কাজ করতে প্রস্তুত এবং নানা কল্যাণমুখী কাজ করে যাচ্ছে। আজকের ইফতার মাহফিল ছাড়াও এতিম শিক্ষার্থীদেরকে ক্লাবের দরিদ্র তহবিল থেকে প্রায় ১ লক্ষ টাকার যাকাত প্রদান করা হয়। এ যাকাত প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে আর ক্লাবের সদস্যরা সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের যাকাতের টাকা এই ফান্ডে জমা করতে পারবেন। সভা শেষে দেশ, জাতি সকল মুসলিম জাহানের উদ্দেশ্যে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত মাওলানা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন তালুকদার।প্রেস বিজ্ঞপ্তি ...

আদিবাসী দুই কিশোরী হত্যার বিচার দাবিতে মানব বন্ধন হিন্দু মহাজোটের

২৫শে মে শুক্রবার সকাল ১০ টায় সীতাকু- পৌরসভার জঙ্গল মহাদেবপুর পাহাড়ের ত্রিপুরা পাড়ায় সংখ্যালঘু দুই কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িত সকলকে অবিলম্বে গ্রেফতার পূর্বক দ্রুত বিচাওে ট্রইব্যুনালের মাধ্যমে ফাঁসীর দাবিতে চট্টগ্রাম এর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট চট্টগ্রাম। হিন্দু মহাজোট চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ সুজিত ঘোষের সভাপতিত্বে আয়োজিত মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন হিন্দু মহাজোট চটগ্রাম মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক ঋতেন দাশ, চট্টগ্রাম জেলার সহ সভাপতি মিলন শর্মা, সুজিত সরকার, চট্টগ্রাম মহানগরের সহ সভাপতি অধ্যাপক বনগোপাল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সুদীপ্ত বিশ্বাস, সহ সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দাশ রানা, রিপন দাশ, জুয়েল নাথ, দেবাশীষ ত্রিপুরা, প্রেম ত্রিপুরা প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন গত ১৮ মে সীতাকু-ে সুখলতি ত্রিপুরা(১৫) ও ছবি রানী ত্রিপুরা(১১) নিজ বাড়িতে ধর্ষণ ও হত্যার পর এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন জড়িত সকলকে এখনো গ্রেফতার করেনি। শুধু তাই নয় সারা দেশে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে। হিন্দুদের বাড়ীঘরে হামলা, জমি দখল, অগ্নি সংযোগ, লুঠপাট, মঠ মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুর এদেশে এখন নিত্য ঘটনা। কোন ঘটনারই আজ পর্যন্ত কোন বিচার পায়নি হিন্দুরা। আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবী “সংখ্যালঘু সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন” হলে সুখলতি, রাণী দের এইভাবে মরতে হত না। এদেশ থেকে নির্বিচারে হিন্দুদের পালিয়ে যেতে হত না। অথচ সংখ্যালঘু ইস্যুতে সরকার এবং প্রশাসন বরাবরই উদাসীন ও সাম্প্রদায়িক বৈষম্যমূলক আচরণ করে চলেছে। অবিলম্বে এই ধর্ষন ও হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতার পূর্বক দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের মাধ্যমে ফাঁসীর দাবী জানাই। বক্তারা আরো বলেন আজ এদেশে হিন্দু নির্যাতন নিয়ে আমেরিকা ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আলোচনা হলেও আজ পর্যন্ত আমাদের জাতীয় সংসদে এ নিয়ে কোন আলোচনা হয়নি। জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘুদের পক্ষে কথা বলার কোন লোক না থাকায় আমরা পৃথক নির্বাচন বাস্থবায়নের মাধ্যমে ৬০টি সংরক্ষিত আসনের দাবী জানাই। ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরাম বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর শাখা, চট্টগ্রাম মহানগর ত্রিপুরা কল্যাণ ফোরাম, জাগো হিন্দু পরিষদ, শারদাঞ্জলী ফোরাম উক্ত প্রতিবাদ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে সংহতি প্রকাশ করেন।প্রেস বিজ্ঞপ্তি ...

রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি

রমজানের শুরুতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। গরু আর খাসির মাংস ছাড়া সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না অন্য কোনো পণ্য। তবে টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। হঠাৎ করে ৫০ টাকার বেগুন ৯০ টাকা, শসা ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও শুক্রবারে দেখা যায় ভিন্নচিত্র। বৃষ্টির কারণে শশা, গাজর, কাঁচামরিচ ও বেগুনের দাম গতকালের চেয়ে কিছুটা কমেছে।বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে রমজানের শুরুতেই বাজারদরের ছন্দপতন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। বাজারে সব সবজিই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ৪০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি মিলছেই না।রাজধানীর বাজারে একমাত্র গরু আর খাসির মাংস ছাড়া আর কোনো পণ্যই সরকারের বেধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না। রমজানের অজুহাতে ব্রয়লার বা দেশি মুরগি দুটোর দামই চড়া। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমলেও মানছেন না বিক্রেতারা। সবজির বাজারেও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি...

এবারের বাজেটের আকার হবে ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা

আগামী ৭ জুন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বর্তমান সরকারের এটি শেষ বাজেট এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের বাজেটের আকার হবে ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আজ সোমবার সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) পরিচালনা পর্ষদের সদ্যস্যদের সঙ্গে বৈঠককালে এ কথা জানান। এ সময় মুহিত বলেন, বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পয়ঃনিষ্কাশন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং অবকাঠমো খাতকে প্রধান্য দেওয়া হবে। বর্তমান সরকার দারিদ্র দূরীকরণে সাফল্য দেখিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,দেশে বর্তমানে দারিদ্র পীড়িত মানুষের হার প্রায় ২ দশমিক ৪ ভাগ। তবে শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র সীমার মধ্যে রয়েছে বলেও তিনি জানান। বৈঠকে ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান ঢাকা চেম্বারের নেতৃত্ব দেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে দারিদ্র পীড়িত মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণে অধিকতর মনোযোগ দিচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রয়ত্ত্ব ব্যাংকগুলোর বেশকিছু সমস্যা রয়েছে। তবে এসব ব্যাংক প্রান্তিক জনগণের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে থাকে। বাংলাদেশে কর্পোরেট করের হার খুবই বেশি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন,এটা ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের রপ্তানি হার বাড়াতে তৈরি পোশাক খাতের অবদান আরোও বেশ কিছু বছর বজায়ে থাকবে এবং বাইরের দেশগুলোতে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে দূর্নীতি কমেছে এবং আশা করা যাচ্ছে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দূর্নীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। তিনি জানান, সঞ্চয়পত্রের সুদের কমানোর বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান এ সময় বলেন, জ্বালানী ও বিদ্যুৎ খাতের স্বল্পতা, বন্দর ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, আর্থিক খাতে ঋণ প্রবাহের স্বল্পতা, ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো খাতের দূর্বলতা প্রভৃতি বিষয় দেশের বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, বর্তমান সরকার ঘোষিত ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া এবং ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৩০তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে হলে ৮ থেকে ১০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির এ হার অর্জন করতে হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা বান্ধব নীতিমালা ও পরিকল্পনা প্রণয়ন, অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন, মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণা এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি জানান। ডিসিসিআই সভাপতি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডালিটির আওতায় উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাক্চার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং অ্যাডভাইজরি অথরিটি (নিদমা) নামে একটি প্লাটফর্ম গঠণের করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।...

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান ও ভবিষ্যত শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে সরকার। রবিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড যৌথ গবেষণার একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিল্পবের প্রেক্ষিতে আগামীতে কর্মক্ষেত্রে যে পরিবর্তন সূচিত হবে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা না থাকলে কর্মনিশ্চয়তা ও জাতীয় উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হবে।গবেষণা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করে শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি অর্জন ধরে রেখে উন্নত সমৃদ্ধ দেশের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ২০৩০ সালে ১২৮ মিলিয়ন শ্রমশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তোলাই বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের বিশাল ভূমিকা রয়েছে।আইডিইবি’র সভাপতি এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্ততা করেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী, এফবিসিসিআই’র সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম জাকির হোসেন ভূঞা...

পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত

রমজান ও সেশনজট বিবেচনায় রেখে পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলকারীরা।শনিবার (১৯ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন কোটা আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।এর আগে গত সোমবার (১৪ মে) শাহবাগের অবরোধ স্থগিত করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর।একদিন পর মঙ্গলবার (১৫ মে) দুপুরে হাসান আল মামুন বাংলানিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন চেয়ে চলমান ছাত্র ধর্মঘটে পরীক্ষা বর্জন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি স্থগিত করার সেই ঘোষণাই দিলেন তিনি...

চমকের নাম মোসাদ্দেক!

মাস খানেক আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। সেই মোসাদ্দেকই কিনা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জাতীয় দলে ফিরলেন? সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হচ্ছে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়ার পর আর কোনো ম্যাচ খেলেননি এই ক্রিকেটার। তাহলে তাকে দলে ফেরানোর পেছনে কারণ কি? আর নির্বাচকদের কাছে যদি মনে হয় মোসাদ্দেকের পারফরম্যান্স তত খারাপ ছিল না, তাহলে কেন তাকে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল? আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। নতুন মুখ নেই। চমক কেবল মোসাদ্দেকের ফেরাটাই। টি-২০তে মোসাদ্দেকের অভিষেক হয়েছিল ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই ক্রিকেটে আহামরি কিছু পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। খেলেছেন ছয় ম্যাচ। তবে জাতীয় দলের সঙ্গে নিজেকে সেভাবে মানিয়ে নিতে না পারলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত। বিসিএলের সব শেষ ম্যাচেও তার একটা সেঞ্চুরি রয়েছে। বল হাতেও দারুণ। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের বিকল্প হিসেবে মোসাদ্দেকের কথাই বার বার উঠে আসছিল। কিন্তু চাইলেই তো আর হঠাৎ করে সাকিবের বিকল্প হওয়া যায় না। এজন্য সময় দিতে হবে। কিন্তু গত মাসে হঠাৎ করে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয় উদীয়মান এই তারকা ক্রিকেটারকে। তরুণ এক ক্রিকেটারকে চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার অর্থ হচ্ছে তাকে নিরুৎসাহিত করা! তারপর কোনো ম্যাচ না খেলানোর পরও কিভাবে সেই মোসাদ্দেক নির্বাচকের মন জয় করে নিলেন? প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর ব্যাখ্যা, অলরাউন্ডারের চিন্তা থেকেই মোসাদ্দেককে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মিরাজের ফিটনেস নিয়ে কিছুটা সংশয় আছে আমাদের। এখন পর্যন্ত মিরাজ শতভাগ ফিট নয়। ধীরে ধীরে ওর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। মিরাজের বিকল্প হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেনকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দেওয়ার পর মোসাদ্দেক কীভাবে নির্বাচকদের বিবেচনায় এসেছেন,ওটা অন্য বিষয় (চুক্তি)। আমরা মনে করছি, টি-২০তে ভালো বোলিং করার যথেষ্ট দক্ষতা আছে মোসাদ্দেকের। ও যথেষ্ট প্রতিভাবান। মাঝখানে একটু ছন্দপতন হয়েছিল। এ মুহূর্তে ফিটনেসসহ নানা বিষয়ে ওকে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচকদের নাটকীয় সিদ্ধান্তে মোসাদ্দেক দলেও ফিরলেও কপাল পুড়েছে তাসকিন আহমেদের। দল থেকে বাদ পড়েছেন এই গতি তারকা। যদিও তাসকিন এই মুহূর্তে পুরোপুরি ফিট নন। পিঠের ব্যথা তাকে যথেষ্ট ভোগাচ্ছে। কিন্তু শতভাগ ফিট না হওয়ার পরও তো মেহেদী হাসান মিরাজকে দলে রাখা হয়েছে। তা ছাড়া কেবল চোটের কারণেই যে তাসকিনকে দলে রাখা হয়নি এমন নয়। পারফরম্যান্সের কারণেও তাকে আফগানিস্তান সিরিজের জন্য বিবেচনায় আনেননি নির্বাচকরা। তাসকিনকে দলে না রাখার ব্যাখ্যায় মিনহাজুল আবেদীন বলেন,চোট, পারফরম্যান্স দুইই তাসকিনকে বাদ দেওয়ার পেছনের কারণ। সে নিদাহাস ট্রফিতে গিয়েই চোটে পড়েছিল। তবে চোটটা বেশ আগের। চোট থেকে সেরে ওঠার চেষ্টা করছে তাসকিন। আমাদের বিশ্বাস ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে সেরে উঠবে সে। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন সৌম্য সরকারও। তা ছাড়া নিদাহাস ট্রফিতে দাপট দেখাতে পারেননি। কিন্তু আফগানিস্তান সিরিজে দলে জায়গা করে নিয়েছেন। মিনহাজুলের ব্যাখ্যা,টি-২০তে আমরা যত খেলোয়াড় নিয়ে চিন্তা করি সবার আগে ওর কথাটা চলে আসে। বিষয়টি নিয়ে আমরা অধিনায়ক এবং কোচের সঙ্গেও কথা বলেছি। ওরা সৌম্যের ব্যাপারে ইতিবাচক। কোর্টনি ওয়ালশের সঙ্গে আমাদের সব সময় কথা হয়। যেহেতু ও নিদাহাস ট্রফিতে দলে ছিল সে কারণেই কোচের পরামর্শে তাকে দলে রেখেছি। তাসকিন ছাড়াও টি-২০ দল থেকে বাদ পড়েছেন ইমরুল কায়েস ও নুরুল হাসান সোহান। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (সহঅধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মুস্তাফিজুর রহমান, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, আবু হায়দার রনি, রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ রাহী। স্ট্যান্ডবাই : নুরুল হাসান সোহান, আবুল হাসান রাজু, নাঈম হাসান।...

প্লে-অফ নিশ্চিত করল কলকাতা

১৭২ রানের টার্গেটে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে আসেন সুনীল নারিন ও ক্রিস লিন। নারিন শুরু থেকেই ঝড় তোলেন। ৯ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় করেন ২৯ রান। এর পরের বলে আউট হন। তিনি যখন সাকিবের বলে মানিষ পান্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরছিলেন তখন স্কোরবোর্ডে কলকাতার রান ৩.৪ ওভারে ৫৫! এরপর ক্রিস লিন ও রবীন উথাপ্পা কার্যকরী এক জুটি গড়েন। তারা দুজন ৬৭ রান যোগ করে ১৩.১ ওভারে দলীয় সংগ্রহকে নিয়ে যান ১১৯ রানে। এরপর লিন ৪৩ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৫ রান করে আউট হন। ১৬.৩ ওভারের সময় দলীয় ১৪৯ রানের মাথায় উথাপ্পাও আউট হন। তিনি ৩৪ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ রান করে যান। এরপর দিনেশ কার্তিক অপরাজিত ২৬ রানের ইনিংস খেলে ৫ উইকেট ও ২ বল হাতে রেখে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। এ জয়ের ফলে তৃতীয় দল হিসেবে প্লে-অফ নিশ্চিত করল কলকাতা নাইট রাইডার্স। বল হাতে সিদ্ধার্ধ কল ও কার্লোস ব্রেথওয়েট ২টি করে উইকেট নেন। ১টি উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। আগে ব্যাট করতে নেমে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা দারুণ শুরু করেছিলেন হায়দরাবাদের। শিখন ধাওয়ান ৩৯ বলে ৫০, শ্রীভাট গোস্বামী ২৬ বলে ৩৫, কেন উইলিয়ামসন ১৭ বলে ৩৬ ও মানিষ পান্ডে ২৫ রান করেন। তাতে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়েছিল হায়দরাবাদ। কিন্তু মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা সুবিধা করতে না পারায় ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানের বেশি করতে পারেনি পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা অরেঞ্জ আর্মিরা। বল হাতে কলকাতার প্রাসিদ কৃষ্ণ ৪ ওভার বল করে ৩০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ক্রিস লিন।...

বাংলাদেশির গান সালমানের রেইস থ্রি-তে

যুক্তরাজ্যের হয়ে কিক বক্সিংয়ে পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান আলী জ্যাকো বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত একজন ব্রিটিশ নাগরিক। কিকবক্সিং থেকে সংগীত শিল্পি হয়ে ওঠা আলী জ্যাকো এবার বলিউডে পদার্পন করেছেন। বলিউডের ভাইজান খ্যাত সালমান খানের আলোচিত ছবি রেইস থ্রি তে এবার গান গেয়েছেন তিনি। আগামী ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা রেইস থ্রি ছবিতে আলী জ্যাকোর সেই গানটির কথা ও সুর তার নিজের করা। আলী জ্যাকো জানান, গত সেপ্টেম্বরে সালমান খান লন্ডনে যান। সেখানে তিনি আলী জ্যাকোর গাওয়া গানগুলো তাঁর পছন্দ হয়। পরে সেগুলো থেকে ৭টি ইংরেজি গান নিয়ে দেশে ফিরেন সালমান। সেখান থেকে গানগুলো পুনরায় বাছাই করে আই ফাউন্ড লাভ গানটি রেইস থ্রি তে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর আলী জ্যাকো গত ডিসেম্বরে জ্যাকো ভারতে যান। সেখানে গানটির হিন্দি সংস্করণের আনুষ্ঠানিক কাজ সম্পন্ন করেন।রেইস থ্রি টিমের সবাই তার গিটারে স্বাক্ষর করেন। পরে গানটি হিন্দি সংস্করণ করে রেইস থ্রি তে ব্যবহার করা হয়। তবে হিন্দি সংস্করণে গানটিতে কে কণ্ঠ দিয়েছেন সেটি চমক হিসেবেই রেখেছে রেইস থ্রি টিম। এর আগে তার নিজের লিখা ও সুর করা একাধিক গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আই ফাউন্ড লাভ ওনলি থিং আই সি হোয়াট ইফ আই লাভড ইউ লাইক দ্যাট এবং আর্মি অব অ্যাঞ্জেলসের। আর্মি অব অ্যাঞ্জেলস ইতিমধ্যেই একটি ইংরেজি চলচ্চিত্রের সাউন্ড ট্র্যাক হিসেবে মনোনিত হয়েছে।...

শংখ নদীতে ডুবে ২ পর্যটকের মৃত্যু:বান্দরবানে

বান্দরবানে বেড়াতে এসে গোসল করতে নেমে শংখ নদীতে ডুবে দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টায় রুমা বাজার সংলগ্ন বড়ুয়া পাড়া ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। রুমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামসুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শান্তনু সরকার (২৬) এবং জুনায়েদ আহসান জুয়েলের (২৪) মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শান্তনু সরকার ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের প্রভাষক এবং জুনায়েদ আহসান জুয়েল ঢাকা টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটির ছাত্র। অন্য আরো দুই বন্ধুসহ তারা চার বন্ধু গত বৃহষ্পতিবার বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বগালেক পর্যটন কেন্দ্রে থাকেন। শনিবার সেখান থেকে রুমা উপজেলা সদরে পৌঁছে ওই ৪ বন্ধু শংখ নদীর বড়ুয়া পাড়া ঘাটে নামে। এক পর্যায়ে তারা ডুবতে শুরু করলে দুইজন সাঁতরে তীরে আসতে পারলেও শান্তনুকে রক্ষা করতে গিয়ে জুনায়েদও পানিতে তলিয়ে যায়।...

সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন সাত শতাধিক পর্যটক

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়েছেন সাত শতাধিক পর্যটক। এ ছাড়া ভ্রমণে আসা প্রায় তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে যেতে পারেননি। বঙ্গোপসাগর নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ায় উপকূলে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি থাকায় শনিবার সকালে টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যায়নি। ফলে পর্যটকরা ফিরতে পারছেন না। তবে আটকাপড়া পর্যটকরা নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আটকে পড়া এই পর্যটকরা শুক্রবার সকালে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে গিয়েছিলেন। কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ আকারে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাগর ও নাফ নদীতে মাছ শিকার ও পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সেনমার্টিনে আটকে পড়া ঢাকার পেট্রোবাংলার ব্যবস্থাপক (সাধারণ) জিয়াউর করিম মুঠোফোনে বলেন, শুক্রবার সকালে ১৭ জন বন্ধু মিলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে আসি। শনিবার সকালে জানতে পারি বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিন যাচ্ছে না। ফলে দ্বীপে আটকা পড়েছি সবাই। আমাদের মতো দ্বীপে আরও শত শত পর্যটক আটকা পড়েছে। পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম বলেন, সাগর উত্তাল ও বৈরী আবহাওয়ার জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ভ্রমণে আসা প্রায় সাত শতাধিক পর্যটক দ্বীপে আটকা পড়েছেন। তারা বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে নিরাপদে আছেন। সাগর স্বাভাবিক হয়ে গেলে সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা হবে। শনিবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রায় পাচঁ শতাধিক পর্যটক সেন্টমার্টিন যেতে পারেননি উল্লেখ করে শাহ আলম জানান, এতে যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় শনিবার সকাল থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেন্টমার্টিনে হাজার খানেক পর্যটক আটকা পড়ে। এর মধ্যে শনিবার সকালেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে প্রায় তিনশ পর্যটক টেকনাফ ফিরে গেছেন। এরপরও দ্বীপে সাত শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাদের যাতে খাবারসহ কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা হচ্ছে। টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ আশরাফুজ্জামান বলেন, সেন্টমার্টিনে আটকেপড়া পর্যটকরা যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় তারা টেকনাফ ফিরতে পারেনি। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেন্টমার্টিনে আটকেপড়া পর্যটকদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তারা সবাই নিরাপদে আছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।...

রোজায় সেহেরি-ইফতারের বরকত ও ফজিল

হালাল দ্রব্য দ্বারা নির্দিষ্ট সময়মতো ইফতার করা মহা সওয়াবের কাজ। এ সময় মহান মাবুদের দরবারে রোজাদার ব্যক্তির দোয়া-ফরিয়াদ কবুল হয়। নিজে একাকী ইফতার করায় যেমন সওয়াব রয়েছে তেমনি অন্যদের ইফতার করানোতে আরো বেশি ফজিলত ও পুণ্য রয়েছে। রোজা শব্দটি ফার্সি ও উর্দু ভাষায় ব্যবহার হয়। রোজার আরবী পরিভাষা হলো সাওম। সাওম শব্দের অর্থ বিরত থাকা বা বিরত রাখা। মাহে রমজানুল মোবারকের সঙ্গে যে দুটো বিষয় সরাসরি সম্পর্কিত তার একটি হলো সেহেরি, দ্বিতীয়টি হলো ইফতার। এখানে এ দুই বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো। সেহেরি : সেহেরি আরবি শব্দ। অর্থ শেষ রাত, দিবসের পূর্ব মুহূর্তে, দিনের প্রথমাংশসহ ইত্যাদি। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় মাহে রমজানের রোজা রাখার নিয়তে শেষ রাত বা সুবেহ সাদিকের পূর্ব মুহূর্তের পানাহারকে সেহেরি বলে। সেহেরি খাওয়া সুন্নাত এবং উত্তম কাজ। মহানবী হজরত (সা.) বলেন, ‘হে আমার উম্মতগণ! তোমরা সেহেরি খাবে। কেননা সেহেরির প্রতিটি লোকমার পরিবর্তে মহান আল্লাহ তায়ালা এক বছরের ইবাদতের সওয়াব দান করে থাকেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা ইহুদিদের বিপরীত কার্য কর। তারা সেহেরি খায় না, যদিও তারা রোজা রাখে। আর যে ব্যক্তি সেহেরি খেয়ে রোজা রাখে সে ইহুদিদের সংখ্যানুযায়ী সওয়াব পাবে। আর যারা সেহেরি খায় না তাদের চরিত্র ইহুদিদের চরিত্রের মতো হবে।’ সেহেরি খাওয়া হয় রোজা রাখার নিয়তে। সেহেরির আরবি নিয়ত : নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিনশাহরি রামাদানাল মুবারাকি ফারদাল লাকা ইয়া আল্লাহু ফা তাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস্ সামিউল আলিম। ইফতার : সারাদিন রোজা পালন শেষে নির্দিষ্ট সময় কোনোকিছু পানাহারের মাধ্যমে ইফতার (রোজা খোলা) করা অবশ্য কর্তব্য। সময়মত ইফতারে রয়েছে অশেষ সওয়াব, কল্যাণ ও বরকত। হজরত রাসুলে মকবুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা ইফতারের সময় হওয়া মাত্র ইফতার করে নাও। এতটুকু বিলম্ব করো না, যেহেতু ইয়াহুদী ও নাসারাগণ বিলম্বে ইফতার করে থাকে।’ হালাল দ্রব্য দ্বারা নির্দিষ্ট সময়মতো ইফতার করা মহা সওয়াবের কাজ। এ সময় মহান মাবুদের দরবারে রোজাদার ব্যক্তির দোয়া-ফরিয়াদ কবুল হয়। নিজে একাকী ইফতার করায় যেমন সওয়াব রয়েছে তেমনি অন্যদের ইফতার করানোতে আরো বেশি ফজিলত ও পুণ্য রয়েছে। এ বিষয়ে ইমাম বায়হাকী (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত নবী করীম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে এক রোজাদার ও গাজীর তুল্য সওয়াব অর্জন করবে।’ ইফতারের দোয়া : ‘আল্লাহুম্মা লাকা ছুমুত ওয়াবিকা আমান্তু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালুত ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহেমীন।’ ...

দুখু মিয়ার কবিতাই হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের ছন্দ

বহু দশক ধরে কাজী নজরুল ইমলামের কবিতাই হয়ে উঠেছে বাংলা ভাষায় বিদ্রোহ আর প্রতিবাদের ছন্দ। মানুষের কাছে কাজী নজরুল এভাবেই সমাদৃত। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি, কিন্তু সমানভাবে সমাদৃত ভারতসহ গোটা বিশ্বে। কিন্তু তাঁর জন্মভিটার গ্রাম চুরুলিয়াতে কীভাবে বেঁচে আছেন দুখু মিয়া? সেখানকার সাধারণ মানুষ, আর ওই গ্রামে বাস করেন তাঁর যেসব উত্তরপুরুষ, তারা কীভাবে ধরে রেখেছেন নজরুল ঐতিহ্য? আসানসোল শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে চুরুলিয়া। গ্রামে যাওয়ার পথে দূর থেকেই চোখে পড়ে বেশ কিছু টিলা। আর মাটির নীচে প্রায় সর্বত্রই কয়লা। পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান কয়লাখনি অঞ্চল এটি। আঠারোশ নিরানব্বই সালে যখন চুরুলিয়া গ্রামেরই কাজী ফকির আহমেদের ঘরে জন্ম নেন তাঁর দ্বিতীয় পুত্র, তার কয়েক বছর পরেই কাছের অজয় নদের ওপারে, ঘণ্টা কয়েকের রাস্তা পেরিয়ে শান্তিনিকেতনে আশ্রম গড়ায় মন দিলেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি তখন সাহিত্য কীর্তির প্রায় মধ্য গগনে। ১১ই জ্যৈষ্ঠ তাঁর জন্মক্ষণে উঠেছিল ঝঞ্ঝা তুফান ঘোর, উড়ে গিয়েছিল ঘরের ছাদ ও ভেঙেছিল গৃহদ্বার নিজের জন্মের সময়কার কথা এভাবেই কবিতায় জানিয়ে গিয়েছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। সেই খড়ে ছাওয়া মাটির জন্ম ভিটে আর নেই। সেই জায়গায় তৈরি হয়েছে নজরুল একাডেমীর পাকা বাড়ি। তবে মাটির বাড়িটির একটিই মাত্র ছবি রয়ে গেছে নজরুল একাডেমীর সংগ্রহশালায়। কবির ছোট ভাই কাজী আলি হোসেনের পুত্র কাজী রেজাউল করিম সেই ছবিটা দেখাচ্ছিলেন। ১৯৫৬ সালে এই মাটির বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। সেখানেই এখন নজরুল একাডেমীর দোতলা বাড়ি হয়েছে। মাটির বাড়িটা ভাঙ্গার আগেই আমরা একটা ছবি তুলিয়ে রেখেছিলাম। তাই কেমন ছিল কবির জন্মভিটা, সেটা এখনও দেখা যাচ্ছে। ছবিটা না তুলে রাখলে হারিয়েই যেত ওই বাড়িটা- বলছিলেন মি. করিম। তার স্ত্রী রোকেয়া করিমের পৈত্রিক বাড়ি কবির বাড়ির একেবারে উল্টোদিকে। নজরুল ইসলামের ছোটবেলার কথা অনেক শুনেছেন নিজের বাবার কাছে। তাঁর কথায়, আমরা যখন কবিকে দেখেছি, তখন তিনি নির্বাক, অসুস্থ। তিনি আর আমার বাবা তিন বছরের ছোট বড়, তারা বাল্যবন্ধু। কবির ছোটবেলার বহু গল্প শুনেছি বাবার কাছে। জন্মের পরে তিনদিন নাকি তিনি কোনও সাড়াশব্দ করেন নি। সবাই তো ভেবেছিল এ ছেলে বাঁচবে না। তবে গ্রামে এক সাধক ছিলেন। তিনি কবিকে জন্মের পরে দেখেই বলেছিলেন এ মহাপুরুষ হবে। ছোটবেলায় খুব দুরন্তও নাকি ছিলেন কবি। বড় হয়েও সেটা কাটে নি - কিছুটা অভাবের তাড়নায়, কিছুটা স্বেচ্ছায় তিনি দৌড়ে বেরিয়েছেন। কখনও রুটির দোকানে কাজ নিয়েছেন, কখনও মক্তবে শিক্ষকতা বা ইমামতী করেছেন, আবার তার পরে সেনাবাহিনীতে গেছেন। ছোটবেলায় নজরুল ইসলামের নাম ছিল দুখু মিয়া। একটু বড় হতেই বাড়ির সামনের মক্তবেই শুরু হয়েছিল পড়াশোনা। সেই বিদ্যালয় এখন চুরুলিয়া নজরুল বিদ্যাপীঠ। বড় দোতলা বাড়ি। সামনের মাঠে প্রতিবছর কবির জন্মদিনে শুরু হয় সপ্তাহ ব্যাপী নজরুল মেলা। সেটাই গ্রামের প্রধান উৎসব হয়ে উঠেছে বেশ অনেক বছর ধরে। ওই মাঠের ধারেই সমাধিক্ষেত্র। কবি- প্রমীলা দেবীর সমাধির পাশেই রয়েছে ঢাকায় কবির সমাধি থেকে কবি-পুত্র কাজি সব্যসাচী যে মাটি নিয়ে এসেছিলেন, তা দিয়ে তৈরি বেদী। সেই পুরনো মক্তবটির একটি ছবি রাখা আছে নজরুল সংগ্রহশালায়। একাডেমীর পরিচালক রেজাউল করিম বলছিলেন, আগে ওই বিদ্যালয়ের নাম ছিল নজরুল মুসলিম বিদ্যাপীঠ। আমরা গ্রামের মানুষদের ডেকে একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে নজরুলের মতো একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষের নামে স্কুল, সেখানে কেন মুসলিম কথাটা থাকবে? অধিকাংশ মানুষ সেটা মেনে নিয়েছিল। সেই থেকেই স্কুলটার নাম নজরুল বিদ্যাপীঠ। বাবার হঠাৎ মৃত্যুর পরে ছেদ পড়েছিল পড়াশোনায়। তখন ওই মক্তবেই শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন নজরুল ইসলাম। ততদিনে তাঁর চাচা বজলে করিমের উৎসাহে শুরু হয়েছে গান রচনা। আর সেই সূত্রেই লেটো গানের দলের যোগ দেওয়া। কবির সম্পর্কে নাতি ও সঙ্গীতশিল্পী সুবর্ণ কাজির কথায়, নজরুলের সময়কার সেই লেটো গান বা লেটোর দল এখন আর এই অঞ্চলে পাওয়া যায় না। বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে গেছে সেগুলো। তবে নজরুলেরই রচনায় এখনও বেচে আছে কিছু লেটো গান। সুবর্ণ কাজি গেয়ে শোনালেন নজরুলের লেখা লেটো গান 'রব না কৈলাশপুরে, আই অ্যাম ক্যালকাটা গোয়িং'। নজরুলের লেখা আরও একটি লেটো গান 'আয় পাষণ্ড যুদ্ধ দে তুই' শোনাচ্ছিলেন রেজাউল করিমের কন্যা সোনালি কাজি। গ্রাম ছেড়ে অল্প বয়সেই নজরুল ইসলাম পাড়ি দিয়েছিলেন কাছের আসানসোল শহরে। কাজ নিয়েছিলেন একটি পাউরুটির কারখানায়। মানুষ আর গাড়ির ভিড়ে ঠাসা আসানসোল বাজারে কয়েকজনের কাছে জিজ্ঞাসা করে খুঁজে পেয়েছিলাম মেহের আলি বক্সের সেই বেকারি। তারই উত্তরাধিকারী যুবক শেখ আসিফ ওসমান বলছিলেন, তাদের পরিবার সেই ১৮৮০ সাল থেকেই দোকানটি চালায়। তিনি বলছিলেন নজরুল ইসলাম যখনও কবি নজরুল হয়ে ওঠেন নি, সেই সময়ে হিসাবরক্ষকের কাজ করতেন তাঁদের পাউরুটির কারখানায়। উনি যখন এখানে হিসাব রাখার কাজ করতেন, সেই সময়ে আমার দাদুর বাবা দোকানটা চালাতেন। তিনি যে চেয়ার টেবিলে বসে হিসাব লিখতেন, সেটা এখনও আমাদের বাড়িতে রাখা আছে। দু'একদিন অন্তরই কেউ না কেউ আমাদের দোকানে নজরুল ইসলামের খোঁজে আসেন। কেউ বাংলাদেশ থেকে, কেউ কলকাতা থেকে আসেন এম. এ. বক্সের দোকানে। আমাদের গর্ব এটাই যে আমাদের এই দোকানের সঙ্গে নজরুল ইসলামের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে, বলছিলেন মি. ওসমান। কাজ ছেড়ে দিয়ে আবারও পড়াশোনা রাণীগঞ্জ শহরের স্কুলে। পড়াশোনার শেষে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। নজরুল ইসলাম পরিবারের গৃহবধূ রোকেয়া করিম জানান তারপরে আর খুব একটা গ্রামে আসেন নি কবি। কলকাতায় তাঁর সাহিত্যচর্চা থেকে শুরু করে বিবাহ এবং অবশেষে অসুস্থ হয়ে পড়ার যে জীবন, তা হয়তো চুরুলিয়া থেকে অনেকটা দূরে, তবে চুরুলিয়ার মানুষের মনের খুব কাছের। কবির সেই জীবনের নানা দিক নিজেদের মতো করে সাজিয়ে রেখেছে নজরুল একাডেমী।যেমন আছে নজরুল ইসলামের পরিচিত-অপরিচিত অনেক ছবি, পদক, তেমনই আছে ধুতি পাঞ্জাবী, পাণ্ডুলিপি, গ্রামোফোন। আমরা এগুলো সব কলকাতা থেকে নিয়ে এসে সাজিয়ে রেখেছি ঠিকই। কিন্তু কতদিন রাখা যাবে, সেটাই বড় চিন্তা। যেমন এই পাণ্ডুলিপিগুলো। কাগজগুলো সব নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা চেয়েছিলাম সরকার এই সংগ্রহশালা অধিগ্রহণ করুক। আশ্বাস পেয়েছি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে যে তারা এই সংগ্রহশালা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে, জানালেন রেজাউল করিম। তবে নিজেদের গ্রামের কবি নজরুল ইসলামকে নিয়ে গর্ব চুরুলিয়ার মানুষেরও কোনও অংশে কম না। বছরভর নজরুল একাডেমীর কোনও না কোনও অনুষ্ঠানে যেমন গ্রামের মানুষই এগিয়ে আসেন, তেমনই মূল অনুষ্ঠান - ১১ই জ্যৈষ্ঠ থেকে প্রতিবছর যে নজরুল মেলা হয়, তাতেও মেতে ওঠে গোটা চুরুলিয়া গ্রাম। একাডেমীর পরিচালক রেজাউল করিমের কথায়,গ্রামের যে শিক্ষিত অংশ, তাদের বেশীরভাগই এখন শহরে চলে গেছেন। চুরুলিয়া অঞ্চলের বেশ কয়েকজন গবেষণাও করেছেন নজরুলকে নিয়ে। তারা নিজেদের মতো করে নজরুল চর্চা করেন। আর রইল গ্রামের মানুষ। তাদের না আছে অর্থবল, না আছে বিশেষ লেখাপড়া। তারা অবশ্য নজরুল মেলা বা একাডেমীর সব কাজে কর্মে এগিয়ে আসে - পরিশ্রম করে। এভাবেই নিজেদের গ্রামের কবির প্রতি সম্মান জানায় তারা। কীভাবে চুরুলিয়া গ্রামের মানুষ নজরুলের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন, সেটা জানতে চেয়েছিলাম একাডেমীর সামনেই বিকেলের আড্ডা দিতে জড়ো হওয়া কয়েকজনের কাছে। তাঁদেরই একজন, বাগবুল ইসলাম বলছিলেন, আমাদের গ্রামের কবি নজরুলের প্রতিভার কথা তো আর নতুন করে প্রচার করার কিছু নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে যাতে তাঁর আদর্শের কথা আরও বেশী করে তুলে ধরা যায়, সেই চেষ্টাই করি। আমাদের যতটুকু জ্ঞানগম্যি, তার মধ্যেই সাধ্যমতো চেষ্টা করি আর কি। এখন চারদিকে যা পরিস্থিতি, তার মধ্যে নজরুলের বাণীই আরও বেশী করে প্রচার করা উচিত - বিশেষ করে আমরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান - এধরণের লেখা বা কবিতাগুলো, বলছিলেন গ্রামেরই মধ্যবয়সী রাজিবুল হক। লটারির টিকিট বিক্রি করতে নানা জায়গায় ঘোরেন মজনু মোল্লা। তিনি বলছিলেন, লটারির টিকিট বিক্রি করতে বহু জায়গায় ঘুরতে হয়। কেউ কেউ জানতে চায় আমার বাড়ি কোন গ্রামে। যখন বলি যে চুরুলিয়া, তখনই লোকে বলে বাবা! সে তো নজরুলের গ্রাম! গর্ব হয় তখন। চুরুলিয়ার সাধারণ মানুষ যেমন স্বাভাবিক ভাবেই গর্বিত নিজেদের নজরুল ইসলামের গ্রামের মানুষ বলে পরিচয় দিতে, তেমনই গর্ব অনুভব করেন নজরুল ইসলাম পরিবারে বিবাহসূত্রে আসা একেবারে নবীন প্রজন্মের সদস্যরাও। সম্পর্কে নজরুল ইসলামের প্রপৌত্র-বধূ শাহনাজ পারভিন। কখনও তো ভাবি নি যে স্কুলে ছোটবেলা থেকে যার কবিতা পড়ে, গান গেয়ে বড় হয়েছি, সেই পরিবারেই বিয়ে হবে। যখন ঠিক হল বিয়েটা, তখন একটা অদ্ভুত ভালোলাগা তৈরি হয়েছিল যেটা বলে বোঝানো যাবে না, বলছিলেন মিসেস পারভিন। গর্ব যেমন আছে, তেমনই রয়েছে অনুযোগও - অথবা বলা যায় নজরুল ইসলাম পরিবার বা তাঁর গ্রামের মানুষের দাবী। তাঁরা চান চুরুলিয়াতে তৈরি হোক নিয়মিত সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র। তা হতে পারে কাছের আসানসোলে সদ্য গড়ে ওঠা কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও বিভাগকে এই গ্রামের স্থানান্তরিত করা বা অন্য কোনও ভাবে। আর প্রয়োজন নজরুল সংগ্রহশালাটি অধিগ্রহণ করে কবির স্মৃতিগুলি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা। একই সঙ্গে কাছের অজয় নদের ওপরে যদি একটি সেতু গড়া যায়, তাহলে শান্তিনিকেতনে যাতায়াতের পথ অতি সুগম হয়ে যাবে - পর্যটকরাও একই সঙ্গে ঘুরে যেতে পারবেন বাংলাভাষার দুই মহান স্রষ্টার কর্মকেন্দ্র আর জন্মভিটায়। সূত্র: বিবিসি বাংলা।...

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কঠোর আন্দোলনের প্রয়োজন

বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের কার্যকর ও কঠোর আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে শফিউল বারী মুক্তি পরিষদের আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি একথা বলেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করছি। তবে এভাবে আন্দোলন করে তাকে মুক্ত করা যাবেনা। তাকে মুক্ত করতে হলে কঠোর আন্দোলনের প্রয়োজন। তাই প্রস্তুতি নিন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য। কার্যকর আন্দোলনের জন্য। আমাদের বক্তৃতায় খুব বেশি সাহসী হওয়ার চেয়ে কাজে বেশি সাহসী হতে হবে। জনগণ বর্তমান সরকারের পক্ষে নেই। তারা সুযোগ পেলে বিএনপিকেই ভোট দিতে চায়। তিনি বলেন, আজকে দেশে অস্বাভাবিক সব ঘটনা ঘটছে। মিথ্যা অভিযোগে সাজা পেয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলেন। জামিন নিয়ে টালবাহানা শুরু হল। জামিন পেলেন। কিন্তু সরকার পক্ষ চেম্বার জজের কাছে চলে গেলেন। সময় নেয়া হল অনেক। এক শুনানি থেকে আরেক শুনানির দূরত্ব অনেক। অবশেষে জামিন হল। তবে এর আগেই আরেকটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হল। আমরা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু না। এভাবে তাকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আমাদের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। জনতা পারেনা এমন কোন কাজ নেই। আমরা ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছি। আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আমরা তখন পেরেছি কারণ তখন আমাদের আন্দোলনের বয়স ছিল। তবে এখন যদি করতে বলেন তাহলে পারব না। এখন আন্দোলন করতে হবে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলকে। তিনি আরো বলেন, সবারই ধৈর্যের সীমা থাকে। এই দেশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বৈরতান্ত্রিক দেশে পরিণত হয়ে গেছে। ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়া আজ কারাগারে যথেষ্ট অসুস্থ। ডাক্তাররা বলেছেন- এমন অবস্থায় থাকলে তিনি পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন। অন্ধ হয়ে যেতে পারেন। সরকারি চিকিৎসকরা তার উন্নত চিকিৎসার সুপারিশ করার পরও সরকার সেটা আমলে নেয়নি। এই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাড়াতে হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। সংগঠনের আহ্বায়ক ফয়েজ উল্লাহ ফয়েজের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক লের সহ সভাপতি গোলাম সরোয়ার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ প্রমুখ।...

এখন গ্রেফতার বাণিজ্যের পাশাপাশি হত্যা-বাণিজ্য চলছে

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, একদিকে জনগণকে ভয় পাইয়ে দিতে সরকারি চক্রান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে অন্যদিকে নিরীহ লোকদের ধরে হত্যা ও হত্যার ভয় দেখিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চলছে ঈদের আগে রমরমা বাণিজ্য। প্রত্যেক ঈদ মওসুমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ধরনের রমরমা বাণিজ্য করার সুযোগ করে দেয়া হয়, এখন গ্রেফতার বাণিজ্যের পাশাপাশি হত্যা-বাণিজ্য চলছে।’ আজ দুপুর পৌনে ১২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।এসময় রিজভী আহমেদ বলেন, এখন দেশজুড়ে মাদকবিরোধী যে অভিযান চলছে সেখানে পুলিশ তাদের ইচ্ছামতো সাধারণ মানুষের বিশেষ করে কোথাও কোথাও বিএনপিসহ বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ধরে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করছে, হয়রানি করছে এবং দাবিকৃত টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদেরকে নির্মমভাবে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হচ্ছে, হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। যদিও বলা হচ্ছে তালিকা করে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের ধরা হচ্ছে, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা। আসলে মাদক ব্যবসায় যারা গডফাদার তারা মূলত আওয়ামী লীগেরই লোক, আর সেই কারণেই তারা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে রিজভী বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধিমালা সংশোধন করেছে ইসি, যা গভীর ষড়যন্ত্রমূলক এবং ভোটের ময়দান ধ্বংসের সামিল। এর ফলে ভোটের মাঠে সমান সুযোগ থাকবে না। এটি ভোটারদের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা।...

রমজানে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার উপায়

রমজানে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সতর্কতা মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যা মোকাবেলা করতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতামতের আলোকে জেনে নিন রমজানে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার উপায়:ভাজাপোড়া খাবার না খাওয়া অনেকে মনে করেন ইফতারে ভাজা পোড়া না থাকলে ইফতারই হবে না। কিন্তু দিনভর অভুক্ত থাকার পর ভাজাপোড়া, তৈলাক্ত, গরম খাবার পেটে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। পেট জ্বালাপোড়া করতে পারে।সেহরি খাওয়ার অভ্যাস করা ফজরের আজানের কিছু আগে সেহরি খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটাই সঠিক অভ্যাস। এ সময়ে সেহরি খাওয়ার ফলে ফজরের নামাজটাও পড়া হয়ে যাবে। তাছাড়া দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবারও এটি।শীতল স্থানে অবস্থান করা দিনের সবচেয়ে গরম সময়টিতে শীতল স্থানে থাকার চেষ্টা করুন। হতে পারে অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি। শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা যথাসম্ভব কমিয়ে আনুন। সম্ভব হলে নিয়মিত বিরতিতে বিশ্রাম নিন।পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা নিয়মিত হাত ধোঁয়ার অভ্যাস করুন। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন। কারো সর্দি-কাশি বা হাঁচি হলে সাবধান থাকুন। কারণ এর মাধ্যমে আপনার শরীরে ভাইরাস জ্বর বা এ জাতীয় কোনো রোগের জীবাণু সংক্রমণ ঘটতে পারে। আর ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন।পর্যাপ্ত ঘুমপর্যাপ্ত ঘুমের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। কেননা সাত থেকে আট ঘণ্টার কম ঘুম আপনার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেবেধীরে ধীরে খাবার খানসারাদিন খাবার না খাওয়ায় রোজার মাসে শরীরের পুষ্টির চাহিদা থাকে আলাদা। তাই ইফতারে একসঙ্গে অনেক কিছু খাবেন না। ধীরে ধীরে খান। কিছু খেজুর এবং পানি দিয়ে ইফতার শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে অন্য খাবারগুলো খান...

পায়ের গন্ধ দূর করবেন কীভাবে?

ছোট থেকে বড় অনেকেই পায়ে মোজা পরতে ভয় পান। কারণ কিছুক্ষণ পায়ে পরে থাকলেই মোজা থেকে কটু গন্ধ বেরয়। এমনকী এও দেখা গিয়েছে, মোজা না পরলেও পায়ে গন্ধ হচ্ছে অনেকের। গন্ধ হয়ে থাকে জুতো। প্রতিদিন রোদে না শুকিয়ে নিলে পায়ে পরা যায় না। খেয়াল করলে দেখা যাবে এই সব মানুষের পায়ের সঙ্গে হাতের তালুও ঘামে। বস্তুত, এই ঘাম বেরনোর সঙ্গেই রয়েছে শরীরে দুর্গন্ধ হওয়ার মূল যোগাযোগ। #ঘাম কেন হয়? ঘাম হল আমাদের শরীর থেকে বেরনো তরল পদার্থ। ত্বকের নিচে থাকা এক্রাইন গ্রন্থি থেকে ঘাম নির্গত হয়। দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘর্মগ্রন্থির যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। দেহের উষ্ণতার তুলনায় বাইরে পরিবেশের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে আমরা ঘামতে শুরু করি। এভাবেই শরীর ঠান্ডা হয়। মানবশরীরে প্রায় ৪০ লক্ষ এক্রাইন গ্রন্থি ছড়িয়ে রয়েছে। মজার ব্যাপার হল, সারা শরীরে ঘর্মগ্রন্থি ছড়িয়ে থাকলেও হাত পায়ের তালুতে ঘর্মগ্রন্থির ঘনত্ব সবচাইতে বেশি। কারও কারও ক্ষেত্রে হাতের এবং পায়ের তালু বেশি ঘামে। এইসব মানুষের হাত ও পায়ের তালুর এক্রাইন গ্রন্থি কোনও কারণ ছাড়াই বেশি পরিমাণে ঘাম নিঃসরণ করে। এই ধরনের সমস্যাকে বলে পামোপ্লান্টার হাইপারহাইড্রোসিস। বাচ্চা থেকে বড় সবাই এই অসুখে ভুগতে পারেন। দেখা গিয়েছে, আবেগ, মানসিক চাপ নানা কারণে হাত এবং পায়ের তালু ঘামতে থাকে। অফিসের একটু কঠিন কাজ পড়ে গেলে, টেনশন হলে, বাড়ির বাইরে হঠাৎ কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়লে হাতের ও পায়ের তালু ঘামার সঙ্গে হাত কাঁপার সমস্যাও হয়। ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে হাত ঘামার কারণে পরীক্ষার খাতা ভিজে যায়। বড়দের ক্ষেত্রে জরুরি কাগজে সই করার সময় কাগজ ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। এমনকী যাদের হাতের তালু ঘামার সমস্যা থাকে তাদের সেনাবাহিনীতেও নেওয়া হয় না। কারণ ঘামের কারণে হাত থেকে অস্ত্র পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দেখা গিয়েছে যাঁদেরই বেশি ঘাম হয়, তাঁরা শরীর থেকে খুব খারাপ গন্ধ হওয়ার অভিযোগ জানান। #কেন হয় দুর্গন্ধ? আসলে শরীর থেকে ঘাম বেরলে বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। এই ব্যাকটেরিয়ার নাম স্ট্যাফাইলোকক্কাস হোমিনিস। এই ব্যাকটেরিয়াই দুর্গন্ধের মূল উৎস। তাই যাঁদের পা বেশি ঘামে তারা মোজা পরলে পায়ে আর মোজায় বেশ দুর্গন্ধ হয়। # চিকিৎসা: এই ধরনের সমস্যার চটজলদি সমাধান নেই। তবে নানাভাবে চিকিৎসা করার সুযোগও রয়েছে। রোগীর অবস্থা বুঝে চিকিৎসক অ্যালুমিনিয়াম হেক্সাহাইড্রেট লোশন, ফর্ম্যালডিহাইড এবং গ্লুটারালডিহাইড দ্রবণ, বটুলিনিয়াম টক্সিন জাতীয় ইঞ্জেকশন ও আয়নটোফোরেসিস পদ্ধতিতে চিকিৎসা করার কথা ভাবেন। এমনকী দরকার পড়লে অপারেশনও রয়েছে। #লোশন: প্রতিদিন রাতে পা শুকনো করে মুছে নিয়ে তারপর অ্যালুমিনিয়াম হেক্সাহাইড্রেট লোশন মাখতে হবে। সকালে উঠে পা ধুয়ে ফেললেই চলে। রোগীকে একটানা বেশ কিছুদিন ধরে এইভাবে লোশন দিয়ে চিকিৎসা করতে হতে পারে। সাধারণত যে পথে ঘাম বেরিয়ে ত্বকে আসে, সেই কূপের মুখ বন্ধ করে দেয় লোশন। তবে পায়ের ফাটা অংশে এই লোশন ব্যবহার করা যাবে না। সেক্ষেত্রে পায়ে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। # দ্রবণ: রোগীরা চাইলে ফর্ম্যালডিহাইড এবং গ্লুটারালডিহাইড দ্রবণে হাত এবং পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন। এভাবে ত্বকের উপরে আক্রান্ত জায়গাগুলির চিকিৎসা করা যায়। # আয়নটোফোরেসিস: একটি যন্ত্র এবং ট্যাপ কলের জলের সাহায্যে মৃদু বিদ্যুৎ তরঙ্গ (১৫ থেকে ২০ মিলি অ্যাম্পেয়ার) প্রয়োগ করা হয় ত্বকের উপরিভাগে। পর পর ১০ দিন ৩০ মিনিট করে এই চিকিৎসা চালাতে হয়। এরপর সপ্তাহে ১ বা ২ দিন এই চিকিৎসা করালেই চলে। এর সঙ্গে অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধও দেওয়া হতে পারে। # বটুলিনাম টক্সিন: হাত ও পায়ের ঘাম ও দুর্গন্ধ বাগে আনতে বটুলিনাম টক্সিন ইঞ্জেকশন দেওয়া যায়। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই চিকিৎসা প্রায় ব্যথাহীন। ক্ষুদ্রাকৃতি সুঁচের সাহায্যে হাত পায়ের তালুতে ইঞ্জেকশনের সাহায্যে ওষুধ পুরে দেওয়া হয়। # মুখে খাওয়ার ওষুধ: মুখে খাওয়ার অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ রয়েছে। ওষুধগুলি ঘাম নিঃসরণ রোধ করে। তবে এই ওষুধগুলির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। নিয়মিত এই ওষুধ সেবনে রোগীর মুখ ও চোখে চোখ শুষ্কভাব দেখা যায়। হতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য। কারও কারও ক্ষেত্রে ইউরিন করতেও সমস্যা দেখা দেয়। দুঃশ্চিন্তা কমানোর যে সমস্ত ওষুধ রয়েছে সেগুলি খেলেও সমস্যা কিছুটা কমে, তবে এই ধরনের ওষুধের প্রতি রোগীর আসক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। #অপারেশন: রোগীর শোচনীয় অবস্থা না হলে এবং সব ধরনের চিকিৎসা ব্যর্থ হলে তারপর অপারেশনের কথা ভাবেন চিকিৎসক। তবে সার্জারি করালে রোগীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়। এই অপারেশনের নাম সার্জিকাল সিমপ্যাথেকটমি। বড়সড় কাটাছেঁড়া করতে হয় না। মিনিমালি ইনভেসিভ এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতিতে সার্জারি করা হয় বলে রোগীর শরীরে সামান্য ক্ষত তৈরি হয়। রোগী খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। ঘরোয়া উপায় #পায়ের দুর্গন্ধের কারণ কী? # শরীরের অত্যধিক ঘাম এবং মৃত কোষ হল ব্যাকটেরিয়ার খাবার। সেই খাবার খেয়ে ব্যাকটেরিয়া একধরনের রাসায়নিক নিঃসরণ করে। এই রাসায়নিকই দুর্গন্ধের উৎস। সারা শরীরের অন্যান্য অংশের থেকে পায়ে বেশি দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ হল পা বেশি ঢাকাঢাকিতে থাকে। দেখবেন, বেশিরভাগ মানুষেরই মোজা খোলার পর পা থেকে দুর্গন্ধ বেরচ্ছে। মোজা এবং ঢাকা জুতো পরার কারণে পায়ে বায়ু চলাচলে সমস্যা হয়ে অতিরিক্ত ঘাম তৈরি হয়। তবে এছাড়াও নির্দিষ্ট অঞ্চলে রক্ত সঞ্চালন কম হওয়াও অত্যধিক ঘামের অন্যতম কারণ। ডায়াবেটিস মেলিটাস, হার্টের রোগ ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা থেকে পায়ে স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, বায়ু, পিত্ত এবং কফ হল শরীরের চালিকাশক্তির উৎস। শরীরে এগুলির অসামঞ্জস্যতা নানাবিধ সমস্যা ডেকে আনে। এখানে সমস্যার মূলে রয়েছে পিত্ত। আয়ুর্বেদ মতে, পিত্ত প্রকৃতির মানুষের ঘাম বেশি হয়। পিত্ত প্রকৃতির মানুষের লক্ষণগুলি হল—এরা গরম সহ্য করতে পারেন না। অম্ল জাতীয় খাদ্য খান (টক)। অন্যান্যদের তুলনায় একটু বেশিই চনমনে থাকেন ইত্যাদি। এছাড়াও পিত্ত বৃদ্ধিকারক আহার (খাদ্য) এবং বিহারের (জীবনযাপন) মাধ্যমেও অনেকের শরীরে পিত্ত বৃদ্ধি পায়। আবার শরীর গঠনের সাতটি ধাতুর মধ্যে মেদ ধাতুর (ফ্যাট) পরিমাণ বেশি থাকলেও অতিরিক্ত ঘাম হয়। # শীতে পায়ে দুর্গন্ধের সমস্যা বাড়ে কেন? #এভাবে শীত বলে নির্দিষ্ট কোনও ঋতুকে দায়ী করা ঠিক নয়। আসলে সমস্যাটা হল ঘামের। বেশিরভাগ মানুষ সারা বছর খোলা জুতো পরেন। মোজাও পরেন না। ফলে পায়ে ভেন্টিলেশনের কোনও সমস্যা হয় না। তাই দুর্গন্ধও থাকে না। অথচ শীত আসতেই শুরু হয় মোজা এবং পা ঢাকা জুতোর ব্যবহার। সেখান থেকে ঘাম। ঘাম থেকে দুর্গন্ধ। তাই শীত বলে আলাদা করে বলা যায় না। যাঁদের বেশি ঘাম হয়, তাঁরা সারা বছরই এই সমস্যায় ভুগতে পারেন। # চিকিৎসা কী? # চিকিৎসার প্রথম ধাপ হল শরীরের সেই নির্দিষ্ট জায়গার যত্ন। এটা দুভাবে করা যেতে পারে। প্রথমটি হল, পায়ের ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করা। আর দ্বিতীয়টি অবশ্যই সেই জায়গার ব্যাকটেরিয়া নিধন। এবার এমন কয়েকটি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক # জলে কয়েকটি নিম পাতা ফেলে ফুটিয়ে ফেলুন। এবার সেই জল সহনযোগ্য ঊষ্ণতায় এলে পা দুটিকে ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। নিমের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা জীবাণু নিধনে বিশেষভাবে কার্যকরী # অগ্নেয়গিরি থেকে উঠে আসা লাভা জমে পাথরে (ভলক্যানিক রক) পরিণত হয়। এই পাথরের নাম জিওলাইট। বাজারে প্যাকেটের মধ্যে জিওলাইট ভরে বিক্রি করা হয়। এই পাউচ প্যাকেটটি মোজার মধ্যে ভরে ব্যবহার করলেও পায়ের দুর্গন্ধ দূর হয় # গরম জলে চা মিশিয়ে তার মধ্যে দুটি পা আধঘণ্টা চুবিয়ে রাখলেও উপকার পাবেন। চায়ে উপস্থিত ট্যানিন নামক পদার্থটি ভালো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতাসম্পন্ন # স্নান করার মোটামুটি আধঘণ্টা আগে পায়ে চন্দনাদি তেল ভালো করে মালিশ করে নিলেও পায়ে দুর্গন্ধের সমস্যা প্রতিহত করা সম্ভব # পায়ে ব্রাহ্মী তেল লাগালেও দুর্গন্ধ দূর হয় # এক্ষেত্রে আয়ুর্বেদের পঞ্চকর্ম থেরাপির অন্তর্গত বিরেচন (পারগেশন) অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন উপায়ে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রায় ৩০ বার মলত্যাগ করানো হয় # আমলকী হল পিত্তনাশক ফল। তাই প্রতিদিন ১ চামচ বা ৩ থেকে ৬ গ্রাম আমলকী চূর্ণ (পাউডার) ঘি-এর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে শরীরের পিত্তবৃদ্ধিজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসে # প্রতিদিন ১ চামচ ত্রিফলা চূর্ণ (হরীতকী, আমলকী ও বহেরা) ঘি মিশিয়ে খেলে ভালো ফল পাবেন # বিভিন্ন যোগ ব্যায়ামের মধ্যে পিত্তনাশক হিসাবে প্রাণায়াম করা খুবই উপকারী। তাই নিয়মিত প্রাণায়াম করুন # এছাড়াও নিয়মকরে ব্যবহৃৎ মোজা ও জুতো পরিষ্কার করতে হবে। চেষ্টা করুন খোলা জুতো পরার। মোজা সুতির কাপড়ের হলেই ভালো। দিনের শেষে পা ভালো করে পা ধুয়ে নিন। পায়ের গন্ধ দূর করবেন কীভাবে? ...

দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে :টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘাটতি রয়েছে বেসরকারি চিকিৎসাসেবায় সরকারের যথাযথ মনোযোগের । এতে একদিকে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে কিছু ব্যক্তির এ খাত থেকে বিধিবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নিবন্ধিত ১১৬টি (হাসপাতাল ৬৬টি এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্র ৫০টি) বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় বেসরকারি চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি পর্যালোচনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা, বেসরকারি চিকিৎসাসেবার বিপণন ব্যবস্থা, তথ্যের স্বচ্ছতা, তদারকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির গবেষণা ও পলিসি পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন। ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১১৬টির মধ্যে ৯৭টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়নি। এ ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান আইন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অরডিন্যান্স ১৯৮২ প্রণয়নের পর এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়নি। এ আইনের কোনো বিধিমালাও করা হয়নি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করা হলেও তা এখনো আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়নি। অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, বেসরকারি চিকিৎসা খাতে তদারকির চিহ্ন দেখতে পাই না। সরকার এ ক্ষেত্রে পুরো উদাসীন। সেখানে কি স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে সরকারের? কোনো ধরনের জবাবদিহির সম্মুখীন না হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা তদারকের দায়িত্বে আছেন, তাঁরা তাঁদের কাজ গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী খানার প্রায় সাড়ে ৬৩ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে সেবা নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা উচ্চ মুনাফাভিত্তিক খাত। মালিকেরা বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়েছে। তদারকির অভাব থাকায় সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে উচ্চ মুনাফা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।...

ম্যানিটোবায় কানাডার বাংলাদেশ হাইকমিশনের বিশেষ কন্স্যুলার সেবা প্রদান

ম্যানিটোবাস্থ বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কানাডা-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন (সিবিএ) এবং অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ম্যানিটোবায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও অভিবাসীদের জন্য তিনদিনব্যপী বিশেষ কন্স্যুলার সেবা প্রদান করা হয়। কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার জনাব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যবিশিষট কন্স্যুলার সেবা প্রদানকারী দল ৪ ডিসেম্বত হতে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ম্যানিটোবাস্থ বাংলাদেশীদের প্রত্যক্ষ সহায়তা দেন। এই সর্বাংগীন সেবা কার্যক্রমের মধ্যে ছিল হাতে লেখা পাসপোর্ট প্রতিস্থাপন, নতুন মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও নবায়ন, এবং নাগরিকত্ব, জন্ম-নিবন্ধন ও ভোটার কার্ড এর আবেদনপত্র গ্রহণ, ফরম পুরণের খুঁটিনাটি সরাসরি তত্ত্বাবধান, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দান, এবং আবেদনকারীদের ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ গ্রহণ বা বায়োমেট্রিক তথ্য নিবন্ধন। সিবিএ সভাপতি মিসেস নাসরিন মাসুদ-এর নেতৃত্বে সংগঠনেরসকল নির্বাহীবৃন্দ সহযোগে একদল স্বেচ্ছাসেবি কন্স্যুলার সেবাসংশ্লিষ্ট যাবতীয় কর্মকান্ড তত্ত্ববধান করেন। আড়াইশত জনেরও অধিক বাংলাদেশি এই প্রত্যক্ষ সেবাসমূহ গ্রহণ করেন। ম্যানিটোবায় অবস্থানকালে হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের দায়িত্বে নিযুক্ত প্রথম সচিব মহোদয় স্থানীয় বণিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ কৃষিপণ্য উৎপাদন ও রপ্তানীসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি আলোচিত হয়। বাংলাদেশকে অযুত সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিমূখী দেশ হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশে কানাডিয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুবিধাদিও আলোচিত হয়। ম্যানিটোবার বাংলাদেশিদের উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণপ্রাচুর্যে আয়োজনটিশতভাগসফল হয়। ভবিষ্যতে সাহিত্য-সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন প্রবাসী কর্মকান্ডে হাইকমিশন আরো বর্ধিত কলেবরে সেবা প্রদানের অংগীকার করেন। (ড. হেলাল মহিউদ্দীন, গবেষণা ফেলো, সেইন্ট পলস কলেজ, ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়) Press Release ...

রোজায় সেহেরি-ইফতারের বরকত ও ফজিল

হালাল দ্রব্য দ্বারা নির্দিষ্ট সময়মতো ইফতার করা মহা সওয়াবের কাজ। এ সময় মহান মাবুদের দরবারে রোজাদার ব্যক্তির দোয়া-ফরিয়াদ কবুল হয়। নিজে একাকী ইফতার করায় যেমন সওয়াব রয়েছে তেমনি অন্যদের ইফতার করানোতে আরো বেশি ফজিলত ও পুণ্য রয়েছে। রোজা শব্দটি ফার্সি ও উর্দু ভাষায় ব্যবহার হয়। রোজার আরবী পরিভাষা হলো সাওম। সাওম শব্দের অর্থ বিরত থাকা বা বিরত রাখা। মাহে রমজানুল মোবারকের সঙ্গে যে দুটো বিষয় সরাসরি সম্পর্কিত তার একটি হলো সেহেরি, দ্বিতীয়টি হলো ইফতার। এখানে এ দুই বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো। সেহেরি : সেহেরি আরবি শব্দ। অর্থ শেষ রাত, দিবসের পূর্ব মুহূর্তে, দিনের প্রথমাংশসহ ইত্যাদি। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় মাহে রমজানের রোজা রাখার নিয়তে শেষ রাত বা সুবেহ সাদিকের পূর্ব মুহূর্তের পানাহারকে সেহেরি বলে। সেহেরি খাওয়া সুন্নাত এবং উত্তম কাজ। মহানবী হজরত (সা.) বলেন, ‘হে আমার উম্মতগণ! তোমরা সেহেরি খাবে। কেননা সেহেরির প্রতিটি লোকমার পরিবর্তে মহান আল্লাহ তায়ালা এক বছরের ইবাদতের সওয়াব দান করে থাকেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা ইহুদিদের বিপরীত কার্য কর। তারা সেহেরি খায় না, যদিও তারা রোজা রাখে। আর যে ব্যক্তি সেহেরি খেয়ে রোজা রাখে সে ইহুদিদের সংখ্যানুযায়ী সওয়াব পাবে। আর যারা সেহেরি খায় না তাদের চরিত্র ইহুদিদের চরিত্রের মতো হবে।’ সেহেরি খাওয়া হয় রোজা রাখার নিয়তে। সেহেরির আরবি নিয়ত : নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিনশাহরি রামাদানাল মুবারাকি ফারদাল লাকা ইয়া আল্লাহু ফা তাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস্ সামিউল আলিম। ইফতার : সারাদিন রোজা পালন শেষে নির্দিষ্ট সময় কোনোকিছু পানাহারের মাধ্যমে ইফতার (রোজা খোলা) করা অবশ্য কর্তব্য। সময়মত ইফতারে রয়েছে অশেষ সওয়াব, কল্যাণ ও বরকত। হজরত রাসুলে মকবুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা ইফতারের সময় হওয়া মাত্র ইফতার করে নাও। এতটুকু বিলম্ব করো না, যেহেতু ইয়াহুদী ও নাসারাগণ বিলম্বে ইফতার করে থাকে।’ হালাল দ্রব্য দ্বারা নির্দিষ্ট সময়মতো ইফতার করা মহা সওয়াবের কাজ। এ সময় মহান মাবুদের দরবারে রোজাদার ব্যক্তির দোয়া-ফরিয়াদ কবুল হয়। নিজে একাকী ইফতার করায় যেমন সওয়াব রয়েছে তেমনি অন্যদের ইফতার করানোতে আরো বেশি ফজিলত ও পুণ্য রয়েছে। এ বিষয়ে ইমাম বায়হাকী (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত নবী করীম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে এক রোজাদার ও গাজীর তুল্য সওয়াব অর্জন করবে।’ ইফতারের দোয়া : ‘আল্লাহুম্মা লাকা ছুমুত ওয়াবিকা আমান্তু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালুত ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহেমীন।’


দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে :টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতে বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘাটতি রয়েছে বেসরকারি চিকিৎসাসেবায় সরকারের যথাযথ মনোযোগের । এতে একদিকে এটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে কিছু ব্যক্তির এ খাত থেকে বিধিবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধা আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নিবন্ধিত ১১৬টি (হাসপাতাল ৬৬টি এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্র ৫০টি) বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় বেসরকারি চিকিৎসা খাত সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি পর্যালোচনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, এসব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা, বেসরকারি চিকিৎসাসেবার বিপণন ব্যবস্থা, তথ্যের স্বচ্ছতা, তদারকির বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, টিআইবির গবেষণা ও পলিসি পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাসলিমা আক্তার এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. জুলকারনাইন। ফলাফলে দেখা যায়, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১১৬টির মধ্যে ৯৭টি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়নি। এ ছাড়া বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান আইন দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অরডিন্যান্স ১৯৮২ প্রণয়নের পর এখন পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়নি। এ আইনের কোনো বিধিমালাও করা হয়নি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনের খসড়া নিয়ে কাজ করা হলেও তা এখনো আইন হিসেবে প্রণয়ন করা হয়নি। অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, বেসরকারি চিকিৎসা খাতে তদারকির চিহ্ন দেখতে পাই না। সরকার এ ক্ষেত্রে পুরো উদাসীন। সেখানে কি স্বার্থের দ্বন্দ্ব আছে সরকারের? কোনো ধরনের জবাবদিহির সম্মুখীন না হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা তদারকের দায়িত্বে আছেন, তাঁরা তাঁদের কাজ গুরুত্বসহকারে নিচ্ছেন না। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী খানার প্রায় সাড়ে ৬৩ শতাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে সেবা নেয়। কিন্তু বাংলাদেশে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা উচ্চ মুনাফাভিত্তিক খাত। মালিকেরা বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়েছে। তদারকির অভাব থাকায় সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে উচ্চ মুনাফা আদায়ের সুযোগ রয়েছে।

তরুণ জনশক্তি হয়ে উঠুক মানবপুঁজি

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ প্রতিবছর বেকার থেকে যাচ্ছে। তাদের কর্মসংস্থান হচ্ছে না। কয়েক বছর ধরে দেশে বিনিয়োগ কম হওয়ায় শিল্প খাতে নতুন প্রকল্প হচ্ছে কম। সরকারি খাত বড় কিছু বিনিয়োগ হলেও এতে কর্মসংস্থানের গতি খুবই ধীর। অন্যদিকে দেশের আইটি খাতে চাহিদার তুলনায় বর্তমানে শ্রমিক কম রয়েছে ১৭ লাখ ২৭ হাজারের বেশি। সঙ্গে রয়েছে মধ্যম সারির কর্মকর্তা সংকটও। ফলে অনেক বেশি বেতনে বিদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি আনতে হচ্ছে বিভিন্ন সেক্টরে। বর্তমানে বাংলাদেশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ১০ লাখ ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী পেশাজীবী বিভিন্ন এনজিও, তৈরি পোশাক, বস্ত্র খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। বছরে তারা বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছেন ২০ হাজার কোটি টাকা। ইউএনডিপি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এ দেশে বেকারের সংখ্যা সাড়ে তিন কোটি। তার মধ্যে শিক্ষিত বেকার হচ্ছে ২ কোটি ২০ লাখ। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন বেসরকারি খাতে শ্রমিক ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনবলের দরকার হয় ৭০ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিতদের ৯০ শতাংশই সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত, যার সঙ্গে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা সর্ম্পক থাকে না। চাকরি বা সন্তোষজনক চাকরি পাওয়া নিয়ে সাধারণ শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে হতাশা ক্রমেই বাড়ছে। অথচ শিক্ষা পরিচালনা কর্তৃপক্ষ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নতুন বিভাগ খুলছেন, কিন্তু এসব বিভাগের আদৌ প্রয়োজন আছে কি না, তা পরখ করে দেখছেন না। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার উপাত্ত মতে, বাংলাদেশের শ্রমশক্তি বছরে গড়ে ২ শতাংশ হারে বাড়ছে। এক হাজার শূণ্যপদের বিপরীতে এক লাখ মানুষের আবেদন পড়লে তা কাজের কথা নয়। সরকারের কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার ভূমিকা ছাড়া এই বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার যথাযথ রাষ্ট্রীয় নীতি, যা সব সরকারকে মেনে চলতে হবে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র শুধু বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ দেখবে না, তাকে সবারটাই দেখতে হবে। সকলের কর্মক্ষম শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা ১৯৭১ এর ত্যাগের মহিমাকে ধারণ করে নিজস্ব শক্তিমত্তার ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনায় না গিয়ে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, প্রশাসন সবকিছুর জন্য বিদেশিদের সাহায্যের ওপর নির্ভর করেছি। এতে শ্রেণি বিশেষের বিত্তবৈভব বাড়লেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান তেমন বাড়েনি। শিক্ষা হয়ে পড়েছে অর্জনমুখী, কর্মমুখী নয়। কর্মঅর্জন শিক্ষায় বিকল্পতার কারণে এখনও মোট জনগোষ্ঠীর এক-চতুর্থাংশ অর্থাৎ প্রায় চার কোটি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করছে। আজও মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতনের চাকরির আশায় নৌকা ভর্তি হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করছে। সচ্ছল জীবনের আশায় দেশের মেয়েরা মধ্যপ্রাচ্যে শেখদের হাতে দৈহিক, মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, যা শুধু দুঃখজনক নয়, বিপুল আত্মত্যাগ পাওয়া স্বাধীন দেশের জন্য অমর্যাদাকর। এতকাল উন্নয়নের অন্তরায় হিসেবে শুধুই অভাবের কথা বলা হতো। এখন কিন্তু তা নয়। অর্থ এখন গৌণ। মূখ্য বিষয় শিক্ষার বিষয় বৈচিত্র্যতা। গতানুগতিক শিক্ষার ধারা থেকে বেড়িয়ে আসা। কর্মের হাতছানি দেওয়া শিক্ষাকে প্রতিপালন করা। অথচ আমরা দেখি ২০১৭ সাল বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে আরও অনেক গুরুতর চ্যালেঞ্জ রেখে গেছে, যেগুলো এ বছর এবং তারও পরে জাতির ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠবে। ক্রমেই এক অন্ধকারের মধ্যে আমরা প্রবেশ করছি। বিগত কিছু ঘটনা পর্ববেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করলে মনে হয়, আমাদের জাতিয় গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে পঙ্গু করতেই সুপরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। এই আক্রমণ ভেতর ও বাইরে- দুই জায়গা থেকে হচ্ছে। আক্রমণ হচ্ছে আমাদের তরুণ সমাজের ওপর মাদক নামক হাতিয়ারের ব্যবহারের মাধ্যমে। আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাংক লুট আর হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে পাচারের মাধ্যমে। কত হাজার কোটি টাকা এ পর্যন্ত পাচার হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো নির্লজ্জভাবে লুণ্ঠিত হচ্ছে। আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনও আছে। আমাদের তরুণদের লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত করছে। শুধু চাকরি করাটাই জীবনের লক্ষ্য হতে পারে না। আমদের উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা অর্জন করা জরুরি। উদ্যোক্ত হওয়াটা নিজের নয়, সমাজ ও জাতির রাষ্ট্রকে এর জন্য শিক্ষা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো, উপকরণ যোগানের ব্যবস্থা করতে হবে। সহজে ব্যাংক ঋণ সরবরাহ করতে হবে। এক্ষেত্রে বিপরীত চিত্র দেখি। যাঁরা ঋণ ফেরত দেবেন না, তাঁদেরই ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকৃত উদ্যোক্তারা ঋণ পাচ্ছেন না। এটা আর্থিক খাতের সুশাসনজনিত সমস্যা, যার সমাধান করতে পারে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকার। বর্তমান পৃথিবী দ্রুত পরবর্তনশীল, পরিবর্তনই তার একমাত্র নিয়তি। দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তন আনতে প্রতিনিয়ত আসছে নিত্যনতুন প্রযুক্তি। এ কারণে প্রযুক্তিবিশ্বের কোন প্রযুক্তিগুলো শীর্ষে থাকবে, তা বলা কঠিন। তবে প্রযুক্তিবিশ্লেষকদের মতে, ২০১৮ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্রিপ্টো-কারেন্সি ও স্বচালিত বাহন- তিন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্যোশাল মিডিয়া বিহেভিয়ার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তৃত ব্যবহার, ব্যবসায় ডিপ লার্নিং, এআই ও আইওটিভিত্তিক আর্থিক সেবা এবং অগমেন্টেড রিয়ালিটিতে ব্যাপক অগ্রগতি ঘটবে। এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাংকিং খাতে ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটির ব্যবহার বাড়বে। ইউরোপে লেনদেন সেবা নিয়ে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করা হবে। এতে আর্থিক খাতের প্রযুক্তি বা ফিনটেকভিত্তিক স্টার্টআপগুলো ব্যাংক গ্রাহকদের তথ্য কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে। এতে ব্যাংকিং খাতে নতুন উদ্ভাবনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বছরটায় আমাদের ব্যবহার করা অনেক যন্ত্র যেমন চাবির রিং, স্মার্টফোন, ইন্টারনেটে যুক্ত গাড়ি, স্মার্টঘড়ি লেনদেনের যন্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হবে। ২০১৯ সালের মধ্যে ৫জি ফোন বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে ৫জি নেটওয়ার্ক চালুর বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন করতে হবে ২০১৮ সালের মধ্যেই। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশে ৫ জি নিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষামূলকভাবে একাধিবার চালু করে দেখা গেছে, তাতে ৪জির তুলনায় ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি গতির ইন্টারনেট পাওয়া সম্ভব, যা ইন্টারনেট অব থিংসের ব্যবহার আরও বাড়িয়ে দেবে। এখন শুরু হবে পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক। এবছর রাস্তায় নেমে আসবে রোবট। রেস্তোঁরা কিংবা হাসপাতালে মানুষকে সাহায্য করতে বা খাবার সরবরাহের কাজে রোবট নিয়ে কাজ করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এ রোবটগুলো জিপিএস, সেন্সর ও ক্যামেরার সাহায্যে চলাচল করে। এর সংখ্যা বাড়বে এবছরে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলেজিন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছি আমরা। এই প্রযুক্তি দিন দিন শুধু যে উন্নত হচ্ছে তা নয়, একই সঙ্গে বাড়ছে এর ব্যবহারও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। আগে শুধু কিছু গেম এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য এ প্রযুক্তির ব্যবহার সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন নিত্যনতুন প্রায় সব ধরনের প্ল্যাটফর্ম, অ্যাপ কিংবা ডিভাইসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জুড়ে দেওয়ার হচ্ছে। এসবের সাথে সংযুক্তির মেলবন্ধন সমসাময়িক শিক্ষা দিকদর্শনভিত্তিক শিক্ষা বৈক্যলের ফলে তরুণের প্রতিভা ও মেধাশক্তি থাকলেও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে একধরনের আত্মকেন্দ্রিকতা তৈরি হয়েছে। তবে ঢালাওভাবে বিষয়টি সত্য নয়। সামাজিক, বৈজ্ঞিানিক, মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা যেতে পারে যন্ত্রমানব সোফিয়াকে দেশে আনার মাধ্যমে একটা ইতিবাচক ঘটনা ঘটেছে। সোফিয়াকে আনার পর আমরা জানতে পেরেছি, আমাদের মেধাবী তরুণরা ডিজিটাল বাংলাদেশের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়েছে। আমাদের মতো দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ডিপ্লোমা শিক্ষার অভাব। এটা না থাকায় দেশে প্রযুক্তিদক্ষ লোকবলের অভাবে কাক্সিক্ষত হারে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে না। পণ্য ও পেশাভিত্তিক ডিপ্লোমা প্রযুক্তিবিদ নিশ্চিত করতে পারে সরকার। সরকার যদি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, তাহলে বেকারত্ব সমস্যা এমনিতেই অনেকটা ঘুচে যাবে। এটাই এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। অন্যদিকে আমাদের মধ্যবিত্তের মানসিকতায়ও পরিবর্তন আনা জরুরি। তাদের ছেলে মেয়েরা যেন ডিপ্লোমা শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়। ক্ষুদ্র ভূখ-ের অধিক জনসংখ্যার ঘনবসতির এই দেশকে গড়ে তুলতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হবে প্রতিটি তরুণকে। আজ ও আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে তরুণদের মধ্যে এর ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যেখানে নেতিবাচক বিষয়গুলো হবে নির্বাসিত। শিক্ষাও প্রযুক্তিকে উপেক্ষা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে বিশ্ব। এই বিপ্লবের প্রধান হাতিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি। আর তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছে সরকার। এই কার্যক্রম আরও বেগবান করতে ডিপ্লোমা শিক্ষাকে তৃণমূলে প্রসার ঘটাতে হবে। প্রতিবছর ১৪ লক্ষ তরুণ এসএসসি পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়। এরমধ্যে ১১ লক্ষই গ্রামের কৃষক, শ্রমিক, জেলে, তাঁতী, কামার, কুমারের ছেলে। তারা দুর্গম হাওর, বাওড়, দ্বীপ, উপকূল, বরেন্দ্র, পাহাড়, পর্বত সীমান্তের অধিবাসী। তাদের মেধা ও মণনে শহরের আলালের দুলালের চেয়ে কম নয়। তাদের রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বেশী। সামান্য সোহাগ ভালবাসা দিক নির্দেশনা অর্থ ও মামার জোরের অভাবে তারা সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারে না। অথচ গ্রামকে ব্যাপকভাবে উপেক্ষা করা হয়। তারা শহরমুখী হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রামে যদি গ্রাম বাংলার গর্বিত সন্তানদের সম্মান ও কদর না থাকে তাহলে তারা গ্রামে যাবে কেনো? মনে রাখতে হবে গুণীর কদর যে সমাজে নেই সে সমাজে গুণী জন্মায় না। তারপরও নাড়ির টানে আমাদেরকে গ্রামে যেতে হবে, গ্রামকে বাঁচাতে হবে, রক্ষা করতে হবে গ্রামের পরিবেশকে। আমাদের অনিন্দ্য-সুন্দর গ্রামগুলোকে সব দিক থেকেই এগিয়ে নিতে হবে। এছাড়া যে আমাদের গত্যন্তর নেই। গ্রামের অপরিচিত ছেলে মেয়েটাই ডিপ্লোমা শিক্ষা গ্রহণ করে কদিন পরে হয়ে উঠতে পারে তুমুল জনপ্রিয় কেউ। আত্মবিশ্বাস, দৃঢ়তা, প্রতিভা আর পরিশ্রম সব কিছু দিয়ে চমকে দিতে পারে সবাইকে। প্রত্যয়ী এই তরুণদের নিজেকে তুলে ধরার মঞ্চ তেরি করার সময় এখনই। গ্রামের অধিকাংশ তরুণকে ডিপ্লোমা শিক্ষার সুযোগ করে দিতে হবে। ডিপ্লোমা শিক্ষা গ্রহণ করে নিজ গ্রামে শিল্প খামার, হাসপাতাল ক্লিনিক স্কুল গড়ে তোলার আদর্শে প্রনীত হবে। বেকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে নারী, পুরুষ, প্রতিবন্ধী সবার জন্য ডিপ্লোমা শিক্ষা। প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ১০টি সরকারি/বেসরকারিভাবে কৃষি, ভেটেরিনারি, লেদার, পলিটেকনিক, টেক্সটাইল, মেডিক্যাল টেকনোলজি, নার্সিং, ইনস্টিটিউট অব প্রাইমারি অ্যাডুকেশন, মেডিকেল ও ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইনস্টিটিউট স্থাপনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষা-দীক্ষা ব্যবসা-বাণিজ্যে গ্রামগুলোতে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসবে। পূরণ হবে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার বাস্তবভিত্তিক রূপরেখা। খন রঞ্জন রায়, মহাসচিব ডিপ্লে¬ামা শিক্ষা গবেষণা কাউন্সিল, বাংলাদেশ। Khanaranjanroy@gmail.com

আজকের মোট পাঠক

33024

নিউজ একাত্তর ডট কম

সম্পাদক : মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী

নির্বাহী সম্পাদক : নুরুল ইসলাম ভুইয়া

একটি পপুলার মিডিয়া পাবলিকেশন এর প্রকাশনা

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয় : ৪১৬/সি,খিলগাও ঢাকা। ফোন : ০৩১-২৭৭১১৮৮, ০১৮২৪২৪৫৫০৪, ০১৭৭৮৮৮৮৪৭২

চট্টগ্রাম কার্যালয় : ১০/১১ বি ৩য় তলা, হানিমুন টাওয়ার,পাহাড়তলী,চট্টগ্রাম।

ই-মেইল : newsekattor@gmail.com, editorekattor@gmail.com, কপিরাইট ©newsekattor.com কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত